সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আজারবাইজানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় স্কুলের গেটের বাইরে ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে স্কুলগেটে ক্লাস করলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা

আজারবাইজানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ক্লাস বর্জন ও স্কুলের বাইরে প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। অক্টোবরের শুরুতে বাকু ও মাসাল্লি জেলার অন্তত দুটি স্কুলে এ প্রতিবাদ হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, হিজাব পরা সহপাঠীদের ক্লাসে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। ডেইলি অবজারভারের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেইদান টিভির বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়।    প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকুর ৬৯ নম্বর স্কুল এবং মাসাল্লি জেলার মোল্লাওবা গ্রামের বি শিরিয়েভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। হিজাবের কারণে সহপাঠীদের পড়াশোনার সুযোগ সীমিত করার বিরোধিতা করে তারা।    বিতর্কের সূত্রপাত সরকারি স্কুলের পোশাকবিধিতে পরিবর্তনের পর। দ্য টার্কিশ পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধি সংশোধন করে আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা। এতে স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিংবা শিক্ষার ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়। তবে বিধিতে সরাসরি হিজাবের নাম উল্লেখ নেই।    ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও আলাদা বিধি গ্রহণ করা হয়। এরপর বাকু ও সুমগাইতের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষিকারা অভিযোগ করেন, তাঁদের হিজাব খুলে কর্মস্থলে আসতে অথবা পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। দ্য টার্কিশ পোস্ট জানায়, তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এসব অভিযোগ নিয়ে শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।    বাকুর রিচার্ড সর্গে ৯০ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক হিজাব পরা শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মেইদান টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে ডেইলি অবজারভার।    নতুন বিধিতে হিজাবের সুস্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও কয়েকটি স্কুলে এর প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পোশাকের কারণে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হিজাব পরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ ক্ষুণ্ন করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:৫৪
আমেরিকায় বসেই অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা থেকেই অনলাইনে দেয়া যাবে দেশের জমির খাজনা, জানুন সম্পূর্ণ নিয়ম

আমেরিকায় বসেই বাংলাদেশের জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা অনলাইনে পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি ভূমিসেবা ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে সংশ্লিষ্ট জমির হোল্ডিং যুক্ত থাকলে করের দাবি দেখা, পেমেন্ট করা এবং দাখিলা সংগ্রহ করা যায়। তবে প্রথমবার নিবন্ধন, জমির তথ্য যাচাই ও হোল্ডিং তৈরির কাজ বাকি থাকলে পুরো প্রক্রিয়া পাঁচ মিনিটে শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল অনুযায়ী, হোল্ডিং নিবন্ধনের জন্য সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ এবং দাখিলা বা নামজারি খতিয়ানের তথ্য প্রয়োজন। পুরোনো দাখিলা ও জমির খতিয়ান হাতের কাছে রাখলে তথ্য দেওয়ার কাজ সহজ হয়।    প্রথমে সরকারি ভূমিসেবা পোর্টালের নাগরিক নিবন্ধন ও লগইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এরপর ভূমি উন্নয়ন কর সেবায় গিয়ে খতিয়ানের তথ্য জমা দিতে হবে। সরকারি ব্যবহারকারী নির্দেশিকায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির জন্য মালিকানার ধরন হিসেবে উত্তরাধিকার নির্বাচন করে ওয়ারিশের তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও উল্লেখ রয়েছে। তাই বাবার নামে খতিয়ান থাকলে তাঁর পরিচয়পত্র দিয়ে নিজের পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার পরিবর্তে প্রযোজ্য মালিকানা ও প্রতিনিধিত্বের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।    জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এমন প্রবাসী ভূমিমালিকদের জন্যও সরকারি নির্দেশনায় বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবক বা প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অনলাইনে কর আদায়ের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।    অ্যাকাউন্টে হোল্ডিং যুক্ত হলে তার বিস্তারিত অংশ থেকে অনলাইন পেমেন্টে যেতে হবে। সেখানে প্রদর্শিত পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন করে কর পরিশোধ করা যায়। তবে আমেরিকার মোবাইল নম্বরে নিবন্ধনের ওটিপি পাওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ইস্যু করা যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার নিশ্চয়তা পাওয়া সরকারি নির্দেশিকায় নেই। পেমেন্টের সময় প্রদর্শিত ও কার্যকর পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে।    কর পরিশোধ সম্পন্ন হলে অ্যাকাউন্টের দাখিলা অংশে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের রশিদ পাওয়া যায়। সেটি সংরক্ষণ করা জরুরি। সরকারি পোর্টাল বলছে, জমির নামজারি ও কেনাবেচাসহ বিভিন্ন কাজে দাখিলা প্রয়োজন হতে পারে। টাকা কাটা গেলেও দাখিলা না এলে সরকারি নির্দেশিকায় পেমেন্ট সমন্বয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।    খাজনা সময়মতো না দিলেই জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাস হয়ে যায়, এমন বক্তব্য সঠিক নয়। ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো বছরের কর সেই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ না হলে তা বকেয়া হিসেবে গণ্য হয়। টানা তিন বছর বকেয়া থাকলে প্রথম থেকে তৃতীয় বছর পর্যন্ত বার্ষিক ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে জরিমানাসহ তা আদায়যোগ্য। তৃতীয় বছর শেষে বকেয়া আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা করা যেতে পারে।    একই আইনে বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধের সঙ্গে অথবা পরে সর্বোচ্চ তিন বছরের কর অগ্রিম দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে নিয়মিত কর পরিশোধের পাশাপাশি প্রবাসী মালিকেরা অগ্রিম পরিশোধের সুবিধাও বিবেচনা করতে পারেন।    নিবন্ধন বা হোল্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশে ভূমিসেবা সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বর চালু রয়েছে। অনলাইনে কর দেওয়ার সুবিধা থাকলেও মালিকানা, খতিয়ান কিংবা হোল্ডিংয়ের ভুল সংশোধনে আলাদা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসবমুখর শারদীয় দুর্গোৎসব। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য আয়োজন

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের রচেস্টার, ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, জর্জিয়ার আটলান্টা এবং নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে অক্টোবরের বিভিন্ন দিনে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত, নৃত্য ও প্রবাসী পরিবারের মিলনমেলাকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকেরা।   নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে দুর্গা উৎসব যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত জনসমাগমস্থল নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ১০ ও ১১ অক্টোবর দুর্গা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই স্থানে দুর্গা উৎসবের আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।   নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টারেও ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার রচেস্টার। সংগঠনটির প্রকাশিত কর্মসূচিতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ার আয়োজন রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাঙালি সংগঠনগুলোর উদ্যোগে প্রতিবছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন দিনের দুর্গোৎসব যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলেও দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সূচি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পুষ্পাঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থা রয়েছে।   একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি ফেয়ারগ্রাউন্ডসে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর বে এরিয়া প্রবাসী দুর্গাপূজার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপনের কর্মসূচি রয়েছে। এসব আয়োজনে প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   ফ্লোরিডায় ৪৫তম দুর্গোৎসব ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে বেঙ্গলি সোসাইটি অব ফ্লোরিডা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তাদের ৪৫তম দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। সংগঠনটির প্রকাশিত কর্মসূচিতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত ও প্রবাসী পরিবারের মিলনমেলার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে সংগঠনটি দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছে। ফ্লোরিডার টালাহাসিতেও মুকতাঙ্গন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর দুর্গাপূজার কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে অঙ্গরাজ্যটির বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য উৎসবে অংশ নেওয়ার একাধিক সুযোগ থাকছে।   জর্জিয়া ও নিউ ইংল্যান্ডেও পূজার আয়োজন জর্জিয়ার আটলান্টা অঞ্চলে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার আটলান্টার দুর্গাপূজা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর লরেন্সভিলের মাউন্টেন ভিউ হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে আটলান্টা অঞ্চলের নন্দন বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনও দুর্গোৎসবের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে।   নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলেও দুর্গাপূজাকে ঘিরে রয়েছে নানা কর্মসূচি। বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব রোড আইল্যান্ড অ্যান্ড সাউদার্ন ম্যাসাচুসেটসের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রোড আইল্যান্ড হিন্দু মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ করে দেয়। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বাঙালির মিলনমেলা দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধ অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক। বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাঙালিরাও প্রতিবছর বিভিন্ন মন্দির ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই উৎসব পালন করেন।   প্রবাসে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পূজাকে কেন্দ্র করে বাংলা গান, নাচ, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং পারিবারিক ও সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য পরিচিত করে তুলতে এসব অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্থানে দুর্গা উৎসবের আয়োজন যেমন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে বাঙালি ঐতিহ্য তুলে ধরছে, তেমনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় পূজামণ্ডপগুলো প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করছে। অক্টোবরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্গাপূজার এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস, বাংলা সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:১৮
স্বাস্থ্যসেবায় এআই যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না করে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসায় এআইয়ে বৈষম্য কমাতে গবেষণায় এমআইটির মুসলিম অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি

স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন নারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু রোগীদের ক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মারজিয়ে ঘাসেমি। ইরানি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন গবেষক ও তাঁর হেলদি মেশিন লার্নিং দল চিকিৎসার এআই মডেলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য করার উপায় খুঁজছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, সব রোগীর ওপর গড় হিসাবে ভালো ফল দেওয়া মডেলও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে।    ঘাসেমি এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট ফর মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সে কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচিতিতে তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর গবেষণার লক্ষ্য, রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা উন্নত করা।    এমআইটি নিউজের ২৫ নভেম্বর ২০২৪ প্রকাশিত পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোতে একটি ইরানি মার্কিন পরিবারে বেড়ে ওঠেন ঘাসেমি। ছোটবেলা থেকেই ধাঁধা, ভিডিও গেম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে তাঁর আগ্রহ ছিল। পরে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে নিজের কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পান তিনি।    পিএইচডি গবেষণার সময় রোগীর চিকিৎসার ফলাফল অনুমান করতে এআই মডেল তৈরি করছিলেন ঘাসেমি। তখন তাঁর গবেষণা কমিটির সদস্য লিও সেলি জানতে চান, মডেলগুলো বিভিন্ন লিঙ্গ, ইন্স্যুরেন্স ও জাতিগত পরিচয়ের রোগীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করছে কি না। আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ঘাসেমি ফলাফলে ব্যবধান পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে চিকিৎসার এআইয়ে পক্ষপাত নিয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে।    সমস্যার একটি উৎস হলো মডেলকে শেখাতে ব্যবহৃত তথ্য। এমআইটির ২০২২ সালের প্রতিবেদনে ঘাসেমি ব্যাখ্যা করেন, চিকিৎসার তথ্য মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়। সেখানে বিদ্যমান পক্ষপাত এআইয়ের মধ্যেও প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু বিপুল পরিমাণ তথ্য দিয়ে মডেল তৈরি করলেই সব রোগীর জন্য সমান মানের ফল নিশ্চিত হয় না।    ঘাসেমি যুক্ত ছিলেন এমন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআই মডেল বুকের এক্স-রেসহ বিভিন্ন মেডিকেল ছবি থেকে রোগীর স্বঘোষিত জাতিগত পরিচয় উচ্চ নির্ভুলতায় অনুমান করতে পারে। চিকিৎসকের কাছে ছবিতে সেই পরিচয়ের স্পষ্ট নির্দেশক না থাকলেও মডেল তা শনাক্ত করেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এমন তথ্য মডেল অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যবহার করলে রোগ নির্ণয়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে।    এমআইটির গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, এক হাসপাতালে ভালো কাজ করা মডেল অন্য হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। রোগীর ধরন ও তথ্যের পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ফলাফলের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তাই ব্যবহারস্থলের রোগীদের ওপর আলাদাভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন তুলে ধরছেন ঘাসেমি ও তাঁর সহকর্মীরা।    তাঁদের অনুসন্ধানে জনগোষ্ঠীভেদে পার্থক্য বিবেচনা করে মডেল প্রশিক্ষণ দিলে কিছু ব্যবধান কমানোর সুযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই ফল সব হাসপাতাল বা সব রোগীর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। ঘাসেমির কাজ মূলত সেই সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা ও সমাধানের পথ খোঁজা। চিকিৎসায় এআই ব্যবহার করলেই বৈষম্য দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই গবেষণা দেয় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১১:১০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসপ্রীতি অসীমা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে অরিত্র বিশ্বাস নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবিতে পারিবারিক অনুষ্ঠানের যোগদানের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি মা ও ছেলে নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি অসীমা চৌধুরী ও তাঁর কিশোর ছেলে অরিত্র বিশ্বাস নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অসীমার স্বামী সৌরভ বিশ্বাস। সোমবার, ১২ অক্টোবর রাতে আল ওয়াথবা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন পরিবারের বন্ধু ও প্রবাসী সংগঠক সজল চৌধুরী।    নিহত অসীমার বয়স ৪৮ বছর এবং অরিত্রের বয়স ১৫ বছর। পরিবারটির বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব কধুরখীল গ্রামে।   সজল চৌধুরীর বর্ণনা অনুযায়ী, সৌরভ নিজের টয়োটা ইয়ারিস গাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আল ওয়াথবায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। আবুধাবি থেকে আল আইনমুখী সড়কের আল ওয়াথবা এক্সিট ৪৭ এলাকায় পেছন থেকে একটি নিশান সাফারি গাড়ি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়।   দুর্ঘটনার পর পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে মাফরাক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। সৌরভকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিডিনিউজের প্রতিবেদনে তাঁর আঘাতের মাত্রা বা বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি।   একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য গাড়িটি পুলিশ জব্দ করেছে এবং চালককে আটক করেছে। মা ও ছেলের মরদেহ বানিয়াস সেন্ট্রাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ‘সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া’ পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও চারজন আহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে ঝুলে ছিলেন বাবা, ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহযাত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টারসংক্রান্ত ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার, ১২ অক্টোবর বিকেলে আটলান্টার কাছে পার্কটিতে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক ব্যক্তি চলন্ত রোলার কোস্টারের আসন থেকে ছিটকে পড়েন। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি।    কব কাউন্টি পুলিশের বিবৃতির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসবি টিভি জানিয়েছে, বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পার্কে দায়িত্বরত পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। ঘটনার পরিস্থিতি তদন্ত করছে পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিট।    প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে গলায়াথ রোলার কোস্টারের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে ওই রাইড থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোগান কনর নামের এক যাত্রী জানান, তিনি বাগ্‌দত্তার সঙ্গে রাইডে ছিলেন এবং একজনকে আসন থেকে উঠে বাতাসে ছিটকে যেতে দেখেন।    ঘটনার পর রাইডটি থেমে গেলে অন্য যাত্রীরা আটকা পড়েন। জরুরি সেবাকর্মীরা তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন। ফক্স ফাইভ আটলান্টার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গলায়াথের ট্র্যাকে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে পুলিশ ও জরুরি সেবার বড় দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।    সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ছয়টি পার্কের নয়টি রোলার কোস্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দর্শনার্থী ও কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে। রাইডগুলো আবার কবে চালু হবে, তা সংশ্লিষ্ট ঘোষণায় জানানো হয়নি।    কব কাউন্টি বোর্ড অব কমিশনারসের চেয়ারওম্যান লিসা কিউপিড এক বিবৃতিতে জানান, নিহত ব্যক্তির স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ পার্ক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। নিশ্চিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও তথ্য প্রকাশ করবে বলেও জানান তিনি।    নিহতের পরিচয় এবং আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থাকলেও আসন থেকে পড়ে যাওয়ার কারণ বা রাইডের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:৪০
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ‘ইশারা’য় দিল্লিতে আন্দোলন হচ্ছে: পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বাংলাদেশের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবড়ায় একটি দুর্গাপূজার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তাঁর অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণের উল্লেখ নেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে।    বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বলেন, আন্দোলনের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা ধীরে ধীরে বোঝা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখলে আন্দোলনের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।  বিদেশ থেকে ভারতের পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিরোধীদের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে দিলীপ মন্তব্য করেন, তাঁদের হাতে কাজ না থাকায় তাঁরা ঘোরাফেরা ও ধরনায় অংশ নিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের কোন মন্ত্রী বা কোন পোস্টের কথা তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।    আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি একটি যুব আন্দোলন, যার নেতারা দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাবেশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শনিবার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁরা মুক্তি পান।    বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে পুলিশি বিধিনিষেধ ও আটকের ঘটনাও ঘটেছে। মঙ্গলবার রয়টার্স জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে আর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল হিসেবে রাখছে না এবং বিকল্প তিনটি স্থানের কথা ঘোষণা করেছে।    দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেও তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর মন্তব্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের বা নাম উল্লেখ না করা মন্ত্রীদের কোনো প্রতিক্রিয়াও দেওয়া হয়নি। ফলে বিদেশি ইন্ধনের বিষয়টি এখন পর্যন্ত দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:৩০
সড়ক দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর স্বপ্নের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমেরিকান নাগরিক রবার্ট ডাভিলা। ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নে মুহাম্মদ সাঃ কে দেখার পর ঘুম থেকে উঠেই শাহাদাহ পাঠ করে মুসলমান হন মার্কিন নাগরিক রবার্ট

সড়ক দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন একটি কেয়ার সেন্টারে থাকা মার্কিন নাগরিক রবার্ট ডাভিলা নিজের ইসলাম গ্রহণের পেছনে একটি স্বপ্নের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। টেক্সাসের ব্রিজপোর্টে বেড়ে ওঠা রবার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ওই স্বপ্ন দেখার পর ঘুম থেকে উঠে তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। পরে কোরআন ও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন।    সৌদি গেজেটের ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালে টেক্সাসের ডেকাটারে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন রবার্ট। দুর্ঘটনার ফলে তাঁর ঘাড়ের নিচের অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর তিনি টেক্সাসের জাস্টিন শহরের লংমেডো কেয়ার সেন্টারে থাকতেন।   সেখানে রুমমেট মার্কের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা ধর্মসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। ২০০৪ সালে মার্কের মৃত্যুর পর তাঁর বোন একটি ক্রুশ রবার্টকে দেন। বন্ধুর স্মৃতি হিসেবে সেটি নিজের বিছানার ওপরে ঝুলিয়ে রাখতে বলেন রবার্ট।    রবার্টের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে স্বপ্নে তিনি এক ব্যক্তিকে দেখেন, যাঁকে তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.) হিসেবে চিনতে পেরেছেন বলে মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যক্তি ক্রুশের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁকে বোঝান যে ঈসা (আ.) একজন মানব নবী এবং মানুষকে আল্লাহর উপাসনার দিকে আহ্বান করেছেন। স্বপ্নের এই বিবরণ রবার্টের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিজ্ঞতা, স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য ঘটনা নয়।    নোমান আলী খানের সঙ্গে কথোপকথনের প্রকাশিত ভিডিওর প্রতিলিপিতে রবার্ট জানান, ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি শাহাদাহ পাঠ করেন। এরপর প্রথম কয়েক মাস কোরআন পড়া ও শেখার দিকে মনোযোগ দেন। আয়াতের অর্থ বুঝতে গিয়ে পরে নোমান আলী খানের তাফসিরের ভিডিও দেখতে শুরু করেন।    একই কথোপকথনে রবার্ট কোরআন শুনে আরবি বর্ণমালা ও উচ্চারণ শেখার চেষ্টার কথা বলেন। কয়েকটি ছোট সুরা মুখস্থ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। নোমান আলী খান তাঁর গল্প অন্যদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের সাক্ষাতের ভিডিওও প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:২৩
নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে শিশুর সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই সামাজিক মুহূর্তটি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
উত্তেজনার মধ্যে স্বস্তির এক টুকরো, শিশুর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ড. ইউনূসের ছবি ভাইরাল

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে উত্তেজনাকর ঘটনার খবরের মধ্যে শিশুর সঙ্গে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিতর্ক ও পক্ষে-বিপক্ষে নানা বক্তব্যের মধ্যে ছবিটি মানুষের নজর কেড়েছে।   ছবিতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসে আছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সামনে স্যুটকেসের ওপর বসে আছে একটি শিশু। শিশুটির পাশে একজন নারী দাঁড়িয়ে আছেন। ড. ইউনূসকে শিশুটির দিকে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। পুরো দৃশ্যটিতে ফুটে উঠেছে একটি স্বাভাবিক ও মানবিক মুহূর্ত।   সোমবার, ১২ অক্টোবর, নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে একদল ব্যক্তির স্লোগান ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা চলছে।   ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যকাল শেষ হয়।   বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন শিশুর সঙ্গে ড. ইউনূসের হাস্যোজ্জ্বল ছবিটি সামনে এসেছে ভিন্ন এক আবহ নিয়ে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্কের বাইরে এমন একটি দৃশ্য অনেকের কাছে স্বস্তির মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   দিনের নানা উত্তেজনা ও মতবিরোধের মধ্যেও মানুষের হাসি, সৌজন্য ও মানবিক যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে। শিশুর সঙ্গে ড. ইউনূসের এই হাসিমুখের ছবিটি সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:৯
আমেরিকায় সন্তানদের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে নিউইয়র্ক সিটিতে পরিচালিত হচ্ছে একাধিক ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সন্তানকে হিফজ পড়াবেন কোথায়, জানুন ঠিকানা ও নিয়ম

আমেরিকায় সন্তানকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী অভিভাবকদের জন্য নিউইয়র্ক সিটিতে একাধিক ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে কোরআন মুখস্থের পাশাপাশি একাডেমিক বিষয়ও পড়ানো হয়। তবে বয়সসীমা, সময়সূচি ও সাধারণ পড়াশোনার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সব হিফজ প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বলা যায় না; এমন দাবি থাকলে তার নথি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ১. মুসলিম সেন্টার অব নিউইয়র্ক, ফ্লাশিং ফ্লাশিংয়ে মুসলিম সেন্টার অব নিউইয়র্কের ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী ছেলেদের জন্য। ক্লাস চলে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ঠিকানা ১৩৭-৫৮ জেরানিয়াম অ্যাভিনিউ, ফ্লাশিং, নিউইয়র্ক ১১৩৫৫। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৪৬০-৩০০০। হিফজের সঙ্গে সন্তানের একাডেমিক পড়াশোনা কীভাবে চলবে, তা ভর্তির আগে জানতে হবে।   একই প্রতিষ্ঠানে ফুলটাইম হিফজের বাইরে বিকেলের কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়েদের জন্য এই ক্লাস কর্মদিবসে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে। সাধারণ স্কুলের পর কোরআন পড়া শিখতে আগ্রহী পরিবারের জন্য এটি আরেকটি সুযোগ। তবে এই ক্লাস ও ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রামের লক্ষ্য আলাদা।   ২. দারুল আহনাফ নিউইয়র্ক, ব্রঙ্কস ব্রঙ্কসে দারুল আহনাফ নিউইয়র্কের ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রামে কোরআন মুখস্থ, তাজবিদ, প্রতিদিনের রিভিশন ও ইসলামিক স্টাডিজের পাশাপাশি গণিত, ভাষা, বিজ্ঞান এবং সামাজিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, একাডেমিক অংশটি হোমস্কুলভিত্তিক কাঠামোয় পরিচালিত হয়। ফলে অভিভাবকদের হোমস্কুলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শিক্ষার্থীর অগ্রগতি মূল্যায়নের পদ্ধতি বুঝে নেওয়া দরকার।   দারুল আহনাফের ঠিকানা ৩০৯১ ডেকাটার অ্যাভিনিউ, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক ১০৪৬৭। যোগাযোগের নম্বর ৬৪৬-৭৪৪-৮৯২০ অথবা ৬৪৬-৩৯৩-৬২৫০। প্রকাশিত সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হিফজ, পড়াশোনা, নামাজ, খাবার ও বিনোদনের বিভিন্ন পর্ব রয়েছে। একাডেমিক ক্লাস সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সন্তানের জন্য প্রযোজ্য উপস্থিতির সময় সরাসরি নিশ্চিত করতে হবে।   প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, নিয়মিত অনুশীলন ও পরিবারের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে হিফজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে। এটি নির্দিষ্ট সময়ে হিফজ শেষ করার নিশ্চয়তা নয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, হিফজ কার্যক্রম সারা বছর চললেও একাডেমিক অংশ স্কুলের শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি অনুসরণ করে।   ৩. আল ফাওজ ইসলামিক স্কুল অব আমেরিকা আল ফাওজ ইসলামিক স্কুল অব আমেরিকাতেও ফুলটাইম হিফজ প্রোগ্রাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ক্যাম্পাসের ঠিকানা ৭৭-১৭ সাটার অ্যাভিনিউ, ওজোন পার্ক, নিউইয়র্ক ১১৪১৭। ছেলেদের পৃথক ক্যাম্পাস ১২৩৫ বেলমন্ট অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২০৮। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৮৮০-২২৯৭। হিফজের ক্লাস কোন ক্যাম্পাসে হবে, তা স্কুলের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করতে হবে।   আল ফাওজের হিফজ পাতায় ২০২৫ থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তিতে সাত বছর বা তার বেশি বয়সী ছেলেদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তির আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। তাই সেটিকে বর্তমানে চলমান ভর্তি বিজ্ঞপ্তি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক হবে না। যদিও প্রতিষ্ঠানের মূল পাতায় নতুন শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়ার কথা রয়েছে, বর্তমান শিক্ষাবর্ষের আসন, বয়সসীমা ও সময়সূচি সরাসরি জানতে হবে।   স্কুলটি নিজস্ব হিফজ পাতায় নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশনের অনুমোদনের দাবি করেছে। তবে সেই দাবির স্বাধীন সরকারি সমর্থন নিশ্চিত করা যায়নি। অন্যদিকে তাদের মূল পাতায় পাঠ্যক্রম নিউইয়র্ক স্টেটের কমন কোরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে। পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য ও সরকারি অনুমোদনকে একই অর্থে ব্যবহার না করে অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট নথি দেখতে চাওয়া উচিত।   ভর্তির আগে যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন ভর্তির আগে টিউশন ফি, রেজিস্ট্রেশন ফি, অতিরিক্ত খরচ, শিক্ষকপ্রতি শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং রিভিশনের পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ পড়াশোনার রেকর্ড, পরবর্তী শ্রেণিতে অগ্রগতি ও অন্য স্কুলে স্থানান্তরের ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নিতে হবে। সন্তানের বয়স, শেখার সক্ষমতা ও দৈনিক রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে প্রোগ্রাম নির্বাচন করলে হিফজ এবং একাডেমিক পড়াশোনার পরিকল্পনা করা সহজ হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:২
নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউনূসকে হেনস্তায় আওয়ামী লীগের চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে: নাহিদ ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর বক্তব্য, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ঘটনা আওয়ামী লীগের সহিংস রাজনৈতিক চরিত্র আবারও প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।    সোমবার নিউইয়র্কের বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজনের উচ্চস্বরে স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওতে কয়েকজনকে তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে এখানে আসার কারণ জানতে চাইতে এবং ফিরে যেতে বলতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।    আমার দেশের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিবৃতিতে নাহিদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের আচরণে পরিবর্তন আসেনি। অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দলটির মধ্যে অনুশোচনার লক্ষণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশে ও বিদেশে সক্রিয় দলটির সহিংস কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক।   নাহিদ আরও দাবি করেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের সময় গুম ও খুনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।    বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নাহিদ। তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের সংকটকালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে তাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।    এদিকে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনার পর যে ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রাপ্য প্রটোকলে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও সরকার খতিয়ে দেখবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তবে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বা কোথায় তা শুরু হবে, প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৯:৪৭
বিহারে পুলিশ হেফাজতে যুবক দিলশাদ আনসারির মৃত্যুর ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে পুলিশি হেফাজতে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে মুসলিম যুবক দিলশাদ আনসারির মৃত্যু

ভারতের বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলায় পুলিশ হেফাজতে দিলশাদ আনসারি নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর পর ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশের দাবি, থানায় নেওয়ার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন দিলশাদ। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের অভিযোগ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।    বেতিয়া পুলিশের বিবৃতির বরাতে দ্য অবজারভার পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার, ১২ অক্টোবর এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক রবি শঙ্কর কুমার ও অরুণ কুমার এবং কনস্টেবল সৌদাগর কুমার যাদব, রাজকুমার ঋষি, কুন্দন কুমার ও সুমন কুমার। তাঁরা সবাই সহোদরা থানায় কর্মরত ছিলেন।    দিলশাদ বেতিয়ার বনুছাপর থানা এলাকার আওরাইয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে দায়ের করা মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলার সূত্রে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বনুছাপর এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর দিলশাদকে সহোদরা থানায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে তিনি চলন্ত পুলিশ গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়েন। আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে নারকাটিয়াগঞ্জের মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বেতিয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।    পরিবার পুলিশের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। দিলশাদের স্ত্রী নাগমা খাতুনের দাবি, সোমবার রাত প্রায় দুইটার দিকে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বামীকে নিয়ে যায়। তখন পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে।    নাগমা জানান, পরে বনুছাপর থানা থেকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের দ্রুত বেতিয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। হাসপাতালে পৌঁছে তাঁরা দিলশাদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।    দিলশাদের বাবা আকবর আনসারির অভিযোগ, পুলিশ তাঁর ছেলের মাথায় শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেছে, যার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে। অন্যদিকে পুলিশ চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়ার বক্তব্যেই বহাল রয়েছে। ছয় সদস্যের সাময়িক বরখাস্তকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৯:২৪
হারানো ম্যাকবুক ফিরে পেলেন জার্মান পর্যটক
জার্মান পর্যটককে ল্যাপটপ ফিরিয়ে দিল পুলিশ, পুরস্কৃত দুই কর্মকর্তা

নাটোরে হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার ওয়েবার। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সকালে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে তাঁর হাতে উদ্ধার করা ম্যাকবুকটি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় নাটোর সদর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তবে ল্যাপটপের সঙ্গে খোয়া যাওয়া ক্যামেরাটি এখনো পাওয়া যায়নি বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   পুরস্কার পাওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনসুর রহমান ও উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের পর ল্যাপটপ উদ্ধার এবং পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এই পুরস্কার দেন আইজিপি। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন ওই জার্মান পর্যটক। ৭ অক্টোবর তিনি নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান। দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।   স্টেশনের অপেক্ষাকক্ষে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল। ফিরে এসে জিনিসগুলো খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় পুলিশের সহায়তা চান। তাঁর ল্যাপটপে আগের ছয় মাসের কাজের তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিল বলে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নাটোর সদর থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।   ল্যাপটপটি ওই দোকানে পাওয়া গেলেও যাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁরা ট্রেনে ল্যাপটপটি পেয়েছিলেন। হারানো ক্যামেরা উদ্ধার ও চুরিতে জড়িতদের ধরতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি।   ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্রিল। বাংলাদেশ ভ্রমণের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রশংসা করেন আইজিপি। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত পেশাদার সেবা দেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন। সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৫৮
নিউইয়র্কে কম খরচে দাঁতের চিকিৎসার সুযোগ
নিউ ইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াই কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা কোথায় পাবেন? জেনে নিন তালিকা

নিউ ইয়র্ক সিটিতে ডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে ছাড় পাওয়া যায়। কিছু প্রতিষ্ঠানে দাঁত পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক সেবা বিনা খরচেও দেওয়া হয়। তবে সব চিকিৎসা ফ্রি নয় এবং একেক প্রতিষ্ঠানের ফি, যোগ্যতা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম আলাদা।   এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা নেওয়া যায়। এনওয়াইসি কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য ও অন্য ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের জন্য ডেন্টাল সেবায় স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা রয়েছে। এতে রোগীর আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে খরচ নির্ধারণ করা হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে।   ম্যানহাটনে এই নেটওয়ার্কের গভর্নর কেন্দ্রের ঠিকানা ২২৭ ম্যাডিসন স্ট্রিট। ব্রুকলিনে কাম্বারল্যান্ড কেন্দ্র ১০০ নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট নিউ ইয়র্ক কেন্দ্র ২০৯৪ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে রুজভেল্ট কেন্দ্রের ঠিকানা ৩৭-৫০, ৭২তম স্ট্রিট। এসব কেন্দ্রে কোন ডেন্টাল সেবা পাওয়া যাবে এবং নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, তা কেন্দ্রীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বরে জেনে নেওয়া যাবে।   ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের জন্য বেলভিস কেন্দ্রের ঠিকানা ৫৪৫ ইস্ট ১৪২তম স্ট্রিট। কুইন্সে এলমহার্স্ট হাসপাতালের ঠিকানা ৭৯-০১ ব্রডওয়ে। উভয় প্রতিষ্ঠানেই ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। নির্দিষ্ট চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আর্থিক সহায়তার নিয়ম আগে নিশ্চিত করতে হবে।   কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোর মধ্যে চার্লস বি. ওয়াং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার একটি বিকল্প। প্রতিষ্ঠানটির ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে ম্যানহাটনের ১২৫ ওয়াকার স্ট্রিটের দ্বিতীয় তলায় এবং কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ১৩১-৭২, ৪০তম রোডে। দুই কেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-৫৮৭-১১১১। এখানে দাঁতের পরীক্ষা, ক্লিনিং, এক্স-রে, ফিলিং, ক্রাউন, দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল এবং ডেনচারসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি Medicaid গ্রহণ করে এবং যোগ্য রোগীদের আয়ভিত্তিক ছাড় দেয়।   চার্লস বি. ওয়াংয়ের ছাড় নির্ধারণে পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যা বিবেচনা করা হয়। আয়ের প্রমাণ হিসেবে সর্বশেষ ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন, সাম্প্রতিক এক মাসের পে-স্টাব অথবা বেতনের তথ্যসহ নিয়োগকর্তার চিঠি নেওয়া যেতে পারে। এসব কাগজ না থাকলে শেষ বিকল্প হিসেবে নিজের আয়ের ঘোষণাও বিবেচিত হতে পারে। আয়ের প্রমাণ দিতে না পারলে প্রথমে সর্বোচ্চ ভিজিট ফি নেওয়া হতে পারে। তবে ভিজিটের দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রমাণ জমা দিলে ফি সমন্বয় করে রিফান্ড বা ক্রেডিট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।   বাংলাভাষী রোগীদের জন্যও এখানে ভাষাগত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কর্মীরা বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কথা বলেন এবং ভিডিও বা অডিওর মাধ্যমে দোভাষীর ব্যবস্থাও রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। নতুন রোগীর প্রথম ভিজিটে সাধারণত দাঁতের পরীক্ষা হয়; ক্লিনিংয়ের জন্য আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়।   ব্রুকলিনের ব্রাউন্সভিলে বিএমএসের মেডিকেল ও ডেন্টাল কেন্দ্রের ঠিকানা ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের প্রকাশিত স্লাইডিং ফি তালিকায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ডেন্টাল পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লিনিংয়ের ফি শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয়সীমা বছরে ১৫ হাজার ৯৬০ ডলার। তবে এটি সব ধরনের ডেন্টাল চিকিৎসা বিনা খরচে পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৩৪৫-৫০০০।   ম্যানহাটনের হারলেমে ফ্যামিলি হেলথ সেন্টার অব হারলেমের ঠিকানা ১৮২৪ ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ। ডেন্টাল বিভাগের নম্বর ২১২-৪২৩-৪৪০০। ব্রুকলিনে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের সানসেট পার্ক ফ্যামিলি হেলথ সেন্টারের ডেন্টাল সেবা রয়েছে ১৫০, ৫৫তম স্ট্রিটে। সেখানে যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৬৩০-৬৮৭৫। চিকিৎসার ধরন, ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ ফোন করে জেনে নেওয়া উচিত।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ডেন্টাল মেডিসিনের জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালটি ডেন্টিস্ট্রি ক্লিনিকের ঠিকানা ম্যানহাটনের ৬২২ ওয়েস্ট ১৬৮তম স্ট্রিট। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ২১২-৩০৫-৬১০০। এখানে প্রথমে রোগীর প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা নেই এবং তারা বিনা খরচে চিকিৎসা দেয় না। চিকিৎসা শুরুর আগে পরিকল্পনা ও ফি জেনে নেওয়া জরুরি।   বিনা খরচে প্রতিরোধমূলক ডেন্টাল সেবার একটি সুযোগ রয়েছে ব্রঙ্কসের হোস্টোস কমিউনিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকে প্রধানত ক্লিনিং ও ডেন্টাল এক্স-রে সেবা দেওয়া হয়। ঠিকানা ৫০০ গ্র্যান্ড কনকোর্স, বি বিল্ডিং। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করা যাবে ৭১৮-৩১৯-৭৯৪৩ নম্বরে। এই সেবাকে রুট ক্যানেল, ফিলিং বা দাঁত তোলাসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প ধরে নেওয়া যাবে না।   ব্রুকলিনের সিটি টেকের ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকের ঠিকানা ২৮৫ জে স্ট্রিট, একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সপ্তম তলায়, কক্ষ এ-৭০১। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-২৬০-৫০৭৪। এখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল হাইজিনিস্টের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা সেবা দেন। ক্লিনিকটি ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে চলে; জানুয়ারি ও গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে বন্ধ থাকে। প্রতি ভিজিটে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং একাধিকবার যেতে হতে পারে। বর্তমান ফি ও সময়সূচি ফোন করে নিশ্চিত করতে হবে।   যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই, তারা এনওয়াইসি কেয়ারের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। এটি ইন্স্যুরেন্স নয়, নিউ ইয়র্ক সিটির যোগ্য বাসিন্দাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাম লেখানো ও আর্থিক সহায়তার তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে। ডেন্টাল সেবার খরচও আলাদাভাবে জেনে নিতে হবে।   যাওয়ার আগে ফোন করে নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেখানে হয় কি না এবং মোট আনুমানিক খরচ কত, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আয়ভিত্তিক ছাড় চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাওয়া কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে। কম খরচের ক্লিনিক মানেই সব চিকিৎসা ফ্রি নয়; পরীক্ষা, ক্লিনিং ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আলাদা ফি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৪৯
বিদেশে বসে কাজ করায় চাকরি হারালেন কর্মী
অস্ট্রেলিয়ার অফিসে সিঙ্গাপুর থেকে কাজ, বসের ট্র্যাকিংয়ে ধরা পড়তেই গেল চাকরি

অনুমতি ছাড়াই বিদেশে বসে অফিসের কাজ করায় চাকরি হারিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক মুদ্রা লেনদেনকারী চার্লস গ্রাহাম। ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় না ফিরে সেখান থেকেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্ত করে বিষয়টি জানতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা ছিল বলে সিদ্ধান্ত দিলেও অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহাম প্রায় ২০ মাস ধরে এইচআইএফএক্স অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ‘এক্সই’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে। এর আগে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর সেই আবেদন নাকচ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ছুটি কাটাতে সিঙ্গাপুরে যান গ্রাহাম। ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার কথা থাকলেও তিনি সেখান থেকেই অফিসের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর ব্যবস্থাপক তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তা নেন। পরে গ্রাহামের অফিসের ল্যাপটপের অবস্থান অনুসরণ করে জানা যায়, তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। গ্রাহামের দাবি, তাঁর সঙ্গী ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে ফেরার ফ্লাইট পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর তিনি কাজে যোগ দিলেও জমে থাকা ইমেইল, ফোনকল এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যবস্থাপককে জানানো হয়নি বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠান তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশে ফেরার পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঙ্গীর ভ্রমণে অক্ষমতার বিষয়ে গ্রাহাম যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশনে শুনানি হলে গ্রাহামের বিদেশে বসে কাজ করার আগের একটি ঘটনাও সামনে আসে। এর আগে বালি থেকে কাজ করার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় মেরামতের কাজ চলায় তাঁকে বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তবে তাঁর ব্যবস্থাপকের বক্তব্য ছিল, গ্রাহাম যে বিদেশে অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। কমিশন চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় গ্রাহামকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে মনে করেছে। অর্থাৎ, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি ন্যায্য ছিল না। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে এটিও বিবেচনায় নেওয়া হয় যে, গ্রাহামের আচরণে অসদাচরণের বিষয় ছিল এবং তিনি এরই মধ্যে চার সপ্তাহের বেতন পেয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করে কমিশন তাঁকে আগের পদে ফিরিয়ে নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়ায় অন্যায্যতা চিহ্নিত হলেও গ্রাহাম চাকরি বা বাড়তি আর্থিক সুবিধা—কোনোটিই পাননি। ঘটনাটি বিদেশে অবস্থান করে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও কর্মস্থলের নীতিমালা মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে, কোনো কর্মী ছুটিতে বিদেশে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন সেখানে অবস্থান করলে, সেখান থেকে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনুমতি ছাড়া কাজ চালিয়ে গেলে তা চাকরির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—চার্লস গ্রাহামের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৪১
টেক্সাসে তরুণদের নতুন গন্তব্য
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন তরুণেরা, সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন টেক্সাসে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। তাঁদের বড় একটি অংশের গন্তব্য টেক্সাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের খরচ এবং নতুন জায়গায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনার মধ্যে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে তরুণদের এই স্থানান্তরের চিত্র উঠে এসেছে।   ২০২৪ সালের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৮ হাজার ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্য থেকে এই প্রজন্মের মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৮৭ জন পাড়ি জমিয়েছেন টেক্সাসে। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া তরুণদের জন্য টেক্সাস ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে যাওয়ার হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তরুণদের রাজ্য পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে অথবা ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে গেছেন। এই সংখ্যা দেশটির ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন জি জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই বয়সী প্রায় প্রতি চারজনের একজন ওই বছর রাজ্য বদলেছেন। নিট স্থানান্তরের হিসাবে জেন জিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজ্য ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে যতজন তরুণ এসেছেন, চলে গেছেন তার চেয়ে অনেক কম। ফলে রাজ্যটিতে এই প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ২২ হাজার ৮৪৩ জন। অন্যদিকে, টেক্সাসে তরুণদের আসা-যাওয়া—দুটিই বেশি হলেও রাজ্যটিতে নিট সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ জন। এই হিসাবে টেক্সাসের অবস্থান ছিল সপ্তম। নিউইয়র্কও তরুণদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে জেন জি প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৬১ জন। বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি ও ইলিনয়েসসহ কয়েকটি রাজ্যে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে। জেন জিদের রাজ্য বদলের প্রবণতা আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিলেনিয়ালদের ১৪ শতাংশ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। জেনারেশন এক্সের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জেন জির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। টেক্সাসে তরুণদের আগমন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানান্তর-তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে টেক্সাসে ৫ হাজার ৮১ জন জেন জি এসেছেন, বিপরীতে রাজ্যটি ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন। ফলে সেখানে নিট আগমন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জনের। ওই বিশ্লেষণে অস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস মহানগর এলাকাকে নতুন তরুণ বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে মানুষের স্থানান্তরও দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন বলে আগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছিল। একই সময়ে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার তুলনায় উল্টো পথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসনের খরচ, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার চাপ অনুভব করছেন। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী রাসেল হ্যানকক বলেছেন, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই মানুষকে ওই অঞ্চল ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর মতে, মৌলিক আবাসনসমস্যার সমাধান করতে না পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয়ের প্রভাব দারিদ্র্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয়জনিত দারিদ্র্যের হারে ক্যালিফোর্নিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যটিতে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার অত্যধিক খরচ সামগ্রিক দারিদ্র্যের ৩৪ শতাংশ এবং শিশুদের দারিদ্র্যের ৪২ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে কেবল আবাসন ব্যয়ের কারণেই সব তরুণ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যান্য কারণও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণের চলে যাওয়া এবং টেক্সাসে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের নতুন ঠিকানা খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৩৩
চুল ঘন করার পণ্য কেনার আগে জেনে নিন
চুল ঘন করার আশায় টাকা খরচের আগে জেনে নিন কোন পণ্য এড়িয়ে চলবেন

চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজানো কিংবা চুল আরও ঘন করার আশায় অনেকেই দামি শ্যাম্পু, সিরাম, ভেষজ তেল ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট কিনছেন। এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও সবগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পণ্য চুলকে নরম, চকচকে ও তুলনামূলক ঘন দেখাতে সাহায্য করলেও সেগুলো নতুন চুল গজায়—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। তাই চুলের যত্নে অর্থ ব্যয়ের আগে কোন পণ্য কী কাজে লাগে, তা জানা জরুরি। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ পেরি রোমানোস্কির মতে, বাজারে চুল গজানোর দাবি করা অনেক পণ্যের উপাদান চুলের ফলিকলে কার্যকর প্রভাব ফেলে কি না, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। চুলের গোড়া বা ফলিকল মাথার ত্বকের ভেতরে থাকে। কোনো উপাদানকে সেখানে পৌঁছে কার্যকর হতে হলে মাথার ত্বকে যথেষ্ট সময় থাকতে হবে, ত্বকের বাধা পেরোতে হবে এবং কার্যকর অবস্থায় লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। ফলে পণ্যের গায়ে আকর্ষণীয় উপাদানের নাম থাকলেই সেটি চুল গজাবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঘন করার আশায় কেনার আগে পাঁচ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ১. চুল গজানোর দাবি করা শ্যাম্পু ক্যাফেইন, পেপটাইড ও বিভিন্ন বিশেষ উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু চুলের গোড়াকে সক্রিয় করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করার দাবি করে। কিন্তু এসব উপাদানের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। কিছু গবেষণার ফল প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু গবেষণা পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। প্রসাধনবিষয়ক রসায়নবিদ কেলি ডোবসের মতে, শ্যাম্পু মাথায় বেশিক্ষণ থাকে না। ব্যবহারের অল্প সময় পরই তা ধুয়ে ফেলা হয়। ফলে এর উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে মাথার ত্বকে কাজ করার সুযোগ পায় না। তবে ভালো শ্যাম্পু মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে এবং চুলের তন্তু মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে। এতে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু শুধু শ্যাম্পু দিয়ে নতুন চুল গজানোর প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। ২. উচ্চমাত্রার বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট   চুলের যত্নে বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ বেশ জনপ্রিয়। অনেক সাপ্লিমেন্টে দৈনিক ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন থাকে। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ৩০ মাইক্রোগ্রাম। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট চুল গজাতে উপকারী—এমন গবেষণালব্ধ প্রমাণ নেই। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজির তথ্য অনুযায়ী, বায়োটিনের ঘাটতিও বিরল। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহ সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মাত্রার বায়োটিন ক্ষতিকর হতে পারে এবং কিছু পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে কারও শরীরে বায়োটিনের ঘাটতি নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঘাটতি না জেনে বেশি মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন নেই। ৩. ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাস্টর অয়েল ও বাতানা তেলকে চুল গজানোর কার্যকর উপায় হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু এসব তেল নতুন চুল গজায়—এমন নির্ভরযোগ্য ক্লিনিক্যাল প্রমাণ নেই। কেলি ডোবসের মতে, ক্যাস্টর অয়েল চুলকে নরম রাখতে এবং চুলের ঘর্ষণজনিত ক্ষতি ও ভাঙন কমাতে সাহায্য করতে পারে। বাতানা তেলও চুলের পরিচর্যায় কন্ডিশনিং উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন, চকচকে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগতে পারে। তবে চুল ভেঙে যাওয়া কমা আর নতুন চুল গজানো এক বিষয় নয়। তাই শুধু এসব তেল ব্যবহার করে চুল পড়ার মূল কারণ দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। ৪. চালের পানি চাল ভেজানো বা রান্নার পর পাওয়া শ্বেতসারযুক্ত পানিকে চুল লম্বা ও ঘন করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নানা ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোন্ডা এস ফারাহর মতে, চালের পানি চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন ভালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এটি চুলের পরিচর্যায় কিছুটা সহায়ক হতে পারে বলে প্রচার করা হলেও এর শ্বেতসার চুলে জমে শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো মাথার ত্বকের সমস্যা থাকলে অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। তাই বোতলজাত চালের পানির স্প্রে কেনার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। ৫. প্রাকৃতিক ডিএইচটি ব্লকার পুরুষদের বংশগতভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিএইচটি নামের হরমোন। ফিনাস্টেরাইড নামের ওষুধ এই হরমোনের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এ কারণে রেড ক্লোভার ও বারডকের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদানযুক্ত পণ্যও একই কাজ করতে পারে বলে প্রচার করা হয়। তবে নিউইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সেজাল শাহের মতে, বারডক ডিএইচটি কমিয়ে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে—এমন অর্থবহ প্রমাণ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় খুবই সীমিত। তাই এসব ভেষজ উপাদানকে চুল পড়ার স্বতন্ত্র সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডিএইচটির ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোন পণ্যগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ধরনের বংশগত চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল অন্যতম গবেষণাসমর্থিত ওষুধবিহীন বিকল্প। একটি ৪৮ সপ্তাহের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় পাঁচ শতাংশ মিনোক্সিডিল ব্যবহারকারীদের চুল পুনরায় গজানোর হার দুই শতাংশ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খুশকিবিরোধী শ্যাম্পু মাথার ত্বকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রোজমেরি তেল নিয়েও একটি গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, যদিও গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু সিরাম চুলের ঘনত্ব ও চেহারায় উন্নতি আনতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। আবার ২০২২ সালে প্রকাশিত ৩০টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ভিভিস্কাল ও নুট্রাফলের মতো কিছু সাপ্লিমেন্ট নিষ্ক্রিয় উপাদানের তুলনায় ভালো ফল দেখিয়েছে। তবে এসব গবেষণার অধিকাংশে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন ছিল। চুল পড়ার কারণ না জেনে একের পর এক পণ্য কেনার পরিবর্তে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। ভিটামিনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো রোগের কারণে চুল পড়তে পারে। সঠিক রোগনির্ণয়ের পর চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এতে অকারণে অর্থ ব্যয় এড়ানো এবং সমস্যার উপযুক্ত সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা বুধবার
অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক ভাতায় আসতে পারে বাড়তি ৭৫ ডলার, অপেক্ষা সরকারি ঘোষণার

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা আয়ের কর্মসূচির (এসএসআই) আওতায় অর্থ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসছে বুধবার। ২০২৭ সালে এসব ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করা হবে ওই দিন। এরপর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা ‘কোলা’ (সিওএলএ) সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার কথা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রায় ৭৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়; সরকারি ঘোষণার আগে এটিকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে। চলতি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও এসএসআই ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিভিন্ন পূর্বাভাসে এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। প্রবীণদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংস্থা সিনিয়র সিটিজেনস লিগের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে কত শতাংশ বাড়বে, তা জানতে বুধবারের ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন সুবিধাভোগীরা। এএআরপির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ছিল ২ হাজার ৮৬ ডলার। এই অঙ্কের ওপর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে মাসে প্রায় ৭৫ ডলার বেশি পাওয়া যেতে পারে। সে হিসাবে গড় মাসিক ভাতা দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ হাজার ১৬১ ডলারে। তবে এটি কেবল পূর্বাভাসের ভিত্তিতে করা হিসাব। প্রত্যেক সুবিধাভোগী একই পরিমাণ অর্থ পাবেন না। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ বেশি বা কম হলে তাঁর বাড়তি অর্থের অঙ্কও আলাদা হবে। বার্ষিক এই বৃদ্ধি নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো মূল্যস্ফীতি। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক—সিপিআই-ডব্লিউ—ব্যবহার করে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের হার হিসাব করে। সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের সূচকের গড়ের সঙ্গে আগের বছরের একই সময়ের গড় তুলনা করা হয়। সেই তুলনা থেকেই বোঝা যায়, এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম কতটা বেড়েছে এবং ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন। এবারের হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশ করার কথা। এই তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার নির্ধারণের পথ পরিষ্কার হবে। ভাতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে জ্বালানি ও তেলের দামের প্রভাবও রয়েছে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে পরিবহনসহ অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণে সিনিয়র সিটিজেনস লিগ তাদের পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, এএআরপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের অনুমান বলছে, ভাতা বৃদ্ধির হার গত বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে। বুধবারের সরকারি হিসাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাসকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া যাবে না। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়লেও সুবিধাভোগীদের হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা বেশি থাকবে, তা নির্ভর করতে পারে অন্য খরচের ওপরও। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট বি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মাসিক প্রিমিয়াম সাধারণত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা থেকেই কেটে নেওয়া হয়। ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের পরিমাণ সাধারণত নভেম্বরে ঘোষণা করা হয়। তাই ভাতা বাড়ার পরও প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেলে সেই বাড়তি অর্থের একটি অংশ স্বাস্থ্যবিমার খরচ মেটাতে চলে যেতে পারে। সুবিধাভোগীদের জন্য শুধু ঘোষিত বৃদ্ধির হার নয়, সব ধরনের কর্তনের পর হাতে কত অর্থ থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাতা বাড়ানোর জন্য সুবিধাভোগীদের আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। চূড়ান্ত হার ঘোষণা হওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন যোগ্য ব্যক্তিদের ভাতার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অঙ্ক যুক্ত করবে। নতুন ভাতার পরিমাণ জানিয়ে সুবিধাভোগীদের নোটিশও পাঠানো হবে। ফলে যাঁরা নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা বা এসএসআইয়ের অর্থ পান, তাঁদের ঘোষণার পর নিজেদের নতুন ভাতার হিসাব ও নোটিশের দিকে নজর রাখা উচিত। নতুন হারে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পাওয়া শুরু হবে। সাধারণ নিয়মে সুবিধাভোগীর জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবার অর্থ পাঠানো হয়। তবে যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যাঁরা একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও এসএসআইয়ের অর্থ পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই তারিখ প্রযোজ্য হতে পারে। এসএসআইয়ের অর্থ সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিনে পাঠানো হয়। তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থ আগেই, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পাঠানো হবে। কারণ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ছুটি। এ কারণে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা অনুযায়ী আগাম জমা হওয়া অর্থের বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার অবসরপ্রাপ্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব অনুযায়ী গড় অবসরভাতায় মাসে প্রায় ৭৩ থেকে ৭৫ ডলার যোগ হতে পারে। তবে প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে বুধবার প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের চূড়ান্ত ঘোষণার ওপর। তাই আপাতত এই বাড়তি অর্থকে নিশ্চিত আয় হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:১৪
অটোইমিউন রোগ নির্ণয়ে নারীদের বাড়তি চ্যালেঞ্জ
শারীরিক অসুস্থতাকে মানসিক সমস্যা ভেবে ভুল, অটোইমিউন রোগ নির্ণয়ে পিছিয়ে নারীরা

অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত নারীদের শারীরিক উপসর্গকে মানসিক সমস্যা বলে ভুল করার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় বেশি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের রোগে আক্রান্ত ৪৩ শতাংশ নারীকে তাঁদের অসুস্থতার কারণ মানসিক বা মনোরোগসংক্রান্ত সমস্যা বলে জানানো হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৩ শতাংশ। একই সঙ্গে সঠিক রোগ শনাক্ত করতেও নারীদের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অটোইমিউন রোগ এমন এক ধরনের অসুস্থতা, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুকে আক্রমণ করে। এসব রোগের উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো হওয়ায় শুরুতেই সঠিক কারণ শনাক্ত করা কঠিন হয়। ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, ত্বকে ফুসকুড়ি, জয়েন্টে ব্যথা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে কখনো মানসিক চাপ বা উদ্বেগের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যদিও এর পেছনে জটিল শারীরিক রোগ থাকতে পারে। গবেষণায় মোট ৬ হাজার ৬০৭ জন অটোইমিউন রোগীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই নারী এবং যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারীর অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ ছিল। এই রোগের মধ্যে রয়েছে হাশিমোটো ও গ্রেভস রোগ। হাশিমোটো রোগে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল পড়া, ক্লান্তি ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। অন্যদিকে গ্রেভস রোগে থাইরয়েড অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়। এতে বুক ধড়ফড় করা, ওজন কমে যাওয়া এবং চোখ কিছুটা বাইরে বেরিয়ে আসার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের প্রায় সাতজনের একজন সিস্টেমিক লুপাসে আক্রান্ত ছিলেন। এ রোগে ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। পুরুষদের মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ভাসকুলাইটিস এবং অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোমের মতো রোগ বেশি দেখা গেছে। রোগ নির্ণয়ে দেরির বিষয়টিও গবেষকদের নজরে এসেছে। পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, উপসর্গ শুরুর তিন মাসের কম সময়ের মধ্যেই তাঁদের রোগ শনাক্ত হয়েছিল। নারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত হতে এক থেকে দুই বছর লেগেছে। অর্থাৎ অনেক নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, অথচ অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। গবেষকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু ধারণা এ বৈষম্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নারীদের উপসর্গের বিবরণকে কখনো কখনো পুরুষদের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতাও রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারীদেহের বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে গবেষণার ঘাটতিও রোগ শনাক্তের জটিলতা বাড়াতে পারে। গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ডা. মেলানি স্লোয়ান বলেছেন, অটোইমিউন রোগের উপসর্গের চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা শুরুতে পাওয়া কঠিন হতে পারে। কখনো কখনো সঠিক রোগ শনাক্ত করতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যায়। তাঁর মতে, উপসর্গের ব্যাখ্যা খুব দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা চিকিৎসকদের বিবেচনা করা জরুরি। গবেষণার সহলেখক ও রোগী প্রতিনিধি শাইস্তা তায়াবালির মতে, নারী ও পুরুষের ভুল রোগনির্ণয়ের অভিজ্ঞতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার সঙ্গে উপসর্গকে যুক্ত করার প্রবণতা বেশি হলেও অন্য শারীরিক রোগ হিসেবে ভুল শনাক্ত হওয়ার হার কিছুটা বেশি ছিল পুরুষদের মধ্যে। তাঁর মতে, নারীদের উপসর্গকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত রোগনির্ণয় সব ক্ষেত্রেই ভুল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একজন ব্যক্তির একই সঙ্গে অটোইমিউন রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকতে পারে। লুপাসের মতো কিছু অটোইমিউন রোগ সরাসরি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে মানসিক বা স্নায়বিক উপসর্গও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ও জীবন পরিবর্তনকারী অসুস্থতার সঙ্গে বসবাসের চাপ থেকেও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শারীরিক উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হলে কিংবা শরীরের একাধিক অংশে দেখা দিলে সম্ভাব্য অটোইমিউন রোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগের কারণ স্পষ্ট না হলেও রোগীর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা, নতুন উপসর্গ দেখা দিলে পুনরায় মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে আরও পরীক্ষা করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। গবেষণার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, রোগের কারণ দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে রোগীকে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তাই উপসর্গের যথাযথ মূল্যায়ন এবং রোগীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া ভুল রোগনির্ণয় কমাতে ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৮:৭
পুলিশ লেফটেন্যান্ট পদে ইতিহাস গড়লেন সারাহ শেন্ডি
ওহাইওতে ইতিহাস গড়লেন সারাহ শেন্ডি, প্রথম মিসরীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে হলেন পুলিশ লেফটেন্যান্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে পুলিশ বিভাগে ইতিহাস গড়েছেন সারাহ শেন্ডি। তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মিসরীয়-আমেরিকান নারী হিসেবে পুলিশ লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি ওহাইওতে প্রথম মিসরীয়-মুসলিম নারী সার্জেন্ট হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অবদানের মধ্য দিয়ে তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। শেন্ডি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি পুলিশ বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তাঁর ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। অপরাধ বিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন শেন্ডি। পুলিশের কাজে সাংস্কৃতিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরতে তিনি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করেছেন। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও সচেতন ও দক্ষ করে তোলা। বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পুলিশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৭ সালে শেন্ডি আন্তর্জাতিক পুলিশপ্রধানদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের ‘ফর্টি আন্ডার ফোর্টি’ পুরস্কারও পান। ৪০ বছরের কম বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল পুলিশ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার তাঁর পেশাগত অর্জনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। শেন্ডির পদোন্নতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের অগ্রগতি নয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে মিসরীয়-আমেরিকান ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পুলিশের নেতৃত্বের পর্যায়ে তাঁর এই অগ্রযাত্রা বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। তবে তাঁর পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক তারিখ, নতুন দায়িত্বের বিস্তারিত পরিধি এবং এ অর্জন নিয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ৭:৫২