'সে মারাও যেতে পারে', মিসরে আটক ব্রিটিশ নাগরিককে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বামীর আকুতি
মিসরে ছয় সপ্তাহ ধরে আটক ব্রিটিশ নাগরিক ইমান এল-শাজলির মুক্তিতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁর স্বামী জিশার্ন মোস্তফা। চার সন্তানের মা ৪৫ বছর বয়সী ইমান অসুস্থ মাকে দেখতে কায়রো গিয়েছিলেন। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে আটক করে।
ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোস্তফা বলেন, মাকে ছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে হয়েছে তাঁদের সন্তানদের। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিবারটির আশঙ্কা, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইমানের বোন মোনা এল-শাজলির সরকারবিরোধী বক্তব্যের কারণে ইমানকে আটক রাখা হয়েছে। এটি পরিবারের অভিযোগ; আটকের কারণ হিসেবে তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ইমানের স্বামীর আইনজীবী আরফান রশিদ জানান, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁদের জানিয়েছে, মিসরীয় কর্তৃপক্ষ ইমানের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান ও অর্থায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং বিক্ষোভে আহ্বানের অভিযোগ এনেছে। ইমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবীর দাবি, মিসরে তাঁর আইনজীবী অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি।
মিসরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌঁসুলির কার্যালয় আগস্টে তদন্ত চলাকালে ইমানকে ১৫ দিনের জন্য হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রিডম অব থট অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। একই মামলায় তাঁর দুই ভাইও আটক আছেন। গ্রেপ্তার বা তদন্তাধীন থাকা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমান নয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছে, মিসরে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারকে তারা সহায়তা করছে এবং মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইমানের স্বামী চান, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হোক।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজার পরিবার ও শিশুদের জন্য এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় মানবিক উদ্যোগ। শনিবার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে এসব খাদ্যসহায়তার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়। ‘আহমেদ বিন রাশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ নামের এই উদ্যোগ আয়োজন করে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস। সহযোগিতায় ছিল গাজায় আমিরাতের চলমান মানবিক কার্যক্রম ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’। প্রয়াত শেখ আহমেদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের স্মরণে উদ্যোগটির নামকরণ করা হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুর পর দুবাইয়ে ১০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। জীবদ্দশায় দাতব্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততার প্রতি সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবারের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং শেখ আহমেদ বিন রাশিদের শুভানুধ্যায়ীরা একসঙ্গে গাজার জন্য খাবারের প্যাকেজ প্রস্তুত করেন। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব খাদ্যসহায়তা গাজার পরিবার ও শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের মহাসচিব মোহাম্মদ আল গেরগাওয়িসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। আয়োজকেরা বলছেন, উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু খাদ্য পাঠানো নয়, আমিরাতের মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবা ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণের সংস্কৃতিও আরও শক্তিশালী করা। ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ সালেহ আল শরিফ বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে কার্যক্রমটি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যের পাশাপাশি গাজার শীতকালীন পরিস্থিতি সামনে রেখে আরেকটি বড় সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করেছে আমিরাত। দেশটি ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার শীতকালীন কিট পাঠানো হয়েছে, যাতে ৫০ হাজার জ্যাকেট, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে। দ্য ন্যাশনালের আজকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন শিভ্যালরাস নাইট ৩’-এর আওতায় গাজার জন্য আমিরাতের সহায়তার পরিমাণ এখন পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন দিরহামের বেশি। এর আগেও গাজার জন্য একই ধরনের বড় খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি নিয়েছিল আমিরাত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভসের আরেক কর্মসূচিতে ২০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে এক কোটির বেশি খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল।
'সে মারাও যেতে পারে', মিসরে আটক ব্রিটিশ নাগরিককে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বামীর আকুতি
ছেলেকে হারানোর পর ২২ বছরের সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন ৫৪ বছরের নারী
যুক্তরাজ্যে ইউএস বোমারু বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সময় বিস্ফোরকসহ গ্রেফতার ৫
কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় নারী কানুপ্রিয়া ইনস্টাগ্রামের এক ভিডিওতে প্রবাসজীবনের আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত কষ্টের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিদেশে আয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা হয় বেশি; পরিবার থেকে দূরে থাকতে গিয়ে কী কী মুহূর্ত হারিয়ে যায়, তা অনেক সময় চোখে পড়ে না। কানুপ্রিয়া বলেন, দুই বা তিন বছর পর দেশে ফিরে কেউ হয়তো হঠাৎ খেয়াল করেন, এই সময়ের মধ্যে মা-বাবার বয়স কতটা বেড়েছে। দূরে থাকার কারণে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও সশরীরে যোগ দেওয়া হয় না; ভিডিও কলেই উপস্থিত থাকতে হয়। অসুস্থ হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশে পরিবার না থাকলে ওষুধ খাওয়া, নিজের জন্য রান্না করা এবং দৈনন্দিন কাজ সামলাতে হয় নিজেকেই। কখনো অসুস্থ অবস্থায়ও কাজে যেতে হয় বলে জানান কানুপ্রিয়া। উৎসবের সময় দূরত্ব আরও বেশি অনুভূত হয় বলে তাঁর মন্তব্য। দেশে পরিবারের সবাই যখন একসঙ্গে উদ্যাপন করেন, তখন প্রবাসে থাকা কাউকে হয়তো নিয়মিত কর্মদিবস কাটাতে হয়। কানুপ্রিয়ার বক্তব্যের মূল কথা, বিদেশে জীবন গড়ার সিদ্ধান্তকে শুধু বেতনের অঙ্ক দিয়ে বোঝা যায় না। সেই জীবনের সঙ্গে পরিবার থেকে দূরে থাকার ব্যক্তিগত মূল্যও জড়িয়ে থাকে।
পড়াশোনার খরচ জোগাতে দেহব্যবসা ও বারে নাচ, সেই নাজ জোশী'র ৭ আন্তর্জাতিক খেতাব
মাকে ফোনে ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, কয়েক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, প্রেমিক গ্রে প্তা র
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের
জাপানের সমাজে বিয়ের পর সাধারণত নারীরা স্বামীর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হলেও দেশটিতে এর সম্পূর্ণ বিপরীত এক অদ্ভুত পারিবারিক ব্যবস্থাও বেশ প্রচলিত। ঐতিহ্যবাহী এই প্রথায় বিয়ের পর মেয়ের স্বামীকেই দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরাধিকারী বানানো হয়। ‘মুকোয়োশি’ বা ‘দত্তক ঘরজামাই’ নামের দীর্ঘদিনের এই সামাজিক ও আইনি রীতির মাধ্যমে জামাইরা শুধু পরিবারের সদস্যই হন না, বরং শ্বশুরবাড়ির পদবি, ব্যবসা, সম্পদ এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা উত্তরাধিকারেরও মূল কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুদের দত্তক নেওয়ার ধারণা প্রচলিত থাকলেও জাপানের মোট দত্তকের ৯০ শতাংশের বেশিই হলো ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। মূলত পারিবারিক আবেগ এবং ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা আজও পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে পুত্রসন্তান না থাকলে কিংবা নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে। সেই ব্যক্তি যদি নিজের মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হন এবং জন্মসন্তানের মতোই পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনাসহ সব দায়িত্ব ও অধিকার লাভ করেন। ‘মুকোয়োশি’ প্রথার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পদবি হারিয়ে যেতে না দেওয়া এবং শত বছরের পুরোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবারের ভেতরেই রাখা। জাপানে এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, পুত্রসন্তান বেছে নেওয়া যায় না, কিন্তু জামাই বেছে নেওয়া যায়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য সেখানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে। জাপানের বিশ্বখ্যাত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিহাসেও ‘মুকোয়োশি’ প্রথার গভীর প্রভাব রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকি নিজেও ছিলেন এই প্রথায় পরিবারে আসা একজন দত্তক ঘরজামাই। এছাড়া নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটার মতো জাপানি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের দত্তকের সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ায় প্রথাটি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যবস্থায় বিদেশিদেরও সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। অর্থাৎ, শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যক্তিও চাইলে জাপানি পরিবারের দত্তক সন্তান হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে দত্তক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া যায় না, এর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে জাপানের এই ‘মুকোয়োশি’ প্রথা নিছক কোনো দত্তক নেওয়ার গল্প নয়, বরং এটি বদলে যাওয়া সমাজের সঙ্গে ব্যবসা ও উত্তরাধিকার টিকিয়ে রাখার এক বিস্ময়কর কৌশল।
দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ
গ্রিসে পর্যটন এলাকায় গ্যাস বি স্ফোরণে ভবন ধস, ৪ মার্কিন পর্যটকসহ প্রাণ গেল ৬ জনের