- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে দেশটির দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত রোমানিয়ার দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের অন্যান্য জরুরি কনস্যুলার অনুরোধও বিবেচনা করা হবে। তবে এই বিশেষ সেবা নিতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। রোমানিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, শুধু দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ অনলাইন ব্যবস্থায় নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত না হলে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে গিয়ে নতুন করে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা ব্যবস্থায় প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার মিশনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুলিপিও সঙ্গে রাখতে হয়। বাংলাদেশি নাগরিকদের রোমানিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন। দেশটির সরকারি ই-ভিসা পোর্টালের তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা, কাজ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোমানিয়ায় যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশন নিয়ে দূতাবাস আবেদনকারীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেছে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিশ্চিতকরণে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ নথি বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলে আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। রোমানিয়ার সরকারি ভিসা ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ই-ভিসা পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করলেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় না। আবেদনকারীর নির্ধারিত কনস্যুলার মিশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রোমানিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় এই অস্থায়ী কনস্যুলার সেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সাধারণ নিয়মে কনস্যুলার মিশনে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। ঢাকায় প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগ্য আবেদনকারীরা সরাসরি প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই উদ্যোগকে ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভিসা আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালেও উল্লেখ রয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার মিশনে যেতে আগ্রহীদের তাই প্রথমে রোমানিয়ার সরকারি ই-ভিসা পোর্টালে নিজেদের আবেদন ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য যাচাই করা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: রোমানিয়ার দূতাবাস
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে সড়কে টহল দেওয়ার সময় অস্বাভাবিক এক দৃশ্যের মুখোমুখি হয়েছে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ। দুই ব্যক্তি একটি দুই আসনের সোফা দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর বসিয়ে সেটিকে চলাচলের বাহন হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। শহরের একটি সড়কে এমন অবস্থায় চলার সময় তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি প্রকাশ করে বিভাগটি। লিভনাও ফক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি গত সপ্তাহান্তে ঘটে। পরে শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ তাদের ফেসবুক পাতায় ওই অস্বাভাবিক বাহনের ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, একটি দুই আসনের সোফা দুটি বৈদ্যুতিক স্কুটারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে এবং দুই ব্যক্তি সেটিতে করে সড়কে চলাচল করছেন। স্থানীয় আরেক প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল হিসেবে শার্লটের সাউথ ট্রায়ন স্ট্রিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টিকে শুধু ব্যতিক্রমী একটি যান দেখার ঘটনা হিসেবে নেয়নি, বরং সড়ক নিরাপত্তার দিকটিও সামনে এনেছে। তাদের বক্তব্যের সারাংশ হলো, প্রচলিত যানবাহনের বাইরে কোনো অস্বাভাবিক বাহন রাস্তায় চলাচল করলে তা অন্য চালকদের হঠাৎ বিস্মিত বা বিভ্রান্ত করতে পারে। এতে চালকের মনোযোগ সড়ক থেকে সরে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় পুলিশ মানুষকে রাস্তায় কোনো বাহন ব্যবহারের আগে সেটি অন্যদের জন্য কতটা নিরাপদ, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে এমন কিছু রাস্তায় নেওয়া উচিত কি না, যা অন্য গাড়ির চালকদের অপ্রত্যাশিতভাবে চমকে দিতে পারে, সে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্যে মূল গুরুত্ব ছিল বাহনটি কতটা নিরাপদ এবং সড়কের অন্যান্য ব্যবহারকারীদের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেই প্রশ্নে। পুলিশের প্রকাশিত ছবিটি দ্রুত অনলাইনে মানুষের আগ্রহ তৈরি করে। অস্বাভাবিক কাঠামোর এই বাহন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মজা ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্যও করেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ বিভাগের পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে বিপুলসংখ্যক প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জমা পড়ে। তবে এই ঘটনার পর দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। লিভনাও ফক্স জানিয়েছে, তারা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ওই বাহন চালাচ্ছিলেন কি না এবং তাদের কোনো টিকিট দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। ফলে ঘটনাটির পর সম্ভাব্য জরিমানা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের একটি বিশেষ ইউনিটও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাউথ ট্রায়ন স্ট্রিটসহ শার্লটের বিনোদনকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে রাতের সময়ে সড়ক ও জননিরাপত্তা নজরদারিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করে। সেই নিয়মিত টহলের মধ্যেই এই অস্বাভাবিক বাহনটি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। সড়কে বৈদ্যুতিক স্কুটার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত চলাচলের বাহনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব বাহন কীভাবে এবং কোথায় ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিধিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শার্লটের ঘটনাটি সেই বৃহত্তর সড়ক নিরাপত্তা আলোচনার একটি বিচিত্র উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: লিভনাও ফক্স, শার্লট-মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগ
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী প্রথম কার্গো বিমান ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে জটিলতার কারণে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালান পিছিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার, ২ অক্টোবর রাতে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায় এবং এরপর জ্বালানি নামানোর কাজ শুরু হয়। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রথম ব্যাচের পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় ওই চালান স্থগিত হয়। পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কারিগরি ও পদ্ধতিগত বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক ফ্লাইট ও ওভারফ্লাইট অনুমোদনের আবেদন নির্ধারিত নিয়ম এবং বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল অনুযায়ী প্রক্রিয়া করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ফ্লাইটের রুট ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদনের সঙ্গে বিভিন্ন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে কখনো কখনো নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। দেশটি বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছিল। এদিকে জটিলতা কাটার পর নতুন সূচিতে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি কার্গো ফ্লাইটে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী ইউরেনিয়ামবাহী চালান গ্রহণ ও নামানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় চালানটি পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ পরিবহনের নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দেবে। মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের প্রশাসন বিভাগের প্রধান গোলাম মাহবুব জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি ফ্লাইটে ২০০টির বেশি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত প্রয়োজন মেটাতেও জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালেই বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে কমিশনিং প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং মে মাসের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়। প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। সম্প্রতি ইউনিটটির চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চচাপ পরীক্ষা সফল হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাকি পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা গেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন চালানটি তাই রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে সরবরাহ সূচিতে যে বিলম্ব হয়েছিল, নতুন চালান আসার মধ্য দিয়ে সেই বাধা কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহ আবার শুরু হলো। ডিসেম্বরের মধ্যে ধারাবাহিক ফ্লাইটে বাকি জ্বালানি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, রসাটম
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে। তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে। চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে। গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়। অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়। এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। সূত্র: নিউজউইক
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ। চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়। কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ। চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান। চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি। এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা। কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।
সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল। ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে। সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম। জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি। জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে। ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল। দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সূত্র: রয়টার্স
দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো। পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন। আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান। আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন। দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
রাশিয়ার উরাল পর্বতমালা অঞ্চলে চীন, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সেনাদের অংশগ্রহণে চলা সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলের চেবারকুলস্কি প্রশিক্ষণ মাঠে ‘সেন্টার-২০২৬’ মহড়ার শেষ পর্যায় দেখেন তিনি। পুতিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো মহড়ায় প্রায় ৪৭ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিয়েছেন। রাশিয়ার ১১টি প্রশিক্ষণ মাঠ ও কাস্পিয়ান সাগরে আক্রমণ প্রতিহত করার অনুশীলন চলছে। তবে ৪৭ হাজার সেনা চেবারকুলস্কির মাঠে ছিলেন না; সেখানে শুক্রবারের শেষ পর্যায়ে অংশ নেন রাশিয়া ও অন্য দেশগুলোর প্রায় ৬ হাজার সেনাসদস্য। রুশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় চীন, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের সেনারাও অংশ নিয়েছেন। পুতিন জানিয়েছেন, ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিল। পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিতি আর মহড়ায় সেনা পাঠানো পৃথক বিষয়। ‘সেন্টার-২০২৬’-এর সঙ্গে সাবেক সোভিয়েত কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত নিরাপত্তা জোটের ‘ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৬’ মহড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়া শুরু হয়েছে সোমবার; শনিবার পর্যন্ত চলার কথা। প্রশিক্ষণ মাঠ পরিদর্শনের সময় পুতিন বিভিন্ন অস্ত্রও দেখেন। এর মধ্যে ছিল ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত নতুন জেটচালিত ‘গেরান’ ড্রোন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীভোগান্তির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ফেসবুক লাইভে তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন দন্ত চিকিৎসক ও ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁদের বহনকারী বিমানটি সকাল ৯টা বাজার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ট্রলি সংগ্রহের জন্য তাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ট্রলি পাওয়ার পরও লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লাগেজ হাতে পান তাঁরা। লাইভে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় দীর্ঘ সারির চিত্রও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও সারি ৫০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ ছিল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অন্যান্য যাত্রীদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওমরাহ শেষে ফেরার কারণে জমজমের পানি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, যাত্রীরা জমজমের পানি না পাওয়ার পর সেটি কখন আসবে বা কেন আসেনি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি। একই সময়ের বিমানবন্দর পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনেও জমজমের পানি ও লাগেজ সরবরাহ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। বিমানবন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. ওরাকাতুল জান্নাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর বক্তব্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ। তাঁর ভিডিওটি আলোচনায় আসার সময়ই শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে আরও নানা ঘটনা সংবাদে আসে। লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার একটি পৃথক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে একই সময়ে বিমানবন্দরের সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের ঘটনাটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এ কারণে যে, তিনি কোনো দূরবর্তী ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ক্যামেরায় ধারণ করে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। একজন যাত্রী হিসেবে তিনি যে সমস্যাগুলো দেখেছেন, সেগুলো অন্য যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও কতটা মিলে যায়, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে নাগরিকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা দ্রুত বৃহত্তর আলোচনায় পরিণত হতে পারে। ডা. ওরাকাতুল জান্নাতের লাইভও তার একটি উদাহরণ। তবে কোনো অভিযোগ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্য সামনে আনা জরুরি। তাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাটি শুধু ক্ষোভ প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে যাত্রীসেবার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। শাহজালাল বিমানবন্দরের ওই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডা. ওরাকাতুল জান্নাত যে ব্যাপক মানুষের নজরে এসেছেন, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর ভিডিও নতুন করে সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক প্রশ্ন—দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন যাত্রী যেন নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ ও সম্মানজনক সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এ কারণে তাঁরা অন্তত কখনো কখনো আর্থিক চাপ অনুভব করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত লেন্ডিংট্রির জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৭১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সন্তানকে অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দিয়েছেন ৪৪ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ৩২ শতাংশ মাসে একাধিকবার অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দেওয়া মা-বাবাদের ৫৩ শতাংশ সন্তানের খাবার বা বাজারের খরচে সাহায্য করেছেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা সাবস্ক্রিপশনের খরচে সহায়তা করেছেন ৩৫ শতাংশ। সমানসংখ্যক মা-বাবা নিয়মিত বিল ও জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ দিয়েছেন। আবাসন খরচে সাহায্য করেছেন ২৫ শতাংশ। সন্তানকে সহায়তা দেওয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালানোর সক্ষমতা কমেছে বলে জানিয়েছেন ১৮ শতাংশ মা-বাবা। ঋণ পরিশোধে প্রভাব পড়েছে ১৬ শতাংশের, সঞ্চয়ে ১৩ শতাংশের এবং অবসরের জন্য অর্থ জমানোয় ১১ শতাংশের। সহায়তা পাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন, মা-বাবার সাহায্য ছাড়া বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ মেটানো তাঁদের জন্য কঠিন বা অসম্ভব হতো। মার্চে প্রকাশিত ওয়েলস ফার্গোর পৃথক জরিপে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের সন্তানেরা অর্থ, বাসস্থান বা অন্য সহায়তার জন্য তাঁদের ওপর নির্ভর করেন। ওই মা-বাবাদের ৫৬ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাঁদের নিজেদের অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণনা ব্যুরোর হিসাবে, ২০২৪ সালে পরিবারের বাইরে থাকা ২১ বছর বা বেশি বয়সী ৩৭ লাখ সন্তানকে মোট ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছেন প্রায় ২৬ লাখ মা-বাবা। যাঁরা সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক অর্থের মধ্যক পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭২৫ ডলার। বাড়িতে থাকা সন্তানদের পেছনে খরচ এই হিসাবে নেই। লেন্ডিংট্রির অনলাইন জরিপটি ৫ থেকে ৯ আগস্ট চালানো হয়। এতে অংশ নেওয়া ২ হাজার মার্কিন ভোক্তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবা ছিলেন ৫৯৪ জন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এস ইসলাম। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এক বার্তায় তাদের সদস্য ইসলামের পদোন্নতির খবর জানিয়েছে। এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটিও তাঁকে নতুন পদে অভিনন্দন জানিয়েছে। মোহাম্মদ এস ইসলাম বর্তমানে ব্রুকলিনে এনওয়াইপিডির ৬২তম প্রিসিঙ্কটের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিঙ্কটের আওতায় রয়েছে বেনসনহার্স্ট, ম্যাপলটন ও বাথ বিচ এলাকা। এনওয়াইপিডির প্রিসিঙ্কট পরিচিতি পাতায়ও তাঁকে কমান্ডিং অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাপার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন ১৮ বছরের। এই সময়ে তিনি হাউজিং, প্যাট্রল ও ডিটেকটিভ ব্যুরোসহ বিভাগের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেছেন। পদোন্নতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে তুলে ধরে ইসলাম ও তাঁর পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি। এনওয়াইপিডির ওয়েবসাইটে শুক্রবার পর্যন্ত ইসলামের নামের পাশে আগের পদবি ‘ক্যাপ্টেন’ লেখা ছিল। তবে তাঁর ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির কথা জানিয়েছে বাপা ও এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটি। পদোন্নতি কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ সংগঠনগুলোর পাওয়া ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি স্কুল ভবনের চারতলা থেকে পড়ে ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে ছেলেটি বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিল। তবে বুলিংয়ের অভিযোগ ও ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক তদন্তে এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জেভিয়ার আমায়া। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে হাইল্যান্ড পার্ক এলাকার বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন হাই স্কুলে ঘটনাটি ঘটে। চারতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়; সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা স্কুলে চলাচল সীমিত রাখা হয়েছিল। জেভিয়ারের সঙ্গে একই ক্লাসে থাকা এক শিক্ষার্থী এবিসি৭-কে বলেছেন, পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আরেক শিক্ষার্থী তাঁকে কয়েকবার আঘাত করেছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে দেখা ঘটনাগুলোর পূর্ণ পরিস্থিতি এবং জেভিয়ারের পড়ে যাওয়ার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জেভিয়ারের সঙ্গে মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে কেমন আচরণ করা হয়েছিল, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা বলেছেন, জেভিয়ার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জোর করে তাঁকে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার স্কুলে ক্লাস শুরু হলেও প্রবেশপথে জেভিয়ারের স্মরণে ফুল ও মোমবাতি রাখা হয়। সন্ধ্যায় আয়োজিত স্মরণসভায় শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য শোক সামলাতে সহায়তা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টিতে একটি বাসা থেকে ১৭ বছর বয়সী যমজ ভাইবোন ও তাঁদের বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা, বাবা দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো জানায়নি কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও অবস্থা যাচাই করতে কোর্টনি চেজ সার্কেলের ১২০০ ব্লকের একটি বাসায় যান শেরিফের দপ্তরের সদস্যরা। বাসাটি হান্টার্স ক্রিক এলাকায়, টাউন সেন্টার বুলেভার্ড ও স্টেট রোড ৪১৭-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ভেতরে ঢুকে বসার ঘরে কার্লো মন্টিয়েল ইনফান্তিনো ও মেলানি মন্টিয়েল ইনফান্তিনোর মরদেহ পান তাঁরা। দুজনেরই বয়স ১৭ বছর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁদের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। একই বাসার বাথরুমে তাঁদের বাবা ইভান মন্টিয়েল রোয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টেলেমুন্ডো ৩১ জানিয়েছে, নিহত ভাইবোন সাইপ্রেস ক্রিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তাঁদের পরিচয় ও তদন্তের প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যা হিসেবে দেখছেন। তবে মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল কিংবা ঘটনার পেছনে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের অনুরোধ কে করেছিলেন, তাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
চীনের চাং’ই-৮ অভিযানের সঙ্গে ২০২৯ সালে নিজেদের প্রথম চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে পাকিস্তান। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা সুপারকো গত ১৩ আগস্ট রোভারটির নাম ঘোষণার সময় এই সময়সূচি জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবে। পাকিস্তানে তৈরি রোভারটিতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিভিন্ন যন্ত্র থাকবে। এগুলোর মাধ্যমে চাঁদের প্লাজমা ও বিকিরণ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, ভূপ্রকৃতির মানচিত্র তৈরি এবং ভবিষ্যৎ চন্দ্র গবেষণার জন্য পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির প্রস্তুতিতে এসব গবেষণা সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সুপারকো। রোভারটির নাম নির্ধারণে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। চার হাজারের বেশি প্রস্তাব থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামে ‘জিন্নাহ-১’ নামটি বেছে নেওয়া হয়। সাতজন অংশগ্রহণকারী একই নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বাহাওয়ালনগরের ১৭ বছর বয়সী তাইয়াব করিম খানকে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়। নাম ঘোষণার অনুষ্ঠানে সুপারকোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান একে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের চন্দ্র অনুসন্ধানে সহযোগিতা আগে থেকেই রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে চাং’ই-৬ অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ‘আইকিউব-কামার’ স্যাটেলাইট চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। এবার জিন্নাহ-১-এর মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। সুপারকোর ওয়েবসাইটে থাকা আগের কর্মসূচির বিবরণে ২০২৮ সালের উল্লেখ থাকলেও ১৩ আগস্টের নাম ঘোষণায় উৎক্ষেপণের পরিকল্পিত বছর বলা হয়েছে ২০২৯। সেই ঘোষণা অনুযায়ী জিন্নাহ-১ এখন ভবিষ্যৎ অভিযানের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তের টেক্সাস অংশে আরও কয়েক শ সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার, ২ অক্টোবর মার্কিন নর্দার্ন কমান্ড জানিয়েছে, রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে আগে থেকে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সহায়তায় নতুন এই মোতায়েন করা হয়েছে। নর্দার্ন কমান্ডের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা, সম্ভাব্য হুমকিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো এবং রিও গ্র্যান্ডে এলাকায় কর্মরত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে সহায়তা করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। কতজন সেনা পাঠানো হয়েছে, তাঁরা কত দিন থাকবেন বা কোন কোন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। রিও গ্র্যান্ডে এলাকায় ড্রোন নিয়ে উদ্বেগের একটি আগের ঘটনা রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ আগস্ট সীমান্তে তাদের সদস্য ও বর্ডার কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত তিনটি ড্রোন লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামানো হয়। বাহিনী ড্রোনগুলোকে কার্টেল সংশ্লিষ্ট বলে বর্ণনা করে। ওই ঘটনাটি শুক্রবারের নতুন সেনা মোতায়েনের কারণ হিসেবে ধারণা পাওয়া যায়। সীমান্তে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও নতুন নয়। আগস্টের শেষ দিকে প্রকাশিত সামরিক বাহিনীর হিসাবে, দক্ষিণ সীমান্তে যৌথ টাস্কফোর্সের অধীনে প্রায় আট হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের কাজের মধ্যে ছিল নজরদারি, টহল ও সীমান্তরক্ষী সংস্থাকে সহায়তা। আট হাজারের সংখ্যাটি আগস্টের হিসাব; শুক্রবার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরের হালনাগাদ মোট সংখ্যা হিসেবে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কথিত যৌন নিপীড়নের একটি ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের একটি বাড়িতে এক নারী শিক্ষার্থীকে মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণে প্ররোচিত করে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারের নথিতে ওই নারীর বর্ণনায় ঘটনার আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগকারীকে মামলার নথিতে জেন ডো নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ঘটনার রাতে তিনি আগে থেকেই অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন। পরে তাকে কেটামিন গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেটামিনের প্রভাবে তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন। টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং আর চালিয়ে যেতে চান না বলে জানিয়েছিলেন। তদন্তের নথিতে তার এক রুমমেটের বক্তব্যও রয়েছে। ওই রুমমেটের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর জেন ডো অভিযুক্তদের একজনকে বলেছিলেন, তিনি এত বেশি কেটামিন নিয়েছিলেন যে তার চোখও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না, তবুও তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা হয়। এই বক্তব্য টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারের নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্নেলের টাইটেল নাইন তদন্তে অভিযোগকারী, অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন এবং ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তদন্তে মোট ৩২ জনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয় এবং ৫০টির বেশি সাক্ষাৎকারের নথি তৈরি হয় বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথিতে টাইটেল নাইন প্যানেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের যুক্তি বা শুনানির সম্পূর্ণ কার্যবিবরণী নেই। অভিযুক্তদের বক্তব্যেও ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তাদের একজন দাবি করেছেন, তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কেটামিন নেওয়ার আগে তার সম্মতি নিয়েছিলেন। আরেক অভিযুক্ত স্কট ক্রেটজমার দাবি করেছেন, তিনি কক্ষে মাত্র কয়েক মিনিট ছিলেন এবং ওই নারীকে অস্বাভাবিকভাবে নেশাগ্রস্ত মনে হয়নি। তার আইনজীবীও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওই নারী সাতজন সাবেক ভ্রাতৃসংঘ সদস্য, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, চি ফাই এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ওই রাতে তাকে মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাবে অসহায় অবস্থায় নিয়ে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তখন কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আবার সামনে আসে। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন ২৮ সেপ্টেম্বর জানান, মামলাটি নতুন করে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ওই নারীর প্রাথমিক শপথ করা বক্তব্যে মাদক প্রয়োগ বা একাধিক ব্যক্তির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল না। তবে নতুন তথ্য সামনে আসার পর তদন্ত পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ১ অক্টোবর নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে এই মামলার বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে এখন নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর অভিযোগের ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, তদন্তটি তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও নতুন তদন্তকে সমর্থন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা আগে নিজেদের টাইটেল নাইন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তদন্ত করেছিল এবং অভিযুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সাময়িক বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও বর্তমান ফৌজদারি তদন্ত দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের চূড়ান্ত রায়ও হয়নি। নতুন তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য, পূর্বের তদন্তের নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আর্কানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে হীরা খুঁজছিলেন জ্যাক পিয়ারাডিন। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার হাতে এসেছে ৬ দশমিক ০৩ ক্যারেটের একটি হলুদ হীরা। ‘আমেরিকান ড্রিম’ নাম দেওয়া এই হীরাটি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা। পিয়ারাডিনের দাবি, কয়েকজন কালেক্টর এর মূল্য ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে তাকে জানিয়েছেন। তবে একজন অভিজ্ঞ জেম অ্যাপ্রাইজার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, হীরাটির মান ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এর মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। মিসৌরি থেকে আসা পিয়ারাডিন একজন নেভি রিজার্ভিস্ট। ২০১৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত এই পার্কে হীরা খুঁজছেন। এ পর্যন্ত তার হাতে এসেছে ৩০০টিরও বেশি রত্ন। হীরা খোঁজার প্রতি তার আগ্রহ এতটাই গভীর যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মুরফ্রিসবরো শহরে চলে আসেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি জানান, শখটির প্রতি তার এতটাই ভালোবাসা যে কাছাকাছি চলে আসাটাও তার কাছে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত ছিল। এবারের আবিষ্কারটি আসে একটি টিকটক লাইভের সময়। নুড়ি ও মাটি ধুয়ে একটি বালতির পাথর টেবিলের ওপর ঢেলে দেওয়ার পর চকচকে পাথরটি তার চোখে পড়ে। হীরাটি দেখতে প্রায় একটি নখের সমান। সেটি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত পিয়ারাডিন চিৎকার করে বলেন, “ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!” এরপর হীরাটির আকার বুঝতে পেরে তিনি বলেন, “আমরা বড় একটা পেয়েছি!” পিয়ারাডিন পরে হীরাটির নাম দেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও আকর্ষণীয় হলুদ হীরা। হীরাটি তিনি একাই খুঁজে পাননি। উইসকনসিনের সহকারী জেম হান্টার মাইকেল শুমাখার সেই বালতির নুড়ি ও মাটি সংগ্রহের কাজে তাকে সহায়তা করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। ভবিষ্যতে সেই অর্থ দিয়ে নিজের একটি ক্রিস্টাল মাইন খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের বিশেষত্ব হলো, এখানে সাধারণ মানুষ নিজেরাই হীরা খুঁজতে পারেন এবং পাওয়া রত্ন সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। সাবেক ওপেন-পিট ডায়মন্ড মাইনটি ১৯৭২ সালে স্টেট পার্কে পরিণত হয়। এরপর থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে ৩৭ হাজারের বেশি হীরা খুঁজে পেয়েছেন। পার্কে প্রবেশ করে হীরা খোঁজার জন্য ১৫ ডলারের ফি দিতে হয় এবং একটি পাঁচ গ্যালনের বালতি ভর্তি নুড়ি নিয়ে অনুসন্ধান করা যায়। পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেখানে সাধারণত ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ হীরার ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেটের মতো। এর আগে ২০২০ সালে একজন আর্কানসাস ব্যাংক ম্যানেজার ৯ ক্যারেটের একটি হীরা এবং ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিক ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান। তবে ‘আমেরিকান ড্রিম’ যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা নয়। সেই রেকর্ড এখনো ‘আঙ্কল স্যাম’ নামের ৪০ দশমিক ২৩ ক্যারেটের হীরাটির দখলে। ১৯২৪ সালে একই এলাকায় এটি পাওয়া যায়। পরে হীরাটি কেটে ১২ দশমিক ৪২ ক্যারেটের রত্নে পরিণত করা হয় এবং বর্তমানে সেটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। জেম অ্যাপ্রাইজার লরা স্ট্যানলির হিসাবে, ক্রেটার অব ডায়মন্ডসের সাধারণ শূন্য দশমিক ১৭ ক্যারেটের একটি হীরা প্রায় ৭০০ ডলারে বিক্রি হতে পারে। আর ভালো মানের ৬ ক্যারেটের হলুদ হীরার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। ফলে পিয়ারাডিনের বলা ১০ লাখ ডলারের সম্ভাব্য মূল্য এখনো নিশ্চিত বাজারমূল্য নয়। ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ককে বিশেষ করে তোলে এর উন্মুক্ত ব্যবস্থাপনা। জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত প্রাথমিক প্রাকৃতিক উৎসের একটি এই আর্কানসাসের এলাকা। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য এখানে নিজ হাতে হীরা খুঁজে পাওয়ার সুযোগটি বিশ্বজুড়েই বিরল।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। শরীয়তপুরের এই সন্তান ২৮ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পান। তখন তিনি এনওয়াইপিডির ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন হুমায়ুন কবির। ২০০৫ সালে পুলিশ ক্যাডেট হিসেবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ম্যানহাটনের বারুক কলেজ থেকে ২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পুলিশ অফিসার হন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটন ট্রানজিট পুলিশে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ুন। ওই সময়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা তিনবার তিনি ‘অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। পরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডির ১১৩ প্রিসিঙ্কটের ডিটেকটিভ স্কোয়াডে কাজ করেন। সার্জেন্ট পদে পদোন্নতির পর সপ্তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর যোগ দেন এনওয়াইপিডির ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি ডিভিশনে। ২০২২ সালে সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা বিভাগে যোগ দেন হুমায়ুন। ওই বিভাগে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম দুই বাংলাদেশি কর্মকর্তা ছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালে ডিটেকটিভ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান হুমায়ুন। পুলিশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হুমায়ুন কবিরের পদোন্নতিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাপার সভাপতি একেএম প্রিন্স আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামিল সরোয়ার। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তানজিলা খান, ছেলে তাসিন কবির ও মেয়ে তাসমিয়া কবিরকে নিয়ে তিনি লং আইল্যান্ডে বসবাস করেন।
ইলন মাস্কের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি নির্বাহী শিভন জিলিস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জিলিস দাবি করেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। মাস্কের সঙ্গে জিলিসের চার সন্তান রয়েছে। জিলিস লেখেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের অবস্থায় চলে যাওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগে তিনি এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের আভাস পাননি। তবে বিচ্ছেদের কারণ কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তানের মধ্যে ২০২১ সালে যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজুর জন্ম নেয়। এরপর ২০২৪ সালে তাদের কন্যা আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালে ছেলে সেলডনের জন্ম হয়। জিলিস তার পোস্টে সন্তানদের নিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের চার সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস। বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জিলিস মাস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি কথোপকথনে মাস্ককে জিলিসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। একই কথোপকথনে একটি অনুষ্ঠানে তাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গও আসে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পর্কের আকস্মিক সমাপ্তির কথা জানানোয় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জিলিস এক্সে লিখেছিলেন, “নতুন দিন, নতুন জীবন।” তখন তিনি ওই পোস্টের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পরে সম্পর্কের বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ করার পর আগের পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মাস্ক তাকে এক্সে অনুসরণ করা বন্ধ করেছেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচ্ছেদের পরও মাস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সন্তানদের যৌথভাবে দেখাশোনা করার আশা প্রকাশ করেছেন জিলিস। তিনি বলেন, মাস্কের প্রতি তার গভীর যত্ন ও শুভকামনা রয়েছে। তবে সম্পর্ক কেন শেষ হলো, সে বিষয়ে মাস্ক বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিচ্ছেদের পেছনের কারণ আপাতত অজানা।