রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার টন ডিজেল আনছে যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিলে বাধ্য ট্রাম্প
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম ডিজেলের চালান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধানও শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে রয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল, যা প্রায় তিন লাখ ব্যারেলের সমপরিমাণ। এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির গন্তব্য নিউইয়র্ক। আগামী ৭ নভেম্বর এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চালানটির ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই চালান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর পর আবার রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ। তবে ঘোষিত মোট সরবরাহের সবটুকু শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি বিধান প্রয়োগ সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে রুশ ডিজেল বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল মস্কো। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। প্রথম চালানের পর আরও জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে নিতে পারবে। এটি দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি সক্ষমতার কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনের হামলায় কিছু রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে ইউরোপের দেশগুলো আরও তেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং ইউরোপের ওপর চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জ্বালানি ও নিষেধাজ্ঞানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন চালানটি নির্বাচনের চার দিন পর, ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জ্বালানি বাজারের তুলনায় সীমিত। ফলে শুধু এই চালান দিয়ে দেশজুড়ে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শোধনাগারের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির চাহিদাসহ একাধিক বিষয় ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নতুন চুক্তির পর আরও কত চালান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, তার ওপরও সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নির্ভর করবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল, তুরস্ক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাধারণ ভোক্তা, ট্রাকচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। তবে রাশিয়া থেকে নতুন চালান আসার অর্থ এই নয় যে পাম্পে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাবে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো, সরবরাহ সম্পন্ন হওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশের পর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
SOURCE - রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টি আবেদন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৭৬ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ইউএসসিআইএসের সরকারি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নাগরিকত্বের অনুমোদন পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬ জনে। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫৭ হাজার ৬৯৭টিতে। পরিসংখ্যানটি মার্কিন অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের, যা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। এটি অক্টোবর মাসের অনুমোদনের হিসাব নয়। শুধু অনুমোদন কমেনি, একই সঙ্গে নাগরিকত্বের আবেদনের জটও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন শেষে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮টিতে। চলতি বছরের জুন শেষে অপেক্ষমাণ আবেদন বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার আবেদন বেশি জমে রয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করে নাগরিকত্বের আবেদন করা অনেক গ্রিন কার্ডধারীকে দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমার হার এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে ইউএসসিআইএস ফিল্ড অফিসে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৪১টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে অনুমোদন পেয়েছে মাত্র ৩১৭টি আবেদন। অর্থাৎ সেখানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে টেক্সাসের হিউস্টনে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেছেন, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ বিলম্বের ফলে যোগ্য অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জন এবং নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আবেদনগুলো দীর্ঘদিন আটকে রাখা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে নতুন নাগরিকদের ভোটার হওয়ার সুযোগ সীমিত করাও এই ধীরগতির একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আবেদন আটকে রাখা হচ্ছে, এমন অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলাডেলফিয়ায় প্রায় ১৭ হাজার এবং হিউস্টনে প্রায় ৩১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও প্রায় ১৭ হাজার ৩০০টি আবেদন আটকে আছে। নিকোল মেলাকুর মতে, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকায় অনেক অভিবাসী জানেন না, কবে তাঁরা নাগরিকত্বের শপথ নিতে পারবেন। তাঁদের অনেকে আবেদন ফি পরিশোধ করেছেন, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। তারপরও আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ডিএইচএস নিউজউইককে জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়া অনুমোদন করা হতো বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান প্রশাসন সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করছে। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান প্রশাসন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ২০২০ সালের সিভিকস টেস্ট পুনর্বহাল করেছে। একই সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যক্রমও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা। তবে কঠোর যাচাইয়ের কারণে ঠিক কতটি আবেদন বিলম্বিত হয়েছে, তার পৃথক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়টি আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোট দেওয়ার জন্য আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হতে হয়। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হলেও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একজন আবেদনকারী সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। ফলে নির্বাচনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ না পেলে যোগ্য আবেদনকারীরাও ওই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। অবশ্য নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম পূরণ করতে হয়। সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করেও দীর্ঘ বিলম্বের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে। তাঁর মতে, যোগ্য আবেদনকারীর নাগরিকত্বের সিদ্ধান্ত নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দেওয়া হলে সেই ব্যক্তি নির্দিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। তবে আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়াই এককভাবে নির্বাচনী হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে না। ব্লুমবার্গ ল-এর ১৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনেও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ধীরগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস প্রায় ৭১ হাজার নাগরিকত্বের আবেদনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার। অর্থাৎ শুধু অনুমোদন নয়, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যান মিলিয়ে মোট নিষ্পত্তির সংখ্যাও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে। এতে বোঝা যায়, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির সামগ্রিক গতিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে অনুমোদনের সংখ্যা ৭৬ শতাংশ কমার অর্থ এই নয় যে জমা দেওয়া প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে ৭৬টি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ইউএসসিআইএস মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি নতুন নাগরিকত্বের আবেদন পেয়েছে। একই সময়ে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি আবেদন অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত দেওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। মূল সমস্যা হলো, আগের তুলনায় অনেক কম আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন এবং এন-৪০০ ফরমের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁদের সাক্ষাৎকার, সিদ্ধান্ত কিংবা শপথ অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানটি সব আবেদনকারীর গড় পরিস্থিতি তুলে ধরে। প্রত্যেকের আবেদন একই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে বা একই ধরনের বিলম্বের মুখে পড়বে, এমন নয়। আবেদনকারীর অবস্থান, ফিল্ড অফিস, যাচাইয়ের প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ তথ্য মার্কিন নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে। এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদনের সংখ্যা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে কতজন আবেদনকারী নাগরিকত্ব ও ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। SOURCE - নিউজউইক ব্লুমবার্গ ল
মানুষের মতো রোবট ‘অপটিমাস’ উৎপাদন শুরু করল টেসলা, বাজারে আসবে ২০২৭ সালে
নিউইয়র্কে বিনা খরচে ইএমটি প্রশিক্ষণের বৃত্তি, আবেদন করতে পারবেন ১৭ বছর বয়সীরাও
নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন নাদিয়া হামিদ
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম ডিজেলের চালান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধানও শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে রয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল, যা প্রায় তিন লাখ ব্যারেলের সমপরিমাণ। এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির গন্তব্য নিউইয়র্ক। আগামী ৭ নভেম্বর এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চালানটির ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই চালান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর পর আবার রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ। তবে ঘোষিত মোট সরবরাহের সবটুকু শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি বিধান প্রয়োগ সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে রুশ ডিজেল বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল মস্কো। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। প্রথম চালানের পর আরও জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে নিতে পারবে। এটি দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি সক্ষমতার কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনের হামলায় কিছু রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে ইউরোপের দেশগুলো আরও তেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং ইউরোপের ওপর চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জ্বালানি ও নিষেধাজ্ঞানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন চালানটি নির্বাচনের চার দিন পর, ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জ্বালানি বাজারের তুলনায় সীমিত। ফলে শুধু এই চালান দিয়ে দেশজুড়ে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শোধনাগারের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির চাহিদাসহ একাধিক বিষয় ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নতুন চুক্তির পর আরও কত চালান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, তার ওপরও সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নির্ভর করবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল, তুরস্ক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাধারণ ভোক্তা, ট্রাকচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। তবে রাশিয়া থেকে নতুন চালান আসার অর্থ এই নয় যে পাম্পে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাবে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো, সরবরাহ সম্পন্ন হওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশের পর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। SOURCE - রয়টার্স
নিউইয়র্কের সাবওয়েতে গাঁজা সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক নিহত, কিশোর গ্রেপ্তার
অন্যের পরিচয়ে পাসপোর্ট, প্রতারণার জেরে মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন অভিবাসী নারী
সন্তানের হাতে উচ্চগতির ইলেকট্রিক বাইক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ১২ অভিভাবকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটার নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে ২৮ জন গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এনেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের অধিকাংশই মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নাগরিক না হয়েও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ভোট দেওয়া অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজনের দীর্ঘ কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং পরিস্থিতিভেদে ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে এখনো কাউকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন প্রটেক্ট দ্য ভোট। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। তাঁদের কেউ কয়েক বছর, আবার কেউ কয়েক দশক ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন। তবে গ্রিন কার্ড থাকার অর্থ মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার সাধারণভাবে শুধু মার্কিন নাগরিকদের রয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে নাগরিক না হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অন্য ২২ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের আবেদন, সাক্ষাৎকার অথবা ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়াসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে কয়েকটির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সম্ভাব্য সাজা এক নয়। অভিযুক্তদের একজন ৪২ বছর বয়সী হোসে আন্তোনিও বানুয়েলোস-দিয়াজ। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন করেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০০৭ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় তিনি নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে নাগরিকত্বের আবেদনেও এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দেননি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়নি। বানুয়েলোস-দিয়াজ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, ভোটার হিসেবে তাঁর নাম নিবন্ধিত হয়েছিল, এমন তথ্য তিনি জানতেন না। ২০০৭ সালের দিকে ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়ার কথা তাঁর মনে আছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রাইভার লাইসেন্সের আবেদন বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ থাকে। তাঁর দাবি, তিনি কখনো ভোট দেননি, কারণ তিনি জানতেন যে মার্কিন নাগরিক না হলে ভোট দেওয়া যায় না। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়ির বাইরে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মুক্তি পেলেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আরেকটি ঘটনায় ফিলিপাইনের নাগরিক ৫৬ বছর বয়সী পামেলে আরবুয়েস লাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর সান ডিয়েগোতে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পরপরই হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি একাধিকবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন এবং কয়েকটি নির্বাচনে ব্যালট জমা দিয়েছিলেন। অথচ নাগরিকত্বের আবেদন ও সাক্ষাৎকারে নিজেকে কখনো মার্কিন নাগরিক দাবি করেননি এবং ভোট দেননি বলে জানিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে লাইন জানিয়েছেন, তাঁর মা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ায় তিনি নিজেকেও মার্কিন নাগরিক মনে করেছিলেন। চার দশকের বেশি সময় আগে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাঁর মা নাগরিকত্ব পান। তবে তখন লাইনের বয়স ছিল ১৯ বছর। ফলে মায়ের নাগরিকত্বের মাধ্যমে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাননি বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুনে নতুন সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড নিতে গিয়ে তিনি নিজের নাগরিকত্বের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘ কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অমনদীপ কাউরও রয়েছেন। তাঁর স্বামী কুলবিন্দর সিং জানিয়েছেন, স্ত্রী আট বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। ২০২৪ সালে ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়ার সময় তিনি হিন্দি ভাষায় লিখিত পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কারণ ইংরেজিতে তাঁর দক্ষতা সীমিত। ওই সময় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিলেন কি না, তা পরিবার নিশ্চিত নয়। সিংয়ের দাবি, ২০২৪ সালে ডাকযোগে পাওয়া একটি ব্যালটকে তাঁরা নিবন্ধনসংক্রান্ত ফরম মনে করেছিলেন এবং সেটি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বপ্রত্যাশী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। ড্রাইভার লাইসেন্সের আবেদন, ভোটার নিবন্ধন এবং নাগরিকত্বের ফরমে দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা তদন্তের বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে নাগরিকত্বের আবেদনে আগে কখনো নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করা হয়েছে কি না অথবা কোনো নির্বাচনে ভোট দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। তবে ভুলবশত ভোটার নিবন্ধন, ইচ্ছাকৃত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ভোট দেওয়ার বিষয়গুলো আইনগতভাবে এক নয়। প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হয়। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোটার নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার ঘটনা শনাক্ত করতে অভিযান জোরদার করেছে। বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রায় ২০ হাজার এমন ব্যক্তি থাকতে পারেন, যাঁরা মার্কিন নাগরিক নন। তবে এটি সরকারের প্রাথমিক শনাক্তকরণভিত্তিক দাবি। সংশ্লিষ্ট সবাই যে নাগরিক নন অথবা বেআইনিভাবে ভোট দিয়েছেন, তা আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, তারা ফেডারেল নির্বাচনী আইন মেনে চলছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা অতিরঞ্জিত হতে পারে। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেছেন, বিচ্ছিন্নভাবে অনিয়মের ঘটনা ঘটতে পারে, তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নেই। রাজ্যটিতে ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণেও নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে উঠে এসেছে। ফেডারেল হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে নাগরিকত্বের আবেদনসহ বিভিন্ন সরকারি নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে। কয়েকটি মামলার নথিতে আগস্ট মাসে পরিচালিত একটি সরকারি সুবিধাসংক্রান্ত নিরীক্ষার উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কীভাবে প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী আইন কার্যকর করাই অভিযানের উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অন্য দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তিরা সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। নাগরিকত্বের আবেদনেও আগের ভোটার নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ভুলবশত ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে অথবা নিজের নাগরিকত্বের অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকলে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। SOURCE - অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে ড্রাইভিং লাইসেন্স হারালে, ৩০ মিনিটেই সমাধান! জানুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে বড় হতাশা, আট মাসে অনুমোদন কমেছে ৭২ শতাংশ