যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী এস্তেলা দিয়াজের সকাল শুরু হয় দুই বছর বয়সী শিশু ইবারের ডাকে। ইবার এস্তেলার নিজের সন্তান নয়। শিশুটির মা-বাবাকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ভেনেজুয়েলায় বিতাড়িত করার পর থেকে বাধ্য হয়ে তাকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন করছেন এস্তেলা।
শিশুটির মা মার্লিনকে যখন আটক করা হয়, তখন তিনি তার সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন, কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সেই অনুরোধ রাখেনি। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি করে অভিবাসী বিতাড়ন কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক নতুন পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও অমানবিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মূলত সীমান্ত অতিক্রমের সময় শিশুদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হতো। তবে বর্তমান প্রশাসনের অধীনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত পরিবারগুলোকেও দেশ থেকে তাড়ানোর অংশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্যমতে, সম্প্রতি প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, যাদের ৭১ শতাংশই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। এর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি শিশুর অবস্থা ইবারের মতো, যাদের কাছে বর্তমানে বাবা বা মায়ের কেউই নেই।
কেবল সংখ্যা পূরণের নির্মম এক প্রতিযোগিতার কারণে এই শিশুদের তাদের অপরিচিত কিংবা অস্থায়ী অভিভাবকদের কাছে রেখে বাবা-মায়েদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
ইবারের মা মার্লিনকে মুদি দোকানে যাওয়ার পথে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করেছিল পুলিশ এবং পরে আইসিই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ তার কাছে কাজের অনুমতিপত্র ও আশ্রয়ের আবেদন ছিল। আটক অবস্থায় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছিলেন যেন তাকে তার দুই সন্তানের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
কিন্তু টানা তিন মাস বন্দি রাখার পর তাকে একাই ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে ইবার এবং তার সাত বছর বয়সী বড় ভাই আইজ্যাককে পরিচিতদের কাছে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে এস্তেলা নামের ওই মার্কিন নাগরিকের কাছে তাদের আশ্রয় মেলে।
অভিবাসন আইন ও পারিবারিক আইনের এই জটিল ফাঁদে পড়ে শত শত পরিবার আজ দিশেহারা। আইনি সহায়তার অভাবে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে হেরে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা অযোগ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ অভিভাবকদের হাতে পড়ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী মানসিক আঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইবারের মতো মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রে ভিসা বা পাসপোর্ট করে অন্য দেশে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো আরও বেশি সময়সাপেক্ষ ও জটিল প্রক্রিয়া। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে বড় হতে বাধ্য হচ্ছে বাবা-মা হারানো এই হাজারো অবুঝ শিশু।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বছরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরি করতেন মিশেল ইয়ং। এই আয় দিয়ে ভ্রমণ, পছন্দের জিনিস কেনাকাটা কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, সবই সম্ভব ছিল। কিন্তু ভালো বেতনের এই চাকরিই একসময় তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হতে শুরু করে। সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলেও নিজের কাজের সঙ্গে কোনো উদ্দেশ্য বা অর্থ খুঁজে পাচ্ছিলেন না ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী। ২০২২ সালের দিকে নিজের পেশা নিয়ে ইয়ংয়ের অসন্তুষ্টি বাড়তে থাকে। তিনি বুঝতে পারেন, শুধু ভালো বেতনের কারণেই তিনি সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরিতে টিকে আছেন। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি খাত ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এখন ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে তাঁর নিজস্ব ম্যাচা ক্যাফে ‘ম্যাচা হাউস’। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চালু হওয়া এই ক্যাফে থেকে ২০২৬ সালে নিজের জন্য প্রায় ৩৩ হাজার ডলার আয় করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর, যা আগের আয়ের তুলনায় প্রায় ৮৭ শতাংশ কম। ইয়ংয়ের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশবের আর্থিক বাস্তবতাও। সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া ইয়ং জীবনের প্রথম আট বছর পরিবারের আরও চার সদস্যের সঙ্গে চায়নাটাউনের একটি বেসমেন্ট স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তিনি ১২ বছর বয়সে থাকাকালীন তাঁর বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর তাঁর মা বাড়িতে ডে-কেয়ার ব্যবসা পরিচালনা করে ইয়ং ও তাঁর দুই বড় ভাইকে বড় করেন। অর্থের টানাটানি থাকলেও পরিবার তাঁকে কখনো নিজেদের বঞ্চিত মনে করতে দেয়নি বলে জানান তিনি। তবে ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে ইয়ংয়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল। তাঁর ও দুই ভাইয়ের প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো, যেখানে ভবিষ্যতে অর্থ নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। স্কুলে গণিতে ভালো হওয়ায় বড় ভাইয়ের পরামর্শে সফটওয়্যার প্রকৌশলকে পেশা হিসেবে বেছে নেন ইয়ং। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে অ্যাপ্লাইড অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেস বিষয়ে স্নাতক শেষ করার আগেই নিউইয়র্কে প্রথম চাকরি পেয়ে যান তিনি। চাকরির শুরুতেই বেতন ও বোনাস মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পারিশ্রমিক পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন ইয়ং। ছোটবেলা থেকে সীমিত অর্থের মধ্যে বেড়ে ওঠা তাঁর কাছে এই অঙ্কটি ছিল অনেক বড়। পরবর্তী কয়েক বছরে তাঁর পারিশ্রমিক ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে বছরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় করছিলেন তিনি। কিন্তু আয় বাড়লেও কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়েনি। বরং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের কাজ থেকে নিজের বিচ্ছিন্নতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। ২০২৩ সাল নাগাদ চাকরি ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেন ইয়ং। তিনি রাইড শেয়ারিং, বিভিন্ন স্ট্রিমিং সেবা ও ভ্রমণের মতো খরচ কমিয়ে সঞ্চয় বাড়াতে থাকেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করা, যাতে চাকরি ছেড়ে নতুন কিছু শুরু করলেও তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে না হয়। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে বন্ধুদের সঙ্গে নিউইয়র্কে ম্যাচা পান করার সময় তাঁর মনে হয়, শহরে ভালো মানের ম্যাচার দোকান খুব বেশি নেই। বাড়িতে বহু বছর ধরে ম্যাচা তৈরি করার অভিজ্ঞতা থেকে নিজের তৈরি পানীয় নিয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল। নিজের ক্যাফে খোলার চিন্তা মাথায় এলেও সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছাড়েননি ইয়ং। বরং নতুন ব্যবসার প্রস্তুতি নিতে নিতে আগের চাকরিও চালিয়ে যান। ২০২৪ সালের শরতে ম্যাচা সম্পর্কে আরও জানতে জাপানে ভ্রমণ করেন তিনি। সেখানে ম্যাচা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন। নিউইয়র্কে ফিরে ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত স্টারবাকসে কাজ শুরু করেন, যাতে ক্যাফে পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। এরপর সকালেই সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরির বৈঠকে যোগ দিতেন তিনি। ইয়ং বলেন, পাঁচ বছর কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার পর শারীরিকভাবে সক্রিয় এমন একটি নতুন কাজ শেখার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আনন্দের ছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে তিনি প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। ততদিনে তাঁর সঞ্চয়ের পরিমাণ ২ লাখ ডলারের বেশি হয়ে গিয়েছিল। এই অর্থ তিনি আগে বাড়ি কেনা বা উচ্চশিক্ষার মতো প্রচলিত কাজে ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের ক্যাফে চালু করতে সেই সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ বিনিয়োগ করেন। ক্যাফে খোলার কাজ অবশ্য প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কঠিন ছিল। ম্যানহাটনের একটি খালি দোকানকে ক্যাফেতে রূপ দিতে গিয়ে ঠিকাদারদের কাজের দেরি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শেষ না করা এবং শেষ মুহূর্তের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন ইয়ং। উদ্বোধনের আগের রাতেও ক্যাফেতে পানি ঢুকে যায়। বন্ধুদের সহায়তায় তাঁকে রাতেই পানি পরিষ্কার করতে হয়। কেউ আসবাবপত্র জোড়া লাগিয়েছেন, কেউ পর্দা টাঙিয়েছেন, আবার কেউ দোকান গোছানোর কাজে সহযোগিতা করেছেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চালু হয় ম্যাচা হাউস। শুরুর দিকে ক্যাফের প্রায় প্রতিটি কাজ নিজেই করতেন ইয়ং। দিনের বড় একটি অংশ দোকানে কাটত এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো তাঁকে। প্রতিটি পানীয়ও নিজ হাতে ম্যাচা দিয়ে তৈরি করতেন তিনি। কিছুদিন পর বুঝতে পারেন, একজন মানুষের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে এভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাই কয়েক সপ্তাহ সহযোগিতা করার পর ধীরে ধীরে কর্মী নিয়োগ শুরু করেন ইয়ং। বর্তমানে ক্যাফেটিতে প্রায় ১০ জন খণ্ডকালীন কর্মী কাজ করছেন। ম্যাচা হাউসের ক্ষেত্রে ইয়ং পানীয়ের মান ও প্রস্তুত প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কফি সংস্কৃতিতে যে ধরনের যত্ন ও নির্ভুলতা দেখা যায়, ম্যাচার ক্ষেত্রেও একই ধরনের মান বজায় রাখতে চেয়েছেন তিনি। সীমিত সংখ্যক ম্যাচা পানীয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় পণ্যের মজুত ও পরিচালন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ব্যবসা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো হলেও ইয়ংয়ের কর্মঘণ্টা এখনও দীর্ঘ। তবে নিজের তৈরি ব্যবসাকে ধীরে ধীরে দাঁড় করানোর সুযোগ তাঁকে আগের চাকরির চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট করছে। ম্যাচা হাউসে নিজের জন্য আগের মতো বড় অঙ্কের আয় রাখছেন না ইয়ং। ২০২৬ সালে তাঁর ব্যক্তিগত আয় প্রায় ৩৩ হাজার ডলার হওয়ার কথা, যেখানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে আয় ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ব্যবসার অর্থের একটি বড় অংশ তিনি আবার কর্মী নিয়োগ, পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করছেন। সিএনবিসি মেক ইটের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, শীতের মাসগুলোতে ব্যবসাটি প্রায় লাভ-ক্ষতির সমতায় ছিল। তবে প্রথম বছরেই ক্যাফেটি লাভজনক হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইয়ং। ক্যাফে চালুর আগে নিজের জীবনযাত্রার খরচও কমিয়ে আনেন তিনি। ম্যানহাটনে মাসে ৩ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়ার স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ২০২৬ সালের মার্চে তাঁর মোট ব্যক্তিগত খরচ ছিল ২ হাজার ২৯১ ডলার। এর মধ্যে বাসাভাড়ায় তাঁর অংশ ছিল ১ হাজার ৭৫০ ডলার, খাবারে ২৫৮ ডলার এবং যাতায়াতে ১১২ ডলার। বাকি অর্থ তিনি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, ফোন ও কয়েকটি সাবস্ক্রিপশন বাবদ ব্যয় করেন। ইয়ংয়ের কোনো শিক্ষাঋণ, গাড়ির কিস্তি বা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় ২৫ হাজার ডলারের শিক্ষাঋণ নিয়েছিলেন তিনি। তবে ইন্টার্নশিপের আয় দিয়ে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই ঋণের বড় অংশ পরিশোধ করেন এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বাকি অর্থও শোধ করেন। বর্তমানে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যয়ের বড় অংশই প্রয়োজনীয় খাতে সীমাবদ্ধ। ব্যবসায় সময় দেওয়ার কারণে ভ্রমণ ও বিনোদনের মতো অতিরিক্ত খরচও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। চাকরি ছাড়ার পর আয় ৮৭ শতাংশ কমে গেলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই ইয়ংয়ের। তাঁর মতে, এখন তাঁর জীবনের মূল বিষয় কত টাকা আয় করছেন তা নয়, বরং প্রতিদিন কী করছেন সেটি। ম্যাচা তৈরি করা, ক্যাফে পরিচালনা করা এবং নিজের হাতে গড়ে তোলা একটি ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের তৃপ্তি পাচ্ছেন, যা আগের চাকরিতে পাননি। অর্থের পরিবর্তে কাজের অর্থবোধই এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচা হাউস চালুর প্রায় এক বছর পর ব্যবসাটি আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাভাবিক ও গোছানোভাবে চলছে। ইয়ং এখন আর প্রতিদিন সকালে নিজে দোকান খুলতে বাধ্য নন এবং কর্মীদের একটি দল নিয়মিত কার্যক্রম সামলাচ্ছে। তারপরও ব্যবসাটি তাঁর জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে। ইয়ংয়ের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো প্রথম বছরটি পার করতে পারা এবং ভবিষ্যতে আরও এক বছর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করা। তাঁর ভাষায়, জীবনের লক্ষ্য এখন শুধু বেশি অর্থ উপার্জন নয়, বরং প্রতিদিন এমন কিছু করা, যার সঙ্গে নিজের উদ্দেশ্য ও অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। সূত্র: সিএনবিসি মেক ইট, ইয়াহু ফাইন্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম বদলাচ্ছে, গৃহিণীদের জন্য আইনজীবীর সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিইর ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন মাস, অবশেষে সন্তানদের কাছে ফিরলেন অভিবাসী মা
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় পোষা প্রাণীর চিকিৎসার অনুদান চুরি করে গ্রেপ্তার মার্কিন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি ব্লক পার্টিতে ভয়াবহ ও নির্বিচার গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। দুলি কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, আটলান্টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দক্ষিণের ভিয়েনা শহরের পাইন স্ট্রিটে রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি উৎসবমুখর জমায়েত মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। দুলি কাউন্টির শেরিফ ক্রেইগ পিভি নিহত দুজনকে শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন ২১ বছর বয়সী জ্যাকুভিয়ন জ্যাকসন এবং ২৩ বছর বয়সী ম্যাকক্যালেব জ্যাকসন। এছাড়া আহত ৩৫ জনের বয়স ১৪ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল থেকে শুরু করে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে। শেরিফ পিভি জানান, সপ্তাহান্তের এই ব্লক পার্টিতে প্রায় এক হাজার মানুষ আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই গুলির শব্দে সেখানে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শেরিফ আরও জানান, গোলাগুলি শুরু হওয়ার সময় ব্লক পার্টির দুই প্রান্তেই পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পরপরই আতঙ্কিত জনতার ভিড় ঠেলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হতাহতদের কাছে পৌঁছান, যদিও সে সময় আশেপাশে আরও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে কী কারণ ছিল বা এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। অপরাধীদের ধরতে এবং ঘটনার পেছনের কারণ জানতে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ডিপোর্টেশন নীতির জেরে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো শিশু, বড় হচ্ছে অন্যের হাতে
ক্যারোলিনের পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউসের উপ-প্রেসসচিব হলেন বেনি হারমনি
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মেট্রো-নর্থ স্টেশনের পাশে ১ বিলিয়ন ডলারের আবাসন প্রকল্প, বিক্রির অপেক্ষায় জমি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শাহ মো. আরদি নামের এক বাংলাদেশি তরুণ আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত হয়েছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের দেশের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একজন আইটি পেশাজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে নিউইয়র্কের মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন আরদি। পথিমধ্যে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে পৌঁছালে তিনি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ প্রাণ। নিহত শাহ মো. আরদি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। নিজের ও পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় তিনি দেশটিতে কর্মরত ছিলেন। তরতাজা এই তরুণের এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তাঁর নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাট প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবন ছেড়ে ইতালিতে ১৩ হাজার ডলারে বাড়ি, নতুন ঠিকানায় মার্কিন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বৃহত্তম মসজিদের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ