নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি
পুণ্যভূমি কৈলাসে তীর্থযাত্রায় গিয়ে নেপালে এক ভয়াবহ ভূমিধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন টেক্সাস প্রবাসী এক ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি। নিহতদের নাম দীপক আহুজা এবং মধু আহুজা।
একটি সংঘবদ্ধ তীর্থযাত্রী দলের অংশ হিসেবে তারা টেক্সাস থেকে নেপালে গিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ড. কুশল সাংভি নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এই দম্পতির মৃত্যুর খবরটি শেয়ার করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন ধরে পরিবার তাদের সন্ধান পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবরটিই নিশ্চিত হয়।
সংবাদমাধ্যম ও মার্কেটিং কমিউনিটির পরিচিত মুখ দীপক ও মধুর এই অকাল প্রয়াণকে পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের জন্য এক 'অপূরণীয় ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এই ট্র্যাজেডিকে জীবনের ক্ষণস্থায়ী রূপের একটি বেদনাদায়ক অনুস্মারক হিসেবে অভিহিত করে সাংভি লেখেন, "জীবন সত্যিই খুব ছোট।"
টেক্সাসের ডালাস-ভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় রেডিও স্টেশন 'রেডিও রংরেজ ৯৪.১ এফএম এইচডি৩'-এর সঙ্গেও এই দম্পতির নিবিড় যোগাযোগ ছিল। রেডিও স্টেশনটি তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দীপক ও মধুর আন্তরিকতা এবং অমায়িক ব্যবহার বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। কমিউনিটিতে তাদের ইতিবাচক প্রভাব এবং তৈরি করা সুন্দর সম্পর্কগুলোর জন্যই মানুষ তাদের চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে যুদ্ধে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আর এই সম্ভাব্য সংঘাত শুরু হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত যদি ফের মাথাচাড়া দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার প্রস্তুত রাখার দাবি করেছেন ইরানের সামরিক কমান্ডাররা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল কাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর বিকল্পগুলোর কথা বলা হচ্ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি গত মাসের শেষের দিকে সতর্ক করে বলেন, “বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে। আমাদের এমন অনেক নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে এখনো হামলা চালানো হয়নি।” প্রায় নয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলা এই যুদ্ধ বর্তমানে একপ্রকার অচলাবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে মাথানত করতে বাধ্য করার জন্য নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নিলেও, তেহরান তীব্রভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। হোসেইন মোহেব্বি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য রণকৌশল সাজাচ্ছেন। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য 'মাদার অফ অল বম্বস' (MOAB) বা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে ইরানও কেবল আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; তারা আগেভাগে আক্রমণ করার মতো একটি নতুন আক্রমণাত্মক সামরিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি তারা একসাথে ৩০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইউরোপে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানের অত্যাধুনিক এআই-চালিত ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের নিশানায় পরিণত হতে পারে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় জর্জরিত সাধারণ ইরানিরাও নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পাওয়ার ব্যাংক চার্জ করে এবং খাবার ও পানি মজুত করে যেকোনো মুহূর্তে বোমাবর্ষণের প্রহর গুনছেন। এর পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উভয় পক্ষই যখন নিজ নিজ অবস্থান থেকে মরণপণ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে নতুন একটি ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রেমের টানে সর্বস্ব বিক্রি করে ১,৯০০ কিলোমিটার পাড়ি, পরে জানলেন প্রেমিকা এআইয়ের তৈরি
সৌদি আরবে মৃ ত্যুদণ্ডে প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ দূতাবাসের বিরুদ্ধে
যুক্তরাজ্যের ১২ বিমানবন্দরে পাসপোর্ট চেকিংয়ে আসছে নতুন প্রযুক্তি, চেহারা দেখেই পার হওয়া যাবে গেট
ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো দেশটি সফরে গেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তিনি রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে লাভরভের বৈঠকের সূচি রয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের দিন এক ঘোষণায় এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছিল। বাহরাইন থেকে তেহরানে পৌঁছান লাভরভ। এর আগে বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির সদস্যদেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। রয়া নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত মস্কো। সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় লাভরভের এই সফর হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতা বিলি জিন কিং কাপে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্বে ৩ নারী
৪০০ ফুট উঁচু ভবনের ২ কোটি ডলারের বিলাসবহুল বাড়ি! এক দিনের জন্যও পা রাখেননি মালিক বিজয়
উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে মুসলিমদের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তার, দুই মাসে নিহত ৪
ইউরোপের দেশ আলবেনিয়ায় কয়েক দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভের সময় একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের অর্ধেকের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। ঘটনার পর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেছেন, প্রতিবাদ করা নাগরিকের অধিকার হলেও সহিংসতা অপরাধ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবেনিয়ায় চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে রোববার নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ স্টেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। পেট্রলবোমা হামলায় একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরে যায়। তবে আগুনে ভবনটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা ঘটনার সময় ভেতরে কেউ অবস্থান করছিলেন কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তবে আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা গুরুতর এবং কতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। সহিংসতার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী এদি রামা। তিনি বলেন, বিক্ষোভ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের নামে সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, দেশের গণতান্ত্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি। রামা বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে সীমা অতিক্রম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সহিংসতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে। আলবেনিয়ায় চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। তবে এই বিক্ষোভের সুনির্দিষ্ট দাবিদাওয়া, পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কতজনকে আটক করা হয়েছে কিংবা কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। রোববারের সহিংসতার পর প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
‘ফ্রান্স জ্বলছে’, সহিংসতার জন্য অভিবাসন ও মুসলমানদের দায়ী করে সীমান্ত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের
২০২৭ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নবজাতকদের পদবিতে 'স্মিথকে' ছাড়াতে পারে 'খান'