ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং ক্রমবর্ধমান অভিবাসীবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের মুখে গত কয়েক মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি আফ্রিকান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আফ্রিকার অন্যতম উন্নত অর্থনীতির এই দেশ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রত্যাবাসনের ঘটনা। আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেককে জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে।
অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত কেবল জিম্বাবুয়েতেই ফিরে গেছেন ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া মালাউইতে ৫৬ হাজার এবং নাইজেরিয়া, ঘানা, মোজাম্বিক ও লেসোথোর মতো দেশগুলোতে ফিরেছেন এক হাজারেরও বেশি নাগরিক। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হয় স্বেচ্ছায় অথবা দেশগুলোর সরকারের দেওয়া প্রত্যাবাসন সুবিধার আওতায় ফিরে গেছেন।
মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্ব হার এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করে আসছে স্থানীয়রা। এর জেরে চলতি বছর দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে, যা গত ৩০ জুন দেশব্যাপী তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালায় এবং অনেক বৈধ অভিবাসীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও ঘানার মতো দেশগুলো তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক নিহতের দাবি করলেও, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার তা অস্বীকার করে এগুলোকে সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আকস্মিক এই গণ-প্রত্যাবাসনের ফলে চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি জানিয়েছে, হাজার হাজার শিশু স্কুল থেকে ছিটকে পড়েছে এবং তারা সহিংসতা ও মানসিক চাপের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। মালাউই সরকারের মতে, ফিরে আসাদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ৪ হাজার শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েতে ফিরে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন অসংখ্য এইচআইভি আক্রান্ত রোগী, যারা ওষুধ ও চিকিৎসার নথিপত্র ছাড়াই আকস্মিকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের চিকিৎসায় জিম্বাবুয়ে সীমান্তে জরুরি ক্লিনিক স্থাপন করেছে দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)।
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, এই ধরপাকড় অভিযান সামনে আরও কঠোর হবে। বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি আটক কেন্দ্রে আরও ৩ হাজার মানুষ নির্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বন্ধ করতে দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ পরিদর্শক মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানালেও, অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতীতের সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং ক্রমবর্ধমান অভিবাসীবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের মুখে গত কয়েক মাসে ১ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি আফ্রিকান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আফ্রিকার অন্যতম উন্নত অর্থনীতির এই দেশ থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় অভিবাসী প্রত্যাবাসনের ঘটনা। আতঙ্কে অনেকেই নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেককে জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত কেবল জিম্বাবুয়েতেই ফিরে গেছেন ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া মালাউইতে ৫৬ হাজার এবং নাইজেরিয়া, ঘানা, মোজাম্বিক ও লেসোথোর মতো দেশগুলোতে ফিরেছেন এক হাজারেরও বেশি নাগরিক। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হয় স্বেচ্ছায় অথবা দেশগুলোর সরকারের দেওয়া প্রত্যাবাসন সুবিধার আওতায় ফিরে গেছেন। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ বেকারত্ব হার এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করে আসছে স্থানীয়রা। এর জেরে চলতি বছর দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে, যা গত ৩০ জুন দেশব্যাপী তীব্র রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালায় এবং অনেক বৈধ অভিবাসীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতেও হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া ও ঘানার মতো দেশগুলো তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক নিহতের দাবি করলেও, দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার তা অস্বীকার করে এগুলোকে সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আকস্মিক এই গণ-প্রত্যাবাসনের ফলে চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি জানিয়েছে, হাজার হাজার শিশু স্কুল থেকে ছিটকে পড়েছে এবং তারা সহিংসতা ও মানসিক চাপের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। মালাউই সরকারের মতে, ফিরে আসাদের মধ্যে ৫ বছরের কম বয়সী অন্তত ৪ হাজার শিশু রয়েছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়েতে ফিরে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন অসংখ্য এইচআইভি আক্রান্ত রোগী, যারা ওষুধ ও চিকিৎসার নথিপত্র ছাড়াই আকস্মিকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের চিকিৎসায় জিম্বাবুয়ে সীমান্তে জরুরি ক্লিনিক স্থাপন করেছে দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, এই ধরপাকড় অভিযান সামনে আরও কঠোর হবে। বর্তমানে জোহানেসবার্গের একটি আটক কেন্দ্রে আরও ৩ হাজার মানুষ নির্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বন্ধ করতে দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ পরিদর্শক মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসীদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানালেও, অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতীতের সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে লড়বে তিন দেশ
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা
গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি
প্রায় তিন দশক ধরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টের দুর্গম উচ্চতায় পড়ে থাকা একটি মরদেহ এবার বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দীর্ঘদিন ধরে পর্বতারোহীদের কাছে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত এই মরদেহটির পরিচয়ও নতুন করে নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত মরদেহটি ভারতীয়-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর সদস্য দর্জে মোরুপের। ১৯৯৬ সালে এভারেস্ট অভিযানে গিয়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মরদেহটির পায়ে থাকা উজ্জ্বল সবুজ রঙের পর্বতারোহণের জুতার কারণে এটি ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এভারেস্টের উত্তর-পূর্ব পথ দিয়ে চূড়ার দিকে যাওয়া পর্বতারোহীদের কাছে মরদেহটি একটি ভয়ংকর চিহ্ন হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায় থাকা মরদেহটি এভারেস্টের তথাকথিত ‘মৃত্যু অঞ্চল’-এর মধ্যে পড়ে। সেখানে অক্সিজেনের পরিমাণ অত্যন্ত কম, তাপমাত্রা ভয়াবহ এবং সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে। প্রায় তিন দশক ধরে ধারণা করা হতো, ‘গ্রিন বুটস’ মরদেহটি ভারতীয় পর্বতারোহী তেসওয়াং পালজোরের। তিনিও ১৯৯৬ সালের একই ভারতীয়-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ অভিযানের সদস্য ছিলেন। তবে নতুন ভারতীয় সরকারি নথি ও পরিচয় যাচাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মরদেহটি দর্জে মোরুপের বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এভারেস্টের অন্যতম আলোচিত মরদেহকে ঘিরে দীর্ঘদিনের পরিচয়-রহস্য নতুন মোড় পেয়েছে। ১৯৯৬ সালের মে মাসে ভারতীয়-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল এভারেস্ট অভিযানে যায়। চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আবহাওয়া দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দলের তিন সদস্য ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেও দর্জে মোরুপ ও তাঁর দুই সহকর্মী তেসওয়াং পালজোর এবং তেসওয়াং স্মানলা চূড়ার দিকে এগিয়ে যান। পরে তীব্র তুষারঝড়ের মধ্যে তিনজনই মারা যান। একই সময় এভারেস্টের বিভিন্ন অভিযানে মোট আটজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়। ১৯৯৬ সালের ঘটনাটি পর্বতারোহণের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এভারেস্ট বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়। দর্জে মোরুপের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয়-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধারের জন্য উচ্চতাজনিত উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞ দল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অত্যন্ত অভিজ্ঞ শেরপা ও উচ্চতাজয়ী পর্বতারোহীদের সহায়তায় মরদেহটি পাহাড় থেকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানটি অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এভারেস্টের ৮ হাজার মিটারের ওপরের অঞ্চলকে ‘মৃত্যু অঞ্চল’ বলা হয়। সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি মানুষের শরীরকে দ্রুত দুর্বল করে দেয়। তীব্র ঠান্ডা, বরফ, খাড়া ঢাল ও তুষারধসের ঝুঁকির কারণে উদ্ধারকারী দলের জন্যও অভিযানটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ উচ্চতায় সাধারণ হেলিকপ্টার দিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব নয়। ফলে অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের দড়ি, বিশেষ সরঞ্জাম ও শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে ধাপে ধাপে মরদেহ নিচে নামাতে হবে। মরদেহটি এভারেস্টের তিব্বত অংশে রয়েছে। ওই অঞ্চল চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে ভারতীয় উদ্ধারকারী দলকে সেখানে অভিযান চালানোর জন্য চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হবে। এভারেস্টের উত্তর দিকের পর্বতারোহণ কার্যক্রম চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় পরিচালিত হয়। ভারতীয় পরিকল্পনা নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এভারেস্টে এখনো বহু পর্বতারোহীর মরদেহ পড়ে আছে। ১৯৫৩ সালে এভারেস্ট প্রথম জয় হওয়ার পর থেকে প্রায় ৩৫০ জন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে বলে এপি জানিয়েছে। দুর্গম উচ্চতা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং বিপুল ব্যয়ের কারণে অনেক মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ‘গ্রিন বুটস’ উদ্ধারের অভিযান শুধু একজন ভারতীয় পর্বতারোহীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়; এটি এভারেস্টে পড়ে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার, পরিবারের কাছে মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া এবং পর্বতারোহণের মানবিক দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতের বরফঢাকা ঢালে পড়ে থাকা দর্জে মোরুপের মরদেহ সফলভাবে উদ্ধার করা গেলে তাঁর পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে ‘গ্রিন বুটস’ নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এভারেস্টের দীর্ঘ এক রহস্যেরও পরিসমাপ্তি ঘটবে।
ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে ইসরায়েলিরা
সেনজেন চুক্তি স্থগিতের জেরে ইতালিকে পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্পেনের
ডিম্বাণু দান করেছিলেন টাকার জন্য, ১১ বছর পর তার বাড়িতেই অতিথি সেই ফরাসি কিশোরী
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি হাইস্কুলে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও এক ডজনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক ছাড়াও রয়েছেন অভিযুক্ত বন্দুকধারীর দাদা-দাদি। হামলা চালিয়ে তাণ্ডব চালানোর পর ঘাতক কিশোর নিজেও আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ জানায়, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন স্কুল’-এ (The Debsirin School)। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই হামলাকে সম্পূর্ণ 'পূর্বপরিকল্পিত' বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত কিশোর মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। স্কুলে এসে হামলা চালানোর আগেই সে বাড়িতে থাকা তার দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে, যাদের সঙ্গে সে বসবাস করত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাতক কিশোরটি তার দাদার নামে নিবন্ধিত একটি আইনি অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এর আগে একটি উৎসব শেষে সে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই বন্দুকটির একটি ছবিও পোস্ট করেছিল। থাই প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত হওয়ার সময়ও কিশোরটির কাছে ৩০ রাউন্ডের বেশি তাজা গুলি অবশিষ্ট ছিল। সে যদি নিজে আত্মহত্যা না করত, তবে আরও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
সামরিক ঘাঁটিতে আবাসন পরিকল্পনা ঘিরে ব্রিটিশ শহরে খুঁজে খুঁজে আশ্রয়প্রার্থীদের বাড়িতে হা মলা
ইরান উত্তেজনার মাঝে সৌদি, পাকিস্তান, তুরস্কের ন্যাটো-স্টাইল সামরিক চুক্তি