রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি, বান্দরবানের পর্যটনে নতুন এক মানবিক গল্প
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারপাশে সবুজের সমারোহ, পাখির ডাক আর ঝরনার কলকল শব্দ—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এখানকার প্রতিটি পাহাড়, ঝরনা আর জনপদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলাদা গল্প। সেই গল্পেরই একটি ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্র নয় বছর বয়সী মাহি। রূপালী জলপ্রপাতের পথে পর্যটকদের পথ দেখিয়ে সে যেন পরিচয় করিয়ে দেয় নিজের চেনা প্রকৃতি, এলাকার সৌন্দর্য আর মানুষের আন্তরিকতার সঙ্গে।
মাহির গল্প শুধু একজন শিশুর পর্যটককে পথ দেখানোর গল্প নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পর্যটনকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথাও বলে।
প্রকৃতির পথে মাহির ছোট্ট ভূমিকা
স্থানীয় একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মাহি। তার বাবা পানবরজে কাজ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি নিজের পরিচিত পরিবেশ ও পথঘাট সম্পর্কে ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রূপালী জলপ্রপাত দেখতে আসা পর্যটকদের পথ দেখায়।
একটি পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মাহি হাসিমুখে তাদের স্বাগত জানায় এবং জলপ্রপাতের পথে গাইড হিসেবে সহযোগিতা করে। তার আন্তরিক ব্যবহার, পরিচিত পথ সম্পর্কে ধারণা এবং পর্যটকদের প্রতি যত্নশীল আচরণ ভ্রমণটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অনেক সময় পর্যটকেরা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ভাবেন। কিন্তু স্থানীয় কারও চোখ দিয়ে একটি জায়গাকে দেখার অভিজ্ঞতা ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। মাহির মতো স্থানীয় শিশুরা নিজেদের চেনা পরিবেশ সম্পর্কে যে ধারণা রাখে, তা পর্যটকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে।
পথ চেনানোর পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি যত্ন
জলপ্রপাতের পথে চলাচলের সময় ভেজা ও পিচ্ছিল জায়গায় সতর্ক থাকা জরুরি। পাহাড়ি পথের সামান্য অসাবধানতাও বিপদের কারণ হতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদে চলাচল, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করার মতো বিষয়গুলোও দায়িত্বশীল ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাহির গল্পে উঠে এসেছে, সে পর্যটকদের পথ দেখানোর পাশাপাশি সতর্কভাবে চলাচল ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। জলপ্রপাতের আশপাশে ছবি তোলার উপযোগী স্থান দেখিয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট সহযোগিতাও পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে পারে।
তবে পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু স্থানীয় কারও ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ পথ চিহ্নিত করা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক গাইডের ব্যবস্থা করা পর্যটন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পর্যটনের সম্ভাবনা শুধু পাহাড় আর ঝরনায় সীমাবদ্ধ নয়
বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনার বড় শক্তি এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। পাহাড়, বন, ঝরনা ও স্থানীয় সংস্কৃতি মিলিয়ে জেলাটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। তবে একটি পর্যটন গন্তব্যকে দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণ।
পর্যটকেরা কোনো এলাকায় গেলে স্থানীয় পরিবহনচালক, খাবারের দোকান, আবাসনসেবা, হস্তশিল্পের উদ্যোক্তা ও গাইডদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মাহির গল্প এই বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। স্থানীয় মানুষের কাছে কোনো এলাকার পথঘাট, আবহাওয়া, পরিবেশ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা থাকে, তা পর্যটনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। এই জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে পর্যটকেরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও বাড়বে।
ছোট্ট মাহির স্বপ্নের আগে জরুরি তার শৈশব
মাহির গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বয়স। মাত্র নয় বছর বয়সে পর্যটকদের পথ দেখানোর অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস ও স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে ধারণার পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু কোনো শিশুর সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকারকে কখনোই আড়াল করা উচিত নয়।
শিশুদের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কাজের কারণে তাদের স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা স্বাভাবিক শৈশব ব্যাহত হচ্ছে না। মাহির ক্ষেত্রেও পরিবার, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
তার প্রকৃতিপ্রীতি ও পথঘাট সম্পর্কে জ্ঞান ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সে বড় হয়ে পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ কিংবা আতিথেয়তা বিষয়ে আগ্রহী হলে শিক্ষার মাধ্যমে সেই আগ্রহকে আরও বিকশিত করার সুযোগ পেতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সে কী হতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই। এখন তার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া।
দায়িত্বশীল পর্যটন গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন
রূপালী জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক গন্তব্যের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পর্যটক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলপ্রপাত ও পাহাড়ি পথের পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা এবং পর্যটকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যটকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও খাবারের প্যাকেট না ফেলা, প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করা, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি তুলতে গিয়ে অসতর্ক না হওয়া দায়িত্বশীল ভ্রমণের অংশ।
একই সঙ্গে পর্যটন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটনের সুফল যেন শুধু বাইরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
জলপ্রপাতের পথে একটি বড় বার্তা
রূপালী জলপ্রপাতের পথে মাহির উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটনের গল্প শুধু পাহাড়ের উচ্চতা, ঝরনার সৌন্দর্য কিংবা ছবির আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, স্থানীয় জ্ঞান, আতিথেয়তা এবং উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
একটি পর্যটন গন্তব্যকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করতে হলে প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকার সবার আগে রাখতে হবে।
ছোট্ট মাহি হয়তো এখনো জানে না, তার চেনা পথ ধরে পর্যটকদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে কত বড় একটি বিষয় লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্যকে মানুষের গল্প থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।
বান্দরবানের পাহাড়, বন আর ঝরনা যেমন এই অঞ্চলের সম্পদ, তেমনি এখানকার মানুষের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও জীবনও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও মানবিক পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে রূপালী জলপ্রপাতের মতো গন্তব্য শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্যও তৈরি করতে পারে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথ।
লেখক- ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা তালুকদার
সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড চেয়ারম্যান, কলেজ অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, আইইউবিএটি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreপাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারপাশে সবুজের সমারোহ, পাখির ডাক আর ঝরনার কলকল শব্দ—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এখানকার প্রতিটি পাহাড়, ঝরনা আর জনপদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলাদা গল্প। সেই গল্পেরই একটি ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্র নয় বছর বয়সী মাহি। রূপালী জলপ্রপাতের পথে পর্যটকদের পথ দেখিয়ে সে যেন পরিচয় করিয়ে দেয় নিজের চেনা প্রকৃতি, এলাকার সৌন্দর্য আর মানুষের আন্তরিকতার সঙ্গে। মাহির গল্প শুধু একজন শিশুর পর্যটককে পথ দেখানোর গল্প নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পর্যটনকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথাও বলে। প্রকৃতির পথে মাহির ছোট্ট ভূমিকা স্থানীয় একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মাহি। তার বাবা পানবরজে কাজ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি নিজের পরিচিত পরিবেশ ও পথঘাট সম্পর্কে ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রূপালী জলপ্রপাত দেখতে আসা পর্যটকদের পথ দেখায়। একটি পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মাহি হাসিমুখে তাদের স্বাগত জানায় এবং জলপ্রপাতের পথে গাইড হিসেবে সহযোগিতা করে। তার আন্তরিক ব্যবহার, পরিচিত পথ সম্পর্কে ধারণা এবং পর্যটকদের প্রতি যত্নশীল আচরণ ভ্রমণটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অনেক সময় পর্যটকেরা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ভাবেন। কিন্তু স্থানীয় কারও চোখ দিয়ে একটি জায়গাকে দেখার অভিজ্ঞতা ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। মাহির মতো স্থানীয় শিশুরা নিজেদের চেনা পরিবেশ সম্পর্কে যে ধারণা রাখে, তা পর্যটকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে। পথ চেনানোর পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি যত্ন জলপ্রপাতের পথে চলাচলের সময় ভেজা ও পিচ্ছিল জায়গায় সতর্ক থাকা জরুরি। পাহাড়ি পথের সামান্য অসাবধানতাও বিপদের কারণ হতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদে চলাচল, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করার মতো বিষয়গুলোও দায়িত্বশীল ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাহির গল্পে উঠে এসেছে, সে পর্যটকদের পথ দেখানোর পাশাপাশি সতর্কভাবে চলাচল ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। জলপ্রপাতের আশপাশে ছবি তোলার উপযোগী স্থান দেখিয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট সহযোগিতাও পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে পারে। তবে পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু স্থানীয় কারও ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ পথ চিহ্নিত করা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক গাইডের ব্যবস্থা করা পর্যটন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যটনের সম্ভাবনা শুধু পাহাড় আর ঝরনায় সীমাবদ্ধ নয় বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনার বড় শক্তি এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। পাহাড়, বন, ঝরনা ও স্থানীয় সংস্কৃতি মিলিয়ে জেলাটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। তবে একটি পর্যটন গন্তব্যকে দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণ। পর্যটকেরা কোনো এলাকায় গেলে স্থানীয় পরিবহনচালক, খাবারের দোকান, আবাসনসেবা, হস্তশিল্পের উদ্যোক্তা ও গাইডদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মাহির গল্প এই বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। স্থানীয় মানুষের কাছে কোনো এলাকার পথঘাট, আবহাওয়া, পরিবেশ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা থাকে, তা পর্যটনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। এই জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে পর্যটকেরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও বাড়বে। ছোট্ট মাহির স্বপ্নের আগে জরুরি তার শৈশব মাহির গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বয়স। মাত্র নয় বছর বয়সে পর্যটকদের পথ দেখানোর অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস ও স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে ধারণার পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু কোনো শিশুর সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকারকে কখনোই আড়াল করা উচিত নয়। শিশুদের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কাজের কারণে তাদের স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা স্বাভাবিক শৈশব ব্যাহত হচ্ছে না। মাহির ক্ষেত্রেও পরিবার, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। তার প্রকৃতিপ্রীতি ও পথঘাট সম্পর্কে জ্ঞান ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সে বড় হয়ে পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ কিংবা আতিথেয়তা বিষয়ে আগ্রহী হলে শিক্ষার মাধ্যমে সেই আগ্রহকে আরও বিকশিত করার সুযোগ পেতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সে কী হতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই। এখন তার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া। দায়িত্বশীল পর্যটন গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন রূপালী জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক গন্তব্যের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পর্যটক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলপ্রপাত ও পাহাড়ি পথের পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা এবং পর্যটকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও খাবারের প্যাকেট না ফেলা, প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করা, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি তুলতে গিয়ে অসতর্ক না হওয়া দায়িত্বশীল ভ্রমণের অংশ। একই সঙ্গে পর্যটন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটনের সুফল যেন শুধু বাইরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। জলপ্রপাতের পথে একটি বড় বার্তা রূপালী জলপ্রপাতের পথে মাহির উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটনের গল্প শুধু পাহাড়ের উচ্চতা, ঝরনার সৌন্দর্য কিংবা ছবির আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, স্থানীয় জ্ঞান, আতিথেয়তা এবং উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। একটি পর্যটন গন্তব্যকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করতে হলে প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকার সবার আগে রাখতে হবে। ছোট্ট মাহি হয়তো এখনো জানে না, তার চেনা পথ ধরে পর্যটকদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে কত বড় একটি বিষয় লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্যকে মানুষের গল্প থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। বান্দরবানের পাহাড়, বন আর ঝরনা যেমন এই অঞ্চলের সম্পদ, তেমনি এখানকার মানুষের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও জীবনও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও মানবিক পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে রূপালী জলপ্রপাতের মতো গন্তব্য শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্যও তৈরি করতে পারে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথ। লেখক- ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা তালুকদার সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড চেয়ারম্যান, কলেজ অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, আইইউবিএটি।
'প্রয়োজনে বেঁধে রাখেন, তবু অপমান করবেন না' ডাকাতদের বললেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
উড্ডয়নের পর বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ
খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ
বাংলাদেশের হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো আল আমিন এবার দেশটির বিমানবাহিনী রয়্যাল এয়ার ফোর্সে (আরএএফ) যোগ দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের আরএএফ হালটনের এভিয়েটর ট্রেনিং একাডেমিতে পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। বর্তমানে এয়ার রিক্রুট (এআর) পদে রয়েছেন এই বাংলাদেশি তরুণ। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বেড়ে ওঠা আল আমিনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় স্থানীয় বিদ্যালয়ে। ২০১৩ সালে নালমুখের সাবিহা চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে। সেখান থেকে ২০১৫ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ২০১৯ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় সিলেটের এমসি কলেজের বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হন আল আমিন। তবে সেখানে পড়াশোনা শেষ করা হয়নি তাঁর। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা থেকে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে ইন্টার্নশিপসহ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করেন আল আমিন। বাংলাদেশে বাংলা বিষয়ে পড়াশোনা করলেও বিদেশে গিয়ে ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মতো ভিন্ন একটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের কর্মজীবন নিয়েও নতুন পরিকল্পনা করতে থাকেন আল আমিন। একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল রয়্যাল এয়ার ফোর্সে কাজ করার সুযোগ পাওয়া। তবে এই বাহিনীতে যোগদানের জন্য তাঁকে বেশ কয়েকটি বাছাই ও পরীক্ষার ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর শুরু হয় তাঁর প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ। সামরিক জীবনের নিয়মশৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা, দায়িত্ববোধ এবং দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেন তিনি। অবশেষে গত ৭ অক্টোবর আরএএফ হালটনের এভিয়েটর ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেন আল আমিন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। এর ফলে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে তাঁর পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্স যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান শাখা। দেশটির আকাশসীমার নিরাপত্তা, সামরিক বিমান পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এই বাহিনী। রয়্যাল এয়ার ফোর্সে সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য আরএএফ হালটন একটি পরিচিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র। আল আমিন বর্তমানে এয়ার রিক্রুট পদে রয়েছেন। এটি তাঁর সামরিক ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ভবিষ্যতে কোন নির্দিষ্ট শাখা বা দায়িত্বে তিনি কাজ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যে ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে সামরিক বাহিনীতে যোগদান, আল আমিনের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবনে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রতিটি পর্যায়েই তাঁকে নতুন পরিবেশ এবং ভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হওয়া এবং প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষ করা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নালমুখ থেকে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, সেখান থেকে সিলেটের এমসি কলেজ এবং পরবর্তী সময়ে লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি হয়ে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে পৌঁছেছেন আল আমিন। দেশের মাটিতে শুরু হওয়া শিক্ষাজীবন থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিমানবাহিনীতে যোগদানের এই পথচলা তাঁর জীবনে নতুন মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো। প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর এখন রয়্যাল এয়ার ফোর্সে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের এই তরুণ। সূত্র: পাবলিকিয়ান
১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট
অটোরিকশার পক্ষে কথা বলা নেতারই রয়েছে ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক
ফেসবুকে প্রেম, মোবাইলে বিয়ে, চার মাস পর জানলেন স্ত্রী আসলে পুরুষ
বাংলাদেশের পর্যটন ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সহযোগী সদস্য আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, তাকে নিয়োগ দিয়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ৭ ও ৮ অক্টোবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নতুন দায়িত্বে ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ভিডিও নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্র ও ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার বিষয়টি তার দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতেও তিনি কাজ করবেন। এই দায়িত্বের মাধ্যমে এশিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারণার সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর সরাসরি সম্পৃক্ততা তৈরি হলো। ডাল্টন জহির আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের কার্যক্রম সম্পর্কে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রচার করবেন এবং পর্যটন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরতে সহযোগিতা করবেন। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করবে। পর্যটন প্রচারণায় মানসম্মত ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডাল্টন জহিরের রয়েছে পর্যটন, আতিথেয়তা, গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছরের বেশি কাজের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় পর্যটন খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে একজন পর্যটন পেশাজীবী, লেখক ও গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত করা হয়েছে। তার পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল ব্যবসায় বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় হোটেল ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানে তিনি নির্বাহী পর্যায়ে কাজ করেছেন। বহুজাতিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পর্যটনভিত্তিক গণমাধ্যম ও ভ্রমণ প্রচারণার ক্ষেত্রেও ডাল্টন জহির দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ভ্রমণ ও পর্যটনকেন্দ্রিক একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগও বিস্তৃত। পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশিত হয়েছে।বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের পর্যটন পেশাজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ডাল্টন জহির লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন বিষয়ে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যটন, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও সৃজনশীল যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন ও করপোরেট চলচ্চিত্র উৎসবকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে। পর্যটন গন্তব্য, পর্যটন পণ্য ও পর্যটনসেবার প্রচারে মানসম্মত ভিডিও নির্মাণকে উৎসাহ দেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং ভিডিও নির্মাতারা তাদের নির্মিত প্রচারচিত্র জমা দিতে পারেন। বিভিন্ন উৎসবে অর্জিত পুরস্কার ও পয়েন্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি হয় এবং বছরের সেরা পর্যটন চলচ্চিত্রগুলোকে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে পর্যটন প্রচারণায় ভিডিও ও দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, মানুষের জীবনযাপন এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অল্প সময়ের একটি ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ফলে পর্যটন শিল্পে চলচ্চিত্র ও ভিডিও এখন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, একটি দেশের পর্যটন পরিচিতি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় এশিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ডাল্টন জহিরের দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য অঞ্চল, নদী, গ্রামীণ জীবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকসংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের খাবার ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানের দৃশ্যভিত্তিক গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্মাতা ও পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে নিজেদের কাজের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটনভিত্তিক ভিডিও ও চলচ্চিত্রের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এশিয়ার পর্যটন খাত বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের পর্যটন গন্তব্যকে নতুনভাবে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও এবং ডিজিটাল গল্প বলার কৌশল ব্যবহার করছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও আধুনিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্ব সেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তার মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটন প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্মগুলোর যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবীর এশিয়া অঞ্চলের এমন একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পাওয়া দেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মাধ্যমে শুধু ডাল্টন জহিরের ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক পরিচিতিই বাড়েনি, বাংলাদেশের পর্যটন ও গন্তব্য প্রচারণার জন্যও আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন একটি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে টেসলা-মার্সিডিজের চেয়েও বেশি শুল্ক মাল্টায়, চাপ বাড়ছে ক্রেতাদের
ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই, পরে বিধবা জানলেন তার বিয়ে হয়ে গেছে