আন্তর্জাতিক

মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ, পরমাণু কেন্দ্রে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ঢুকতে দেবে না ইরান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৮:৩৬
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

সুইজারল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত বছর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের যেসব প্রধান পরমাণু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) কোনো পরিদর্শককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

 

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম বিশৃঙ্খলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

 

এই চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে সফর করছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যেও সরাসরি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে।

 

তবে এই জোরালো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু সাইটগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান।

 

কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সাথে পরিদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো বৈঠকই হয়নি। একই সাথে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সামরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আপাতত কোনো অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে আর নিরপেক্ষ মানতে নারাজ রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন উত্তেজনা

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে আর 'নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী' হিসেবে দেখছে না রাশিয়া। মঙ্গলবার মস্কোর পক্ষ থেকে এই দাবি জানানোর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর ইউরোপীয় পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিজের মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে।   মস্কোতে বিদেশি দূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে স্পষ্টতই মনে হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে। এর বদলে তারা রাশিয়ার ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর উসকানিমূলক পথ বেছে নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা জ্বালানিখাতসহ নানা ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের মাধ্যমে রাশিয়ার ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’র ওপর চাপ বাড়াতে একমত হন।   ২০২৫ সালে পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে তিনি উভয় পক্ষকেই আলোচনায় বসতে চাপ দিলেও, মার্কিন মধ্যস্থতার এই কূটনীতিতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। মূলত মস্কোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে নিজ ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, সেনাবাহিনীর আকার সীমিত করা এবং পশ্চিমাদের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করার মতো কঠিন শর্তগুলো কিয়েভ মেনে না নেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে এ পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।   এদিকে, যুদ্ধ থামাতে কিয়েভকে রাশিয়ার শর্ত মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের চাপের মুখে ইউরোপের অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এক পৃথক অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, ইউরোপ ট্রাম্পের প্ররোচনায় বিপুল অস্ত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুদ্ধের জন্য ‘প্রকাশ্যে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। সদ্য উত্তীর্ণ সামরিক ও আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে ক্রেমলিন প্রধান বলেন, "পশ্চিমারা এখন প্রকাশ্যে বলছে যে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং তাদের আক্রমণাত্মক সামরিক বাজেট ক্রমাগত বৃদ্ধি করছে।"   পুতিন তার বক্তব্যে ইউক্রেনকে পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রুশ সেনারা বর্তমানে ওই অঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর এই প্রথম মুখ খুলে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের এই ক্রমবর্ধমান হামলা পশ্চিমা সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ রুশ নাগরিকদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সমাজব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তোলা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৯:২৯
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ, পরমাণু কেন্দ্রে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ঢুকতে দেবে না ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলকে সমর্থন করায় মার্কিন কংগ্রেসম্যানকে কফি শপে নিষিদ্ধ, তোলপাড় নিউইয়র্কে

ছবি: সংগৃহীত

২ হাজার ডলার কর বকেয়ার জেরে ২ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি ৭৬ হাজারে, সুপ্রিম কোর্টে হেরে গেল পরিবার

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানের রহস্যময় ‘জেলিফিশ’ ড্রোনে ভূপাতিত হয়েছিল মার্কিন যুদ্ধবিমান? পাইলটের বর্ণনায় নতুন চাঞ্চল্য

ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া এক মার্কিন পাইলট এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, আকাশে তিনি একঝাঁক ইরানি ড্রোনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যেগুলো অনেকটা ‘জেলিফিশের’ মতো দলবদ্ধভাবে উড়ছিল। সিএনএন-এর এক সূত্র জানিয়েছে, বড় ড্রোনের নিচে পায়ের মতো ছোট ছোট ড্রোন যুক্ত হয়ে এগুলো একেবারে সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। ওই সূত্রটি পাইলটের অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ‘ভিনগ্রহের প্রযুক্তি’ বা ‘এলিয়েন টেকনোলজি’-এর সাথে তুলনা করেছে।   গত ৩ এপ্রিল ‘গুড ফ্রাইডে’-তে ঘটা এই ঘটনার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে এফ-১৫ (F-15) পাইলট এই অদ্ভুত ড্রোনের কথা জানান। সিএনএন-এর মতে, এটি ইরানের সামরিক ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। যুদ্ধবিমানটি ঠিক কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে পাইলটের বর্ণনাকৃত আকাশে ভাসমান এই ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’ মার্কিন বিমানটিকে নামাতে সাহায্য করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলমান এই সংঘাতে ইরানের আকাশে মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। একাধিক ড্রোন একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে এমনভাবে নড়াচড়া করছিল যেন তারা একটাই সত্তা, আর বড় ড্রোনগুলোর নিচে থাকা ছোট ড্রোনগুলোকে পায়ের মতো দেখাচ্ছিল।   বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার মুহূর্তে পাইলট এবং একজন ওয়েপন সিস্টেমস অফিসার (ডব্লিউএসও) ইজেক্ট করে বেরিয়ে আসেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও, গুরুতর আহত ওয়েপন অফিসারকে জগ্রোস পর্বতমালার গভীরে আশ্রয় নিতে হয়। ইরান তার মাথার দাম ৬০ হাজার ডলার ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। নিজের কাছে থাকা একটিমাত্র হ্যান্ডগান সম্বল করে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা তিনি দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময় মার্কিন ড্রোনগুলো তার কাছাকাছি আসা ইরানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত মিসাইল হামলা চালিয়ে তাকে সুরক্ষা দেয়।   এই ওয়েপন অফিসারকে উদ্ধারে মার্কিন নেভি সিল টিম সিক্স এবং সিআইএ-র সমন্বয়ে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ ভুয়া গোয়েন্দা তথ্য ছড়িয়ে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে যে, ওই অফিসারকে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর ইসফাহান শহরের দক্ষিণে শত্রু অঞ্চলের একেবারে ভেতরে একটি অস্থায়ী রানওয়ে তৈরি করে দুটি এমসি-১৩০জে (MC-130J) পরিবহন বিমান নামানো হয়। তবে রানওয়েতে আটকে যাওয়ায় প্রতিটি প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমান দুটিকে শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করে দেয়।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই দুঃসাহসিক অভিযানে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেনি এবং সবাই নিরাপদে ফিরে এসেছেন। তবে দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়া ওই পাইলটের ‘জেলিফিশ ড্রোন’-এর স্মৃতি কতটা নির্ভুল, তা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনও বিতর্ক চলছে। প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ কুয়েতেও এই একই পাইলট একটি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রবাহিনীর ভুল হামলার শিকার হয়েছিলেন, যেখানে তাদের বিমান ধ্বংস হলেও ক্রুরা নিরাপদে রক্ষা পান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৩:৪৭
ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল l ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ইউরোপের মাটিতে পা রাখল তালেবান প্রতিনিধিদল, ব্রাসেলসে নির্বাসন ইস্যুতে বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে চায় আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে সাড়ে ৫ হাজার পাকিস্তানি ভিক্ষুক আটক, পার্লামেন্টে মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ‘ডাইনি বাহিনী’র প্রেমের ফাঁদে কুপোকাত রুশ সেনারা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখতে দেখতে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে রুশ সেনাদের রুখে দিতে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের খালি হাতের প্রতিরোধ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এই যুদ্ধের কৌশল এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রুশ অধিকৃত ও অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে এই প্রতিরোধ এখন পুরোপুরি রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর ‘ছায়া যুদ্ধে’। আর এই আড়ালে থাকা গোপন যুদ্ধের নেপথ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে একদল নারী ও ছদ্মনামধারী পুরুষ গোয়েন্দা, যাদের প্রতিরোধ কমান্ডাররা আদর করে ডাকছেন ‘ভিদমা’ বা ‘ডাইনি’।   বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইউক্রেনের এই ‘ডাইনি বাহিনী’ এবং তাদের ভয়ংকর সব গোয়েন্দা জালের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত ইউক্রেনের এক রুশ সেনা বেশ কয়েক মাস ধরে ভাবছিলেন যে তিনি বুঝি এক নিঃসঙ্গ ইউক্রেনীয় গৃহবধূর প্রেমে পড়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে তাদের দীর্ঘদিনের আলাপচারিতা একসময় গভীর রোমান্সে রূপ নেয়। একদিন ওই নারী সেনাটির সামরিক ক্যাম্প দেখতে চাইলে তিনি একটি ছবি পাঠান, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব আবছাভাবে ঘাঁটির একটি মানচিত্র দেখা যাচ্ছিল।   বাস্তবে কিন্তু ওপাশে কোনো নারীর অস্তিত্বই ছিল না। অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করছিলেন ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (এইচইউআর) একজন পুরুষ কর্মকর্তা। ছবি পাঠানোর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় সেই সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক বা কো-অর্ডিনেট লক্ষ্য করে নিখুঁত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। ইউক্রেনীয় লোকগাথায় 'ভিদমা' শব্দের অর্থ এমন এক নারী, যার কাছে বিশেষ কোনো গোপন জ্ঞান থাকে। বর্তমানে এই ডাইনিরা হলেন ইউক্রেনের সেই সাধারণ নারীরা, যাঁরা প্রতিদিন সকালে বাজার করার বাহানায় রুশ চেকপোস্ট পার হন এবং রুশ সেনাদের প্রতিটি গতিবিধি ডায়েরিতে টুকে রাখেন।   এই গুপ্তচরবৃত্তির কাজ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। জার্মানি বা পোল্যান্ডে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ ইউক্রেনীয় গৃহিণীরাও এই কিল চেইনের অংশ হয়ে উঠেছেন। তারা বিদেশ থেকেই নিজেদের চেনা অঞ্চলের কোন গুদামঘরটি রুশ বাহিনী ব্যবহার করছে, তা ম্যাপ মিলিয়ে ড্রোনের টার্গেট নিশ্চিত করেন। তবে এই ডাইনি বাহিনীর মূল লক্ষ্য শুধু রুশ সেনাদের হত্যা করা নয়, বরং তাদের মনে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক তৈরি করা। যাতে ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখা প্রত্যেক রুশ সেনা বাজারে সবজি বিক্রি করা বয়স্ক নারী, বাসের ড্রাইভার কিংবা সাধারণ পথচারী—সবার দিকে তাকিয়েই নিজেদের নিশ্চিত মৃত্যু দেখতে পায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১২:২৫
ছবি: সংগৃহীত

ছুটির ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে প্রতারণা, কানাডায় তীব্র ক্ষোভ

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ | ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৭০ করার পরিকল্পনা, চ্যান্সেলর মের্জের সমর্থন

ছবি: সংগৃহীত

ব্রেক্সিটের ১০ বছর: ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে চায় ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ

0 Comments