ধর্মীয় আইন বনাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, উত্তরাখণ্ডে নতুন করে বাড়ছে বিতর্ক
ভারতের উত্তরাখণ্ডে ধর্মভেদে আলাদা পারিবারিক আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়ে একই আইনি কাঠামো চালুর এই উদ্যোগকে বিজেপি সরকার সমতা ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের প্রশ্ন, সবার জন্য একই আইন করতে গিয়ে তাদের ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিনীতির জায়গা কতটা থাকছে।
উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আইনটি কার্যকর হয়। স্বাধীনতার পর ভারতে কোনো রাজ্যে এ ধরনের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ডই প্রথম।
আইনটির মূল লক্ষ্য হলো ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা ব্যক্তিগত আইন না রেখে নাগরিকদের পারিবারিক বিষয়ে একটি অভিন্ন নিয়ম চালু করা। উত্তরাখণ্ড সরকারের সরকারি ব্যাখ্যায়, নতুন বিধিতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার মতো বিষয়ে ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে একই কাঠামো প্রযোজ্য।
বিয়ের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন ও নির্দিষ্ট তথ্য জানানোর নিয়ম রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইনটির এসব বিধান নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল।
সমর্থকদের প্রধান যুক্তি হলো, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা আইন থাকলে নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিয়ে, বিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার আইনি কাঠামো তৈরি করবে। ২০২৬ সালেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সমর্থকেরা এটিকে সমতা, ন্যায়বিচার ও লিঙ্গসমতার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
কিন্তু সমালোচকদের আপত্তি মূলত অন্য জায়গায়। তাদের প্রশ্ন, ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় অভিন্ন আইনের আওতায় এনে কি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে? অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডও ২০২৬ সালে উত্তরাখণ্ডসহ নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উদ্যোগগুলোর বিরোধিতা করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলেছে।
এই জায়গাতেই দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উত্তরাখণ্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রবীণ নেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রশ্ন করা হয়েছে, ধর্মীয় বিধান ও রাষ্ট্রীয় আইনের মধ্যে সংঘাত তৈরি হলে একজন মুসলিম কীভাবে একই সঙ্গে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাষ্ট্রের আইন মেনে চলবেন। তবে মুসলিমরা ভবিষ্যতে ভারতের মূলধারা থেকে আরও দূরে সরে যাবে, এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখা যাবে না। এটি দ্য ইকোনমিস্টের একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে সতর্কতা।
আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য নয়। উত্তরাখণ্ড সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, একই দেওয়ানি কাঠামো রাজ্যের সব নাগরিকের ওপর প্রযোজ্য। তবে নির্দিষ্ট কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ‘সবার জন্য একই আইন’ ধারণাটিও বাস্তবে কিছু সাংবিধানিক ব্যতিক্রমের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে গুজরাট ও আসাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পথে এগিয়েছে, আর মধ্যপ্রদেশও এ বছর নিজস্ব অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করেছে। রাজস্থানও ২০২৬ সালের আগস্টে একই ধরনের বিল বিধানসভায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফলে উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞতা এখন শুধু একটি রাজ্যের আইন নিয়ে বিতর্ক নয়। এটি ভারতের ভবিষ্যৎ পারিবারিক আইন ব্যবস্থার বড় একটি পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রশ্ন উঠছে, ধর্মভেদে আলাদা ব্যক্তিগত আইন তুলে দিয়ে অভিন্ন নিয়ম চালু করলে নাগরিকদের সমতা কতটা বাড়বে। অন্যদিকে প্রশ্ন থাকছে, সেই সমতার পথে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু পরিচয়ের জন্য কতটা জায়গা রাখা হবে।
দেড় বছরের বেশি সময় পরও তাই উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ঘিরে মূল বিতর্কটি রয়ে গেছে একই জায়গায়: সবার জন্য একই আইন কি সত্যিই সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে, নাকি অভিন্নতার নামে ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের একটি অংশ ক্রমেই সংকুচিত হবে?
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্স উপকূলে সাগরে ডুবে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৫৫ বছর বয়সী হোসাম আল-খাওয়াস, তার স্ত্রী ৩৭ বছর বয়সী জেইনা আলায়ন এবং তাদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা। পরিবারের আরেক কিশোরীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকার শোরহ্যাম ফোর্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে পানিতে কয়েকজনের বিপদে পড়ার খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, উদ্ধারকারী নৌযান, অ্যাম্বুলেন্স ও আকাশপথের জরুরি চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চারজনকে পানি থেকে তীরে তোলা হলেও তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি লন্ডন থেকে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকায় বেড়াতে এসেছিল। পানিতে নামার পর তারা বিপদে পড়েন। ঘটনাটিকে এখন পর্যন্ত একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। তৃতীয় কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিহত হোসাম আল-খাওয়াস ছিলেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী। ফিলিস্তিনি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তার পরিবারের শিকড় দক্ষিণ লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবিরে। পরিবারটি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে লন্ডনে বসবাস করত। ১৪ বছর বয়সী সারা যে স্কুলে পড়ত, সেই পশ্চিম লন্ডনের এলিং এলাকার এলেন উইলকিনসন স্কুল ফর গার্লসও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সারাকে মিষ্টি স্বভাবের এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে জনপ্রিয় একজন ছাত্রী হিসেবে স্মরণ করেছে। এই ঘটনায় ব্রিটেনে বসবাসরত ফিলিস্তিনি কমিউনিটির মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর দ্রুত সুস্থতার জন্যও তারা শুভকামনা জানিয়েছে। ঘটনার পর খোলা পানিতে সাঁতারের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি কমিউনিটির সদস্যরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি
ধর্মীয় আইন বনাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, উত্তরাখণ্ডে নতুন করে বাড়ছে বিতর্ক
কিমের সঙ্গে বৈঠক চান ট্রাম্প, জবাবে ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা এবং দেশটির অর্থনীতিকে সহায়তা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প এই নতুন উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রি, তেল পাচার, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ইরানের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বিশেষ করে চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রভাব বিশ্ববাজারে দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমলেও সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে ওয়াশিংটন দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত সংকটের সমাধানে তেহরানকে বাধ্য করতে চাইছে। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি তাই নতুন পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
১৮ বছর বন্দী হয়ে জীবন কাটান বিমানবন্দরে, অবশেষে সেখানেই মৃত্যু
মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করে ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড
২৬ বছরের সাবেক গাড়ি বিক্রেতা এখন বেলজিয়ামের রাজপুত্র! বাবার স্বীকৃতিতে পেলেন উত্তরাধিকার অধিকার
রাশিয়ার ১৮ শতকের এক কৃষক পরিবারের নারী ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভাকে ঘিরে এমন এক রেকর্ডের দাবি রয়েছে, যা আজও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২৭ বার সন্তান জন্ম দিয়ে মোট ৬৯ সন্তানের মা হয়েছিলেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও এটিকে এক মায়ের সর্বোচ্চ সন্তান জন্মদানের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে কয়েক শতাব্দী পুরোনো হওয়ায় ঘটনাটির সব তথ্য আধুনিক মানদণ্ডে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভ্যালেন্টিনা ছিলেন রুশ কৃষক ফিওদর ভাসিলিয়েভের প্রথম স্ত্রী। গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৭২৫ থেকে ১৭৬৫ সালের মধ্যে ২৭টি প্রসবে তিনি ১৬ জোড়া যমজ, ৭ সেট ট্রিপলেট এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটের জন্ম দেন। সব মিলিয়ে সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯। এই হিসাব অনুযায়ী, ১৬ জোড়া যমজে সন্তান ৩২ জন, ৭ সেট ট্রিপলেটে ২১ জন এবং ৪ সেট কোয়াড্রুপলেটে ১৬ জন। তিন ধরনের সন্তান মিলিয়েই ৬৯ জন। ঘটনাটির তথ্য প্রথমদিকে রাশিয়ার নিকোলস্ক মঠের নথিতে পাওয়া যায়। ১৭৮২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মস্কোয় পাঠানো একটি প্রতিবেদনে ভাসিলিয়েভ পরিবারের সন্তানসংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ১৭৮২ সালে দ্য জেন্টলম্যানস ম্যাগাজিনেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়। তবে ভ্যালেন্টিনার গল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নিজেও বলছে, ঘটনাটি পরিসংখ্যানগতভাবে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হলেও সেই সময়ের একাধিক নথি এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভ্যালেন্টিনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়, এমনকি তার নাম নিয়েও ঐতিহাসিক সূত্রে নিশ্চিততা নেই। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফিওদর ভাসিলিয়েভ পরে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তার আরও ১৮ সন্তান ছিল, যার মধ্যে ছিল ৬ জোড়া যমজ ও ২ সেট ট্রিপলেট। ফলে দুই স্ত্রী মিলিয়ে তার মোট সন্তানের সংখ্যা ৮৭ বলে দাবি করা হয়েছে। এত বেশি যমজ ও একাধিক সন্তান একসঙ্গে জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কিছু আধুনিক বিশ্লেষণে জেনেটিকভাবে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসরণের প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। তবে ভ্যালেন্টিনার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। চার শতাব্দী আগের এই ঘটনাটির সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলেও, ৬৯ সন্তান জন্ম দেওয়ার দাবিটি এখনো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের রেকর্ড তালিকায় রয়েছে। তাই ভ্যালেন্টিনা ভাসিলিয়েভার নাম ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েদের তালিকায় এক অনন্য রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে।
চুরির অভিযোগে আত্মহত্যা করা ক্যামব্রিজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা একাডেমিক সাসপেন্ড
কিডনি পাওয়ার আশায় ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষকে বিয়ে, সেই সম্পর্কই হয়ে গেল আজীবনের ভালোবাসা