সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়ির সুইমিংপুলে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি চিফের মৃত্যু

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৩:৩০
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়ির সুইমিংপুলে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি চিফের মৃত্যু
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়ির সুইমিংপুলে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি চিফের মৃত্যু

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজের বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলের পানিতে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এক নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) চিফের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার স্টোনি ব্রুকের ম্যালভার্ন লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে ৭৫ বছর বয়সী অ্যান্থনি ইজোকে সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে পরিবারের এক সদস্য জরুরি নম্বর ৯১১-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।

 

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাফোক কাউন্টি পুলিশ এবং স্টোনি ব্রুক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের উদ্ধারকারী দল। তারা ইজোকে পুল থেকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর (CPR) দেন।

 

পরে তাকে দ্রুত স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাফোক কাউন্টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে তারা ধারণা করছেন।

 

অ্যান্থনি ইজোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এনওয়াইপিডি (NYPD)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, কর্মজীবনে ইজো অর্গানাইজড ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ১৯৯৫ সালে তিনি ১১৫তম প্রিসিঙ্কট-এর কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

 

এক্সে দেওয়া শোকবার্তায় এনওয়াইপিডি উল্লেখ করে, নিউইয়র্ক সিটির মানুষের প্রতি তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও উৎসর্গ এক চিরস্থায়ী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এই শোকের মুহূর্তে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজার আগে যে ৫টি বিষয় যাচাই করবেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খোঁজার সময় শুধু বড় অঙ্কের অর্থ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন শুরু করলে পরে আর্থিক ও একাডেমিক জটিলতায় পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা। কারণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ থাকলেই সেটি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সব ডিগ্রি বা সব বিভাগের জন্য প্রযোজ্য হয় না। তাই আবেদন করার আগে স্কলারশিপের যোগ্যতা, মোট খরচ, ফান্ডিংয়ের ধরন এবং নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে এর মিল যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ-সমর্থিত এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার খরচ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ আগে থেকেই গবেষণা করার পরামর্শ দেয়।    প্রথমেই দেখতে হবে, স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘স্কলারশিপ’ বা ‘ফিন্যান্সিয়াল এইড’ লেখা থাকলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক সহায়তা নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ডিগ্রি, বিভাগ, মেজর বা শিক্ষার্থীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আবার কিছু স্কলারশিপ নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য, কিছু বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য। এডুকেশনইউএসএর ফিন্যান্সিয়াল এইড তালিকাতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা সুযোগ, যোগ্যতা ও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।    ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রেও যোগ্যতা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা নির্দিষ্ট শ্রেণির যোগ্য ননসিটিজেনদের জন্য উন্মুক্ত। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা অন্যান্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।    দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কলারশিপের অঙ্ক নয়, পুরো পড়াশোনার খরচ। ধরুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ২০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারসহ মোট খরচ যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে বাকি অর্থের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে নিজেকেই করতে হতে পারে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফান্ডিং পরিকল্পনায় টিউশন ও ফি ছাড়াও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাসস্থান ও খাবারের খরচও এক নয়।    তাই আবেদন করার আগে বার্ষিক টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারের আনুমানিক খরচ লিখে মোট হিসাব করা উচিত। পাশাপাশি দেখতে হবে স্কলারশিপটি শুধু এক বছরের জন্য নাকি পুরো ডিগ্রি মেয়াদে দেওয়া হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এটি নবায়নযোগ্য কি না এবং নবায়নের জন্য ন্যূনতম জিপিএ বা অন্য কোনো শর্ত আছে কি না, সেটিও জানা দরকার।   তৃতীয় বিষয় হলো ফান্ডিং পাওয়ার প্রক্রিয়া। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি আবেদন জমা দিলেই শিক্ষার্থী মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হতে পারেন। আবার কোনো কোনো স্কলারশিপের জন্য আলাদা আবেদন, প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র বা অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম পেজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্সিয়াল এইড পেজ এবং বিভাগের নির্দেশনাও দেখা জরুরি।   মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে গবেষণা, শিক্ষাদান বা প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার ও স্টাইপেন্ড দেওয়া হতে পারে। তবে এসব সুযোগ প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে এবং ফান্ডিংয়ের ধরন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা।    চতুর্থ বিষয় হলো নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে ফান্ডিংয়ের মিল। মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, প্রতিভা বা সামগ্রিক অর্জন বিবেচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে গবেষণাভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে গবেষণার আগ্রহ, আগের প্রকল্প, থিসিস, পদ্ধতিগত দক্ষতা বা ডেটা বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শিক্ষাদানভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   তাই শুধু ‘আমার জিপিএ কত’ এই প্রশ্নের মধ্যে নিজের আবেদনকে সীমাবদ্ধ না রেখে দেখতে হবে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটি। গবেষণা, শিক্ষাদান, নেতৃত্ব, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা কমিউনিটি কাজের কোন অংশটি নির্দিষ্ট ফান্ডিংয়ের যোগ্যতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে, সেটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।   পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের উৎস। ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব ভিডিও বা অন্য শিক্ষার্থীর তৈরি তালিকা প্রাথমিক ধারণার জন্য কাজে লাগতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট বিভাগের পেজ, গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং পেজ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের তথ্য এবং অফিসিয়াল কস্ট অব অ্যাটেনডেন্স দেখে তথ্য যাচাই করা উচিত। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ খুঁজে দেখার ব্যবস্থা রেখেছে।    সবশেষে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজা মানে শুধু ‘ফুলি ফান্ডেড’ লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় তালিকা তৈরি করা নয়। কার্যকর স্কলারশিপ সার্চের জন্য নিজের প্রোফাইল, নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও বিভাগের ফান্ডিং ব্যবস্থা, স্কলারশিপের যোগ্যতা এবং পুরো ডিগ্রির সম্ভাব্য খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আবেদন করার আগে এসব তথ্য যাচাই করলে অপ্রাসঙ্গিক অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পড়াশোনার পুরো সময়ের আর্থিক পরিকল্পনাও আরও বাস্তবসম্মতভাবে করা সম্ভব।   সূত্র: আসিফ মুক্তাদির

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:১৫
ফেডারেল বিচারকের আদেশে হোয়াইট হাউসে ফিরছে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো

ট্রাম্পের মিডিয়া নিষে ধাজ্ঞা স্থগিত করল বিচারক, সিএনএনসহ তিন মিডিয়ার প্রবেশাধিকার ফিরছে

ইরান যু দ্ধে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের মধ্যে নতুন করে এক সেনা কর্মকর্তার মৃ ত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন

ইরান যুদ্ধে নি হ ত আরও এক মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ, মৃ ত্যুর সংখ্যা ১৯

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি ও স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির একাধিক পদের নতুন বিজ্ঞপ্তি, জেনে নিন বিস্তারিত

সপ্তাহান্তে নর’ইস্টারের প্রভাবে নিউইয়র্ক ও পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা
পূর্ণিমার জোয়ারে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি, নিউইয়র্কবাসীকে সতর্ক করল আবহাওয়া বিভাগ

পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।   আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।   শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৪৩
প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সুযোগ-সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়েছে গবেষণায়

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য সেরা শহরের তালিকা প্রকাশ

রক্তে অতিরিক্ত অ্যালকোহল পাওয়ার পর ৬ মাসের শিশুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়

৬ মাসের শিশুর রক্তে ভয়াবহ মাত্রার অ্যালকোহল, ফ্লোরিডায় গ্রে প্তার বাবা-মা

ড্রোন ঠেকাতে লেজার অ স্ত্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

মি সাইল নয়, এবার লেজার! ড্রোন ও ক্রুজ মি সাইল ঠেকাতে নতুন অ স্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে
বাড়ি কিনতে ঋণের খরচ আরও বাড়ল, ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭.১৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের সুদের হার দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ২২ সেপ্টেম্বরের হিসাবে সুদের হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে বলে নের্ডওয়ালেটের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর ফলে নতুন করে বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের মাসিক ঋণের কিস্তি আগের তুলনায় বাড়তে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুর সময়ের পর এই প্রথম ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭ শতাংশের ওপরে উঠল। মর্টগেজ রেট বাড়ার কারণে বাড়ি কেনার সামগ্রিক খরচও বেড়েছে। বিশেষ করে যারা বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনতে চান, তাদের মাসিক পেমেন্টে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।   মর্টগেজ রেটের সঙ্গে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি নোটের সুদের হারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ১০ বছরের ট্রেজারি নোটের ইয়েল্ড গত দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।   গত কয়েক মাসে মর্টগেজের সুদের হার এক শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে হিসাব করছেন। বাড়তি ঋণ খরচ এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ হাউজিং মার্কেটের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে বাড়ি কেনার আগ্রহ পুরোপুরি কমে যায়নি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার এর আগে ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছিলেন, মর্টগেজ রেট বাড়লেও বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার মতে, ক্রেতারা পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান জিলোরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাড়ি বিক্রি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমতে পারে। একই সময়ে বাজারে বাড়ির সরবরাহ বা ইনভেন্টরি বাড়ছে। জিলোরের হিসাবে, এক বছরের তুলনায় ইনভেন্টরি ১০ শতাংশের কিছু বেশি বেড়েছে, যা বছরের প্রথম প্রান্তিকের বৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি।   বাড়ির সরবরাহ বাড়ার ফলে ক্রেতাদের সামনে তুলনামূলক বেশি বিকল্প তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু বিক্রেতাকে দাম কমানোর দিকে যেতে হতে পারে। এতে ক্রেতাদের দরদাম করার সুযোগও বাড়তে পারে বলে জিলোরের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ টনি জিওর্দানো বলেছেন, সুদের হার বাড়লেও কিছু ক্রেতা বাড়ি কেনার দিকে এগোচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা কেউ কেউ এখন আর অপেক্ষা না করে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সক্ষমতা ও মাসিক পেমেন্ট বহনের সামর্থ্য বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যারা এখনই বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত নন, তাদের জন্য ভাড়া বাসায় থেকে সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জিলোর জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২০২৫ সালের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যদিও বছরের শেষ দিকে বাজারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, জিলোর, ফক্স নিউজ, ফক্স বিজনেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৬:১৭
পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএসসিআইএস

পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস

ভিসা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের

আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও

আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি

0 Comments