- প্রচ্ছদ
- Topic
ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের সারেতে ভ্যাপিংয়ে ছয় বছরের আসক্তির পর গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ফ্রেডি জানম্যান নামে এক তরুণকে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও আসক্তি এতটাই তীব্র ছিল যে, চিকিৎসক ও স্বজনদের আড়ালে হাসপাতালের বেড থেকেই ভ্যাপ টানতেন তিনি। ফ্রেডি মাত্র ১২ বছর বয়সে ভ্যাপিং শুরু করেন। তখন তার মনে হয়েছিল, সিগারেটের ধোঁয়ার তুলনায় ভ্যাপ অনেক কম ক্ষতিকর। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই পরিণত হয় তীব্র নিকোটিন আসক্তিতে। দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ বার পর্যন্ত ভ্যাপের টান নিতেন তিনি এবং ছয় বছরে ভ্যাপ ও রিফিলে প্রায় ৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেছেন বলে জানান। শৈশব থেকেই ফ্রেডির অ্যাজমা ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বারবার বুকে সংক্রমণ দেখা দিতে থাকে এবং চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকও নিতে হয়েছে। শুরুতে বাবা-মা ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভ্যাপিংয়ের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চলতি বছরের ৩০ মার্চ সকালে হঠাৎ বুকে তীব্র চাপ অনুভব করেন ফ্রেডি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে তার মনে হচ্ছিল, যেন সরু একটি স্ট্র দিয়ে শ্বাস নিচ্ছেন। পরে তার বান্ধবী জো হেনরিক তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরা জানান, তার অক্সিজেনের মাত্রা খুব কম ছিল এবং তাকে ভর্তি করা প্রয়োজন। পরে জানা যায়, ফ্রেডির ফুসফুসের একটি অংশ ধসে পড়েছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় নিউমোথোরাক্স বলা হয়। চার দিন হাসপাতালে অক্সিজেন নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তিনি গোপনে ভ্যাপিং চালিয়ে যান, যা তার দীর্ঘদিনের নিকোটিন আসক্তির গভীরতা প্রকাশ করে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ফ্রেডি বুঝতে পারেন, এভাবে চলা তার জন্য বিপজ্জনক। এরপর তিনি ভ্যাপিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্য তরুণদের ভ্যাপিংয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছেন তিনি। শিশু ও কিশোরদের ভ্যাপিং নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগও বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় শিশু ও কিশোরদের ভ্যাপিংয়ের সঙ্গে কাশি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিসের মতো উপসর্গ এবং অ্যাজমা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গরুর দুধে অ্যালার্জির কারণে পাঁচ বছর বয়সী বেনেডিক্ট ব্লাইথের মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে অ্যালার্জি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন বাধ্যতামূলক নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। বেনেডিক্টের পরিবারের দীর্ঘ প্রচারণার পর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। বেনেডিক্ট ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর স্কুলে গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শে আসার পর প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাক্সিয়ায় আক্রান্ত হয়। ইনকোয়েস্টে বলা হয়, তার মৃত্যুর কারণ ছিল গরুর দুধের প্রোটিনের কারণে দুর্ঘটনাজনিত অ্যানাফাইল্যাক্সিস। তদন্তে আরও উঠে আসে, স্কুলে অ্যালার্জি প্রতিরোধের কিছু ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং জরুরি অবস্থায় অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর ব্যবহারে দেরি হয়েছিল। বেনেডিক্টের জন্য স্কুলে তার বাবা-মায়ের দেওয়া ওট মিল্ক আলাদা করে রাখা হতো। কিন্তু ঘটনার দিন বিরতির পর তাকে যে পানীয় দেওয়া হয়েছিল, সেটি গরুর দুধের প্রোটিনের সংস্পর্শের সম্ভাব্য উৎস হয়ে ওঠে। শুরুতে তার বাড়ি থেকে আনা একটি বিস্কুটকে সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরে তদন্তে সেটি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কারণ ছিল না বলে উঠে আসে। বেনেডিক্টের মৃত্যুর পর তার মা হেলেন ও বাবা পিটার ব্লাইথ স্কুলে অ্যালার্জি নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রচারণা শুরু করেন। তাদের উদ্যোগের পর নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বেনেডিক্টস ল’। নতুন বিধিবদ্ধ নির্দেশনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালার্জি নিরাপত্তা নীতি তৈরি ও প্রকাশ করতে হবে। অ্যালার্জি সম্পর্কে সব কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং যেসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন, তাদের পৃথক স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা রাখতে হবে। গুরুতর অ্যালার্জির ঘটনা ও কাছাকাছি বিপদের ঘটনাগুলোও নথিভুক্ত করে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়া স্কুলগুলোকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর মজুত রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবার গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হলেও যাতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেটিই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইংল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনা ৬ জুলাই ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এই নিয়ম মূলত সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল, একাডেমি, ফ্রি স্কুল, বিশেষায়িত স্কুল ও বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য। বেনেডিক্টের পরিবারের প্রচারণার ফলে নতুন নিয়ম চালু হলেও তারা বলছে, শুধু নীতিমালা তৈরি করাই যথেষ্ট নয় - বাস্তবে শিক্ষক ও স্কুলকর্মীরা যেন তা সঠিকভাবে অনুসরণ করেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের মাটির গভীরে ৪৫ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিশাল সুপারভলকানোর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ইউনিভার্সিটি অব অসলো’র গবেষণায় জানা গেছে, প্রাচীন এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ঘটনা। গবেষকদের ধারণা, সুপারভলকানোটির কেন্দ্র বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের দ্য ওয়াশ এলাকার গভীরে চাপা পড়ে আছে। প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর আগে এর ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে কয়েকশ থেকে এক হাজার ঘনকিলোমিটার পর্যন্ত শিলা ও আগ্নেয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্ন্যুৎপাতের শক্তি কয়েক হাজার হাইড্রোজেন বোমার সমান হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব এত দিন সরাসরি বোঝা যায়নি। গবেষকরা প্রায় ৮০ বছর আগে নরফোকের নর্থ ক্রেক ও লিংকনশায়ারের ক্ল্যাক্সবি এলাকায় খনন করা বোরহোল থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো শিলার নমুনা নতুন প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করেন। সেখানে মানুষের চুলের ব্যাসের চেয়েও ছোট জিরকন ক্রিস্টাল বিশ্লেষণ করে আগ্নেয়গিরিটির বয়স নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, নরফোক ও লিংকনশায়ারের নমুনাগুলোর জিরকন প্রায় একই সময়ে তৈরি হয়েছিল। এগুলোর বয়স প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর। একই বয়সের আগ্নেয় ছাইয়ের স্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণেও নমুনাগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ওই সুপারভলকানোর অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছাই বাতাসে ভেসে প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় পৌঁছেছিল। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রধান গবেষক টিম ফ্যারো বলেন, নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের গভীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়াশ ইগনিয়াস কমপ্লেক্স অব ইস্টার্ন ইংল্যান্ড’ শিরোনামের গবেষণাপত্রে। তবে বর্তমান সময়ে এই আবিষ্কার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটি বহু কোটি বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা নেই। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন সুপারভলকানোর সন্ধান নয়, বরং কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং ইংল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মধ্যকার প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।
ইংল্যান্ডের রাঙ্কর্নে পুলিশের কাছ থেকে ই-স্কুটারে পালানোর সময় নিজের একটি ল্যাব্রাডর কুকুরকে ফেলে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী চার্লস ফয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কুকুরই পুলিশকে সরাসরি তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির চিলেকোঠায় ইনসুলেশনের নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ফয়কে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চলতি আগস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চেশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফয় তখন দুটি কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে একটি ই-স্কুটারে যাচ্ছিলেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি তা উপেক্ষা করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি সরু গলি ও বন্ধ সড়ক দিয়ে ই-স্কুটার চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়ের কাছ থেকে গাঁজার তীব্র গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। পালানোর সময় ই-স্কুটারের গতি ধরে রাখতে না পেরে একটি ল্যাব্রাডর পিছিয়ে পড়ে। ফয় কুকুরটিকে সেখানেই রেখে চলে যান। এরপর এক পুলিশ অফিসার গাড়ি থেকে নেমে কুকুরটির পিছু নেন। কুকুরটি সরাসরি বিখনফিল্ড রোডের একটি বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশও তাকে অনুসরণ করে সেখানে পৌঁছে যায়। বাড়িটি বাইরে থেকে খালি মনে হলেও ভেতরে তল্লাশি চালানোর সময় কর্মকর্তারা খোলা একটি চিলেকোঠার দরজা দেখতে পান। পরে ইনসুলেশনের কয়েকটি স্তরের নিচে লুকিয়ে থাকা ফয়কে খুঁজে বের করা হয়। পুলিশের কাছে ফয় দাবি করেন, তিনি চিলেকোঠায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং ওই রাতে ই-স্কুটার চালাননি। তবে আদালতে তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা, নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানো, ইন্স্যুরেন্স ছাড়া মোটরযান ব্যবহার এবং ড্রাগ টেস্টের নমুনা দিতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন। ওয়ারিংটন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে ৭ আগস্ট শুনানি শেষে ফয়কে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার বছর তিন মাসের জন্য তার ড্রাইভিং নিষিদ্ধ করা হয়। চেশায়ার পুলিশ পরে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তা কুকুরটির সঙ্গে কথা বলছেন এবং সেটিকে অনুসরণ করে তার মালিকের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তা মাইক স্মিথ বলেন, পালানোর সময় ফয় নিজের কুকুরকে ফেলে গেলেও কুকুরটি শেষ পর্যন্ত পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে দাঁড়ায় এবং তাদের সরাসরি মালিকের বাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির আনুগত্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মালিক পুলিশকে ফাঁকি দিতে চাইলেও, তার ফেলে যাওয়া সঙ্গীই শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে তার অবস্থান প্রকাশ করে দেয়।
মুখে কোনো মেকআপ না দিয়েই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন মেলিসা রউফ। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী প্রতিযোগিতার ৯৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে পুরো প্রতিযোগিতায় মেকআপ ছাড়া অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত সেরা ১৬ জনের তালিকায় জায়গা করে নেন। রউফের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেকআপ করতেন। নিজের স্বাভাবিক চেহারায় বাইরে যেতে স্বস্তি বোধ করতেন না তিনি। তবে ২০২২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে সেই অভ্যাস বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন রউফ। মিস লন্ডন প্রতিযোগিতায় কোনো মেকআপ ছাড়াই অংশ নেন তিনি। সেখানে ‘বের ফেস টপ মডেল’ পর্বে জয় পান, যা তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এরপর মিস ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন রউফ। পুরোপুরি মেকআপ ছাড়া মঞ্চে হাজির হন তিনি। প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ৯৪ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রতিযোগী, যিনি মেকআপ ছাড়াই পুরো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে স্বাভাবিক চেহারায় মঞ্চে ওঠার কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েননি রউফ। বরং ৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ১৬ জনের একজন হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। রউফ জানান, এই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে সুন্দর দেখাতে মেকআপ বা ফিল্টারের প্রয়োজন নেই। নিজের স্বাভাবিক চেহারা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী হওয়া সম্ভব। তার এই বার্তা বিশেষ করে তরুণীদের নিজেদের মতো করে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে উৎসাহিত করেছে। পরবর্তীতে মেকআপ ছাড়া সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ধারণাটিও আরও জনপ্রিয় হয়। রউফ নিজেও পরে এমন একটি প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি সম্পাদনা, ফিল্টার এবং নিখুঁত দেখানোর চাপ যখন মানুষের স্বাভাবিক চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে, তখন রউফের সিদ্ধান্ত ছিল নিজের চেহারাকে লুকিয়ে না রেখে স্বাভাবিকভাবেই মঞ্চে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী বার্তা।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকাগুলোর একটি স্যান্ডব্যাঙ্কসে একটি বিলাসবহুল বাড়িকে ঘিরে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সেলিয়া সয়্যার অভিযোগ করেছেন, পাশের বাড়ির মালিক পরিকল্পনা অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে এমনভাবে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যাতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডরসেটের পুল এলাকার স্যান্ডব্যাঙ্কসে অবস্থিত নিজের বহুমূল্য বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন সেলিয়া সয়্যার। এলাকাটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে বহু ধনী ব্যবসায়ী, তারকা ও ক্রীড়াবিদদের বাড়ি রয়েছে। বিরোধের সূত্রপাত হয় প্রতিবেশী নিল কেনেডি তার পুরোনো বাংলো ভেঙে তিনতলা আধুনিক বাড়ি নির্মাণের পর। সেলিয়ার দাবি, নির্মাণকাজের সময় অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে বাড়ির বারান্দা ও কিছু জানালার অবস্থান এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে সরাসরি তার বাগান ও ব্যক্তিগত সানবাথিং এলাকায় নজর দেওয়া সম্ভব। এতে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেলিয়া আরও অভিযোগ করেন, তিনি শুরু থেকেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে প্রতিবেশী নির্মাণে অনুমোদনের বাইরে পরিবর্তন আনার অভিযোগে তিনি আনুষ্ঠানিক আপত্তিও জানান। তার ভাষ্য, পরিকল্পনা অনুমোদনের নিয়ম যদি বাস্তবে কার্যকর না হয়, তাহলে সেই অনুমতির মূল্যই থাকে না। প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে পরে নির্মাণের কিছু অংশের জন্য রেট্রোস্পেকটিভ বা পরে অনুমোদনের আবেদন করা হলেও, এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। একই সময়ে সেলিয়ার নিজের বাড়ির একটি কাচঘেরা সানরুম নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটি রাখার অনুমতি পান তিনি। স্যান্ডব্যাঙ্কসকে প্রায়ই "ব্রিটেনের পাম বিচ" বলা হয়। সমুদ্র ও পুল হারবারের মনোরম অবস্থানের কারণে এখানকার বাড়িগুলোর দাম কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ঘটনাটি ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার, পরিকল্পনা আইন এবং প্রতিবেশীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার প্রশ্নে আবারও যুক্তরাজ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তীব্র গরমের মধ্যেও ভবনটি শীতল রাখার পরিবেশবান্ধব নকশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদটির ভূমিকা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার, ২০ জুলাই, কেমব্রিজের মিল রোডে অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান ধর্মীয় নেতা, মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বাগান ও ভবনের স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর জুতা খুলে নামাজের মূল কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন রাজা চার্লস। মসজিদটির নকশা ও নির্মাণে দেওয়া যত্নের প্রশংসা করে রাজা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত করার উদ্যোগ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় রাজা চার্লস সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কেমব্রিজকে শহরের মর্যাদা দেওয়ার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কেমব্রিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের মর্যাদা দিয়েছিলেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদকে ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভবনের ছাদে বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নিচতলায় থাকা উচ্চদক্ষ হিট পাম্প গরম ও ঠান্ডার সময় ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের কারণে তাপপ্রবাহের মধ্যেও মসজিদের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে। বড় আকারের ছাদের জানালা দিয়ে দিনের আলো প্রবেশ করায় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন কম হয়। প্রয়োজনের সময় কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এলইডি বাতি জ্বালানো হয়। হাতমুখ ধোয়ার ব্যবহৃত পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে শৌচাগার ও মসজিদ প্রাঙ্গণের বাগানে ব্যবহার করা হয়। সাইকেল রাখার ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংও ভবনটির পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার অংশ। প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদটিতে ২০১৯ সালে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। নামাজের স্থানের পাশাপাশি এতে নারীদের জন্য পৃথক সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও সভাকক্ষ, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার এবং ইসলামি নকশার বাগান রয়েছে। পরিদর্শন শেষে রাজা চার্লস মসজিদটির আন্তধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরিতে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল শেষে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পানির বোতলে লাগানো পেনাল্টি ‘চিট শিট’ ঘিরে কৌতূহল প্রকাশ করতে দেখা যায় লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে। ছবিতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের পানির বোতলে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারদের নামের পাশে তাদের শট নেওয়ার সম্ভাব্য দিক ও গোলরক্ষকের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নোট লেখা ছিল। অর্থাৎ ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে কীভাবে প্রতিপক্ষের শট মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রস্তুতি আগেই নিয়ে রেখেছিল ইংল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগই পায়নি ইংলিশরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। ফলে টাইব্রেকারের প্রয়োজন হয়নি এবং পিকফোর্ডের বোতলে থাকা নোটও মাঠে ব্যবহার করার সুযোগ আসেনি। ম্যাচ শেষে ভাইরাল হওয়া ছবিতে মেসি ও তার সতীর্থদের বোতলটি হাতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এটিকে বড় ম্যাচের আগে আধুনিক ফুটবলে কৌশলগত প্রস্তুতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন প্রস্তুতি নতুন নয়। বড় টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে গোলরক্ষকদের জন্য প্রতিপক্ষের পেনাল্টি নেওয়ার ধরণ, পছন্দের দিক ও পূর্ববর্তী রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষ নোট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করে কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দল। অতীতেও বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিভিন্ন দলের গোলরক্ষকদের বোতলে এ ধরনের তথ্যসংবলিত নোট দেখা গেছে। যদিও পিকফোর্ডের প্রস্তুতি মাঠে পরীক্ষার সুযোগ পায়নি, তবু তার পানির বোতলে থাকা সেই ‘চিট শিট’ ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক শেরউড অরণ্যে অবস্থিত এবং বিশ্বখ্যাত কিংবদন্তি নায়ক রবিন হুডের লোকগাথার সঙ্গে মিশে থাকা প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ‘মেজর ওক’ গাছটি মারা গেছে। যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ বন্যপ্রাণী ও পাখি সংরক্ষণ সংস্থা আরএসপিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যন্ত দুঃখজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ইতিহাস, বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি এবং রোমাঞ্চকর লোককথার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই অনন্য গাছটির মৃত্যুকে শেরউড অরণ্যের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন ইতিহাসবিদেরা। যুক্তরাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশালাকৃতির এই প্রাচীন ওক গাছটির বয়স প্রায় ১ হাজার ২০০ বছর বলে ধারণা করা হতো। প্রায় ৩৬ ফুট পরিধির বিশাল কাণ্ড এবং চারদিকে বিস্তৃত অসংখ্য আঁকাবাঁকা ডালপালার কারণে এই গাছটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ পর্যটকদের কাছে সব সময়ই এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আরএসপিবি জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই গাছটির স্বাস্থ্য দৃশ্যমানভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছিল। সর্বশেষ চলতি বসন্তে গাছটিতে কোনো নতুন সবুজ পাতা না গজানোয় উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন যে গাছটি আর জীবিত নেই। আরএসপিবি শেরউড ফরেস্টের সিনিয়র সাইট ম্যানেজার হলি ড্রেক এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলেন, এ বছর মেজর ওক গাছে একটিও নতুন পাতা না আসা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। বহু বছর ধরে যারা এই ঐতিহাসিক গাছটির দেখভাল করেছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা এটি এক নজর দেখতে এসেছেন, সবার জন্যই এটি একটি বড় ধাক্কা। তবে রবিন হুড ও শেরউড অরণ্যের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত থাকার কারণে মেজর ওকের অনন্য উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে এবং মানুষের মনে এটি বেঁচে থাকবে। উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা গাছটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো একক কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি। তবে মাটির দুর্বল গুণগত মান, মাটির নিচের শিকড়ের অভ্যন্তরীণ ক্ষয় এবং গাছটির বিশালাকৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ধাতব সমর্থন কাঠামো ও কৃত্রিম আবরণকে অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে টিকিয়ে রাখার এই বাড়তি ব্যবস্থাগুলো গাছটির স্বাভাবিক বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে থাকতে পারে। এছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ এবং খরাও গাছটির অকাল মৃত্যুতে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মেজর ওক আর জীবিত না থাকলেও এটিকে শেরউড অরণ্য থেকে উপড়ে ফেলা হবে না, বরং যেভাবে আছে সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হবে। তাদের মতে, মৃত গাছটি ভবিষ্যতেও প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে টিকে থাকবে এবং পচনশীল কাঠনির্ভর বিভিন্ন বন্য প্রাণী, কীটপতঙ্গ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে কাজ করবে। যুগ যুগ ধরে রবিন হুডের গল্পের খোঁজে আসা দর্শনার্থীরা এই মৃত গাছটি দেখেই অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করতে পারবেন। তবে এই বেদনার মাঝেও প্রকৃতির নিয়মে একটি আশার খবর জানিয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা আরএসপিবি। মৃত্যুর পূর্বে মূল মেজর ওক গাছ থেকে সংগ্রহ করা অ্যাকর্ন বা ওক ফল এবং ডালপালা থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু নতুন চারা গাছ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেজর ওকের বংশধর হিসেবে এই চারাগুলো রোপণ করা হয়েছে। এই নতুন চারাগুলোর সফল বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী শতাব্দীগুলোতেও এই ঐতিহাসিক ও প্রাচীন গাছের অনন্য উত্তরাধিকার পৃথিবীতে টিকে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: এবিসি৭
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।