সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা, অপুষ্টি ও চিকিৎসায় দেরি: মধ্যপ্রদেশে ৩২ শিশুর মৃত্যু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৯:৫৯
ভারতের দরিদ্রদের ছবি:সংগৃহীত।
ভারতের দরিদ্রদের ছবি:সংগৃহীত।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, মে মাস থেকে রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় এক বিধায়ক গত কয়েক মাসে ৪৩ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ওই ৪৩টির মধ্যে রোগজনিত মৃত্যুর পাশাপাশি অন্য কারণের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

ঘটনাটি মূলত বালাঘাটের বাইহার ও বিরসা এলাকার কয়েকটি দুর্গম বাইগা আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে বেশি দেখা গেছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকেরই জ্বর, শরীরে র‌্যাশ, শ্বাসকষ্ট, বমি, পানিশূন্যতা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ ছিল। পরীক্ষায় হাম বা মিজলস, ম্যালেরিয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে দুই রোগের একসঙ্গে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে সব মৃত্যুর জন্য একটি মাত্র রোগকে দায়ী করা যায়নি বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

সংকট আরও জটিল হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছাতে দেরি এবং কিছু পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসা বা স্থানীয় বিশ্বাস নির্ভর চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরতার কারণে।

 

আগস্টে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, কিছু পরিবার অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় ধর্মীয় চিকিৎসক বা ‘ফেইথ হিলার’-এর কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। কোথাও কোথাও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানও করা হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়েছে বলে চিকিৎসকদের অভিযোগ।

 

বিবিসির সাম্প্রতিক মাঠ-রিপোর্টেও এমন কয়েকটি পরিবারের কথা উঠে এসেছে। একটি ঘটনায় তিন বছরের এক শিশু জ্বর ও শরীরে ক্ষত নিয়ে অসুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসার আশ্রয় নেয় পরিবারটি। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাস থেকে বালাঘাটের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

তবে শিশুদের মৃত্যু সরাসরি ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার মতো প্রমাণ নেই। চিকিৎসা দেরি, দুর্গম এলাকা, অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, হাম, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য সংক্রমণ মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে।

 

সরকারি স্বাস্থ্য অভিযানে বিপুলসংখ্যক শিশুর অপুষ্টির চিত্রও পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭,৭১১ শিশুর গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৫১৮ জনকে পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়েছে। একই সময়ে ১৩ হাজারের বেশি শিশুর ডায়রিয়া এবং ২৭৪ শিশুর গুরুতর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুর শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারায়। এর সঙ্গে রক্তস্বল্পতা, পানিশূন্যতা এবং চিকিৎসা পেতে দেরি যুক্ত হলে সাধারণ সংক্রমণও মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কেন্দ্র ও মধ্যপ্রদেশ সরকার মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়িয়েছে। ১২ আগস্ট জাতীয় পর্যায়ের একটি যৌথ আউটব্রেক রেসপন্স টিম বালাঘাটে পাঠানো হয়। আইসিএমআরসহ বিভিন্ন সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। প্রায় ৫০টি গ্রামে নজরদারি, বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ৩২ হাজারের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ৪৩১ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭৯ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে এবং ৫২ জন চিকিৎসাধীন বা পর্যবেক্ষণে ছিল। এছাড়া ১ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত মিজলস-রুবেলা টিকা দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

 

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। বালাঘাটে ৩০-এর বেশি শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় আদালত রাজ্য সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ, নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছে। মামলায় প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি ও পর্যাপ্ত হাসপাতাল শয্যার অভাবের বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩২ শিশুর মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা থাকলেও প্রতিটি মৃত্যুর কারণ এখনো একইভাবে নির্ধারিত নয়। সরকারি পর্যালোচনায় হাম, ম্যালেরিয়া, দুই রোগের যৌথ সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও শকের মতো একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাটিকে শুধু ‘ধর্মীয় চিকিৎসার কারণে মৃত্যু’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে রোগ, অপুষ্টি, চিকিৎসা পেতে বিলম্ব এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা সংকট—সবগুলো কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
কর ফাঁকি দিয়ে হাজার কোটি ডলার সম্পদ পাচার করা হাইতির বিতর্কিত ধনকুবেরের প্রয়াণ

বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হাইতির সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গিলবার্ট বিজিও ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমণ করেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি দেশটির সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, কৃষিপণ্য, জ্বালানি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতে একক আধিপত্যের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল সম্পদ লুকিয়ে রাখা এবং নিজ দেশের মারাত্মক সহিংসতায় লিপ্ত সশস্ত্র বাহিনীকে অর্থায়নের আন্তর্জাতিক অভিযোগে তাঁর সুদীর্ঘ বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন ও বিতর্কিত হয়ে পড়ে।   গিলবার্ট বিজিও ১৯৭২ সালে জিবি গ্রুপ নামের এক বিশাল বহুভাষিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিজিও নামে পুনর্নামকরণ করা হয়েছিল। দেশের প্রথম ইস্পাত কারখানা আসিরি দ্য হাইতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে পুরো দেশের অর্থনীতিকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আধুনিক সময়ে এসে এটি মোট ১৩টি বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ৬টি প্রধান খাত জুড়ে পরিচালিত হতো। প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর এই বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক পুরো দেশের নির্মাণ সামগ্রী, আন্তর্জাতিক কনটেইনার বন্দর ব্যবস্থাপনা, পেট্রোলিয়াম পদার্থ এবং রান্নার তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করত।   ২০২১ সালে প্রকাশ পাওয়া বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টিকারী প্যান্ডোরা পেপার্স নামের আন্তর্জাতিক গোপন নথিপত্রে এই ধনকুবেরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে আসে। সেখানে উদঘাটন করা হয় যে নিজ দেশের চরম political ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে বিজিও পরিবার করমুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দ্বীপে শত শত গোপন অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের বিপুল অর্থ গোপন করে আসছিলেন। দেশের এই শীর্ষ ধনী পরিবার অত্যন্ত চতুরতার সাথে শত শত কোটি ডলার পাচার করে আমেরিকার মিয়ামি ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক এবং ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করেন, যার ফলে হাইতির রাষ্ট্রীয় অর্থভাণ্ডার বিশাল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।   আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ গবেষকরা সরাসরি প্রমাণ করেছেন যে হাইতির এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক দারিদ্র্যের পেছনে বিজিওর মতো প্রভাবশালী ধনী শ্রেণীর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার নীতি প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। কর আদায়ে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং বিজিওদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অক্ষমতার কারণে দেশের জনকল্যাণমূলক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর ২০২২ সালে হাইতির পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীকে মদদ দেওয়া ও সহিংসতায় অর্থায়নের অভিযোগে কানাডা সরকার বিজিওর ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবনের শেষ কয়েক দশকে গিলবার্ট বিজিও প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমেরিকার মিয়ামির অতি ধনী এলাকা এবং ডমিনিকান রিপাবলিকের বিলাসবহুল আবাসে বসবাস করতেন। বিতর্কিত ধনকুবের এবং আন্তর্জাতিক যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের বাজেয়াপ্ত করা বিলাসবহুল গাড়ি চড়া দামে কিনে নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্যমতে, ফ্লোরিডার নিজস্ব আবাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি এবং স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সূত্র: মিয়ামি হেরাল্ড

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১১:২৮
ভারতের দরিদ্রদের ছবি:সংগৃহীত।

ধর্মীয় চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা, অপুষ্টি ও চিকিৎসায় দেরি: মধ্যপ্রদেশে ৩২ শিশুর মৃত্যু

যাত্রী এবং এআই ক্যামেরা

গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হাসির রোল

বাংলাদেশ থেকে সুইডেনের শেনজেন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য সুইডেনের শেনজেন ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে বড় পরিবর্তন

পিংক ফোর্স
দিল্লিতে নারীর নিরাপত্তায় আসছে ‘পিংক ফোর্স’, স্কুল-মেট্রোতে থাকবে নারী পুলিশ

নয়াদিল্লি: নারীদের নিরাপত্তা জোরদারে দিল্লি পুলিশে বিশেষায়িত ‘পিংক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ টহল ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু।   প্রস্তাবিত এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশনসহ নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানো। বিশেষ করে যেসব সময় ও স্থানে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব এলাকায় নিয়মিত টহল ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।   দিল্লির এই উদ্যোগের মডেল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে গোয়া পুলিশের ‘পিংক ফোর্স’। গোয়ায় ২০২১ সালে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তার জন্য বিশেষায়িত এই ইউনিট চালু করা হয়েছিল।   দিল্লিতে নতুন ইউনিটটি আসলে একেবারে নতুন ধরনের নারী পুলিশিং নয়। এর আগে থেকেই দিল্লি পুলিশ নারী সদস্যদের স্কুটার ও বিট প্যাট্রোলে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বাজার ও মেট্রো স্টেশনের আশপাশে মোতায়েন করে আসছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য এসব কার্যক্রমকে একটি আলাদা ও সমন্বিত ‘পিংক ফোর্স’-এর আওতায় আনা।   এই উদ্যোগের পেছনে দিল্লিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর যৌন নির্যাতনের চারটি ঘটনা সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর জননিরাপত্তা ও পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর নতুন করে জোর দেওয়া হয়।   পিংক ফোর্সের পাশাপাশি দিল্লি পুলিশকে ‘অপারেশন শিষ্টাচার’-এর আওতায় প্রকাশ্য স্থানে নারীদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বাজার ও পরিবহনকেন্দ্রিক এলাকায় পায়ে হাঁটা ও মোটরসাইকেল টহলও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া পুলিশি অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ‘জন শুনানি’ কার্যক্রমের অভিযোগগুলো ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে শিশু সুরক্ষা, POCSO আইন, সাইবার অপরাধ, মাদক ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   দিল্লিতে নারী নিরাপত্তায় এরই মধ্যে ১১৬টি ‘পিংক বুথ’, সর্ব-মহিলা PCR ভ্যান এবং অন্যান্য নারী-কেন্দ্রিক পুলিশি উদ্যোগ চালু রয়েছে। জুন ২০২৬-এ উত্তর দিল্লির সবজি মান্ডি এলাকায় রাজধানীর প্রথম সর্ব-মহিলা থানাও চালু করা হয়।   তবে ‘পিংক ফোর্স’ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এটি এখনো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। বাহিনীতে কতজন সদস্য থাকবেন, কোন কোন জেলায় কতজন মোতায়েন হবেন এবং ঠিক কবে থেকে নিয়মিত টহল শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৩
আফগান নারীদের নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নারী সাংবাদিকের দিকে খাজা আসিফের বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি

আফগানিস্তানে ফিরলে নারী সাংবাদিকের গলা কা টার ইঙ্গিত খাজা আসিফের

দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও

দিল্লিতে বাংলাদেশসহ ১১ দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন, ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হলেন রুবিও

ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

ইরাকে মার্কিন সেনাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজের মামলা নিজেই পরিচালনা করেছেন ক্রেইগ টিচেনার। ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবীর ফি দিতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেলেন দমকলকর্মী

আইনজীবীর ফি বহন করতে না পেরে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় নিজেই আদালতে মামলা পরিচালনা করে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক দমকলকর্মী। ক্রেইগ টিচেনার নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, সাবেক প্রেমিকাকে বিনিয়োগের জন্য দেওয়া এই অর্থ ফেরত পেতে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি নির্দেশনা নিয়েছিলেন এবং নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করেছিলেন। গত সপ্তাহে আদালত তার পক্ষে রায় দেয়।   ৪০ বছর বয়সী ক্রেইগ টিচেনার দুই সন্তানের বাবা এবং হিথ্রো বিমানবন্দরের দমকলকর্মী। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তিনি একটি লটারির স্ক্র্যাচ কার্ডে ২ লাখ পাউন্ডের পুরস্কার জেতেন। এরপর ২০২২ সালে তিনি তৎকালীন প্রেমিকা হিদার ডগলাসকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেন। ডগলাসের আর্থিক বিষয়ে জ্ঞান রয়েছে বলে তাকে ওই অর্থ বিনিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।   আদালতে বলা হয়, ক্রেইগ ও ডগলাসের মধ্যে ওই অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে একটি সমঝোতা ছিল। তারা অর্থটি প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সেখান থেকে পাওয়া লাভ ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর ক্রেইগ তার দেওয়া ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত চাইলে ডগলাস তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।   অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য ক্রেইগ প্রথমে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আইনজীবীরা যে পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন তা তার পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই আদালতে নিজের মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন।   ক্রেইকের ভাষ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি তাকে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণের বিষয়ে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেয়। এসব সহায়তা নিয়ে তিনি সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি আদালতে নিজের মামলা নিজেই উপস্থাপন করেন। তিনি স্বীকার করেন, নিজের পক্ষে আদালতে লড়াই করার সিদ্ধান্তটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে আইনজীবীর খরচ বহন করতে না পারায় তার মনে হয়েছিল, এ ছাড়া তার সামনে তেমন কোনো পথ ছিল না।   ক্রেইগ আরও বলেন, চ্যাটজিপিটির সহায়তা না পেলে তিনি হয়তো মামলায় জিততে পারতেন না। তবে আদালতের রায় চ্যাটজিপিটি দেয়নি। তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই সেবাটি তাকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও আদালতের প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করেছে।   অন্যদিকে, ডগলাস আদালতে দাবি করেন, ক্রেইগ যে ৪০ হাজার পাউন্ড তাকে দিয়েছিলেন সেটি ছিল উপহার। তবে তিনি এই দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে পারেননি। আদালতে নিজের ব্যাংক হিসাবের নথিও জমা দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর গত সপ্তাহে আদালত ক্রেইকের পক্ষে রায় দেয় এবং ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়ার পথ তৈরি হয়।   ডগলাস আলাদাভাবে ক্রেইকের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও হয়রানির চেষ্টা করার অভিযোগও তুলেছিলেন। তবে ৪০ হাজার পাউন্ডের বিরোধে আদালতের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থটি উপহার ছিল কি না, সে দাবির পক্ষে প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি উপস্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   সূত্র: ইকোনমি ডট পিকে

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১২:৫৯
উড়োজাহাজে পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলা’ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের চেষ্টা, পাইলট গ্রেপ্তার, দাবি ইসরায়েলের

জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে ব্যঙ্গ করে মিম প্রকাশ করেছে ঘানায় ইরানের দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ভাষণের পর নেতানিয়াহুকে ভলডেমর্টের সাথে তুলনা করল ইরানি দূতাবাস

সহিংস ঘটনার পর ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরিকাঘাত, সন্দেহের তীর ওমানি নাগরিকের উপর

0 Comments