অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি
অনুমতি ছাড়াই বিদেশে বসে অফিসের কাজ করায় চাকরি হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক মুদ্রা লেনদেনকারী চার্লস গ্রাহাম। ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় না ফিরে সেখান থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিষয়টি জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিলেও অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম প্রায় ২০ মাস ধরে এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। এর আগে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এরপর ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যান গ্রাহাম। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি সেখান থেকেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তা নেন। পরে গ্রাহামের অফিসের ল্যাপটপের অবস্থান অনুসরণ করে জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।
গ্রাহামের দাবি, তাঁর সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর তিনি কাজে যোগ দিলেও জমে থাকা ইমেইল, ফোনকল এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যবস্থাপককে জানানো হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
তবে প্রতিষ্ঠান তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়ে গ্রাহাম যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে শুনানি হলে গ্রাহামের বিদেশে বসে কাজ করার আগের একটি ঘটনাও সামনে আসে। এর আগে বালি থেকে কাজ করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় মেরামতের কাজ চলায় তাঁকে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তবে তাঁর
ব্যবস্থাপকের বক্তব্য ছিল, গ্রাহাম যে বিদেশে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
কমিশন চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় গ্রাহামকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেছে। অর্থাৎ, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে এটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় যে, গ্রাহামের আচরণে অসদাচরণের বিষয় ছিল এবং তিনি এরই মধ্যে চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন।
এসব বিষয় বিবেচনা করে কমিশন তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা চিহ্নিত হলেও গ্রাহাম চাকরি বা বাড়তি আর্থিক সুবিধা—কোনোটিই পাননি।
ঘটনাটি বিদেশে অবস্থান করে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও কর্মস্থলের নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মী ছুটিতে বিদেশে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করলে, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—চার্লস গ্রাহামের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলায় পুলিশ হেফাজতে দিলশাদ আনসারি নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর পর ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের দাবি, থানায় নেওয়ার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন দিলশাদ। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের অভিযোগ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বেতিয়া পুলিশের বিবৃতির বরাতে দ্য অবজারভার পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার, ১২ অক্টোবর এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক রবি শঙ্কর কুমার ও অরুণ কুমার এবং কনস্টেবল সৌদাগর কুমার যাদব, রাজকুমার ঋষি, কুন্দন কুমার ও সুমন কুমার। তাঁরা সবাই সহোদরা থানায় কর্মরত ছিলেন। দিলশাদ বেতিয়ার বনুছাপর থানা এলাকার আওরাইয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে দায়ের করা মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলার সূত্রে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বনুছাপর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর দিলশাদকে সহোদরা থানায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে তিনি চলন্ত পুলিশ গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে নারকাটিয়াগঞ্জের মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বেতিয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার পুলিশের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। দিলশাদের স্ত্রী নাগমা খাতুনের দাবি, সোমবার রাত প্রায় দুইটার দিকে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বামীকে নিয়ে যায়। তখন পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে। নাগমা জানান, পরে বনুছাপর থানা থেকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের দ্রুত বেতিয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে পৌঁছে তাঁরা দিলশাদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। দিলশাদের বাবা আকবর আনসারির অভিযোগ, পুলিশ তাঁর ছেলের মাথায় শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেছে, যার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে। অন্যদিকে পুলিশ চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়ার বক্তব্যেই বহাল রয়েছে। ছয় সদস্যের সাময়িক বরখাস্তকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি
সৌদি আরবে ফ্লাইট চালুর তারিখ বদলাল ডেল্টা, যাত্রীদের জন্য রয়েছে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ
ক্যামেরার নজরদারি এড়াতে মেকআপ করুন, ভারতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলিউড অভিনেত্রী
লন্ডনের একটি টেলিফোন বুথ থেকে নবজাতক অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার ২২ বছর পর উদ্ধারকারী জো ক্যাম্পবেলকে খুঁজে পান কিরান শেখ। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তাঁদের পুনর্মিলন হয়। জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাওয়া শিশুটির জন্য একসময় জরুরি সহায়তা ডেকেছিলেন জো। বড় হয়ে সেই মানুষটিকে ধন্যবাদ জানাতেই তাঁর খোঁজ শুরু করেন কিরান। ঘটনার শুরু ১৯৯৪ সালের ৩০ এপ্রিল। পূর্ব লন্ডনের একটি টেলিফোন বুথে পড়ে ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া মেয়েটি। তখন জোর বয়স ৩০ বছর। বুথের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, মেঝেতে চিপসের খালি মোড়ক পড়ে আছে। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, সেখানে একটি নবজাতক রয়েছে। আইটিভির ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ অনুষ্ঠানে জো জানান, শিশুটিকে দেখার পর তিনি জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স এসে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনই তিনি জানতে পারেন, শিশুটির বয়স প্রায় দুই ঘণ্টা। শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন জো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন অবিবাহিত হওয়ায় তাঁকে জানানো হয়েছিল, তা সম্ভব নয়। পরে মেয়েটির জন্য উপহার, চিঠি ও জন্মদিনের কার্ড পাঠাতেন তিনি। তবে সমাজসেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একসময় যোগাযোগ বন্ধ করতে হয়। একটি পরিবার মেয়েটিকে দত্তক নেয় এবং তাঁর নাম রাখে কিরান। বড় হওয়ার পর দত্তক সংক্রান্ত নথি থেকে উদ্ধারকারীর কথা জানতে পারেন তিনি। সেখানে জোর পাঠানো উপহার ও কার্ডের তথ্যও ছিল। কিরান জানান, নিজের জীবনের শুরুতে ওই মানুষটি যা করেছিলেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে কিরানের অনুসন্ধানের কথা মেট্রো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তিনি জন অথবা জো ক্যাম্পবেল নামের একজনকে খুঁজছিলেন। এক সহকর্মী প্রতিবেদনটি দেখালে জো বুঝতে পারেন, তাঁকেই খোঁজা হচ্ছে। এরপর যোগাযোগ করেন তিনি। মেট্রোর লন্ডন কার্যালয়ে তাঁদের দেখা হয়। তখন কিরানের বয়স ২২ এবং জোর বয়স ৫২ বছর। পুনর্মিলনের পর দুজনই জানান, তাঁদের কাছে অভিজ্ঞতাটি ছিল পরিবারের কাউকে ফিরে পাওয়ার মতো। জো বলেছিলেন, শিশুটিকে কখনো ভুলে যাননি এবং আবার দেখা হওয়ার আশা ধরে রেখেছিলেন। কিরানের অনুসন্ধান সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটায়। পরবর্তী সময়েও তাঁদের যোগাযোগ বজায় থাকে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে, যেখানে তাঁকে এপ্রিল পল নামে উল্লেখ করা হয়েছে, জানানো হয়, জো ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে এখন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তাঁর। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁদের দেখা হয়। নিজের উদ্ধারকারীকে এখন পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখেন তিনি।
সিরিয়াকে নিরাপদ ঘোষণা করে শরণার্থী মর্যাদা বাতিল যুক্তরাজ্যের, ফেরত পাঠানোর শঙ্কা
হাঙ্গেরির গির্জার দেয়ালে আল্লাহর নাম! অটোমান আমলের ইতিহাস ঘিরে কৌতূহল
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সেনাসদস্যের ৫০ মাসের কারাদণ্ড, চাচাতো ভাইকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ
ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। এর অংশ হিসেবে ১১ অক্টোবর, রোববার, আজমগড়ে জনসভা করে দলটির প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেসের ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। জনসভায় ওয়াইসির মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য দলের নেতাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের আর কোনো গান্ধী বা নেহরুর প্রয়োজন নেই, আমাদের নিজেদের নেতা প্রয়োজন।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংখ্যালঘু ভোটারদের দীর্ঘদিনের সমর্থন এবং সেই সমর্থনের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে আনেন। আজমগড়কে সমাজবাদী পার্টির শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তির একটি হিসেবে দেখা হয়। এই এলাকায় দাঁড়িয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, দলটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটের সমর্থন পেলেও তাদের অধিকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়নের প্রশ্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমাজবাদী পার্টির শাসনামলে আজমগড়ের শিবলি ন্যাশনাল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়নি কেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় শিক্ষা, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াইসির বক্তব্যই প্রধান সূত্র; জনসভায় উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ওয়াইসি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটার হিসেবে বিবেচনা না করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সুযোগ দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের মধ্য থেকে নেতা তৈরি করা এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো সম্ভব। জনসভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারকেও সমালোচনা করেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিভাজনের পরিবর্তে দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। ওয়াইসি দাবি করেন, উত্তর প্রদেশ সরকারের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দরিদ্র মানুষের সংখ্যার বিচারে আজমগড় রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা। তবে তাঁর উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের মূল সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগী আদিত্যনাথ ও অখিলেশ যাদবকে পরস্পরের রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জ জানান ওয়াইসি। এটি ছিল তাঁর নির্বাচনী জনসভার রাজনৈতিক বক্তব্য; দুই নেতার পক্ষ থেকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের কোনো নিশ্চিত তথ্য উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি। এআইএমআইএমকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা ও সমর্থক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এআইএমআইএম বিরোধী ভোট ভাগ করতে পারে এবং এর ফলে বিজেপি সুবিধা পেতে পারে। আজমগড়ের জনসভায় ওয়াইসি এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নিজেদের রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার অধিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে এআইএমআইএমের নির্বাচনী উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি উত্তর প্রদেশের বিরোধী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে রয়েছে। উত্তর প্রদেশের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে। এআইএমআইএমের জন্য আজমগড়ের জনসভাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এলাকাটি সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়াইসি সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে প্রচলিত দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএমআইএম উত্তর প্রদেশে আরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, জোটের সিদ্ধান্ত এবং আসনভিত্তিক নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দলটির পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। ওয়াইসির এই প্রচারের মূল বিষয় তিনটি—সংখ্যালঘুদের নিজস্ব রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি, শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যকে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে নির্বাচনে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা ভোটের ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
ওমরাহ পালনে মক্কা যাওয়ার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম
নিজের জানাজা নয়, শেষকৃত্যের সময় কফিনে নড়েচড়ে উঠল ১৫ বছরের কিশোরী, আট ঘণ্টা ধরে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার