সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

অনলাইনে সোমালিয়া সরকারের সমালোচনা করায় তরুণীর ৩ বছরের জেল, দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৭, ২০২৬ ১০:১৬
হেফাজতে থাকার সময় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ | ছবি: হ্যান্ডআউট
হেফাজতে থাকার সময় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ | ছবি: হ্যান্ডআউট

সোমালিয়া সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় এক তরুণীকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আঞ্চলিক আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ওই তরুণীর নাম সাদিয়া মোয়ালিম আলি (২৭)। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশা চালক এবং নার্সিংয়ের স্নাতক। গত ২৫ জুন আদালত এই বিতর্কিত রায় দেওয়ার পর থেকেই পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সোমালের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই রায়কে 'চরম অন্যায়' এবং 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

 

সাদিয়া মোয়ালিম আলি মূলত ফেসবুক ও টিকটকে দেশের তীব্র যুব বেকারত্ব, জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অপমান এবং অপরাধে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কেবল সমালোচনার দায়েই তাঁকে এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়। সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খাইরে এই রায়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই সাজা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা বিচার বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতিশোধমূলক আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

 

এক বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মা সাদিয়া গত ১২ এপ্রিল থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তিনিই ছিলেন তাঁর পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদিয়া জানান, তাঁকে উপুড় করে শুইয়ে গায়ে পানি ঢালা হয়েছে, বুট জুতো পরা প্রহরী দিয়ে লাথি মারা হয়েছে এবং লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে। এমনকি নির্জন কক্ষে দুই দিন আটকে রেখে খাবার ও টয়লেটে যাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়।

 

সোমালিয়ার হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স কোয়ালিশন এক বিবৃতিতে সাদিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করে জানিয়েছে, এই রায় মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক বড় ধরনের চপেটাঘাত। সোমালিয়ায় বিশেষ করে যেসব নারী সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেন, তাঁদের পদ্ধতিগতভাবে দমন ও বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। সাদিয়ার আইনজীবী মোহাম্মদ শেখ ওসমান এই রায় প্রত্যাখ্যান করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে সোমালিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের মুখ বন্ধ করতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, হয়রানি ও হুমকির মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ উঠছে। আন্তর্জাতিক আইনে যে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, সাদিয়ার ওপর কারাগারে যে নির্মম আচরণ করা হয়েছে তা বিশ্বমঞ্চে সোমালিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনের শাসনভার ফিলিস্তিনিদের হাতেই ন্যস্ত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে চীন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং এই জোরালো বার্তা প্রদান করেন।   তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, ফিলিস্তিনিরাই নিজেদের দেশ পরিচালনা করবে এবং এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিম তীরের সার্বিক উন্নয়ন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ফিলিস্তিন সংকটের একটি চিরস্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য যত দ্রুত সম্ভব 'দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক' সমাধানের ফর্মুলায় ফিরে যাওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এককভাবে কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোকে চরম অন্যায় আখ্যা দিয়ে হান ঝেং বলেন, যেকোনো বিরোধ কেবল আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৃহৎ শক্তিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।   মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি রক্ষার্থে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন সচল রাখার বিষয়েও তিনি জোর দেন।   ফিলিস্তিন ইস্যুর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সংকট নিয়েও অধিবেশনে কথা বলেন চীনের এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীন নিজস্ব উদ্যোগে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের একতরফা ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকি অবিলম্বে তুলে নেওয়ারও জোরালো দাবি জানান তিনি।   আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গে হান ঝেং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার যেন কেবল মানবকল্যাণেই নিবেদিত হয়। বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৯:৪৭
জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

জাপানের ধনী পরিবারগুলো দত্তক নিচ্ছে ঘরজামাই, আবেদন করতে পারবে বাংলাদেশিরাও

দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

গ্রিসে পর্যটন এলাকায় গ্যাস  বি স্ফোরণে ভবন ধস, ৪ মার্কিন পর্যটকসহ প্রাণ গেল ৬ জনের

গ্রিসে পর্যটন এলাকায় গ্যাস বি স্ফোরণে ভবন ধস, ৪ মার্কিন পর্যটকসহ প্রাণ গেল ৬ জনের

ছত্তিশগড়ের কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের পরিচালকের অফিসে ছেলের চেয়ারে বসেছেন মা সখুবাই পাডিভার। ছবি: সংগৃহীত
বর্জ্য কুড়িয়ে সন্তানকে পড়িয়েছেন মা, ছেলে গৌতম এখন বন কর্মকর্তা

স্বামীকে হারানোর পর সন্তানদের পড়াশোনা চালাতে দিনমজুরি করেছেন সখুবাই পাডিভার। পরে মুম্বাইয়ে গিয়ে বর্জ্য কুড়িয়ে সংসার চালিয়েছেন। তাঁর ছেলে গৌতম পাডিভার এখন ভারতের বন বিভাগের কর্মকর্তা। সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যানে পরিচালকের দায়িত্বে থাকা গৌতমের অফিসে গিয়ে তাঁর চেয়ারে বসেন সখুবাই। সেই মুহূর্তের ছবি ঘিরেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁদের জীবনসংগ্রাম।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের আয় এত কম ছিল যে কখনো কখনো তাঁদের না খেয়েও থাকতে হয়েছে। সখুবাই নিজে স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি। তবু তিনি সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন। পরিবারের অভাব যেন তাঁদেরও দিনমজুরির কাজে নামতে বাধ্য না করে, সেটিই ছিল তাঁর চেষ্টা।   গৌতম মহারাষ্ট্রের জালনায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়েছেন। এরপর কোচিং ছাড়াই প্রকৌশলে ভর্তির পরীক্ষা পাস করে সুযোগ পান আইআইটি মাদ্রাজে। পরে ২০২২ সালের ভারতীয় বন পরিষেবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ১৩৯তম স্থান অর্জন করেন।   ২০২৩ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ছত্তিশগড়ে কর্মজীবন শুরু করেন গৌতম। বর্তমানে তিনি রাজ্যের জগদলপুরে কাঙ্গের ভ্যালি জাতীয় উদ্যানের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর মায়ের অফিস পরিদর্শনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে।   মাকে নিজের অফিসের চেয়ারে বসানোর মুহূর্তটি নিয়ে গৌতম তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব সখুবাইকেই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আজ তিনি যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তার পেছনে রয়েছে মায়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১২:০
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বাসায় ফেরার দিনই বিস্ফোরণ! এথেন্সে ভবন ধসে মার্কিন দম্পতির মৃত্যু

গ্রেটার নয়ডায় যাত্রীবাহী বাসে আ গুনে মা ও ছেলের ম র্মা ন্তিক মৃ ত্যু

মাকে বাঁচাতে জ্ব ল ন্ত বাসে রয়ে গেলেন ছেলে, আ গু নে দুজনেরই মৃ ত্যু

মক্কা-মদিনায় হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, জাতিসংঘে শাহবাজের হুঁশিয়ারি

মক্কা-মদিনায় হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, জাতিসংঘে শাহবাজের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার চুরি হওয়া ফোন পাচার: ২ আফগান ও ১ ভারতীয় নাগরিকের কারাদণ্ড
যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার চুরি হওয়া ফোন পাচার: ২ আফগান ও ১ ভারতীয় নাগরিকের কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর থেকে চুরি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার মোবাইল ফোন বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বিশাল এক আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের তিন সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে দুজন আফগান এবং একজন ভারতীয় নাগরিক।   মেট্রোপলিটন পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে লন্ডন থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই এই সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বাইরে পাচার করা হয়েছিল। শুক্রবার লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট এই তিনজনকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আদেশ দেন।   দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আমির মুহাম্মদ খাদিকখেল, ৩৩ বছর বয়সী ইসমাত মিয়াখেল এবং ৩০ বছর বয়সী মনসুর মোহাম্মদ। আদালতে তারা চুরি করা মালামাল গ্রহণ এবং একটি সুসংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন।   খাদিকখেল ও মিয়াখেল চোরাই মাল দেশের বাইরে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন। সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের বিচারক অ্যাডাম হিডলস্টন অপরাধের মাত্রা ও জটিলতা বিবেচনা করে খাদিকখেলকে সাড়ে ৯ বছর, মিয়াখেলকে ৯ বছর এবং মনসুর মোহাম্মদকে সাড়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন, আর্থিকভাবে এই অপরাধের বিশালত্ব এবং চক্রটির কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত ও জটিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি মূলত আইফোনসহ দামি স্মার্টফোনগুলো সংগ্রহ করে চীনসহ অন্যান্য দেশে পাঠাত। রাস্তার ছিনতাইকারী বা ফোন চোরদের প্রতিটি ডিভাইসের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে চীনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলারে বিক্রি করা হতো। এই চক্রের প্রথম সন্ধান মেলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।   এক ভুক্তভোগী তার চুরি যাওয়া ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারেন যে সেটি হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে ডিএইচএলের একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালিয়ে হংকংগামী একটি চালান থেকে প্রায় ৮৬৫টি স্মার্টফোন উদ্ধার করে, যেগুলো সিগন্যাল আড়াল করার জন্য টিনের ফয়েল দিয়ে মোড়ানো ছিল।   এই ঘটনার পরই লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ‘অপারেশন ইকোস্টিপ’ নামে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে এবং ধাপে ধাপে পুরো পাচার নেটওয়ার্কটি উন্মোচন করে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব লন্ডন থেকে খাদিকখেল ও মিয়াখেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অন্যদিকে চুরি করা ফোন সংগ্রহ ও পরিবহনের দায়িত্বে থাকা মনসুর মোহাম্মদকেও তার গাড়ি থেকে সিগন্যাল জ্যামিং ফ্যারাডে ব্যাগ ও টিনের ফয়েলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ হাজারের বেশি চোরাই ফোন উদ্ধার করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ পাউন্ড।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৭:৪৩
গাজায় ইসরায়েলি হা মলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা মার্কিন চিকিৎসকের আবারও ফেরার ঘোষণা

গাজায় ইসরায়েলি হা মলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা মার্কিন চিকিৎসকের আবারও ফেরার ঘোষণা

কুয়েতের জাহরায় বিয়ের অনুষ্ঠানে নারীদের তাঁবুতে ভয়াবহ আ গু ন

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিশোধ নিতে তাঁবুতে আগুন দিলেন প্রথম স্ত্রী, প্রা ণ গেল ৫৭ জনের!

ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে নেপাল

ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন

0 Comments