কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে পাচার ও ধর্ষণের দায়ে দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড
কানাডায় এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের দায়ে দুই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিককে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের একজন ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়েও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের আদালতে মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৫) চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দুজনকে ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করতে হবে।
কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়ার পর ওই নারী দুই ব্যক্তির পরিচালিত রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে দেওয়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। আদালতের বিচারে মানবপাচার ও শ্রম শোষণের পাশাপাশি মাসুমের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অপরাধও প্রমাণিত হয়েছে।
আদালতের রায় অনুযায়ী, মোহাম্মদ মাসুমকে মানবপাচার ও একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি বাবদ ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মানবপাচারে জড়িত থাকার দায়ে সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকেও ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এই অর্থ কারাদণ্ডের বাইরে ভুক্তভোগীর পাওনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সাসকাচুয়ানের গ্যাল লেক, টিসডেল ও এলরোজ এলাকার রেস্তোরাঁগুলোতে ওই নারীকে কাজ করানো হতো। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলেও তিনি নিয়মিত মজুরি পেতেন না। সপ্তাহের সাত দিনই তাঁকে কাজ করতে হতো বলে আদালতে উঠে এসেছে। থাকার জন্য দেওয়া হয়েছিল একটি অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে বেজমেন্ট। কর্মসংস্থান ও অভিবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
মামলার বিচারে উঠে আসে, মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দাবি করা হয়। আদালতে প্রমাণিত হয়, ওই নারী অন্তত আটবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চাকরি হারানো, অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়া এবং পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় তাঁর পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব ঘটনাকে মানবপাচার ও যৌন শোষণের গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাজা ঘোষণার সময় ভুক্তভোগী নারীর লিখিত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, কানাডায় তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মানসিক প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অন্য মানুষকে বিশ্বাস করতে তাঁর কষ্ট হয় এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। নিজের জীবন, ভবিষ্যৎ ও পরিবারের ওপর এই অপরাধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, অপরাধীদের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য সহজ হয়নি।
ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, বাংলাদেশে তাঁর এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পরিবারের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে ভাইবোনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের স্বপ্ন, পেশাগত জীবন এবং পারিবারিক সম্পর্কের ওপর অপরাধের প্রভাব তুলে ধরেন। যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় সুরক্ষার বিধান অনুযায়ী তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৩ সালে স্থানীয় দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন অভিবাসনকর্মীর সহায়তায় ওই নারী শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে একই বছরের জুলাইয়ে কানাডার পুলিশ মাসুম ও হায়দারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন এবং বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করেন।
কানাডায় অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করতে যাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো কর্মীর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান, পাসপোর্ট কিংবা চাকরি হারানোর ভয়কে ব্যবহার করে তাঁকে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো মানবপাচার ও শ্রম শোষণের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিয়োগকর্তার কাছে পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ করানোর ঘটনাও গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করে। তবে প্রতিটি অভিযোগের আইনি মূল্যায়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও পরিস্থিতির ওপর।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ কাজের উদ্দেশ্যে কানাডায় যান। তাঁদের কেউ কেউ নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় কাজ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীদের অধিকার, বেতন, কাজের সময় এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। কানাডায় কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন বা মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
সাসকাচুয়ানের এই মামলায় দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে মানবপাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন সহিংসতার অপরাধের বিচারিক পরিণতি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত অভিবাসীদের নিরাপত্তা এবং নিয়োগকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
SOURCE - সিবিসি নিউজ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যে পুলিশের গোয়েন্দা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২২ বছর বয়সী তরুণী এরিন বেনেট। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের চাকরিও পেয়েছিলেন তিনি। আর কিছুদিন পরই নর্থামব্রিয়া পুলিশে গোয়েন্দা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু নতুন কর্মজীবন শুরুর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এই তরুণী। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ডে তিনটি গাড়ির সংঘর্ষে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরিন বেনেট নর্থাম্বারল্যান্ডের ক্রামলিংটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজি ও সাইকোলজি বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। পড়াশোনা শেষে নর্থামব্রিয়া পুলিশে চাকরির সুযোগ পান। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের। সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়ায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এরিন। কিন্তু প্রশিক্ষণ শুরু করার আগেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। নর্থামব্রিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১২টার কিছু পর নর্থাম্বারল্যান্ডের ফেলটন এলাকার কাছে এ১ মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তিনটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল একটি সাদা রঙের নিসান কাশকাই, একটি লাল রঙের রেনল্ট ক্লিও এবং একটি সাদা টেসলা মডেল থ্রি। নিসান গাড়িটি উত্তর দিকে এবং অন্য দুটি গাড়ি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। কোন পরিস্থিতিতে গাড়িগুলোর সংঘর্ষ হয়, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এরিন লাল রঙের রেনল্ট ক্লিও গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের পর জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দুর্ঘটনায় নিসান গাড়ির চালক সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। একই গাড়ির একজন যাত্রী গুরুতর আহত হলেও পরে হাসপাতাল ছাড়েন। অন্যদিকে টেসলা গাড়িতে থাকা চারজন আহত হন। তবে তাঁদের আঘাত গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর এ১ মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ প্রায় নয় ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি সেবার একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নর্থামব্রিয়া পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চালকের বিরুদ্ধে দুর্ঘটনার দায় নিশ্চিত করা হয়নি। বুধবার (২১ অক্টোবর) পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এরিনকে অত্যন্ত যত্নশীল, চিন্তাশীল ও প্রাণবন্ত মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। স্বজনেরা জানান, পরিবারের কাছে তিনি শুধু একজন মেয়ে কিংবা বড় বোন ছিলেন না, ছিলেন তাঁদের সবচেয়ে কাছের বন্ধুও। তাঁর হাসি এবং আন্তরিক আচরণ আশপাশের মানুষকে আনন্দ দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে নিজের পছন্দের পেশায় যোগ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নর্থামব্রিয়া পুলিশে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি এরিনের জন্য ছিল বিশেষ আনন্দের। গোয়েন্দা হওয়ার প্রশিক্ষণ শুরু করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে এমন এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় যাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন এবং জরুরি সেবার কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্মান করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। এরিনের প্রেমিক ক্রেগও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এরিনকে নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্রেগ জানান, এরিনের হাসি ও ব্যক্তিত্ব তাঁকে সব সময় আনন্দ দিত। তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি সারা জীবন ধরে রাখবেন তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার আগেই এরিনকে হারানোর ঘটনা তাঁর কাছের মানুষদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তা চেয়েছে নর্থামব্রিয়া পুলিশ। তদন্তকারীরা বিশেষ করে দুর্ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট তিনটি গাড়ির চলাচলের সিসিটিভি কিংবা ড্যাশক্যামের ফুটেজ খুঁজছেন। সার্জেন্ট গ্রেগ হান্টলি জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে ছোট কোনো তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুর্ঘটনার সময় এ১ মহাসড়কের ওই অংশ দিয়ে যাঁরা যাতায়াত করছিলেন, তাঁদের কাছে কোনো তথ্য বা ভিডিও থাকলে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরিনের মৃত্যু উত্তর ইংল্যান্ডের এ১ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নর্থাম্বারল্যান্ডের এ১ মহাসড়কে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালে এই সড়কে নিহতের সংখ্যা এরিনকে নিয়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ায় সড়কটির নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে এরিনের মৃত্যুর সঙ্গে সড়কের কাঠামোগত কোনো ত্রুটির সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মাত্র ২২ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন এবং স্বপ্নের চাকরি পাওয়ার পর জীবনের নতুন পথচলা শুরু করার অপেক্ষায় ছিলেন এরিন বেনেট। পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল অনেক আশা। সেই প্রস্তুতির মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিবার এখন এরিনের স্মৃতি নিয়েই এই আকস্মিক ক্ষতি সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে পাচার ও ধর্ষণের দায়ে দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড
পশ্চিম তীরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, বড় অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর
ওমানের সাগরে গোলাপি আভার ডলফিন, প্রজাতি শনাক্ত করলেন বিশেষজ্ঞরা
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে মারুফ ব্যাপারী নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাতে কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোক নেমে আসে। মারুফ ব্যাপারীর বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায়। জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১৪ বছর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয় একটি গোষ্ঠী তাঁর কাছে ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড দাবি করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আয় কমে যাওয়ার কারণে টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। মারুফের ভাগনে কামরুজ্জামান ব্যাপারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ পরিশোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর ওই ব্যক্তিরা চলে যান। পরে তাঁরা ফিরে এসে মারুফকে গুলি করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। তবে ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্তের তথ্য প্রয়োজন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারুফের মরদেহ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাঁর স্বজনেরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে তিনি খবর পেয়েছেন এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন। কিন্তু চাঁদাবাজি, সহিংসতা কিংবা অপরাধের শিকার হলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মারুফ ব্যাপারীর পরিবারের দাবি ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।
সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
ফসলহানি ও খাদ্যসংকটে বিপর্যস্ত সুদান, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের জীবন
কোরআনের শিক্ষা তুলে ধরে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যের নিন্দা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ওমানের রাজধানী মাসকাটের কান্তাব সৈকতের কাছে অন্য ডলফিনের সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে ফিকে গোলাপি আভার একটি ডলফিনকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে কৌতূহলের মধ্যে দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষের এক বিশেষজ্ঞ প্রাণীটিকে রিসোস ডলফিন হিসেবে শনাক্ত করেছেন। ২২ অক্টোবর ওমান অবজারভারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটিকে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষের সামুদ্রিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আইদা আল জাবরি জানান, কান্তাবের প্রথম ভিডিওতে দেখা প্রাণীটি রিসোস প্রজাতির ডলফিন। এর আগে বিভিন্ন সংবাদে প্রজাতি শনাক্ত না হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া যায়। তবে প্রাণীটির গায়ে গোলাপি আভা দেখা যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো পরীক্ষার ফল ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। রিসোস ডলফিনের গায়ের রং বয়সের সঙ্গে হালকা হতে পারে। যুক্তরাজ্যের সি ওয়াচ ফাউন্ডেশনের প্রজাতি পরিচিতি অনুযায়ী, এদের পিঠ ও পাশের রং গাঢ় থেকে হালকা ধূসর হয় এবং বয়স্ক ডলফিন অনেক সময় প্রায় সাদা দেখায়। পূর্ণবয়স্ক প্রাণীর শরীরে অসংখ্য সাদা ক্ষতচিহ্নও এই প্রজাতির পরিচিত বৈশিষ্ট্য। ওমান অবজারভারের প্রতিবেদনে সূর্যের আলো ও পানির প্রতিফলনকে গোলাপি আভা আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ এই ব্যাখ্যাকে কান্তাবের ডলফিনটির রঙের নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক কারণ হিসেবে ধরা যায় না। একই ঘটনার নামে ছড়ানো সব ভিডিও নিয়েও সতর্কতা এসেছে। ওমান অবজারভার জানিয়েছে, কান্তাবের প্রথম ভিডিওটিকে বিশেষজ্ঞরা গ্রহণযোগ্য বললেও মাসকাটের বলে প্রচারিত গোলাপি হাম্পব্যাক ডলফিনের আরেকটি ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে পৃথক ভিডিওকে একই স্থানের একই ঘটনার দৃশ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।
এক টুকরো রুটির অপেক্ষায় গাজার সাধারণ মানুষ, ক্ষুধার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই
ইতালিতে বিক্ষোভের সময় তরুণের অশালীন ইঙ্গিতে মধ্যমা দেখিয়ে আলোচনায় যাজক