সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কমানোর সুযোগ, জানুন নিয়ম

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১১:১৯
নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক তথ্য সঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক তথ্য সঠিক নয়। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা একবারে পরিশোধ করতে না পারলে নির্দিষ্ট শর্তে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড়, প্রথমবার টিকিট পেলেই জরিমানা কমে যাওয়া বা মাসে মাত্র ২০ ডলার করে পরিশোধের যে দাবি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের বর্তমান নিয়মের মিল নেই। 


ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পার্কিং ও ক্যামেরা ভায়োলেশনের বকেয়া জরিমানা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। সাধারণ কিস্তি পরিকল্পনায় ৩৫০ ডলার বা তার বেশি বকেয়া থাকলে সাধারণত মোট বকেয়ার অন্তত ২০ শতাংশ আগে পরিশোধ করতে হয় এবং বাকি অর্থ সর্বোচ্চ ২৪ মাসে পরিশোধ করা যায়। ৩৫০ ডলারের কম বকেয়ার ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত প্রযোজ্য। 


কম আয়ের চালকদের জন্য আরও একটি বিশেষ কিস্তি পরিকল্পনা রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, যাদের সমন্বিত বার্ষিক আয় ৮৬ হাজার ৪০০ ডলারের নিচে, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মডারেট ইনকাম পেমেন্ট প্ল্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধের পর সর্বোচ্চ ১৮ মাসে বাকি অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকতে পারে। 

 

আর্থিক সংকটে থাকা কিছু ব্যক্তির জন্য হার্ডশিপ পেমেন্ট প্ল্যানও রয়েছে। বেকারত্ব, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ি হারানোর মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যোগ্য ব্যক্তিরা এ সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। এই পরিকল্পনায় ন্যূনতম ৫ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং সর্বোচ্চ ২৪ মাসের কিস্তির সুযোগ থাকতে পারে। তবে আবেদন অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। 

 

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা পাওয়া মানেই জরিমানা মাফ বা কমে যাওয়া নয়। বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে যতক্ষণ না পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে গাড়ি বুট করা বা টো করার মতো কিছু ব্যবস্থা এড়ানো যেতে পারে। 

 

এ ছাড়া কোনো পার্কিং টিকিট ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হলে সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসপিউট করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স জানিয়েছে, টিকিট পাওয়ার পর সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ বা ডিসপিউট করা উচিত। দেরি হলে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। 

 

তাই ১১৫ বা ১৫০ ডলারের পার্কিং টিকিট পেলেই ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে কিংবা প্রথমবার টিকিট পাওয়ার কারণে জরিমানা কমে যাবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বরং যোগ্যতা অনুযায়ী কিস্তি পরিকল্পনা, আর্থিক সংকটের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা অথবা টিকিট ডিসপিউট করার সুযোগ রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আমেরিকানদের ‘লিবারেল’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের নতুন মুদ্রা ব্যবহারের আহ্বান
আমেরিকানদের ‘লিবারেল’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাম্পের নতুন মুদ্রা ব্যবহারের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউএস মিন্টের তৈরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত নতুন এক ডলারের মুদ্রা নিয়ে অভিনব প্রচারণায় নেমেছেন মার্কিন ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ। গত ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি মার্কিন নাগরিকদের এই মুদ্রাগুলো সংগ্রহ করে নিজেদের পছন্দের ‘লিবারেল’ বা ভিন্নমতের কফিশপগুলোতে খরচ করার আহ্বান জানান।   রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতাবলম্বী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ট্রাম্পের এই নতুন মুদ্রা ব্যবহার করে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্যই তিনি মূলত এমন পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এটি নাগরিকদের প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়, বরং নেহাতই একটি ব্যক্তিগত প্রচারণামূলক কৌশল।   নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে এক ডলার অভিহিত মূল্যের এই বিশেষ মুদ্রাগুলোর বিক্রি শুরু হয়। তবে বাজারে মুদ্রাগুলো সাধারণ মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ইউএস মিন্টের তালিকা অনুযায়ী, ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ ডলার।   অর্থাৎ, ২৫ ডলার মূল্যের মুদ্রা কিনতে একজন সংগ্রাহককে প্রিমিয়াম হিসেবে অতিরিক্ত ৩৬ ডলার গুনতে হচ্ছে। একইভাবে ১০০টি মুদ্রার ব্যাগের দাম ধরা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সংগ্রাহকদের জন্য ক্রয়মূল্য বেশি হলেও প্রতিটি মুদ্রার প্রকৃত বা লেনদেনযোগ্য মূল্য এক ডলারই এবং এগুলো দিয়ে সাধারণ কেনাকাটা করা সম্পূর্ণ আইনিভাবে বৈধ।   বর্তমানে মুদ্রাগুলো অনলাইনে স্টক আউট থাকলেও আগামী মাস থেকে এগুলো আবারও পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্র্যান্ডন বিচ। ইউএস মিন্ট জানিয়েছে, গত ৪ জুলাই বিশেষ চিহ্নযুক্ত প্রায় আড়াই লাখ ট্রাম্প এক ডলারের মুদ্রা তৈরি করা হয়েছিল, যা অনলাইনে বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন রোল ও ব্যাগে এলোমেলোভাবে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শতক পূর্তি উপলক্ষে চলতি বছর ডাইম, কোয়ার্টার, হাফ ডলার এবং এক ডলারের মুদ্রার নকশায় বিশেষ পরিবর্তন আনার যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, এই বিশেষ মুদ্রাগুলো তারই একটি অংশ।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১০:১৫
ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভ্রমণে উইল ও ইয়েনি

হুইলচেয়ার আর জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম নিয়েই ছেলেকে নিয়ে পৃথিবী দেখাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দম্পতি

নিউইয়র্কে ৩ নভেম্বর ভোট, নতুন ভোটারদের নিবন্ধন করতে হবে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে

নিউইয়র্কে ৩ নভেম্বর ভোট, নতুন ভোটারদের নিবন্ধন করতে হবে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে

ভেনেজুয়েলার মা ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে আরানজা

নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের খতিয়ান, প্রায় ৫০০ মানুষের ঘটনা নিয়ে নতুন ওয়েবসাইট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসন নীতির নামে পরিচালিত গণ-নির্বাসন ও ধরপাকড়ের শিকার হওয়া মানুষদের তথ্য সংরক্ষণে একটি নতুন অনলাইন প্রজেক্ট চালু হয়েছে। 'ডিজঅ্যাপিয়ার্ড ইন আমেরিকা' নামের এই ওয়েবসাইটটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিতর্কিত অভিযানে আটক, নির্বাসিত বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রায় ৫০০ জনের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জে.বি. প্রিজকারের প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট 'ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশন'-এর উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।   শিকাগোতে পরিচালিত আইসিই-এর বহুল সমালোচিত 'অপারেশন মিডওয়ে ব্লিটজ'-সহ দেশজুড়ে চলা নানা অভিযানের শিকার অভিবাসী এবং মার্কিন নাগরিকদের গল্প স্থান পেয়েছে এই আর্কাইভে। হোয়াইট হাউস যখন গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সাফাই গাইছে, তখন সমালোচকরা দাবি করছেন, এই ধরনের বড় মাপের অভিযানে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছাড়াই অসংখ্য নিরীহ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।   ডেমোক্রেসি পাওয়ার প্রজেক্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিয়েত্রিজ লোপেজ নিউজউইক-কে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।   গভর্নর জে.বি. প্রিজকার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন সম্প্রদায়ের ওপর একটি "নজিরবিহীন সামরিক ধাঁচের হামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ফেডারেল এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতার বাইরে রাখার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, ইলিনয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।   ওয়েবসাইটটিতে বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে টেক্সাস ও মেইনে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত লরেঞ্জা সালগাদো আরাউজো এবং জোহান সেবাস্তিয়ান ডুরান গুয়েরেরো এবং মিনিয়াপলিসে নিহত দুই মার্কিন নাগরিক রেনি নিকোল গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ক্যানসার আক্রান্ত এক কিশোরী ওফেলিয়ার তার বাবার গ্রেপ্তারের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার মর্মান্তিক কাহিনিও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।   ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৬ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে নির্বাসিত করা হয়েছে, ৪ লাখ মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিকারকর্মীরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানে এই মানুষগুলো শুধুই কিছু সংখ্যা, কিন্তু এই ডাটাবেস তাদের হারিয়ে যাওয়া গল্পগুলোকে চিরস্থায়ী করবে।   ইলিনয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপে আগামীতে আরও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সম্মিলিত উদ্যোগ কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিতে একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৭:৫৬
ছয় বছরের শিশুর খুঁজে পাওয়া বিরল জীবাশ্ম

নেব্রাস্কার পার্কে ছয় বছরের শিশুর বিরল জীবাশ্ম আবিষ্কার, এমন নমুনা মেলেনি ৫৫ বছরেরও বেশি সময়

২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে আদালতের নির্দেশ

বিচারকের নির্দেশে ২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি চালুর পথে ট্রাম্প প্রশাসন, সুযোগ ফিরছে আবেদনকারীদের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে প্রস্তুত মার্কিন তরুণরা

তুরুপের তাস এবার তরুণ ভোটাররা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ

ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি
আমেরিকায় বিনামূল্যে খাবার দরকার? কাছের ফুড প্যান্ট্রি খুঁজবেন যেভাবে, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকটে খাবারের খরচ মেটাতে অসুবিধায় পড়লে স্থানীয় ফুড প্যান্ট্রি বা খাবার বিতরণ কর্মসূচির সহায়তা নেওয়া যায়। নিজের জিপ কোড দিয়ে ফিডিং আমেরিকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুড ব্যাংক খোঁজা যায়। এ ছাড়া ২১১ নম্বরে ফোন করেও কাছাকাছি খাবারের সহায়তা সম্পর্কে জানা সম্ভব। তবে কোথায় সরাসরি খাবার দেওয়া হয় এবং যাওয়ার আগে কী প্রস্তুতি দরকার, তা নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি।   ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রির কাজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফিডিং আমেরিকার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফুড ব্যাংক মূলত খাবার সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। আর ফুড প্যান্ট্রি সেই খাবার সরাসরি মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়। তাই ফুড ব্যাংকের ঠিকানা পেলেই সেখানে সরাসরি খাবার সংগ্রহ করা যাবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কাছাকাছি সহায়তা খুঁজতে গুগলে ‘Feeding America’ লিখে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে যেতে পারেন। সেখানে ‘Find Your Local Food Bank’ অংশে নিজের জিপ কোড দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যাবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগী ফুড প্যান্ট্রি, খাবার বিতরণের স্থান ও সময় জেনে নিতে হবে।    ফোনে তথ্য পেতে মোবাইল বা ল্যান্ডলাইন থেকে ২১১ নম্বরে কল করা যায়। ইউনাইটেড ওয়ে ২১১ জানিয়েছে, তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা এলাকার ফুড প্যান্ট্রি, খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবা এবং খাবারের খরচে সহায়তাকারী কর্মসূচির তথ্য দিতে পারেন। নিজের অবস্থান ও কী ধরনের সহায়তা দরকার, তা জানালে প্রাসঙ্গিক সেবার খোঁজ পাওয়া সহজ হয়।  গুগল বা গুগল ম্যাপসে ‘Free Food Pantry Near Me’ কিংবা ‘Food Bank Near Me’ লিখেও প্রাথমিক খোঁজ নেওয়া যায়। তবে শুধু সার্চে দেখানো সময়ের ওপর নির্ভর না করে যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করুন। সেদিন খাবার বিতরণ হবে কি না, আগে রেজিস্ট্রেশন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগবে কি না এবং সঙ্গে কোনো কাগজপত্র নিতে হবে কি না, তা জেনে নিন।   ফিডিং আমেরিকা জানিয়েছে, খাবারের খরচ মেটাতে বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন হলে ফুড প্যান্ট্রি বা খাবার কর্মসূচিতে যাওয়া যায়। তবে কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হওয়ার শর্ত থাকতে পারে। প্রথমবার গেলে পরিবারের প্রয়োজন সম্পর্কে প্রশ্ন করা বা ফরম পূরণ করতে বলা হতে পারে। তাই নিজের জিপ কোড, ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার তথ্য প্রস্তুত রাখুন এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নিয়ম আগে জেনে নিন।    খাবারের সহায়তা খুঁজতে ইউএসডিএ ন্যাশনাল হাঙ্গার হটলাইনের ১-৮৬৬-৩৪৮-৬৪৭৯ নম্বরেও ফোন করা যায়। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, এই হটলাইনের প্রতিনিধিরা কলকারীর অবস্থানের কাছাকাছি খাবার বিতরণকেন্দ্র, ফুড ব্যাংক ও অন্যান্য সামাজিক সেবার খোঁজ পেতে সহায়তা করেন।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ০:২৩
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত

২০২৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের জন্য ২৫০টির বেশি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধে বিনা খরচের সুবিধা চালু করছে ওয়ালমার্ট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ওয়ালমার্টের কর্মীরা বিনা খরচে পাবেন ২৫০টির বেশি ওষুধ, থাকছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও

মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার সূত্রে নাগরিকত্বের আবেদন করতে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে নাগরিকত্ব পাওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ও নতুন শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস

0 Comments