সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৬:২৩
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে আয়োজিত জনপ্রিয় ‘বার্নিং ম্যান’ উৎসব আবারো বৃষ্টির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে উৎসবস্থলের ব্ল্যাক রক ডেজার্টের মূল প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন দর্শনার্থীরা।

 

এই অচলাবস্থা থেকে বাঁচতে বিশ্ববিখ্যাত ডিজে ডিপলোকে কাদামাখা পথ ধরে টানা ছয় মাইল পায়ে হেঁটে ফিরতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি নিজেই এই দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য যাত্রার অভিজ্ঞতা ভক্তদের সাথে শেয়ার করেছেন।

 

ভিডিওতে কাদামাখা পথে হাঁটতে হাঁটতে তাকে বলতে শোনা যায়, "আমি আবারও বার্নিং ম্যান থেকে হেঁটে ফিরছি। পরিস্থিতি জঘন্য হলেও আমি এটি উপভোগ করছি। জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ আসে, আপনাকে কেবল লেগে থাকতে হবে।" একটি অ্যাপে এই হাঁটার পথ ৩৯ মিনিটের দেখালেও, ডিপলো জানান তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।

 

বার্নিং ম্যানে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ডিপলো এবারই প্রথম হননি। এর আগে ২০২৩ সালেও ভারী বৃষ্টিতে যখন উৎসবটি কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল এবং প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ আটকা পড়েছিলেন, তখনো তিনি অভিনেতা ক্রিস রককে সাথে নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেছিলেন। সেবার এক ভক্তের পিকআপ ভ্যানে করে তারা উদ্ধার পান।

 

এবারের উৎসবে ডিপলো টানা বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পারফর্ম করেন এবং শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত পার্টিতে মেতে ছিলেন। তবে এবারের উৎসবের আনন্দে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষাদও নেমে এসেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

 

এসএফগেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার মাত্র ০.২২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতেই মরুভূমির বুকে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা নয় দিনব্যাপী এই শিল্প ও সঙ্গীতের আসর কাদায় পরিণত হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে জনপ্রিয়তার চূড়ায় থাকার পর থেকে উৎসবটির আকার ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকলেও, এতে অংশ নেওয়া চল্লিশ ও পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একইসঙ্গে এই বিলাসবহুল উৎসবে যোগ দেওয়ার ব্যয়ভারও আগের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি
লস অ্যাঞ্জেলেসে টেসলার ভ য়াবহ ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৪; চালকের দাবি, ব্রেক কাজ করেনি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত সুপারমার্কেটের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারানো টেসলা গাড়ির ধাক্কায় একজন নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে দ্য গ্রোভের বিপরীতে থার্ড স্ট্রিটের ৭৯০০ ব্লকে অবস্থিত ট্রেডার জো’স স্টোরের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   পুলিশ জানায়, ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তার সাদা রঙের টেসলা গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি পার্ক করা গাড়ি ও কয়েকজন পথচারীকে ধাক্কা দেন এবং পরে পার্কিং লটের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আছড়ে পড়েন।   দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা নিহতের মরদেহ একটি সাদা শামিয়ানার নিচে ঢেকে রেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই ৩০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩০ ও ৫৭ বছর বয়সী আরও দুই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন।   গাড়িচালক ওই বৃদ্ধাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ড্রেক পিসিওন জানান, গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ওই বৃদ্ধা চালক রীতিমতো হতবাক ছিলেন এবং তিনি বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কী ঘটেছে। চালক দাবি করেন, তিনি গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করছিলেন এবং তার পা ব্রেকের ওপরই ছিল, কিন্তু গাড়িটি নিজে থেকেই গতি বাড়িয়ে ছুটতে থাকে।   তিনি যে একজনকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছেন, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৭:৫
টেনেসিতে কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া ছেলের স্কুলের খাবারে বছরে ৫৪০ ডলার খরচ, হিসাব দেখে হতবাক শিক্ষিকা মা

টেনেসিতে কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া ছেলের স্কুলের খাবারে বছরে ৫৪০ ডলার খরচ, হিসাব দেখে হতবাক শিক্ষিকা মা

বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান

ফ্লোরিডায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গাড়িতেই কন্যাসন্তান প্রসব, বাবার সহায়তায় রক্ষা পেলেন মা-সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় বৃষ্টিতে কাদার সাগরে পরিণত বার্নিং ম্যান উৎসব, ৬ মাইল হেঁটে ফিরলেন ডিজে ডিপলো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার বৈমানিক, ৮২ বছর পর শনাক্ত দেহাবশেষ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইতালির আকাশে বি-২৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক বৈমানিক। ঘটনার আট দশকেরও বেশি সময় পর অবশেষে তার দেহাবশেষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ইউএস আর্মি এয়ার ফোর্সের সার্জেন্ট অ্যাডলফ পি. আগুইরে নামের ওই তরুণের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।   ১৯৪৩ সালের ১৬ আগস্ট একটি মিশন শেষে ফেরার পথে তার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দীর্ঘ ৮২ বছর পর তার পরিবার অবশেষে প্রিয়জনের অন্তিম পরিণতির কথা জানতে পেরেছে।   চলতি মাসেই তুলারে কাউন্টির এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে বাবা-মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার ভিসালিয়ায় ১৯২১ সালের ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আগুইরে। তার বাবা মার্গারিটো আগুইরে এবং মা মারি পিমেন্টেল। ১৯৪১ সালে এক্সেটার ইউনিয়ন হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৪২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।   পরিবারের কাছে তিনি ‘পাঞ্চো’ বা ‘চিকো’ নামে পরিচিত ছিলেন। বি-২৪ লিবারেটর হেভি বোম্বারে রেডিও অপারেটর ও গানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এই তরুণ পাইলট। বীরত্বপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘পার্পল হার্ট’ এবং ‘এয়ার মেডেল’ লাভ করেছিলেন।   বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়ে তার বাবা-মাকে একটি টেলিগ্রাম পাঠানো হলেও, ঠিক কী ঘটেছিল তা তারা কখনই জানতে পারেননি। দশকের পর দশক ধরে তার পরিণতি অজানা থেকে যায়।   ২০২১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী মামলাটি পুনরায় চালু করলে তদন্তে নতুন মোড় আসে। ইতালির লাসেডোনিয়া থেকে নেপলসে স্থানান্তরিত কিছু দেহাবশেষ নিয়ে কাজ শুরু হয়। এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করেন আগুইরের চাচাতো ভাই জুয়ান আগুইরে।   ২০২২ সালের মে মাসে কেনটাকির ফোর্ট নক্স-এ অবস্থিত ইউএস আর্মি হিউম্যান রিসোর্সেস কমান্ড জুয়ানকে ডিএনএ নমুনা প্রদানের অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে নেপলসের একটি সমাধিস্থল থেকে দেহাবশেষ তুলে ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগারে আনা হয়।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জুয়ান ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে নিখোঁজ মার্কিন সেনাদের হিসাবরক্ষক সংস্থা 'পাও/এমআইএ অ্যাকাউন্টিং এজেন্সি'-এর সাথে বৈঠক করেন। সে সময় তদন্তকারীদের আরও নিখুঁত জেনেটিক তুলনা করার সুবিধার্থে জুয়ানের ছেলে জুলিয়ানও ডিএনএ নমুনা প্রদান করেন।   টানা কয়েক বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার পর, ২০২৬ সালের মে মাসে পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত সেই খবরটি পায়—আগুইরেকে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর ১৬ জুন তারা জানতে পারেন যে, এই বীর সেনানির দেহাবশেষ ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।   আট দশক আগে যে বাবা-মা সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তাদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি। শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এক্সেটার মেমোরিয়াল বিল্ডিংয়ে বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় এক্সেটার ডিস্ট্রিক্ট সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে। অনুষ্ঠানে সর্বসাধারণকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৬:১
নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে বেঁচে যাওয়া ‘সারভাইভার ট্রি

নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপে বেঁচে যাওয়া ‘সারভাইভার ট্রি’, ৯/১১-এর ক্ষত বুকে আজও দাঁড়িয়ে

নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথন ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার

“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইর অভিযান জোরদার

ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন
‘ক্ষমতা ছাড়লে কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বানাবে না’, তাই সবকিছুতেই নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর তার জন্য কেউ স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা নির্মাণ করবে না - এমন কারণেই নিজের নামে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রকল্প করার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি।   সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক বেন টেরিস ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। অসফের বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প নিজের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন, কারণ তিনি মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর আর কেউ তাকে সম্মান জানিয়ে এমন স্থাপনা তৈরি করবে না।   জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটা সত্যি। আমি চলে যাওয়ার পর কেউ এটা করবে না। আমি যখন এখান থেকে চলে যাব, তখন কেউ করবে না।”    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন ডিসিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় বিশাল বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে তার নাম যুক্ত করার উদ্যোগ, লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে একটি প্রায় ২৫০ ফুট উচ্চতার বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা।    হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে নতুন বলরুম নির্মাণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও আইনি লড়াই হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন স্থাপনাটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে একটি ভূগর্ভস্থ নিরাপত্তা স্থাপনা ও ছাদে ড্রোন পরিচালনার সুবিধার কথাও বলা হয়েছে।   এদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেট্রির কাছে প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনকে সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরুর আগে অন্তত ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তোরণটির চূড়ান্ত অনুমোদনও এখনো পাওয়া যায়নি।   নিজের নাম ব্যবহারের প্রবণতা শুধু স্থাপনা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের নামেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’, ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় তার ছবি ও নাম ব্যবহারের ঘটনাও নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে ওয়াশিংটনের স্থাপত্য ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে যাওয়ার নানা প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তার সমর্থকেরা এসবকে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা এগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। 

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:২১
প্রশিক্ষিত কুকুরের দেওয়া বিশেষ সংকেতের পরই মূলত ওই দুই যাত্রীর কাছে থাকা নগদ অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

বিমানে ওঠার আগেই কুকুরের ঘ্রাণে গোপনে রাখা ১৯ হাজার ডলার জব্দ করল ইউএস কাস্টমস

আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর করা বিচারিক পরোয়ানা ছাড়া অভিবাসন কর্মকর্তারা ঘরে প্রবেশ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যরাতে পুলিশ বা আইস দরজায় এলে কী করবেন, আদালতের আদেশ ছাড়া ঘরে প্রবেশের নিয়ম কী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুনের দায়ে ৪০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন আইজ্যাক আরিস্পে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৫ বছর বয়সে খুন, সেই কিশোরের ৪০ বছরের কারাদণ্ড

0 Comments