আমেরিকা

৬.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Unknown প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৯:১৪
গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ রয়েছে।

 

বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিপণনকর্মী এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দেশটির ৪৫টি অঙ্গরাজ্য এবং একাধিক ফেডারেল জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পৃথক মামলার তদন্ত করা হয়েছে।

 

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত প্রতারণার বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

 

ডিওজে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে বিল আদায়, রোগীদের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া দাবি দাখিল, অবৈধ কমিশন গ্রহণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম।

 

সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে অ্যারিজোনাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রতারণামূলক বিলিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কেনা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট পণ্য নতুনভাবে বাজারজাত করে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে মেডিকেয়ারে বিল করত। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

বিচার বিভাগের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। তদন্তে উচ্চমূল্যের গাড়ি, দামি গয়না, বিলাসবহুল আবাসন এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।

 

এদিকে ফ্লোরিডার একটি মামলায় এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া পরিচালনার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের প্রতারণা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের প্রকৃত চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও তাদের বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছিল।

 

মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তা ও জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

 

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক সাবওয়েতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিরসনে এমটিএর উদ্যোগ
নিউইয়র্ক সাবওয়েতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিরসনে এমটিএর উদ্যোগ, সংস্কারের তালিকায় ২৫ স্পট

নিউইয়র্ক সাবওয়ে সিস্টেমে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ট্রেনের বিলম্ব কমাতে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে সাবওয়েতে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ৭০টিরও বেশি ‘বটেলনেক’ বা যানজটপূর্ণ স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত যেসব জায়গায় একাধিক লাইনের ট্রেন একই ট্র্যাক ব্যবহার করে বা ট্র্যাকের কাঠামোগত কারণে ট্রেনের গতি কমাতে হয়, সেখানেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে এমন ২৫টি স্পটকে সংস্কারের জন্য শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্রুকলিনে অবস্থিত।   শীর্ষ সংস্কার তালিকায় থাকা একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হলো মার্টল অ্যাভিনিউ। এখানকার যাত্রীদের কাছে ট্রেনের বিলম্ব যেন নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিসিলা সুয়ারেজ নামের এক যাত্রী তার হতাশা প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন এই যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টকর একটি অভিজ্ঞতা। এমটিএ জানিয়েছে, সবগুলো প্রকল্পের কাজ রাতারাতি শেষ হবে না। তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ট্র্যাকের সুইচ আধুনিকীকরণ, ইন্টারলকিং সিস্টেমের উন্নয়ন এবং ব্যস্ত জংশনগুলোতে ট্রেনের চলাচল ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো।   এমটিএ-এর সিনিয়র প্ল্যানার লিয়াম ও'কনেল সিনিয়র জানান, টাওয়ার অপারেটররা এখনও কয়েক দশকের পুরোনো ম্যানুয়াল ইন্টারলকিং সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ করছেন। জংশনে কোনো একটি ট্রেন মাত্র এক বা দুই মিনিট আগে-পরে পৌঁছালে, ছোট এই সমস্যাটিই অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক বিলম্বের (ক্যাসকেডিং ডিলে) কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাবওয়ে সিস্টেমের ইতিহাসও এই সমস্যার অন্যতম একটি কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের এই সাবওয়ে ব্যবস্থা মূলত তিনটি আলাদা কোম্পানির তৈরি করা ভিন্ন ভিন্ন রেললাইন জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।   ননপ্রফিট সংগঠন রাইডার্স অ্যালায়েন্স-এর পলিসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর ড্যানি পার্লস্টেইন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমটিএ শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি সামলাতে এবং আধুনিক ব্যবস্থার সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষের মধ্যে এমটিএ নিয়ে নানা সন্দেহ থাকলেও, প্রতিদিন যাতায়াতে যাত্রীদের যে সময়টা নষ্ট হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এমটিএ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য নতুন ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না, বরং যাত্রীদের বেঁচে যাওয়া সময়ের মাধ্যমেই এর সার্থকতা প্রমাণিত হবে। ইতোমধ্যে ডিকলব এবং নস্ট্রান্ড জংশনের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৩:১৭
আইস হেফাজতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নির্ধারিত ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ভেনেজুয়েলার আশ্রয়প্রার্থী তানগিয়েথ পাওলা কারাসকেরোর। ছবি: সংগৃহীত

আইস হেফাজতে জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ভেনেজুয়েলার তরুণীর

এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবী

চাকরি হারালে এইচ-১বি কর্মীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের সিনিয়র জেলা বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা

বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসায় ফেডারেল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়, স্বস্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশিদেরও

সান ফ্রান্সিসকোর সরকারি টেনিস কোর্টে সন্তানদের অনুশীলন করানোর সময় পার্ক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়া বাবা স্যাম ডোগেন। ছবি: সংগৃহীত
সান ফ্রান্সিসকোতে সন্তানদের টেনিস শেখাতেই বাবাকে ১৯২ ডলারের জরিমানার সতর্কতা

সান ফ্রান্সিসকোর একটি সরকারি টেনিস কোর্টে নিজের দুই সন্তানকে টেনিস অনুশীলন করানোর সময় পার্কের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন এক বাবা। বাণিজ্যিকভাবে টেনিস শেখানোর অনুমতি না থাকায় তাকে ১৯২ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে সতর্ক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো জরিমানা করা হয়নি।   ঘটনাটি ঘটে গোল্ডেন গেট হাইটস পার্কে। ৪৪ বছর বয়সী স্যাম ডোগেন তার ৬ বছর বয়সী মেয়ে ও ৯ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে সেখানে টেনিস অনুশীলন করছিলেন। হাওয়াই থেকে পারিবারিক ভ্রমণ শেষে ফিরে সন্তানদের নিয়ে বাইরে সময় কাটাতে তিনি ওই পার্কে গিয়েছিলেন বলে জানান।   ডোগেনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুশীলন শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর সান ফ্রান্সিসকো বিনোদন ও পার্ক বিভাগের দুই কর্মকর্তা তার কাছে আসেন। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, টেনিস শেখানোর জন্য তার কোনো অনুমতিপত্র রয়েছে কি না। এতে তিনি অবাক হন, কারণ তিনি কোনো বাণিজ্যিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন না; নিজের সন্তানদের সঙ্গেই অনুশীলন করছিলেন।   ডোগেন জানান, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার ছেলে তাদের জানায় যে ডোগেন তার বাবা। এরপর পরিস্থিতির ভুল বোঝাবুঝি পরিষ্কার হয়। পরিবারটিকে কোনো জরিমানার নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে ডোগেনের দাবি, একজন কর্মকর্তা তাকে জানান, অনুমতি ছাড়া টেনিস শেখালে ১৯২ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   ডোগেন বলেন, ঘটনাটি তার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি জানান, ওই সময় কোর্টে অপেক্ষমাণ অন্য কেউ ছিল না এবং তিনি সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সময় কাটাচ্ছিলেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে একজন বাবা-মাকে নিজের সন্তানকে খেলাধুলা শেখানোর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত।   সান ফ্রান্সিসকো বিনোদন ও পার্ক বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল নিয়মিত একটি জিজ্ঞাসাবাদ। সরকারি টেনিস কোর্টে অনুমতিপত্র ছাড়া অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় না। তাই কর্মকর্তারা কখনো কখনো কোর্টে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করেন, তারা বাণিজ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কি না, নাকি ব্যক্তিগতভাবে খেলছেন বা নিজেদের সন্তানদের অনুশীলন করাচ্ছেন।   বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, অনুমতিপত্রের নিয়মটি মূলত বাণিজ্যিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ব্যক্তিগত বিনোদন বা সন্তানদের খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি আলাদা। ডোগেনের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা সেই বিষয়টি যাচাই করার জন্যই প্রশ্ন করেছিলেন বলে বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   ডোগেন বলেন, শহরে সন্তানদের বড় করা এমনিতেই কঠিন। এর সঙ্গে পার্কের নিয়ম প্রয়োগের সময় কর্মকর্তাদের আচরণ আরও চাপ তৈরি করতে পারে। তবে সন্তানরা পাশে থাকায় তার প্রধান উদ্বেগ ছিল পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং তাদের নিরাপদ রাখা।   তিনি জানান, ভবিষ্যতে সন্তানদের নিয়ে সরকারি টেনিস কোর্টে গেলে তাদের জন্মসনদ সঙ্গে রাখার কথা ভাবছেন, যাতে প্রয়োজনে প্রমাণ করতে পারেন যে তারা তারই সন্তান। তবে সন্তানদের টেনিস শেখানোর জন্য তিনি কোনো অনুমতিপত্র নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না বলেও জানান।   ডোগেন আশা করছেন, ঘটনাটি নিয়ে শহরের কর্মকর্তারা পার্কের নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবেন। তার মতে, খালি একটি সরকারি কোর্টে বাবা নিজের সন্তানদের টেনিস শেখানোর সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১১:৫৫
ফিনিক্স স্কাই হারবার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে ওঠার আগে জিম্বাবুয়ের এক নারীকে ডেকে নিয়ে আইসের হাতে আটক করানোর অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে জিম্বাবুয়ের নারীকে আইসের হাতে আটক করানোর অভিযোগ

গত বছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া, সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সস্তা বিমানবন্দরের তালিকা

ওহাইওতে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির চারজনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরপ্রীত সিং নতুন বিচার চেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে হত্যার পরও হাল ছাড়েননি খুনি ভারতীয় আসামি, যুক্তরাষ্ট্রে চাইলেন নতুন বিচার

খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা উল্টে ৫ মাসের শিশুসহ নারী নিহত, উদ্ধার ১২ জন

নিউইয়র্কের লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নিউইয়র্ক হারবারে শনিবার রাতে একটি নৌকা উল্টে ৫ মাসের এক শিশুকন্যা ও ২৭ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর পানিতে পড়ে যাওয়া আরও ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগেরই সামান্য আঘাত লাগে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নৌকাটি উল্টে যায়। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ বিভাগের হারবার ইউনিট, ডুবুরি দল ও এভিয়েশন ইউনিটও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।   পুলিশ জানিয়েছে, নৌকাটিতে মোট ১৪ জন ছিলেন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ১২ জনকে পানি থেকে নিরাপদে তুলে আনা হয়। পরে এনওয়াইপিডির ডুবুরি দল পানির মধ্যে নারী ও শিশুটিকে খুঁজে পায়।   গুরুতর অবস্থায় তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ব্রুকলিনের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় উল্টে যাওয়া নৌকাটি প্রায় ২২ ফুট লম্বা একটি মোটরবোট। নৌকাটি সাধারণত ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী বহনের উপযোগী হলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১৪ জন ছিলেন।   উদ্ধার হওয়া ১২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   নিহত নারী ও শিশুটির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁরা পরস্পরের স্বজন ছিলেন কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে নৌকাটি কেন উল্টে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নৌকার চালকসহ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।   লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নিউইয়র্ক হারবারে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় রাতেই বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অন্ধকার পানিতে জরুরি উদ্ধারকারী নৌযান ও পুলিশের আলোতে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়।   দুর্ঘটনার কারণ ও নৌকাটিতে যাত্রীসংখ্যা সংক্রান্ত বিষয়সহ পুরো ঘটনাটি তদন্ত শেষে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১০:১৪
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মায়ামি ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকে ফ্রিতে পড়ার সুযোগ! আবেদন করুন দ্রুত

মার্কিন গার্লফ্রেন্ড জুলিসা রুবি সালাজারকে (বামে) নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক ভারুন ব্যাচিগারি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন গার্লফ্রেন্ডকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে, ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডার দুই নারী দারা ও অ্যাবিগেইল মওয়াঙ্গুলু | ছবি: ডব্লিউপিবিএফ ২৫ নিউজ

ফ্লোরিডায় দুই নারীর অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব, যেভাবে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হলো

0 Comments