নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন কিংবা অফিস পার্টিতে বিরিয়ানি, কাবাব, রোস্টসহ দেশি খাবারের চাহিদা রয়েছে। অনেকেই পরিচিতজনের অর্ডার নিয়ে নিজের বাসার রান্নাঘর থেকেই ছোট পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন। তবে মাংস, মাছ বা এমন খাবার, যেগুলো নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ প্রয়োজন, সেগুলো নিউইয়র্কের সাধারণ হোম প্রসেসর ছাড়ের আওতায় পড়ে না। ফলে নিয়মিত ক্যাটারিং ব্যবসা করতে চাইলে শুরুতেই বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামো, অনুমোদিত রান্নাঘর, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুমতি এবং করসংক্রান্ত নিয়ম বুঝে এগোতে হবে।
প্রথমেই ব্যবসার আইনি কাঠামো ঠিক করতে হবে। কেউ একক মালিকানা, অংশীদারি ব্যবসা বা এলএলসি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। এলএলসি করলে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে ‘আর্টিকেলস অব অর্গানাইজেশন’ জমা দিতে বর্তমানে ২০০ ডলার ফাইলিং ফি লাগে। নিউইয়র্কে অধিকাংশ নতুন এলএলসিকে প্রতিষ্ঠার পর নির্ধারিত দুটি সংবাদপত্রে টানা ছয় সপ্তাহ নোটিশ প্রকাশ করতে হয়। এরপর ১২০ দিনের মধ্যে ‘সার্টিফিকেট অব পাবলিকেশন’ জমা দিতে হয়। এই সার্টিফিকেট জমার সরকারি ফি ৫০ ডলার। তবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের খরচ কাউন্টি ও পত্রিকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ খাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে বাজেট করা ঠিক হবে না।
এরপর ব্যবসার জন্য আইআরএস থেকে ‘ইআইএন’ নেওয়া যায়। কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক কাজে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু এলএলসি করলেই ব্যক্তিগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যবসার কাঠামো, চুক্তি, বীমা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অর্থ আলাদা রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যাটারিং ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় খাবার তৈরি হবে। নিউইয়র্ক স্টেটের ‘হোম প্রসেসর এক্সেম্পশন’ নির্দিষ্ট কিছু অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির খাবারের জন্য প্রযোজ্য। কিছু বেকড পণ্য, ক্যান্ডি, গ্র্যানোলা বা এ ধরনের অনুমোদিত খাবার ঘরে তৈরি করা গেলেও মাংস, মাছ, পোলট্রি এবং যেসব খাবার ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো এই ছাড়ের আওতায় নেই।
ফলে বিরিয়ানি, মাংসের কারি, রোস্ট বা কাবাবের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্যাটারিং মেনু বাসার রান্নাঘরে তৈরি করে সাধারণ হোম প্রসেসর অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।
এ ধরনের ব্যবসার জন্য অনুমোদিত বাণিজ্যিক বা শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করা একটি প্রচলিত পথ। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করেও খাবারের ব্যবসা চালাতে ‘ফুড সার্ভিস এস্টাবলিশমেন্ট পারমিট’ প্রয়োজন হতে পারে। বেশিরভাগ লাভজনক খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পারমিটের বর্তমান বার্ষিক ফি ২৮০ ডলার। শেয়ার্ড কিচেনে জায়গা ভাড়া নিয়ে কাজ করা শেফ বা রাঁধুনির ক্ষেত্রেও ২৮০ ডলারের পারমিট ফি প্রযোজ্য বলে সিটির আবেদনপত্রে উল্লেখ আছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, সম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ২২ দিন পর ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ রয়েছে, পারমিট তখনও হাতে না এলেও। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্বাস্থ্যবিধির অন্য শর্তগুলো উপেক্ষা করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন পরবর্তী সময়ে পরিদর্শন করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধির সব শর্ত পূরণ করতে হবে। ২২ দিনের আগেই ব্যবসা চালু করতে চাইলে প্রি-অপারেটিং ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়।
খাবার তৈরির সময় একজন যোগ্য ‘ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট’ধারী ব্যক্তির উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন ‘ফুড প্রোটেকশন কোর্স’ বিনামূল্যে করা যায়। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে প্রায় ২৪ ডলার ফি রয়েছে এবং পরীক্ষা সরাসরি নির্ধারিত কেন্দ্রে দিতে হয়। যে ব্যক্তি খাবার তৈরির কার্যক্রম তদারকি করবেন, তাকে প্রতিষ্ঠান চালু থাকা অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুতির কাজের ওপর নজর রাখতে হয়।
করসংক্রান্ত বিষয়ও শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। নিউইয়র্কে যেসব ব্যবসা করযোগ্য পণ্য বা সেবা বিক্রি করে, তাদের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স থেকে ‘সার্টিফিকেট অব অথরিটি’ নিতে হয়। সাধারণভাবে ব্যবসা শুরু করার অন্তত ২০ দিন আগে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়।
ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে খাবার, পানীয় এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকাংশ খরচ করের আওতায় পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখানো সার্ভিস চার্জ বা অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও পুরো ক্যাটারিং বিলের করযোগ্য অংশ হতে পারে।
কর্মী থাকলে বীমার নিয়মও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের সরকারি পারমিট বা লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী ব্যবসাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ওয়ার্কার্স কমপেনসেশন’, ‘ডিসঅ্যাবিলিটি’ এবং ‘পেইড ফ্যামিলি লিভ’ কভারেজের প্রমাণ দিতে হয়। তবে সব ব্যবসার পরিস্থিতি এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে কভারেজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হলে নির্ধারিত এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারে। ফলে কর্মী নেই এমন ছোট ব্যবসা এবং কর্মীসহ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক হবে না।
অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের পরিকল্পনা থাকলে আলাদা লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট লিকার অথরিটির ‘অফ-প্রিমাইসেস ক্যাটারিং এস্টাবলিশমেন্ট লাইসেন্স’-এর বর্তমান ফি নিউইয়র্ক, কিংস, ব্রঙ্কস ও কুইন্স কাউন্টিতে ৩ হাজার ১০২ ডলার। এর মধ্যে ২০০ ডলারের ফাইলিং ফি অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, সেটি ব্যবসার কার্যক্রম এবং অ্যালকোহল বিক্রির ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।
কর্মী নিয়োগ করলে বেতনের নিয়মও মাথায় রাখতে হবে। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। হসপিটালিটি শিল্পের যোগ্য খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নগদ মজুরি ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬৫ ডলার টিপ ক্রেডিট মিলিয়ে ১৭ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পূরণ করা যায়। তবে টিপ পেলেই সব কর্মীর ক্ষেত্রে এই কম নগদ মজুরি প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।
আরেকটি পরিবর্তন এসেছে বাণিজ্যিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। নিউইয়র্ক সিটির ‘কমার্শিয়াল ওয়েস্ট জোনস’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় চালু হচ্ছে। কোনো এলাকার বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সেখানকার ব্যবসাকে ওই জোনের অনুমোদিত বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুরো শহরের সব জোন একই সময়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই ব্যবসার ঠিকানা কোন জোনে পড়ছে এবং সেখানে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে ক্যাটারিং ব্যবসা শুরু করতে সবার জন্য একই ধরনের নির্দিষ্ট মোট খরচ নেই। এলএলসি ফাইলিং, প্রকাশনা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, কিচেন ভাড়া, বীমা, বর্জ্য সংগ্রহ, কর্মী এবং প্রয়োজন হলে অ্যালকোহল লাইসেন্সের কারণে বাজেট দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই কয়েক হাজার ডলারের একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজকে সরকারি বাধ্যতামূলক খরচ হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে প্রতিটি খাত আলাদাভাবে হিসাব করাই নিরাপদ।
বাংলাদেশি কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে ছোট পরিসরে শুরু করতে চাইলে আগে বৈধ কিচেন ও প্রয়োজনীয় পারমিট নিশ্চিত করে সীমিত মেনু দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। মেনুতে প্রতি ট্রে বা প্রতি ব্যক্তির দাম, সর্বনিম্ন অর্ডার, ডেলিভারি চার্জ এবং কতজনের খাবার হবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করলে গ্রাহকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কমে। একই সঙ্গে প্রতিটি অর্ডারের চালান, বিক্রয় কর এবং ব্যবসার আয়-ব্যয়ের রেকর্ড নিয়মিত সংরক্ষণ করা উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসার রান্নাঘর থেকে পরিচিতজনকে খাবার দেওয়া আর নিয়মিত বাণিজ্যিক ক্যাটারিং পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। অর্ডার বড় হওয়ার আগেই ব্যবসার কাঠামো, অনুমোদিত কিচেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট, বিক্রয় করের নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় বীমা গুছিয়ে নিলে পরে জরিমানা বা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
তবে নিয়ম ও ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০০৯ সালের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হা ম লা চালিয়ে ১৩ জনকে হ ত্যা র দায়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড পাওয়া সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের সাজা ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এখন সাজা কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন আর্মি সেক্রেটারি। তবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরও তাৎক্ষণিকভাবে সাজা কার্যকর হচ্ছে না। নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং মেজর পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গু লি চালান। এতে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নি হ ত হন। আ হ ত হন আরও ৩২ জন। ঘটনাস্থলে পুলিশের গু লিতে হাসানও আ হ ত হন এবং পরে আংশিকভাবে প ক্ষা ঘা তগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতের জুরি তাকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা ও হ ত্যা চেষ্টার মোট ৪৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করেন এবং হা ম লার দায় অস্বীকার করেননি। আদালতে হাসান বলেছিলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন ঠেকানো এবং বিদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ করতেই তিনি হা ম লা চালিয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্য আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ড ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের সুপারিশ করেন এবং ট্রাম্প তা অনুমোদন করেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর অত্যন্ত বিরল। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ১৯৬১ সালে সেনাসদস্য জন বেনেটের সাজা কার্যকর করেছিল। তাকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেওয়া হয়। আর সামরিক ফা য়া রিং স্কোয়াডে সর্বশেষ পরিচিত সাজা কার্যকরের ঘটনা ঘটে ১৯৪৫ সালে। ট্রাম্পের অনুমোদনের পরও হাসানের সামনে আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে। সামরিক মৃত্যুদণ্ডের মামলায় পরবর্তী আইনি আবেদন এবং ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে। ফলে সাজা কার্যকরের সময়সূচি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করতে পারে। বর্তমানে হাসান কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থের সামরিক কারাগারে রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সামরিক মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা চারজন বন্দির একজন। মার্কিন আর্মির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ৬০ দিনের আগে সাজা কার্যকর করা যাবে না। সাধারণভাবে ১৫০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার কাঠামো রয়েছে। তবে আদালতে নতুন আবেদন হলে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। হাসানের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের আলোচিত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর একটি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার ১৬ বছর পর ট্রাম্পের অনুমোদনে সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নজর থাকবে সাজা কার্যকরের দিন-স্থান নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য নতুন আইনি পদক্ষেপের দিকে। সাজা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে ছয় দশকেরও বেশি সময় পর কোনো মার্কিন সেনাসদস্যের মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর করবে দেশটির সামরিক বাহিনী।
মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা
নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড
যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে টাকা পড়ে আছে অথচ জানেন না, খুঁজে দেখবেন যেভাবে
নিউইয়র্ক সিটির চাইল্ড কেয়ার ভাউচারের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সোমবার, ৫ অক্টোবর সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহে তালিকায় থাকা পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে আবেদনের আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর তারা বিনা খরচে শিশুর যত্নের জন্য ভাউচার পাবে। ফলে ঘোষণাটি এলেও সব শিশু এখনই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি বা সেবায় ভর্তি হয়নি। চাইল্ড কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের এই ভাউচার ছয় সপ্তাহ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৯ বছর পর্যন্ত। ভাউচার পাওয়া পরিবার তাদের পছন্দের অংশগ্রহণকারী সেবাদাতার কাছে শিশুকে রাখতে পারবে। সিটি সম্প্রতি ভাউচার পাওয়া পরিবারগুলোর নিজস্ব খরচের অংশও তুলে দিয়েছে। সিটির শিশু সেবা সংস্থা এসিএস জানিয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্যে ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৩০০ শতাংশের নিচে আয়ের পরিবার, বাসস্থানহীন পরিবার এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা পরিবারগুলোকে আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। তাই এখনো আমন্ত্রণ না পাওয়া পরিবারের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ আসতে সময় লাগতে পারে। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে চাইল্ড কেয়ার খাতে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দের মধ্যে ৪৭৫ মিলিয়ন ডলার ভাউচার কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত। সিটি কর্তৃপক্ষ শিশুদের যত্নের সেবাদাতাদের খোঁজার মানচিত্রেও নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে। সেখানে কোন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ভাউচার গ্রহণ করে, তা পরিবারগুলো দেখতে পারবে। অপেক্ষমাণ তালিকার সংকট অবশ্য এই ঘোষণায় পুরোপুরি কাটছে না। শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম চকবিটের হিসাবে, গত মাসে তালিকায় প্রায় ৩০ হাজার শিশু ছিল। প্রথম দফায় ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সহায়তা দেওয়া হলেও আরও প্রায় ২০ হাজার শিশু অপেক্ষায় থাকতে পারে। ‘টু-কে’ নামে দুই বছর বয়সীদের জন্য সিটির আলাদা বিনা খরচের কর্মসূচি রয়েছে; নতুন ভাউচার ঘোষণা সেই কর্মসূচি থেকে পৃথক। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় ও চকবিট।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
আলাবামার নার্সিং বোর্ডে সাইবার হামলা, নার্সদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
অ্যাপ্লিকেশন ফি দিতে সমস্যা? যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে চাইবেন ফি ওয়েভার, জেনে নিন
স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স যে সব সময় বাধা নয়, তারই এক উদাহরণ তৈরি করেছেন ৩৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। জীবনের এমন একটি সময়ে এসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় নতুন করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেছেন, যখন অনেকেই হয়তো নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার কথা ভাবেন না। তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আরও বড়। ভবিষ্যতে তিনি একজন নিউরোলজিস্ট হতে চান। তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় জীববিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তি হয়েছেন তিনি। এখান থেকেই চিকিৎসাশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভিত্তি তৈরি করে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ৩৭ বছর বয়সে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ফেরা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে পড়াশোনার নিয়মে অভ্যস্ত হওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এবং তুলনামূলক কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই পরিবেশে নিজের একাডেমিক যাত্রা শুরু করা, সব মিলিয়ে এটি একটি বড় পরিবর্তন। তবে বয়সের হিসাবের চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তার সামনে পথটিও সংক্ষিপ্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিউরোলজিস্ট হওয়ার জন্য প্রথমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করতে হয়। এরপর মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জন এবং পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্সি ট্রেনিং সম্পন্ন করতে হয়। ফলে ৩৭ বছর বয়সে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট দিয়ে শুরু করা মানে সামনে আরও কয়েক বছরের কঠোর পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে অবস্থিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে জীববিজ্ঞান, বায়োমেডিকেল সায়েন্সসহ স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেল স্কুলে যাওয়ার লক্ষ্য থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও সেখানে প্রি হেলথ একাডেমিক প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে। নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরা নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় জায়গাটি অবশ্য তার বয়স। প্রচলিত ধারণায় স্কুল ও কলেজ শেষ করার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে পেশাগত জীবন শুরু করাকে স্বাভাবিক পথ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে উচ্চশিক্ষায় ফেরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পরিবার, কর্মজীবন কিংবা নতুন পেশাগত লক্ষ্য থেকে অনেকেই জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন। ৩৭ বছর বয়সে তার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও মূল বিষয় হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের লক্ষ্য। নিউরোলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগ নিয়ে চিকিৎসা ও গবেষণা করা হয়। সেই পেশায় পৌঁছানোর দীর্ঘ পথ জেনেই তিনি নতুন করে একাডেমিক যাত্রা শুরু করেছেন বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার ব্যক্তিগত পরিচয়, পূর্বের শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন এবং ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডায় তার নির্দিষ্ট একাডেমিক মেজর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দাবি করা হচ্ছে না। এই গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নয়। বরং জীবনের ৩৭তম বছরে এসে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে জেনেও নতুন একটি পেশাগত লক্ষ্য অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকে নিউরোলজিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ। সেই পথ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, সেটি ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্তটিই দেখায়, উচ্চশিক্ষা কিংবা নতুন পেশার পথে যাত্রার জন্য সবার সময়সূচি এক নয়। কারও সেই পথ শুরু হয় ১৮ বা ২০ বছর বয়সে, আবার কারও জন্য নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে ৩৭ বছরেও। সূত্র: abronotes
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, পেলেন ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার