জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরোয়া করেন না ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মুনাফার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যেই তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাম বাড়ার কারণে চালকদের বাড়তি খরচের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হতে পারে—এমন সতর্কতা তাঁর উপদেষ্টারা দিলেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। তাঁর ভাষায়, সমালোচনার আশঙ্কা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না।
জর্জিয়ার পেরি শহরে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত বিপুল আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেক্সাস, ওকলাহোমা ও লুইজিয়ানার মতো তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যে তেল উত্তোলন ও বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসছে।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছিলেন।
তবে উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনামূলক শিরোনাম হতে পারে। মানুষ যখন জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করছে, তখন প্রেসিডেন্ট তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের কথা বলছেন—এমন সমালোচনা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, এসব নিয়ে তিনি পরোয়া করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি কিনছেন। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গও তোলেন। তবে তাঁর এই তুলনার সঙ্গে বর্তমান জ্বালানির দাম ও আগের সময়ের সর্বোচ্চ দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দেশটিতে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ২৯ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৯ ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এক মাসে দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এক বছর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ০৬ ডলার। ফলে গত বছরের তুলনায় এখন চালকদের প্রতি গ্যালনে প্রায় ১ দশমিক ২৩ ডলার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ।
অন্যান্য জ্বালানির দামও চালকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২৫ অক্টোবর মধ্যম মানের পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৮০ ডলার। উন্নত মানের পেট্রলের দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২০ ডলার। ডিজেলের গড় দাম পৌঁছেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ ডলারে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
জ্বালানির দাম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক সমালোচনাও জোরালো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফার জন্য এটি যেন একটি সফল প্রেসিডেন্সি। তাঁর মন্তব্যে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক লাভ এবং সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত এক জরিপে ৭৩ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার বলেছেন, জ্বালানির দাম সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। বিপরীতে ২৪ শতাংশ ভোটার তাঁর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন ভোটার।
জরিপ অনুযায়ী, অসন্তোষ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭৭ শতাংশ ট্রাম্পের জ্বালানির দাম সামলানোর বিষয়ে অসন্তুষ্ট। একই মত দিয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের ৪২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিজের রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রথম দিন থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে পেট্রল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তেলের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী কোম্পানি ও তেলসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্যগুলো বেশি আয় করতে পারে। তবে সেই সুবিধা সব সময় সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রল, ডিজেল ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি খাতের আয় বাড়লেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, পাম্পে জ্বালানির দাম আবার কমবে। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সময় জাতীয় গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ব্যবধান এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফ্লোরিডা টার্নপাইক মহাসড়কে এসইউভি ও সড়ক সহায়তায় নিয়োজিত একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ছয়জনের মৃ ত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িতেই আ গু ন ধরে যায়। এতে এসইউভির চালক ও গাড়িতে থাকা পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় সড়ক সহায়তা ট্রাকের চালকও সামান্য আহত হয়েছেন। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোলের (এফএইচপি) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩১ মিনিটের দিকে মহাসড়কের উত্তরমুখী লেনে ২৫২ মাইল মার্কারের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত নি হ ত ছয়জনের পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে সড়ক সহায়তায় ব্যবহৃত রোড রেঞ্জার ট্রাকটি মহাসড়কের মাঝের বিভাজক এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিল। এর জরুরি বাতিগুলোও জ্বালানো ছিল। এর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় সহায়তা করছিলেন ট্রাকটির চালক। পরে মহাসড়কের বাইরের পাশের কাঁধে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বক্স ট্রাককে সহায়তা করার নির্দেশ পান তিনি। এরপর রোড রেঞ্জার ট্রাকটি মাঝের বিভাজক এলাকা থেকে সড়ক পার হয়ে বাইরের কাঁধের দিকে এগোতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় উত্তরমুখী লেনের ভেতরের দিকে চলছিল ২০২৩ সালের মডেলের একটি শেভ্রোলেট ট্রাভার্স এসইউভি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এসইউভিটি বেশ দ্রুতগতিতে চলছিল এবং গাড়িটির হেডলাইট জ্বালানো ছিল না বলে তাঁরা জানিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসইউভির চালক সামনে থাকা রোড রেঞ্জার ট্রাকটিকে এড়াতে পারেননি। গাড়িটির সামনের বাম পাশ ট্রাকের পেছনের ডান পাশে আঘাত করে। সংঘর্ষের পর দুটি গাড়িই সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং তাতে আ গু ন ধরে যায়। এসইউভির ভেতরে থাকা চালক ও পাঁচ যাত্রী গাড়ির মধ্যে আটকে পড়েন। পরে ছয়জনকেই ঘটনাস্থলে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য এখনো তদন্তের চূড়ান্ত ফল নয়। গাড়িটির গতি, হেডলাইট বন্ধ থাকা কিংবা ট্রাকটির সড়ক পার হওয়ার সময়ের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। রোড রেঞ্জার ট্রাকটির চালক ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি ফ্লোরিডার কিসিমি এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সহায়তা করেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ছয়জনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা কোথা থেকে এসেছিলেন কিংবা তাঁদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং দুর্ঘটনার পেছনে কোন কোন বিষয় ভূমিকা রেখেছে, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে চলন্ত এসইউভি ও সহায়তার কাজে নিয়োজিত ট্রাকের সংঘর্ষের পরই প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরোয়া করেন না ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মুনাফার দাবি
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে কার ওয়াশ কোম্পানি
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর পর মেক্সিকোয় আটক পলাতক মা
যুক্তরাষ্ট্রে ধনীদের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে একটি পরিবারের নিট সম্পদ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। ভিসার (Visa) এক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাড়ি ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মূল্য বাড়ায় দেশটিতে ধনী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আর্থিক সীমাও বেড়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পরিবার সম্পদের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে এই অঙ্ক কোনো স্থায়ী বা সরকারি সংজ্ঞা নয়, বরং ভিসার নির্ধারিত আর্থিক মানদণ্ড। ভিসার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ নতুন করে কোটিপতির তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের মোট সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছে। ফলে আগে যে পরিমাণ সম্পদকে আর্থিক সচ্ছলতার বড় মাপকাঠি হিসেবে দেখা হতো, এখন তার চেয়ে বেশি সম্পদ প্রয়োজন হচ্ছে। ভিসার হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে নিট সম্পদ কমপক্ষে ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। তবে অঞ্চলভেদে এই সীমা ভিন্ন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে নিট সম্পদ প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের মূল্য এবং সম্পদের বাজারদরের পার্থক্যের কারণে অঞ্চলভেদে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, একই পরিমাণ সম্পদ নিয়ে একটি পরিবার কোনো অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও অন্য অঞ্চলে একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে। নিট সম্পদ বলতে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে সব ধরনের দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থমূল্যকে বোঝায়। এর মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং স্বর্ণ বা মূল্যবান সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর মতো সম্পদ থাকতে পারে। অন্যদিকে, বাড়ি বা গাড়ির ঋণ, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য ঋণ দায়দেনার মধ্যে পড়ে। তাই শুধু আয় বা ব্যাংকে জমা অর্থ দিয়ে কারও মোট সম্পদের অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। সম্পদের বর্তমান মূল্য ও মোট ঋণের হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের ব্যয়ের ধরনও অন্য পরিবারের তুলনায় আলাদা। পোশাক, বিমানে ভ্রমণ এবং হোটেলে থাকার মতো খাতে তাদের ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তবে বেশি সম্পদ থাকলেই সব পরিবার একইভাবে অর্থ ব্যয় করে, এমন নয়। পরিবারের আয়, বয়স, বসবাসের স্থান এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনও ব্যয়ের ধরনকে প্রভাবিত করে। ভিসার বিশ্লেষণে আর্থিক সচ্ছলতা বোঝার ক্ষেত্রে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের গড় নিট সম্পদ প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তবে গড় সম্পদ ও শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা এক বিষয় নয়। অল্পসংখ্যক অত্যন্ত ধনী পরিবারের বিপুল সম্পদও জাতীয় গড়কে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে গড় পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে শীর্ষ ধনীদের সম্পদের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হতে পারে। নিট সম্পদ বাড়াতে আর্থিক পরিকল্পনা, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সঞ্চয়, উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। ফিডেলিটির মতে, নিয়মিত সঞ্চয়, ঋণ কমানো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন আয়স্তরের মানুষই ইতিবাচক নিট সম্পদ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন। তবে ১৮ লাখ ডলারের সীমাটি ভিসার বিশ্লেষণভিত্তিক মানদণ্ড; সম্পদের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ শতাংশে অবস্থানের হিসাব জরিপ ও তথ্যের সময়কাল অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ভিসা, ইউবিএস।
নিউ ইয়র্কের কুইন্স পার্কে গর্ত থেকে নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজানা
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের চিকো শহরে অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্লেজ্যান্ট ভ্যালি হাইস্কুলের কয়েক ডজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা স্কুলের বাইরে জড়ো হয়ে অভিবাসন ও সীমান্ত প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। চিকোসোল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আয়োজন করে। নিজের পরিবারের অভিবাসী পরিচয়ের কথা তুলে ধরে সে জানায়, পরিবারের সদস্যদের আটক করা হতে পারে—এই আশঙ্কা তার মধ্যে কাজ করে। তার ভয়, কোনো দিন হয়তো বাড়ি ফিরে সে বাবা-মাকে পাশে পাবে না। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থীরাও পরিবারের ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানায়। ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলে, তার পরিবার তাকে ভালো ভবিষ্যৎ দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। অন্য শিক্ষার্থীরা অভিবাসী পরিবারগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানায়। তবে প্রতিবাদস্থলে ভিন্নমতের মানুষও উপস্থিত ছিলেন। একজন পাল্টা প্রতিবাদকারী অভিবাসন আইন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ফলে একই এলাকায় অভিবাসননীতি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটে।স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বেরিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সম্ভাবনা ছিল। প্রতিবেদনটি স্কুল ক্যাম্পাসে আইসের অভিযান চালানোর কোনো তথ্য দেয়নি। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে চলমান সামাজিক বিতর্কের একটি স্থানীয় উদাহরণ।অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্য পরিবারের নিরাপত্তা, স্কুলে উপস্থিতি এবং মানসিক স্বস্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, আইনি প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে জনঅসন্তোষ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক