সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে সিআইএ, ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পতনের আশঙ্কা, সতর্ক করল সিআইএ

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ আরও গভীর হলে ইসরায়েল গৃহসংঘাত কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ধরনের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি গোপন মূল্যায়ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গোপন নথিটির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে নথিটি সিআইএ প্রকাশ করেনি এবং সংস্থাটি এ বিষয়ে ড্রপ সাইট নিউজের মন্তব্যের অনুরোধেরও জবাব দেয়নি।   ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ বা ‘ভেতর থেকে ভাঙন’ শিরোনামের এই মূল্যায়নটি গত আগস্টে সিআইএর ‘রেড সেল’ ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা তৈরি করেন। সংস্থাটির এই শাখার কাজ হলো প্রচলিত গোয়েন্দা বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে বিকল্প পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্লেষণ করা। দুই মার্কিন সূত্র নথিটির বিষয়বস্তু সংবাদমাধ্যমটির কাছে বর্ণনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মূল্যায়নে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক চাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকট, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাদের মানসিক চাপ, কট্টরপন্থী ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি নিয়ে অসন্তোষ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের সহিংসতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক লড়াই। এসব বিষয় একসঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।   সামরিক সেবা নিয়ে বিরোধকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম বড় বিভাজন হিসেবে দেখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কট্টরপন্থী ইহুদি বা হারেদি সম্প্রদায়ের অনেক পুরুষ ধর্মীয় শিক্ষার কারণে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে ছাড় পেয়ে আসছেন। কিন্তু গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে নিয়মিত রিজার্ভ সেনা তলবের কারণে অন্য অংশের নাগরিকদের মধ্যে এই সুবিধা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সময়ে দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা অনেক সেনা গুরুতর মানসিক চাপ ও আঘাত নিয়ে ফিরছেন বলেও মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।   অর্থনৈতিক চাপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে সামরিক ব্যয় বেড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। ব্যাংক অব ইসরায়েলের গভর্নর আমির ইয়ারন এর আগে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের পর দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশে উঠেছে এবং সরকারি ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ হয়েছে।   নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও এই অস্থিরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে পার্লামেন্টের ২৬তম মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহুর জোট ও তার বিরোধী জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ হলেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে নির্বাচনের ফল ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   সিআইএর কথিত মূল্যায়নে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিচ্ছিন্নতা বাড়ার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যায়নকারীরা আশঙ্কা করছেন, অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হলে বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে পারে, যা ইসরায়েলের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।   তবে গোপন নথিতে ইসরায়েলে নিশ্চিতভাবে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে এমন কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত একসঙ্গে আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি ‘গৃহসংঘাতের’ দিকে যেতে পারে এমন একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজের এক মার্কিন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নথির লেখকেরা পরিস্থিতিটিকে এমন এক পর্যায়ে দেখেছেন যেখানে সামান্য কোনো ঘটনা বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির বিনিয়োগ কমে যাওয়া, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা এবং হামাস বা হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে মূল্যায়নে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সেবা, অর্থনীতি, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যেই তীব্র। ফলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন শুধু নতুন সরকার গঠনের বিষয় নয়, যুদ্ধপরবর্তী ইসরায়েলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন কতটা গভীর হয়েছে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: ড্রপ সাইট নিউজ, আনাদোলু, রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ০:১০
জীবনের শেষ সময়ে প্রিয় ঘোড়ার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ডেনিস লি। ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুর আগে ঘোড়াকে ছুঁতে চেয়েছিলেন বৃদ্ধা, শেষ ইচ্ছা পূরণে ছুটে এলো দুই ছোট ঘোড়া

যুক্তরাজ্যের পশ্চিম সাসেক্সের ৭৯ বছর বয়সী ডেনিস লি জীবনের শেষ সময় কাটাচ্ছিলেন একটি বিশেষ সেবাকেন্দ্রে। ছোটবেলা থেকেই ঘোড়ার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল। জীবনের দীর্ঘ সময় ঘোড়ায় চড়েছেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ করে দেওয়া বিভিন্ন কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে গুরুতর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রিয় ঘোড়াগুলোর কাছ থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে।   জীবনের শেষ দিকে এসে ডেনিসের মনে আবারও ঘোড়ার কাছে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে। আগস্টে তিনি তাঁর মেয়ে জোয়ান মুলারকি এবং সেবাকেন্দ্রের কর্মীদের জানান, তিনি আরেকবার ঘোড়াকে ছুঁতে চান। শুধু ঘোড়াকে দেখাই নয়, ঘোড়ার শরীরের পরিচিত গন্ধও শেষবারের মতো অনুভব করতে চেয়েছিলেন তিনি। মায়ের এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে জোয়ান স্থানীয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।   জোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে জানান, তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ এবং জীবনের শেষ সময়ে একবার ঘোড়ার কাছে যেতে চান। পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় ঘোড়ার মালিক কেরি সন্ডার্স তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তিনি তাঁর দুটি ছোট ঘোড়াকে ডেনিসের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর সেবাকেন্দ্রের কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এই বিশেষ সাক্ষাতের আয়োজন করেন।   পরদিন সকালেই দুটি ছোট ঘোড়াকে ডেনিসের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ডেনিস তখন বিছানায় ছিলেন। তাঁর কাছে ঘোড়াগুলোকে আনা হলে তিনি হাত বাড়িয়ে তাদের মাথা ও নাক স্পর্শ করেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় প্রাণীগুলোর এত কাছে এসে তাঁর মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে। সেখানে থাকা পরিবারের সদস্য ও কর্মীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মুহূর্তটি ডেনিসের পরিবারের জন্য স্মরণীয় হয়ে ওঠে।   সেন্ট বার্নাবাস হাউসের স্বাস্থ্যকর্মী ক্লেয়ার উইগিন্স জানান, তাঁদের সেবাকেন্দ্রে রোগীদের নিয়মিত জিজ্ঞেস করা হয়, দিনের কোন বিষয়টি তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারও কাছে সেটি হতে পারে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বাইরে যাওয়া কিংবা প্রিয় গান শোনা। ডেনিসের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল ঘোড়াকে আরেকবার দেখা এবং তার নিঃশ্বাস নিজের হাতে অনুভব করা। তাই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তাঁর শেষ ইচ্ছাটি পূরণের ব্যবস্থা করা হয়।   ক্লেয়ার বলেন, ডেনিস ঘোড়াগুলো দেখে খুব আনন্দিত হয়েছিলেন। পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। সেখানে থাকা অনেকেই কেঁদে ফেলেছিলেন। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল, ডেনিসের শেষ ইচ্ছাটি পূরণ করতে পারা। একই সঙ্গে এই বিশেষ মুহূর্তটি তাঁর পরিবারের জন্য একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।   ডেনিসের মেয়ে জোয়ান পরে ফেসবুকে সেই দিনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, বিছানায় থাকা ডেনিস হাসিমুখে ছোট ঘোড়াগুলোর মাথা ও নাক স্পর্শ করছেন। এক ছবিতে তাঁকে ঘোড়ার মুখের কাছে হাত বাড়িয়ে দিতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই সময় তাঁদের কাছে সারাজীবনের একটি বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।   জোয়ান জানান, ঘোড়াগুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর তাঁর মা শান্তিপূর্ণভাবে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বলেন, জীবনের শেষ সময়ে ডেনিস এমন একটি অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন, যা তাঁর কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণে যারা সাহায্য করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।   ঘোড়ার মালিক কেরি সন্ডার্সও এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগ প্রকাশ করেন। বিবিসিকে তিনি জানান, ঘোড়াগুলো দেখার পর ডেনিসের মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। ডেনিসের জীবনের শেষ ইচ্ছার অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেছেন। তাঁর দুই ছোট ঘোড়াও পুরো সময় শান্ত ছিল এবং ডেনিসের সঙ্গে বিশেষ সেই মুহূর্তটি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।   ডেনিসের ঘটনা দেখিয়েছে, জীবনের শেষ সময়েও একজন গুরুতর অসুস্থ মানুষের ছোট কোনো ইচ্ছা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রিয় মানুষ, প্রাণী বা কোনো বিশেষ স্মৃতির সঙ্গে শেষবারের মতো সময় কাটানোর সুযোগও রোগীর জন্য অনেক অর্থ বহন করতে পারে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা আর পরিবারের উদ্যোগে ডেনিস তাঁর জীবনের শেষ সচেতন সময়গুলোর একটিতে আবারও প্রিয় ঘোড়ার কাছে ফিরতে পেরেছিলেন।   তথ্যসূত্র: বিবিসি

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:৫৪
কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজির পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, পেলেন ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যানোটেকনোলজি ও পরিষ্কার জ্বালানি নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন গবেষণা কার্যক্রমে ৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের কথা জানানো হয়েছে। মেরিল্যান্ডের কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির এই গবেষণা উদ্যোগে ন্যানোটেকনোলজি, উন্নত উপাদান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ন্যানোমেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   ড. জামাল উদ্দিন কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। নিজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে পরিষ্কার জ্বালানি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   এই গবেষণা কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য হলো উন্নত ন্যানো উপাদান তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি উৎপাদন ও সংরক্ষণে আরও কার্যকর প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি সৌরশক্তি, উন্নত উপাদান এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ন্যানোটেকনোলজি দীর্ঘদিন ধরে ন্যানো উপাদান, সৌরশক্তি রূপান্তর, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে। ড. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের যুক্ত করার পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাগার সুবিধা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   ড. জামাল উদ্দিন ২০০৫ সাল থেকে কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে ন্যানো উপাদান, সৌরশক্তি রূপান্তর, লেজার ফটোকেমিস্ট্রি, টেরাহার্টজ স্পেকট্রোস্কপি এবং উন্নত ন্যানোটেকনোলজি। গবেষণা ও উদ্ভাবনে অবদানের জন্য তিনি একাধিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ড. জামাল উদ্দিন একজন পরিচিত মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রি পড়াশোনা শেষে তিনি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের সঙ্গেও তাঁর একাডেমিক যোগাযোগ রয়েছে।   ন্যানোটেকনোলজি ও পরিষ্কার জ্বালানির মতো ভবিষ্যৎমুখী গবেষণায় বাংলাদেশি একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে বড় অঙ্কের অর্থায়নের ঘোষণা মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতেও আগ্রহ তৈরি করেছে। এই গবেষণা উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তরুণদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় আগ্রহী করে তোলার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:৩৪
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নিজের কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল ঠেকাতে নিজের কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা চান ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া অডিও ও ভিডিওতে নিজের কণ্ঠের অননুমোদিত ব্যবহার ঠেকাতে কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ৫ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেধাস্বত্ব দপ্তর ইউআইপিওতে (EUIPO) আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। আবেদনের সঙ্গে মেলোনির নিজের কণ্ঠে প্রায় চার সেকেন্ডের একটি অডিও যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তিনি ইতালীয় ভাষায় দুবার বলেন, ‘ইও সোно জর্জিয়া মেলোনি’, যার অর্থ ‘আমি জর্জিয়া মেলোনি’।   ইউআইপিওর নথি অনুযায়ী, আবেদনটি এখনো পরীক্ষাধীন। এতে ডাউনলোডযোগ্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ কয়েক ধরনের সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলোনির কণ্ঠের আইনি সুরক্ষা কার্যকর হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেধাস্বত্ব দপ্তরকে আগে আবেদনটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে, কণ্ঠের এই নমুনা ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে কি না।   মেলোনির বেছে নেওয়া বাক্যটিও রাজনৈতিকভাবে বেশ পরিচিত। ২০১৯ সালে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি জর্জিয়া, আমি একজন নারী, আমি একজন মা, আমি ইতালীয়, আমি খ্রিস্টান।’ সেই বক্তব্যের ‘ইও সোно জর্জিয়া’ বা ‘আমি জর্জিয়া’ অংশটি পরে মেলোনির সঙ্গে ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়ে যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত তার আত্মজীবনীর নামও ছিল ‘ইও সোно জর্জিয়া’। পরে এই বাক্যকে কেন্দ্র করে ইতালিতে একটি ডিস্কো গানও তৈরি হয়।   মেলোনির এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি। বর্তমানে অল্প সময়ের আসল অডিও নমুনা ব্যবহার করেও কোনো ব্যক্তির কণ্ঠের অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক নেতা, তারকা ও অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের নামে এমন অডিও বা ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা শুনে বা দেখে অনেক সময় আসল ও কৃত্রিম কনটেন্টের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। মেলোনির কণ্ঠ ট্রেডমার্কের আবেদন সেই পরিবর্তিত ডিজিটাল পরিবেশে ব্যক্তিগত পরিচয় ও কণ্ঠের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা।   তবে কণ্ঠ ট্রেডমার্ক হয়ে গেলেই এআই দিয়ে মেলোনির কণ্ঠের সব ধরনের নকল বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদন পেলেও এই ট্রেডমার্ক নিজে থেকে প্রতিটি এআই-নির্মিত নকল নিষিদ্ধ করবে না। বরং অননুমোদিতভাবে তার কণ্ঠ ব্যবহার করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত একটি ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগতে পারে। ইউআইপিওর নির্দেশিকাতেও কণ্ঠকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শব্দভিত্তিক ট্রেডমার্ক হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগের কথা বলা হয়েছে।   এটি মেলোনির জন্য নতুন কোনো ধরনের ডিজিটাল সুরক্ষা উদ্যোগ নয়। ২০২৪ সালে তার ছবি ব্যবহার করে যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনি একটি দেওয়ানি মামলা করেন। ওই মামলাটি এখনো চলমান। সে সময় মেলোনি ডিপফেকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেছিলেন, তিনি নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করতে পারেন, কিন্তু অনেক মানুষের সেই সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কৃত্রিম কনটেন্ট মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করতে পারে এবং ক্ষতির কারণ হতে পারে।   ইতালিতে মেলোনিই একমাত্র রাজনীতিক নন, যার পরিচয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নকল করার ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তোর কণ্ঠ নকল করে তৈরি একটি এআই অডিও ব্যবহার করে ধনী ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছিল। ঘটনাটি দেখিয়েছে, এআই দিয়ে শুধু বিনোদনমূলক ভুয়া কনটেন্ট নয়, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রমও চালানো সম্ভব। ফলে কণ্ঠ ও ডিজিটাল পরিচয়ের সুরক্ষা নিয়ে ইউরোপে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রেও এআই দিয়ে পরিচিত ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও চেহারা নকলের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন ২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের একটি কণ্ঠসেবা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, ওই কণ্ঠ তার নিজের কণ্ঠের সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে মিল রয়েছে। ওপেনএআই অবশ্য বলেছিল, কণ্ঠটি অন্য একজন অভিনেত্রীর এবং জোহানসনের কণ্ঠ নকল করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়নি। পরে ওই কণ্ঠসেবা সরিয়ে নেওয়া হয়।   সংগীতশিল্পী টেইলর সুইফটসহ আরও কয়েকজন তারকা এআই-নির্মিত ভুয়া ছবি ও ভিডিওর শিকার হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় মূল উদ্বেগ শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদা বা পরিচয়ের অপব্যবহার নয়, বরং ভুয়া বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির নাম ও কণ্ঠ জুড়ে দিয়ে জনমতকে প্রভাবিত করার ঝুঁকিও রয়েছে। মেলোনির উদ্যোগ তাই একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি এআই যুগে কণ্ঠকে পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নটিকেও সামনে আনছে।   এদিকে বিশ্বজুড়ে মেধাস্বত্ব আইনে কণ্ঠের সুরক্ষা নিয়ে নতুন নজিরও তৈরি হচ্ছে। এআই দিয়ে কণ্ঠ নকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশে আলোচনা চলছে। মেলোনির আবেদন সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ। তবে তার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুরক্ষা পেতে এখন ইউআইপিওর পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:২৭
চীনের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজের অভিযোগে ফেডারেল মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এই রিয়েল এস্টেট এজেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা চীনা নারী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভিনের ৩৪ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ওয়ানইং ঝাং, যিনি ‘হিদার ঝাং’ নামেও পরিচিত, চীনের সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র পরিবারের সদস্যকে নজরদারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রোববার লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ফেডারেল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঝাং চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল তাইওয়ানের একজন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের বাসস্থানের ওপর নজরদারি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই কাজে ঝাং অন্য একজনের সঙ্গে সমন্বয় করেন এবং নজরদারি থেকে পাওয়া ছবি, ভিডিও ও গাড়ির নম্বর চীনা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান।   মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ না করলেও এফবিআই ও একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লক্ষ্য ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র ছেলে লাই টিং-ইউ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এলাকায় বসবাস ও কাজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং ও তার এক সহযোগী ভাড়া করা গাড়িতে করে ওই ব্যক্তির বাড়ির কাছে যান। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাদের গাড়িতে অপেক্ষা এবং পরে বাড়িতে আসা পরিবারের সদস্যদের ছবি বা ভিডিও করার দৃশ্য ধরা পড়ে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।   অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ওই অভিযানের সময় ঝাং চীনা এক কর্মকর্তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তিনি লক্ষ্য ব্যক্তিকে দেখতে পেয়েছেন। পরে ওই কর্মকর্তা ফোনে কথা বলতে চাইলে ঝাং জানান, তিনি তখন ভিডিও ধারণ করছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ঝাং ওই ব্যক্তির বাড়ির সামনে থাকা দুটি গাড়ির নম্বরও চীনা কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্চপর্যায়ের তাইওয়ানি কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান, বাড়ি ও গাড়ির তথ্য ভবিষ্যতে চাপ প্রয়োগের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।   ফেডারেল তদন্তে ঝাংয়ের চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তার আইক্লাউড অ্যাকাউন্টের তথ্য ও বার্তা পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়াশোনা করেছিলেন। সেখানে পড়ার সময়ের এক সাবেক সহপাঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল, যাকে তদন্তকারীরা চীনা সরকারের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ব্যক্তির মাধ্যমে পরে ঝাং আরেক চীনা সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।   অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ঝাং চীনে গিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। আগস্টের শেষ দিকে ঝাং ও আরেক ব্যক্তি ক্যালিফোর্নিয়ার জন ওয়েন বিমানবন্দর থেকে লাস ভেগাস যান এবং সেখান থেকে ১ সেপ্টেম্বর সিয়াটলের উদ্দেশে রওনা হন। সিয়াটলে পৌঁছে তারা একটি গাড়ি ভাড়া করে নজরদারির কথিত স্থানে যান। তদন্তকারীরা বলছেন, পুরো যাত্রাটি চীনা কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছিল।   গ্রেপ্তারের আগে ঝাংয়ের জীবনযাপনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ দৃশ্যমান ছিল। বিভিন্ন পোস্টে তাকে প্যারিসসহ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। তার স্বামী এডরিক ডিংও একই রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তাদের বিভিন্ন সময় একসঙ্গে থাকার ছবি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও খাবারের জায়গায় যাওয়ার তথ্য দেখা যায়। তবে এসব ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   শিক্ষাজীবন নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য এসেছে। প্রকাশ্য পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, ঝাং ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউএসসিতে পড়াশোনা করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ফেডারেল অভিযোগপত্রে বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে তার পড়াশোনার তথ্য রয়েছে। তদন্তকারী এফবিআই কর্মকর্তা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনের গোয়েন্দা কাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, যদিও এটিকে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে অপরাধের স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে আদালত এখনো নির্ধারণ করেনি।   ঝাংয়ের স্বামী এডরিক ডিং গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো কিছু জানেন না এবং পরে আর মন্তব্য করতে চাননি। ঝাংয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে এবং তার আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার ছিল না।   সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ঝাংয়ের প্রাথমিক হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়। আদালতে তিনি নিজের নাম ও অভিযোগটি বুঝতে পেরেছেন কি না, সে বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তাকে ইউএস মার্শালদের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে তার জামিন বা হেফাজতে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   ঝাংয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের কথিত গোপন তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার আর্কাডিয়ার সাবেক মেয়র ইলিন ওয়াং চীনের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। এছাড়া সাবেক তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নজরদারির অভিযোগে আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিদেশি সরকারের গোপন তৎপরতা মোকাবিলায় পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছেন।   তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তাইওয়ানি কর্মকর্তারা এটিকে বিদেশে থাকা তাইওয়ানি নাগরিক ও তাদের পরিবারের ওপর নজরদারি এবং চাপ প্রয়োগের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় এবং তথাকথিত চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ব্যবহার করে চীনকে হেয় করার বিরোধিতা করে।   তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২৩:১
হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্কে স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামের সংক্রমণ বাড়ছে, জরুরি অবস্থা জারি করলেন গভর্নর হোকুল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হাম রোগের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্টেট ডিজাস্টার ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। সোমবার নির্বাহী আদেশ জারি করে তিনি এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। রাজ্যের গ্রামীণ ও কম টিকাদান-প্রবণ এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং টিকাদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জরুরি আদেশটি ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়ে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।   নিউইয়র্ক স্টেটের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ বছর রাজ্যজুড়ে ১০৮টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে সাতটি এবং শহরের বাইরে ১০১টি ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে দ্রুত সংক্রমণ বেড়েছে ১৫ জুলাইয়ের পর। ওই সময় থেকে কম টিকাদান-প্রবণ গ্রামীণ ১৮টি কাউন্টিতে ৯২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো এসব এলাকায় এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি এমএমআর টিকার ডোজ দিয়েছে।   কেন্দ্রীয় নিউইয়র্কের ওটসেগো কাউন্টিতে এ বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সেখানে জানুয়ারি থেকে ২০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে বলে রাজ্যের তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নিউইয়র্কের বাইরে প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৯৭৭টি হাম রোগের ঘটনা ও পাঁচটি মৃত্যু রিপোর্ট করা হয়েছিল, আর ৫ অক্টোবর রাজ্যটির মোট সংক্রমণ এক হাজার ছাড়িয়ে যায়।   জরুরি আদেশের আওতায় হাম, মাম্পস ও রুবেলার প্রতিরোধে ব্যবহৃত এমএমআর টিকা দেওয়ার অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এখন চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্যারামেডিক, উন্নত জরুরি চিকিৎসা সেবাকর্মী, ফার্মাসিস্ট ও ধাত্রীদেরও নির্দিষ্ট শর্তে টিকা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নিবন্ধিত নার্সরা সন্দেহভাজন হাম রোগীর পরীক্ষার নির্দেশও দিতে পারবেন। ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের এমএমআর টিকা দেওয়ার সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।   গভর্নর হোকুল বলেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ এবং কোনো মানুষের এ কারণে গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর ঘটনা কাম্য নয়। সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তার মতে, আরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা ও পরীক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।   নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ একই সঙ্গে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করতে মহামারি-সংক্রান্ত তদন্ত, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা লোকজনের খোঁজ এবং পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করছে। রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। তিনি হাম থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে সুপারিশ অনুযায়ী এমএমআর টিকা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও চলতি বছর হাম রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির ১ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৮৭টি নিশ্চিত হাম রোগের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর ৯৫ শতাংশই এমন রোগী, যারা টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের অবস্থা অজানা। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯টি হাম রোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের মাধ্যমে এটি দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল বা পানি পড়ার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়ে পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।   সিডিসি শিশুদের এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার সুপারিশ করে। প্রথম ডোজ সাধারণত ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি সম্প্রদায়ে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের বেশি থাকলে ব্যাপকভাবে রোগ প্রতিরোধের সুরক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এমএমআর টিকাদানের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমেছে, যা হাম পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।   নিউইয়র্কের এই পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হাম রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরের সংক্রমণ ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় রাজ্যভিত্তিক প্রাদুর্ভাবের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিডিসির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে টিকাদানের হার বাড়ানো এবং আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ শনাক্ত করাকে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক স্টেট স্বাস্থ্য বিভাগ, সিডিসি ও রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২২:৩৫
ম্যানহাটনে অফ-ডিউটি পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মিগুয়েল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজ, ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সীমান্তরক্ষীকে গুলির ঘটনায় অবৈধ অভিবাসীর ১৫ বছরের কারাদণ্ড

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ছুটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তাকে গুলি করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মিগেল ফ্রান্সিসকো মোরা নুনেজকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে বিচারক লোরেটা এ প্রেসকা সর্বোচ্চ অনুমোদিত সাজাটি দেন। একই ঘটনায় সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের ২৩ বছর বয়সী ক্রিসথিয়ান আইবার-বেরোয়াকেও পৃথকভাবে ১২ বছর ৭ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দুজনই অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন এবং সাজা শেষে তাদের বহিষ্কার করা হবে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে ম্যানহাটনের ফোর্ট ওয়াশিংটন পার্কে। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, নুনেজ ও আইবার-বেরোয়া একটি মোটরবাইকে করে ওই এলাকায় ছিলেন। তারা প্রথমে এক নারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এর কয়েক মিনিট পর তারা একই এলাকায় নদীর ধারে বসে থাকা ছুটিতে থাকা সিবিপি কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে যায়। সেখানে নুনেজ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে একটি গুলি তার মুখ ও ডান হাতে লাগে।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা পাল্টা গুলি চালান এবং নুনেজকে দুবার আঘাত করেন। এরপর আইবার-বেরোয়া চালানো মোটরবাইকে করে নুনেজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পালানোর পর আইবার-বেরোয়া তার রক্তমাখা পোশাক পরিবর্তন করেন এবং পোশাকগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য নুনেজের এক আত্মীয়ের সহায়তা নেন। মামলার নথিতে তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করেছেন।   মিগেল নুনেজ ২০২৩ সালের এপ্রিলে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে নিউইয়র্কে একাধিক গ্রেপ্তারের তথ্যও তদন্তে উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে গর্ভবতী এক নারীকে হামলা এবং আরেক অভিবাসীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলা বা গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল। তবে এসব আগের অভিযোগের সবগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য সরকারি ফেডারেল রায়ে নেই।   ফেডারেল মামলায় নুনেজের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবস্থায় গোলাবারুদ রাখার অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে তিনি এই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, এবং সোমবার বিচারক প্রেসকা তাকে সেই সর্বোচ্চ সাজাই দিয়েছেন। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, নুনেজকে আরও তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা দেওয়া হয়েছে। তার সহযোগী আইবার-বেরোয়াকেও একই ধরনের ফেডারেল অভিযোগে ১৫১ মাসের কারাদণ্ড ও তিন বছরের তত্ত্বাবধানে মুক্তির সাজা দেওয়া হয়েছে।   আদালতে নুনেজ আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান। স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি তার ছোট মেয়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং মেয়ের জন্য আরও ভালো মানুষ ও আদর্শ হতে চান। তিনি আরও বলেন, অতীতে ফিরে গিয়ে যা ঘটেছে তা এড়াতে পারলে ভালো হতো। তবে বিচারক প্রেসকা তার বক্তব্যের পরও তাকে আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠেছেন বলে মনে করেননি এবং সেই কারণেই কঠোর সাজা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।   এদিকে গুলিতে আহত সিবিপি কর্মকর্তা জোশুয়া সিনক্লেয়ার এখনো পুরোপুরি কাজে ফিরতে পারেননি। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার প্রায় ১৪ মাস পরও তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং মুখে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফেডারেল সাজা হলেও নুনেজ ও আইবার-বেরোয়ার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে পৃথক অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ হামলা, ডাকাতি ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে এবং ওই মামলার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি।   সোমবারের রায়ে বিচারক প্রেসকা বলেন, অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর সাজা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অন্যরা একই ধরনের অপরাধে জড়ানোর আগে পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক হয়। তবে নুনেজের ১৫ বছরের সাজাটি সরাসরি কর্মকর্তাকে গুলি করার অঙ্গরাজ্য মামলার চূড়ান্ত রায় নয়। ফেডারেল মামলায় গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যের মামলাটি পৃথকভাবে চলবে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নুনেজ ও আইবার-বেরোয়া উভয়েরই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অনুমতি ছিল না এবং তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ রয়েছে। ফলে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কার্যকর হবে। ২০২৫ সালের এই হামলার পর সীমান্ত ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে তীব্র হয়েছিল।   তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, সিবিএস নিউইয়র্ক।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২২:১৬
নেটাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন ট্রাম্পের

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নেটাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করার পর ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দেন। মৃত্যুদণ্ডের সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।   পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হেগসেথের সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাসানের মৃত্যুদণ্ডে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। হাসান ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেছিলেন। পেন্টাগনের ঘোষণার পর এখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।   ফোর্ট হুডে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর হামলাটি চালান হাসান। সে সময় তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেনারা আফগানিস্তানে মোতায়েনের আগে চিকিৎসা ও টিকাদান প্রক্রিয়ার জন্য একটি ভবনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই হাসান গুলি চালান। হামলার পর এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়।   হাসানকে ২০১৩ সালে সামরিক আদালত ১৩ জনকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং হামলার দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করেননি। বরং তার বক্তব্যে উঠে আসে, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল এবং সেখানে মোতায়েন হওয়া মার্কিন সেনাদের থামানোর উদ্দেশ্যেই তিনি হামলা চালিয়েছিলেন। সামরিক আদালতের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকে তিনি মার্কিন সামরিক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে রয়েছেন।   ট্রাম্পের অনুমোদন কার্যকর হলে এটি হবে ছয় দশকের বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৬১ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাইভেট জন বেনেটকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমানে হাসানসহ চারজন সামরিক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে রয়েছেন। সামরিক বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হওয়ায় হাসানের মামলাটি বিশেষভাবে নজরে এসেছে।   মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদনের পরও হাসানের আইনি সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করতে পারেন, যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সীমা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ট্রাম্পের অনুমোদনের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও আদালতে নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না।   মার্কিন সেনাবাহিনীর ২০২৬ সালের একটি আইনবিষয়ক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আধুনিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিবিধান পরিবর্তিত হয়েছে। একই নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই হেগসেথ হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও কার্যকরের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। এখন ফায়ারিং স্কোয়াড ব্যবহারের অনুমোদনের পর সেনাবাহিনী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।   ফোর্ট হুড হামলার পর হাসানের কর্মকাণ্ড ও তার আদর্শিক অবস্থান নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়। বিচার চলাকালে তিনি তালেবানের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়ও হাসান তালেবানের ক্ষমতায় ফেরাকে স্বাগত জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এসব বক্তব্য তার মামলার প্রেক্ষাপট ও হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   পেন্টাগনের ঘোষণায় এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান জানানো হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে হাসান আদালতে নতুন আবেদন করলে সেই সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের অনুমোদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ খুলে দিলেও বাস্তবে তা কবে এবং কোথায় হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।   তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২২:০
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে নতুন মার্কিন বিলে। ছবি: সংগৃহীত
H-1B ভিসার নিয়ম ভাঙলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন করা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি বিলে গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সময়সীমাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।   টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডাইন ১ অক্টোবর ‘এইচ-১বি ভিসা ফ্রড ক্র্যাকডাউন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। বিলটির নম্বর এইচআর ১০৬৪৩। সরকারি কংগ্রেশনাল রেকর্ড অনুযায়ী, ভ্যান ডাইনের সঙ্গে টেক্সাসের আরও পাঁচ রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল, পিট সেশনস, কিথ সেলফ, ব্রায়ান বাবিন ও প্যাট ফ্যালন এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন। বিলটি একই দিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত আইনে গুরুতর এইচ-১বি লঙ্ঘনের একটি শ্রেণিতে জরিমানা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। একই ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়োগদাতাকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বিরত রাখার পরিবর্তে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে। আরও গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বর্তমান ৩৫ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ন্যূনতম নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে।   বিলে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রেও জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট ধরনের নথি জালিয়াতির জন্য ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। নতুন প্রস্তাবে সেই সীমা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। আরেক শ্রেণির লঙ্ঘনে বর্তমান ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের জরিমানার সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।   ভ্যান ডাইনির দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর আইন প্রয়োজন। নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মসূচির নিয়ম ভেঙে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এইচ-১বি কর্মসূচি ব্যবহার করা হলেও নিয়ম লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ভ্যান ডাইনি এর আগে উত্তর টেক্সাসে সম্ভাব্য এইচ-১বি জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।   এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটের মধ্যেও মতবিরোধ রয়েছে। অভিবাসনবিরোধী কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমতে পারে। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ দক্ষতার কর্মী নিয়োগে এইচ-১বি ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিতে পারে।   নতুন বিলটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালে নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের ফি আরোপ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত ওই ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয় এবং প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। একই সময়ে বার্ষিক সীমার আওতাভুক্ত এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি প্রস্তাবিত ফি নিয়েও আলোচনা চলছে।   তবে নতুন বিলটি সরাসরি এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা কমানো, বেতনসীমা নির্ধারণ বা যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে না। এর প্রধান লক্ষ্য হলো কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়ানো। ফলে বিলটি পাস হলে এইচ-১বি কর্মীদের তুলনায় নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হবে।   এই বিলই এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচিত একমাত্র উদ্যোগ নয়। অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন নতুন এইচ-১বি ভিসা তিন বছরের জন্য স্থগিত, বার্ষিক ভিসার সংখ্যা কমানো এবং ন্যূনতম ২ লাখ ডলারের বেতনসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে আলাদা একটি বিল এনেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি চিপ রয়ও এইচ-১বি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের পথে যাওয়ার সুযোগ এবং ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন।   তবে ভ্যান ডাইনের প্রস্তাব এখনো কেবল প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি বিল। এটি বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং এখনো প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে পাস হয়নি। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে বিলটিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের অনুমোদন পেতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। তাই প্রস্তাবিত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জরিমানা এখনই কার্যকর হচ্ছে না।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২১:৪৫
রাশিয়ার ইরকুৎস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ল্যাবে কাজ করার সময় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে গবেষকের মৃত্যু, তিন হাসপাতাল লকডাউন

রাশিয়ার একটি গবেষণাগারে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যায়। ওই টেস্টটিউবে ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগের জীবাণু ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টেস্টটিউব ভাঙার কারণেই প্লেগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই ল্যাব সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল লকডাউন করা হয়েছে।   পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুটস্কে অবস্থিত একটি অ্যান্টি-প্লেগ ল্যাবরেটরিতে এই ঘটনা ঘটে। এই গবেষণাগারটি মূলত বিরল রোগ নিয়ে কাজ করে। ইনডিপেনডেন্ট নিউজ আউটলেট ‘পিপল অব বৈকাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গত সপ্তাহে ওই ল্যাবে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সময় ভুলবশত নিউমোনিক প্লেগ ধারণকারী টেস্টটিউবটি ভেঙে ফেলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।   মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে দারিয়াকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় ১ অক্টোবর রাতে তিনি মারা যান।   দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য কর্মীসহ প্রায় ১৮৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দারিয়ার অসুস্থ হওয়ার পর এরা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, ল্যাবের এই ‘বিশেষত বিপজ্জনক সংক্রমণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য সপ্তাহান্তে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। ইরকুটস্ক হলো মঙ্গোলিয়ার উত্তরের একটি বিশাল অঞ্চল।   গভর্নর ইগর কোবজেভ আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা আর কারও মধ্যে এই রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে রাশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব থাকায় সেখানকার এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ পায়নি। এদিকে, রুশ ট্যাবলয়েড ম্যাশের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চল বুরিয়াটিয়া থেকে ফেরার পর ওই ল্যাব সহকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যেখানে আগে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল।   সাধারণত ইঁদুরের মতো প্রাণীর শরীরে থাকা সংক্রমিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে প্লেগ ছড়ায়। ১৪ শতকে বিশ্বব্যাপী যে ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে যে প্লেগের কথা বলা হচ্ছে তা হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২১:২৬
ফ্লোরিডার সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিনের পর্যটনভিত্তিক কাজের জন্য তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
১০ দিন ছুটি কাটালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার, ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিন ঘুরে বেড়িয়ে স্থানীয় খাবার, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন কর্তৃপক্ষ ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার এ জন্য তিনজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধাও পাবেন।   এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন আকর্ষণগুলোকে আরও বেশি মানুষের কাছে তুলে ধরা। নির্বাচিত তিনজনকে ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত ভ্রমণসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে যেতে হবে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। কাজটি সাধারণ ছুটির ভ্রমণের মতো হলেও এর সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি এবং এলাকার প্রচারের দায়িত্বও যুক্ত থাকবে।   তিনটি পদের মধ্যে প্রথমটির নাম ‘চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার’। এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে স্থানীয় খাবারের জগৎ ঘুরে দেখতে হবে এবং বিভিন্ন খাবার ও রন্ধনসংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয় পদ ‘চিফ সানসেট কিউরেটর’, যার দায়িত্ব হবে জাদুঘর, দেয়ালচিত্র, রঙিন পাড়া এবং এলাকার শিল্প-সংস্কৃতি ঘুরে দেখা। তৃতীয় পদ ‘চিফ ভাইবস অফিসার’-এর কাজ হবে স্থানীয় সংগীত, রাতের বিনোদন ও বিভিন্ন আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা।    প্রতিটি পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি ১০ হাজার ডলারের চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে ফ্লোরিডায় যাওয়ার বিমানভাড়া এবং থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। ভ্রমণের সময় তিনজনকে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা বিষয় অনুসন্ধান করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের তৈরি কনটেন্ট একই এলাকার বিভিন্ন দিক মানুষের সামনে তুলে ধরবে।   ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা স্টিভ গ্রিমস ফক্স ১৩-কে জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রচারণামূলক কৌশলের নামে তৈরি কাল্পনিক চাকরি নয়, সত্যিই তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১০ হাজার ডলার পাবেন এবং সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর পাশাপাশি সেই অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকা এবং নতুন অভিজ্ঞতাগুলো গল্পের মতো করে উপস্থাপন করতে পারা।   এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে তিন হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে কারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ভিডিওগুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব কারা পালন করবেন এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়েও পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।   আবেদনকারীদের দুই মিনিটের একটি ভিডিও জমা দিতে হবে। সেখানে তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তারা এই কাজের জন্য উপযুক্ত এবং কীভাবে তারা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। কনটেন্ট তৈরি, গল্প বলার দক্ষতা এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদন করা যাবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।   নির্বাচিত তিনজনকে ৬ নভেম্বর থেকে ওই এলাকায় আসার প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর তাদের ১০ দিনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। এই প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটন কর্তৃপক্ষ এমন কিছু জায়গা ও অভিজ্ঞতাও সামনে আনতে চায়, যেগুলো সাধারণ পর্যটকদের অনেকেরই নজর এড়িয়ে যেতে পারে। দ্য দালি মিউজিয়ামের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা বেথ বেলও মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার পরিচিতির বাইরে থাকা অভিজ্ঞতাগুলো নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।   সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ফ্লোরিডার পিনেলাস কাউন্টিতে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। সমুদ্রসৈকত, শিল্প-সংস্কৃতি, খাবার এবং বিনোদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। পর্যটন কর্তৃপক্ষের নতুন এই উদ্যোগে তাই প্রচলিত বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে সরাসরি মানুষের অভিজ্ঞতাকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচিত তিনজনের তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে সম্ভাব্য পর্যটকদের কাছে এলাকার বৈচিত্র্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এর প্রধান লক্ষ্য।   সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২১:১২
বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে অশালীন আচরণের অভিযোগে আটক হন কেটি ইনজার। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নারী যাত্রীর অশোভন আচরণ, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী একটি আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মদ্যপ অবস্থায় এক নারী অশালীন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের পোশাক খুলে যৌন আচরণে লিপ্ত হন বলে এক সহযাত্রী অভিযোগ করেন। ঘটনাটি গত ১১ সেপ্টেম্বরের।   অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৬ বছর বয়সী কেটি ইনজারকে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। মিয়ামি-ডেড শেরিফস অফিসের নথিতে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের এক যাত্রী বিষয়টি কেবিন ক্রুকে জানান। এরপর একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ওই নারীর কাছে গিয়ে তাকে আচরণ বন্ধ করতে বলেন।   ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে সন্ধ্যার ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পরপরই ওই নারী তার প্যান্ট খুলে অশালীন যৌন আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তিনি অনুপযুক্ত শব্দ করছিলেন বলেও ওই সহযাত্রী অভিযোগ করেন। কেবিন ক্রু তার কাছে যাওয়ার পর ইনজার আচরণ বন্ধ করেন এবং আবার পোশাক পরেন। পরে তিনি পুরো ফ্লাইটজুড়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে শেরিফস অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিয়ামিতে ফ্লাইট পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইনজারের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার শরীর থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল এবং চোখ ছিল রক্তাভ। তিনি ঘটনার কথা মনে করতে পারছিলেন না এবং ঘুমিয়ে পড়ার কথা জানান। ইনজার মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন বারটেন্ডার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বা মিয়ামি-ডেড শেরিফস অফিস তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমের অনুরোধে কোনো মন্তব্য করেনি।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য স্মোকিং গান। পরে নিউইয়র্ক পোস্ট ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি কোন এলাকার আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিমানযাত্রায় এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর এক সপ্তাহ আগে রচেস্টার থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রীর পাশে বসা এক পুরুষ যাত্রী যৌন আচরণ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারী দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতির কারণে তাকে ওই আসনেই থাকতে হয়েছিল এবং পরে তাকে ১০০ ডলারের একটি ক্রেডিট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।   বিমানে যৌন হয়রানি বা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রত্যক্ষ করলে দ্রুত কেবিন ক্রু অথবা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের অপরাধের মাত্রা বোঝাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের ১০৪টি ঘটনা তারা তদন্ত করেছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২০:৪২
এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে বোল্ডারের জলবায়ু মামলার শুনানির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ।
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার শুরু হয়েছে এমন একটি মামলা, যার রায় দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বহু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। মামলায় কলোরাডোর বোল্ডার শহর ও কাউন্টি অভিযোগ করেছে, তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাড়িয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোম্পানি দুটির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইছে। এর মধ্যে অবকাঠামো মেরামত, পরিবেশগত ক্ষতি, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়া ব্যয়ের বিষয় রয়েছে।   এক্সনমোবিল ও সানকর অবশ্য এই মামলা এগিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণসংক্রান্ত বিষয় মূলত ফেডারেল আইনের আওতায় পড়ে। তাই কোনো একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমনের জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা উচিত নয়।   কোম্পানি দুটির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনও অবস্থান নিয়েছে। সরকারের যুক্তি, বোল্ডারের মামলা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো ফেডারেল পরিবেশনীতি পাশ কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারবে।   মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার একই ধরনের প্রায় ৬০টি মামলা করেছে। এসব মামলায় জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর মধ্যে অনেক মামলা আটকে যেতে বা বাতিল হতে পারে।   অন্যদিকে বোল্ডারের পক্ষে রায় গেলে স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির আর্থিক দায় নিয়ে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার পথ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের ওপর ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   মামলাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা। সুপ্রিম কোর্টকে মূলত বিবেচনা করতে হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষতির জন্য স্থানীয় আদালতে অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কি না।   সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এই মামলায় অংশ নিচ্ছেন না। তার আর্থিক ঘোষণায় কয়েকটি তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ার থাকার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ফলে তিনি মামলাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।   আলিটো অংশ না নেওয়ায় মামলাটিতে সমান সংখ্যক ভোট পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিচের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মামলা তেল উৎপাদন বন্ধ করার দাবি নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় জনগণ ও করদাতাদের যে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, তার একটি অংশের দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।   অন্যদিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো আশঙ্কা করছে, বোল্ডারের মামলা চলতে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের অসংখ্য মামলা হতে পারে। এতে জ্বালানি শিল্পের ওপর বিপুল আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে এবং জাতীয় জ্বালানি নীতিতে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভিন্নতা তৈরি হতে পারে।   এই মামলার রায় শুধু এক্সনমোবিল বা সানকর এনার্জির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্প, স্থানীয় সরকার এবং জলবায়ু ক্ষতির আইনি দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।   সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বছরের জুনের মধ্যে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত বোল্ডারসহ একই ধরনের মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২০:২৪
ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি অভিযান, নির্বাচনী অপরাধে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলক নিবন্ধন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা দাবি করা।   বিচার বিভাগের ৫ অক্টোবরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলোতে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা, ভোটার নিবন্ধন এবং নাগরিকত্বের তথ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই কেউ নিজের নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলে বা ভোট দিলে সেটি ফেডারেল অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।   তবে শুধু অভিযোগ আনা হয়েছে বলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন, এমনটি বলা যাচ্ছে না। প্রতিটি মামলায় আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্ত হবে অভিযুক্তরা সত্যিই আইন ভেঙেছেন কি না।   এই ঘটনা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের বিভিন্ন আসনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব যাচাই ও ভোটের নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটাধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকানোও জরুরি।   অন্যদিকে নির্বাচনী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহল দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের সময় যেন প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের হয়রানি বা ভুলভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।   বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মধ্যে শুধু নির্বাচনী অপরাধের মামলা নয়, বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগ এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাও রয়েছে। ৫ অক্টোবর বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৪০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একক সময়ে করা সবচেয়ে বড় এ ধরনের পদক্ষেপ বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   নির্বাচনের আগে এসব মামলা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। রিপাবলিকানরা সাধারণত নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোটার যাচাইকে গুরুত্ব দিচ্ছে, আর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, কঠোর যাচাইয়ের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং নাগরিকত্ব যাচাই—এই তিনটি বিষয়ই আরও বেশি আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২০:১
সরকারি গবেষণা অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়ছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দেশটির অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হার্ভার্ডকে দেওয়া দুইশ বিশ কোটি ডলারের বেশি সরকারি গবেষণা অনুদান বাতিল করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখন আপিল আদালতে পর্যালোচনা হচ্ছে।   বিষয়টি নিয়ে সোমবার বোস্টনভিত্তিক প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে শুনানি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইহুদিবিদ্বেষ ও ইহুদি শিক্ষার্থীদের হয়রানি মোকাবিলায় যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার অধিকার সরকারের রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।   অন্যদিকে হার্ভার্ডের আইনজীবীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত দাবির কাছে নতি স্বীকার করাতে সরকারি অর্থকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।   এই বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছে একাধিক পরিবর্তনের দাবি জানায়। এসব দাবির মধ্যে বৈচিত্র্য ও সমতা বিষয়ক কর্মসূচিতে পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমের ওপর বাইরের নজরদারির মতো বিষয়ও ছিল।   হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার এসব দাবির বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, কোন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াবে, কাদের নিয়োগ দেবে এবং কোন গবেষণা করবে—এসব বিষয়ে সরকারের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া উচিত নয়।   এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের সরকারি অনুদান আটকে দেয় এবং পরে প্রায় ২২০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে।   হার্ভার্ড আদালতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে। বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ করে, সরকারি অনুদান বন্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের রাজনৈতিক দাবিগুলো মেনে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্য করা।   এর আগে নিম্ন আদালতের বিচারক অ্যালিসন বারোজ হার্ভার্ডের পক্ষে রায় দেন। তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত শুধু হার্ভার্ডের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান সমর্থন করে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থায়ন ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতিতে পরিবর্তন আনার সরকারের ক্ষমতা বাড়তে পারে।   অন্যদিকে হার্ভার্ডের অবস্থান আদালতে টিকে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতা এবং সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হতে পারে।   হার্ভার্ড এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরও কয়েকটি আইনি বিরোধে জড়িয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও থাকার অধিকার নিয়েও আলাদা মামলা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় হার্ভার্ড ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংঘাত এখন দেশটির বড় রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনার একটি অংশ হয়ে উঠেছে।   এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই সরকারি অনুদান শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড পাবে কি না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারের শর্ত আরোপের ক্ষমতা কতটা থাকবে, তা আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৯:৪২
অভিবাসন নীতিতে নতুন উত্তেজনা
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা

নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিছু পশ্চিম আফ্রিকান অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে এমন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।   সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজায় নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ডেকে কয়েকজনকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।   আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গৃহকর্মী, নার্সিং সহকারী, চুলের কাজের পেশাজীবী এবং বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কর্মীরাও রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   বিষয়টির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, আটক হওয়া কয়েকজনের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আগে থেকেই আইনি সুরক্ষা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কোনো ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠালে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।   কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আবারও জোরদার করার সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে এমন অভিবাসীরাও উদ্বেগে পড়েছেন, যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।   নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা বা অন্য কোনো দেশে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে বলে তাদের পরিবার ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন।একটি ঘটনায় গাম্বিয়া থেকে আসা এক নারীকে আটকের পর ঘানায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রায় দুই দশক আগে গাম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। নিজ দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির আশঙ্কায় তিনি আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন। পরে আদালতে আবেদন করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।   এই ঘটনাগুলো ঘিরে নিউইয়র্কের অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো সতর্কতা জারি করেছে। তাদের পরামর্শ, যেসব অভিবাসীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট তারিখে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় হাজির হতে বলেছে, তারা একা না গিয়ে আগে একজন অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও বিতর্ক চলছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে এমন ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত সময় ও আইনি সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, তৃতীয় দেশে পাঠানো একটি বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, যেসব অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন না বা ফেরত যেতে অস্বীকার করেন, তাদের অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নীতি নিয়েও শুনানি করতে যাচ্ছে। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু অভিবাসীকে বহিষ্কার মামলার সময় জামিন শুনানির সুযোগ না দিয়েই আটক রাখা যাবে কি না।নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্যও এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান তৃতীয় দেশে পাঠানোর ঘটনাগুলো মূলত পশ্চিম আফ্রিকার অভিবাসীদের কেন্দ্র করে সামনে এসেছে। তাই কোনো বাংলাদেশি একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন—এমন সিদ্ধান্ত শুধু সাধারণ খবরের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৯:১৮
বাড়ির বেসমেন্ট
বেসমেন্ট ফাঁকা পড়ে আছে? এয়ারবিএনবিতে ভাড়া দিয়ে হতে পারে বাড়তি আয়ের নতুন পথ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির বেসমেন্ট বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকে। বিশেষ করে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বেসমেন্টে নিয়মিত কোনো পরিবারকে ভাড়া দিতে চান না। একই বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদে অন্য পরিবার থাকলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পার্কিং, শব্দ, যাতায়াতসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বেসমেন্টটি সুন্দরভাবে সংস্কার করে স্বল্পমেয়াদি থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, ভবন নির্মাণবিধি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা এবং মর্টগেজের শর্ত যাচাই করা জরুরি।   দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার একটি সুবিধা হলো নমনীয়তা। বাড়ির মালিক নিজের সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বেসমেন্ট অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারেন এবং পরিবারের প্রয়োজন হলে সেটি খালি রাখতে পারেন। তবে স্থানীয় আইনে যদি নির্দিষ্ট সময়সীমা, অনুমতি বা অন্যান্য শর্ত থাকে, সেগুলো অবশ্যই মানতে হবে।   জর্জিয়ার কামিংয়ের বাসিন্দা সুজানের অভিজ্ঞতা এ ধরনের সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় সুজান জানান, তার বাড়ির বেসমেন্টটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে ছিল। নিজের একক পরিবারের বাড়িতে অন্য একটি পরিবারকে নিয়মিত ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া থাকলে পারিবারিক গোপনীয়তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করতেন।   পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার বিষয়ে জানতে পারেন সুজান। এরপর তিনি নিজের এলাকার আইন ও নিয়মকানুন সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং এয়ারবিএনবির অতিথি রাখার প্রয়োজনীয়তাগুলোও যাচাই করেন। প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার করে বেসমেন্টটি অতিথিদের থাকার উপযোগী করে তোলেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, আগে যে জায়গাটি বছরের পর বছর অব্যবহৃত ছিল, সেটিই এখন বাড়তি আয়ের একটি উৎস হয়ে উঠেছে।   সুজানের কাছে বিষয়টি শুধু বাড়তি আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যেসব অতিথি তার বাড়িতে থেকেছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের এলাকার যোগাযোগের তথ্য দিয়ে গেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে সুজান তাদের অঙ্গরাজ্যে গেলে নিজেদের বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণও পেয়েছেন। ফলে বেসমেন্টটি তার কাছে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।   তবে সুজানের অভিজ্ঞতা অন্য বাড়ির মালিকের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হবে এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ম অঙ্গরাজ্য, শহর ও কাউন্টিভেদে ভিন্ন। কোনো এলাকায় লাইসেন্স বা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে, আবার কোথাও এলাকার ব্যবহারবিধির কারণে নির্দিষ্ট ধরনের বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ হতে পারে। এয়ারবিএনবির নির্দেশনাতেও বলা হয়েছে, কোনো কোনো এলাকায় অতিথি গ্রহণের আগে নিবন্ধন, অনুমতি বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে।   বিশেষ করে বেসমেন্টকে আলাদা থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার আগে স্থানীয় ভবন নির্মাণবিধি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা প্রবেশপথ, জরুরি বহির্গমন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপদ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ধোঁয়া শনাক্তকারী এবং কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারীর মতো নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থানীয় নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। শুধু ঘরটি সুন্দর করে সাজালেই সেটি অতিথিদের থাকার জন্য আইনগতভাবে প্রস্তুত হয়ে যায় না।   বাড়িটি যদি বাড়ির মালিক সমিতির আওতায় থাকে, তাহলে সমিতির নিয়মও আগে দেখতে হবে। অনেক বাড়ির মালিক সমিতি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ওপর আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। একই সঙ্গে বাড়ির বীমা কোম্পানির সঙ্গেও কথা বলা জরুরি। কারণ স্বল্পমেয়াদি অতিথি থাকার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সম্পত্তির ক্ষতির জন্য বীমার আওতা কী হবে, তা আগে পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া উচিত।   মর্টগেজের শর্তও উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাড়ির কোনো অংশ স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণচুক্তিতে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা দরকার। স্থানীয় আইন অনুমতি দিলেও ঋণচুক্তির কোনো শর্তের কারণে বাড়ির মালিক বেসমেন্ট ভাড়া দিতে নাও পারেন।   কর ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ি বা বাড়ির কোনো অংশ ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় ও খরচের হিসাব নির্ভর করে সম্পত্তিটি কীভাবে এবং কত দিন ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। বিশেষ পরিস্থিতিতে বছরে ১৫ দিনের কম সময় বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলে সেই ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থের ওপর আলাদা কর-সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আয় কীভাবে ঘোষণা করতে হবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   জর্জিয়াতেও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কর ও ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই বেসমেন্ট ভাড়া দেওয়ার আগে শুধু কত টাকা আয় হতে পারে সেটি হিসাব করলেই হবে না; কর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেরামত, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।   সবকিছু বিবেচনায় নিলে, বছরের পর বছর ফাঁকা পড়ে থাকা বেসমেন্ট কিছু বাড়ির মালিকের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হতে পারে। সেই অর্থ বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবারের অতিরিক্ত খরচ কিংবা মর্টগেজের একটি অংশ পরিশোধে কাজে লাগানো যেতে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াটিয়া রাখার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি অতিথি নেওয়ায় কিছু বাড়ির মালিক নিজেদের জীবনযাপনের সঙ্গে এটি তুলনামূলকভাবে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন।   তবে বেসমেন্ট এয়ারবিএনবিতে দেওয়ার আগে নিজের অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহরের আইন, এলাকার ব্যবহারবিধি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা অনুমতি, বাড়ির মালিক সমিতির নিয়ম, বীমা, মর্টগেজের শর্ত এবং করের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বীমা কোম্পানি এবং কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আইনগত অনুমতি ও নিরাপত্তার সব শর্ত পূরণ করা গেলে, অব্যবহৃত বেসমেন্ট একটি বাড়তি আয়ের সম্ভাব্য উৎস হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৯:১
প্রতীকী ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতে মামলা, বাংলাদেশিদের জন্যও কি খুলবে লটারির সুযোগ?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি-২০২৭-এর নিবন্ধন এখনো শুরু না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে ফেডারেল আদালতে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন চালুর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। বিচারক জিনসুক ওহতা আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলায় সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ডিভি লটারির অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নজর এখন ওই সিদ্ধান্তের দিকে।   ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক রেড ঈগল ল’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালু না করে আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মামলায় আদালতের কাছে অন্তত ৩০ দিনের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।   ডিভি লটারি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন, সেই যোগ্যতার তালিকা প্রতিবছর আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।   ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরুর তারিখ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দপ্তর জানিয়েছিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে দপ্তর জানায়, নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা আবেদনের সময়সীমা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে।   এদিকে মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন চালুর জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেছে এবং এখন নতুন করে ৩০ দিনের নিবন্ধন পর্ব চালু করা কার্যত অসম্ভব। সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে মামলাকারী প্রতিষ্ঠান একমত নয়। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক ওহটা তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।   বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সর্বশেষ ডিভি-২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশকে ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির জন্য অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগের কয়েকটি ডিভি কর্মসূচিতেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশের তালিকায় ছিল।   তবে ডিভি-২০২৭-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের যোগ্যতা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু করেনি এবং নতুন কর্মসূচির চূড়ান্ত যোগ্য দেশের তালিকাও প্রকাশ করেনি। ফলে আদালত যদি নিবন্ধন চালুর পথ খুলে দেন, তার পরও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি যোগ্যতার তালিকার ওপর।   বর্তমানে ডিভি-২০২৭-এর জন্য কোনো নিবন্ধন চালু নেই। তাই আদালতের সিদ্ধান্তের আগে কেউ ডিভি-২০২৭-এর আবেদন গ্রহণের দাবি করলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সরকারি তথ্য ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া তাদের নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।   ১৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত তাই শুধু নিবন্ধন আদৌ শুরু হবে কি না, সেই প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সম্ভাব্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এটি পরবর্তী পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর পেতে ডিভি-২০২৭-এর সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৮:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন রেকর্ডের খুব কাছে এসঅ্যান্ডপি ৫০০

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার সপ্তাহের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে চলে আসে। নাসডাকও নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে বিশেষভাবে শক্তিশালী করেছে। এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও বেড়েছে।   এদিকে বড় করপোরেট অধিগ্রহণের খবরও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। শ্নাইডার ইলেকট্রিকের পিটিসি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের পর পিটিসির শেয়ার একদিনে ৩৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।   তবে বাজারের সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।   তবে সবকিছুই ইতিবাচক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫ দশমিক ৩১ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০২ সালের পর অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়। সাধারণত বন্ডের সুদ বাড়লে শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। তারপরও বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে শক্তিশালী করপোরেট আয় এবং এআই খাতের সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।   তেলের বাজারেও ওঠানামা রয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং জি৭ দেশগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ তেলের দামে কিছুটা চাপ তৈরি করেছে।    বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্তও বড় সূচকগুলো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ডাও জোন্স ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নাসডাক প্রায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। 

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৮:৩২
বাড়ি ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে বাড়ির দাম বাড়ছে, ক্রেতাদের স্বপ্নের বাড়ি কেনা আরও কঠিন

নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার বাড়ির বাজারে ক্রেতাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অনেক অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি কমে এলেও এই তিন রাজ্য নিয়ে গঠিত মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে বাড়ির দাম এখনো দ্রুত বাড়ছে।   ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাড়ির দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দেশের নয়টি আদমশুমারি অঞ্চলের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।   শুধু এক বছরের হিসাবেই নয়, জুলাই মাসেও এই অঞ্চলের বাড়ির দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার বাজারে মাসিক দাম বৃদ্ধির হার জাতীয় হারের প্রায় পাঁচ গুণ ছিল।   এই পরিস্থিতি বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রেতা যদি মনে করেন জাতীয়ভাবে বাড়ির বাজার কিছুটা ঠান্ডা হচ্ছে, তাহলে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে এসে তিনি সেই সুবিধা নাও পেতে পারেন।   দেশের অন্য কিছু অঞ্চলে বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে মাউন্টেন অঞ্চলে জুলাই মাসে বাড়ির দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এক বছরে ওই অঞ্চলে দাম বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ। এর বিপরীতে মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এক বছরের বৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।   এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রে এখন এক ধরনের অভিন্ন আবাসন বাজার নেই। কোন রাজ্য বা অঞ্চলে বাড়ি কিনছেন তার ওপর ক্রেতার অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করছে।নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড, উত্তর ও মধ্য নিউজার্সির অনেক এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যেই তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে বন্ধকের সুদ, সম্পত্তি কর, বাড়ির বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় মাসিক ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।   বিশেষ করে যারা ভাড়া বাসা থেকে নিজেদের বাড়িতে যেতে চান, তাদের জন্য ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বাড়ির দাম বাড়তে থাকলে একই পরিমাণ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আগের তুলনায় কম দামের বাড়ি বেছে নিতে হতে পারে।   অন্যদিকে যারা ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে বাড়ির মালিক, তাদের সম্পত্তির বাজারমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি মানেই হাতে নগদ অর্থ পাওয়া নয়। বাড়ি বিক্রি না করা পর্যন্ত সেই মূল্যবৃদ্ধি মূলত সম্পত্তির কাগুজে মূল্য হিসেবে থাকে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঞ্চলিক গড় সব বাড়ির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল সূচকটি বৃহত্তর অঞ্চলের সামগ্রিক মূল্য পরিবর্তন দেখায়। নিউইয়র্কের একটি নির্দিষ্ট শহর বা নিউজার্সির একটি নির্দিষ্ট এলাকার বাড়ির দাম ঠিক ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে—এমন দাবি করা যাবে না।   এ কারণে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় বাজারের তথ্য দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই রাজ্যের দুটি শহরের মধ্যেও বাড়ির দাম, কর, স্কুল ব্যবস্থা, যাতায়াত সুবিধা এবং বিক্রির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৮:৪