- প্রচ্ছদ
- Topic
বিমান হামলা
ইরাকের অন্তত সাতটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনাওয়া, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। পিএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব। ঘটনাস্থলের মূল্যায়ন শেষে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলায় সংগঠনটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক যান এবং অস্ত্র সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও সৌদি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলার জবাবে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিজেদের বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পিএমএফ ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃত একটি আধাসামরিক জোট, যেখানে বেশ কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। সংগঠনটির কিছু অংশ ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এদিকে ইরাক সরকার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে এই হামলা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর বিমান হামলা চালালে সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, বিশেষ করে বিমান হামলার পথ বেছে নেয়, তাহলে সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার আরও বাড়বে। আকরামিনিয়ার দাবি, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। তিনি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের সামরিক তৎপরতার প্রভাব এখন জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছে। ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান ‘কঠিন ও অস্থিতিশীল’ হয়ে উঠেছে এবং ওয়াশিংটন এখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল খুঁজছে। তার ভাষায়, “যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।” সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে একাধিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এদিকে, সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত নতুন হামলা স্থগিত রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়ন করছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ওই বৈঠকের পরই ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেন, বড় পরিসরের হামলা চালানো সামরিকভাবে সম্ভব হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো রক্ষায় ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার কৌশল নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তার মতে, এসব হামলা ইরানের অভ্যন্তরে বিভক্তি সৃষ্টি করার বদলে দেশটির জনগণকে বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে কোনো নতুন বিমান হামলা চালায়নি। একই সময়ে সামরিক বিরতির পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও জোরদার করার চেষ্টা চলছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বললেও, প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার গভীর রাতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদাইদাহ প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি-সমর্থিত প্রশাসন। হুথি-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হোদাইদাহকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে সৌদি আরবকে। তাদের ভাষ্য, এই হামলার মাধ্যমে রিয়াদ সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। হুথিদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভির দাবি, সৌদি হামলায় হোদাইদাহ শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত একজন নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হোদাইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। জোটের দাবি, তাদের হামলা ছিল হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হোদাইদাহ, রাস ইসা ও সালিফ—ইয়েমেনের প্রধান বন্দরগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। হুথিরা যদি তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাবও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক নৌপথ সংকট। চলতি সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং কয়েকটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো ঘোষিত অবরোধ অমান্য করেছিল। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরতে এতদিন অনাগ্রহী ছিল সৌদি আরব। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ, সৌদি স্থাপনা ও জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের জেরে এবার সরাসরি ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হত্যার জন্য ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-কে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের এই কর্মকাণ্ডের 'দ্রুত শাস্তি' নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টির যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও দুর্বল করে দেওয়াই এই বিমান হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তীব্র গরমের মধ্যেই নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে এসি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ কমাতে শুক্রবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দেয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে নাগরিকদের ব্যস্ত সময়ে এসি ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। তবে কোন ধরনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন নাকি অন্য কোনো স্থাপনা। সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে শুক্রবার তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। শনিবার ও রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকার পাশাপাশি রোববার ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতভর চালানো হামলায় বন্দর আব্বাসের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে সড়ক ও রেলসেতুতে আঘাত হানা হয়। এছাড়া ওমান উপসাগর তীরবর্তী চাবাহার বন্দরের একটি টাওয়ার ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই বন্দরটি ভারতের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছিল এবং অতীতেওh একাধিকবার মার্কিন হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এদিকে শুক্রবার ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা ষষ্ঠ দিনের বিমান হামলা। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
মার্কিন বাহিনীর টানা দ্বিতীয় দিনের বিমান হামলার পর ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি তাদের অভিযানের লক্ষ্য ছিল। বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমতিও বাতিল করে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হওয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার কাঠামোতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ঘিরে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে। এরপর প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন এবং নতুন সামরিক হামলার নির্দেশ দেন। এর জবাবে ইরান এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ রাখাইন রাজ্যে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বুথিডং উপজেলার আশপাশের গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক হামলায় গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন রাজ্যে সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এদিকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মোনিওয়া শহরে জান্তাবিরোধী দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ)-এর মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় পিএসএফের কয়েকটি ক্যাম্পে পিডিএফের আকস্মিক অভিযানের পর। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের ভয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়ছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা এই দেশত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে মিয়ানমারে অন্তত ৩৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে—প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্য ঘাটতিতে ভুগছেন। এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পড়তে শুরু করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়লেও এখনো কার্যকর সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।
আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়া দিল্লি এ সামরিক পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের তিনটি সীমান্তবর্তী প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। পাক্তিয়া প্রদেশের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী আদম খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হাসপাতালে আহত শিশুদের অবস্থা এবং স্বজনদের আহাজারি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের দাবি, একটি পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, প্রথম দফার হামলার পর উদ্ধারকাজে মানুষ জড়ো হলে একই স্থানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, অভিযানে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরারের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২৭ জুন (রয়টার্স) — নিজেদের দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী। এ কারণে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ইরান ঠিক কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বা সেগুলোর অবস্থান কোথায়—এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রতিবেদনটি করেছেন ইমান আবুহাসিরা ও জানা চৌকেইর; সম্পাদনা করেছেন অ্যান্ড্রু হেভেন্স।
ইরানের উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার কড়া জবাব হিসেবে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং আইআরএনএ-তে প্রকাশিত আইআরজিসির মিডিয়া অফিসের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় সুনির্দিষ্ট কোন কোন স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বা বিস্তারিত আর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। ইরানের উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন বরাবরের মতোই নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে একটি সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে হরমোজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা চুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পক্ষকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে, যার ফলশ্রুতিতে ইরান প্রয়োজনীয় জবাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার মারাকেহ শহরে চালানো এক বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের জেজ্জিন জেলায় আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি ও কাফর রেমানে পৃথক হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এনএএ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল এলাকায় ভোরের দিকে চালানো হামলায় একাধিক ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ে ও জেজ্জিন অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের “তৎক্ষণাৎ এলাকা ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের আওতায় রয়েছে দেইর আল-জাহরানি, আল-নামিরিয়ে, হারুফ, কফর রুমানসহ একাধিক এলাকা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলীয় মেতুলা শহরে “লেবানন থেকে আসা একটি শত্রু ড্রোন অনুপ্রবেশ” শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এমন সব এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলো তারা “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত সীমার অনেক উত্তরে অবস্থিত এলাকা হিসেবেও বিবেচনা করছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান বাহিনীর এক হামলা ‘ভুলবশত’ একটি জনবহুল বাজারে আঘাত হানায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হামলাটি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবি রাজ্যের একটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জীবিতদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জিহাদি সহিংসতায় এই অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের একটি ঘাঁটি। তবে ভুলবশত কাছাকাছি একটি সাপ্তাহিক বাজারে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ এতে হতাহত হন। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম বনাঞ্চলে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও নতুন নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের অভিযানে অন্তত ৫০০ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল এবং স্থলবাহিনী ও বিমান ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি—এসব কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানোর পরও থামেনি ইসরাইলি বাহিনী। সাম্প্রতিক আক্রমণের ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের আল-দুয়াইর (খিয়ারবেত আল-দুয়ের নামেও পরিচিত) এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এতে সেখানে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এর আগের দিন বুধবার রাতে বড় ধরনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে লেবাননের জরুরি উদ্ধার সংস্থাগুলো। এ ঘটনার পর একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বালবেক, নাবাতিহ, সিডন ও টায়ার এলাকাগুলোতে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চলমান থাকলেও ইসরাইল ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গত ১৫ মাসে একাধিকবার তা লঙ্ঘন করা হলেও কার্যকরভাবে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিকে তারা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর মৃত্যুর ৪০তম দিন আজ বুধবার পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে তার সমর্থকদের ব্যাপকভাবে রাজপথে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। একই দিন থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে এই দুই দেশ। ইরানের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে মৃত্যুর ৪০তম দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা ‘চেহলাম’ বা ‘চল্লিশা’ নামে পরিচিত। এই দিনে সাধারণত নিহত ব্যক্তিকে স্মরণ করে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। এদিকে, খামেনির চল্লিশার দিনেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। ইরান আগে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছিল, এবং সেই প্রস্তাবগুলোকে আলোচনার ভিত্তি ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
লেবাননে জল, স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ত্রিমুখী হামলায় অন্তত ৪০ জন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো এবং অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, তাদের বিমান বাহিনী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে স্থলবাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর বেশ কিছু গোপন আস্তানা শনাক্ত করে তা উচ্ছেদ করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি নৌবাহিনী হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামরিক বিবৃতিতে জানানো হয়। এদিকে, ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে হিজবুল্লাহও। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ১০ মিনিটের দিকে লেবাননের মালিকিয়াহ ও ইয়েরুন এলাকায় ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা। এছাড়া লেবাননের মেনাহেম এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করেছে সংগঠনটি। তবে হিজবুল্লাহর এই ড্রোন ও রকেট হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। হামলাগুলো শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সংঘটিত হয়। ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আহভাজের কাছের খুজেস্তান স্টিল এবং ইস্ফাহানের মোবারাখে স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে। উভয় কারখানার আংশিক মালিক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তারা ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়াবেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী 'সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস' ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কালিহাতীর ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনের একজন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহতরা সবাই গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কালিহাতীর ধলাটেঙ্গর এলাকায় রেললাইন ও সড়কপথ একেবারে সমান্তরাল। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রেললাইনের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতিতে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের নিচে চাপা পড়েন তারা। রেজাউল করিম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। বর্তমানে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
সিরিয়ার সরকারি সামরিক শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদ এই আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ইসরায়েলি আইন লঙ্ঘনের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কও সৌদি আরবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই হামলাকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত শুক্রবার দাবি করেছিল, সিরিয়ার সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ সিরিয়ায় এই আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, তারা সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই যুক্তিকে ‘বানোয়াট অজুহাত’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দামেস্কের মতে, এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের ওপর একটি জঘন্য আঘাত। গত বছরও ইসরায়েল একই ধরনের অজুহাতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করেছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সুয়েইদা প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন দ্রুজ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এরপর ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে সুয়েইদা শহরের আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সরাসরি যুদ্ধ থেকে সিরিয়া এখন পর্যন্ত নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে, তবে এই নতুন হামলা দেশটিকে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, তখন সিরিয়ায় এই নতুন ফ্রন্ট খোলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের এই বেপরোয়া আচরণ এখনই থামানো। সিরিয়া এই হামলাকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে। রিয়াদ ও আঙ্কারার এই যৌথ অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার। যুদ্ধের এই পর্যায়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।