সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৫:৩৫
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়
সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে টানা নয় দিন আটকে থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন এক কর্মী। ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ জানান, বন্যার পানি যখন সুড়ঙ্গে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি তার সহকর্মীদের দ্রুত ওই স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজে বের হওয়ার আর পর্যাপ্ত সময় পাননি তিনি।

 

নিজের কর্তব্যের প্রতি অবিচল সঞ্জয় বলেন, বিপদের মুহূর্তে সহকর্মীদের ফেলে নিজে পালিয়ে যাওয়াটা তার কাছে কোনোভাবেই সঠিক মনে হয়নি; কারণ তার প্রধান দায়িত্বই ছিল অন্যদের জীবন রক্ষা করা।

 

সুড়ঙ্গের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাটানো সেই দীর্ঘ নয় দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, বেঁচে ফেরার আশা জাগিয়ে রাখতে তিনি অনবরত মন্ত্র জপ করতেন।

 

সেই চরম প্রতিকূল ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্তে আটকে থাকা আরও তিন-চারজন কর্মীর সঙ্গে কোনোমতে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

 

দীর্ঘ ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের পর অবশেষে সঞ্জয় সাহকে জীবিত অবস্থায় সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হয়। তার সঙ্গে উদ্ধার পাওয়া আরেকজন ভাগ্যবান কর্মী হলেন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার কবির মহার্জন।

 

নেপালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তাদের এই ফিরে আসা শুধু বেঁচে ফেরার গল্প নয়, বরং চরম বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও অদম্য সাহসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
যুক্তরাজ্যে পেনশন বাড়ছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড
ট্রিপল লক নীতিতে ২০২৭ সালে বাড়ছে যুক্তরাজ্যের পেনশন, বার্ষিক আয় ছাড়াবে ১৩ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর এসেছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ৪৮৯ পাউন্ড বাড়তে যাচ্ছে। এতে পূর্ণ পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৩ হাজার ৩৬ পাউন্ডে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ায় ‘ট্রিপল লক’ নীতির আওতায় এই বৃদ্ধি নির্ধারিত হয়েছে। তবে পেনশনের অঙ্ক বাড়লেও আয়কর নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বুধবার, ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর নতুন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের পর পেনশন বৃদ্ধির হিসাবটি স্পষ্ট হয়। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। পেনশন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই দুই হারের পাশাপাশি ন্যূনতম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তিনটি সূচকের মধ্যে সর্বোচ্চ হার অনুসরণ করায় ২০২৭ সালের পেনশন বৃদ্ধির ভিত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি। বর্তমান হিসাবে, পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা সপ্তাহে ২৪১ পাউন্ড ৩০ পেন্স পান। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে তা বেড়ে সপ্তাহে প্রায় ২৫০ পাউন্ড ৭০ পেন্স হতে পারে। বছরে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪৮৮ পাউন্ড ৮০ পেন্স, অর্থাৎ প্রায় ৪৮৯ পাউন্ড। এর ফলে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের বার্ষিক পরিমাণ বর্তমান প্রায় ১২ হাজার ৫৪৮ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৩ হাজার ৩৬ পাউন্ডে পৌঁছাবে। পেনশন বৃদ্ধির এই খবর অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বস্তির হলেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে আয়করের বিষয়টি। যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ব্যক্তিগত আয়ের করমুক্ত সীমা বছরে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড। ২০২৭ সালে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশনের পরিমাণ এই সীমা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে করমুক্ত সীমা ও বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত থাকলে শুধু রাষ্ট্রীয় পেনশন থেকে আয় করা কিছু ব্যক্তিরও করের দায় তৈরি হতে পারে। তবে শুধু রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের কর দিতে হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকার আগে ইঙ্গিত দিয়েছে, যাঁদের একমাত্র আয় রাষ্ট্রীয় পেনশন, তাঁদের ওপর করের বোঝা চাপানোর কথা নয়। সে কারণে করমুক্ত সীমা বা সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সেন্ট জেমসেস প্লেসের পরামর্শ বিভাগের প্রধান ক্লেয়ার ট্রট বলেছেন, পেনশনের পরিমাণ বাড়ায় অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকৃত হবেন। তবে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন প্রথমবারের মতো ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, যাঁদের রাষ্ট্রীয় পেনশনের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের পেনশন, ব্যক্তিগত পেনশন, সঞ্চয় থেকে আয় কিংবা চাকরি করে পাওয়া অর্থ রয়েছে, তাঁদের করের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তিনি অবসরপ্রাপ্তদের আগামী এপ্রিলের আগে নিজেদের মোট অবসরকালীন আয় পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে নতুন পরিবর্তন তাঁদের আর্থিক অবস্থায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা আগে থেকেই বোঝা সম্ভব হবে। হারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের অবসরকালীন বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হেলেন মরিসিও বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পেনশন অবসরকালীন আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও এটি দিয়ে সাধারণত মৌলিক প্রয়োজনগুলোই মেটানো সম্ভব। কর্মজীবনে যে জীবনযাত্রার মান ছিল, অবসরের পরও তা ধরে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত পেনশন সঞ্চয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বেতন বৃদ্ধি বা পদোন্নতির পর ব্যক্তিগত পেনশনে জমার পরিমাণ বাড়ানো এবং নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত অর্থ দিলে সেই সুবিধা কাজে লাগানোর মতো পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা এখনো অবসর নেওয়ার বয়স থেকে কয়েক বছর দূরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পেনশন পাওয়ার বয়সও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এজে বেলের জননীতি বিভাগের প্রধান র‍্যাচেল ভেহি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পেনশনের বয়স ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকারের সামনে এখনো কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এমন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মানুষকে অন্তত ১০ বছর আগে জানানো প্রয়োজন। তাই পরিবর্তনটি ২০৩০-এর দশকের শেষভাগে কার্যকর করতে চাইলে সরকারকে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুক্তরাজ্য সরকার ২০৩০ সালের এপ্রিল থেকে ট্রিপল লক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে ২০২৭ সালের পেনশন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য থাকবে। নতুন বৃদ্ধি অবসরপ্রাপ্তদের আয় বাড়ালেও করমুক্ত সীমা, ভবিষ্যতে পেনশন পাওয়ার বয়স এবং এই ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৭:২৯
এমপি হেলেন হেইন্সের দ্বিতীয় পা-ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপির এক পায়ের পর কাটতে হলো দ্বিতীয়টিও

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করা জ্যাক ওয়েইস

নোবেল কমিটির গবেষণার সহলেখক প্রিন্সটনের পিএইচডিধারী, ২৩০০ আবেদনেও মেলেনি স্থায়ী চাকরি

পার্কে রুশ ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন

ইউক্রেনের পার্কে হাঁটার সময় রুশ ড্রোন হামলায় মা ও স্ট্রলারে থাকা শিশুকন্যা নিহত

রেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ
মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদের নির্দেশ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর। ১৯ অক্টোবর জারি করা নোটিশে স্থাপনাটিকে অননুমোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদটি রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার পাশাপাশি দিল্লি হাইকোর্টে নোটিশ চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, মসজিদটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত। ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের বক্তব্য, এটি সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে মসজিদের প্রতিনিধিরা এর ওয়াক্‌ফ মর্যাদা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে এনেছেন। নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্য তালিকায় মসজিদ ও এর চত্বরের উল্লেখ রয়েছে।  মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি মসজিদে প্রবেশের পথ সীমিত করা হয়েছে। গত ছয় মাসে বারবার দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের কাছে সহায়তা চেয়েও কার্যকর উদ্যোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি।    মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসমির নেতৃত্বাধীন দলটি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে স্থাপনা ভাঙার পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের অনুরোধ করে। মন্ত্রী বিষয়টিতে সাধ্যমতো উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে।  নোটিশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লাহ খান এবং কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক। ওয়াইসি দাবি করেছেন, মসজিদটি ১৯৭৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি। সেটি রক্ষায় দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ড কেন পদক্ষেপ নেয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ চান তিনি।   দ্য ট্রিবিউনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোটিশটি ওই এলাকায় বৃহত্তর উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ জানিয়েছে, মসজিদ কমিটির পক্ষে আদালতে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদ খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে; স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।   

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১:৩২
শতাক্ষী দ্বিবেদী নামের এক নারী

বিবাহিত জানার পর চাকরির ইন্টারভিউতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা জানতে চান এইচআর

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন

কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব, নতুন ছবি প্রকাশ করে চমক দিল উত্তর কোরিয়া সরকার

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি যুবরাজের কঠিন সময়, ইয়েমেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়েছে

আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি, এশিয়ার দূত নিযুক্ত হলেন বাংলাদেশী ডাল্টন জহির

বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুযায়ী, পর্যটন, আতিথেয়তা ও গণমাধ্যমে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবেন।    এই নিয়োগের মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং অন্যান্য দৃশ্যভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সঙ্গে এশিয়ার পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করাও তাঁর কাজের অংশ হবে।   সিআইএফএফটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং মানসম্মত পর্যটন চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ।    ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, সরকারি প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করবেন তিনি। ভিয়েনায় অবস্থিত সিআইএফএফটির প্রধান কার্যালয় এবং এশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।    ডাল্টন জহিরের পেশাগত অভিজ্ঞতা পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের পাশাপাশি গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিস্তৃত। তিনি ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল গোষ্ঠীতে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, ওশান প্যারাডাইস, লেকশোর হোটেল এবং রোজ ভিউ হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।    পর্যটন ও গণমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ট্রাভেলারকি, ইউরোপকি, ট্রাভেলারটাইমস ও ওয়েলকাম বাংলাদেশ নামের উদ্যোগগুলোর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নকারীদের সংগঠনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।    ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইএফএফটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা, যা বর্তমানে ‘ইউএন ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত, তার সহযোগী সদস্য হিসেবে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্রচার ও স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করছে। এর কার্যক্রমের সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসবের নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে।    বর্তমানে পর্যটন প্রচারে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি দেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে আকর্ষণীয় দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দেশটিকে পরিচিত করতে পারে। বাংলাদেশের কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য অঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রচারপদ্ধতি প্রাসঙ্গিক।   তবে ডাল্টন জহিরের এই নিয়োগের ফলে বাংলাদেশে কতসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাড়বে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে কিংবা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা নিশ্চিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর নতুন দায়িত্বের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং পর্যটন প্রচারে অর্জিত ফলাফলের ওপর।   আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত এশীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগে বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৬:১৫
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের বলেন

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, মুম্বাইয়ে রুবিওর বড় ঘোষণা

ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নির্দেশ

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুর একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক শিক্ষিকার আবেগঘন বিদায়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব পড়ার জন্য ছাড়াতে হলো ২১ বছরের শিক্ষকতা, শিক্ষিকাকে অশ্রুসিক্ত বিদায় দিলেন ছাত্ররা

0 Comments