সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৯:২৮
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান
জানুয়ারির বিক্ষোভে আটকের পর ২ সন্তানের মাকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান

ইরানের শাহিন শাহর শহরে জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় একটি সুপারমার্কেটে আগুন লাগার দৃশ্য ধারণ করার অভিযোগে আটক ৪৩ বছর বয়সী লেইলা আবোলহাসানিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দুই কিশোরী মেয়ের এই মাকে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা ‘মোহারেবেহ’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর স্বজনদের দাবি, আগুন লাগানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না, শুধু ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। 

 

৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইসফাহান প্রদেশের শাহিন শাহরে ওই আগুনের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, লেইলা তখন একটি দোকানে আগুন লাগার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছিলেন। ওই সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে ইসফাহানের ডওলতাবাদ কারাগারে নেওয়া হয় তাঁকে। গ্রেপ্তারের পর সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে আটক আছেন। 

 

ইসফাহানের রেভল্যুশনারি কোর্টের ৫ নম্বর শাখা মে মাসে লেইলাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আদালতের অভিযোগ, দোকানটিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁর স্বজনরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, লেইলা আগুন লাগানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, বরং ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শুধু আগুনের দৃশ্য ধারণ করছিলেন। মামলায় আদালত কী ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে আগুন লাগানোর সঙ্গে যুক্ত করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। 

 

লেইলা পেশায় একজন নেইল টেকনিশিয়ান। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে তাঁর মামলাটি ইরানের সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে মামলাটির পর্যালোচনা চলছে। আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখলে লেইলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

 

জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে আরও দুই তরুণ, আমির মোহাম্মদ মোজালাল চৌবারি ও হোসেইন নাজারিকে পৃথক মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন HRANA। একই বিক্ষোভে আটক মাজিদ আদিনেহ নামে আরেক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডও গত সপ্তাহে কার্যকর করা হয়েছে বলে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে। 

 

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক চলতি মাসে ইরানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মতবিরোধ দমন ও জনগণের মধ্যে ভয় তৈরি করতে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষার ঘাটতি এবং নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। 

 

ইরানে লেইলা আবোলহাসানির মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনার ফলের ওপরই নির্ভর করছে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি তা বাতিল হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ফিলিপাইনের আপায়াও অঞ্চলের শিশু জারেন গামোগানের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে জন্ম থেকেই অতিরিক্ত লোম রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ায় সন্তান ‘অভিশপ্ত’ ভেবেছিলেন মা, চিকিৎসকেরা জানালেন বিরল রোগ

ফিলিপাইনের পাহাড়ি অঞ্চল আপায়াওয়ের দুই বছর বয়সী শিশু জারেন গামোগানের শরীরে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে ঘন লোম। মাথাভর্তি চুলের পাশাপাশি তার মুখ, গলা, পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশেও কালো লোম রয়েছে। সন্তানের এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা আলমা। একপর্যায়ে তিনি ধারণা করেন, গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ার কারণেই হয়তো ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কথায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির এই অবস্থার সঙ্গে মায়ের ওই খাবার খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   আলমার ভাষ্য অনুযায়ী, জারেনের জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় তার বন্য বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় এলাকায় এটি একটি পরিচিত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গ্রামের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কালো রঙের একটি বন্য বিড়াল খুঁজতে যান তিনি। পরে সেটি ভেষজ উপাদান দিয়ে রান্না করে খান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম দেখে তিনি নিজের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক খুঁজতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও আলমা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।   চিকিৎসকেরা জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর কারণ হিসেবে হাইপারট্রাইকোসিস নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থায় শরীরের এমন সব অংশে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে, যেখানে সাধারণত এত ঘন লোম থাকে না। এটি জন্মগত হতে পারে, আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা দিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়, তা নির্ভর করে এর ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণের ওপর। জারেনের ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিষ্ট ধরন বা জিনগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে রোগটি অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ‘প্রতি এক শ কোটি মানুষের মধ্যে একজন’ আক্রান্ত হওয়ার হিসাবটির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়।   জারেন তিন ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি হাসিখুশি ও খেলাধুলাপ্রিয়। তবে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি হলে অন্য শিশুদের আচরণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। শারীরিক গঠনে পার্থক্যের কারণে জারেনকে যেন কেউ উপহাস বা হয়রানি না করে, সেটিই এখন তার মায়ের বড় চিন্তা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইপারট্রাইকোসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও কারণের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে লোম কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে সব ধরনের ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। জারেনের চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   জারেনকে নিয়ে সংবাদটি ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি আবার সামনে এলেও একে সাম্প্রতিক কোনো জন্ম বা নতুন রোগনির্ণয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে হাইপারট্রাইকোসিস হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: LADbible, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২৩:৩০
রাজি নারিনসিংহের মুখে অনিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনের পর দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী বিকৃতি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

কম খরচে সৌন্দর্যচর্চা করাতে গিয়ে মুখ বিকৃত, ট্রান্সজেন্ডার নারীর মুখে সিমেন্ট ও আঠা পুশ করেন ভুয়া চিকিৎসক

পাকিস্তানের পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থী লাইবা এজাজ, যাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৩ লাখ রুপি প্রতারণা, পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রীর মৃত্যু

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী ও সমর্থকেরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরায় বাধা, বিক্ষোভে উত্তাল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বিশাল ক্রেনে তোলা হচ্ছে দুই হাজার বছরের স্নানাগার
যিশুর সময়কার ২ হাজার বছরের পুরোনো স্নানাগার, বিশাল ক্রেনে অক্ষত অবস্থায় সরালেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা

ইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৬:১৫
খ্রিষ্টান উপাসকদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানো ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম স্বেচ্ছাসেবক রিয়ান্তো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খ্রিষ্টান উপাসকদের জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন মুসলিম যুবক রিয়ান্তো

বিয়ের পোশাকে ইউসরন আজ্জাহিদি ও জিয়াদাতুর রাহমা, যারা তাদের সাবেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে প্রেম, বিয়ে করলেন ইন্দোনেশিয়ার দুই সাবেক শিক্ষার্থী

হিজাব পরা নিয়ে আজারবাইজানের ওই ছাত্রীর সাহসী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরি, কারও কথায় খুলব না’, প্রয়োজনে স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজারবাইজানি ছাত্রীর

কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। শহরের জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির একটি অনুলিপি প্রকাশ করেন সমীরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বাসিন্দারা রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া ও বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে লেখা চিঠিতে পানি সংকটকে গুরুতর মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকার মানুষকে নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রাখা শুধু পৌর পরিষেবার ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতি নগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি মোল্লাপাড়া নামেও পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম হলেও হিন্দু পরিবারও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে এলাকায় নিয়মিত পাইপলাইনের পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে পানি না পাওয়ায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। রান্না, পানীয় জল সংগ্রহ, গোসল এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানির ট্যাংকারের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। জাতিসংঘও নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়াকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করা তাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   তৃণমূলের এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, জ্যোতি নগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এ কারণেই তাঁদের এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরিকল্পিতভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   চিঠিতে সমীরুল ইসলাম আরও জানান, কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা কিংবা বাড়তি সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তাঁদের দাবি কেবল দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার নিশ্চয়তা।   পানি সংকটের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি না পেলে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার কাছে কয়েকটি বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন সমীরুল ইসলাম। জ্যোতি নগর কলোনিতে কেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে না, তার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য।   পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   জ্যোতি নগর কলোনির পানি সংকটকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয় নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি ধর্মীয় বৈষম্য ও মানবাধিকারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, পানি সরবরাহ বন্ধের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং বাসিন্দাদের জন্য নিয়মিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২:১৫
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা

ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ

বিরল রোগে আক্রান্ত হলেও জলের বুকে ওয়েক সার্ফিং করার সময় পরম স্বাধীনতা উপভোগ করেন অ্যাবি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

লাখে একজনের হওয়া বিরল রোগে আক্রান্ত অ্যাবি, সার্ফিংয়ে খুঁজে পেলেন জীবনের আনন্দ

0 Comments