সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বন্যায় প্লাবিত রাস্তায় নিজের বিনোদনের জন্য জেট স্কি চালিয়ে গ্রেফতার ব্যক্তি, বাহন বাজেয়াপ্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১০:৪১
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় জেট স্কি চালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও স্থগিত কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছিল পুলিশ। পরে আদালত জেট স্কিটিও বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন।

 

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংককের প্লাবিত একটি রাস্তায় ওই ব্যক্তিকে জেট স্কি চালাতে দেখা যায়। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, যানটি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করবে।

 

পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম নিয়ে থাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার বাথ জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ড কার্যকর না করে স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত জেট স্কি বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দিয়েছেন।

 

কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাংককের বহু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার মধ্যেই জেট স্কি চালানোর ঘটনাটি ঘটে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের মামলা নিজেই পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ টিচেনার। ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী

আইনজীবীর ফি বহন করতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজেই আদালতে মামলা পরিচালনা করে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক দমকলকর্মী। ক্রেইগ টিচেনার নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, সাবেক প্রেমিকাকে বিনিয়োগের জন্য দেওয়া এই অর্থ ফেরত পেতে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি নির্দেশনা নিয়েছিলেন এবং নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করেছিলেন। গত সপ্তাহে আদালত তার পক্ষে রায় দেয়।   ৪০ বছর বয়সী ক্রেইগ টিচেনার দুই সন্তানের বাবা এবং হিথ্রো বিমানবন্দরের দমকলকর্মী। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি একটি লটারির স্ক্র্যাচ কার্ডে ২ লাখ পাউন্ডের পুরস্কার জেতেন। এরপর ২০২২ সালে তিনি তৎকালীন প্রেমিকা হিদার ডগলাসকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেন। ডগলাসের আর্থিক বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে বলে তাকে ওই অর্থ বিনিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।   আদালতে বলা হয়, ক্রেইগ ও ডগলাসের মধ্যে ওই অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে একটি সমঝোতা ছিল। তারা অর্থটি প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সেখান থেকে পাওয়া লাভ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর ক্রেইগ তার দেওয়া ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত চাইলে ডগলাস তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।   অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য ক্রেইগ প্রথমে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আইনজীবীরা যে পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন তা তার পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই আদালতে নিজের মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন।   ক্রেইকের ভাষ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি তাকে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণের বিষয়ে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়। এসব সহায়তা নিয়ে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি আদালতে নিজের মামলা নিজেই উপস্থাপন করেন। তিনি স্বীকার করেন, নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করার সিদ্ধান্তটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে আইনজীবীর খরচ বহন করতে না পারায় তার মনে হয়েছিল, এ ছাড়া তার সামনে তেমন কোনো পথ ছিল না।   ক্রেইগ আরও বলেন, চ্যাটজিপিটির সহায়তা না পেলে তিনি হয়তো মামলায় জিততে পারতেন না। তবে আদালতের রায় চ্যাটজিপিটি দেয়নি। তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই সেবাটি তাকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও আদালতের প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করেছে।   অন্যদিকে, ডগলাস আদালতে দাবি করেন, ক্রেইগ যে ৪০ হাজার পাউন্ড তাকে দিয়েছিলেন সেটি ছিল উপহার। তবে তিনি এই দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে পারেননি। আদালতে নিজের ব্যাংক হিসাবের নথিও জমা দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর গত সপ্তাহে আদালত ক্রেইকের পক্ষে রায় দেয় এবং ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়ার পথ তৈরি হয়।   ডগলাস আলাদাভাবে ক্রেইকের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে ৪০ হাজার পাউন্ডের বিরোধে আদালতের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থটি উপহার ছিল কি না, সে দাবির পক্ষে প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   সূত্র: ইকোনমি ডট পিকে

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১২:৫৯
উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা, পাইলট গ্রেপ্তার, দাবি ইসরায়েলের

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে ব্যঙ্গ করে মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ভাষণের পর নেতানিয়াহুকে ভলডেমর্টের সাথে তুলনা করল ইরানি দূতাবাস

সহিংস ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, সন্দেহের তীর ওমানি নাগরিকের উপর

কারাগারে বিলাসী কক্ষ
কারাগারে বিলাসী কক্ষ, এসি-টিভি-ফ্রিজ; ইন্দোনেশিয়ায় বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার বোগর এলাকায় চিবিনং কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন বিলাসী আবাসনের সন্ধান পাওয়ার পর কারাগারের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশটির কারা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।   জাতীয় ন্যায়পাল কার্যালয়ের (ওম্বুডসম্যান) একটি আকস্মিক পরিদর্শনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর কারাগারের সাধারণ সেলের বাইরে একটি আলাদা আবাসিক কমপ্লেক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ১০টির বেশি ইউনিট ছিল। কয়েকটি ইউনিট দেখতে অনেকটা অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা অতিথিশালার মতো।   পরিদর্শনকারীরা কয়েকটি কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার, বড় পর্দার টেলিভিশন, ফ্রিজ, সোফা, বড় বিছানা ও খাবার টেবিল দেখতে পান। একটি ফ্রিজে অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ও পাওয়া যায়। কমপ্লেক্সে জিম এবং নির্মাণাধীন গলফ সিমুলেটরও ছিল।   ওম্বুডসম্যানের কর্মকর্তারা জানান, ওই আবাসিক এলাকায় বন্দিদেরও পাওয়া গেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু বন্দি সাধারণ কারা ব্লকের পরিবর্তে এসব বিশেষ স্থাপনায় অবস্থান করছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে এমন তথ্যও এসেছে যে, এসব সুবিধা ব্যবহারের জন্য অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা অর্থ নিয়েছে এবং কত টাকা লেনদেন হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন।   একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বন্দি এসব আবাসনের একটি ব্যবহারের জন্য সাপ্তাহিক প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে অর্থের প্রকৃত প্রাপক ও লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।   ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন ও সংশোধন মন্ত্রণালয় চিবিনং কারাগারের পাঁচ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কারাগারের প্রধান এবং নিরাপত্তা, বন্দি ব্যবস্থাপনা ও সাধারণ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়িত্ব থেকে সরানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কারাগার প্রধান উইসনু হানি পুত্রান্তো, নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ই গুস্তি বাগুস উইদিয়া পুত্রা, বন্দি ও শিশু বন্দিদের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান ইয়োসেফ জন ফেরি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিভাগের প্রধান আদি নুগরোহো নুর উইচাকসোনো এবং সাধারণ প্রশাসনের প্রধান দেনি সুগিয়ার্তো।   তদন্তের অংশ হিসেবে ৫২ জন বন্দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কারাগারের আরও কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার কথা রয়েছে।   কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ভবনগুলো মূলত কারা কর্মকর্তাদের সরকারি আবাসন হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। পার্লামেন্টারি শুনানিতে জানানো হয়, সেখানে মোট ১৬টি আবাসিক ইউনিট রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে ১৩টির সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পরিদর্শনের পর কিছু আসবাব ও সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। কারাগারের সাময়িকভাবে দায়িত্বহীন প্রধান স্বীকার করেছেন যে তিনি কিছু জিনিস সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়টিও তদন্তের অংশ হয়েছে।   ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ায় কারাগারে অর্থের বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পুরোনো অভিযোগকে আবার সামনে এনেছে। ২০১৮ সালে দেশটির সুকামিসকিন কারাগারে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের অর্থের বিনিময়ে উন্নত কক্ষ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি হয়েছিল।   চিবিনং কারাগারের বর্তমান ঘটনায় এখনো কোনো নির্দিষ্ট বন্দির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ঘুষ বা অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৯:৫৭
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বহুপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে দাবি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান নিয়ে গোপন আলোচনা! আমিরাতে নেতানিয়াহুর বৈঠকে ১০ দেশের অংশগ্রহণের দাবি

এফবিআইয়ের টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত হয়েছেন গোল্ডি ব্রার

এফবিআইয়ের টেন মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় গোল্ডি ব্রার, পুরস্কার ১০ লাখ ডলার

গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি করতে ডাকাতির নাটক সাজানোর ঘটনায় দোষ স্বীকার ভারতীয় ব্যক্তির

ইউ ভিসা পেতে ডাকাতির নাটক, ভারতীয় দোকানকর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো

ইরানি নারী
হিজাবের আড়ালে রাই/ফেল, ইরানি নারীদের যু/দ্ধ প্রস্তুতি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এবার দেশটির নারীদেরও সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। তেহরানে ‘জানফাদা’ নামে নতুন এক গণমোবিলাইজেশন কর্মসূচির অধীনে নারীদের অস্ত্র ব্যবহার, জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন প্রস্তুতি শেখানো হচ্ছে।   ২৯ সেপ্টেম্বর তেহরানে নারীদের জন্য প্রথম বিশেষায়িত ‘জানফাদা’ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের তাসনিম নিউজ। এতে সামরিক প্রস্তুতি, জরুরি সাড়া দেওয়া, গেরিলা কৌশল, টিকে থাকার দক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।   এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরানে আয়োজিত বিশাল ‘জানফাদায়ে ইরান’ সামরিক ধাঁচের সমাবেশেও অস্ত্র হাতে নারীদের দেখা যায়। এপি প্রকাশিত ছবিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারীদের রাইফেল হাতে মিছিল করতে দেখা গেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নারীদের প্রশিক্ষণের পরিধি শুধু রাইফেল ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাইক্রো-ড্রোন, নগরযুদ্ধ, জরুরি চিকিৎসা এবং কিছু ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণের কথাও এসেছে। তবে এসব প্রশিক্ষণের সব অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও বাসিজ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ‘জানফাদা’ কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ারে এরই মধ্যে বেসামরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্র চালু হয়েছে বলে ইরানওয়্যার জানিয়েছে। সেখানে অস্ত্র পরিচালনা, শুটিং এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরানের বিশাল সমাবেশটি ছিল এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য প্রদর্শনগুলোর একটি। এপি জানিয়েছে, সেখানে বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক সামরিক পোশাকে অংশ নেন এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। নারীদের রাইফেল হাতে মিছিল করতেও দেখা যায়।   ইরানি রাষ্ট্রীয় সূত্র দাবি করেছে, ওই কর্মসূচিতে তিন লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং ছয় লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবক সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তবে এই সংখ্যাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।   সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং সামরিক যান, ড্রোন ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়। নারীদের একটি অংশকে রাইফেল হাতে সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে দেখা যায়।   ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, লক্ষ্য হলো যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের জনগণকে দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসিজ বাহিনীর অধীনে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।    ইরানওয়্যার জানিয়েছে, কর্মসূচির পরিকল্পনায় জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন ও জরুরি সাড়া দেওয়ার ইউনিট গঠনের কথাও রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় নিরাপত্তা, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জরুরি প্রতিক্রিয়ার মতো বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নেওয়া মানেই তারা ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এটি মূলত রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রশিক্ষণ ও গণমোবিলাইজেশন কর্মসূচি। তবে সামরিক প্রশিক্ষণে নারীদের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ ইরানের বর্তমান যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রশিক্ষণে নারীদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত কার্যক্রম চালুর তথ্যও বিষয়টিকে আরও দৃশ্যমান করেছে।    ইরানের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে রয়েছে এবং তেহরান জনগণকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার বার্তা দিচ্ছে। ফলে রাইফেল হাতে ইরানি নারীদের ছবি এখন দেশটির যুদ্ধকালীন গণমোবিলাইজেশন প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৮:৭
মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

মাঝ আকাশে এক পাইলটকে ছু রি মারলেন আরেক পাইলট, হাইজ্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত যাত্রীরা

এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

এআইয়ের বিপদকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

0 Comments