বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়
বিদেশে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে আগ্রহীদের জন্য সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক ইমেইলে নিজের গবেষণার আগ্রহ, যোগ্যতা এবং অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য তুলে ধরতে হয়। তবে আবেদন করার আগে অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায়ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের নিয়ম আগে দেখে নিতে বলা হয়েছে।
ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতিতে নিচের ১০টি বিষয় যাচাই করলে যোগাযোগের উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখা এবং সাধারণ ভুল এড়ানো সহজ হবে।
১. ইমেইল ঠিকানা ও প্রদর্শিত নাম
নিজের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পেশাদার ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন। প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাপকের কাছে আপনার যে নামটি দেখা যাবে, তার বানান ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নির্দেশনায়ও উপযুক্ত ইমেইল ঠিকানা এবং পেশাদার ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২. বিষয়ের ঘরে যোগাযোগের উদ্দেশ্য
ইমেইলের বিষয় বা সাবজেক্ট দেখেই যেন যোগাযোগের কারণ বোঝা যায়। পিএইচডি কিংবা গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তরের সুযোগ জানতে চাইছেন কি না এবং কোন শিক্ষাবর্ষে শুরু করতে চান, তা সংক্ষেপে লিখুন। শুধু ‘ভর্তির আবেদন’ বা ‘গবেষণার সুযোগ’ লিখলে উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্ট নাও হতে পারে।
৩. অধ্যাপকের পরিচয় ও সঠিক সম্বোধন
অধ্যাপকের নাম, পদবি, বিভাগ ও বর্তমান প্রতিষ্ঠান যাচাই করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রোফাইল থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। সাধারণ সম্বোধনের বদলে তাঁর নামসহ উপযুক্ত একাডেমিক পদবি ব্যবহার করুন। অন্য কাউকে পাঠানো খসড়া সম্পাদনা করলে আগের অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে গেছে কি না, বিশেষভাবে পরীক্ষা করুন।
৪. যোগাযোগের নিয়ম ও সময়
অধ্যাপক নতুন শিক্ষার্থী নিচ্ছেন কি না এবং যোগাযোগের জন্য আলাদা ফরম বা নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, আগে দেখুন। কিছু প্রোগ্রামে সরাসরি ইমেইলের পরিবর্তে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। অধ্যাপকের স্থানীয় সময় বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘণ্টায় পাঠালেই উত্তর আসবে, এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
৫. প্রত্যেক অধ্যাপকের জন্য আলাদা বক্তব্য
একই লেখা অপরিবর্তিত রেখে বহু অধ্যাপককে পাঠানো এড়িয়ে চলুন। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র, গবেষণাগারের কাজ এবং প্রকাশিত প্রকল্পের বিবরণ পড়ুন। কোন কাজটি আপনার আগ্রহের সঙ্গে মেলে, তা নির্দিষ্ট করে এক বা দুই বাক্যে লিখুন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগাযোগের আগে অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং সেই বোঝাপড়া ইমেইলে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
৬. নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গবেষণার মিল
আপনার থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ব্যবহৃত পদ্ধতি বা প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা ব্যাখ্যা করুন। শুধু ‘আপনার গবেষণা ভালো লেগেছে’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজের আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখানো বেশি তথ্যবহুল। যে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বাস্তবে নেই, তা উল্লেখ করবেন না।
৭. সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য লেখা
তিন থেকে চারটি ছোট অনুচ্ছেদে পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং অনুরোধ সাজানো যেতে পারে। খসড়া সংক্ষিপ্ত রাখতে ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দকে একটি ব্যবহারিক লক্ষ্য হিসেবে ধরতে পারেন। এটি সর্বজনীন বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়। দীর্ঘ আত্মজীবনী, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা এবং একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি বাদ দিন।
৮. প্রয়োজনীয় নথি ও সংযুক্তি
অধ্যাপক বা প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুযায়ী হালনাগাদ একাডেমিক সিভি, সংক্ষিপ্ত গবেষণা প্রস্তাব কিংবা নম্বরপত্র সংযুক্ত করুন। সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এক নয়। অক্সফোর্ডের নির্দেশনায় সিভি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে খসড়া গবেষণা প্রস্তাব সংযুক্ত করার কথা রয়েছে। ফাইল পিডিএফ আকারে পাঠালে নামের মধ্যে নিজের পরিচয় ও নথির ধরন পরিষ্কার রাখুন। অপ্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়ে ইমেইল ভারী করবেন না।
৯. বানান, তথ্য ও সংযুক্তি পরীক্ষা
পাঠানোর আগে অধ্যাপকের নাম, গবেষণাপত্রের শিরোনাম, নিজের ডিগ্রি, ফলাফল ও অভিজ্ঞতার তথ্য মিলিয়ে নিন। বানান ও ব্যাকরণ সংশোধনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও চূড়ান্ত লেখাটি নিজে পড়ুন। প্রাপকের ঠিকানা সঠিক কি না এবং উল্লেখ করা ফাইলগুলো সংযুক্ত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন।
১০. শেষে স্পষ্ট ও বিনয়ী অনুরোধ
আসন্ন শিক্ষাবর্ষে অধ্যাপক নতুন গবেষণার্থী নেবেন কি না এবং সম্ভাব্য অর্থায়ন রয়েছে কি না, তা ভদ্রভাবে জানতে চান। প্রয়োজন হলে সংক্ষিপ্ত অনলাইন আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। অনুরোধ এমনভাবে লিখুন, যাতে প্রাপক সহজেই বুঝতে পারেন আপনি তাঁর কাছে কী জানতে চাইছেন।
ইমেইলের উত্তর না এলে সঙ্গে সঙ্গে আবার পাঠানোর প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন নির্দেশিকায় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর সংক্ষিপ্ত অনুস্মারক পাঠানোর পরামর্শ রয়েছে। আগের ইমেইলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিনয়ের সঙ্গে খোঁজ নিতে পারেন। এরপরও উত্তর না পেলে অন্য উপযুক্ত অধ্যাপক ও গবেষণার সুযোগ খোঁজা চালিয়ে যান।
অধ্যাপকের ইতিবাচক উত্তর পেলেও সেটিকে ভর্তি বা অর্থায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না। অক্সফোর্ডের ইতিহাস বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো অধ্যাপক তত্ত্বাবধানে আগ্রহ দেখালেই ভর্তির প্রস্তাব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক আবেদন, যোগ্যতা ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
শিক্ষা
View moreবিদেশে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করতে আগ্রহীদের জন্য সম্ভাব্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক ইমেইলে নিজের গবেষণার আগ্রহ, যোগ্যতা এবং অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য তুলে ধরতে হয়। তবে আবেদন করার আগে অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ জরুরি কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায়ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের নিয়ম আগে দেখে নিতে বলা হয়েছে। ইমেইল পাঠানোর প্রস্তুতিতে নিচের ১০টি বিষয় যাচাই করলে যোগাযোগের উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখা এবং সাধারণ ভুল এড়ানো সহজ হবে। ১. ইমেইল ঠিকানা ও প্রদর্শিত নাম নিজের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পেশাদার ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন। প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাপকের কাছে আপনার যে নামটি দেখা যাবে, তার বানান ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নির্দেশনায়ও উপযুক্ত ইমেইল ঠিকানা এবং পেশাদার ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২. বিষয়ের ঘরে যোগাযোগের উদ্দেশ্য ইমেইলের বিষয় বা সাবজেক্ট দেখেই যেন যোগাযোগের কারণ বোঝা যায়। পিএইচডি কিংবা গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তরের সুযোগ জানতে চাইছেন কি না এবং কোন শিক্ষাবর্ষে শুরু করতে চান, তা সংক্ষেপে লিখুন। শুধু ‘ভর্তির আবেদন’ বা ‘গবেষণার সুযোগ’ লিখলে উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্ট নাও হতে পারে। ৩. অধ্যাপকের পরিচয় ও সঠিক সম্বোধন অধ্যাপকের নাম, পদবি, বিভাগ ও বর্তমান প্রতিষ্ঠান যাচাই করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রোফাইল থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। সাধারণ সম্বোধনের বদলে তাঁর নামসহ উপযুক্ত একাডেমিক পদবি ব্যবহার করুন। অন্য কাউকে পাঠানো খসড়া সম্পাদনা করলে আগের অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে গেছে কি না, বিশেষভাবে পরীক্ষা করুন। ৪. যোগাযোগের নিয়ম ও সময় অধ্যাপক নতুন শিক্ষার্থী নিচ্ছেন কি না এবং যোগাযোগের জন্য আলাদা ফরম বা নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, আগে দেখুন। কিছু প্রোগ্রামে সরাসরি ইমেইলের পরিবর্তে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। অধ্যাপকের স্থানীয় সময় বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘণ্টায় পাঠালেই উত্তর আসবে, এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ৫. প্রত্যেক অধ্যাপকের জন্য আলাদা বক্তব্য একই লেখা অপরিবর্তিত রেখে বহু অধ্যাপককে পাঠানো এড়িয়ে চলুন। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র, গবেষণাগারের কাজ এবং প্রকাশিত প্রকল্পের বিবরণ পড়ুন। কোন কাজটি আপনার আগ্রহের সঙ্গে মেলে, তা নির্দিষ্ট করে এক বা দুই বাক্যে লিখুন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, যোগাযোগের আগে অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং সেই বোঝাপড়া ইমেইলে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। ৬. নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গবেষণার মিল আপনার থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ব্যবহৃত পদ্ধতি বা প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা ব্যাখ্যা করুন। শুধু ‘আপনার গবেষণা ভালো লেগেছে’ বলার চেয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজের আগ্রহ ও প্রস্তুতি দেখানো বেশি তথ্যবহুল। যে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা বাস্তবে নেই, তা উল্লেখ করবেন না। ৭. সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য লেখা তিন থেকে চারটি ছোট অনুচ্ছেদে পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ, প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা এবং অনুরোধ সাজানো যেতে পারে। খসড়া সংক্ষিপ্ত রাখতে ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দকে একটি ব্যবহারিক লক্ষ্য হিসেবে ধরতে পারেন। এটি সর্বজনীন বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়। দীর্ঘ আত্মজীবনী, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা এবং একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি বাদ দিন। ৮. প্রয়োজনীয় নথি ও সংযুক্তি অধ্যাপক বা প্রোগ্রামের নির্দেশনা অনুযায়ী হালনাগাদ একাডেমিক সিভি, সংক্ষিপ্ত গবেষণা প্রস্তাব কিংবা নম্বরপত্র সংযুক্ত করুন। সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদা এক নয়। অক্সফোর্ডের নির্দেশনায় সিভি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে খসড়া গবেষণা প্রস্তাব সংযুক্ত করার কথা রয়েছে। ফাইল পিডিএফ আকারে পাঠালে নামের মধ্যে নিজের পরিচয় ও নথির ধরন পরিষ্কার রাখুন। অপ্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়ে ইমেইল ভারী করবেন না। ৯. বানান, তথ্য ও সংযুক্তি পরীক্ষা পাঠানোর আগে অধ্যাপকের নাম, গবেষণাপত্রের শিরোনাম, নিজের ডিগ্রি, ফলাফল ও অভিজ্ঞতার তথ্য মিলিয়ে নিন। বানান ও ব্যাকরণ সংশোধনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও চূড়ান্ত লেখাটি নিজে পড়ুন। প্রাপকের ঠিকানা সঠিক কি না এবং উল্লেখ করা ফাইলগুলো সংযুক্ত হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন। ১০. শেষে স্পষ্ট ও বিনয়ী অনুরোধ আসন্ন শিক্ষাবর্ষে অধ্যাপক নতুন গবেষণার্থী নেবেন কি না এবং সম্ভাব্য অর্থায়ন রয়েছে কি না, তা ভদ্রভাবে জানতে চান। প্রয়োজন হলে সংক্ষিপ্ত অনলাইন আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। অনুরোধ এমনভাবে লিখুন, যাতে প্রাপক সহজেই বুঝতে পারেন আপনি তাঁর কাছে কী জানতে চাইছেন। ইমেইলের উত্তর না এলে সঙ্গে সঙ্গে আবার পাঠানোর প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন নির্দেশিকায় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর সংক্ষিপ্ত অনুস্মারক পাঠানোর পরামর্শ রয়েছে। আগের ইমেইলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিনয়ের সঙ্গে খোঁজ নিতে পারেন। এরপরও উত্তর না পেলে অন্য উপযুক্ত অধ্যাপক ও গবেষণার সুযোগ খোঁজা চালিয়ে যান। অধ্যাপকের ইতিবাচক উত্তর পেলেও সেটিকে ভর্তি বা অর্থায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরা যাবে না। অক্সফোর্ডের ইতিহাস বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো অধ্যাপক তত্ত্বাবধানে আগ্রহ দেখালেই ভর্তির প্রস্তাব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক আবেদন, যোগ্যতা ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অক্সফোর্ডে পাবলিক পলিসি পড়ছেন ইস্ট ওয়েস্টের ইসরাত জাহান
স্বল্পমূল্যে আইইএলটিএস কোর্স করাবে ছাত্রশিবির, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
ইতালিতে স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষা! জেনে নিন টপ ইউনিভার্সিটির তালিকা
মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবে কাজ কিংবা ফেলোশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ভর্তির যোগ্যতা ও ফান্ডিং বিভাগভেদে আলাদা। ফল ২০২৭ সেশনে সব প্রোগ্রামে নিশ্চিত পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে, এমন সাধারণ ঘোষণা হিসেবে বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পারডিউ ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। প্রচারিত পোস্টে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ লেখা হলেও সঠিক নাম জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। পারডিউ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভর্তি নির্দেশনায় স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সরাসরি পিএইচডিতে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষভাবে ভালো স্নাতক ফল থাকা শিক্ষার্থীরা সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতে পারেন। পারডিউ ইঞ্জিনিয়ারিং জানিয়েছে, অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থী অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে ফান্ডিং পান। তবে এটি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা নয়। জর্জিয়া টেকের রোবোটিকস পিএইচডি প্রোগ্রামে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। অন্যদিকে, কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সাধারণত রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। এতে স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকে। পিএইচডি করতে আগ্রহীদের সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামেই আবেদন করতে বলা হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট ব্রিডিং, জেনেটিকস অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি পিএইচডি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন। সেখানে একজন উপযুক্ত শিক্ষকের গবেষণা তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সম্মতিও প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়মেই উল্লেখ রয়েছে, কিছু বিভাগ পিএইচডিতে ভর্তির আগে মাস্টার্স চাইতে পারে। ফলে একটি বিভাগের সুযোগকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ফল ২০২৭ নিয়ে মিশিগান স্টেটের গণিত শিক্ষা বিষয়ক ডক্টরাল প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে আবেদন চালু থাকার তথ্য রয়েছে। ওই প্রোগ্রামে শর্তসাপেক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত সীমার টিউশন সুবিধা ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স দেওয়া হয়। সহায়তা অব্যাহত থাকা নির্ভর করে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি, কাজের মান ও অর্থের প্রাপ্যতার ওপর। এটি ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ঘোষণা। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের সিবেল স্কুল অব কম্পিউটিং অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য চার বছরের স্নাতক বা গ্রহণযোগ্য সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। তাদের পিএইচডির কাঠামোয় আগে মাস্টার্স না থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলটির তথ্য অনুযায়ী, অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পান, যার মধ্যে স্টাইপেন্ড ও পুরো টিউশন মওকুফ অন্তর্ভুক্ত। ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে চার বছরের স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। ভর্তির আগে গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করতে হয়। প্রোগ্রামটি জানিয়েছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের এক বছরের অর্থায়ন তারা দেয় এবং বাকি সময়ের অর্থায়ন তত্ত্বাবধায়ক বহন করেন। তবে উভয় পক্ষের বাজেটের ওপর এই সহায়তা নির্ভরশীল। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট, মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং পূর্ণ অর্থায়ন দুটি আলাদা বিষয়। ফল ২০২৭ সেশনের জন্য আবেদন করতে হলে নির্বাচিত বিভাগের বিজ্ঞপ্তি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, আবেদনের শেষ সময় এবং অর্থায়নের লিখিত শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে। টিউশন মওকুফের পাশাপাশি স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অর্থায়নের মেয়াদ কতটুকু থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট অফারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর, ফ্রান্সে বিনা খরচে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের চূড়ান্ত নোটিশ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে কিস্তির চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রিতে আবেদনের সুযোগ, জেনে নিন আবেদন এর সময়
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করার জন্য ফালাক সুফি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই বৃত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন, উপবৃত্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয় ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে ভর্তির জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি ২০২৭। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অধীনে কেভর্কিয়ান সেন্টারের নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের সঙ্গে এই বৃত্তি যুক্ত। ডন ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের সংরক্ষিত বিবরণে এসব তথ্য পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর এমন শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা বৃত্তিটির লক্ষ্য, যাঁদের পক্ষে এই আর্থিক সহায়তা ছাড়া স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করা কঠিন। নির্বাচনে নারী আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত বৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক বিবেচনার মধ্যে পড়লেও শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া বা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী হওয়াই বৃত্তি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা ও বৃত্তির নির্বাচনী শর্ত পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে উপবৃত্তির ন্যূনতম পরিমাণ ৩৭ হাজার ১৩২ মার্কিন ডলার। এটি একটি শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তি, দুই বছরের মোট অর্থ নয়। পাশাপাশি টিউশন, শিক্ষার্থীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন ও সার্ভিস ফি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহনের কথা বলা হয়েছে। সহায়তা অব্যাহত রাখতে গ্র্যাজুয়েট স্কুলের নির্ধারিত একাডেমিক মান বজায় রাখতে হবে। আবেদন করতে আগ্রহীদের এনওয়াইইউর গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের অ্যাপ্লিকেশন রিসোর্স সেন্টারে গিয়ে নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ মাস্টার্স প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার শর্ত, প্রয়োজনীয় নথি এবং বৃত্তি বিবেচনার নির্দেশনা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। মূল লেখায় জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট ও একাডেমিক নথির যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ আবেদনতালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামভিত্তিক নির্দেশনাই প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করবে। এই বৃত্তি এনওয়াইইউর সব বিষয়ের মাস্টার্সের জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্বাচিত নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরাই এর আওতায় বিবেচিত হবেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সুবিধার বাইরে বিমানভাড়া, ভিসা ফি বা ব্যক্তিগত সব ব্যয়ও বহন করা হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের আর্থিক সহায়তার আবেদন আগেভাগেই শুরু, শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, জেনে নিন আবেদনের সময় ও বিস্তারিত