সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

২০ বার সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত চল্লিশের কোঠায় জন্ম দিলেন যমজ কন্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:২১
প্যারামজিত ও নামিন্দারের যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনি
প্যারামজিত ও নামিন্দারের যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনি

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্যারামজিত ও তাঁর স্বামী নামিন্দার। এ সময়ে আইভিএফ চিকিৎসার ব্যর্থতা, একাধিক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং সন্তান হারানোর মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর একসময় সন্তান নেওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন প্যারামজিত। কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের পর প্রার্থনা করার প্রায় এক মাসের মাথায় জানতে পারেন, তিনি আবার গর্ভবতী। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর গর্ভে রয়েছে যমজ সন্তান। ২০২৩ সালে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের দুই কন্যা আভনুর ও আজুনি।

 

২০০৯ সালে বিয়ের পরপরই পরিবার গড়ার চেষ্টা শুরু করেন প্যারামজিত ও নামিন্দার। কিন্তু বারবার তাঁদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গর্ভধারণের জটিলতা। সন্তান নেওয়ার জন্য প্যারামজিতকে আইভিএফসহ বিভিন্ন চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিবার নতুন করে আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতা ও সন্তান হারানোর বেদনা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল।

 

প্যারামজিত জানান, প্রতিবার মাসিক শুরু হলে তাঁর মনে হতো, আবারও বুঝি মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না। কখন গর্ভধারণ করতে পারবেন, আদৌ পারবেন কি না—এমন প্রশ্ন তাঁকে তাড়া করত। পরিবার শুরু করার জন্য নিজের ওপর একধরনের চাপও অনুভব করতেন তিনি।

 

আইভিএফ চিকিৎসার প্রক্রিয়াও ছিল কঠিন। ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন, ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের মতো বিভিন্ন ধাপ পার হতে হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসাবিষয়ক জটিল শব্দ ও প্রক্রিয়া বুঝতে সমস্যা হতো। তাঁর সংস্কৃতিতে আইভিএফ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কম হওয়ায় চিকিৎসার বিষয়টি অনেকটা গোপন রেখেই এগিয়ে যেতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

 

ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর প্রতিবার গর্ভধারণ পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় থাকতেন প্যারামজিত। তাঁর মনে হতো, এবার হয়তো কাঙ্ক্ষিত সুখবর পাবেন। কিন্তু পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল আসায় ভেঙে পড়তেন। এরপরও আবার চেষ্টা করেছেন। এভাবে একের পর এক গর্ভপাত, জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ এবং গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা জমতে থাকে।

 

২০১৮ সালে তাঁদের জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় শোক। প্যারামজিতের গর্ভে থাকা যমজ সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, যাদের নাম রাখা হয়েছিল অমৃত ও ফতেহ—প্রায় ২০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় হারিয়ে যায়।

 

সেই সময় প্যারামজিতের শরীরে গর্ভাবস্থার শুরুর দিকেই গুরুতর প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া দেখা দিয়েছিল। এ অবস্থায় উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা মা ও অনাগত সন্তানের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকেরা তাঁকে জানান, একটি শিশুর হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে না এবং অন্য শিশুটিকেও বাঁচানো সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্যারামজিতের নিজের জীবন নিয়েও ঝুঁকির কথা বলা হয়।

 

সন্তান হারানোর অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। প্যারামজিতের ভাষায়, তখন তাঁর মনে হয়েছিল, সন্তানদের ছাড়া আর বেঁচে থাকার শক্তি নেই। এই গভীর শোক তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একই বাড়িতে থেকেও তাঁরা মাসের পর মাস নীরবতায় দিন কাটাতেন।

 

এরপর দীর্ঘ চিকিৎসা ও বারবার ক্ষতির অভিজ্ঞতায় ক্লান্ত হয়ে প্যারামজিত ও নামিন্দার সিদ্ধান্ত নেন, আর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাঁদের মনে হয়েছিল, এত কিছুর পর হয়তো আর কখনো মা-বাবা হওয়া সম্ভব হবে না।

 

কিন্তু ২০২২ সালে ভারতে ধর্মীয় স্থান হুজুর সাহিব ও অমৃতসর পরিদর্শনে গিয়ে প্যারামজিত আবার প্রার্থনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে সন্তান চেয়ে প্রার্থনা করেন এবং সন্তান হলে তাকে নিয়ে আবার সেখানে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

প্রায় এক মাস পর তাঁর মাসিক বন্ধ হয়। প্রথমে ভ্রমণ কিংবা কাজের ব্যস্ততার কারণে এমন হয়েছে বলে ভেবেছিলেন তিনি। পরে গর্ভধারণ পরীক্ষা করলে ফল ইতিবাচক আসে। ১৩ বছরের চেষ্টা ও ২০টি গর্ভধারণজনিত ক্ষতির পর আবার গর্ভবতী হওয়ার খবরটি তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।

 

ছয় সপ্তাহের পরীক্ষার সময় আরেকটি চমক অপেক্ষা করছিল। চিকিৎসাকর্মী তাঁকে জানান, তাঁর গর্ভে একটি নয়, দুটি সন্তান রয়েছে। আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলেন প্যারামজিত। তবে একই সঙ্গে ২০১৮ সালের স্মৃতি তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে। আগের মতো আবারও সন্তান হারাতে হবে কি না, সেই ভয় তাঁকে ঘিরে ধরে।

 

এবার তাঁর গর্ভাবস্থায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। আগে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকায় চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁকে অ্যাসপিরিন ও রক্ত পাতলা রাখার ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। টুইনস ট্রাস্টের মাতৃত্বকালীন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা পান তিনি। নিকি ও লরা নামের দুই বিশেষজ্ঞ ধাত্রী পুরো গর্ভাবস্থায় তাঁর পাশে ছিলেন।

 

প্যারামজিত জানান, এবার তাঁর উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হলে তিনি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারতেন। এতে নিজের স্বাস্থ্য ও গর্ভের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তুলনামূলকভাবে আশ্বস্ত বোধ করতেন।

 

গর্ভাবস্থার ৩৬ সপ্তাহে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনির জন্ম হয়। একটি শিশুর ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। একই সময়ে প্যারামজিতের শরীরেও ফোলা ও রক্তচাপ বাড়ার লক্ষণ দেখা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

 

দুই মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তকে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময় বলে বর্ণনা করেছেন প্যারামজিত। দীর্ঘ ১৩ বছরের সংগ্রাম, বারবার গর্ভধারণজনিত ক্ষতি এবং প্রথম যমজ সন্তানদের হারানোর পর অবশেষে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল গভীর আবেগের।

 

২০২৬ সালের অক্টোবরের হিসাবে, আভনুর ও আজুনি তিন বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্যারামজিত এখন নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন, যাতে সন্তান হারানো কিংবা সন্তান ধারণে সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য পরিবারগুলোও মানসিক সমর্থন ও আশার কথা জানতে পারে।

 

তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রার পর তাঁর পরিবারে দুই কন্যার আগমন সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক
দিল্লিতে ২৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ট্রেন বাতিল, মেট্রো চলাচল সীমিত করল মোদি সরকার

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধের উদ্যোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জনপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্রসংগঠন শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাঁদের প্রধান দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। আয়োজকদের দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   বিক্ষোভ ঘিরে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ মেট্রো কর্তৃপক্ষকে ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, কাশ্মীরি গেট, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, জনপথসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো। তবে সব স্টেশনে বিধিনিষেধ কার্যকরের বিষয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি।   রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনগামী বিভিন্ন ট্রেন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দিল্লিতে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনে রাজধানীতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।   তবে সরকারের পরিবহন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও মেট্রো ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ফলে ঘোষিত পরিবহন বিধিনিষেধের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথেও বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ চেকপোস্ট। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদাবাদ, বদরপুর, নয়ডা সংযোগ সড়ক এবং দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের উদ্দেশ্য, বড় ধরনের জমায়েতের কারণে যানজট ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো।   এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে নজরদারি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে অন্য রাজ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দিল্লির ১৫টি পুলিশ জেলায় অস্থায়ী আটককেন্দ্র প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আগের বিক্ষোভের মতো সংঘাত এড়াতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে দিল্লি পুলিশ শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের আবেদন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা থাকলেও আয়োজকেরা ৭ অক্টোবর আবেদন করেন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা, যান চলাচল এবং অতীতের কর্মসূচিতে নির্দেশনা না মানার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   তবে অনুমতি না পাওয়ার পরও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার সীমিত করতেই প্রশাসন এসব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে সংগঠনের সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এতে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা।   অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভুলভাবে কারও নাম বাদ পড়লে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধন ও পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিরোধী জোটের নেতারা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হস্তক্ষেপ কামনা করার উদ্যোগও নিয়েছেন।   নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এলাকা, যন্তরমন্তর সংলগ্ন সড়ক এবং অতীতে সংঘর্ষের ঘটনাস্থলগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।   শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে রাজধানীতে বড় ধরনের জমায়েত নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর এখন নজর থাকবে, নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রেখে সরকার কীভাবে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল সচল রাখে এবং বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৫৮
প্যারামজিত ও নামিন্দারের যমজ কন্যা আভনুর ও আজুনি

২০ বার সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত চল্লিশের কোঠায় জন্ম দিলেন যমজ কন্যা

ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার ৪০টি ছুরি

পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, পরীক্ষায় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলীতে মিলল ৪০টি ছুরি

শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সিডনিতে সাবেক শিক্ষিকা ডিয়ান্দ্রা কনটু গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত

রাত্রিকালীন শিক্ষাসফরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান পরিবারে হা ম লার অভিযোগ
প্রার্থনার মাঝেই খ্রিস্টান পরিবারে হা মলা, বাড়িতে তুলসী গাছ রেখে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রার্থনা চলাকালে একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাড়িতে হা মলা, ভাঙচুর ও মা রধরের অভিযোগ উঠেছে শতাধিক মানুষের একটি দলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশ করে সদস্যদের হেনস্তা করার পাশাপাশি তাদের জোর করে ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা হয়। চলে যাওয়ার আগে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছও রেখে যায় দলটি। ঘটনার সময় পরিবারের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও হা মলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।   ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ধলহরা গ্রামে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন বিকেলে সোনালি ও বাপি রানা বাড়িতে প্রার্থনার আয়োজন করছিলেন। এ সময় প্রায় ১০০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র তথ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ঢুকে দলটি পরিবারের সদস্যদের মা রধর করে এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। পরে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছ রেখে যায় তারা। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্লো গান দেওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।   ঘটনার সময় পরিবারের এক কিশোর সদস্যও রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বয়স ১৫ বছর। তবে পরিবারের সদস্যদের আঘাতের ধরন কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর পরিবারটি আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় থানায় যায়। অভিযোগ দায়েরের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে তারা কেশপুর থানায় উপস্থিত হয়। কিন্তু ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরও তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর বা প্রাথমিক মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।   ‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র আরও অভিযোগ, থানার ভেতরে ও বাইরে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হু মকি দেওয়া হয়। ফলে ঘটনার পর পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উঠে এসেছে।   এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রে প্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা তদন্তের অগ্রগতিও স্পষ্ট নয়।   প্রার্থনার সময় একটি পরিবারের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নি র্যাতন, ধর্মীয় স্লো গান দিতে বাধ্য করা এবং থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিগুলো বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   তবে অভিযোগের সব দিক এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৫১
ভারতে স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে, মোদিকে প্রশ্ন করলেন ইলন মাস্ক

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রাহুল ভোহরা। ছবি: সংগৃহীত

স্টার্টআপের চাপে পড়েছিলেন রাস্তায়, পরে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের কোম্পানি গড়লেন ভারতীয় তরুণ

বিয়েতেই অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন এই তুর্কি নবদম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

নিজেদের বিয়ের ভোজ বাদ দিয়ে ৪ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে খাওয়ালেন তুর্কি নবদম্পতি

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর কাজের অনেক প্রশংসা করেছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা। ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক, ইরানের নিরাপত্তায় দোয়া কামনা মোজতবা খামেনির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য ধর্মীয় প্রার্থনা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। শুক্রবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বার্তাটি প্রকাশ করে।   মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় নিরাপত্তাকে মহান আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অপরিহার্য। ইরানের বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম ও সীমান্তবর্তী এলাকায় এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, সমুদ্রসীমা, বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় তাঁদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   তাঁর ভাষায়, ইরানের পুলিশ বাহিনী দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই বাহিনীর সদস্যরা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছেন না, বরং বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতের মধ্যেও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে খামেনি অভিযোগ করেন, ইরানের পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   তবে এসব হামলা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।   তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার কারণে পুলিশ বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলেও সদস্যরা বিকল্প উপায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি পুলিশ স্টেশন ও স্থায়ী কর্মস্থলের বাইরে রাস্তায় এবং যানবাহনের মধ্য থেকেও কাজ চালিয়ে গেছেন।   খামেনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেক ত্যাগ সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। অথচ জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার পেছনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি মনে করেন, অনেক সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। তবুও তাঁদের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের মূল্য রয়েছে।   বার্তায় জনগণের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা সমাজেরই অংশ। সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যদের মতো তাঁরাও সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই উঠে এসেছেন।   সে কারণে জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ধরে রাখা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।   খামেনির মতে, পুলিশ সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়।   একই সঙ্গে ইরানের পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা।   তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য শুধু জনবল বৃদ্ধি কিংবা প্রচলিত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও তথ্য ব্যবস্থাপনায়ও উন্নতি আনতে হবে।   বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।   খামেনি বলেন, তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে মানবসম্পদ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উন্নয়ন পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে পারে।   তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।   জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় ইরানের পুলিশপ্রধানসহ বাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে ধন্যবাদ জানান মোজতবা খামেনি।   তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার জন্য ইরানি জাতি কৃতজ্ঞ।   বার্তার শেষ অংশে ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে পুলিশের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমাম মাহদীর দোয়ার বরকতে ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধির কাজে পুলিশ সদস্যরা আরও বেশি সফল হবেন। একই সঙ্গে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য প্রচলিত শিয়া ধর্মীয় প্রার্থনাও উল্লেখ করেন তিনি।   শিয়া ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মাহদী হলেন দ্বাদশ ইমাম, যিনি বর্তমানে অন্তর্ধানে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আবির্ভূত হবেন। তাঁর পুনরাগমন সম্পর্কে শিয়া মুসলমানদের মধ্যে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।   ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ইমাম মাহদীর দ্রুত পুনরাগমনের জন্য দোয়া করার প্রচলন রয়েছে। মোজতবা খামেনির এই বার্তাতেও সেই ধর্মীয় রীতির প্রতিফলন দেখা গেছে।   তবে তিনি ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের কোনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পুলিশ বাহিনীর অবদান, বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য প্রার্থনা।   ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় মোজতবা খামেনি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পটভূমিতে তাঁর এই বার্তায় ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনগণের আস্থা এবং পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ২:৩৭
চীনের গুয়াংজু শহরের অপরিচ্ছন্ন রাস্তার দৃশ্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন এক ভারতীয় পর্যটক। ছবি: সংগৃহীত

চীনের রাস্তায় ময়লার নোংরা স্তূপ দেখে ভারতীয় পর্যটকের প্রশ্ন, শুধু ভারতই কেন বদনাম?

নেদারল্যান্ডসে পশু জবাইয়ের আগে অচেতন করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেদারল্যান্ডসে হালাল পদ্ধতিতে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রস্তুতিতে সরকারের প্রতিমন্ত্রী

ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন

ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসেও থামছে না শিক্ষার্থীদের বি ক্ষোভ, টানা তৃতীয় সপ্তাহে আন্দোলন

0 Comments