চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু, চলছে তদন্ত
ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ডে সড়ক থেকে গাড়ি ওয়্যার নদীতে পড়ে দুই কিশোর ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওয়্যারমাউথ ব্রিজের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নর্থামব্রিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন জ্যাকসন ডিউক, ১৭, লুক এথারিজ, ১৬, ও জারা শ, ১৬। গাড়িতে থাকা আরেক কিশোর নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছু আগে প্যানস ব্যাংক এলাকায় একটি কালো অডি এ৩ সড়ক থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর আসে। বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর রাতে তিনজনের মরদেহ পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার আঘাত গুরুতর ছিল না।
বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার সন্দেহে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্ত চলাকালে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে আইটিভি নিউজ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো গাড়ি জড়িত ছিল বলে মনে করছে না পুলিশ।
জ্যাকসন ও লুক সান্ডারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। জারা হাউটন লি স্প্রিং এলাকার বাসিন্দা ছিল। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকতে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
জারার পরিবার এক বিবৃতিতে মেয়ের প্রাণবন্ত স্বভাব, হাসি এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছে। এই কঠিন সময়ে সহমর্মিতা জানানো সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যত্নের কথাও উল্লেখ করেছে পরিবার।
দুর্ঘটনার পরদিন পুলিশ ডুবুরিরা গাড়িটিতে উদ্ধার সরঞ্জাম সংযুক্ত করেন। পরে ক্রেন দিয়ে সেটি নদী থেকে তোলা হয়। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে বা স্থানীয়ভাবে অনুমাননির্ভর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreচীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই সময়ে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। চীনা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। বাংলাদেশের তাজা আম ও কাঁঠাল ইতোমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পেয়ারা ও সুগন্ধি চাল চীনে রপ্তানির জন্য বাজার প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে। দুই দেশ বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাঠামোগত ভারসাম্য উন্নত করতে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। শুধু বাণিজ্য নয়, চীনা বিনিয়োগও বাংলাদেশে বাড়ছে। চীনা দূতাবাসের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচটি চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলও এই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অঞ্চলটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেখানে বস্ত্র ও পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অঞ্চলটিতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে। অবকাঠামো খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। চীনা দূতাবাস পদ্মা সেতুকে বাংলাদেশ ও চীনের অবকাঠামোগত সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়লা, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বলে দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লেও বাংলাদেশের জন্য চীনে রপ্তানি আরও বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তাই চীনের বিশাল বাজারে কৃষিপণ্য, পোশাকসহ অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো ভবিষ্যতে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান পরিসরকে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বাংলাদেশের পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডাকছেন ৭৭ বছরের ভারতীয় ব্যবসায়ী, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর কাণ্ড
চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু, চলছে তদন্ত
পেশাগত অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি ও তথ্য গোপনের দায়ে বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিল
কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তিকে হাজির করে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় প্রতিবেদনে তাঁকেই নিহত লস্কর ই তৈয়বা সদস্য হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আসিফকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রচারিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন সামরিক মুখপাত্র। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকায় অভিযানে মুহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা নামে লস্কর ই তৈয়বার এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডো হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আসিফ বলেন, তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর থেকে নিজ জেলা অ্যাটকে বসবাস করছেন। নিজের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান। আসিফের ভাষ্য, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের তিনি জানান, জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরিচয় স্পষ্ট করতেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান তিনি। আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে সাজানো বয়ান প্রচারের অভিযোগ করেন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ ফোরামে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তবে পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিই ভারতের অভিযানে নিহত বলে শনাক্ত করা ব্যক্তি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে বোমা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটি সরাসরি নাকচ করেননি। গত বুধবার ইসরায়েলের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিশোধ নেবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইরান যদি এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানা হবে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।" এদিকে, ইরানকে যেকোনো মূল্যে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ইরান যদি এই চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির "আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।" এর মাত্র কয়েকদিন আগেই অবশ্য ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে (IRNA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়াটি উপস্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করলেন জয়শঙ্কর