মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি, নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ল চীনের ট্রেন
চীনের একটি পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ যান স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে এক কিলোমিটার দীর্ঘ বিশেষ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। অত্যন্ত অল্প দূরত্বে এত দ্রুত গতি অর্জনকে উচ্চগতির ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।
তবে এটিকে যাত্রীবাহী বুলেট ট্রেন হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। পরীক্ষায় ব্যবহৃত যানটি ছিল প্রায় ১ দশমিক ১ টন ওজনের একটি ম্যাগলেভ মডেল ভেহিকল। এটি বর্তমানে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, হুবেইয়ের ইস্ট লেক ল্যাবরেটরির গবেষকেরা এক হাজার মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে যানটি চালান। স্থির অবস্থা থেকে যাত্রা শুরুর পর প্রায় ৬০০ মিটারের মধ্যেই এটি ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছে যায়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুরো পরীক্ষাটি শেষ হয় মাত্র আট সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গতি অর্জনের পর একই পরীক্ষামূলক ট্র্যাকের মধ্যেই যানটিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে থামানো সম্ভব হয়।
গবেষকদের দাবি, স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ অ্যাকসেলারেশন পরীক্ষায় এটি নতুন বিশ্বরেকর্ড। এই সাফল্যের পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে পার্মানেন্ট ম্যাগনেট ইলেকট্রিক সাসপেনশন গাইডেন্স এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থা।
প্রচলিত ট্রেনের মতো ম্যাগলেভের চাকা রেলের সঙ্গে ঘর্ষণের মাধ্যমে চলে না। শক্তিশালী চৌম্বকীয় প্রযুক্তির সাহায্যে যানটি ট্র্যাকের ওপর ভাসমান অবস্থায় চলতে পারে। ফলে চাকা ও রেলের সরাসরি সংস্পর্শ না থাকায় অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার ক্ষেত্রে ঘর্ষণজনিত বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
তবে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ ছিল না। এত অল্প দূরত্বে যানটির স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, সঠিক অবস্থান নির্ণয়, অত্যন্ত কম বিলম্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নির্ভুলভাবে মোটর নিয়ন্ত্রণের মতো প্রযুক্তিগত সমস্যাও সমাধান করতে হয়েছে গবেষকদের।
এই পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে দ্রুত ব্রেকিং। ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছানোর পর যানটিকে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ট্র্যাকের শেষ হওয়ার আগেই নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে থামানো হয়েছে।
ইস্ট লেক ল্যাবরেটরির জন্য এটিই প্রথম গতির রেকর্ড নয়। একই গবেষণা দল ২০২৫ সালের জুনে পরীক্ষামূলক যানকে ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার এবং জুলাইয়ে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতিতে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর ৮০০ কিলোমিটারের মাইলফলক স্পর্শ করে তারা নিজেদের আগের রেকর্ডও ভেঙেছে।
গবেষণাটির লক্ষ্য শুধু দ্রুতগতির ট্রেন তৈরি নয়। এক হাজার মিটারের এই পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতের ম্যাগলেভ পরিবহন ব্যবস্থা, অ্যারোস্পেস ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক লঞ্চ এবং অন্যান্য উচ্চগতির প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
চীন একই সময়ে যাত্রী পরিবহনের জন্য আলাদাভাবে সিআর৪৫০ হাইস্পিড ট্রেনও পরীক্ষা করছে। সেই ট্রেন পরীক্ষায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫৩ কিলোমিটার গতি অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার বাণিজ্যিক গতিতে চালানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
সিআর৪৫০ এবং ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতির এই ম্যাগলেভ পরীক্ষাকে তাই এক করে দেখা যাবে না। সিআর৪৫০ পূর্ণাঙ্গ যাত্রীবাহী হাইস্পিড ট্রেন হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ৮০০ কিলোমিটার গতির রেকর্ডটি একটি বিশেষ পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ মডেল ভেহিকলের।
ইস্ট লেক ল্যাবরেটরির এই পরীক্ষা দেখিয়েছে, অত্যন্ত সীমিত দূরত্বের মধ্যেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভারী যানকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অস্বাভাবিক উচ্চগতিতে নিয়ে গিয়ে আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে থামানো সম্ভব। এই প্রযুক্তি সরাসরি যাত্রী পরিবহনে কবে ব্যবহার করা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ভবিষ্যতের অতিদ্রুত পরিবহন ও অ্যারোস্পেস প্রযুক্তির গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreফিলিপাইনে এক নারী যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ই-ট্যাক্সিচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স আজীবনের জন্য বাতিল করেছে দেশটির ল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অফিস বা এলটিও। ফলে ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতের। অভিযোগকারী নারী জানান, ট্যাক্সিতে যাত্রার সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। নির্ধারিত গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে চালক তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে যৌন নিপীড়ন করেন বলে তার অভিযোগ। এলটিওর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের তদন্ত ও শুনানিতে চালক স্বীকার করেন, ১২ সেপ্টেম্বর রাত প্রায় ৩টার সময় তিনিই ওই ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। শপথনামায় গাড়ির ভেতরে যৌন কার্যকলাপ হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে এই স্বীকারোক্তি নিজে থেকেই অভিযোগকারী নারীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ফৌজদারি সত্যতা নির্ধারণ করে না। তদন্ত শেষে এলটিও তাকে মোটরযান চালানোর জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর তার লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে অভিযোগ সামনে আসার পর চালক ও ট্যাক্সিটির অপারেটরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল এলটিও। চালকের লাইসেন্স ৯০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করে তদন্ত চলাকালে সেটি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। ট্যাক্সিটির অপারেটরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলটিও জানিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজির শর্ত লঙ্ঘন এবং অসৌজন্যমূলক চালক নিয়োগের দায় পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িটিও এখনো এলটিওর ‘অ্যালার্ম স্ট্যাটাসে’ রয়েছে। এলটিও প্রধান মার্কুস লাকানিলাও বলেছেন, যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। সড়কে কোনো ধরনের নির্যাতন বা অপব্যবহার সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। ঘটনাটি প্রথম সামনে আসার পর তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং যাত্রীর বুকিংয়ের তথ্য ব্যবহার করে চালকের পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন বলে ফিলিপাইন স্টার জানিয়েছে।
চকলেট দেয়ার কথা বলে অফিসের সব কর্মীকে চমকে দিয়ে আইফোন উপহার বসের
নামাজের কাতারে অপ্রত্যাশিত দুই অতিথি, শান্তভাবেই সামলালেন মুসল্লিরা
গাজার শিশুদের জন্য এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করল দুবাই
মিসরে ছয় সপ্তাহ ধরে আটক ব্রিটিশ নাগরিক ইমান এল-শাজলির মুক্তিতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁর স্বামী জিশার্ন মোস্তফা। চার সন্তানের মা ৪৫ বছর বয়সী ইমান অসুস্থ মাকে দেখতে কায়রো গিয়েছিলেন। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে আটক করে। ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোস্তফা বলেন, মাকে ছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে হয়েছে তাঁদের সন্তানদের। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিবারটির আশঙ্কা, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইমানের বোন মোনা এল-শাজলির সরকারবিরোধী বক্তব্যের কারণে ইমানকে আটক রাখা হয়েছে। এটি পরিবারের অভিযোগ; আটকের কারণ হিসেবে তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইমানের স্বামীর আইনজীবী আরফান রশিদ জানান, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁদের জানিয়েছে, মিসরীয় কর্তৃপক্ষ ইমানের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান ও অর্থায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং বিক্ষোভে আহ্বানের অভিযোগ এনেছে। ইমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবীর দাবি, মিসরে তাঁর আইনজীবী অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি। মিসরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌঁসুলির কার্যালয় আগস্টে তদন্ত চলাকালে ইমানকে ১৫ দিনের জন্য হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রিডম অব থট অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। একই মামলায় তাঁর দুই ভাইও আটক আছেন। গ্রেপ্তার বা তদন্তাধীন থাকা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমান নয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছে, মিসরে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারকে তারা সহায়তা করছে এবং মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইমানের স্বামী চান, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হোক।
ছেলেকে হারানোর পর ২২ বছরের সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ৫৪ বছরের নারী
যুক্তরাজ্যে ইউএস বোমারু বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার ৫
‘মানুষ ডলারের হিসাব দেখে, দূর প্রবাস জীবনের ত্যাগ দেখে না’: বাবা-মায়ের স্মৃতিতে আবেগি ভারতীয় নারী
শৈশবে পরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়া, পড়াশোনার খরচ চালাতে বারে নাচ এবং যৌনকর্মীর কাজ - কঠিন পথ পেরিয়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিচিতি পেয়েছেন ভারতের রূপান্তরকামী মডেল নাজ জোশী। ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তত দিনে সাতটি আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছিলেন তিনি। তবে সেই স্বীকৃতির পরও স্থায়ী আয়ের অনিশ্চয়তা কাটেনি। ২০২১ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নাজ ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে পোশাক নকশায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। নিজের ব্যাচে শীর্ষ স্থানও অর্জন করেন। পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁকে বারে নাচতে এবং যৌনকর্মীর কাজ করতে হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় তাঁর মেয়েলি আচরণ মেনে নিতে পারেননি বাবা-মা। প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তাঁকে মুম্বাইয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই বেড়ে ওঠেন নাজ। নিজের খরচ নিজে জোগাড় করলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছাড়েননি। শুরুতে মডেল হওয়ার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। পেশা হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন পোশাক নকশা। পরে ২০১২ সালে মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে কাজ শুরু করেন এবং ২০১৪ সালে প্রথম সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। নাজ ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার মিস ওয়ার্ল্ড ডাইভারসিটি খেতাব জেতেন। এরপর ২০২০ সালে অর্জন করেন মিস ইউনিভার্স ডাইভারসিটি খেতাব। ২০২১ সালে তাঁর সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হয় এমপ্রেস আর্থের মুকুট। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সমসাময়িক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমপ্রেস আর্থ প্রতিযোগিতাটি অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সঙ্গে আর্থিক নিশ্চয়তা আসেনি। ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও একাধিক খেতাব থাকা সত্ত্বেও তখন স্থায়ী চাকরি পাননি নাজ। তাঁর সেই সময়ের জীবনের গল্পে তাই সাফল্যের পাশাপাশি উঠে আসে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও।
মাকে ফোনে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, কয়েক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, প্রেমিক গ্রে প্তা র
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের