সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

লিভ-ইন পার্টনারের বাবা-মা ও বোনকে হ ত্যা, এআইকে প্রশ্ন করেই ফাঁসলেন হ ত্যা কারী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:১৬
এআই অনুসন্ধান ঘিরে বেঙ্গালুরুর চাঞ্চল্যকর হ ত্যা কাণ্ড
এআই অনুসন্ধান ঘিরে বেঙ্গালুরুর চাঞ্চল্যকর হ ত্যা কাণ্ড

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হ ত্যা র ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ হ ত্যা কাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষকে আ ক্র ম ণ ও অক্ষম করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তার ল্যাপটপের অনুসন্ধান ইতিহাস পরীক্ষা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কে আর পুরম এলাকার সিগেহাল্লির সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে। নি হ তরা হলেন কেনেথের লিভ ইন পার্টনার শ্বেতা সোমাসুন্দরের বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া। তিনজনই ধারালো অ স্ত্রের আঘাতে নি হ ত হন। মামলায় কেনেথ ও শ্বেতা দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বেঙ্গালুরু পুলিশ আদালতে ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনেথের ল্যাপটপে বেশ কিছু উদ্বেগজনক অনুসন্ধানের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

 

পুলিশের দাবি, কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে রান্নাঘরের ছুরি ব্যবহার করে কাউকে প্রা ণ ঘা তীভাবে আ ক্র ম ণ করা, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন করা, একাধিক ব্যক্তিকে অক্ষম করা এবং হা ম লার পরিস্থিতিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ইতিহাসে ব্যবহৃত প্রা ণ ঘা তী অ স্ত্র সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

 

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রশ্নের উত্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী জানিয়েছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার সময় কেনেথের ল্যাপটপে থাকা গুগলের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রশ্নগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা তাই এখন পর্যন্ত মূলত তার করা অনুসন্ধানগুলোকে ডিজিটাল প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

 

এর আগে জুলাই মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, কেনেথ কয়েক মাস ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ ত্যা কাণ্ড এবং পরে প্রমাণ গোপন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কীভাবে র ক্তের দাগ পরিষ্কার করা যায়, ম র দে হ সরানো বা গোপন করা যায় এবং পরিকল্পিত ক্লাউড কিচেনের জন্য তৈরি একটি চুল্লি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, এমন বিষয়ও তার অনুসন্ধানে ছিল বলে তখন দাবি করেছিলেন তদন্তকারীরা।

 

মামলার সাম্প্রতিক চার্জশিটে আর্থিক বিরোধকেও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতা এক বছরের মধ্যে কেনেথের জন্য মোট প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসার জন্য ৩০ লাখ রুপির ঋণ, দুটি ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ এবং বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ছিল।

 

ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় একটি ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার বাবা-মায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এর পরই তার পরিবার বড় অঙ্কের ঋণের বিষয়টি জানতে পারে। চার্জশিট অনুযায়ী, এ নিয়ে শ্বেতার বাবা-মা ও কেনেথের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সোমাসুন্দর কেনেথের কাছে অর্থের ব্যবহার এবং ঋণের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পুলিশের অভিযোগ, ২২ জুন রাতে সেই বিরোধের পর শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়ার ওপর হা ম লা চালান কেনেথ। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় সোমাসুন্দর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যদের কাছে ভেতরে তার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হা ম লার কথা জানান বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে তার মৃ ত্যু হয়। মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াকেও একাধিক ধারালো অ স্ত্রের আঘাতসহ পাওয়া যায় এবং তারা মা রা যান।

 

আদালতে রেকর্ড করা শ্বেতার বক্তব্যও চার্জশিটে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কেনেথের বিরুদ্ধে তার বাবা-মা ও বোনকে আ ক্র ম ণের অভিযোগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেনেথ ও শ্বেতাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

 

তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়ার মিশ্রণ থাকা একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সাইদুলু আদাভাত জানিয়েছেন, বোতলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যাপটপে পাওয়া অনুসন্ধানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের এই আলামতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফল ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।

 

ঘটনার দুই দিন পর ২৪ জুন পুদুচেরি থেকে শ্বেতাকে গ্রে প্তা র করে পুলিশ। এর দুই দিনের মধ্যে কেনেথকেও গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংগ্রহ করা হয়।

 

এই মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারীরা এখনো বলেননি যে কোনো এআই ব্যবস্থা হ ত্যা কাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বা অ প রা ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি অ প রা ধের আগে কী ধরনের তথ্য খুঁজেছিলেন এবং সেই অনুসন্ধানগুলো পরিকল্পিত হ ত্যা র অভিযোগের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত।

 

বেঙ্গালুরু পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটের ভিত্তিতে এখন আদালতেই নির্ধারিত হবে ডিজিটাল অনুসন্ধান, আর্থিক বিরোধ, ফরেনসিক আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ‘প্লেগে দ্বিতীয় মৃত্যুর’ দাবি, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার দ্বিতীয় একজনের মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাড জানিয়েছে, ইরকুতস্ক ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর কারণ প্লেগ হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দ্বিতীয় মৃত্যুকে প্লেগজনিত মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেনি। বরং রাশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছে, ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ রোগী শনাক্ত হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ শুরু হয় ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী কর্মী দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি গবেষণাগারে কাজ করার সময় প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। তবে এই দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিপিলোভা অজানা উৎসের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি এবং অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।   মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানায়, রাশিয়া তাদের কাছে ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণ নেই বলে জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ার বলেন, মৃত কর্মীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের নমুনায় বিপজ্জনক সংক্রামক জীবাণু শনাক্ত হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   তবে শিপিলোভার নিজের নমুনায় প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল কি না কিংবা তার ক্ষেত্রে প্লেগকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যমে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিল্যাড জানিয়েছে, কয়েকটি রুশ সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত খবর পরে আর দেখা যায়নি। তবে ওই প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের ৬০ জনের বেশি কর্মীকেও কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে রাখা হয়।   ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতাল এবং মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানেও বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হয়েছে। দ্য মস্কো টাইমস জানিয়েছে, একটি মাতৃসেবা কেন্দ্রে রোগীদের সম্ভাব্য প্লেগ সংস্পর্শ নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   রসপোত্রেবনাদজর মঙ্গলবার ইরকুতস্ক অঞ্চলে কঠোর স্যানিটারি বিধিনিষেধ জারির খবরও অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দাবি সত্য নয় এবং অঞ্চলের মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   ঘটনার পর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমান্তের স্যানিটারি ও কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্য পরিবহনেও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কাজাখস্তানও রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   প্লেগ ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর নিউমোনিক ধরন ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর হতে পারে। তবে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত হলে রোগটির চিকিৎসা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিউমোনিক প্লেগ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং সংক্রমিত শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।   বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্কে প্লেগের প্রাদুর্ভাব বা দ্বিতীয় প্লেগজনিত মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। ফলে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উভয়ই এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:৪০
এআই অনুসন্ধান ঘিরে বেঙ্গালুরুর চাঞ্চল্যকর হ ত্যা কাণ্ড

লিভ-ইন পার্টনারের বাবা-মা ও বোনকে হ ত্যা, এআইকে প্রশ্ন করেই ফাঁসলেন হ ত্যা কারী

স্কুলের ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মুখে শিক্ষক

স্কুলের ডিভাইসে পর্ণো গ্রাফি দেখার অভিযোগে শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করল কর্তৃপক্ষ

দিল্লির পাঁচ তারকা হোটেল ঘিরে নারীর অভিযোগ

জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ তারকা হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে না দেওয়ার লাইভে এসে নারীর ক্ষোভ

উচ্চ ভবনে কাজের সময় ব্যবহৃত নিরাপত্তার দড়ি কেটে ফেললেন বৃদ্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধী জোটের, পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষার্থী ভিসায়

ক্ষমতায় গেলে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির বিরোধী লিবারেল ও ন্যাশনাল দলের জোট। মঙ্গলবার ঘোষিত প্রস্তাবে প্রথম দুই বছর বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর একে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা বলে দাবি করেছেন।   নিট অভিবাসন বলতে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে আসা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য বোঝায়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০। বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় প্রথম দুই বছর তা বছরে ১ লাখ এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে রাখার কথা বলা হয়েছে।   জোটের প্রকাশিত নীতিপত্রে চার বছরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সংখ্যাটি চার বছরে দেওয়া নতুন ভিসা কমানোর হিসাব নয়। নীতিপত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি বছরে ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাবও আছে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়নরত এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার পর থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   মানবিক ভিসার বার্ষিক সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে তারা। নীতিপত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় পারিবারিক পুনর্মিলনের ভিসায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই।   টেইলরের দাবি, অভিবাসীর সংখ্যা কমলে আবাসন, স্কুল, সড়ক ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য তাঁর জোটকে আগে ক্ষমতায় আসতে হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে বা কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য মঙ্গলবারের ঘোষণায় ভিসার নিয়ম এখনই বদলে যায়নি।   সূত্র: বিরোধী জোটের নীতিপত্র, এএফপি ও রয়টার্স।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:২৫
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য বাড়ছে আইনি ঝুঁকি, একটি ভুলেই জেল ও ডিপোর্টেশন

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

কাশ্মীর থেকে ১৫০ বাংলাদেশি গ্রেফতার, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তার
পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তার, মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সকালে ভোট দেওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। পরে দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে আটক করার কথা জানালেও পরবর্তী আপডেটে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।    সকালে ভোট দেওয়ার পর হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, তাঁর দলের পোলিং এজেন্ট ও সমর্থকদের বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে পুলিশ তাঁকে দলীয় কার্যালয় থেকে নিয়ে যায়।    বাংলা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে বিতর্কের সময় হুমায়ুন কবীর কঠোর ভাষায় পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করেন। পুলিশ তাঁর বক্তব্য ও আচরণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে মনে করে। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কোন ধারায় মামলা হয়েছে বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন রেজিনগরে গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন চলছে। এই আসনটি আগে হুমায়ুন কবীরের দখলে ছিল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর ও নওদা দুই আসন থেকেই জয়ী হন। পরে নওদা আসন ধরে রেখে রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।    রেজিনগরের এই উপনির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমসহ আরও কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ভোটের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।    হুমায়ুন কবীর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। একই বছরের ডিসেম্বরে ওই উদ্যোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তাঁর অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। পরে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।    বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সে সময় রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, বিরোধিতা হলেও তিনি পরিকল্পনা থেকে সরে যাবেন না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে তাঁর উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। বিজেপিও ওই উদ্যোগের সমালোচনা করেছিল।    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও হুমায়ুন কবীর ও পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রের অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। সে সময় তাঁকে আবার থানায় হাজির হওয়ার নোটিশও দেওয়া হয়। কবীর তখন অভিযোগ করেছিলেন, উপনির্বাচনের আগে তাঁকে ও তাঁর দলকে লক্ষ্য করে পুলিশি চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর সেই রাজনৈতিক অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।    মঙ্গলবারের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। রেজিনগরসহ সংশ্লিষ্ট উপনির্বাচনের ভোট গণনা হওয়ার কথা ৯ অক্টোবর।    হুমায়ুন কবীরকে প্রথমে আটক করা হয়েছে নাকি সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিয়ে দিনের শুরুতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়। এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা প্রথম দিকে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায়। পরে আজতক ও বাংলা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আপডেটে তাঁকে গ্রেপ্তার করার কথা বলা হয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলার ধারা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ হওয়ার পর ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।   সূত্র: চ্যানেল ২৪

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১:২৪
শাবানা মাহমুদ

নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসার পথে নারীদের ভয়াবহ নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার প্রায় সবাই

ভারতে প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা থমকে গেল, রুশ তেল নিয়ে বাড়ছে শুল্কের চাপ

কম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে আটতলা থেকে টিনের ছাদে পড়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

আটতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়েও উঠে ফোনে ব্যস্ত নারী, রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য

0 Comments