সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আবদুল এল-সায়েদের সিনেটর বেতন কত, বাংলাদেশি টাকায় কত এবং কী কী সুবিধা পাবেন?

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২০:২৫
মিশিগান থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মিশিগান থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁর বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন সাধারণ মার্কিন সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার। সেই হিসাবে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এল-সায়েদও একই বেতন কাঠামোর আওতায় পড়বেন।

 

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে তাঁর বার্ষিক বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মাসিক হিসাবে বেতন দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে টাকার অঙ্ক কমবেশি হতে পারে। এই হিসাব কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তনের আগের বেতনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

 

আবদুল এল-সায়েদ ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বেতন কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিনেটরের বেতন পাবেন।

 

বেতনের বাইরে সিনেটরদের জন্য রয়েছে স্বাস্থ্যবিমা ও অবসরকালীন সুবিধা। তবে এসব সুবিধা মানেই বিনা খরচে সব চিকিৎসা বা অবসরের পর আজীবন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়া নয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেটররা ডিসি হেলথ লিংকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফেডারেল সরকার বিমার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বহন করে। কোন স্বাস্থ্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রিমিয়াম কত, তার ওপর ব্যক্তির নিজের পরিশোধযোগ্য অংশ নির্ভর করে।

 

সিনেটররা ফেডারেল কর্মীদের জন্য নির্ধারিত জীবনবিমা কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মীদের অবসর পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তবে কত টাকা পেনশন বা অবসর সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, বয়স, চাকরির মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তের ওপর। সাধারণভাবে অবসর সুবিধা পাওয়ার জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছর চাকরির শর্ত রয়েছে।

 

সিনেটরদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা সরকারি বরাদ্দ। এই অর্থ ব্যক্তিগত বেতন বা অতিরিক্ত আয় নয়। সিনেটরদের অফিস পরিচালনা, কর্মী নিয়োগ, স্টাফদের বেতন, দাপ্তরিক সরঞ্জাম, চিঠিপত্র এবং নিজ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে সরকারি কাজে যাতায়াতের মতো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়। ২০২৬ অর্থবছরে একজন সিনেটরের জন্য এই দাপ্তরিক বরাদ্দের পরিমাণ অঙ্গরাজ্যভেদে প্রায় ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ডলার থেকে ৬৬ লাখ ২১ হাজার ডলারের মধ্যে। গড় বরাদ্দ প্রায় ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ডলার।

 

এই দাপ্তরিক বরাদ্দ দিয়ে সিনেটর নিজের ব্যক্তিগত খরচ, রাজনৈতিক প্রচার বা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ব্যয় মেটাতে পারেন না। অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিনেটের নির্ধারিত নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একইভাবে সিনেটের বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার জন্য সাধারণ সিনেটররা মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত বেতন পান না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের বেতন ২০০৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো একই থাকলেও তাঁদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অবসরকালীন সুবিধার জন্য আলাদা নিয়ম ও বরাদ্দ রয়েছে। ফলে একজন সিনেটরের বার্ষিক বেতন এবং তাঁর অফিস পরিচালনার জন্য সরকারের দেওয়া অর্থকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
জেফ্রিসকে স্পিকার হিসেবে সমর্থন না করার আহ্বান জানিয়ে অনলাইন পিটিশন চালু করেছেন নিকোল হুইটেড। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
হাকিম জেফ্রিসকে স্পিকার না করার দাবিতে পিটিশনে ৫ লাখ স্বাক্ষর, চাপে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার পদে হাকিম জেফ্রিসকে সমর্থন না করার আহ্বান জানিয়ে করা একটি অনলাইন পিটিশনে পাঁচ লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে বলে দাবি করেছেন এর উদ্যোক্তা। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেফ্রিসকে স্পিকার হিসেবে দেখতে না চাওয়া এই উদ্যোগে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অসন্তোষ উঠে এসেছে।   পিটিশনটির উদ্যোক্তা নিকোল হুইটেড। তিনি লেখক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা। তাঁর তৈরি পিটিশনের শিরোনাম ‘হাউস ডেমোক্র্যাটস: চুজ আ নিউ স্পিকার’। এতে বলা হয়েছে, স্পিকার হিসেবে এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি শুধু দলের নেতৃত্বের নয়, বরং ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মতামতেরও প্রতিনিধিত্ব করবেন। পিটিশনে জেফ্রিসকে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে সমর্থন না করে বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   হুইটেডের দাবি, বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি পিটিশনে প্রায় ২০ হাজার স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছিলেন। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাক্ষরের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তবে এই সংখ্যা পিটিশনের উদ্যোক্তার দেওয়া হিসাব। চেঞ্জ ডট অর্গের পৃষ্ঠায় যাচাইকৃত স্বাক্ষরের সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।   জেফ্রিসের বিরোধিতার পেছনে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন হুইটেড। এর মধ্যে রয়েছে গত আগস্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে জেফ্রিসের ব্যক্তিগত বৈঠক। এ ছাড়া মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিপক্ষে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়া প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের জেফ্রিসকে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও পিটিশনের সমর্থনে তুলে ধরা হয়েছে। হুইটেডের মতে, এসব ঘটনা দলীয় নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।   পিটিশনে সমর্থন জানিয়েছেন হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালোও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লুস্কাইয়ে পিটিশনটি শেয়ার করে তিনি নতুন স্পিকার নির্বাচনের পক্ষে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল অংশের কয়েকজন নবনির্বাচিত প্রতিনিধি আগেই জেফ্রিসের নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মিশিগান থেকে নির্বাচিত উইলিয়াম লরেন্স বলেছেন, স্পিকার নির্বাচনে জেফ্রিসের বিকল্প প্রার্থী দেখতে চান তিনি। পেনসিলভানিয়ার নবনির্বাচিত প্রতিনিধি ক্রিস র‍্যাবও জেফ্রিসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   তবে জেফ্রিসের প্রতি সমর্থনও রয়েছে দলের ভেতরে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে তাঁর স্পিকার হওয়ার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এদিকে, জেফ্রিস নিজেও স্পিকার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ নভেম্বর সহকর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি নিজের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চান। চিঠিতে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু অবস্থানে থেকেও ডেমোক্র্যাটরা ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েছে এবং এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে।   গত ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ফলে আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর পর দুই কক্ষেই নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রথমে নিজেদের দলের পছন্দের স্পিকার প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এরপর পুরো প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হবে। স্পিকার নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২১৮ জন সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। জেফ্রিস নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার।   এদিকে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়েও দলের প্রগতিশীল অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নিউ ইয়র্কের সিনেটর চাক শুমারকে দলীয় নেতা হিসেবে বহাল রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা। মিনেসোটার নবনির্বাচিত সিনেটর পেগি ফ্লানাগান ৪ নভেম্বর বলেছেন, দলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় এসেছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দলীয় সহকর্মীদের সমর্থন পেয়ে শুমার সহজেই নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারেন বলে অনেক সিনেটর মনে করছেন।   সংবাদ সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২১:৪৭
বড় ভাইয়ের হাতে জিম্মি থাকার পর পালিয়ে আসা ম্যাভেরিক লায়ন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে উল্টো পুলিশের গুলিতে আহত কলেজশিক্ষার্থী

ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনায় ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন মিশিগানের সিনেটর-নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন আবদুল এল-সায়েদ

মিশিগান থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

আবদুল এল-সায়েদের সিনেটর বেতন কত, বাংলাদেশি টাকায় কত এবং কী কী সুবিধা পাবেন?

আদালতের আদেশের পর ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় দুই মুসলিম সংগঠনসহ তিন সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুটি মুসলিম সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ও মুসলিম ব্রাদারহুড এবং বামপন্থী আন্দোলন অ্যান্টিফাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের আওতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর এক দিন আগে, ৪ নভেম্বর বুধবার, ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালেন সি. উইনসর সিএআইআর ও সংগঠনটির ফ্লোরিডা শাখার দায়ের করা জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন আংশিক মঞ্জুর ও আংশিক নাকচ করেন। আদালতের আদেশের পর ফ্লোরিডায় তাদের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সিএআইআর। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।   ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট (এফডিএলই) বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ফেডারেল আদালত ফ্লোরিডার এই পদক্ষেপ বহাল রেখেছে। সংস্থাটি বলেছে, ফ্লোরিডার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে সতর্ক রয়েছে। এফডিএলইর প্রকাশিত গ্রাফিকেও তিনটি সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদালতের আদেশটি মূলত সিএআইআর ও এর ফ্লোরিডা শাখার দায়ের করা মামলার ওপর দেওয়া হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড ও অ্যান্টিফার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে এই আদেশ দেওয়া হয়নি।   এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত গত ১ জুলাই ২০২৬ সালে। ওই দিন ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এইচবি ১৪৭১ নামের নতুন আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ ঘোষণা করেন। আইনটির আওতায় অঙ্গরাজ্যের প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সংগঠনকে দেশীয় বা বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়। গভর্নর ও অঙ্গরাজ্যের মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে ২৯ সেপ্টেম্বর সিএআইআর, মুসলিম ব্রাদারহুড ও অ্যান্টিফাকে দেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৬ অক্টোবর ফ্লোরিডার সরকারি প্রশাসনিক নিবন্ধনে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রকাশের ৩০ দিন পর, অর্থাৎ ৫ নভেম্বর থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।   সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিএআইআর ও এর ফ্লোরিডা শাখা আদালতের দ্বারস্থ হয়। সংগঠনটির পক্ষে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), এসিএলইউ অব ফ্লোরিডা এবং সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টারের আইনজীবীরা আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার এই ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত বাক্‌স্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকারের পরিপন্থী। পাশাপাশি সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে থাকা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারও এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।   ৪ নভেম্বরের আদেশে বিচারক অ্যালেন সি. উইনসর সংগঠনগুলোর মূল আবেদন গ্রহণ করেননি। তবে আইনি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সীমিত সুরক্ষা দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিএআইআর, এর কর্মী কিংবা সংগঠনটিকে আইনি সহায়তা প্রদানকারী তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে শুধু আইনি সেবা দেওয়ার কারণে এই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ সংগঠনটি নিজেদের পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করতে পারবে। তবে এই সুরক্ষা সংগঠনটির অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য সাধারণ ছাড় নয়। আদালতের আদেশে এক হাজার ডলারের জামানত জমা দেওয়ার শর্তও রাখা হয়েছে।   ফ্লোরিডার নতুন আইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত সংগঠনগুলোকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি অর্থায়ন, চুক্তি ও বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বা সম্পদ ব্যবহার করে এসব সংগঠনকে সহায়তা কিংবা তাদের কার্যক্রম প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত সংগঠনকে জেনেশুনে আর্থিক বা বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও নতুন আইনে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী তালিকাভুক্ত সংগঠনের কার্যক্রম প্রচার করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে হতে পারে এবং শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।   আদালতের সিদ্ধান্তের পর ৫ নভেম্বর সিএআইআর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে তাদের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির ফ্লোরিডা শাখার নির্বাহী পরিচালক হিবা রহিম জানান, কর্মী এবং তাদের সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন পক্ষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁরা কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। সিএআইআর দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম আমেরিকানদের নাগরিক অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় ফ্লোরিডায় নাগরিক অধিকার ও আইনি সহায়তা গ্রহণকারী বিভিন্ন সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   অন্যদিকে, ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অঙ্গরাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে সিএআইআর কর্তৃপক্ষ ফ্লোরিডা প্রশাসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, মুসলিম আমেরিকানদের নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।   এদিকে, এসিএলইউর পক্ষ থেকে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তবে আদালতের ৪ নভেম্বরের আদেশ মামলার চূড়ান্ত রায় নয়। নতুন আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মূল আইনি লড়াই এখনো চলমান রয়েছে।   উল্লেখ্য, ফ্লোরিডার এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের আনুষ্ঠানিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্তির সমতুল্য নয়। এটি অঙ্গরাজ্য সরকারের নিজস্ব আইনের অধীনে নেওয়া পদক্ষেপ। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আপিল ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৯:৩০
ধর্মীয় সংগঠন চার্চ অব সায়েন্টোলজি

ফ্লোরিডায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি সড়ক হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত, প্রতিবাদে হাজারো বাসিন্দা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি

‘আমেরিকায় আবারও নতুন সকাল এসেছে’— ডেমোক্র্যাটদের জয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ

মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের জয়ে ভারতের কর্ণাটকে উৎসব, ‘জামাইবাবু’র সাফল্যে উচ্ছ্বাস

নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসন বদলানোর চাপ দিচ্ছেন রিপাবলিকান নেতারাই
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি ও প্রশাসন বদলানোর চাপ দিচ্ছেন রিপাবলিকান নেতারাই

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বড় ব্যবধানের এই পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রদবদল, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ইরান যুদ্ধ ও শুল্ক আরোপের মতো বিতর্কিত নীতিগুলো থেকে ট্রাম্পকে সরে আসার জোর আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান মিত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা।   খোদ ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই পরাজয়ের জন্য সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের অভিজ্ঞ কৌশলবিদরা এই ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য 'বড় বিপর্যয়' হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রশাসন ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন।   এদিকে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও বর্তমানে বেশ শোচনীয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, কর্মীদের মনোবল এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় এখন তারা সহজেই ট্রাম্পের যেকোনো আইন প্রণয়ন আটকে দিতে এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের তদন্ত শুরু করতে পারবে, যা নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।   তবে এত চতুর্মুখী চাপের মুখেও নিজের নীতি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পরাজয়কে তিনি নিজের ওপর কোনো ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে দেখছেন না। এমনকি নির্বাচনের আগে দলীয় জরিপে পরাজয়ের শঙ্কার কথা জেনেও তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানান।   বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের বাধা এড়াতে আগামী দিনে অভিবাসন, শুল্ক ও আবাসন খাতে ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে একক নির্বাহী আদেশের (এক্সিকিউটিভ অর্ডার) ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:২
ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

ধর্ষণ ও তিন যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্রিটিশ অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রুকলিন ও শিকাগোয় বসতবাড়িতে ভ য়াবহ অ গ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল অন্তত ১০ জনের

যুক্তরাষ্ট্রে ব্রুকলিন ও শিকাগোয় বসতবাড়িতে ভ য়াবহ অ গ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল অন্তত ১০ জনের

ওয়াশিংটনে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে সাড়া দিতে গিয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে এক শেরিফ ডেপুটি নিহত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশসহ চারজন নিহত, লাইফ সাপোর্টে আরো এক কর্মকর্তা

0 Comments