৬.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ রয়েছে।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিপণনকর্মী এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দেশটির ৪৫টি অঙ্গরাজ্য এবং একাধিক ফেডারেল জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পৃথক মামলার তদন্ত করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত প্রতারণার বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
ডিওজে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে বিল আদায়, রোগীদের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া দাবি দাখিল, অবৈধ কমিশন গ্রহণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম।
সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে অ্যারিজোনাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রতারণামূলক বিলিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কেনা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট পণ্য নতুনভাবে বাজারজাত করে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে মেডিকেয়ারে বিল করত। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিচার বিভাগের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। তদন্তে উচ্চমূল্যের গাড়ি, দামি গয়না, বিলাসবহুল আবাসন এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।
এদিকে ফ্লোরিডার একটি মামলায় এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া পরিচালনার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের প্রতারণা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের প্রকৃত চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও তাদের বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছিল।
মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তা ও জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ২০২৬ সালের ‘টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার’ হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে prediction market বা পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারগুলোতে এগিয়ে রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, পলিমার্কেট ও কালশি দুটিতেই মামদানিকে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় শীর্ষে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব বাজারের হিসাব টাইম ম্যাগাজিনের সিদ্ধান্ত নয় এবং বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কালশির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মামদানির জন্য বাজারের ইঙ্গিত করা সম্ভাবনা প্রায় ৩৩ শতাংশ। পোপ লিও চতুর্দশের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২১ শতাংশ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ শতাংশ। পলিমার্কেটেও মামদানি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে সাম্প্রতিক হিসাবে তার সম্ভাবনা প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি। মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার শপথ গ্রহণ হয় ম্যানহাটনের পুরোনো সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে। এর আগে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে মামদানি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পান এবং পরে মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। তার প্রচারে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফ্রি বাস ও শিশুদের জন্য চাইল্ডকেয়ারের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। এই প্রচারণা তাকে স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে আসে। টাইমও তাকে ২০২৬ সালের TIME100 তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। টাইমের প্রোফাইলে মামদানিকে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন গতি তৈরি করা একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তার হাউজিং এজেন্ডা, ব্যবসা ও শহরের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচকদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেছে ম্যাগাজিনটি। টাইম আরও জানিয়েছে, মামদানি গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে চাইল্ডকেয়ার পরিকল্পনায় কাজ করেছেন এবং ফেডারেল হাউজিং ফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। মামদানিকে ঘিরে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কও তার দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। তবে সেপ্টেম্বরের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়। গ্রেসি ম্যানশনে ওই বৈঠকে নিউইয়র্কের হাউজিং, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ‘টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচন অবশ্য prediction market-এর হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না। টাইম নিজস্ব সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করে। ফলে বর্তমানে মামদানি বাজারের হিসাবে এগিয়ে থাকলেও সেটিকে তার বিজয় নিশ্চিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। বছরের শেষ মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে বড় কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা আন্তর্জাতিক ঘটনা ঘটলে সম্ভাব্য তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। ২০২৬ সালের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা ডিসেম্বরেই হওয়ার কথা। ফলে এখনকার prediction market মূলত ব্যবসায়ীদের বর্তমান ধারণা বা বাজারের প্রত্যাশা প্রকাশ করছে, টাইমের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ গেল ৮ জনের, মোট গুলিবিদ্ধ ২১
প্রথমবার বাড়ি কিনছেন? মর্টগেজের বাইরেও বাসার কিস্তিতে যেসব খরচ যোগ হতে পারে
‘বার্থ ট্যুরিজম’ সহায়তাকারীদের ভিসা সীমিত করার ঘোষণা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে চান এমন ব্যক্তিদের দেশটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জুডিথ শেইন্ডলিন, যিনি ‘জাজ জুডি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ৮৩ বছর বয়সী এই সাবেক পারিবারিক আদালতের বিচারক বলেছেন, আমেরিকাকে তিনি নিজের ঘর মনে করেন এবং দেশটি তাঁর জন্য অনেক কিছু করেছে। সম্প্রতি ইউএসএ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেইন্ডলিন। তিনি বলেন, ‘আমার একটি বাড়ি আছে, আর একটি ঘরও আছে। আমি আমেরিকাকে আমার ঘর মনে করি। আমেরিকা আমার জন্য ভালো ছিল। আমি মনে করি, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই দেশকে পছন্দ না করেন, তাহলে অন্য কোথাও যান।’ তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটিতে এসে কেউ যদি বলেন যে তিনি দেশটির মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে চান, তাহলে তার জন্য অন্য দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেইন্ডলিন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি পুঁজিবাদী দেশ এবং এখানে উৎকর্ষ, উদ্যোক্তা ও সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এসব মূল্যবোধই দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত হিসেবে এসেছে। জাজ জুডির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তাঁর জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘জাজ জুডি’র সম্প্রচারের ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছে সিবিএস। এ উপলক্ষে ২২ সেপ্টেম্বর সিবিএসে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাজ জুডি: আনফিল্টার্ড, আনফরগেটেবল’। প্রায় ৯০ মিনিটের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ টেলিভিশন ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন, রু-পল, অ্যামি পোহলার ও স্টিভেন স্পিলবার্গসহ বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও অংশ নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে শেইন্ডলিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামাজিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে, দেশটির অনেক মানুষ অতীতের এমন একটি সময়ের কথা মনে করেন, যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবারে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এতটাই বেড়েছে যে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কথা বলা কঠিন হয়ে উঠছে। শেইন্ডলিন সহিংসতা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ইহুদিবিদ্বেষ ও বর্ণবাদের মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক বিভাজনও বাড়ছে। টেলিভিশনে বিচারকের ভূমিকায় তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনেও একই ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ কাজ করেছে বলে মনে করেন শেইন্ডলিন। এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দর্শকেরা নিয়ম, আইন, শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেন বলেই তাঁর আদালতভিত্তিক অনুষ্ঠান এত জনপ্রিয় হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ‘জাজ জুডি’ অনুষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি টানা ২৫ মৌসুম সম্প্রচারিত হওয়ার পর ২০২১ সালে শেষ হয়। এরপর শেইন্ডলিন ‘জুডি জাস্টিস’ নামে আরেকটি আদালতভিত্তিক অনুষ্ঠান শুরু করেন। সেটিও চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। টেলিভিশনে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতির অবসান ঘটলেও পুরোপুরি কাজ থেকে সরে যাচ্ছেন না শেইন্ডলিন। তিনি ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে পর্দার পেছনে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এর মধ্যে ‘জুডিভার্স’ নামে একটি অ্যানিমেটেড প্রকল্পও রয়েছে। তাঁর ছেলে অ্যাডাম লেভিও আদালতভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘অ্যাডামস ল’ নিয়ে পারিবারিক টেলিভিশন ঐতিহ্য ধরে রাখছেন। তিন দশক ধরে টেলিভিশনে বিচারকের ভূমিকায় পরিচিতি পাওয়া শেইন্ডলিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই তাঁর বিনোদনজগতের ক্যারিয়ারের বাইরেও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আমেরিকার সামাজিক মূল্যবোধ, পুঁজিবাদ, ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে। সূত্র: ফক্স নিউজ, ইউএসএ টুডে ও সিবিএস
জর্জিয়ার আলফারেটায় গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আরব কমিউনিটি
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ৮ নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, তোপের মুখে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়েও চিকিৎসা না নেওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা থেকে বাদ ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে নিজের টেসলা সাইবারট্রাক ব্যাক করার সময় দুর্ঘটনাবশত ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে চাপা দিয়েছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি (৪৮)। গত শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমিকুলায় তাদের বাসভবনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু প্রেস্টনকে দ্রুত ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন রাতেই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিজ হাতে সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি হৃদয়বিদারক স্টোরি শেয়ার করেছেন শোকস্তব্ধ পিতা টেরেক। ছেলে প্রেস্টনকে জড়িয়ে ধরে থাকা একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, “আমরা এক। আমরা চিরকাল একই থাকব। আমরা অনন্তকাল একসাথে থাকব। প্রেস্টন এবং টেরেক।” ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) দুর্ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে টেরেক এল গিন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় তার টেসলা সাইবারট্রাকটি অটোপাইলট মোডে ছিল না বলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী
যুক্তরাষ্ট্রে ভুলবশত ভোটার তালিকায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক, দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটি