সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
কেটামিনের প্রভাবে অসুস্থ অবস্থায় যৌন সম্পর্ক, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কথিত যৌন নিপীড়নের একটি ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের একটি বাড়িতে এক নারী শিক্ষার্থীকে মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণে প্ররোচিত করে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারের নথিতে ওই নারীর বর্ণনায় ঘটনার আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে।    অভিযোগকারীকে মামলার নথিতে জেন ডো নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ঘটনার রাতে তিনি আগে থেকেই অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন। পরে তাকে কেটামিন গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেটামিনের প্রভাবে তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে স্বাভাবিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছিলেন। টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি একপর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং আর চালিয়ে যেতে চান না বলে জানিয়েছিলেন।    তদন্তের নথিতে তার এক রুমমেটের বক্তব্যও রয়েছে। ওই রুমমেটের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর জেন ডো অভিযুক্তদের একজনকে বলেছিলেন, তিনি এত বেশি কেটামিন নিয়েছিলেন যে তার চোখও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না, তবুও তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা হয়। এই বক্তব্য টাইটেল নাইন তদন্তের সাক্ষাৎকারের নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।    কর্নেলের টাইটেল নাইন তদন্তে অভিযোগকারী, অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন এবং ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তদন্তে মোট ৩২ জনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয় এবং ৫০টির বেশি সাক্ষাৎকারের নথি তৈরি হয় বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশিত নথিতে টাইটেল নাইন প্যানেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের যুক্তি বা শুনানির সম্পূর্ণ কার্যবিবরণী নেই।    অভিযুক্তদের বক্তব্যেও ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। তাদের একজন দাবি করেছেন, তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কেটামিন নেওয়ার আগে তার সম্মতি নিয়েছিলেন। আরেক অভিযুক্ত স্কট ক্রেটজমার দাবি করেছেন, তিনি কক্ষে মাত্র কয়েক মিনিট ছিলেন এবং ওই নারীকে অস্বাভাবিকভাবে নেশাগ্রস্ত মনে হয়নি। তার আইনজীবীও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।    ঘটনাটি নিয়ে ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ওই নারী সাতজন সাবেক ভ্রাতৃসংঘ সদস্য, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, চি ফাই এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ওই রাতে তাকে মাদক ও অ্যালকোহলের প্রভাবে অসহায় অবস্থায় নিয়ে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তখন কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।    তবে দেওয়ানি মামলা দায়েরের পর বিষয়টি আবার সামনে আসে। টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন ২৮ সেপ্টেম্বর জানান, মামলাটি নতুন করে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ওই নারীর প্রাথমিক শপথ করা বক্তব্যে মাদক প্রয়োগ বা একাধিক ব্যক্তির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ছিল না। তবে নতুন তথ্য সামনে আসার পর তদন্ত পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।    এরপর ১ অক্টোবর নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তরকে এই মামলার বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেন। ফলে এখন নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর অভিযোগের ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। লেটিশিয়া জেমস বলেছেন, তদন্তটি তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।    কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ও নতুন তদন্তকে সমর্থন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা আগে নিজেদের টাইটেল নাইন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তদন্ত করেছিল এবং অভিযুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সাময়িক বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও বর্তমান ফৌজদারি তদন্ত দুটি পৃথক প্রক্রিয়া।    বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের চূড়ান্ত রায়ও হয়নি। নতুন তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য, পূর্বের তদন্তের নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৫:৪৭
৬-ক্যারেট হীরা আমেরিকান ড্রিম
১২ বছরের খোঁজের অবসান, মিলল ৬ ক্যারেটের হীরা ‘আমেরিকান ড্রিম’, মূল্য হতে পারে ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের আর্কানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে হীরা খুঁজছিলেন জ্যাক পিয়ারাডিন। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার হাতে এসেছে ৬ দশমিক ০৩ ক্যারেটের একটি হলুদ হীরা। ‘আমেরিকান ড্রিম’ নাম দেওয়া এই হীরাটি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা। পিয়ারাডিনের দাবি, কয়েকজন কালেক্টর এর মূল্য ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে তাকে জানিয়েছেন। তবে একজন অভিজ্ঞ জেম অ্যাপ্রাইজার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, হীরাটির মান ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এর মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে।    মিসৌরি থেকে আসা পিয়ারাডিন একজন নেভি রিজার্ভিস্ট। ২০১৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত এই পার্কে হীরা খুঁজছেন। এ পর্যন্ত তার হাতে এসেছে ৩০০টিরও বেশি রত্ন। হীরা খোঁজার প্রতি তার আগ্রহ এতটাই গভীর যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মুরফ্রিসবরো শহরে চলে আসেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি জানান, শখটির প্রতি তার এতটাই ভালোবাসা যে কাছাকাছি চলে আসাটাও তার কাছে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত ছিল।    এবারের আবিষ্কারটি আসে একটি টিকটক লাইভের সময়। নুড়ি ও মাটি ধুয়ে একটি বালতির পাথর টেবিলের ওপর ঢেলে দেওয়ার পর চকচকে পাথরটি তার চোখে পড়ে। হীরাটি দেখতে প্রায় একটি নখের সমান। সেটি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত পিয়ারাডিন চিৎকার করে বলেন, “ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!” এরপর হীরাটির আকার বুঝতে পেরে তিনি বলেন, “আমরা বড় একটা পেয়েছি!”    পিয়ারাডিন পরে হীরাটির নাম দেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও আকর্ষণীয় হলুদ হীরা। হীরাটি তিনি একাই খুঁজে পাননি। উইসকনসিনের সহকারী জেম হান্টার মাইকেল শুমাখার সেই বালতির নুড়ি ও মাটি সংগ্রহের কাজে তাকে সহায়তা করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। ভবিষ্যতে সেই অর্থ দিয়ে নিজের একটি ক্রিস্টাল মাইন খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।    ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের বিশেষত্ব হলো, এখানে সাধারণ মানুষ নিজেরাই হীরা খুঁজতে পারেন এবং পাওয়া রত্ন সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। সাবেক ওপেন-পিট ডায়মন্ড মাইনটি ১৯৭২ সালে স্টেট পার্কে পরিণত হয়। এরপর থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে ৩৭ হাজারের বেশি হীরা খুঁজে পেয়েছেন। পার্কে প্রবেশ করে হীরা খোঁজার জন্য ১৫ ডলারের ফি দিতে হয় এবং একটি পাঁচ গ্যালনের বালতি ভর্তি নুড়ি নিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।    পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেখানে সাধারণত ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ হীরার ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেটের মতো। এর আগে ২০২০ সালে একজন আর্কানসাস ব্যাংক ম্যানেজার ৯ ক্যারেটের একটি হীরা এবং ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিক ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান।    তবে ‘আমেরিকান ড্রিম’ যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা নয়। সেই রেকর্ড এখনো ‘আঙ্কল স্যাম’ নামের ৪০ দশমিক ২৩ ক্যারেটের হীরাটির দখলে। ১৯২৪ সালে একই এলাকায় এটি পাওয়া যায়। পরে হীরাটি কেটে ১২ দশমিক ৪২ ক্যারেটের রত্নে পরিণত করা হয় এবং বর্তমানে সেটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে প্রদর্শিত হচ্ছে।    জেম অ্যাপ্রাইজার লরা স্ট্যানলির হিসাবে, ক্রেটার অব ডায়মন্ডসের সাধারণ শূন্য দশমিক ১৭ ক্যারেটের একটি হীরা প্রায় ৭০০ ডলারে বিক্রি হতে পারে। আর ভালো মানের ৬ ক্যারেটের হলুদ হীরার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। ফলে পিয়ারাডিনের বলা ১০ লাখ ডলারের সম্ভাব্য মূল্য এখনো নিশ্চিত বাজারমূল্য নয়।    ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ককে বিশেষ করে তোলে এর উন্মুক্ত ব্যবস্থাপনা। জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত প্রাথমিক প্রাকৃতিক উৎসের একটি এই আর্কানসাসের এলাকা। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য এখানে নিজ হাতে হীরা খুঁজে পাওয়ার সুযোগটি বিশ্বজুড়েই বিরল।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৬:২২
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে লেফটেন্যান্ট পদে  হুমায়ুন কবির।
নিউইয়র্ক পুলিশে লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেলেন শরীয়তপুরের হুমায়ুন কবির

নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) লেফটেন্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। শরীয়তপুরের এই সন্তান ২৮ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি পান। তখন তিনি এনওয়াইপিডির ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন।   ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন হুমায়ুন কবির। ২০০৫ সালে পুলিশ ক্যাডেট হিসেবে এনওয়াইপিডিতে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ম্যানহাটনের বারুক কলেজ থেকে ২০০৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পুলিশ অফিসার হন।    ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটন ট্রানজিট পুলিশে গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ুন। ওই সময়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা তিনবার তিনি ‘অফিসার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। পরে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে এনওয়াইপিডির ১১৩ প্রিসিঙ্কটের ডিটেকটিভ স্কোয়াডে কাজ করেন।    সার্জেন্ট পদে পদোন্নতির পর সপ্তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর যোগ দেন এনওয়াইপিডির ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি ডিভিশনে। ২০২২ সালে সার্জেন্ট এরশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের নিরাপত্তা বিভাগে যোগ দেন হুমায়ুন। ওই বিভাগে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম দুই বাংলাদেশি কর্মকর্তা ছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালে ডিটেকটিভ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান হুমায়ুন।    পুলিশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।    হুমায়ুন কবিরের পদোন্নতিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাপার সভাপতি একেএম প্রিন্স আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামিল সরোয়ার। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তানজিলা খান, ছেলে তাসিন কবির ও মেয়ে তাসমিয়া কবিরকে নিয়ে তিনি লং আইল্যান্ডে বসবাস করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৫:৫
ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের আকস্মিক ইতি
ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের আকস্মিক ইতি, চার সন্তানের মা শিভন জিলিসের দাবি

ইলন মাস্কের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি নির্বাহী শিভন জিলিস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জিলিস দাবি করেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। মাস্কের সঙ্গে জিলিসের চার সন্তান রয়েছে।   জিলিস লেখেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের অবস্থায় চলে যাওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগে তিনি এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের আভাস পাননি। তবে বিচ্ছেদের কারণ কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।   মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তানের মধ্যে ২০২১ সালে যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজুর জন্ম নেয়। এরপর ২০২৪ সালে তাদের কন্যা আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালে ছেলে সেলডনের জন্ম হয়। জিলিস তার পোস্টে সন্তানদের নিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের চার সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।   বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জিলিস মাস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি কথোপকথনে মাস্ককে জিলিসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। একই কথোপকথনে একটি অনুষ্ঠানে তাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গও আসে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পর্কের আকস্মিক সমাপ্তির কথা জানানোয় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জিলিস এক্সে লিখেছিলেন, “নতুন দিন, নতুন জীবন।” তখন তিনি ওই পোস্টের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পরে সম্পর্কের বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ করার পর আগের পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মাস্ক তাকে এক্সে অনুসরণ করা বন্ধ করেছেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিচ্ছেদের পরও মাস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সন্তানদের যৌথভাবে দেখাশোনা করার আশা প্রকাশ করেছেন জিলিস। তিনি বলেন, মাস্কের প্রতি তার গভীর যত্ন ও শুভকামনা রয়েছে। তবে সম্পর্ক কেন শেষ হলো, সে বিষয়ে মাস্ক বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিচ্ছেদের পেছনের কারণ আপাতত অজানা।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:৪১
জমজমের পানি দিতে দেরি, বিমানের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
জমজমের পানি দিতে দেরি, বিমানের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরা ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে দেরির ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।   বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিমানের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছায়। যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানবন্দরে নামার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁরা ট্যাগ লাগানো লাগেজ ও জমজমের পানি পাননি। ফ্লাইটে থাকা চার সংসদ সদস্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তাঁদেরসহ অন্য যাত্রীদের লাগেজ ও পানি দেওয়া হয়নি।    বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জমজমের পানি বহনকারী কনটেইনার উড়োজাহাজ থেকে নামানো এবং পরবর্তী পরিচালনাপ্রক্রিয়ায় গাফিলতির কারণে তা সময়মতো ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছায়নি। এ ঘটনায় ব্যাগেজ ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম প্রধান ও ফ্লাইট সুপারভাইজার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে তাঁদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।    বিমান জানিয়েছে, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য প্রথমে নিজেদের সংরক্ষিত জমজমের পানি বিতরণ করা হয়। পরে কনটেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করে সেখানকার পানিও সরবরাহ করা হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদারের কথা বলেছে সংস্থাটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:১৬
সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু,
সাইবার অপরাধ তদন্তে স্বতন্ত্র ইউনিট চালু, জনবল কাঠামোয় ৪ হাজার ৫৯২ পদ

সাইবার অপরাধের তদন্ত ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে ইউনিটটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন ইউনিটের জনবল ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।   অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামোয় ইউনিটটির জন্য ৪ হাজার ৫৯২টি পদ রাখা হয়েছে। তবে উদ্বোধনের দিনই এই সংখ্যক সদস্য কাজে যোগ দিয়েছেন, এমন তথ্য সরকার দেয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শুরুতে পুলিশের বিদ্যমান বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়ন করা হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে জনবল কাঠামো পূর্ণ করা হবে।   ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা মনোনীত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কার্যক্রম তদারকি করবেন। থানায় সাইবার সেবা ও তদন্তের জন্য এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতিটি থানায় ইতিমধ্যে দুই থেকে তিনজন প্রশিক্ষিত তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করছেন, এমন তথ্য উদ্বোধনী বক্তব্যে নিশ্চিত করা হয়নি।   পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ছড়িয়ে থাকা সাইবার তদন্তকে একটি কাঠামোয় আনার লক্ষ্য জানিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিটের অধীনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। ডার্ক ওয়েব, ক্রিপ্টো, ম্যালওয়্যার, আর্থিক তথ্য ও সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন কাজে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ল্যাব ও বিশেষজ্ঞ পদে নিয়োগের কথা ভবিষ্যৎ উদ্যোগ হিসেবে জানিয়েছেন তিনি।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ইউনিট আর্থিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্তে সহায়তা করবে বলে সরকার আশা করছে। তবে ইউনিটটির জন্য পৃথক ২৪ ঘণ্টার সহায়তা কেন্দ্র চালু হয়েছে বা সেটি ৯৯৯-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে - এমন ঘোষণা যাচাই করা সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৩:৫০
২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!
২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের উৎস ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার, ২ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি এমপি-মন্ত্রী ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাব নিয়মিত যাচাইয়ের আহ্বান জানান। এই প্রক্রিয়া তাঁকে দিয়ে শুরু করার কথাও বলেন।    ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসনাত পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে কয়েকটি হিসাব তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে এই দম্পতির সম্পদ ২০০৮ সালে ৬ কোটি ৩০ লাখ, ২০১৮ সালে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকা ছিল। এসব অঙ্ক হাসনাতের পোস্টে উল্লিখিত হিসাব।    গুলশানে সম্পত্তি এবং সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। আয়, উত্তরাধিকার ও বিনিয়োগ থেকে কতটা সম্পদ এসেছে, তার যাচাইযোগ্য ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানান হাসনাত।    সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র কারও হিসাব চাইতে পারে। তবে সরকারের সমালোচনার পর এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনস্বার্থে একইভাবে এমপি-মন্ত্রীদের হিসাবও যাচাইয়ের দাবি জানান।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:৩৬
প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
মাদুরোকে ধরার আগে এআইয়ের সহযোগীতা নিলেন ট্রাম্প, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁস!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করলে দেশটির জনগণ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রককে প্রশ্ন করেছিলেন বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাদুরোকে আটক করার প্রায় এক মাস আগে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকে বসেছিলেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে তিনি গ্রকের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর করেন। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি।   একপর্যায়ে ট্রাম্প জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র যদি মাদুরোকে আটক করে, তাহলে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ কীভাবে বিষয়টি গ্রহণ করবে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রক মাদুরোকে অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দমনমূলক শাসক হিসেবে বর্ণনা করে এবং ধারণা দেয় যে অনেক ভেনেজুয়েলান তাঁর পতনকে স্বাগত জানাতে পারেন।   এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওই অভিযানের আগে কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি ও মহড়া চালানোর কথা জানিয়েছিলেন।   অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় মাদুরোবিরোধী মানুষের আনন্দ প্রকাশের খবরও আসে। টাইমের সূত্রের দাবি, এ ঘটনা ট্রাম্পকে গ্রকের পূর্বাভাস সম্পর্কে আরও মুগ্ধ করে এবং তিনি চ্যাটবটটির সক্ষমতাকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন।   তবে এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রক সরাসরি ট্রাম্পকে মাদুরোকে আটক করার পরামর্শ দিয়েছিল—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মূলত জানতে চেয়েছিলেন সম্ভাব্য আটকের পর ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।   অর্থাৎ, “এআইয়ের পরামর্শ নিয়ে ট্রাম্প মাদুরোকে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন”—এমন সরল দাবি এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। মাদুরোকে আটক করার অভিযানটি যে কয়েক মাসের সামরিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার ফল ছিল, তা ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামরিক পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানের আগে সম্ভাব্য জনমত সম্পর্কে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে আলোচনা করেছেন—এমন তথ্য এআইয়ের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:২৭
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়

আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধি ‘ডক্টর হোনরিস কউসা’ দেওয়ার প্রস্তাব ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চ পরিষদ। সম্মাননাটি আগামী ৬ অক্টোবর মেসির হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসির উৎকর্ষ ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি তাঁর বিনয় এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকারকে এ সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর নেতৃত্বও তাঁর অর্জনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর রিকার্দো গেলপি বলেছেন, মেসির অবদানকে শুধু ম্যাচের ফল বা পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তাঁর মতে, মেসি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়েরও একজন প্রতিনিধি। সহ-উপাচার্য এমিলিয়ানো ইয়াকোবিত্তি বলেছেন, এই সম্মাননা মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সমাজে তাঁর প্রভাবেরও স্বীকৃতি।    বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে সম্মাননাটি দেওয়া হবে। সেদিন বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; আনুষ্ঠানিক প্রদান এখনো বাকি।   

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:১৪
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা মূলত একটি ‘মাদকের কারখানা
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা মূলত একটি ‘মাদকের কারখানা’, তাই যুদ্ধ করছি, বললেন ট্রাম্প

ইরানে মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মাদকসংক্রান্ত কার্যক্রমও চলত বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ওকলাহোমার ডুরান্টে এক নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন। তবে বক্তব্যে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি।    সমাবেশে ট্রাম্প মিসৌরি থেকে বি-২ বোমারু বিমানের উড্ডয়ন এবং ইরানে হামলার বিবরণ দেন। এ সময় হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ‘মাদকের কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সেখানে পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত কাজও হচ্ছিল।    কোন ধরনের মাদক, কোন স্থাপনায় বা কীভাবে এই কার্যক্রম চলছিল, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। আলাদা কোনো মাদক উৎপাদনকেন্দ্রের নামও উল্লেখ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য থেকে অভিযোগটির সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি।    অথচ ওই অভিযান সম্পর্কে পেন্টাগনের প্রকাশিত বিবরণে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ জুনের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা অথবা তার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া।    জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও একই সংবাদ সম্মেলনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামারকে তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। সেই সরকারি ব্যাখ্যায় মাদকের কারখানা হামলার লক্ষ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়নি।    ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য তাই অভিযানের সময় দেওয়া সরকারি ব্যাখ্যার সঙ্গে নতুন একটি অভিযোগ যুক্ত করেছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য ইরানের সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মাদক উৎপাদন বা পাচারের প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:৯
আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর
আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর

আইইএলটিএসের প্রস্তুতি শুধু বইয়ের অনুশীলনী শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দৈনন্দিন জীবনে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। এর সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, সময় ব্যবস্থাপনা ও উত্তর দেওয়ার নিয়ম বুঝে অনুশীলন করলে প্রস্তুতি আরও গোছানো হয়।   প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় ভাষা শেখার জন্য ইংরেজির চর্চায় ডুবে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, সিরিজ ও সিনেমা দেখা, সংবাদপত্র পড়া এবং নিজের দক্ষতার উপযোগী বই পড়াকে এই চর্চার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কৌশল আর পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক নিয়মের পার্থক্য বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।   লিসেনিংয়ে প্রথম কাজ হলো কথার অর্থ বোঝা। উচ্চারণ অপরিচিত মনে হলেও বক্তা কী তথ্য দিচ্ছেন, সেদিকে মনোযোগ রাখতে হবে। রেকর্ডিং শুরুর আগে প্রশ্ন দেখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন, উত্তরে নাম, সংখ্যা, সময়, স্থান নাকি অন্য কোনো তথ্য চাওয়া হচ্ছে।   প্রশ্নের মূল শব্দ চিহ্নিত করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। তবে রেকর্ডিংয়ে প্রশ্নের হুবহু শব্দ শোনার অপেক্ষায় থাকলে তথ্য বাদ পড়তে পারে। বক্তব্যের অর্থ বুঝে উত্তর ধরার অনুশীলন করুন। আইইএলটিএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রেকর্ডিং একবারই শোনানো হয়। নির্ধারিত শব্দসীমার বেশি লিখলেও নম্বর হারাতে হয়।    ম্যাপের প্রশ্নে শুরু করার জায়গা, দিকনির্দেশ এবং পরিচিত স্থাপনা আগে দেখে নেওয়া সহায়ক। ডান ও বাঁয়ের নির্দেশ বোঝার সময় বক্তার চলার দিকের সঙ্গে মানচিত্র মিলিয়ে নিন। মানচিত্র ঘুরিয়ে নেওয়াকে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য কৌশল ধরে নেওয়ার বদলে অনুশীলনে নিজের সুবিধাজনক পদ্ধতি খুঁজে নেওয়া ভালো।   রিডিংয়ে আগে প্রশ্ন পড়বেন, নাকি প্যাসেজে চোখ বুলিয়ে নেবেন, তা অনুশীলনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়। প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ধরে প্যাসেজে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজুন। একই তথ্য সমার্থক শব্দ বা ভিন্ন বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল করুন।   দ্রুত চোখ বুলিয়ে লেখার মূল বক্তব্য বোঝা এবং নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা আলাদাভাবে চর্চা করা দরকার। শুধু পরিচিত একটি শব্দ পেলেই উত্তর ঠিক করে ফেলবেন না। আশপাশের বাক্য পড়ে নিশ্চিত হোন, প্রশ্নে যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তথ্যটি তার সঙ্গে মিলে কি না।   ম্যাচিং প্রশ্নেও নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপশন ব্যবহার হয়েছে মানেই সেটি আর ব্যবহার করা যাবে না, এমন নিয়ম সব প্রশ্নে নেই। আইইএলটিএসের রিডিং নির্দেশনায় কিছু প্রশ্নে একই অনুচ্ছেদ বা অপশন একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই উত্তর দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের নিয়ম পড়তে হবে।    রাইটিংয়ের প্রস্তুতিতে নিয়মিত ছোট লেখা দিয়ে শুরু করা যায়। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে লিখে পরে ব্যাকরণ, বানান ও বাক্যের গঠন সংশোধন করুন। নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা এবং যুক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানোর অভ্যাসও গড়ে তুলুন।   রাইটিং পরীক্ষায় মোট সময় ৬০ মিনিট। আনুষ্ঠানিক পরামর্শ হলো টাস্ক ওয়ানে প্রায় ২০ মিনিট এবং টাস্ক টুতে প্রায় ৪০ মিনিট ব্যয় করা। টাস্ক ওয়ানে অন্তত ১৫০ এবং টাস্ক টুতে অন্তত ২৫০ শব্দ লিখতে হয়। টাস্ক টুর মূল্যায়নের ওজনও বেশি। প্রস্তুতির সময় দ্রুত লেখার অনুশীলন করা যায়, তবে পরিকল্পনা ও ভুল সংশোধনের জন্যও সময় রাখতে হবে।    টাস্ক টুর লেখায় প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী বক্তব্য সাজান। ভূমিকার পর যুক্তি ব্যাখ্যা করুন এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ দিন। শেষে উপসংহারে মূল অবস্থান স্পষ্ট করুন। সব প্রশ্নে একই কাঠামো বা সর্বোচ্চ চারটি অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা ধরে লেখার বদলে বিষয় অনুযায়ী অনুচ্ছেদ সাজানো বেশি কার্যকর।   টাস্ক ওয়ানের ধরনও পরীক্ষাভেদে আলাদা। একাডেমিক পরীক্ষায় গ্রাফ, চার্ট, টেবিল বা ডায়াগ্রামের তথ্য বর্ণনা করতে হতে পারে। সেখানে প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ তুলনা তুলে ধরতে হয়। জেনারেল ট্রেনিং পরীক্ষায় টাস্ক ওয়ানে একটি পরিস্থিতির ভিত্তিতে চিঠি লিখতে হয়। তাই নিজের পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।   স্পিকিংয়ের জড়তা কাটাতে নিয়মিত কথোপকথন ও মক টেস্ট সহায়ক হতে পারে। আয়নার সামনে বা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। মক পরীক্ষকের পরামর্শ নিয়ে দেখুন, কোথায় বক্তব্য আটকে যাচ্ছে বা একই শব্দ বারবার ব্যবহার হচ্ছে।   স্পিকিংয়ের দ্বিতীয় অংশে প্রস্তুতির জন্য এক মিনিট পাওয়া যায়। এরপর নির্ধারিত বিষয়ে এক থেকে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। প্রস্তুতির সময় পুরো বক্তব্য লেখার চেষ্টা না করে মূল বিষয়, একটি উদাহরণ এবং বলার ক্রম সংক্ষেপে নোট করা যায়।    কথা বলার সময় ভুল হলে শান্তভাবে সংশোধন করে এগিয়ে যান। পরীক্ষককে হাসানো বা কৌতুক করা নম্বর বাড়ানোর কৌশল নয়। স্পিকিংয়ে মূল্যায়ন করা হয় সাবলীলতা ও বক্তব্যের সংযোগ, শব্দভান্ডার, ব্যাকরণের বৈচিত্র্য ও শুদ্ধতা এবং উচ্চারণ।    প্রস্তুতির অগ্রগতি বুঝতে সময় ধরে অনুশীলন করুন এবং ভুলগুলো লিখে রাখুন। কোন অংশে বারবার সমস্যা হচ্ছে, পরের অনুশীলনে সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। ইংরেজির নিয়মিত ব্যবহার এবং পরীক্ষার নির্দেশনা মেনে চর্চা, দুটিকে একসঙ্গে রাখলেই প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা সহজ হবে।   সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১১:১
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের মোবাইলের গ্রাহক ছবি ডিজাইন আমেরিকা বাংলা। ছবি
চীনের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, ছয় মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই সময়ে দুই দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।   চীনা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।   চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল। দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।   বাংলাদেশের তাজা আম ও কাঁঠাল ইতোমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। পেয়ারা ও সুগন্ধি চাল চীনে রপ্তানির জন্য বাজার প্রবেশাধিকার পাওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে। দুই দেশ বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাঠামোগত ভারসাম্য উন্নত করতে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।   শুধু বাণিজ্য নয়, চীনা বিনিয়োগও বাংলাদেশে বাড়ছে। চীনা দূতাবাসের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।   নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচটি চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে বলে দূতাবাস জানিয়েছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   চট্টগ্রামে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলও এই সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অঞ্চলটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেখানে বস্ত্র ও পোশাক, যন্ত্রপাতি উৎপাদন, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অঞ্চলটিতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে।   অবকাঠামো খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। চীনা দূতাবাস পদ্মা সেতুকে বাংলাদেশ ও চীনের অবকাঠামোগত সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়লা, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বলে দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।   দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লেও বাংলাদেশের জন্য চীনে রপ্তানি আরও বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তাই চীনের বিশাল বাজারে কৃষিপণ্য, পোশাকসহ অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো ভবিষ্যতে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান পরিসরকে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও বাংলাদেশের পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১০:৫৭
আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা
আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহতের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে পরিবারের দুই মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবার কেন্দ্রীয় সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি দেওয়ানি মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর করা মামলাগুলোতে ক্ষতিপূরণ ও জুরি বিচারের আবেদন জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছে।    ৩৭ বছর বয়সী গুডকে গত ৭ জানুয়ারি তাঁর গাড়ির ভেতর গুলি করেন আইসিই এজেন্ট জনাথন রস। সে সময় মিনেসোটায় কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। গুডের পরিবার মামলায় দাবি করেছে, গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং বলপ্রয়োগ ছিল অযৌক্তিক।   প্রথম মামলাটি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে। এতে গুডের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় রসের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোমসহ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার নাম রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মিনেসোটায় অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ধরন নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের পথ তৈরি করেছিল।    মামলার ঘোষণা দিতে পরিবারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন গুডের স্ত্রী বেকা গুড। রেনির ভাই ব্রেট গ্যাঙ্গার বলেন, তাঁর বোনের মৃত্যুর পর জবাবদিহির অভাব তাঁদের হতবাক করেছে। পরিবার বলছে, আদালতের মাধ্যমে তারা গুলির ঘটনার পূর্ণ জবাবদিহি চায়।    হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশাসন মামলাগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আগে রসের বলপ্রয়োগকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায্য বলে সমর্থন করেছে। রসের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। মিনেসোটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুলির ঘটনার তদন্ত করছে। 

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১০:৩৩
ছবি: সাস্ট স্পটলাইট
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সময় শাবির সাবেক শিক্ষার্থী তানভীরের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত অবস্থায় মারা গেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তানভীর আলম মুনশি। সাস্ট স্পটলাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর ৩৪ দিন কোমায় থাকার পর বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনে পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন।   তানভীর শাবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪ থেকে ২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সাস্ট স্পটলাইট জানিয়েছে, তিনি নিজ শিক্ষাবর্ষে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।   উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন তানভীর। ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কিয়ুং জে লি গবেষণা দলের সদস্য তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে।    সাস্ট স্পটলাইটের তথ্যমতে, তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১০টি। এসব গবেষণাপত্রে মোট ১৩৩টি সাইটেশন বা অন্য গবেষণায় উদ্ধৃতি রয়েছে।   তাঁকে স্মরণ করে সাস্ট স্পটলাইটের লেখায় বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের গবেষণা শেখাতে সহযোগিতা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, কাজের প্রক্রিয়া বোঝানো এবং গবেষণায় আগ্রহী হতে উৎসাহ দিতেন তিনি।   ওই স্মরণলেখায় তানভীরকে প্রচারবিমুখ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিজের অর্জন তুলে ধরার চেয়ে গবেষণা ও অন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় সময় দিতেন বলে উল্লেখ করা হয়।   তানভীরের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সাস্ট স্পটলাইট। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে সংগঠনটি।   সূত্র: সাস্ট স্পটলাইট

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১০:২৯
জিপিএ ২.৫ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ
জিপিএ ২.৫ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সের সুযোগ, ফুল ফান্ডে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জানুন

স্নাতকে জিপিএ ২.৫ থেকে ২.৮ হলে যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ভর্তি নীতিতে এই ফলাফল নিয়েও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। তবে ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা, ভর্তি পাওয়া এবং পড়াশোনার খরচের জন্য ফান্ডিং পাওয়া তিনটি আলাদা বিষয়।   বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শর্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়। এখানে উল্লেখ করা জিপিএ যুক্তরাষ্ট্রের ৪.০০ স্কেলের হিসাবে। বিদেশি ডিগ্রি ও ট্রান্সক্রিপ্ট কীভাবে মূল্যায়িত হবে, সেটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট বের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনায় ন্যূনতম ২.৫ সমমানের জিপিএ চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ নীতিতে স্নাতকের সামগ্রিক ফল অথবা শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটের ফল বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে পছন্দের বিভাগের অতিরিক্ত শর্ত যাচাই করতে হবে।    ম্যাকনিস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকের সব কোর্স মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ অথবা স্নাতক পর্যায়ের উচ্চতর কোর্সগুলোতে ২.৭৫ থাকলে গ্র্যাজুয়েট ভর্তির সাধারণ যোগ্যতা পূরণ করা যায়। এই শর্ত পূরণ করলেও নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য বাড়তি যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে।    লামার ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই জিপিএ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। উদাহরণ হিসেবে, এমবিএ প্রোগ্রামে স্নাতকের সামগ্রিক ফল অথবা শেষ ৬০ ক্রেডিটে জিপিএ ২.৫ গ্রহণযোগ্য। অন্য প্রোগ্রামে আবেদন করলে সেই বিভাগের নিজস্ব নিয়ম দেখতে হবে।    আর্কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নীতিতে স্নাতকের সামগ্রিক জিপিএ ২.৫০ অথবা শেষ ৬০ ক্রেডিটে ২.৭৫ চাওয়া হয়েছে। আগে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনা করে থাকলে সেসব কোর্সে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ প্রয়োজন।    এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুবিধা বুঝতেও সতর্কতা প্রয়োজন। পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আউট অব স্টেট বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য অতিরিক্ত টিউশন থেকে ছাড় পান। মাস্টার্স শিক্ষার্থীকে সাধারণত ইন স্টেট অংশের টিউশন দিতে হয়, যদি বিভাগ আলাদাভাবে তা বহন না করে। ফলে এই ছাড়কে সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়ার সুযোগ বলা যাবে না।    সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্যাটালগে মাস্টার্সে সাধারণ ভর্তির জন্য ন্যূনতম স্নাতক জিপিএ ২.৭০ উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্রোগ্রামের অনুমোদনও প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং, রিসার্চ ও প্রশাসনিক গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ব্যবস্থা রয়েছে, যার আবেদন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মাধ্যমে হয়।    ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট চ্যাটানুগায় সাধারণ ভর্তির একটি পথ হলো স্নাতকের সামগ্রিক জিপিএ ২.৭০। বিকল্পভাবে শেষ দুই বছরের স্নাতক কোর্সে জিপিএ ৩.০০ থাকলেও বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিছু প্রোগ্রামের শর্ত আরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে প্রতি সেমিস্টার ৪ হাজার ৫০০ ডলার স্টাইপেন্ড এবং নয় ক্রেডিটের মেইনটেন্যান্স ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে।    রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত মাস্টার্স ভর্তির সাধারণ শর্ত সামগ্রিক স্নাতক জিপিএ অন্তত ২.৭। সামগ্রিক জিপিএ ২.৫ হলেও আবেদন বিবেচিত হতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে স্নাতকের শেষ ৬০ সেমিস্টার ক্রেডিটে জিপিএ অন্তত ৩.০ থাকতে হবে। তাই শুধু ২.৫ জিপিএ থাকলেই যোগ্যতা পূরণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।    টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স ও স্পেশালিস্ট পর্যায়ের সাধারণ ভর্তি শর্ত হলো সামগ্রিক জিপিএ ২.৭৫ অথবা শেষ ৬০ স্নাতক ক্রেডিটে একই ফল। পৃথক প্রোগ্রাম আরও উচ্চ জিপিএ বা অতিরিক্ত যোগ্যতা চাইতে পারে।    ওয়েস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েট আবেদনকারীদের জন্য স্নাতকের সামগ্রিক জিপিএ অন্তত ২.৭৫ অথবা শেষ দুই বছরের কোর্সে অন্তত ৩.০ প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে মাসিক স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের সুবিধা রয়েছে। তবে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ধরে রাখতে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অন্তত ৩.০ জিপিএ বজায় রাখাসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।    ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু টিউশন মওকুফ হয়েছে কি না দেখলে চলবে না। অফারে কত ক্রেডিটের টিউশন অন্তর্ভুক্ত, বাধ্যতামূলক ফি দিতে হবে কি না, স্টাইপেন্ড কত মাস পাওয়া যাবে এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্স আছে কি না, তা আলাদাভাবে দেখতে হবে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন বিভাগেও সুবিধার পরিমাণ ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা হতে পারে।   ভর্তি ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের পার্থক্য ওয়েস্টার্ন ইলিনয়ের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যেই স্পষ্ট। কলেজ স্টুডেন্ট পারসোনেল প্রোগ্রামে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের যোগ্যতার জন্য ২.৭৫ জিপিএ উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে সাইকোলজি প্রোগ্রামে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য সামগ্রিক ফল অথবা শেষ দুই বছরের ফলে ৩.০ প্রয়োজন, যদিও ২.৭৫ নিয়ে প্রবেশনভিত্তিক ভর্তির সুযোগ আছে।    কম জিপিএ নিয়ে আবেদন করার সময় তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তি যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট মূল্যায়ন এবং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের নিয়ম মিলিয়ে আবেদন করলে নিজের সুযোগ ও সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ভর্তি নিশ্চিত হলেও লিখিত ফান্ডিং অফার পাওয়ার আগে সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ হবে ধরে পরিকল্পনা করা উচিত নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১০:১৭
ভারতীয় ব্যবসায়ী
চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডাকছেন ৭৭ বছরের ভারতীয় ব্যবসায়ী, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর কাণ্ড

ভারতের ৭৭ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর ব্যবসার পরিকল্পনার চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারী চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই আচরণের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভারতের হায়দরাবাদের বাসিন্দা ভিবিআর প্রসাদ নামের ওই ব্যক্তি উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় নিজের মুঠোফোনে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি মূলত উল্লম্ব কৃষিভিত্তিক একটি ব্যবসা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিচ্ছিলেন।   ওই উড়োজাহাজে তাঁর পাশের আসনে বসা এক তরুণ যাত্রী বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তিনি দেখতে পান, বয়সে প্রবীণ ওই ব্যক্তি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে মুঠোফোনে বিভিন্ন তথ্য লিখছেন এবং চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথন করছেন।   তরুণ যাত্রীর সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে একটি বিষয়। তিনি লক্ষ্য করেন, প্রসাদ চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছেন। প্রযুক্তির একটি যান্ত্রিক সহকারীকে এভাবে সম্মান দেখানোর বিষয়টি তাঁর কাছে বেশ মজার ও ব্যতিক্রমী মনে হয়।   পরে ওই যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ করেন। তাঁর প্রকাশ করা ছবির সঙ্গে প্রসাদের চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশও সামনে আসে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রকাশিত কথোপকথনে দেখা যায়, প্রসাদ চ্যাটজিপিটির কাছ থেকে তাঁর ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছিলেন। তিনি ভবিষ্যতে আবার ফিরে এসে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করার কথাও জানান। কথোপকথনের সময় তিনি চ্যাটজিপিটিকে একাধিকবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই তাঁর আচরণকে প্রশংসার চোখে দেখেছেন। তাঁদের মতে, ৭৭ বছর বয়সেও নতুন প্রযুক্তি শেখার আগ্রহ এবং নতুন ব্যবসা শুরু করার মানসিকতা প্রশংসনীয়।   অনেকে আবার বিষয়টি নিয়ে মজার মন্তব্যও করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে চ্যাটজিপিটিকে আগে থেকেই সম্মান দেখিয়ে চলা হয়তো কাজে লাগতে পারে। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের রসিকতা।   এই ঘটনার মাধ্যমে প্রবীণ মানুষের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাধারণত নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সম্পর্ক বেশি বলে মনে করা হলেও প্রসাদের ঘটনা দেখাচ্ছে, শেখার আগ্রহ থাকলে বয়স কোনো বড় বাধা নয়।   প্রসাদ যে ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন, সেটি হলো উল্লম্ব কৃষি। এই পদ্ধতিতে সীমিত জায়গার মধ্যে বিভিন্ন স্তরে ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কম জায়গায় কৃষিকাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগ্রহ বাড়ছে।   প্রসাদ তাঁর ব্যবসার পরিকল্পনা সাজাতে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছিলেন। তিনি ব্যবসার কাঠামো, সম্ভাব্য পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই তরুণ যাত্রী আবার প্রসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ছবি ও ঘটনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে প্রসাদও আনন্দ প্রকাশ করেন।   তবে ঘটনাটি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে কারও অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে কয়েকজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, ঘটনাটি প্রবীণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।   নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করতে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারীকে বারবার ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করা ৭৭ বছর বয়সী ভিবিআর প্রসাদ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত। তাঁর ঘটনা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে প্রবীণ প্রজন্মের সম্পর্ক এবং বয়সের পরেও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৪৭
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার
ডেন্টিস্টের পথে গাড়ি থামায় আইসিই, আতঙ্কে মেয়েকে বাসায় পড়াচ্ছেন মার্কিন পরিবার

টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে আইসিই এজেন্টদের হাতে গাড়ি থামানোর ঘটনার পর দৈনন্দিন জীবন বদলে গেছে মার্কিন নাগরিক মনিক রামিরেজের পরিবারের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও আবার একই পরিস্থিতিতে পড়ার ভয় কাটেনি। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে স্কুলে সরাসরি পাঠানোর বদলে বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাস করার ব্যবস্থা করেছেন রামিরেজ।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনকে তিনি জানান, ঘটনার সময় তারা গাড়িতে ডেন্টিস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাচ্ছিলেন। তার ১৬ বছরের মেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু আইসিইর মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে মেয়েটি উদ্বেগ ও ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানান তিনি।   পরিবারের অনেকেই একই স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন বলে মেয়েকে সরাসরি ক্লাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল বলে উল্লেখ করেন রামিরেজ। তবে মেয়ের নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।    দ্য ইনডিপেনডেন্টকে রামিরেজ জানিয়েছেন, এখন তারা জন্মসনদ সঙ্গে রাখেন। ডিএইচএসের দাবি, গাড়িটি অনিয়মিত অভিবাসীর নামে নিবন্ধিত ছিল। রামিরেজ তা অস্বীকার করেন।    ইউনিভিশনের সঙ্গে কথোপকথনে রামিরেজ জানান, পরিবারের ছোট শিশুরাও বাইরে যেতে ভয় পায়। সাধারণ পুলিশের গাড়ি দেখলেও তারা ঘরে চলে আসে বলে তার ভাষ্য। সন্তানদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার পরও এমন ভয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে, বিষয়টি তাকে কষ্ট দিচ্ছে।    অভিবাসন অভিযান নিয়ে নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের একটি গবেষণাতেও মার্কিন নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচিত ঘটনায় ১৫৫ জন মার্কিন নাগরিক আটক, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা আইন প্রয়োগে অসদাচরণের শিকার হয়েছেন। শিশুদের মধ্যে ৩২ জন মার্কিন নাগরিক ছিল। এগুলো সংগঠনের পর্যালোচিত ঘটনার হিসাব, দেশজুড়ে সব অভিযানের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৪৬
২০২৭ সালের আগেই গ্রীন কার্ডে আসছে এই ৪ পরিবর্তন
২০২৭ সালের আগেই গ্রীন কার্ডে আসছে এই ৪ পরিবর্তন, জানুন বিস্তারিত

যুক্তরাষ্ট্রে ১ অক্টোবর নতুন অর্থবছর শুরুর সঙ্গে গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসার প্রাপ্যতা ও কাটঅফ তারিখ বদলেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে কিছু ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি থাকলেও কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েছে। ফলে পরিবর্তনের সুফল সব আবেদনকারী সমানভাবে পাবেন না।    বাংলাদেশের জন্য সাধারণত প্রযোজ্য দেশের কলামে ইবি২ ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারিত হয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৫। ইবি৩ ক্যাটাগরিতে তা ১৫ মে ২০২৪। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীর প্রায়োরিটি ডেট এই তারিখের আগের হতে হবে।    তবে আবেদন জমার সুযোগ এবং চূড়ান্ত অনুমোদন এক বিষয় নয়। বুলেটিনের ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে একই দেশের কলামে ইবি২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬ এবং ইবি৩-এর তারিখ ১ আগস্ট ২০২৪। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আবেদন করতে কোন চার্ট ব্যবহার করা যাবে, তা ইউএসসিআইএস আলাদাভাবে নির্ধারণ করে।    পারিবারিক আবেদনেও এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ২এ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। কিন্তু আবেদন জমার চার্টে ক্যাটাগরিটি ‘কারেন্ট’, অর্থাৎ ওই চার্টে প্রায়োরিটি ডেটের কাটঅফ নেই।    অক্টোবরে পারিবারিক প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদনের জন্য ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করতে বলেছে ইউএসসিআইএস। তবে তারিখের শর্ত পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। আবেদনের অন্যান্য যোগ্যতা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় ভিসার প্রাপ্যতাও বিবেচিত হয়।    নতুন অর্থবছরে ভিসা নম্বর পাওয়া গেলেও দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা একসঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক সীমার মধ্যে ভিসা দেওয়ার জন্য কয়েকটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের তাই নিজের ক্যাটাগরি, প্রযোজ্য দেশের কলাম এবং প্রায়োরিটি ডেট মিলিয়ে চলতি মাসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৪০
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য।
মেধাতালিকায় ১৭তম হয়েও চাকরি নেই, বসতভিটা না থাকায় থমকে গেল মিশনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মেধাতালিকায় ১৭তম হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য। স্থায়ী ঠিকানায় নিজের নামে বসতভিটা না থাকার কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   ৩০ বছর বয়সী মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এর আগে মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ এবং উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন তিনি। দারিদ্র্য ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে সরকারি চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন।   মিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বড় হয়েছেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে বর্তমান ঠিকানার তথ্য রয়েছে। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই ঠিকানায় পুলিশি যাচাইও হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে তাঁর উপজেলায় তিনি ১৭তম অবস্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে মিশন জানিয়েছেন। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি নিজে।   মিশনের অভিযোগ, নিজের নামে বসতভিটা না থাকার কারণেই তাঁর নিয়োগ আটকে আছে। তাঁর পরিস্থিতির সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো, যে তরুণ নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সরকারি চাকরির মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁরই এখন ঠিকানা-সংক্রান্ত জটিলতায় চাকরির স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে সামগ্রিকভাবেও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেক প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮১৭টি নিয়োগের বিষয় পর্যালোচনায় থাকার কথা জানানো হয়েছিল।   তবে মিশন আচার্যের ব্যক্তিগত ঘটনা একটি বড় সামাজিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—একজন চাকরিপ্রার্থীর মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি স্থায়ী ঠিকানার মতো বিষয় কতটা প্রভাব ফেলবে? এটি এখন শুধু একজন তরুণের চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বরং দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে শিক্ষিত হয়ে ওঠা একজন মানুষের স্বপ্নের গল্পও।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:৩৩
চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু
চলন্ত গাড়ি হঠাৎ নদীতে পড়ে তিন কিশোর কিশোরীর মৃত্যু, চলছে তদন্ত

ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ডে সড়ক থেকে গাড়ি ওয়্যার নদীতে পড়ে দুই কিশোর ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওয়্যারমাউথ ব্রিজের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নর্থামব্রিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন জ্যাকসন ডিউক, ১৭, লুক এথারিজ, ১৬, ও জারা শ, ১৬। গাড়িতে থাকা আরেক কিশোর নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।    পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছু আগে প্যানস ব্যাংক এলাকায় একটি কালো অডি এ৩ সড়ক থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর আসে। বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর রাতে তিনজনের মরদেহ পানি থেকে উদ্ধার করা হয়। বেঁচে যাওয়া ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার আঘাত গুরুতর ছিল না।    বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার সন্দেহে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্ত চলাকালে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে আইটিভি নিউজ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার সময় কে গাড়ি চালাচ্ছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো গাড়ি জড়িত ছিল বলে মনে করছে না পুলিশ।    জ্যাকসন ও লুক সান্ডারল্যান্ড এলাকার বাসিন্দা। জারা হাউটন লি স্প্রিং এলাকার বাসিন্দা ছিল। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকতে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা কাজ করছেন।    জারার পরিবার এক বিবৃতিতে মেয়ের প্রাণবন্ত স্বভাব, হাসি এবং পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছে। এই কঠিন সময়ে সহমর্মিতা জানানো সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যত্নের কথাও উল্লেখ করেছে পরিবার।    দুর্ঘটনার পরদিন পুলিশ ডুবুরিরা গাড়িটিতে উদ্ধার সরঞ্জাম সংযুক্ত করেন। পরে ক্রেন দিয়ে সেটি নদী থেকে তোলা হয়। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে অনলাইনে বা স্থানীয়ভাবে অনুমাননির্ভর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৯:২৬