- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী এস্তেলা দিয়াজের সকাল শুরু হয় দুই বছর বয়সী শিশু ইবারের ডাকে। ইবার এস্তেলার নিজের সন্তান নয়। শিশুটির মা-বাবাকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ভেনেজুয়েলায় বিতাড়িত করার পর থেকে বাধ্য হয়ে তাকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন করছেন এস্তেলা। শিশুটির মা মার্লিনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি তার সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সেই অনুরোধ রাখেনি। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি করে অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক নতুন পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও অমানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মূলত সীমান্ত অতিক্রমের সময় শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হতো। তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত পরিবারগুলোকেও দেশ থেকে তাড়ানোর অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্যমতে, সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যাদের ৭১ শতাংশই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর অবস্থা ইবারের মতো, যাদের কাছে বর্তমানে বাবা বা মায়ের কেউই নেই। কেবল সংখ্যা পূরণের নির্মম এক প্রতিযোগিতার কারণে এই শিশুদের তাদের অপরিচিত কিংবা অস্থায়ী অভিভাবকদের কাছে রেখে বাবা-মায়েদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ইবারের মা মার্লিনকে মুদি দোকানে যাওয়ার পথে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করেছিল পুলিশ এবং পরে আইসিই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কাজের অনুমতিপত্র ও আশ্রয়ের আবেদন ছিল। আটক অবস্থায় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন যেন তাকে তার দুই সন্তানের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু টানা তিন মাস বন্দি রাখার পর তাকে একাই ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে ইবার এবং তার সাত বছর বয়সী বড় ভাই আইজ্যাককে পরিচিতদের কাছে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে এস্তেলা নামের ওই মার্কিন নাগরিকের কাছে তাদের আশ্রয় মেলে। অভিবাসন আইন ও পারিবারিক আইনের এই জটিল ফাঁদে পড়ে শত শত পরিবার আজ দিশেহারা। আইনি সহায়তার অভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অযোগ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ অভিভাবকদের হাতে পড়ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইবারের মতো মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রে ভিসা বা পাসপোর্ট করে অন্য দেশে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো আরও বেশি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে বাবা-মা হারানো এই হাজারো অবুঝ শিশু।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স) থেকে এক সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। ওয়ানিং "হেদার" ঝাং নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছেলের ওপর নজরদারি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার চীনের সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের অনিবন্ধিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরভিনে রিয়েল এস্টেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন ৩৪ বছর বয়সী এই নারী। এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেসের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স স্কোয়াডের এক সদস্যের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ঝাং এবং তার এক সহযোগী গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা তাইওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিবারের শহরতলির বাড়ির ছবি তোলেন ও ভিডিও করেন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রমতে, নজরদারির মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ছেলে টিং-ইউ লাই। তিরিশোর্ধ্ব এই প্রকৌশলী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে বহুজাতিক ডাচ ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ফিলিপসে কর্মরত। ৩ অক্টোবর দায়ের করা অভিযোগে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হোল্ট উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য সংঘাতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন এই ধরনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়দের অবস্থান, বাড়ি এবং গাড়ির ছবিগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অভিযোগপত্রে এই গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কিছু তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঝাং লাস ভেগাস থেকে সিয়াটলে যান এবং একটি কালো রঙের গাড়ি ভাড়া করে লক্ষ্যবস্তুর বাড়ির দিকে রওনা দেন। প্রতিবেশীর সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় টিং-ইউ, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান বাড়িতে পৌঁছালে ঝাং ও তার সহযোগী তাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঝাংয়ের আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে চীনা মেসেজিং অ্যাপ উইচ্যাটের কিছু বার্তাও উদ্ধার করেছে এফবিআই। সেখানে দেখা যায়, ঝাং চীনা সরকারের এক কর্মকর্তাকে টেক্সট করে লিখছেন, "তাকে দেখেছি। অল্পবয়সী ছেলে। এটাই সেই তরুণ।" এরপর তিনি গাড়ির দুটি লাইসেন্স প্লেটের নম্বর পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন যে তিনি ভিডিও রেকর্ড করছেন। এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংয়ের ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে পড়ার সময় এক সহপাঠীর মাধ্যমে চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝাংয়ের পরিচয় হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে চীনের চাংশায় এক গোপন বৈঠকে তিনি নজরদারির এই মিশন গ্রহণ করেন। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত চীনা ভিন্নমতাবলম্বী এবং গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি ও হয়রানি করার দায়ে বেশ কয়েকজন চীনা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন প্রশাসন। তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসা বেইজিংয়ের এমন নজরদারির ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার আশঙ্কায় সেখান থেকে নিজেদের সব বোমারু বিমান প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। রবিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, অভিযানিক নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক গতিবিধির তথ্য নিশ্চিত করা না গেলেও, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব বোমারু বিমান ইতিমধ্যে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। রবিবার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে অন্তত ১০টি বি-১ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়। এর মধ্যে কয়েকটি বিমান নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবে মাত্র এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে এসেছিল। এত দ্রুততম সময়ে বিমানগুলো প্রত্যাহারের ঘটনাই প্রমাণ করে যে, হুমকিটিকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কিছু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই দ্রুত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তিন সপ্তাহ আগের একটি নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবেই গত ২৪ ঘণ্টায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কমান্ডারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনার পর, সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান প্রত্যাহার করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মোতায়েন করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং ইউএসএস ম্যালকিন আইল্যান্ড উভচর যুদ্ধজাহাজ বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। সাত হাজারের বেশি নৌসেনা ও দুই হাজার মেরিন সেনাসহ এই বিশাল বহরটি অঞ্চলটিতে পৌঁছালে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা তিনে পৌঁছাতে পারে।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবং হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বোঝাই করে এই অস্ত্রের চালান পাঠায় ইসলামাবাদ। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ইয়েমেনের চলমান বহুজাতিক সংঘাতে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই চালানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করে সরকারি সেনাদের সহায়তা করছেন। হুতিদের লাগাতার হামলা মোকাবিলা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন কয়েকজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের তাইজ শহরের আশপাশে তীব্র লড়াই চলছে। বৃহস্পতিবার হুতিরা তাইজ থেকে এডেনগামী একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। তাইজ শহরটি পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে এডেন উত্তরের সরকারি এলাকাগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা সরকারের রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। এর জবাবে সৌদি আরব হুতিদের ওপর বিমান হামলা জোরদার করেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী সানা, সাদা শহর এবং তাইজে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে হুতিরাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। পবিত্র মদিনা নগরীর মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবাহ কেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে সৌদি জোট, যদিও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে। এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে গত আগস্টে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের এই অবস্থান হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মরিয়া হয়ে মিত্র খোঁজারই অংশ। এমনকি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও সম্প্রতি আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর বিন জায়েদকে রিয়াদে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কর্মরত চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হওয়াসহ আরও অন্তত দশজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ অন্তত আটজন নেতাকর্মী এই হামলায় সরাসরি অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে পরিবহন মার্কেট থেকে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক ও লোহার পাইপের মতো দেশীয় বস্তাভর্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের লক্ষ্য ছিল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা করা। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলে। তবে অস্ত্রসহ তাদের উপস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রক্টরের সামনেই দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির ওপর চড়াও হয় তারা। একপর্যায়ে বিডিনিউজ প্রতিনিধিকেও বেধড়ক পেটানো হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে ঢুকিয়ে তালাবদ্ধ করে দেন। পরে খবর পেয়ে অন্যান্য সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। হামলায় আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায় এবং হামলাকারীরা সাংবাদিকদের পুঁতে ফেলারও হুমকি দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হয় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে আহসান হাবীবের বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উভয়েই ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। ছাত্রদলের এমন সশস্ত্র অবস্থানের সমালোচনা করে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। মূলত এর জের ধরেই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হলের সামনে জড়ো হয়ে এই নারকীয় হামলা চালায় ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ভয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে অবহিত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের নতুন উপ-প্রেসসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সাংবাদিক বেনি রে হারমনি। এর আগে তিনি ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন হারমনি। ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মস্থলে হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহের সুযোগ পাওয়াকেও একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার আগে সম্প্রতি একটি বড় বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন বেনি রে হারমনি। দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক নিহত হওয়ার পর তাঁকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন এই সাংবাদিক। এর জেরে ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’ তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে তিনি নিজেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তবে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প প্রশাসনে এমন গুরুত্বপূর্ণ এক পদে আসীন হলেন তিনি। এদিকে, সদ্য পদত্যাগী ২৮ বছর বয়সী হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তানের মা হন। এরপর জুলাইয়ে কাজে ফিরলেও মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। লেভিট জানান, দ্বিতীয়বার মা হওয়ার পর কাজের প্রচণ্ড চাপ সামলে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রয়োজনীয় সময়, শক্তি ও মনোযোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। মাতৃত্ব ও পেশাগত জীবনের এই টানাপোড়েনের কারণে তাঁর আকস্মিক পদত্যাগের পরই নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে নামে ট্রাম্প প্রশাসন এবং চূড়ান্তভাবে বেনি রে হারমনিকেই এই পদে বেছে নেওয়া হয়।
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের একটি হোটেল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে, শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নাহা শহরের একটি হোটেলের কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাথা কামানো বিদেশি চেহারার এক ব্যক্তি ওই নারীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি একাই ওই নারীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ এবং ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোববার রাত ১টার দিকে শহরের রাস্তায় ঘোরাফেরা করার সময় ওই সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ মার্কিন সেনা ওকিনাওয়ার ফুতেনমা এয়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনার পর টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ওকিনাওয়ায় জাপানি নাগরিকের মৃত্যু ও মার্কিন মেরিন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানতে স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রস্তাবিত নতুন পার্কচেস্টার/ভ্যান নেস্ট মেট্রো-নর্থ স্টেশনের কাছে অবস্থিত ৭ দশমিক ৪ একরের একটি বিশাল আবাসন ও বাণিজ্যিক সাইট বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হচ্ছে। 'হিমেল + মেরিঙ্গফ (এইচ+এম)' এবং তাদের যৌথ উদ্যোগের অংশীদার 'অ্যাফিনিউস ক্যাপিটাল' ১৬০১ ব্রঙ্কসডেল অ্যাভিনিউয়ের এই আকর্ষণীয় প্রজেক্টটি বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে বড় ও সম্পূর্ণ অনুমোদিত এই আবাসন উন্নয়ন সাইটটি ব্রঙ্কসের আবাসন খাতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৯ সালে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই জায়গাটি কিনেছিল এইচ+এম। ইতিমধ্যে সেখানে ২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন বর্গফুটের ছয়টি ভবন নির্মাণের জন্য শহরের প্রয়োজনীয় সব অনুমোদনও পেয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে থাকছে ২৩০০টি পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট, পাবলিক প্লাজা, খুচরা বিক্রি বা রিটেইল ও কমিউনিটি স্পেস এবং ৬৪০টি পার্কিং স্পেস। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, প্রস্তাবিত নতুন মেট্রো-নর্থ স্টেশনের সঙ্গে এর সরাসরি হাঁটার পথ সংযুক্ত থাকবে, যা মূলত ব্রঙ্কসে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে রাজ্য ও শহরের বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ। বর্তমানে এই জায়গায় একটি ৩ লাখ ৫৪ হাজার বর্গফুটের শিল্প ভবনসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে, যা থেকে মালিকপক্ষের নিয়মিত নগদ আয় (ক্যাশ ফ্লো) আসছে। প্রপার্টিটি বাজারজাত করার জন্য সিইও বব ন্যাকালের নেতৃত্বাধীন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'বিকেআরইএ'-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মালিকপক্ষ জায়গাটি বিক্রি করে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছেন। সিইও বব ন্যাকালের মতে, এই প্রপার্টিটি নিউইয়র্ক শহরের রিয়েল এস্টেট বাজারের একটি অনন্য উদাহরণ; যেখানে একই সঙ্গে বর্তমানের বাণিজ্যিক আয়, সুবিশাল জমি, ভবিষ্যৎ ট্রানজিট সংযোগ এবং হাজার হাজার বাড়ি তৈরির অবারিত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহ মো. আরদি নামের এক বাংলাদেশি তরুণ আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের দেশের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একজন আইটি পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নিউইয়র্কের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আরদি। পথিমধ্যে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে পৌঁছালে তিনি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ প্রাণ। নিহত শাহ মো. আরদি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। নিজের ও পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় তিনি দেশটিতে কর্মরত ছিলেন। তরতাজা এই তরুণের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তাঁর নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাফল্যের মাপকাঠি বলতে বড় বাড়ি, নতুন গাড়ি আর ব্যস্ত শিডিউল—যুক্তরাষ্ট্রে বড় হওয়া অনেকের মতোই এমন ধারণার মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন মার্কিন দম্পতি অ্যালেক্স নিনম্যান ও তাঁর স্ত্রী। কিন্তু একটা সময় গিয়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন, এসবের কোনোটিই আসলে তাঁদের সুখী করছে না। তাই যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমান তাঁরা। এরপর ২০২০ সালে চেক প্রজাতন্ত্রে থাকার সময় কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে তাঁরা ইতালির আব্রুজ্জো অঞ্চলের একটি ছোট গ্রামে বসবাস করছেন, যা রাজধানী রোম থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহর ছেড়ে ইতালির এই অপরিচিত গ্রামে মাত্র ১৩ হাজার ১০০ ডলারে বাড়ি কিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবনধারার সূচনা করেছেন এই দম্পতি। ইতালির এই ছোট গ্রামে বসবাস করার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো গৃহঋণের বিশাল আর্থিক বোঝা কাঁধে নিতে হয়নি তাঁদের। নগদ মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা প্রায় ১৩ হাজার ১০০ ডলারের বিনিময়ে ১০৭৬ বর্গফুটের দোতলা একটি বাড়ি কিনেছেন তাঁরা। বাড়িটির বেজমেন্ট ও চিলেকোঠায় রয়েছে আরও দুটি ঘর। বাড়িটি সংস্কারের পেছনে পরবর্তীতে আরও প্রায় ১৭ হাজার ১০০ ডলার ব্যয় করেছেন এই দম্পতি। তাঁরা জানিয়েছেন, কেবল আর্থিক সুবিধার জন্যই নয়, বরং একটি নিবিড় সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাঁরা এখানে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতালিতে খাবার, শিশুদের লালনপালনসহ দৈনন্দিন অন্যান্য খরচ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেকটাই কম। জীবনযাত্রার এই স্বল্প ব্যয়ের কারণে বেশি আয়ের পেছনে ছোটার চাপ কমেছে তাঁদের। প্রথমদিকে দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে নিউইয়র্কের টেক স্টার্টআপের চাকরিটি চালিয়ে গেলেও, গুছিয়ে ওঠার পর সেটি ছেড়ে দেন স্ত্রী। বর্তমানে তিনি একটি ইতালিয়ান ট্রাভেল কোম্পানির মার্কেটিংয়ের কাজ ও কন্টেন্ট তৈরি করছেন। সেখানে আয় কিছুটা কম হলেও কাজের দারুণ স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে পাঁচ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর পাশাপাশি নতুন নতুন জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইতালির এই গ্রামের সামাজিক বন্ধনও বেশ দৃঢ়। এখানে প্রতিবেশীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে গল্প করেন, হঠাৎ করেই খোঁজখবর নিতে বাড়িতে চলে আসেন, যাকে কেউ অনুপ্রবেশ বা বিরক্তি হিসেবে দেখে না। গ্রীষ্মের ছুটিতে এখানকার সমাজজীবনের আসল রূপ ফুটে ওঠে। রাতের খাবারের পর পরিবারের সবাই পিয়াজ্জায় (জনসমাগমের জায়গা) জড়ো হয়, আর বাচ্চারা নিরাপদে সারা গ্রামজুড়ে খেলাধুলা করে। রাত ১১টা-১২টা পর্যন্ত বাচ্চাদের বাইরে থাকাটা এখানে খুবই স্বাভাবিক। তাঁদের মেয়ে এরই মধ্যে ইংরেজি, চেক এবং ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় উপভাষাও শিখতে শুরু করেছে, যা তাকে স্থানীয় সংস্কৃতিরই একটি অংশে পরিণত করছে। অবশ্য ইতালির এই জীবনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের শূন্যতা তাঁরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেন। এছাড়া ইতালির মন্থর গতির আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও কখনো কখনো হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; যেমন, বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে গিয়েও স্বাস্থ্যবিমার কার্ডের কপি জমা দিতে হয়েছে তাঁদের! তা সত্ত্বেও, এই দম্পতির মতে তাঁরা এমন কিছু অর্জন করেছেন যা হয়তো অর্থের অঙ্কে পরিমাপ করা কঠিন। এখন তাঁদের দৈনন্দিন জীবন বস্তুগত অর্জনের চেয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আনন্দের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আব্রুজ্জোর এই ছোট গ্রামটিতে তাঁরা কেবল একটি বাড়িই কেনেননি, বরং নিজেদের এবং সন্তানের জন্য খুঁজে পেয়েছেন এক অমূল্য শান্তির নীড়।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল-অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেমের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রোববার রাতে নিজেদের ফেসবুক পেজে আলাদা পোস্টের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দুজনই। সংবাদমাধ্যমের কাছে বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন শেহতাজ। মূলত পারস্পরিক বোঝাপড়ায় বড় ধরনের পার্থক্যের কারণেই দীর্ঘ দশ বছরের পথচলার পর আলাদা হওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। প্রীতম ও শেহতাজ উভয়েই তাঁদের পোস্টে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর, দুই পরিবারের পূর্ণ সম্মতি ও সমর্থন নিয়েই তাঁরা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে একসঙ্গে কাটানো সময় ও স্মৃতিগুলোর প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একে অপরের প্রতি সর্বদা সম্মান ও শুভকামনা থাকবে বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি, জীবনের এই কঠিন ও রূপান্তরকালীন সময়ে বন্ধু, সহকর্মী এবং গণমাধ্যমের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন এই জুটি। ২০১৭ সালে প্রীতমের জনপ্রিয় গান ‘জাদুকর’-এর মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে গিয়েই মূলত তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে গড়ায় এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি হোটেলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সুন্দর মুহূর্তগুলো ভক্তদের নজর কাড়লেও, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছিল। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো এবং আনুষ্ঠানিকভাবেই আলাদা পথে হাঁটার ঘোষণা দিলেন এই তারকা জুটি।
ঠিক এক শতাব্দী আগে লন্ডনের বুকে গড়ে ওঠা প্রথম মসজিদ 'ফজল মসজিদ' বা 'লন্ডন মসজিদ' তার শতবর্ষ উদ্যাপন করছে। ওয়ান্ডসওয়ার্থের সাউথফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি যুক্তরাজ্যের আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্তমানে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যার অংশ হিসেবে গৃহহীন মানুষদের জন্য ১০ হাজার বিনা মূল্যের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯২৪ সালে যখন মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়, তখন প্রায় ৬০০ জন বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে একটি রুপালি চাবি দিয়ে এর বিশাল কালো দরজা খোলা হয়েছিল। এই মসজিদ নির্মাণের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস। ভারতের কাদিয়ানের একদল আহমদিয়া মুসলিম এর জন্য অর্থায়ন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নারী। নিজেদের অলংকার বিক্রি করে তাঁরা লন্ডনের প্রথম এই মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা জানতেন যে এই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ হয়তো তাঁদের কখনোই হবে না। ২০১৮ সালে 'হিস্টোরিক ইংল্যান্ড' এই ভবনটিকে সংরক্ষিত স্থাপনার মর্যাদা দেয়। ১০০ বছর পেরিয়ে গেলেও এর ছিপছিপে জানালা, সবুজ গম্বুজ, শুভ্র দেয়াল এবং চারপাশের মনোরম গোলাপ বাগানের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র উপাসনালয় নয়, বরং ফজল মসজিদ বিভিন্ন সময়ে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি বিমান হামলার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রক্তদান কর্মসূচি এবং কোভিড-১৯ টিকাদান কেন্দ্রও পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই মসজিদ। ঈদের সময় শিশুদের মিষ্টি বিতরণ, প্রতিবেশীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা অন্য ধর্মের মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ—সবকিছুতেই তারা সোচ্চার। তাদের মূলমন্ত্র হলো 'সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য ঘৃণা নয়'। মসজিদটি বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও নীরব সাক্ষী। ১৯৩০-এর দশকে এই মসজিদের তৎকালীন ইমাম আবদুর রহিম দারদ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় ভারতের রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ লন্ডনে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ইমাম দারদ তাঁকে বুঝিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে যেতে রাজি করান। এই ফজল মসজিদের বাগানে দাঁড়িয়েই জিন্নাহ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভারত ভাগ এবং স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিল। মসজিদটির অতীত ও বর্তমান নিয়ে আহমদিয়া মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান প্রধান মির্জা মাসরুর আহমদ বলেন, এই মসজিদের ইতিহাস প্রতিবেশীদের সেবা করা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার নীতিকে দারুণভাবে প্রতিফলিত করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মসজিদটি আগামী প্রজন্মের জন্যও শান্তির বাতিঘর হয়ে থাকবে। ফজল মসজিদ প্রমাণ করেছে যে, তাদের সম্প্রীতির বার্তাটি চিরন্তন এবং এর কোনো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ নেই।
দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ক্যান্সারের কঠিন চিকিৎসার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেছে সাত বছর বয়সী শিশু অ্যাডেলিন টেলর। নিজের এই বিজয় উদযাপন করতে গত ১৩ জুলাই ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এ এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেয় সে। চিকিৎসার শেষ দিনে চিকিৎসাকেন্দ্রের 'ব্রেভারি বেল' বা সাহসিকতার ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি সে তার বাবার হাতে থাকা একটি বিশেষ ব্রেসলেট কেটে ফেলে। অ্যাডেলিনের রোগ শনাক্ত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তার বাবা ক্রিস টেলর 'অ্যাডেলিন স্ট্রং' লেখা ওই ব্রেসলেটটি পরে আসছিলেন। ব্রেসলেট কাটার এই মুহূর্তটি ছিল বাবা ও মেয়ের এক নীরব প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন। ক্রিস টেলর জানান, তিনি মেয়েকে কথা দিয়েছিলেন যে যেদিন সে ক্যান্সারকে জয় করবে, সেদিন নিজ হাতে এই ব্রেসলেটটি কেটে ফেলবে। এই কাজটিকে রোগের শৃঙ্খল ভেঙে পুরোপুরি মুক্ত হওয়ার একটি প্রতীকী রূপ হিসেবে দেখছেন তিনি। বাবা-মেয়ের এই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে ছোট্ট অ্যাডেলিন জানায়, সে সময় তার ভেতরে অনেক রকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল। মাত্র চার বছর বয়সে অ্যাডেলিনের শরীরে 'বি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া' ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল ব্লাড ক্যান্সার। অ্যাডেলিনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কেমোথেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ এই লড়াই শেষে স্ক্যান রিপোর্টে তার শরীর সম্পূর্ণ ক্যান্সারমুক্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। শেষ দিনে উপস্থিত পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং চিকিৎসক দলের সদস্যদের উল্লাসের মধ্যে দিয়ে সে যখন ব্রেভারি বেলের দিকে ছুটে যায়, তখন তার মা লিন্ডা টেলর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মেয়ের এই আনন্দমাখা ছুটে যাওয়ার দৃশ্য তাদের এতো দিনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। বাবা ক্রিস জানান, শিশুদের মানসিক দৃঢ়তা মাঝে মাঝে অভিভাবকদেরও অবাক করে দেয় এবং তিনি নিজেও মেয়ের এমন সাহসিকতা থেকে অনুপ্রেরণা খোঁজেন। অ্যাডেলিন ক্যান্সারমুক্ত হলেও চিকিৎসকরা এখন তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখবেন। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক চিলড্রেনস-এর পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজিস্ট-অনকোলজিস্ট ডা. ইলিয়া বুহতোইয়ারভ আশা প্রকাশ করেন যে, অ্যাডেলিনের সুস্থ হয়ে ওঠার এই অভিজ্ঞতা শৈশবকালীন লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত অন্যান্য পরিবারগুলোকে সাহস জোগাবে। তিনি জানান, শিশুদের ক্ষেত্রে লিউকেমিয়া সবচেয়ে সাধারণ একটি ক্যান্সার হলেও আধুনিক চিকিৎসার কল্যাণে এটি এখন অনেকাংশেই নিরাময়যোগ্য। 'লিউকেমিয়া' শব্দটি ভীতিকর হলেও এর শেষ প্রান্তে যে আশা বেঁচে আছে, সেটিই সবার মনে রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার একটি মসজিদে টানা ৯০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের চ্যালেঞ্জে বিজয়ী ৩২ জন শিশু-কিশোরকে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে। শিশুদের মসজিদমুখী করতে এবং জামাতে নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে পাঠাননগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর কুতুব উল্যাহ ভূঁইয়া জামে মসজিদ কমিটি। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী শিশুদের হাতে এই আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুফতি শামসুদ্দোহা নূরী। সভাপতি নজরুল ইসলাম হেলালী জানান, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, মসজিদে নিয়মিত উপস্থিতিতে উৎসাহ দেওয়া এবং একটি মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। পুরস্কার হিসেবে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত শিশু-কিশোররা। তারা জানিয়েছে, আগামী দিনেও তারা নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করবে এবং নিজেদের বন্ধুদেরও মসজিদে আসতে উৎসাহিত করবে। স্থানীয়রা মসজিদ কমিটির এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের চমৎকার আয়োজন শিশুদের ধর্মীয় চর্চা, শৃঙ্খলাবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মসজিদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এই উদ্যোগ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদ 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি'-এর প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসৌরকে দেশত্যাগের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দিয়েছেন একজন মার্কিন ইমিগ্রেশন বিচারক। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এই নাগরিক তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং তিনি একজন মার্কিন স্থায়ী বাসিন্দা (পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট)। শিকাগো ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারক জেইমি সালিনার্ডি গত বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধকালীন 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট' অনুযায়ী সারসৌর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে, গ্রিন কার্ডের আবেদনে সারসৌরের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার যে অভিযোগ সরকার এনেছিল, বিচারক তা খারিজ করে দিয়েছেন। সালাহ সারসৌর ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে, কিশোর বয়সে এবং পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর ওপর পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সারসৌর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তাকে নির্যাতন করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল। তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, ইসরায়েলি সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের বিচারের নামে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেখানে ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাজা দেওয়া হয় এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। 'ইসলামিক সোসাইটি অফ মিলওয়াকি' দাবি করেছে যে, সারসৌরকে তার ফিলিস্তিনি ও মুসলিম পরিচয় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণেই টার্গেট করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষী এবং চরমপন্থীদের সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। তবে, অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা কোনোভাবেই ইহুদিবিদ্বেষ বা চরমপন্থার সমর্থন হতে পারে না। সারসৌরকে মার্চ মাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) আটক করেছিল, তবে জুনের মাঝামাঝি সময়ে এক ফেডারেল বিচারক তাঁর আটকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সারসৌর টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং আইসিই-এর হেফাজতে থাকার সময় তাঁর ওজন ৩০ পাউন্ডের বেশি কমে গেছে বলে তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন। সারসৌর এই রায়কে "গভীর হতাশাজনক" বলে অভিহিত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা যাবে না। সারসৌর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁকে পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ নয়, এটি দেশের রাজনীতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর অবস্থান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনও জানান। উপাচার্য আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন এবং প্রেস সচিব সরওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। এ ছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের প্রভাবভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী ৮০১ থেকে ১০০০তম অবস্থানের বন্ধনীতে ছিল। আগের বছরের তুলনায় এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। এই র্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষা, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক মান আরও উন্নত করার জন্য গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণ, মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে। এ জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন এবং গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে প্রতিপক্ষ ও বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত পরিসর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও ভালো আয় এবং স্থায়ী পেশাজীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা থাকলে কিছু পেশায় ধাপে ধাপে উন্নতি করে বছরে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ফাস্টফুড ও খাবারের দোকান পরিচালনার কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ৪ অক্টোবর ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কয়েকটি বড় খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে উঠে উচ্চ আয় করা সম্ভব। তবে শুরুতেই এত বেশি বেতন পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং পদোন্নতির মাধ্যমে একজন কর্মী দোকান ব্যবস্থাপকের পদে পৌঁছালে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন-এন-আউট প্রতিষ্ঠানের দোকান ব্যবস্থাপকদের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পান্ডা এক্সপ্রেসের দোকান ব্যবস্থাপকদের আয় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ডলার, চিপোটলের প্রায় ৯৩ হাজার ডলার এবং টাকো বেলের প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত পুরস্কার বা প্রণোদনা যুক্ত হলে মোট আয় আরও বাড়তে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ফাস্টফুডের সাধারণ কর্মীরা বছরে ২ লাখ ডলার আয় করেন না। এই ধরনের উচ্চ আয় মূলত ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানো কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ একজন নতুন কর্মী সাধারণত কম বেতন দিয়ে কাজ শুরু করেন এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পর ধাপে ধাপে উচ্চ পদে যেতে পারেন। এই খাতে একজন কর্মীর কর্মজীবনের শুরু হতে পারে খাবার প্রস্তুত করা, গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, দোকান পরিষ্কার রাখা বা অন্যান্য সাধারণ দায়িত্ব দিয়ে। এরপর ভালো কাজের ভিত্তিতে তিনি দলনেতার দায়িত্ব পেতে পারেন। পরবর্তী সময়ে সহকারী ব্যবস্থাপক এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ব্যবস্থাপক বা দোকান ব্যবস্থাপক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সাধারণ কর্মী থেকে দলনেতা হতে প্রায় ছয় থেকে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর দলনেতা থেকে সহকারী ব্যবস্থাপক হতে এক থেকে দুই বছর এবং সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে সাধারণ ব্যবস্থাপক হতে আরও দেড় থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, কর্মীর যোগ্যতা, কাজের মান, অভিজ্ঞতা এবং খালি পদের ওপর পদোন্নতির সময় নির্ভর করে। দোকান ব্যবস্থাপক হওয়ার জন্য শুধু পরিশ্রম করলেই হয় না। কর্মী পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, পণ্য মজুত, কর্মীদের কাজের সময় নির্ধারণ, খাবারের অপচয় কমানো, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব বোঝার মতো দক্ষতা প্রয়োজন। একজন সম্ভাব্য ব্যবস্থাপককে জানতে হয় কীভাবে নতুন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়, কর্মী সংকটের মধ্যেও একটি কাজের পালা পরিচালনা করতে হয় এবং অসন্তুষ্ট গ্রাহকের অভিযোগ শান্তভাবে সমাধান করতে হয়। একই সঙ্গে কর্মীদের উৎসাহ দেওয়া, দুর্বল কর্মীদের উন্নত করা এবং একটি কার্যকর দল তৈরি করাও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, একজন কর্মীর মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা থাকলে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়। একজন কর্মী যদি অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, নতুন কর্মীদের কাজে দক্ষ করে তুলতে পারেন এবং নিজের অনুপস্থিতিতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো সহকর্মী তৈরি করতে পারেন, তাহলে তার পদোন্নতির সম্ভাবনা বাড়ে। যোগাযোগের দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত পরিবেশে চাপ সামলে সহকর্মীদের সঙ্গে সঠিকভাবে কথা বলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা বোঝা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত জানানো একজন ব্যবস্থাপকের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফাস্টফুড ও কাউন্টার কর্মীদের বড় অংশের ক্ষেত্রে আগে কোনো কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই পেশার ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ কর্মীর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কাজ শুরু করতে চান এমন অনেক মানুষের জন্য এটি প্রবেশের তুলনামূলক সহজ একটি ক্ষেত্র। তবে সাধারণ কর্মীদের বেতন এবং ব্যবস্থাপকদের বেতনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফাস্টফুড ও কাউন্টার কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ছিল প্রায় ১৫ ডলার ৪৬ সেন্ট। গড় বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩২ হাজার ১৫০ ডলার। ফলে ২ লাখ ডলারের আয়কে সাধারণ কর্মীর বেতন হিসেবে দেখা যাবে না। ফাস্টফুড খাত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি কাজ, নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যানবাহন মেরামত, ট্রাক চালনা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণভিত্তিক পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। কিছু পেশায় আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের ডিগ্রির পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, সনদ বা কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজন হয়। যেমন দন্ত পরিচর্যা সহকারী, পারমাণবিক প্রযুক্তিবিদসহ কিছু পেশায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তুলনামূলক ভালো আয় করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্র থেকে বোঝা যায়, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদই সাফল্যের একমাত্র পথ নয়। নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও কর্মজীবনে বড় ভূমিকা রাখে। ফাস্টফুড খাতের উদাহরণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন কর্মী তুলনামূলক সহজ একটি প্রবেশ পর্যায়ের কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যেতে পারেন। তবে এই পথ দ্রুত ধনী হওয়ার কোনো সহজ উপায় নয়। উচ্চ আয় অর্জনের জন্য কয়েক বছর ধরে দক্ষতা বাড়ানো, অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মজীবন শুরু করতে চান তারা শুরু থেকেই শুধু বেতনের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যৎ পদোন্নতির সুযোগও বিবেচনা করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কোথায় পদোন্নতির সুযোগ বেশি এবং কোন দক্ষতা অর্জন করলে উচ্চ পদে যাওয়া সম্ভব, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অর্থাৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনের সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। সঠিক প্রশিক্ষণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন সাধারণ কর্মীও সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার পদে যেতে পারেন। আর কিছু প্রতিষ্ঠানে সেই পর্যায়ে পৌঁছালে বছরে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রোববার ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। একই দিনে ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও তেহরান একতরফা শর্ত মেনে নেবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপে ফিরলে ইরানও প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এটি। ফলে দীর্ঘ সময় এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হরমুজ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রিয়াদের দক্ষিণে একটি আরামকো স্থাপনার কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। তবে হামলার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে হুতিদের দাবির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনে শুরু বড় সামরিক অভিযান এর মধ্যেই ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার এবং পুরো দেশে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করা হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এরই মধ্যে রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের সাদা প্রদেশে হুতি অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে তাইজ শহরের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজের সঙ্গে এডেনের যোগাযোগপথ নিয়ন্ত্রণের লড়াইও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ফলে হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দাব ঘিরেও সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে, একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, আর বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ইরান বলছে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কার্যক্রম সমন্বয় করতে নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে “সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স”। এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিটির সুফল সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। টাস্কফোর্সে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, পেন্টাগনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একই সঙ্গে ব্যাপক বিনিয়োগ, প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এআই উন্নয়নে স্বনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে একটি স্বেচ্ছামূলক সমঝোতার কথাও সামনে এসেছে। নতুন টাস্কফোর্স শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে না। ট্রাম্পের ঘোষণায় ভোক্তা, জনস্বার্থবিষয়ক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও জাতীয় সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আরও জোরালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়েও ফেডারেল পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আজ, রোববার ৪ অক্টোবর, মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে নাট্যকার মামুনুর রশীদের রচনা ‘অমানুষ’। সূচনা থিয়েটারের প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনায় রয়েছেন জান্নাতুল টুম্পা। এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো তাঁর নির্দেশনায় অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু। আলেকজান্দ্রিয়ার লি সেন্টারে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় নাটকটির প্রদর্শনী শুরু হবে। ‘অমানুষ’ নাটকটির এটি চতুর্থ প্রদর্শনী। এর আগে নিউ জার্সিতে দুটি এবং নিউইয়র্কে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগের প্রদর্শনীগুলোতে সংশ্লিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মিতালী দাস ও হীরা চৌধুরী। এবার সেই চরিত্রে অভিনয় করছেন তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবু। নাটকের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন আদর্শবাদী শিক্ষক। শিক্ষিত ও মানবিক একটি সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই মানুষটি দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক চাপের মুখে ধীরে ধীরে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হতাশা ও বাস্তবতার সংঘাত তাঁকে গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যায়। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে তা ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাজের অবক্ষয়, মানুষের মূল্যবোধ এবং প্রতিকূল বাস্তবতার সঙ্গে ব্যক্তির সংঘাতই নাটকটির মূল বিষয়। গল্পের মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে উঠে আসে মানুষের মানবিকতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সামাজিক চাপ, অনিয়ম ও বাস্তবতার কাছে মানুষ কি একসময় নিজের মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে, সেটিই নাটকের অন্যতম কেন্দ্রীয় ভাবনা। ‘অমানুষ’ দিয়েই প্রথমবার মঞ্চনাটক নির্দেশনায় আসেন জান্নাতুল টুম্পা। প্রায় দুই দশক ধরে নাট্যপ্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আগে মঞ্চ নির্দেশনার পরিকল্পনা ছিল না তাঁর। নাট্যকার মামুনুর রশীদের আগ্রহেই তিনি এই নাটকের নির্দেশনার দায়িত্ব নেন। গত ১৪ জুন নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইকে অনুষ্ঠিত ২১তম সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে দুটি প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ‘অমানুষ’-এর যাত্রা শুরু হয়। পরে নিউইয়র্কে তৃতীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এবার ভার্জিনিয়ার মঞ্চে নতুন অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নাটকটির চতুর্থ প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘অমানুষ’ নাটকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে ফিরছেন তমালিকা কর্মকার। বাংলাদেশের মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রে মঞ্চে ফেরার আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বহু বছর পর আবার মঞ্চে ওঠার কারণে তাঁর মধ্যে যেমন আনন্দ রয়েছে, তেমনি দর্শকের সামনে নতুন করে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার অনুভূতিও রয়েছে। আজকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে আলেকজান্দ্রিয়ার ১১০৮ জেফারসন স্ট্রিটের লি সেন্টারে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দর্শকদের জন্য দরজা খোলা হবে বিকেল ৫টায় এবং নাটক শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়। টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ ও ৫০ ডলার। ভার্জিনিয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাট্যপ্রেমীদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন। মামুনুর রশীদের লেখা, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনা এবং তমালিকা কর্মকার ও সাঈদ বাবুর অভিনয়ে ‘অমানুষ’ আজ আলেকজান্দ্রিয়ার মঞ্চে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে মানুষের পরিচয়, সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিকতার নানা প্রশ্ন।