সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:৪৬
মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে
মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে নিয়ে যেতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক স্ত্রী বা স্বামী, ছেলে বা মেয়ে, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম ও অপেক্ষার সময় রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিককে সাধারণত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করতে হয়। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী যোগ্য আত্মীয়কে স্পনসর করেন। সাধারণত স্পনসরকে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী হতে হয়, যদিও সব ধরনের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত এক নয়।

 

মার্কিন নাগরিকদের জন্য পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা মূলত দুই ধরনের—‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ এবং ‘ফ্যামিলি প্রেফারেন্স’। ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের স্ত্রী বা স্বামী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকের বাবা-মা অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই।

 

অন্যদিকে ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে মার্কিন নাগরিকের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে, বিবাহিত ছেলে-মেয়ে এবং ভাই-বোনের মতো সম্পর্ক রয়েছে। এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয়। ফলে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যায় না; ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হতে পারে।

 

মার্কিন নাগরিকরা যেসব চার ধরনের আত্মীয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন, সেগুলো হলো—

 

১. স্ত্রী বা স্বামী

২. ছেলে বা মেয়ে

৩. বাবা বা মা

৪. ভাই বা বোন

 

বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে মার্কিন নাগরিকের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। একইভাবে, ছেলে-মেয়ের বয়স ও বৈবাহিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তারা ইমিডিয়েট রিলেটিভ নাকি ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিতে পড়বেন, তা নির্ধারিত হয়।

 

গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরা বাবা-মা বা ভাই-বোনকে এই পরিবারভিত্তিক পদ্ধতিতে সরাসরি স্পনসর করতে পারেন না।

 

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের প্রক্রিয়া সাধারণত ফর্ম আই-১৩০ বা ‘পিটিশন ফর এলিয়েন রিলেটিভ’ দিয়ে শুরু হয়। আবেদনকারীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। পিটিশন অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোয়।

 

তবে আত্মীয়ের ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে ভাই-বোন, বিবাহিত সন্তান এবং কিছু প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত সন্তানের ক্ষেত্রে বার্ষিক ভিসা সীমা থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সর্বশেষ নিয়ম ও ভিসা বুলেটিন দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় আসছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিবর্তন
গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, অক্টোবর থেকে যেসব নিয়মে আসছে নতুন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষারত আবেদনকারীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বরের নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং কয়েকটি কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক চার্জের নিয়মে পরিবর্তন এবং ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে।   প্রথম বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন অর্থবছরের ভিসা নম্বর নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর। আগের অর্থবছরে যেসব ক্যাটাগরির বার্ষিক ভিসা সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছিল, নতুন অর্থবছরে সেগুলোতে আবার ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারতের কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ নভেম্বর ২০১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি-১ এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫-এর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়েছে। তবে অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। যেমন, অধিকাংশ দেশের ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ইবি-৩-এর ডেট ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের জন্য ইউএসসিআইএস ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কিছু আবেদনকারী তাদের প্রাইওরিটি ডেট অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে পারবেন, যদিও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তৃতীয় পরিবর্তন এসেছে পাবলিক চার্জ নিয়মে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধি বাতিল করে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হবে—এমন নয়।   চতুর্থ পরিবর্তন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায়। ৩০ নভেম্বর থেকে প্রধান বিনিয়োগ আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা বিনিয়োগকারীদের ফিও বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। নতুন একটি নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   তাই গ্রিন কার্ডপ্রার্থীদের জন্য অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে নিজের ক্যাটাগরি, দেশভিত্তিক প্রাইওরিটি ডেট এবং ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৮:৩৫
জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি গ্রোসারিতে বাজারের আগে দেখে নিন সাপ্তাহিক অফার

জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি গ্রোসারির অফার, বাজারের আগে জেনে নিন

নিজের আইকিউ সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

‘আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি, চাচার কাছ থেকেই বুদ্ধিমত্তা পেয়েছি’: ট্রাম্প

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

ওবামাকেয়ারের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে
৩০ রাজ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ পাচ্ছেন ওবামাকেয়ারের ৫০০ ডলারের রিফান্ড, চেক পাঠানো শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলারের রিফান্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০টি রাজ্যের যোগ্য গ্রাহকদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ওবামাকেয়ার রিফান্ডস’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ সেপ্টেম্বর করেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ‘ইউজার ফি’-এর একটি অতিরিক্ত অংশ গ্রাহকদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই ফি শেষ পর্যন্ত বেশি প্রিমিয়ামের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল।   এই রিফান্ডের আওতায় মূলত সেইসব মানুষ রয়েছেন, যারা ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের কভারেজের জন্য প্রিমিয়াম সহায়তা পাননি এবং নিজেদের স্বাস্থ্যবিমার পুরো খরচ বহন করেছেন। প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তি ৫০০ ডলার করে পাওয়ার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।   হোয়াইট হাউসের তালিকা অনুযায়ী, আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, উটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিংয়ের বাসিন্দারা এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন।   ট্রেজারি বিভাগ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকেই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে বলে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যোগ্য ব্যক্তিরা কাগজের চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পেতে পারেন। চেকের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা চিঠিও পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   রাজ্যভেদে প্রাপকের সংখ্যাও ভিন্ন। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার মানুষ এই অর্থ পাওয়ার কথা, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। ফ্লোরিডায় প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯০০ জন পাবেন, যার মোট মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার।   এই রিফান্ড এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালে ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের স্বাস্থ্যবিমার খরচ নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। হেলথকেয়ার ডট গভের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম সহায়তা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সহায়তার যোগ্য অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়াম বেড়েছে।   তবে ৫০০ ডলারের এই রিফান্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে আগের প্রশাসনের অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এবং কর্মসূচিটির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে দেশজুড়ে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা এই কর্মসূচির আওতায় পড়ছেন কি না এবং তাদের চেক বা সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদনের শর্তগুলো স্পষ্ট করেছে ইউএসসিআইএস

এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

পারমাণবিকের পাশাপাশি ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল ইরানে, হা ম লার পক্ষে ট্রাম্পের নতুন দাবি

প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনে অনলাইন সুবিধা আনছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ , এআইভিত্তিক নতুন ওয়েবসাইট চালু

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের সুদ প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ বাড়ল এক লাফে, বাড়তে পারে মাসিক কিস্তিও

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।   মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ।   এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে।   বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ।   শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ।   কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ?   গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল।   এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার।   এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে।   তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব   মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন।   ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।   তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৫:৪১
সন্তানের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে কি না দেখে নিন

৬ কোটির বেশি শিশুর নামে খুলছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট, জানুন ১,০০০ ডলার পাওয়ার নিয়ম

নতুন নীতিমালার প্রভাবে জর্জিয়ায় হাজারো বৈধ অভিবাসীর মেডিকেইড স্বাস্থ্যসুবিধা হারানোর বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা নতুন নীতিতে

মার্কিন সরকারের নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনে ফের ইলন মাস্ক, পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন

0 Comments