সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৮:৪৯
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে দেশটির সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় জানান।

 

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

চীন অতীতেও বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা রাখার আগ্রহ দেখিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান অনুযায়ী, সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা প্রয়োজন।
বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান।

 

বৈঠকে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর এবং সৌরশক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশের শিল্প খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন প্রযুক্তি আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে এসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগ বাড়লে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়।

 

কুনমিং-চট্টগ্রাম ও অর্থনৈতিক করিডর আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। রাষ্ট্রপতি কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপক্ষীয় যোগাযোগ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ চীন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

 

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে এর আগে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এ ধরনের যোগাযোগব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানো, শিল্পায়ন বাড়ানো এবং আঞ্চলিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি। তবে করিডরটির বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

 

বৈঠকে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি এসব উদ্যোগকে বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

 

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পেও চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধও জানান তিনি। এর আগে বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞদের যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে আসে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পটি কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত প্রমাণিত হলে বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়ে চীন আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল।

 

বৈঠকে স্বাস্থ্য খাতে চীনের সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের নির্মাণ ও অর্থায়নে চীনের সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতা জানান।এ ছাড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল বা সিএমএইচে ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসায় চীনা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হলে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তাঁর নিজের চীন সফর এবং সেখানে বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্যায়ের সফর ও বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের মেয়াদে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে তাঁর অবদানেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন।বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির উপ-রাষ্ট্রদূত ড. লিউ ইউইনও ছিলেন।

 

সাম্প্রতিক এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের আলোচনায় শুধু অবকাঠামো নয়, বিনিয়োগ, শিল্প ও প্রযুক্তি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকট—বহু ক্ষেত্র একসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে চীনের কূটনৈতিক ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ—দুই বিষয়েই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে এনেছে ফিন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা নাবিল আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি নাবিলের নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফিনে দুই কোটি ডলার বিনিয়োগ, ঢাকায়ও অফিস

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা নাবিল আলমগীরের সহপ্রতিষ্ঠিত নিউইয়র্কভিত্তিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফিন দুই কোটি ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি ১৫ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনে।    এই বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে এক্সপা ও উবারের সহপ্রতিষ্ঠাতা গ্যারেট ক্যাম্প। অংশ নিয়েছে কয়েনবেস ভেঞ্চারস, টেনেট ফান্ড, সেকেন্ড সাইট ভেঞ্চারসসহ আরও কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগস্টে সম্পন্ন হয়।    নাবিল আলমগীর ও মুস্তফা দার মিলে ফিন প্রতিষ্ঠা করেছেন। নাবিল এর আগে রেস্তোরাঁর জন্য প্রযুক্তিসেবা প্রতিষ্ঠান লাঞ্চবক্স প্রতিষ্ঠা করেন। মুস্তফা দার বেসরকারি বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান টোয়েন্টিফোর সেভেন জেটের প্রতিষ্ঠাতা এবং এক্সপার ভেঞ্চার পার্টনার।    ফিন এমন পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরি করছে, যা অন্য প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্র্যান্ডের অধীনে ব্যবহার করতে পারে। এর মাধ্যমে স্টেবলকয়েনের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেটের সংযোগ তৈরি করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ পাঠানো সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।    কোম্পানির দাবি, তাদের সেবা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ৮২ কোটি ৫০ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এই সংখ্যা ফিনের সরাসরি গ্রাহকসংখ্যা নয়, বরং তাদের ক্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ব্যবহারকারীর হিসাব।    নিউইয়র্কের পাশাপাশি লাস ভেগাস, দুবাই, ঢাকা, বেঙ্গালুরু ও লাহোরে ফিনের অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ছয়টি অফিসে দুই শতাধিক কর্মী কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করা হয়েছে।    ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থানীয় লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে সেগুলোকে এক নেটওয়ার্কে যুক্ত করছে ফিন। কোম্পানির ভাষ্য, এতে স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক, বিদ্যমান অনুমোদন ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ আরও আন্তর্জাতিক লেনদেনের পথে সেবা সম্প্রসারণ এবং অধিগ্রহণে ব্যবহার করা হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৯:৩৬
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জমির জন্য মেরে নিজ রুমে লুকিয়ে রাখেন ফুফু!

সকাল থেকে নিখোঁজ শিশু, জমির জন্য মেরে নিজ রুমে লুকিয়ে রাখেন ফুফু!

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে

আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়া হবে

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি টাকারও বেশি বিল তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারে, নারীর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল!

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিলের ভুল স্বীকার করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিল সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।   বিলটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে ইস্যু করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। বিলে ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর ৩৯৫ দেখানো হয়েছে। সে হিসাবে এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্রামের কাগজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটিতে শুধু ডিমান্ড চার্জের ঘরেই ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা দেখানো হয়। এর সঙ্গে ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ যোগ হয়ে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি টাকার বেশি। প্রতিবেদনটিতে ২৩৫ ইউনিটের সংশোধিত বিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মিটার পরিবর্তনের পর সিল নম্বরের অঙ্ক ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। ভুলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামও ঘটনাটিকে তথ্য লেখার ভুল বলে জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধনের আশ্বাস দিলেও সংশোধিত বিল গ্রাহকের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা জানা যায়নি।   সূত্র: ফেইস দ্যা পিপল

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৯:২০
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজে আকাশপথে বড় বিস্তারের পথে বাংলাদেশ

রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন জটিলতা

রূপপুরের জ্বালানি আনতে গিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় বাধাপ্রাপ্ত রুশ বিমান

আব্বাস প্রামানিক—বয়সের ভারেও চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন বলে পরিবারের দাবি

বয়স ১২৩, তবু চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন নাটোরের আব্বাস

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে ঢাকার বাংলাবাজারে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে কিছু সময় আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।   প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই যুবক বিক্রয়কেন্দ্রে এসে বইটি কিনতে চান। কর্মীরা বই বের করে দিলে ওই যুবকেরা সেটি বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানান এবং বইটি নিষিদ্ধ বলে দাবি করেন। পরে আরও কয়েকজনকে জড়ো করে বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে তালা দেওয়া হয়।   বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে আটকে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের থানায় নেওয়া হয়নি। ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।   ইউপিএল এক বিবৃতিতে বলেছে, বইটি নিষিদ্ধ করার কোনো সরকারি বা আদালতের পদক্ষেপের কথা তাদের জানা নেই। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।   অন্যদিকে ওসি মতিউর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের পর বইটি আর ছাপানো হয়নি এবং সেটি আর বিক্রি না করার শর্তে দুই কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বই বিক্রি বন্ধের এই শর্তের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে প্রতিবেদনে পুলিশের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   সূত্র: প্রথম আলো  

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২:২১
রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে

রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার

অনিক তার মেয়ে

খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো তুবার পাশে প্রশাসন, পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

0 Comments