সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

অবশেষে খুলনার সেই ‘সবুজ মাংস’ রহস্যের অবসান, ল্যাব রিপোর্টে মিলল কারণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১০:৪৬
পাইকগাছায় রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাব পরীক্ষায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। ছবি: সংগৃহীত
পাইকগাছায় রান্নার সময় মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার পর ল্যাব পরীক্ষায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মেলেনি। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস লাল থেকে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় স্বস্তির তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরীক্ষায় মাংসের নমুনায় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী পসুডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর উচ্চ তাপে রান্নার কারণে মাংসের রঞ্জক পদার্থের পরিবর্তনকে সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হয়েছে।

 

গত ২২ জুলাই পাইকগাছা পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কিনে রান্না করছিলেন। রান্নার একপর্যায়ে মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে সবুজ হয়ে যায়। অস্বাভাবিক এই পরিবর্তন দেখে তারা রান্না বন্ধ করে দেন এবং মাংস ভর্তি কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও পরে থানায় যান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

 

ঘটনার পর মাংসের প্রকৃত অবস্থা জানতে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। বিএফএসএর খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

 

সম্প্রতি পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে রং উৎপাদনকারী পসুডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরীক্ষায় মাংসে পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবের উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি।

 

অর্থাৎ, ল্যাব পরীক্ষায় মাংসের সবুজ রং ধারণের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পচন কিংবা ক্ষতিকারক জীবাণুর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি।

 

প্রতিবেদনে স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়েছে, মাংসটি দীর্ঘ সময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। পরে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে এলে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর কিংবা গাঠনিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলেই মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

 

তবে ল্যাব পরীক্ষায় মাংস সবুজ হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ এবং পরবর্তী উচ্চ তাপের প্রভাবে মাংসের রঞ্জক পদার্থে পরিবর্তনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ঘটনার শুরুতে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল দাবি করেছিলেন, তিনি ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস বিক্রি করেছেন এবং এতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে বেকারির কর্মচারীরা দাবি করেন, রান্নার সময় কোনো ধরনের রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের পরই মাংসের নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

বিএফএসএর পরীক্ষার প্রতিবেদন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে পাইকগাছায় আলোড়ন তোলা ‘সবুজ মাংস’ নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্ষতিকর জীবাণু বা পচনের প্রমাণ না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলো। তবে মাংসের অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের চূড়ান্ত কারণ হিসেবে কোনো একটি বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
এয়ারট্রাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদা
১৮ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, দেউলিয়া থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এয়ারট্রাঙ্ক গড়লেন রবিন

১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খোদার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এক দশকেরও কম সময়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন বিনিয়োগকারী জোটের অধিগ্রহণ চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু নির্ধারিত হয় ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি। ব্যবসার পাশাপাশি নারীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষায় বড় অনুদানের মাধ্যমেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।   ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন খোদা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বিবরণে তাঁর ১৮ বছর বয়সে সিডনিতে আসা এবং সেখান থেকে বড় পরিসরের ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ার যাত্রার কথা উঠে এসেছে। ক্লাউড সেবা ও বিপুল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এয়ারট্রাঙ্কের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়।   ব্ল্যাকস্টোন ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ চুক্তির ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে ছিল কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড বা সিপিপি ইনভেস্টমেন্টস। বিক্রেতা ছিল ম্যাককুয়ারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও পিএসপি ইনভেস্টমেন্টস। ঘোষণায় বলা হয়, এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্ল্যাকস্টোনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।   চুক্তির সময় এয়ারট্রাঙ্কের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে উপস্থিতি ছিল। গ্রাহকদের জন্য প্রতিশ্রুত সক্ষমতা ছিল ৮০০ মেগাওয়াটের বেশি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও এক গিগাওয়াটের বেশি সক্ষমতা গড়ার উপযোগী জমি ছিল প্রতিষ্ঠানটির হাতে।   নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের পর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জানায় এয়ারট্রাঙ্ক। প্রতিষ্ঠানটির বিবরণ অনুযায়ী, সে সময় এটি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম ডেটা সেন্টার অধিগ্রহণ এবং ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম লেনদেন। অধিগ্রহণের পরও প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে যুক্ত থাকেন খোদা।   তবে ২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু। এই অঙ্ককে খোদার ব্যক্তিগত সম্পদ বা তাঁর একার প্রাপ্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না। ব্ল্যাকস্টোনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগকারীরা খোদার সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসাটি এগিয়ে নিচ্ছেন।   এয়ারট্রাঙ্কের পরবর্তী সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় ভারতও রয়েছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে পাঁচ গিগাওয়াটের বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঘোষণা, ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে যাওয়া অর্থের হিসাব নয়।   শিক্ষাক্ষেত্রে খোদার বড় উদ্যোগ আসে তাঁর পারিবারিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিভার্সিটি অব সিডনি জানায়, খোদা ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের ১০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের অনুদানে ২০ বছরের একটি কর্মসূচি পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিসাবে, এটি তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম অনুদান।   ওয়েস্টার্ন সিডনির মেয়েদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বা স্টেম বিষয়ে পড়াশোনা এবং পেশা গড়তে সহায়তা করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনায় সহায়তা, মেন্টরিং ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথও তৈরি করবে উদ্যোগটি।   ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব টেকনোলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফেলো নির্বাচিত হন রবিন খোদা। ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তিশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ তাঁর পেশাজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৮:৫৯
কৃষিকে লাভজনক করার তাগিদ দিলেন রাষ্ট্রপতি (ছবি: সংগৃহীত ও এআই দ্বারা সম্পাদিত)

উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লাভ নেই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি

নরসিংদীতে তারেক মিয়ার ম রদেহ উদ্ধারের ঘটনা

রাতে নেশার টাকার জন্য বাড়ি ভাঙচুর, সকালে ছেলের র ক্তাক্ত ম রদেহ উদ্ধারের পর পলাতক বাবা

কিডনি বিক্রির দাবি, চুরির মামলায় গ্রে প্তার যুবক

অভাব মেটাতে কিডনি বিক্রি, এরপর ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রে প্তার

ইসরায়েলের আকাশসীমায় বাংলাদেশি বিমানকর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে বিধিনিষেধ
ইসরায়েলের আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনায় বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ

ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় দেশটির আকাশসীমা ব্যবহারকারী এবং ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিদেশি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিক এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন।   আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নতুন এই নির্দেশনা কর্মী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থার পাইলট ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিক রয়েছেন, তাদের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নিয়মটি বিবেচনায় নিতে হবে।   ফ্রান্সের বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, যেসব দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম যাত্রীদের পাশাপাশি বিমান সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও বিমান সংস্থাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে।   ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমা ব্যবহারকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এ বিধিনিষেধের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও পড়তে পারেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে নির্দেশনার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ক্ষেত্রে ৩১টি দেশের কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে ২৯টি দেশের তালিকার উল্লেখ পাওয়া গেছে।   বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের নামও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে এসব দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে।   এদিকে, বিধিনিষেধ জারির আগের দিন, ৩০ সেপ্টেম্বর, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইট ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করার অভিযোগও করা হয়। ঘটনায় ক্যাপ্টেন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পরদিন জারি করা নির্দেশনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই দুটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটলেও একটির সঙ্গে অন্যটির যোগসূত্র নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা জানান, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তারা নির্দেশনাটি পেয়েছেন এবং তা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করছেন। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা, কর্মী ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও সেখান থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।   যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করেছে বলে জানা গেছে। তবে সংস্থাটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি।   ইসরায়েলের এই নির্দেশনা কার্যকর থাকলে বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এবং বিমান সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৫:৩৮
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইটে বিঘ্ন, বাংলাদেশে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

স্কুলশিক্ষক নাজমুন নাহার

প্রথমবার ১০ দ্বিতীয়বার ৬৫ টাকা, সরকারি হাসপাতালে দুই সন্তান নরমাল প্রসবে খুশি শিক্ষিকা

এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

এআই দিয়ে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ারকারী, উভয়ই অপরাধী: মেহজাবীন চৌধুরী

বোনের পুরোনো বোরকা থেকে সুপারহিরোর পোশাক
বোনের পুরোনো বোরকা থেকে সুপারহিরোর পোশাক, ভাইরাল সিরাজগঞ্জের ‘বাংলার ক্রিশ’

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বনবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল মামুন। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে লোহা ও স্টিলের পাইপের কাজ করে। তবে কাজের বাইরে তাঁর আরেকটি পরিচয়—তিনি সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন দেখা এক যুবক। সেই স্বপ্ন থেকেই প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে নানা ধরনের শারীরিক কসরত অনুশীলন করছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    মামুনের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শুরু হয়েছিল ডিগবাজি ও নানা কসরতের ভিডিও ধারণের মাধ্যমে। প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি তিনি। পরে বলিউডের জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘ক্রিশ’-এর আদলে নিজেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেন।   কিন্তু সুপারহিরোর মতো পোশাক কেনার সামর্থ্য না থাকায় বিকল্প পথ বেছে নেন মামুন। বোনের পুরোনো একটি বোরকা নিজের মতো করে পরিবর্তন করে তৈরি করেন ক্রিশের আদলের পোশাক। সেই পোশাক পরে বিভিন্ন জায়গায় কসরত ও স্টান্ট প্রদর্শন করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে, অনেকে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিচিতি বাড়তে থাকে তাঁর।    তবে মামুনের স্বপ্ন কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নয়। তিনি চলচ্চিত্রে কাজ করতে চান এবং নিজের শারীরিক দক্ষতা বড় পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ খুঁজছেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছেন তিনি।   মামুনের এই গল্পে যেমন রয়েছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা, তেমনি রয়েছে নিজের দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচিতি তৈরির আকাঙ্ক্ষা। এখন তাঁর প্রত্যাশা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া পরিচিতি একদিন চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ তৈরি করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১১:৪৪
টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ সোনালী ব্যাংকের সব সেবা

টানা ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ সোনালী ব্যাংকের সব সেবা, বিপাকে পড়তে পারেন গ্রাহকরা

দরজা খুলে বাইরে বের হওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই আপন বোনের মৃত্যু

যে দরজা দিয়ে বের হওয়ার কথা, সেই দরজাতেই ঝরে গেল দুই আপন বোনের প্রাণ

রিজভী ,ড. ইউনূস

ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তোলপাড়, বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বললেন রিজভী

0 Comments