সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

সাধারণ পাথরের সূত্র ধরে মিশরে মিলল রাজা দ্বিতীয় রামেসিসের বিশাল দুটি প্রাচীন মূর্তি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৯:৫৪
মিশরে উদ্ধার হলো রাজা রামেসিসের বিশাল মূর্তির অংশ
মিশরে উদ্ধার হলো রাজা রামেসিসের বিশাল মূর্তির অংশ

মিশরের একটি গ্রামে বাড়ির বাইরে রহস্যময় খোদাই করা পাথর খুঁজে পাওয়ার পর উন্মোচিত হয়েছে প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিদর্শন। ওই পাথরের সূত্র ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খনন চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছর আগের মিশরীয় শাসক দ্বিতীয় রামেসিসের দুটি বিশাল মূর্তির সন্ধান পেয়েছেন। মূর্তিগুলোর অবস্থা বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে গোলাপি গ্রানাইট পাথরের একটি খণ্ড, যাতে প্রাচীন মিশরের হায়ারোগ্লিফিক লিপি ও রাজকীয় শিলালিপি রয়েছে।
 

মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নীল নদের বদ্বীপ অঞ্চলের ওই গ্রামে এক বাসিন্দা প্রথমে শিলালিপিযুক্ত একটি পাথরের খণ্ড দেখতে পান। বিষয়টি সামনে আসার পর কর্মকর্তারা প্রত্নতাত্ত্বিক দলের সঙ্গে সেখানে খননকাজ শুরু করেন। সেই অনুসন্ধানেই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মূর্তিগুলোর সন্ধান মেলে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলো প্রাচীন মিশরের রাজকীয় ভাস্কর্য ও ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।


প্রত্নতাত্ত্বিকদের উদ্ধার করা প্রথম মূর্তিটির অবস্থা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মূর্তিটির মাথা আলাদা করে তোলার পর সেটিকে শরীরের ওপরের পেছনের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এসব অংশের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, সম্পূর্ণ অবস্থায় মূর্তিটির উচ্চতা ২৭ ফুটেরও বেশি হতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য উচ্চতা; মূর্তিটির সম্পূর্ণ কাঠামো উদ্ধার ও পরীক্ষা করার পরই এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।


দ্বিতীয় মূর্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক দল সাত ফুটের বেশি লম্বা একটি মাথার অংশ উদ্ধার করেছে। এতে রাজকীয় হেডড্রেসের মতো পরিচিত ‘নেমেস’ দেখা যায়। প্রাচীন মিশরের রাজাদের ভাস্কর্যে এ ধরনের মাথার আবরণ ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার করা অংশটির কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুপস্থিত থাকলেও মুখের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যগুলো তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মাথার অংশে দ্বিতীয় রামেসিসের মুখাবয়বের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে।


মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাথাটির মুখের বৈশিষ্ট্য এখনো স্পষ্ট এবং সামগ্রিক অবস্থা ভালো। এর চেহারার সঙ্গে একই স্থানে পাওয়া প্রথম মূর্তির বৈশিষ্ট্যেরও মিল রয়েছে। এই মিল প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই শাসকের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ভাস্কর্যের নকশা ও নির্মাণশৈলী তুলনা করে সেগুলোর পরিচয় এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


মূর্তিগুলোর কাছাকাছি স্থান থেকেই উদ্ধার হয়েছে গোলাপি গ্রানাইটের আরেকটি পাথরের খণ্ড। এটি মূর্তি থেকে প্রায় তিন ফুট দূরে পাওয়া যায়। পাথরটির দৈর্ঘ্য চার ফুটের কিছু বেশি। এর গায়ে হায়ারোগ্লিফিক লিপিতে লেখা রয়েছে বিভিন্ন চিহ্ন ও রাজকীয় পরিচয়। শিলালিপিতে দ্বিতীয় রামেসিসের নামের পাশাপাশি ‘নেসু বেটি’ শব্দবন্ধ রয়েছে, যার অর্থ উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজা। প্রাচীন মিশরে শাসকের উপাধি ও পরিচয় বোঝার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিলালিপি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।


দ্বিতীয় রামেসিস প্রাচীন মিশরের অন্যতম পরিচিত শাসক। তিনি প্রায় ৬৭ বছর রাজত্ব করেছিলেন, যা মিশরের দীর্ঘ রাজত্বগুলোর একটি। মিশরের সভ্যতা ও ইতিহাসসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। তাঁর শাসনামলে নিজের স্মৃতি ও রাজকীয় ক্ষমতা তুলে ধরতে বহু মূর্তি নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এসব ভাস্কর্য মন্দির, স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হতো।


রামেসিসের মূর্তি নির্মাণের ইতিহাসের আরেকটি দিকও উল্লেখযোগ্য। তাঁর নিজের ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য কখনো কখনো আগের শাসকদের মূর্তি সরিয়ে ফেলা হতো বা সেগুলোর পরিবর্তে নতুন ভাস্কর্য বসানো হতো। ফলে প্রাচীন মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণের সময় শুধু মূর্তির আকৃতি নয়, তার ওপর থাকা নাম, চিহ্ন, খোদাই এবং নির্মাণের ধরনও খতিয়ে দেখা হয়। সদ্য আবিষ্কৃত মূর্তি ও শিলালিপিগুলোও এ ধরনের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


দ্বিতীয় রামেসিসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তাঁর রাজত্বকালেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মমি সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করার জন্য বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে প্যারিসের মিউজে দ্য লোমে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তাঁর দেহের অবস্থা খারাপ ছিল এবং সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তাঁর ভ্রমণসংক্রান্ত নথিতে পেশার ঘরে ‘মৃত রাজা’ লেখা ছিল বলে জানা যায়।


নতুন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে মূর্তি ও পাথরের খণ্ডগুলোর বিস্তারিত পরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ধারণ। বিশেষ করে শিলালিপির পাঠ, মূর্তির নির্মাণশৈলী এবং উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও তথ্য পেতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মূর্তিগুলোর সম্ভাব্য উচ্চতা ও পরিচয় সম্পর্কে কিছু বিষয় প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।


একজন সাধারণ গ্রামবাসীর চোখে পড়া একটি পাথর থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান এভাবেই প্রাচীন মিশরের রাজকীয় ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সামনে এনেছে। প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বছর ধরে টিকে থাকা এসব ভাস্কর্য ও শিলালিপি অতীতের শিল্পকলা, রাজকীয় প্রতীক এবং সভ্যতার ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুক্তরাজ্যে বিএনও ভিসাধারীদের যোগ্য নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের আবেদনে পাঁচ বছরের একটানা বসবাসের শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাজ্যে ৫ বছরের অপেক্ষা ছাড়াই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এক শ্রেণির প্রবাসীদের সন্তানরা

যুক্তরাজ্যে হংকংয়ের ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) বা বিএনও ভিসাধারীদের নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে যোগ্য শিশুদের আর নিজস্বভাবে পাঁচ বছর একটানা যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হবে না। ফলে মা-বাবা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাঁদের সন্তানরাও একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে পারে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৮ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা সংশোধন করে এ পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে বিএনও ভিসার আওতায় থাকা নির্ভরশীল শিশুদের জন্য প্রযোজ্য।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগে বিএনও ভিসার আওতায় থাকা নির্ভরশীল শিশুদেরও সাধারণত স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে পাঁচ বছর একটানা যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব শিশু মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে, তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে। তবে এই পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে সব শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাবে। শিশুর বয়স, পারিবারিক সম্পর্ক, পরিচর্যা ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং মা-বাবার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাসহ প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   নতুন নির্দেশিকায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো শিশুর মা-বাবার ভিসার মেয়াদ আলাদা হলে স্থায়ী বসবাসের আবেদন কীভাবে বিবেচনা করতে হবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারত। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যে দর্শনার্থী ভিসায় থাকা কেউ দেশটির ভেতর থেকেই বিএনও ভিসার আওতায় আবেদন করতে চাইলে কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে, তা-ও পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, দর্শনার্থী ভিসা পাওয়া মানেই বিএনও ভিসার জন্য আবেদন করার অযোগ্য হয়ে যাওয়া নয়। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   বিএনও ভিসা মূলত হংকংয়ের নির্দিষ্ট বাসিন্দা ও তাঁদের যোগ্য পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুযোগ দিতে চালু করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং ব্রিটিশ শাসন থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের আগে ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) মর্যাদা চালু করা হয়েছিল। পরে হংকংয়ে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাজ্য ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি বিএনও ভিসা কর্মসূচি চালু করে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ ও পড়াশোনার সুযোগ পান। তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও নির্দিষ্ট শর্তে জীবনসঙ্গী, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান ও নাতি-নাতনিরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন সেই পরিবারগুলো, যাদের সন্তানরা মা-বাবার তুলনায় পরে যুক্তরাজ্যে এসেছে অথবা পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। আগে মা-বাবা স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হলেও সন্তানের নিজস্ব বসবাসের মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় একই সময়ে সবার আবেদন করা সম্ভব হতো না। সংশোধিত নির্দেশিকার ফলে এ ধরনের ক্ষেত্রে শিশুর আবেদন বিবেচনার সুযোগ বাড়বে। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত একজন মা-বাবাকে একই সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে হবে, অথবা আগে থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার কিংবা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। অন্য অভিভাবকের ক্ষেত্রেও নিয়ম রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।   প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের জন্য পাঁচ বছরের একটানা বসবাসের নিয়মে এই সংশোধন কোনো পরিবর্তন আনেনি। বিএনও ভিসাধারী প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত পাঁচ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে আরও ১২ মাস পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। ফলে নতুন পরিবর্তনটি মূলত নির্ভরশীল শিশুদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন সহজ করার জন্য নেওয়া হয়েছে, পুরো বিএনও ভিসা ব্যবস্থার নিয়ম বদলে দেওয়ার জন্য নয়।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ১৫তম সংস্করণের নির্দেশিকায় এ পরিবর্তনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের ঘোষিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী, মা-বাবার সঙ্গে একই সময়ে শিশুদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের বসবাসের শর্ত যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসনবিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, GOV.UK; Legit.ng।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২০:৪১
মিশরে উদ্ধার হলো রাজা রামেসিসের বিশাল মূর্তির অংশ

সাধারণ পাথরের সূত্র ধরে মিশরে মিলল রাজা দ্বিতীয় রামেসিসের বিশাল দুটি প্রাচীন মূর্তি

মহাকাশে বিরল সবুজ আভাযুক্ত শ্বেত বামন

পৃথিবী থেকে ২৮০ আলোকবর্ষ দূরে মিলল সবুজ শ্বেত বামন, রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

ইরানের সাহার তাবার সম্পাদিত ছবির মাধ্যমে ‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘জম্বি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি’ নামে ভাইরাল, আসল চেহারা প্রকাশ্যে আসতেই জানা গেল ভিন্ন গল্প

খরা ও দারিদ্র্যে বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারগুলো ঋণ শোধ এবং খাবারের খরচ জোগাতে শিশু কন্যাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আফগানিস্তানে খরায় নিঃস্ব পরিবার, ঋণ ও খাবারের জন্য বিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিশু কন্যাদের

আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশে দীর্ঘ খরা, ফসলহানি ও চরম দারিদ্র্যের কারণে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। খাবার কেনা, পুরোনো ঋণ শোধ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের চিকিৎসার খরচ জোগাতে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। এমনকি আট থেকে দশ বছর বয়সী অনেক শিশুর বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ও তীব্র খরা, জীবিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   বাদগিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাওয়ে বসবাসকারী ১১ বছর বয়সী খাতিরার জীবন সেই সংকটের একটি উদাহরণ। পরিবারের ঋণ শোধ করতে তাকে বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে খাতিরা আগের মতো বাইরে যায় না। তার মা নূর বিবি জানান, মেয়েটি এখন প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকে ও কাঁদে। হবু স্বামী বাড়িতে এলে খাতিরা তার সামনে পড়তে চায় না। মায়ের ভাষ্য, আগে মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্তের পর তার আচরণে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়েছে।   বাদগিসের মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। প্রদেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি এবং পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বছরের পর বছর খরায় জমিতে ফসল হচ্ছে না, পশুর জন্য ঘাস ও খাবার মিলছে না। অনেক পরিবার ঋণ করে চাষাবাদ চালানোর পর ফসল না পেয়ে আরও বিপাকে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে হাজারো মানুষ নিজেদের গ্রাম ছেড়ে কালা-ই-নাওয়ের মতো শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে কাজের আশায় এলেও অনেকে নিয়মিত আয় বা পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না।   এমনই এক পরিবারে দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ের বিয়ের কথাও ঠিক করা হয়েছে। তাদের মা গুল বোবো বলেন, মেয়েরা বিয়ের জন্য অনেক ছোট, তা তিনি জানেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর স্বামী আগে অন্যের জমিতে চাষ করতেন। বীজ কেনা এবং ট্রাক্টর বা গাধা ভাড়া করে জমি চাষের খরচ জোগাতে তাঁকে ধার করতে হতো। খরায় ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুল বোবো আশঙ্কা করেন, মেয়েরা বড় হয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কিন্তু দরিদ্রতার চাপে তাঁদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।   পরিবারের ঋণ পরিশোধে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা বাদগিসের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। ১১ বছর বয়সী গুলালাইয়ের বাবা-মা এক দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণ শোধ করতে মেয়েটির বিয়ে ঠিক করা হয় চল্লিশের কোঠায় থাকা ওই দোকানির সঙ্গে। গুলালাইয়ের বাবা নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মেয়েদের অন্তত ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিতেন না। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের একজনকে এভাবে ত্যাগ করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের পরিবার এখন ঘরে তৈরি রুটি, চা এবং মাঠ থেকে সংগ্রহ করা বুনো শাকপাতা খেয়েই দিন কাটায়।   খরার কারণে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশুও হারিয়েছেন বহু পরিবার। বাদগিসের পশুর বাজারে এমন অনেক মানুষকে দেখা যায়, যাঁরা পশুখাদ্য কেনার সামর্থ্য না থাকায় নিজেদের মূল্যবান গরু বিক্রি করছেন। কোনো কোনো গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালে প্রদেশটিতে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে আবারও ধারাবাহিক খরায় ফসল নষ্ট ও গবাদিপশুর খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হেরাত শহরের শারাক-ই-সাবজ বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস হলেও মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট কাটছে না।   হেরাতের ওই শিবিরে বসবাসকারী ১৫ বছর বয়সী দারেল্লাহ এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর স্বামী মোল্লার বয়স ৩০ বছর। ২০১৮ সালে খরার কারণে তাঁদের পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে আসে। দারেল্লাহ বলেন, এত অল্প বয়সে বিয়ে করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তিনি নিজেকে এখনো শিশু মনে করেন এবং এই বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভালো বলে মনে করেন না। তাঁর ১১ ও নয় বছর বয়সী দুই বোনকেও বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দুর্দশার মধ্যে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেশী বাবা খাবার ও সংসার চালানোর অর্থ জোগাড় করতে না পেরে নিজের ১০ বছর বয়সী ছেলের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুবধূদের জীবনে বিয়ের পরও সংকট শেষ হয় না। অনেককে অল্প বয়সেই স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রান্না, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্য দায়িত্ব সামলাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এসব কাজ করতে না পারলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়ঃসন্ধির পরপরই সন্তান নেওয়ার চাপও তৈরি হয়, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আফগানিস্তানে মাতৃমৃত্যুর হার বিশ্বের উচ্চতমগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অল্পবয়সী মায়েদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।   বাদগিসের খোশকিয়ানে এক কৃষকের টানা আট বছরের মধ্যে সাতবার গমের ফলন নষ্ট হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে মাজরির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বা ১৩ বছর বয়সে। এখন তাঁর বয়স ১৬ বা ১৭ বছর; স্বামীর বয়স চল্লিশের কোঠায়। তাঁর দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি আরেকটি সন্তান জন্মেছে। মাজরি বলেন, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে রান্নাও করতে পারতেন না। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। তাঁর ছোট বোনেরা এখনো বাড়িতে থাকলেও তাঁদের বিয়ের জন্য অর্থের ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষা চলছে।   চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবারের কাছে মেয়ের বিয়ের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও বিয়ের অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। পুরো অর্থ দেওয়া হলে মেয়েকে স্বামীর পরিবারের কাছে পাঠানোর দাবি জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির শুরুতেই। ১৪ বছর বয়সী ববি সামিয়ার বিয়ের দিনও সেই বাস্তবতা দেখা যায়। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামিয়া বলেন, তিনি খুশি নন, কারণ তিনি এখনো অনেক ছোট। পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে মেয়েটিকে বিয়েতে যেতে হচ্ছে।   এই সংকটের মধ্যে শিশু ও নারীদের সহায়তার জন্য কাজ করা কর্মসূচিগুলোও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনালের আফগানিস্তানবিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক মার্ক ক্যালডার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অথচ তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্লিনিকগুলোও সহায়তা কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১২ বছর বয়সী আয়েশার মতো কিছু মেয়ে এখনো স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবারের ঋণ শোধের জন্য ঠিক করা বিয়ের অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে তাদের স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হবে। তার মা চেষ্টা করছেন, যত দিন সম্ভব মেয়েকে স্কুলে রাখতে এবং বিয়ের বাকি অর্থ চেয়ে তাগাদা না দিতে, যাতে মেয়েকে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে না হয়।   দীর্ঘ খরা ও ফসলহানির সঙ্গে দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি মিলিয়ে আফগানিস্তানের বহু পরিবারকে এমন সিদ্ধান্তের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মেয়েদের বিয়েতে রাজি হওয়াকে অনেকে বাধ্যতামূলক ত্যাগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানো এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ২৩:৫০
অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের পরিবর্তনে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সরকারের পতন চাই, তবে বাংলাদেশ-নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি এক যুবক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে সৌদি আরব

জাপানের টোকিওতে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপন আলোচনায় অংশ নেয় মার্কিন প্রতিনিধিদল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক, নেপথ্যে কী?

চোখের ওপরের পাতায় ফোলা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে অস্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া দাঁত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
চোখের ওপর ফোলা, পরীক্ষা করতেই মিলল চোখের ভেতর গজাচ্ছে আস্ত দাঁত

ভারতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁ চোখের ওপর অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে চোখের কোটরের ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ দাঁতের সন্ধান পেয়েছেন। চোখের পাতার ওপর ও ভ্রুর মাঝামাঝি জায়গায় দাঁতটির দুটি সাদা অংশ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। দাঁতটি কোনো টিউমারের অংশ ছিল না; বরং মুখের স্বাভাবিক অবস্থানের বাইরে তৈরি হওয়া দাঁত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।   ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মাদুরাই শহরের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালে কিশোরটিকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাঁ চোখের ওপরের পাতায় প্রায় এক মাস ধরে ব্যথাহীন ফোলা ছিল। পরে চোখের পাতা ও ভ্রুর মাঝের অংশে শক্ত, সাদা রঙের দুটি ছোট উঁচু অংশ দেখা যায়। চিকিৎসকেরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, এটি টেরাটোমা নামের এক ধরনের টিউমার হতে পারে। এ ধরনের টিউমারে চুল, হাড় কিংবা দাঁতের মতো বিভিন্ন ধরনের টিস্যু থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক ধারণা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল।   কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক গঠনটির প্রকৃতি স্পষ্ট হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চোখের কোটরের ওপরের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানাইন দাঁত, যার মুকুট ও শিকড় দুটিই তৈরি হয়েছে। দাঁতটির দুটি অংশ ত্বকের বাইরে উঁচু হয়ে থাকায় সেগুলো আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণের পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এর মধ্যে টেরাটোমা-সংশ্লিষ্ট কোনো উপাদান নেই। ফলে এটিকে ‘একটোপিক দাঁত’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়, অর্থাৎ মুখের স্বাভাবিক দাঁতের সারির বাইরে অন্য স্থানে তৈরি হওয়া দাঁত।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে নাকের ভেতর, তালু, চোয়াল কিংবা চোখের কোটরের নিচের অংশে অস্বাভাবিকভাবে দাঁত তৈরি হওয়ার ঘটনা আগে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে চোখের কোটরের ওপরের অংশে পূর্ণাঙ্গ দাঁত পাওয়ার ঘটনা আগে প্রকাশিত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এ কারণেই ঘটনাটিকে বিশেষভাবে বিরল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দাঁতটি কী কারণে ওই স্থানে তৈরি হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনটিতে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে বিরল শারীরিক বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   কিশোরটির এই চিকিৎসা-ঘটনা নিয়ে মেঘনা তানওয়ার, বেদান্ত শর্মা ও উষা কিমের লেখা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চক্ষুবিষয়ক সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’তে। গবেষণাটি অনলাইনে ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং সাময়িকীটির জুন সংখ্যায় স্থান পায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঁতটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়েছে। চোখের কোটরের ওপরের অংশে এ ধরনের দাঁত পাওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসা সাহিত্যে প্রথম বলে লেখকেরা উল্লেখ করেছেন।   সূত্র: সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’ এবং আমেরিকান একাডেমি অব অফথ্যালমোলজি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ২৩:৩৭
স্বচ্ছ কালো রেশমের পাতায় সোনা ও রুপার কালি দিয়ে লেখা পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

স্বচ্ছ কালো রেশমি কাপড়ে সোনা-রুপার কালি দিয়ে পুরো কোরআন লিখেছেন আজারবাইজানের শিল্পী

ফিলিস্তিন ইস্যুকে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় অবিচার বলে মন্তব্য করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান, ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিল চীন

বেলজিয়ামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার কারণে চাকরিচ্যুত মুসলিম শিক্ষিকা খাদিজা আমাজুদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বেলজিয়ামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরায় চাকরি হারালেন মুসলিম শিক্ষিকা

0 Comments