সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

মেয়েদের পড়াতে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ, স্কুলের বাইরে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা আফগান বাবার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১১:৫৫
মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও বাইরে অপেক্ষা করা আফগান বাবা মিয়া খান। ছবি: সংগৃহীত
মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও বাইরে অপেক্ষা করা আফগান বাবা মিয়া খান। ছবি: সংগৃহীত

নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। পড়তে বা লিখতেও জানতেন না। তবু নিজের মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের দিনমজুর মিয়া খান। তিন মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ি ফিরে যেতেন না তিনি। ক্লাস শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা স্কুলের বাইরেই অপেক্ষা করতেন।

 

ঘটনাটি ২০১৯ সালের। পাকতিকার শারানা এলাকার বাসিন্দা মিয়া খানের এই গল্প সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ভয়েস অব আমেরিকা, আরব নিউজ ও আফগান সংবাদমাধ্যম পাজওকসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তার মেয়েদের শিক্ষিত করার এই সংগ্রামের কথা প্রকাশ করে।

 

মিয়া খানের তিন মেয়ে পড়াশোনা করত নূরানিয়া স্কুলে। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ কিলোমিটার। মেয়েদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে তিনি একটি মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। প্রতিদিন সকালে তাদের নিয়ে স্কুলে যেতেন এবং ক্লাস শেষ হলে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতেন।

 

তবে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াই ছিল না তার সবচেয়ে বড় ত্যাগ। মেয়েদের স্কুলে রেখে নিজের কাজে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে প্রায় চার ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করতেন তিনি। মেয়েদের ক্লাস শেষ হলে তাদের সঙ্গে নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হতেন।

 

মিয়া খান তখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। নিজের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করতে চাননি তিনি। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুজন তখন সপ্তম শ্রেণিতে এবং একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিল বলে ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

মেয়েদের পড়াশোনা করানোর পেছনে মিয়া খানের ছিল আরও একটি বড় স্বপ্ন। তার এলাকায় নারী চিকিৎসকের সংকট ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, তার মেয়েরা লেখাপড়া শিখে একদিন চিকিৎসক হবে এবং এলাকার মানুষের, বিশেষ করে নারীদের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসবে।

 

তার এক মেয়ে রোজাইও বাবার সেই স্বপ্নকে ধারণ করেছিল। ২০১৯ সালে আরব নিউজকে মিয়া খান জানিয়েছিলেন, মেয়েকে শারানা এলাকার প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান তিনি।

 

মিয়া খানের এই চেষ্টা কয়েক দিনের ছিল না। বছরের পর বছর তিনি কখনো হেঁটে, কখনো মোটরসাইকেলে মেয়েদের দূরের স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন। তার গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তানের তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে কাবুলে আমন্ত্রণ জানায় এবং সম্মাননা দেয়। একই সঙ্গে তার গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

 

একজন নিরক্ষর ও স্বল্প আয়ের বাবার নিজের না পাওয়া শিক্ষার সুযোগ মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়ার এই গল্প তাই শুধু প্রতিদিনের ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ঘটনা নয়। মিয়া খানের কাছে সেই পথ ছিল তার মেয়েদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্নের পথ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
চীন-পাকিস্তানের সেনা অংশ নেওয়া রুশ মহড়া ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদল
চীন-পাকিস্তানের সেনা অংশ নেওয়া রুশ মহড়া ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদলসহ পর্যবেক্ষণ করলেন পুতিন

রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা অঞ্চলে চীন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সেনাদের অংশগ্রহণে চলা সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলের চেবারকুলস্কি প্রশিক্ষণ মাঠে ‘সেন্টার-২০২৬’ মহড়ার শেষ পর্যায় দেখেন তিনি।   পুতিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো মহড়ায় প্রায় ৪৭ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। রাশিয়ার ১১টি প্রশিক্ষণ মাঠ ও কাস্পিয়ান সাগরে আক্রমণ প্রতিহত করার অনুশীলন চলছে। তবে ৪৭ হাজার সেনা চেবারকুলস্কির মাঠে ছিলেন না; সেখানে শুক্রবারের শেষ পর্যায়ে অংশ নেন রাশিয়া ও অন্য দেশগুলোর প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য।    রুশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় চীন, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের সেনারাও অংশ নিয়েছেন। পুতিন জানিয়েছেন, ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিতি আর মহড়ায় সেনা পাঠানো পৃথক বিষয়।    ‘সেন্টার-২০২৬’-এর সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত নিরাপত্তা জোটের ‘ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৬’ মহড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়া শুরু হয়েছে সোমবার; শনিবার পর্যন্ত চলার কথা।    প্রশিক্ষণ মাঠ পরিদর্শনের সময় পুতিন বিভিন্ন অস্ত্রও দেখেন। এর মধ্যে ছিল ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত নতুন জেটচালিত ‘গেরান’ ড্রোন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৯:৪২
চীনের অভিযানে চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’

চীনের অভিযানে চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’

প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।

মাদুরোকে ধরার আগে এআইয়ের সহযোগীতা নিলেন ট্রাম্প, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁস!

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের মোবাইলের গ্রাহক ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা। ছবি

চীনের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, ছয় মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার

ভারতীয় ব্যবসায়ী
চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডাকছেন ৭৭ বছরের ভারতীয় ব্যবসায়ী, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর কাণ্ড

ভারতের ৭৭ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যবসার পরিকল্পনার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারী চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই আচরণের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা ভিবিআর প্রসাদ নামের ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় নিজের মুঠোফোনে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি মূলত উল্লম্ব কৃষিভিত্তিক একটি ব্যবসা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিচ্ছিলেন।   ওই উড়োজাহাজে তাঁর পাশের আসনে বসা এক তরুণ যাত্রী বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তিনি দেখতে পান, বয়সে প্রবীণ ওই ব্যক্তি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে মুঠোফোনে বিভিন্ন তথ্য লিখছেন এবং চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথন করছেন।   তরুণ যাত্রীর সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে একটি বিষয়। তিনি লক্ষ্য করেন, প্রসাদ চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছেন। প্রযুক্তির একটি যান্ত্রিক সহকারীকে এভাবে সম্মান দেখানোর বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ মজার ও ব্যতিক্রমী মনে হয়।   পরে ওই যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তাঁর প্রকাশ করা ছবির সঙ্গে প্রসাদের চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশও সামনে আসে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রকাশিত কথোপকথনে দেখা যায়, প্রসাদ চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে তাঁর ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছিলেন। তিনি ভবিষ্যতে আবার ফিরে এসে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করার কথাও জানান। কথোপকথনের সময় তিনি চ্যাটজিপিটিকে একাধিকবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই তাঁর আচরণকে প্রশংসার চোখে দেখেছেন। তাঁদের মতে, ৭৭ বছর বয়সেও নতুন প্রযুক্তি শেখার আগ্রহ এবং নতুন ব্যবসা শুরু করার মানসিকতা প্রশংসনীয়।   অনেকে আবার বিষয়টি নিয়ে মজার মন্তব্যও করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে চ্যাটজিপিটিকে আগে থেকেই সম্মান দেখিয়ে চলা হয়তো কাজে লাগতে পারে। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের রসিকতা।   এই ঘটনার মাধ্যমে প্রবীণ মানুষের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাধারণত নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সম্পর্ক বেশি বলে মনে করা হলেও প্রসাদের ঘটনা দেখাচ্ছে, শেখার আগ্রহ থাকলে বয়স কোনো বড় বাধা নয়।   প্রসাদ যে ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন, সেটি হলো উল্লম্ব কৃষি। এই পদ্ধতিতে সীমিত জায়গার মধ্যে বিভিন্ন স্তরে ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কম জায়গায় কৃষিকাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগ্রহ বাড়ছে।   প্রসাদ তাঁর ব্যবসার পরিকল্পনা সাজাতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছিলেন। তিনি ব্যবসার কাঠামো, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই তরুণ যাত্রী আবার প্রসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ছবি ও ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রসাদও আনন্দ প্রকাশ করেন।   তবে ঘটনাটি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে কারও অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে কয়েকজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, ঘটনাটি প্রবীণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।   নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারীকে বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করা ৭৭ বছর বয়সী ভিবিআর প্রসাদ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত। তাঁর ঘটনা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে প্রবীণ প্রজন্মের সম্পর্ক এবং বয়সের পরেও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৪৭
চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু

চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু, চলছে তদন্ত

তথ্য গোপন ও পেশাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের ঘটনায় বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ

পেশাগত অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি ও তথ্য গোপনের দায়ে বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিল

কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নিহতের দাবি চ্যালেঞ্জ, সাবেক সেনাকে সংবাদ সম্মেলনে আনল পাকিস্তান

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থীর বিশাল বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিলির জাতীয় পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে সরকারি শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ কমানোর আশঙ্কার প্রতিবাদে। দেশটির প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কাস্তে তার প্রশাসনের প্রথম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের মাত্র এক দিন পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। ফলে নতুন সরকারের শিক্ষা নীতি ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ প্রকাশ্যে আসে।   কাস্তে মার্চে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সংকোচনভিত্তিক কর্মসূচির কথা জানান। বুধবার তিনি বলেন, ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুরক্ষিত রাখা হবে। এর আগে এই কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তবে শিক্ষার্থী নেতারা মনে করছেন, শুধু বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহাল রাখাই যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক অর্থায়নই এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   বৃহস্পতিবার সান্তিয়াগোর প্লাজা ইতালিয়ায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সেখান থেকে তারা লা আলামেডা সড়ক ধরে লা মোনেদা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। মিছিলটি প্রায় ৮০০ মিটার যাওয়ার পর চিলির জাতীয় পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।   পুলিশের এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও কাঠের লাঠি ছোড়েন। এর ফলে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   বিক্ষোভের মধ্যেই পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের কাছেও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে মুখোশ পরা একটি ছোট দল সরকারপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভে হামলা চালায়। ওই পাল্টা কর্মসূচিতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। ব্যানারে লেখা ছিল, তারা অচল চিলি চান না, বরং এমন একটি চিলি চান, যা সমৃদ্ধ হবে।   পরে প্রেসের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট কাস্তে তার রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি ওই ঘটনার সমালোচনা করেন। একই সময়ে শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   চিলি সরকার এখনও ২০২৭ সালের পুরো আর্থিক প্যাকেজের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া বাজেটে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁটের প্রস্তাবের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি দেওয়া অর্থ কমানোর বিষয়টিও রয়েছে।   এই সম্ভাব্য অর্থ কমানোর বিষয়টিই শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট কাস্তে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো শিক্ষা খাতের অন্যান্য অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থায়ন কমে গেলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।   বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বাজেট বিল পুরোপুরি কংগ্রেসে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হলে নতুন করে আন্দোলনে নামবে। ফলে বাজেট প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দ এবং বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ১:৫১
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে ড্রোন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক

মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

0 Comments