হাঙর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই, ১১১ দিনে ৯০০ মাইল সাঁতরে ইতিহাস মার্কিন নারীর
অসাধ্য সাধন করলেন ৩৩ বছর বয়সী মার্কিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারু ক্যাথরিন ব্রিড। মাত্র ১১১ দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো ৯০০ মাইল দীর্ঘ উপকূল সাঁতরে পার হয়ে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। গত ১ জুলাই ওরেগন সীমান্ত থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রা গত ১৯ অক্টোবর মেক্সিকোর টিজুয়ানা সীমান্তে এসে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা খোলা সমুদ্রে সাঁতার কেটেছেন ক্যাথরিন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অর্জন তার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো লাগছে।
দীর্ঘ চার মাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে 'এল নিনো'র প্রভাবে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার দিক পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে। এতে সমুদ্রে তার সাঁতারের সময় ও দূরত্ব দুই-ই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি সমুদ্রের দ্রুততম শিকারি হিসেবে পরিচিত 'মাকো হাঙর'-এর মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাকে।
তবে হাঙর দেখার মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে নিরাপদে ৫২ ফুট দীর্ঘ নৌকায় তুলে নেন দলের ক্যাপ্টেন মেইসি ব্রিস্টো। ওয়ার্ল্ড ওপেন ওয়াটার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক কুইন ফিটজগেরাল্ড জানান, এল নিনোর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এমন উচ্চাভিলাষী এক অভিযান সফল করা ক্যাথরিনের অসাধারণ প্রতিভারই প্রমাণ।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ক্যাথরিন ব্রিড তার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে পুরো ক্রু দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টানা প্রায় চার মাস সমুদ্রের বুকে কাটানোর পর আপাতত ছুটি কাটাতে মধ্য আমেরিকায় এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে বড় লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করতে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প সবার কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে এই অদম্য সাঁতারুর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঅসাধ্য সাধন করলেন ৩৩ বছর বয়সী মার্কিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারু ক্যাথরিন ব্রিড। মাত্র ১১১ দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো ৯০০ মাইল দীর্ঘ উপকূল সাঁতরে পার হয়ে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। গত ১ জুলাই ওরেগন সীমান্ত থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রা গত ১৯ অক্টোবর মেক্সিকোর টিজুয়ানা সীমান্তে এসে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা খোলা সমুদ্রে সাঁতার কেটেছেন ক্যাথরিন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অর্জন তার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো লাগছে। দীর্ঘ চার মাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে 'এল নিনো'র প্রভাবে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার দিক পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে। এতে সমুদ্রে তার সাঁতারের সময় ও দূরত্ব দুই-ই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি সমুদ্রের দ্রুততম শিকারি হিসেবে পরিচিত 'মাকো হাঙর'-এর মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাকে। তবে হাঙর দেখার মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে নিরাপদে ৫২ ফুট দীর্ঘ নৌকায় তুলে নেন দলের ক্যাপ্টেন মেইসি ব্রিস্টো। ওয়ার্ল্ড ওপেন ওয়াটার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক কুইন ফিটজগেরাল্ড জানান, এল নিনোর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এমন উচ্চাভিলাষী এক অভিযান সফল করা ক্যাথরিনের অসাধারণ প্রতিভারই প্রমাণ। ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ক্যাথরিন ব্রিড তার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে পুরো ক্রু দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টানা প্রায় চার মাস সমুদ্রের বুকে কাটানোর পর আপাতত ছুটি কাটাতে মধ্য আমেরিকায় এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে বড় লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করতে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প সবার কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে এই অদম্য সাঁতারুর।
এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি, স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের বাজারেও
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরের মধ্যে এ সময়ে সর্বোচ্চ ফ্লু সংক্রমণ, নতুন মিউটেশন নিয়ে সতর্ক চিকিৎসকেরা
সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ, তিন ধর্মের তিন প্রার্থীর প্রচারে সংবিধান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভর্নর পদ ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দেশটির ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এসব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গভর্নর নির্বাচনের ফল শুধু অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসনিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে না, বরং দেশজুড়ে দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক শক্তিরও একটি চিত্র তুলে ধরবে। বিশেষ করে জর্জিয়া, নেভাডা, ওহাইও ও উইসকনসিনের মতো অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব থাকবে নির্বাচনে মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও তাঁর দলের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে গভর্নর নির্বাচনে স্থানীয় বিষয়গুলোও বড় প্রভাব ফেলে। অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, করের হার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসস্থানের খরচ নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পেতে পারে। রিপাবলিকানরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য, যেখানে দলটির অবস্থান দুর্বল সেখানে নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের লড়াই জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক আটলান্টা মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমসের নাম আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরে আলোচনায় আছেন ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। জর্জিয়ার রাজনীতিতে শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের পছন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয়ে প্রার্থীদের অবস্থান নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেতে পারে। বটমসের জন্য ডেমোক্র্যাটদের ভোট একত্র করা এবং শহরাঞ্চলের বাইরে সমর্থন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে জ্যাকসনের সামনে থাকবে রিপাবলিকান ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা এবং বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ। নেভাডায় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ নেভাডার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গভর্নর জো লম্বার্ডো এবং ডেমোক্র্যাট অ্যারন ফোর্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যানিয়েল ফোর্ডের নামও নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছে। নেভাডার অর্থনীতি পর্যটন, আতিথেয়তা শিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে চাকরির সুযোগ, মজুরি, বাসাভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লম্বার্ডোর জন্য গভর্নর হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সমর্থন ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ফোর্ডের লক্ষ্য হবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ভোটারদের একত্র করা। অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কে কতটা কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারেন, তা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ওহাইওতে মুখোমুখি অ্যামি অ্যাকটন ও বিবেক রামাস্বামী ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন ও রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্যটিতে দুই দলের ভোটারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। অ্যাকটনের সামনে থাকবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি মধ্যপন্থী ও দোদুল্যমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চ্যালেঞ্জ। রামাস্বামীকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পক্ষে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। কর কমানো, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান—এসব ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ, নতুন প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টার স্থাপনের মতো বিষয়ও রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেতে পারে। উইসকনসিনে ক্ষমতা ও নীতির প্রশ্ন উইসকনসিনেও গভর্নর নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ডেভিড ক্রাউলি এবং রিপাবলিকান টম টিফানির নাম প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় রয়েছে। রাজ্যটিতে ভোটের ব্যবধান অনেক সময় খুব কম থাকে। ফলে শহরাঞ্চল, ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্রাউলির জন্য ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো জরুরি হবে। টিফানির লক্ষ্য হবে রিপাবলিকানদের ভোট একত্র করা এবং অর্থনীতি ও সরকারি নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা। করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং সরকারি পরিষেবার ব্যয়—এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। দুই প্রার্থীর মধ্যে কে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারবেন, তা প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও করনীতি থাকবে আলোচনায় চার অঙ্গরাজ্যের বাইরে অন্যান্য গভর্নর নির্বাচনেও ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। বাড়িভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, করের চাপ এবং বিদ্যুতের দাম অনেক পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগ। স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও মেডিকেইডের মতো সরকারি সহায়তা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি নতুন শিল্প ও ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে তার খরচ কে বহন করবে, সেই প্রশ্নও কিছু অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে। প্রার্থীরা এসব সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে অর্থের সংস্থান করবেন, তা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ২০২৬ সালের গভর্নর নির্বাচন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের জন্য কেবল অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা নয়। এসব নির্বাচনের ফল থেকে দুই দলের জনসমর্থন, স্থানীয় ইস্যুতে ভোটারদের মনোভাব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ইস্যু নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে না। কোথাও অর্থনীতি ও করনীতি প্রধান হয়ে উঠতে পারে, আবার কোথাও স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন কিংবা সরকারি পরিষেবা নিয়ে বিতর্ক বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার, ভোটার উপস্থিতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে কোন দল কতটা সাফল্য পাবে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া বিয়ের ব্যবসা, বছরে লাখ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ
সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র
হুথি হা ম লার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাস থেকে কূটনীতিক ও পরিবার সরানোর নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ বহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁদের নির্ধারিত গ্রামীণ এলাকায় পাঁচ বছর পূর্ণকালীন কাজ করতে হবে। গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি কমানো এবং স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কর্মসূচিটির নাম ‘হোম রান’, যার পূর্ণরূপ হাওয়াই আউটরিচ ফর মেডিক্যাল এডুকেশন ইন রুরাল আন্ডার-রিসোর্সড নেবারহুডস। এটি হাওয়াইয়ের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নেওয়া বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রুরাল হেলথ ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম’ থেকে হাওয়াই ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় ১৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলার পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের জন এ বার্নস স্কুল অব মেডিসিনকে, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসা, নার্সিং, ফার্মেসি, দন্তচিকিৎসা, শারীরিক পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। অনুমোদিত হলে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি টিউশন ফি ও নির্ধারিত শিক্ষাসংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা হবে। তবে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি থাকতে হবে এবং পড়াশোনায় সন্তোষজনক ফল বজায় রাখতে হবে। পাঁচ বছরের চাকরির শর্ত পূরণ করতে হবে হাওয়াইয়ের নির্ধারিত গ্রামীণ এলাকায়। এর মধ্যে অন্য দ্বীপগুলো ছাড়াও ওআহু দ্বীপের ওয়াইয়ানাই, ওয়াইআলুয়া, হালেইওয়া, কাহুকু, লাইয়ে, হাউউলা, ওয়াহিয়াওয়া ও ওয়াইমানালো এলাকার মতো নির্দিষ্ট অঞ্চল রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আবাসিক প্রশিক্ষণ বা রেসিডেন্সি শেষ করার পর কাজের অঙ্গীকার শুরু হবে। তবে নির্ধারিত গ্রামীণ এলাকায় রেসিডেন্সি করলে সেই সময়ও পাঁচ বছরের দায়িত্বের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে। হাওয়াইয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। মূলত ওআহু দ্বীপের হনলুলুতে স্বাস্থ্যসেবা বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ায় দূরবর্তী দ্বীপ ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। হাওয়াই পাবলিক রেডিওর সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন কর্মসূচিতে পাঁচ বছর কাজের অঙ্গীকারের বিনিময়ে সহায়তা পেতে ৫০০টির বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। কর্মসূচির প্রশাসক কেলি উইথির মতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব। তবে পাঁচ বছর কাজের অঙ্গীকার করলেই যে সবাই স্থায়ীভাবে সেখানে থেকে যাবেন, তা নিশ্চিত নয়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের ধরে রাখতে উপযুক্ত বেতন, কাজের পরিবেশ এবং পেশাগত উন্নয়নের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার খরচ কমানো নয়, বরং হাওয়াইয়ের যেসব এলাকায় চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব বেশি, সেখানে দীর্ঘমেয়াদে জনবল গড়ে তোলা। সূত্র: হাওয়াই পাবলিক রেডিও, হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের কার্যালয় এবং হোম রান কর্মসূচির ওয়েবসাইট।
টেক্সাসে ২০২৭ সাল থেকে ব্লু ক্রসের মেডিকেয়ার পরিকল্পনা বন্ধ, নতুন বিমা বেছে নিতে হবে গ্রাহকদের
তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ বেড়েছে ২৪ শতাংশ, দায়ী চরম আবহাওয়া