সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৬:৫৪
জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ I ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
জাপানে মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে বড় ছেলেকে নিয়ে চূড়ার পথে বাবা, পরে উদ্ধার করল পুলিশ I ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজিতে ক্লান্ত সাত বছর বয়সী ছেলেকে একা ফেলে বড় ছেলেকে নিয়ে পর্বতারোহণ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক বাবাকে কঠোর তিরস্কার করেছে স্থানীয় পুলিশ। কুয়াশাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিভেজা বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার (সাড়ে ছয় হাজার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত একটি বেঞ্চে শিশুটিকে একা বসে থাকতে দেখা যায়। খাবার হিসেবে শিশুটির কাছে ছিল মাত্র একটি কোমল পানীয় ও হালকা কিছু স্ন্যাকস।

 

জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলেকে নিয়ে মাউন্ট ফুজির ফুজিনোমিয়া রুট দিয়ে চূড়ায় ওঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পথিমধ্যে ছোট ছেলে ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথা জানালে বাবা তাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পর্বতারোহণ অব্যাহত রাখেন।

 

পরবর্তীতে সামিটের দিকে যাওয়ার পথে ষষ্ঠ স্টেশনের কাছে অবস্থিত একটি মাউন্টেন হাটের কর্মীরা শিশুটিকে একা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা দূরত্বে সপ্তম ও অষ্টম স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকা থেকে পুলিশ ওই বাবাকে খুঁজে বের করে।

 

টানা প্রায় আট ঘণ্টা একা অপেক্ষা করার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারের পর যখন তার বাবা ফিরে আসেন, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।

 

এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনে পর্বতারোহণ বাতিল করা উচিত ছিল, কিন্তু কোনো পরিস্থিতিতেই এমন প্রতিকূল পরিবেশে একটি শিশুকে একা ফেলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার পর ওই বাবা নিজের অবিবেচক সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

 

উল্লেখ্য, ৩ হাজার ৭৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট ফুজি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত এবং প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ পর্যটক এখানে আরোহণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনভিজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে পর্বতটিতে দুর্ঘটনা ও উদ্ধার তৎপরতার সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন
স্বর্ণের গহনার কাজ ছেড়ে আলি জামান ৬ বছরে হাতে লিখলেন বিশাল পবিত্র কোরআন

ইরাকের সাবেক স্বর্ণকার ও ক্যালিগ্রাফার আলি জামান ছয় বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে হাতে লিখে তৈরি করেছেন বিশাল আকারের একটি পবিত্র কোরআন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তৈরি এই অনুলিপির প্রতিটি অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ মিটার এবং প্রস্থ দেড় মিটার। আকার ও নির্মাণশৈলীর কারণে কাজটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, আলি জামানের তৈরি সম্পূর্ণ কোরআনটি ৩০২টি দুই পাশে লেখা বড় শিট বা স্ক্রল নিয়ে গঠিত। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৫ ফুট। পাশাপাশি রাখা হলে একটি খোলা অংশ প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত জায়গা নেয়।   ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়ার রাণিয়া এলাকায় ১৯৭১ সালে জন্ম আলি জামানের। জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করলেও ছোটবেলা থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ২০১৩ সালে জুয়েলারির কাজ ছেড়ে পুরোপুরি ক্যালিগ্রাফিতে মনোযোগ দেন তিনি।   ২০১৭ সালে পরিবার নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যান আলি জামান। ইসলামী ক্যালিগ্রাফির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা শহরটিতেই নিজের শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ছোট আকারের একটি বড় কোরআন অনুলিপির কাজও করেছিলেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিসরের একটি কোরআন তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় উপকরণ, মাপ ও নকশা নিয়ে প্রস্তুতির পর ২০২০ সালের দিকে মূল কাজ শুরু করেন। এরপর টানা ছয় বছর ধরে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তিনি প্রকল্পটি সম্পন্ন করেন।   তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, আলি জামান আধুনিক প্রিন্টিং বা ডিজিটাল প্রযুক্তির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কোরআনের প্রতিটি অক্ষর তিনি হাতে লিখেছেন প্রচলিত কামিশ বা রিড পেন ব্যবহার করে। লেখার জন্য বেছে নিয়েছেন ইসলামী ক্যালিগ্রাফির পরিচিত থুলুথ লিপি।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, লেখার জন্য ব্যবহৃত বড় শিটগুলোও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো তৈরিতে ডিম, কর্নস্টার্চ ও অ্যালামের মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। ফলে শিটগুলো সাধারণ কাগজের তুলনায় মোটা এবং অনেকটা পার্চমেন্টের মতো।   ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকার মিহরিমাহ সুলতান মসজিদের একটি ছোট কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করেছেন আলি জামান। তার দৈনন্দিন রুটিন শুরু হতো ফজরের নামাজের পর। খাবার ও নামাজের বিরতি ছাড়া দিনের বড় অংশ তিনি ক্যালিগ্রাফির কাজে কাটাতেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।   কাজটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কোরআনের দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্বীকৃতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বরেকর্ডধারী কোরআন বলা ঠিক হবে না।   গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা অনুযায়ী, দীর্ঘতম হাতে লেখা কোরআন স্ক্রলের রেকর্ড ভারতের কেরালার জাসীম মোহাম্মদের নামে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার কালিকটে তিনি ১ হাজার ১০৬ মিটার দীর্ঘ হাতে লেখা কোরআন স্ক্রল তৈরি করে রেকর্ডটি অর্জন করেন।   তবে জাসীম মোহাম্মদের কাজটি দীর্ঘ স্ক্রলের রেকর্ড, আর আলি জামানের কাজটি বিশাল আকারের পৃথক হাতে লেখা শিট দিয়ে তৈরি। ফলে দুটি কাজের ধরন আলাদা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আলি জামানের সৃষ্টিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাতে লেখা কোরআন হিসেবে উল্লেখ করেছে।   ছয় বছরের কাজ শেষ হওয়ার পর আলি জামান বলেছেন, জীবদ্দশায় এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারাকে তিনি বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে তার তৈরি কোরআনটি এমন কোনো জাদুঘর বা স্থানে প্রদর্শিত হোক, যেখানে মানুষ ইসলামী ক্যালিগ্রাফির এই কাজ কাছ থেকে দেখতে পারবেন, এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১:৩৪
বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম আবেদন

বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী পরিচয়ে অ্যাসাইলাম আবেদন, লন্ডনে গ্রেফতার ৩

প্রায় ৫১ লাখ রুপি প্রতারণার অভিযোগে ভারতীয় সুবেদারের কোর্ট মার্শালের নির্দেশ

প্রায় ৫১ লাখ রুপি প্রতারণার অভিযোগে ভারতীয় সুবেদারের কোর্ট মার্শালের নির্দেশ

ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করে  ট্রাম্প

ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ইসলাম ও অভিবাসনকে দায়ী করে আলোচনাকে ভিন্ন খাতে নিলেন ট্রাম্প

আল-আকসায় ইসরায়েলি বাহিনীর ২৬ বার অনুপ্রবেশ, দেড় শতাধিকবার আজান বন্ধ
আল-আকসায় ইসরায়েলি বাহিনীর ২৬ বার অনুপ্রবেশ, দেড় শতাধিকবার আজান বন্ধ

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা অন্তত ২৬ বার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। একই সময়ে মসজিদটিতে অন্তত ১৫০ বার আজান দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়।   এছাড়া ইহুদি ছুটির দিনগুলোর অজুহাতে হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদও মোট ছয় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল দখলদার কর্তৃপক্ষ। অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটেই মুসলিমদের এই স্পর্শকাতর পবিত্র স্থানগুলোতে চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।   ফিলিস্তিনের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানায়, আল-আকসা প্রাঙ্গণে নিয়মিত ইহুদিদের ধর্মীয় আচার ও প্রকাশ্য প্রার্থনার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুযায়ী, এই চত্বরে কেবল মুসলিমদেরই নামাজ আদায়ের অধিকার রয়েছে এবং অমুসলিমরা নির্দিষ্ট সময়ে কেবল পরিদর্শনের জন্য প্রবেশ করতে পারেন।   কিন্তু উগ্র ডানপন্থী ইহুদি গোষ্ঠীগুলো এখন সেখানে শনিবারও প্রবেশের অধিকার দাবি করছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই ধরনের বেপরোয়া দাবির মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র আল-আকসা প্রাঙ্গণের স্থান ও সময় ভাগ করে এক নতুন ও বিতর্কিত বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া।   অন্যদিকে, হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদেও বিধিনিষেধের মাত্রা তীব্রতর করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী ইহুদির গুলিতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার পর থেকে এই মসজিদটি মুসলিম ও ইহুদিদের আলাদা অংশে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে।   ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলের মসজিদটির পূর্ব প্রবেশদ্বার এবং জানালাগুলো ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে।   শুধু আল-আকসা বা ইব্রাহিমি মসজিদই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম তীরের অন্যান্য মুসলিম উপাসনালয়গুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েলিরা। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবলুসের ইমাদ আল-দিন জেঙ্গি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয় ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা। এছাড়া মাদানার একটি নতুন মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয় এবং জেরিকোর আল-জিফতলিক এলাকার আল-দুআইসাত নামাজ কক্ষটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৯:৫০
রুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, পিএইচডির মাঝেই অ্যামাজনে প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিলেন আকিব জাবেদ

রুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, পিএইচডির মাঝেই অ্যামাজনে প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিলেন আকিব জাবেদ

ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেবে রাশিয়া, প্রথম কিস্তির  অর্থ প্রস্তুত

ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দেবে রাশিয়া, প্রথম কিস্তির অর্থ প্রস্তুত

দেশরক্ষায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবেলায় অস্ত্র হাতে ইরানের লাখো নারী

দেশরক্ষায় সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবেলায় অস্ত্র হাতে ইরানের লাখো নারী

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালেরও পেছনে বাংলাদেশ, শীর্ষে বন্ধু দেশ ভারত
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালেরও পেছনে বাংলাদেশ, শীর্ষে বন্ধু দেশ ভারত

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ফের একটি হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা বা উইপো (WIPO)-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’-এ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।   বিশ্বের ১৩৯টি অর্থনীতির উদ্ভাবনী সক্ষমতা, গবেষণা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশসহ নানা সূচক বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যা প্রতিবেশী দেশ নেপালেরও নিচে।   এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত, বৈশ্বিক তালিকায় যাদের অবস্থান ৩৮তম। ভারতের পর এই অঞ্চলে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে রয়েছে ভুটান (৭৪তম), শ্রীলঙ্কা (৯৪তম), পাকিস্তান (৯৫তম) এবং নেপাল (১০৪তম)। পরিসংখ্যানটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশের সামনে এখনও বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।   তবে সার্বিক চিত্রে পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সম্ভাবনার জায়গাও রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, কৃষি প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করছে।   বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে, তখন উদ্ভাবনের এই দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে টপকে যেতে বাংলাদেশকে আরও সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৭:২৮
অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি না দেওয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল

অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি না দেওয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল

‘মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

‘মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য

পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির নেতার সঙ্গে বিয়েতে বসা প্রতারক সেই নববধূর বিয়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা সেজে বিয়ে, ১৪ ভরি স্বর্ণ-নগদ নিয়ে উধাও নববধূ

0 Comments