- প্রচ্ছদ
- Topic
আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে বড় একটি পরিবার সামলাচ্ছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। অর্থের অভাবে কোনো কোনো শিশুকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। পরিবারের সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করাই এখন তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদিকের পক্ষে সব সন্তানের নাম মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে বসে কখনো কখনো সন্তানদের গুনে দেখতে হয়, কেউ বাড়িতে আছে কি না। দীর্ঘ সময়ে তার পরিবার ১৪ সন্তানকে হারিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশাল পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি বিক্রি করতে পারলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই আয় দিয়ে এতজনের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন। সংসারের খরচ জোগাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজে নেমেছে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনও বেশ কষ্টের। সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার রান্না হয়, আর রান্নার দায়িত্ব পালন করেন দুই স্ত্রী। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খেতে বসেন, গরমের সময়ে জড়ো হন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বাড়িটির অপ্রতুল ব্যবস্থাপনার কথাও উঠে এসেছে। ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার বদলে কোথাও কোথাও পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়; কখনো সেটিকে শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করতে হয়। এমন পরিবেশে পরিবারের সবার জন্য পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন। এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান সাদিক। তবে শিক্ষার খরচ বহন করা তার পরিবারের জন্য বড় বাধা। তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সাদিক এখন সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছেন, যাতে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার সুযোগও নিশ্চিত করা যায়। সাদিকের ভাষ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি বড় পরিবার গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সন্তানদের নাম মনে রাখা ও তাদের দেখাশোনা করা যে কঠিন, তা-ও স্বীকার করেছেন তিনি। একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে এক মেয়ের বদলে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন। অনেক সময় সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের জন্য নির্ধারিত অর্থ জোগাড় করতে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে। সাদিকের পরিবারের পরিস্থিতি অল্প বয়সে বিয়ে, কৈশোরে গর্ভধারণ এবং ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। কৈশোরে গর্ভধারণ মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরপর গর্ভধারণের ফলে শারীরিক জটিলতার আশঙ্কাও বাড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায় না। এখন সাদিকের প্রধান চাওয়া, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা। সীমিত আয় ও বড় পরিবারের দায়িত্বের মধ্যে তিনি আর্থিক সহায়তাকেই এই সংকট সামাল দেওয়ার অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখছেন। সূত্র: বিবিসি, খামা প্রেস।
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান। এত বড় পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। নিজের সব সন্তানের নামও সব সময় মনে রাখতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সাদিক। বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে প্রকাশিত সংবাদে তাঁর পরিবারের এই জীবনসংগ্রামের কথা উঠে এসেছে। ৫৭ বছর বয়সী সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে প্রায় এক হাজার আফগানি পান। সেই আয়ে পরিবারের সবার প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না। কখনো কখনো সন্তানদের না খেয়েও ঘুমাতে হয়। অনেকের জন্য জুতা কেনার সামর্থ্য না থাকায় তারা খালি পায়ে চলাফেরা করে। সন্তানদের নাম মনে রাখার অসুবিধার কথা বলতে গিয়ে সাদিক জানান, অনেক সময় নামের বদলে ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন। এক মেয়ের বিয়ের সময় ভুল করে অন্য মেয়ের নাম বলেছিলেন বলেও জানান তিনি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাবার খাওয়ার সময় কখনো সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই উপস্থিত আছে কি না। পরিবারটির বাসস্থানে মৌলিক সুযোগসুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। ঘরগুলোতে যথাযথ দরজা ও জানালা নেই। কিছু জায়গায় দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। জ্বালানির অভাবে রান্নার আগুন ধরাতে কাগজ ব্যবহার করতে হয়। ঘুমানোর সময় কখনো ছয় থেকে সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগ করে নিতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের প্রয়োজনে কয়েকজন সন্তানও কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। সাদিকের দাবি, তিনি সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু অর্থের অভাব সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, সহায়তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এত কঠিন হবে জানলে এত বেশি সন্তান নিতেন না বলে স্বীকার করেছেন সাদিক। সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর পরিবারের গল্পে বড় সংসারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি খাবার, নিরাপদ বাসস্থান ও শিক্ষার অভাবই সামনে এসেছে।
৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর রয়েছে চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা থেকেই এত বড় পরিবার গড়ে তুলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যদের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে গিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর। সাদিকের পরিবারের প্রতিদিনের খরচ মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। সেখানে প্রতিটি গাড়ি বিক্রি হলে প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। কিন্তু এই সামান্য আয় দিয়ে এত মানুষের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো কখনো পরিবারের শিশুরা খালি পেটেই ঘুমাতে যায়। পরিবারের কিছু সন্তান জ্বালানি জোগাড়ের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। ঘরে খাবারের সংকট থাকায় পরিবারটি সাধারণত দিনে দুই বেলা খেয়ে থাকে। সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের পর বছর নানা কারণে তাঁর ১৪ সন্তান মা রা গেছে। এত বড় পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তাঁকে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরিবারটির বসবাসের ব্যবস্থাও খুবই সীমিত। ঘরে প্রয়োজনীয় আসবাব ও আরামদায়ক বিছানার অভাব রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অনেককে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে ঘুমাতে হয়। আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থাও করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে তারা কীভাবে নিজেদের জীবন গড়ে তুলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সাদিকের। নিজের এত বড় পরিবারের কথা বলতে গিয়ে সাদিক জানান, সন্তানদের সবার নামও তাঁর সব সময় মনে থাকে না। একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি নিজের মেয়েদের নাম নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন। তিনি নিজেও নিরক্ষর। ফলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০ বছর বয়সে। তাঁর চার স্ত্রীর প্রত্যেকের বিয়ের সময় বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। অল্প বয়সে বিয়ে এবং ধারাবাহিক গর্ভধারণের বিষয়টি আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অধিকার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কথা সামনে আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিয়ে ও অল্প বয়সে মাতৃত্ব নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও শিক্ষার সুযোগ না থাকলে মা ও শিশু—দুজনেরই ঝুঁকি বাড়ে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দারিদ্র্য এবং প্রয়োজনীয় সেবার অভাব এসব সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। সাদিকের পরিবারের পরিস্থিতি সেই বৃহত্তর সংকটেরই একটি উদাহরণ। পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হওয়ায় খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে। তাঁর আয় পরিবারের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা, কেউ এগিয়ে এলে সন্তানদের অন্তত খাবার ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা সহজ হবে। পরিবারের জন্য স্থিতিশীল জীবনের সুযোগ তৈরি করাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চাওয়া।
আফগানিস্তানের ছোট্ট শিশু মুরতাজা আহমাদির কথা ফুটবল ভক্তদের নিশ্চয়ই মনে আছে। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির একটি আসল জার্সি কেনা তার জন্য ছিল শুধুই স্বপ্ন। কিন্তু দারিদ্র্য তার ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারেনি। বড় ভাইয়ের সহায়তায় নীল-সাদা ডোরাকাটা একটি পলিথিনের ব্যাগ কেটে সে বানিয়ে নেয় প্রিয় তারকার জার্সি। এরপর মার্কার কলম দিয়ে তাতে পরম যত্নে লিখে দেয় ‘MESSI’ এবং আইকনিক ১০ নম্বর। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পলিথিনের সেই জার্সি গায়ে মুরতাজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে। ক্ষুদে এই ভক্তের নিখাদ ভালোবাসা নজর এড়ায়নি স্বয়ং লিওনেল মেসিরও। শিশুটির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানিয়ে তিনি নিজের স্বাক্ষর করা দুটি জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার হিসেবে পাঠান। স্বপ্ন পূরণের গল্প এখানেই শেষ হয়নি; ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কাতারের দোহায় প্রিয় তারকার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অভাবনীয় সুযোগও পেয়ে যায় ছোট্ট মুরতাজা। মেসির কোলে চড়ে মাঠে প্রবেশ করার সেই আবেগঘন মুহূর্তটি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে। তবে মুদ্রার উল্টোপিঠের মতো এই আকস্মিক খ্যাতির একটি বিষাদময় পরিণতিও ছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর আফগানিস্তানের তৎকালীন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে মুরতাজার পরিবার। অপহরণ ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাদের।
আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশে দীর্ঘ খরা, ফসলহানি ও চরম দারিদ্র্যের কারণে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। খাবার কেনা, পুরোনো ঋণ শোধ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের চিকিৎসার খরচ জোগাতে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। এমনকি আট থেকে দশ বছর বয়সী অনেক শিশুর বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ও তীব্র খরা, জীবিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাদগিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাওয়ে বসবাসকারী ১১ বছর বয়সী খাতিরার জীবন সেই সংকটের একটি উদাহরণ। পরিবারের ঋণ শোধ করতে তাকে বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে খাতিরা আগের মতো বাইরে যায় না। তার মা নূর বিবি জানান, মেয়েটি এখন প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকে ও কাঁদে। হবু স্বামী বাড়িতে এলে খাতিরা তার সামনে পড়তে চায় না। মায়ের ভাষ্য, আগে মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্তের পর তার আচরণে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়েছে। বাদগিসের মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। প্রদেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি এবং পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বছরের পর বছর খরায় জমিতে ফসল হচ্ছে না, পশুর জন্য ঘাস ও খাবার মিলছে না। অনেক পরিবার ঋণ করে চাষাবাদ চালানোর পর ফসল না পেয়ে আরও বিপাকে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে হাজারো মানুষ নিজেদের গ্রাম ছেড়ে কালা-ই-নাওয়ের মতো শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে কাজের আশায় এলেও অনেকে নিয়মিত আয় বা পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না। এমনই এক পরিবারে দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ের বিয়ের কথাও ঠিক করা হয়েছে। তাদের মা গুল বোবো বলেন, মেয়েরা বিয়ের জন্য অনেক ছোট, তা তিনি জানেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর স্বামী আগে অন্যের জমিতে চাষ করতেন। বীজ কেনা এবং ট্রাক্টর বা গাধা ভাড়া করে জমি চাষের খরচ জোগাতে তাঁকে ধার করতে হতো। খরায় ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুল বোবো আশঙ্কা করেন, মেয়েরা বড় হয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কিন্তু দরিদ্রতার চাপে তাঁদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি। পরিবারের ঋণ পরিশোধে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা বাদগিসের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। ১১ বছর বয়সী গুলালাইয়ের বাবা-মা এক দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণ শোধ করতে মেয়েটির বিয়ে ঠিক করা হয় চল্লিশের কোঠায় থাকা ওই দোকানির সঙ্গে। গুলালাইয়ের বাবা নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মেয়েদের অন্তত ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিতেন না। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের একজনকে এভাবে ত্যাগ করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের পরিবার এখন ঘরে তৈরি রুটি, চা এবং মাঠ থেকে সংগ্রহ করা বুনো শাকপাতা খেয়েই দিন কাটায়। খরার কারণে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশুও হারিয়েছেন বহু পরিবার। বাদগিসের পশুর বাজারে এমন অনেক মানুষকে দেখা যায়, যাঁরা পশুখাদ্য কেনার সামর্থ্য না থাকায় নিজেদের মূল্যবান গরু বিক্রি করছেন। কোনো কোনো গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালে প্রদেশটিতে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে আবারও ধারাবাহিক খরায় ফসল নষ্ট ও গবাদিপশুর খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হেরাত শহরের শারাক-ই-সাবজ বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস হলেও মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট কাটছে না। হেরাতের ওই শিবিরে বসবাসকারী ১৫ বছর বয়সী দারেল্লাহ এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর স্বামী মোল্লার বয়স ৩০ বছর। ২০১৮ সালে খরার কারণে তাঁদের পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে আসে। দারেল্লাহ বলেন, এত অল্প বয়সে বিয়ে করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তিনি নিজেকে এখনো শিশু মনে করেন এবং এই বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভালো বলে মনে করেন না। তাঁর ১১ ও নয় বছর বয়সী দুই বোনকেও বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দুর্দশার মধ্যে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেশী বাবা খাবার ও সংসার চালানোর অর্থ জোগাড় করতে না পেরে নিজের ১০ বছর বয়সী ছেলের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুবধূদের জীবনে বিয়ের পরও সংকট শেষ হয় না। অনেককে অল্প বয়সেই স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রান্না, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্য দায়িত্ব সামলাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এসব কাজ করতে না পারলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়ঃসন্ধির পরপরই সন্তান নেওয়ার চাপও তৈরি হয়, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আফগানিস্তানে মাতৃমৃত্যুর হার বিশ্বের উচ্চতমগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অল্পবয়সী মায়েদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বাদগিসের খোশকিয়ানে এক কৃষকের টানা আট বছরের মধ্যে সাতবার গমের ফলন নষ্ট হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে মাজরির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বা ১৩ বছর বয়সে। এখন তাঁর বয়স ১৬ বা ১৭ বছর; স্বামীর বয়স চল্লিশের কোঠায়। তাঁর দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি আরেকটি সন্তান জন্মেছে। মাজরি বলেন, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে রান্নাও করতে পারতেন না। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। তাঁর ছোট বোনেরা এখনো বাড়িতে থাকলেও তাঁদের বিয়ের জন্য অর্থের ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষা চলছে। চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবারের কাছে মেয়ের বিয়ের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও বিয়ের অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। পুরো অর্থ দেওয়া হলে মেয়েকে স্বামীর পরিবারের কাছে পাঠানোর দাবি জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির শুরুতেই। ১৪ বছর বয়সী ববি সামিয়ার বিয়ের দিনও সেই বাস্তবতা দেখা যায়। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামিয়া বলেন, তিনি খুশি নন, কারণ তিনি এখনো অনেক ছোট। পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে মেয়েটিকে বিয়েতে যেতে হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যে শিশু ও নারীদের সহায়তার জন্য কাজ করা কর্মসূচিগুলোও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনালের আফগানিস্তানবিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক মার্ক ক্যালডার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অথচ তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্লিনিকগুলোও সহায়তা কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১২ বছর বয়সী আয়েশার মতো কিছু মেয়ে এখনো স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবারের ঋণ শোধের জন্য ঠিক করা বিয়ের অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে তাদের স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হবে। তার মা চেষ্টা করছেন, যত দিন সম্ভব মেয়েকে স্কুলে রাখতে এবং বিয়ের বাকি অর্থ চেয়ে তাগাদা না দিতে, যাতে মেয়েকে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে না হয়। দীর্ঘ খরা ও ফসলহানির সঙ্গে দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি মিলিয়ে আফগানিস্তানের বহু পরিবারকে এমন সিদ্ধান্তের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মেয়েদের বিয়েতে রাজি হওয়াকে অনেকে বাধ্যতামূলক ত্যাগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানো এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আফগানিস্তানে বারবার খরা, পানির সংকট ও খাদ্যাভাব দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। জীবিকা হারানো কিছু পরিবার সংসারের খাবার ও ঋণের অর্থ জোগাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, পানি ও খাবারের ঘাটতি পরিবারগুলোকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১৫ অক্টোবর গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঋণ শোধে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ১১ বছরের খাতিরা উদ্বেগে কাঁদে। মানবিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃপুন খরা, দীর্ঘ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আফগানিস্তানের খাদ্যসংকটকে জটিল করেছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতাও তাঁদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বাল্যবিয়ে, কিশোরী মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, আফগানিস্তানের ২০২২-২৩ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে। কিছু এলাকায় এই হার প্রতি দুজনের একজন পর্যন্ত ছিল। এটি ওই জরিপের তথ্য, চলতি বছরের নতুন বাল্যবিয়ের হিসাব নয়। ইউনিসেফের আফগানিস্তান প্রতিনিধি তাজুদ্দিন ওয়েওয়ালে বলেন, বাল্যবিয়ে মেয়েদের পড়াশোনায় ছেদ ঘটায় এবং ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিত করে। একই সঙ্গে সহিংসতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি বাড়ায়। সংস্থাটি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থসংকট সামলাতে কাউকে বাল্যবিয়ের আশ্রয় নিতে না হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর কিশোরীদের জন্য স্কুল খুলে দিতেও আফগানিস্তানের কার্যত শাসনকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
'বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের' অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এফএম রেডিও কেন্দ্র থেকে বিবিসির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার। দেশটির তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেশজুড়ে বিবিসি রেডিওর কার্যক্রম স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছেন। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার পর এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের লাখো মানুষ নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের জন্য তাদের ওপর নির্ভর করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে তারা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে এফএম সম্প্রচার বন্ধ থাকলেও পশতু, দারি ও ইংরেজি ভাষায় নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমানে শর্টওয়েভ, মিডিয়াম ওয়েভ, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আফগান শ্রোতাদের জন্য তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে। বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষ প্রতি সপ্তাহে তাদের সংবাদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান শুনে থাকেন। এসব আয়োজনের মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত আফগান মেয়েদের জন্য বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও রয়েছে। ১৯৮১ সালে দেশটিতে কার্যক্রম শুরু করা বিবিসিই ছিল আফগানিস্তানে সম্প্রচার চালানো একমাত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানের গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রচারে যেকোনো ধরনের সংগীত নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পর্দায় নারীদের উপস্থিতিও চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে; বর্তমানে নারী ও পুরুষ সংবাদকর্মীদের একসঙ্গে কোনো সংবাদ বা অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। বিদ্যুৎ সংকট, ইন্টারনেটের চড়া মূল্য এবং স্বল্প সাক্ষরতার হারের কারণে দেশটিতে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে রেডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি। অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি। দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়।
নিউইয়র্কে আফগান নারীদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে গলায় হাত চালানোর ভঙ্গি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হওয়া ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান নারী সাংবাদিক আসিফকে প্রশ্ন করেন, আফগান নারীদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধিনিষেধ পরিবর্তনে পাকিস্তানের বার্তা কী। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকার সময় ইসলামাবাদ কেন এসব নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, সেটিও জানতে চান তিনি। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আসিফ সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করেন। এরপর তাঁকে ওই পোশাকে আফগানিস্তানে ফিরে না যাওয়ার কথা বলতে বলতে গলার ওপর হাত চালানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য অসম্পূর্ণ শোনা গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এই অঙ্গভঙ্গিকে সহিং সতার ইঙ্গিত বা হু মকির মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকেরা বলেন, আফগান নারীদের অধিকার ও তালেবানের নীতি নিয়ে করা গুরুতর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করা এবং এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা অনুপযুক্ত। ভিডিওতে কথোপকথনের পর আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার সময় আসিফ আফগানদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পাকিস্তানের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আফগানিস্তানকে ভালো প্রতিবেশী নয় বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। ঘটনাটি ২৭ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়লে খাজা আসিফের বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ভিডিওতে করা অঙ্গভঙ্গির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও, একাধিক সংবাদমাধ্যম এটিকে সাংবাদিকের প্রতি হু মকি-সদৃশ অঙ্গভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
শরণার্থীদের জন্য স্থগিত থাকা ‘ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিমে’ নতুন সুপারিশ গ্রহণ আবার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে সুপারিশ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবেন আফগান নারী ও বালিকা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের সঙ্গে অংশীদারত্বে তাঁদের শনাক্ত ও সুপারিশ করা হবে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন সুপারিশ গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং এ পথে প্রথম শরণার্থীদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কথা। ‘এক-চতুর্থাংশ’ হলো সুপারিশের প্রত্যাশিত অনুপাত; ইতিমধ্যে পৌঁছানো শরণার্থীদের হিসাব নয়। এই পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি তিনটি নতুন স্পন্সরশিপ পথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো কমিউনিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্পন্সরশিপের জন্য আবেদন করতে পারবে। এসব পথে শরণার্থীদের প্রথম আগমন প্রত্যাশিত ২০২৭ সালের শরতে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্পন্সরশিপের আবেদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের বসন্তে; এর প্রথম আগমনও ওই বছরের পরের দিকে হতে পারে। স্পন্সরদের আবাসন ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সহায়তা দিতে হবে। সরকার বলছে, পুনর্বাসন ও নতুন তিনটি স্পন্সরশিপ পথ মিলিয়ে শুরুতে কয়েক শ শরণার্থী আসতে পারেন। পরে অনিয়মিত অভিবাসন কমার সঙ্গে সংখ্যা কয়েক হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবছর একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হবে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসব পথে আসা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য পাঁচ বছরের পথ দেওয়া হবে। শাবানা মাহমুদের বক্তব্য, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালানো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার কমাতে সরকার নিয়ন্ত্রিত আইনি পথ রাখতে চায়। তবে নতুন কর্মসূচির আকার এত ছোট হলে তা নৌকায় আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসন গবেষকেরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত কতজনকে নেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করবে। রিফিউজি কাউন্সিল নতুন নিরাপদ পথ তৈরির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রধান নীতিবিশ্লেষক জন ফিটনবির মতে, মানবপাচারকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে হলে কয়েক শ নয়, হাজার হাজার মানুষের জন্য এসব পথ চালু করতে হবে। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নতুন পথ চালুর সমালোচনা করেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রস পৃথকভাবে শরণার্থীদের পারিবারিক পুনর্মিলনের পথ কবে আবার চালু হবে, তা জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পুনর্বাসনের এই ঘোষণা যুক্তরাজ্যে যেতে ইচ্ছুক সবার জন্য সরাসরি আবেদনের সুযোগ নয়। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নিজের আবেদন করার ব্যবস্থা নেই; সুরক্ষার প্রয়োজন বিচার করে সংস্থাটি শরণার্থী শনাক্ত ও সুপারিশ করে, আর গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ অর্থ চাইলে তা-ও সতর্কতার বিষয়, কারণ এই প্রক্রিয়া শরণার্থীর জন্য বিনামূল্যে।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সোমবার ভোরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও আফগান তালেবানের মধ্যে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনজুড়ে সংঘর্ষও বেড়েছে। কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টার দিকে হামলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। পাকতিকা প্রদেশের বারমাল এলাকাতেও দুটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার লক্ষ্য ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিমান হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করা হয় এবং ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় তাদের ওপর চাপানোর বিরোধিতা করছে। সোমবারের বিমান হামলার আগে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক হামলা হয়। কোহাটে একটি পুলিশ কমপ্লেক্সে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এর এক দিন পর হাঙ্গু এলাকায় বন্দুকধারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ছয় পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এসব ঘটনার পর আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসলামাবাদ। নতুন হামলার ঘটনায় আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি হলো ডুরান্ড লাইন ও সীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতা। ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। সোমবারের ঘটনাটি সেই উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে দিল, যা চীনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে। Source: রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে
আফগানিস্তানের বামিয়ানে একা ভ্রমণ করায় গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েছেন ভারতের কেরালার ট্রাভেল ভ্লগার অরুণিমা আইপি, যিনি ‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত। ১৫ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়ে বার্তা দেওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে তিনি জানান, তাকে কোনো পুলিশ স্টেশন বা কারাগারে নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিরাপদে আছেন। অরুণিমা কেরালার পালাক্কাড জেলার অট্টাপালাম এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েক বছর ধরে তিনি একা বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরছেন। আফগানিস্তানে যাওয়ার পরও তিনি নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছিলেন। চলতি সফরে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একাই ঘুরছিলেন। বামিয়ানে পৌঁছানোর পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অরুণিমা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে একটি ট্রাকে লিফট নিয়ে তিনি বামিয়ানে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তার কাছে পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণের অনুমতিপত্র দেখতে চান। এরপর তাকে বলা হয়, একজন পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া একা ভ্রমণ করা নিয়ে স্থানীয় নিয়মের সঙ্গে তার অবস্থান সাংঘর্ষিক। এর আগে জালালাবাদে ভ্রমণের অনুমতি নিতে গিয়েও একই সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অরুণিমা জানিয়েছেন। তার দাবি, একা ভ্রমণ করায় তাকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি। বামিয়ানে তাকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে যাতায়াত করাও নিয়মের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। ঘটনার এক পর্যায়ে অরুণিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চান। তার পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘মুজাহিদিন’ তাকে আটক করেছে এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল চিঠি নেই। ওই পোস্টের সত্যতা সে সময় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে অরুণিমা নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাকে থানায় বা কারাগারে নেওয়া হয়নি, বরং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অরুণিমার বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তার আগে বামিয়ানে পৌঁছাতে সহায়তা করা এক স্থানীয় ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করেন। তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কথা বলার পর অরুণিমাকে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন। ঘটনার পর আফগানিস্তানে নারীদের চলাচল ও ভ্রমণ নিয়ে দেশটির কঠোর বিধিনিষেধ আবারও আলোচনায় এসেছে। অরুণিমার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, নারী একা ভ্রমণ করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী বা গাইড এবং অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এসব বিধিনিষেধের নির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং তার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আফগান সরকারের কোনো স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। অরুণিমা পরে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন এবং আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে উজবেকিস্তানের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। প্রথমে ‘গ্রেপ্তার’ বললেও পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে মূলত আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং গ্রেপ্তারের হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে ২০২১ সালের ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় আইএসআইএস-কে-কে সহায়তার দায়ে আফগান নাগরিক মোহাম্মদ শরিফুল্লাহকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। হামলায় প্রায় ১৬০ আফগান নিহত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবি গেটের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। তখন আফগানিস্তান থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছিল। হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএসআইএসের আফগান শাখা আইএসআইএস-কে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার দিন শরিফুল্লাহ আইএসআইএস-কের নির্দেশে বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার একটি সড়ক পর্যবেক্ষণ করেন। তালেবানের কোনো চেকপোস্ট আছে কি না, তা দেখে তিনি সংগঠনের নেতাদের তথ্য দেন। পরে আইএসআইএস-কের সদস্য আবদুল রহমান আল-লোগারি অ্যাবি গেটে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। তবে আদালতে শরিফুল্লাহকে কাবুল বিমানবন্দরের হামলায় নিহতদের সরাসরি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। জুরি তাঁকে আইএসআইএস-কে-কে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত করলেও ওই সহায়তার কারণে বিমানবন্দর হামলায় মৃত্যুগুলো ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে একমত হতে পারেনি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি ওই মৃত্যুর দায়ে যাবজ্জীবন সাজা হয়নি। শরিফুল্লাহর আইনজীবীরা দাবি করেন, বিমানবন্দর হামলার সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, এফবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া শরিফুল্লাহর বক্তব্যের ওপর প্রসিকিউশন অনেকটাই নির্ভর করেছে। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, শরিফুল্লাহ দীর্ঘদিন আইএসআইএস-কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সংগঠনটির একাধিক হামলায় সহায়তা করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালে গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত তিনি একাধিক হামলায় নজরদারি, হামলাকারীদের পরিবহন ও অস্ত্রসংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক শান্ত এলাকার একটি গোপন বেসমেন্টে চলছে মেয়েদের একটি বিশেষ স্কুল। তালেবানদের কঠোর বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে একদল অদম্য কিশোরী। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ বিরল এক সুযোগ পেয়ে সেই গোপন স্কুলে প্রবেশ করে। সেখানে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী ২১ জন আফগান ছাত্রী সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেয় তাদের নিজ হাতে লেখা কিছু চিঠি। এই চিঠিগুলো মূলত বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে লেখা, যেখানে তারা গত পাঁচ বছর ধরে তালেবান শাসনে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির আকুতি জানিয়েছে। ২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তালেবান সরকার ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে বিকল্প হিসেবে এই গোপন স্কুলগুলোর জন্ম হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সিবিএস নিউজ ছাত্রীদের এবং শিক্ষকের পরিচয় গোপন রেখেছে। এই গোপন স্কুলে পড়তে আসার জন্য মেয়েদের প্রতিদিন ভয়াবহ ঝুঁকি নিতে হয়। তালেবানদের কুখ্যাত নৈতিকতা পুলিশের সন্দেহ এড়াতে তারা যতটা সম্ভব রক্ষণশীল পোশাক পরে এবং ব্যাগে কেবল কলম ও খাতা লুকিয়ে রাখে। অনেকেই ব্যাগের ভেতর কাপড়ের টুকরো নিয়ে ঘোরে, যেন রাস্তায় কেউ জেরা করলে বলতে পারে যে তারা সেলাইয়ের ক্লাস করতে যাচ্ছে। ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রী জানায়, প্রতিদিন বেসমেন্টের এই শ্রেণিকক্ষে আসার সময় সে গ্রেপ্তার হওয়ার চরম আতঙ্কে ভোগে, কিন্তু তবুও সে নিজের ভবিষ্যতের জন্য এই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল কাহার বালখি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং তাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল সাময়িকভাবে 'স্থগিত' রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে কাবুলের ওই বেসমেন্টে আটকে পড়া নারীদের কাছে এই যুক্তির কোনো অর্থ নেই। গোপন এই স্কুলটি পরিচালনা করছেন ২৫ বছর বয়সী এক নারী শিক্ষক। তালেবান যখন নারীদের উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ করে, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে তিনি জানান, তার মা সব সময় তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার এবং অন্য মেয়েদের শিক্ষিত করার তাগিদ দিতেন। গত বছর মায়ের মৃত্যুর পর তার সেই স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি এই স্কুলটি চালাচ্ছেন, যেন ২০ বছর আগের নারীদের মতো আজকের মেয়েরা অশিক্ষিত থেকে না যায়। বিদেশি সাংবাদিকরা স্কুলে আসার খবর পেয়ে ছাত্রীরা আগেই নিজেদের স্বপ্ন ও হতাশার কথা চিঠিতে লিখে রেখেছিল। একটি চিঠিতে এক ছাত্রী লিখেছে, সে কোনো বিশাল বা জাঁকজমকপূর্ণ স্বপ্ন দেখে না, বরং সে শুধু একটি সাধারণ জীবন চায়। পড়াশোনা করা, কাজ করা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার মৌলিক অধিকার টুকুই তার একমাত্র চাওয়া। চিঠিতে তার জোরালো আকুতি ছিল, "বিশ্ববাসী, আমি আপনাদের কাছে একটি সাধারণ জীবন চাই—এমন একটি জীবন যেখানে খাবার পাওয়াটা কোনো স্বপ্ন হবে না, কাজ পাওয়াটা নিছক ভাগ্যের বিষয় হবে না এবং নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা শুধুই কল্পনা হবে না।" মেয়েদের এই গোপন স্কুলটি মূলত 'ইনভিজিবল ইনিশিয়েটিভ' নামের একটি নেটওয়ার্কের অংশ। তালেবানের ভয়ে আড়ালে থাকতে বাধ্য হলেও, এই খোলা চিঠির মাধ্যমে আফগান মেয়েরা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিচ্ছে—তারা অদৃশ্য হয়ে যায়নি, তারা এখনও অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে নিজেদের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে বিগত ১৮ মাসে দেশটিতে কমপক্ষে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্ধেকই অন্তঃসত্ত্বা নারী বা প্রসূতি। এছাড়া এর মধ্যে ৩০টি নবজাতক ও ভ্রূণের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও তহবিলের অভাবে ঘটা এই মৃত্যুগুলো ছিল ১০০ ভাগ প্রতিরোধযোগ্য। গবেষণা প্রতিবেদনে একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার আঞ্চলিক হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও সেপসিসে আক্রান্ত এক নবজাতককে ভর্তি করা হয়। শিশুটির নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও, মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টটি এক মাস আগেই অকেজো হয়ে পড়েছিল। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শিশুটি মারা যায়। ইউএসএআইডি-এর (USAID) সাবেক প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. শাহ মোহাম্মদ কাজিজদা জানান, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তত ১৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি কাটছাঁট করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি-এর কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আফগানিস্তানে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন (১৭০ কোটি) ডলারের সহায়তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়। আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল আফগানিস্তানের প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা খাত এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শত শত ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীদের চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আঞ্চলিক হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এমনকি পথিমধ্যে বা বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর সিনিয়র ফেলো প্রিয়ালি দীপ্তি সুর সারা দেশের প্রায় ৫৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। তিনি জানান, তহবিল সংকটে ভেন্টিলেটর ও ইনকিউবেটরগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। চাকরি হারিয়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়া অনেক স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে ধাত্রীরা (মিডওয়াইফ) চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং প্রায় ৬০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের খরচ কমানোর দায়িত্বে থাকা ইলন মাস্ক সম্প্রতি সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধের কারণে মারা গেছে এমন একজনের নামও কেউ বলতে পারবে না। এর জবাবে প্রিয়ালি দীপ্তি সুর চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়া এক প্রসূতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "তার নাম ছিল হালিমা।"
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধের অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় আফগানিস্তান। একই সঙ্গে দেশটিতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-আফগানিস্তান সম্পর্ককে অতীতের যুদ্ধ দিয়ে নয়, ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। মুত্তাকি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আফগানিস্তানের খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। আফগানিস্তানে বিপুল পরিমাণ সোনা, তামা, লিথিয়াম, কোবাল্টসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর চীন ও ইরানের সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে তালেবান সরকার। এদিকে কাবুলের বাগরাম বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুত্তাকি বলেছেন, আফগানিস্তানের জাতীয় সম্পদ অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ইসরায়েল ‘ডিটি’ ডেল তোরো জুনিয়র। তার গাড়ি একটি পুঁতে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের ওপর উঠে বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হয় এবং দুই হাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর প্রায় তিন মাস কোমায় ছিলেন ডেল তোরো। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তাকে সুস্থ হতে হয়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তার চিকিৎসায় ১০০টির বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা নিজে শ্বাস নিতে পারবেন না বলেও আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেন। শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে পড়ার পরও ডেল তোরোর লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি। তাকে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পথে যেতে বলা হলেও তিনি আবার দায়িত্বে ফিরতে চেয়েছিলেন। প্রায় চার বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি মার্কিন বিমানবাহিনীতে পুনরায় যোগ দেন। এর মাধ্যমে ডেল তোরো মার্কিন বিমানবাহিনীর ইতিহাসে ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে পুনরায় সক্রিয় দায়িত্বে যোগ দেওয়া প্রথম সদস্য হন। এরপর তিনি তরুণ বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করেন এবং পরে বিমানবাহিনীর প্যারাশুট দলের সঙ্গেও যুক্ত হন। সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন তিনি। ২০১৬ সালের ইনভিক্টাস গেমসে শটপুটে স্বর্ণপদক জেতেন ডেল তোরো। আহত ও অসুস্থ সাবেক সেনাদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার অংশগ্রহণ পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ২০১৭ সালে তার অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইএসপিওয়াই অ্যাওয়ার্ডসে প্যাট টিলম্যান অ্যাওয়ার্ড ফর সার্ভিস লাভ করেন। ২০১৯ সালে সিনিয়র মাস্টার সার্জেন্ট পদে মার্কিন বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেন ডেল তোরো। আফগানিস্তানের সেই বিস্ফোরণের পর চিকিৎসকেরা যেখানে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ বলেছিলেন, সেখান থেকে তিনি শুধু জীবন ফিরে পাননি, আবার সামরিক দায়িত্বে ফিরেও ইতিহাস তৈরি করেছেন।
আফগানিস্তানে ৭০ বছর বয়সী এক প্রভাবশালী তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিবি সেদিকা নামের এক কিশোরীকে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে বন্দি রেখে চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশটির বাদঘিস প্রদেশে ঘটা এই অমানবিক ঘটনার শিকার ওই কিশোরী দীর্ঘ কারাবাস ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের কারণে বর্তমানে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। জানা যায়, বাবার ঋণের অজুহাতে স্থানীয় ওই ক্ষমতাধর তালেবান কমান্ডার সেদিকাকে মাত্র ১২ বছর বয়সে জোরপূর্বক নিজের বাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাকে বিয়ের জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু সেদিকা কোনোভাবেই এই অসম ও জোরপূর্বক বিয়েতে রাজি হননি। নিজের আধিপত্য ও প্রভাব খাটিয়ে ওই কমান্ডার স্থানীয় এক আদালতের মাধ্যমে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সেদিকাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। বর্তমানে ১৭ বছর বয়সী এই কিশোরী গত ২১ মাস ধরে তালেবানের একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। সেখানে তাকে বিয়েতে রাজি করাতে নিয়মিত শারীরিক মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। মেয়ের এই করুণ পরিণতি ও দীর্ঘ অন্যায়ের শোকে সেদিকার মা-ও মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে নারী অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জোরপূর্বক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহের মতো ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আফগান নারীদের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে তালেবান প্রশাসন। সেদিকার এই অমানবিক ঘটনাটি আফগান নারীদের বর্তমান করুণ বাস্তবতারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে উঠে এসেছে। সূত্রঃ ডেইলি মেইল
নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। পড়তে বা লিখতেও জানতেন না। তবু নিজের মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের দিনমজুর মিয়া খান। তিন মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ি ফিরে যেতেন না তিনি। ক্লাস শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা স্কুলের বাইরেই অপেক্ষা করতেন। ঘটনাটি ২০১৯ সালের। পাকতিকার শারানা এলাকার বাসিন্দা মিয়া খানের এই গল্প সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ভয়েস অব আমেরিকা, আরব নিউজ ও আফগান সংবাদমাধ্যম পাজওকসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তার মেয়েদের শিক্ষিত করার এই সংগ্রামের কথা প্রকাশ করে। মিয়া খানের তিন মেয়ে পড়াশোনা করত নূরানিয়া স্কুলে। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল প্রায় ১২ কিলোমিটার। মেয়েদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে তিনি একটি মোটরসাইকেল কিনেছিলেন। প্রতিদিন সকালে তাদের নিয়ে স্কুলে যেতেন এবং ক্লাস শেষ হলে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতেন। তবে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াই ছিল না তার সবচেয়ে বড় ত্যাগ। মেয়েদের স্কুলে রেখে নিজের কাজে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে প্রায় চার ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করতেন তিনি। মেয়েদের ক্লাস শেষ হলে তাদের সঙ্গে নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হতেন। মিয়া খান তখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। নিজের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করতে চাননি তিনি। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুজন তখন সপ্তম শ্রেণিতে এবং একজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছিল বলে ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মেয়েদের পড়াশোনা করানোর পেছনে মিয়া খানের ছিল আরও একটি বড় স্বপ্ন। তার এলাকায় নারী চিকিৎসকের সংকট ছিল। তিনি চেয়েছিলেন, তার মেয়েরা লেখাপড়া শিখে একদিন চিকিৎসক হবে এবং এলাকার মানুষের, বিশেষ করে নারীদের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসবে। তার এক মেয়ে রোজাইও বাবার সেই স্বপ্নকে ধারণ করেছিল। ২০১৯ সালে আরব নিউজকে মিয়া খান জানিয়েছিলেন, মেয়েকে শারানা এলাকার প্রথম নারী চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান তিনি। মিয়া খানের এই চেষ্টা কয়েক দিনের ছিল না। বছরের পর বছর তিনি কখনো হেঁটে, কখনো মোটরসাইকেলে মেয়েদের দূরের স্কুলে পৌঁছে দিয়েছেন। তার গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আফগানিস্তানের তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে কাবুলে আমন্ত্রণ জানায় এবং সম্মাননা দেয়। একই সঙ্গে তার গ্রামে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। একজন নিরক্ষর ও স্বল্প আয়ের বাবার নিজের না পাওয়া শিক্ষার সুযোগ মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়ার এই গল্প তাই শুধু প্রতিদিনের ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ঘটনা নয়। মিয়া খানের কাছে সেই পথ ছিল তার মেয়েদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্নের পথ।
আফগানিস্তানে নিখোঁজ এক মার্কিন সেনাকে খুঁজতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মাস্টার সার্জেন্ট মার্ক অ্যালেন। সেই গুলিতে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পর হাঁটা ও কথা বলার ক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় এক দশক সেই আঘাতের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকার পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর ৪৬ বছর বয়সে মারা যান অ্যালেন। ঘটনাটি ২০০৯ সালের। আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন সেনা বো বার্গডাল তার পোস্ট ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাকে উদ্ধারে বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামরিক আদালতের নথি অনুযায়ী, সেই অনুসন্ধান অভিযানের অংশ হিসেবেই অ্যালেন ও তার দলকে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের এমন কিছু এলাকায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ সময় মার্কিন সেনারা টহল দেয়নি। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই বার্গডালকে খোঁজার অভিযানে থাকা অবস্থায় অ্যালেনের দল শত্রুপক্ষের হামলার মুখে পড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে অ্যালেনের মাথায় গুলি লাগে। সামরিক আদালতে পরে দেওয়া সাক্ষ্যে ওই অভিযানে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা জন মার্ক্স জানান, হামলার সময় তিনি অ্যালেনের পাশেই ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অ্যালেনকে মেডিক্যাল ইভাকুয়েশনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাথায় গুলির আঘাতে অ্যালেন গুরুতর ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। তার একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু আঘাতের প্রভাব ছিল স্থায়ী। তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারেননি এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হতো। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অ্যালেনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী শ্যানন অ্যালেন ও পরিবারের সদস্যরা। ২০১৭ সালে বার্গডালের সামরিক বিচার প্রক্রিয়ায় শ্যানন তার স্বামীর দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অ্যালেনকে বিছানা থেকে ওঠানো, গোসল করানো ও পোশাক পরানোর মতো সাধারণ কাজেও দীর্ঘ সময় এবং বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো। মার্ক অ্যালেন ১৯৯১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পরে ফ্লোরিডা আর্মি ন্যাশনাল গার্ড এবং এরপর জর্জিয়া আর্মি ন্যাশনাল গার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। আফগানিস্তানের পাশাপাশি তিনি ইরাক এবং সিনাই উপদ্বীপেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সরকারি সামরিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ার শেষে আফগানিস্তানে পাওয়া আঘাতের কারণে ২০১৩ সালের মে মাসে তিনি অবসর নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পার্পল হার্ট পান। অ্যালেনকে যে অভিযানে পাঠানো হয়েছিল, সেই বো বার্গডাল পরে প্রায় পাঁচ বছর তালেবানের হাতে বন্দি ছিলেন। ২০১৪ সালে গুয়ানতানামো বে-তে আটক পাঁচ তালেবান সদস্যের বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে সামরিক আদালতে বার্গডাল নিজের পোস্ট ত্যাগ এবং সহযোদ্ধাদের বিপদের মুখে ফেলার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি, তবে পদাবনতি, বেতন কর্তন এবং ডিজঅনারেবল ডিসচার্জের সাজা দেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের আহত হওয়ার সঙ্গে বার্গডালকে খোঁজার অভিযানের সরাসরি সম্পর্কও সামরিক আদালতের নথিতে উঠে আসে। আদালতে উপস্থাপিত সরকারি নথিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ৮ জুলাই অ্যালেন যে মিশনে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির উদ্দেশ্যই ছিল বার্গডালকে খুঁজে বের করা। সেই অভিযানেই হামলার মুখে পড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আঘাত পাওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর মারা যান মার্ক অ্যালেন। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি নথিতেও উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে পাওয়া গুরুতর যুদ্ধকালীন আঘাতের সঙ্গে দীর্ঘ ১০ বছর লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়। অ্যালেনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জানিয়েছিলেন, শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার পাশেই ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে একটি মুহূর্তের আঘাত কীভাবে একজন সেনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী পুরো জীবন বদলে দিতে পারে, মার্ক অ্যালেনের গল্প তারই এক দীর্ঘস্থায়ী উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।