সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
পারমাণবিকের পাশাপাশি ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল ইরানে, হা ম লার পক্ষে ট্রাম্পের নতুন দাবি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অ ভি যা নের কারণ নিয়ে নতুন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরলেও এবার ট্রাম্প বলেছেন, যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র আঘাত হেনেছিল, সেগুলোতে পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজও চলছিল।   বৃহস্পতিবার ওকলাহোমার ডুরান্টে এক নির্বাচনী সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প এই নতুন দাবি করেন। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছিল।   সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মিসৌরি থেকে উড়ে যাওয়া মার্কিন বি-২ বিমান গভীর রাতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলে। এরপর তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনা শুধু পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, সেখানে ‘মা দ কের কারখানা’ও ছিল।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান একই সঙ্গে পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ‘মা দ ক’ উৎপাদনের কাজ করছিল। তিনি ওই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ ও পারমাণবিক কারখানা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেগুলোতে ব্যাপকভাবে আঘাত হানা হয়েছে।   তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের কোন স্থাপনায় কী ধরনের ‘মা দ ক’ উৎপাদন করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর নতুন বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৫ সালের ওই সামরিক অ ভি যা নের লক্ষ্যবস্তুগুলো একই সঙ্গে পারমাণবিক ও ‘মা দ ক’ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ছিল—এমন দাবি।   এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের প্রকাশ্য ব্যাখ্যায় পারমাণবিক কর্মসূচিই প্রধান বিষয় ছিল। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারেও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অ স্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল।   ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে তাই ইরান অ ভি যা নের পক্ষে তাঁর ব্যাখ্যায় আরেকটি বিষয় যুক্ত হলো। ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর সময় যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এবার সেই একই স্থাপনাগুলোকে ‘মা দ কের কারখানা’ বলছেন ট্রাম্প।   ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। একই সময়ে তাঁর প্রশাসন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। ১ অক্টোবর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের রেল, গাড়ি, উৎপাদন ও ইস্পাত খাতের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অ স্ত্র ও অ স্ত্রের উপাদান সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।   ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দুই দেশের সংঘাত, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ট্রাম্পের নতুন ব্যাখ্যাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৬:৪৮
ঢাকার মেট্রোরেল ছবি:সংগৃহীত
মেট্রোরেলের আট প্যাকেজে ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার কাজ অনুমোদন

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় অগ্রগতি হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-১ এবং লাইন-৫ নর্দান রুটের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে আটটি প্যাকেজের কাজের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কাজের মোট মূল্য প্রায় ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা।   দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর সংশোধিত প্রস্তাব একনেকে অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্যাকেজের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে রাজধানীতে মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অনুমোদিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপো নির্মাণ, সিভিল ওয়ার্কস, রেললাইন স্থাপন, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্টেশন নির্মাণ।   মেট্রোরেল লাইন-১-এর আওতায় নদ্দা থেকে রামপুরা পর্যন্ত মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য জাপানের তোকিউ কনস্ট্রাকশন এবং বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের যৌথ উদ্যোগ তোকিউ-ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রায় ১৮ হাজার ৩৭ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে।   নদ্দা থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার অংশের মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের জন্য আরেকটি প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। একই প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ অংশ নির্মাণেও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগ কাজ করবে।   লাইন-১-এর রেললাইন ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো স্থাপনের জন্য জাপান-ভারত যৌথ উদ্যোগ এলঅ্যান্ডটি-সুমিতোমো কনসোর্টিয়াম পেয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকার কাজ।সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের জন্য ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো প্রায় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে।    চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ লাইন-১-এর ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণকাজের জন্য প্রায় ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। এছাড়া চায়না রেলওয়ে গ্রুপ ও চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের যৌথ উদ্যোগও মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণের একটি প্যাকেজ পেয়েছে।   অন্যদিকে মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় হেমায়েতপুর-আমিনবাজার এবং নদ্দা-ভাটারা অংশে এলিভেটেড মূল লাইন ও পাঁচটি স্টেশন নির্মাণে চীন ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ প্রায় ২ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগ পেয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকার কাজ।   সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের পুরো প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে লাইন-১-এর ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি এবং লাইন-৫ নর্দান রুটের ব্যয় প্রায় ৮৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   অর্থাৎ, নতুন অনুমোদিত আটটি প্যাকেজের ৫৮ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পের মোট ব্যয় নয়; এটি নির্দিষ্ট আটটি নির্মাণ ও অবকাঠামো প্যাকেজের চুক্তিমূল্য। এই পার্থক্যটি সংবাদে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৬:৪৭
প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনে অনলাইন সুবিধা আনছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ , এআইভিত্তিক নতুন ওয়েবসাইট চালু

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সাল থেকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ঘরে বসেই প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। এ জন্য অনলাইনভিত্তিক নতুন একটি এআই সেবা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।   মঙ্গলবার নতুন সরকারি ওয়েবসাইট America.gov উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও আধুনিক করার এই পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের বর্তমান আবেদন প্রক্রিয়ার তুলনায় আরও সুবিধাজনকভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন ব্যবস্থাটির একটি প্রদর্শনীও দেখানো হয়। সেখানে একজন ব্যবহারকারী ওয়েবসাইটের সার্চ বক্সে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম জানতে চাইলে প্ল্যাটফর্মটি প্রয়োজনীয় ধাপ, কী কী নথি লাগবে এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়।   পরিকল্পিত পাসপোর্ট সেবায় আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু ডিজিটাল সুবিধা যুক্ত করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নিজের ছবি তোলার প্রক্রিয়া এবং পাসপোর্টে ছবিটি কেমন দেখাবে, তার নমুনা দেখার সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি অনলাইনে পাসপোর্টের ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।   মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে America.gov উদ্বোধন করেন। সরকারি এই প্ল্যাটফর্মটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও সেবা সম্পর্কে সাধারণ ভাষায় প্রশ্নের উত্তর এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।   সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে সরকারি ফরম পূরণ, বিভিন্ন সেবার জন্য আবেদন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অনুমোদিত পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। সেখানে নাগরিকত্বের প্রমাণ, পরিচয়পত্র, ছবি এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।   তবে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যেই রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো, প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনকারীদেরও অনলাইন প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   নতুন ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনকারীদের বর্তমান সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসতে পারে। তবে পুরো সেবাটি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কারা এর আওতায় থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৬:৩২
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি:সংগৃহীত
আকাশসীমার জটিলতা কাটিয়ে আজ ঢাকায় আসছে রূপপুরের নতুন ইউরেনিয়াম চালান

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিশেষ কার্গো বিমানে করে চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের এই জ্বালানি চালানটি এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে বিমানটির রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর নতুন করে চালানের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।   রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কয়েকটি চালানে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সড়কপথে ঈশ্বরদীর প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।   এদিকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে।   রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। তাই আজকের চালানটি মূলত দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি চালান। 

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৬:২৯
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঘুম কমছে বলে মনে করছেন অনেক মার্কিন
স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটিয়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় পড়ছেন মার্কিনরা

স্মার্টফোন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর জানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের সমন্বয় কিংবা নানা প্রয়োজনীয় কাজ—সবকিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে তারা যতটা ঘুম পেতেন, তার চেয়ে কম ঘুম পাচ্ছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর ৪৬ শতাংশের মতে, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান ট্রেন্ডস প্যানেল-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন ৯ হাজার ৭৫০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক।   বয়সভেদে স্মার্টফোনের প্রভাবের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ একই কথা বলেছেন।   শুধু ঘুম নয়, স্মার্টফোন কাজের উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৩ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ।   মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। জরিপে ২২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ বলেছেন, এটি তাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় অংশ, ৫১ শতাংশ, বলেছেন স্মার্টফোন তাদের মেজাজে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাবই ফেলে না।   স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়েও অনেক মার্কিনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা স্মার্টফোনে যতটা সময় কাটান, তা তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়। ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা যে পরিমাণ সময় ফোন ব্যবহার করেন তা মোটামুটি ঠিক আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে খুব কম সময় কাটান।   এ ক্ষেত্রেও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ।   তবে স্মার্টফোনকে মার্কিনরা শুধু নেতিবাচকভাবেই দেখছেন না। বরং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে জরিপে।   প্রায় ৭৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আর ৫১ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে।   অন্যদিকে মাত্র ৩ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোনের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে থাকেন। ১২ শতাংশ মনে করেন, ফোনের কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   অর্থাৎ, স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের ঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি। জরিপের ফলাফল বলছে, স্মার্টফোনের সুবিধা মানুষ স্বীকার করলেও এর ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই এখন নতুন করে ভাবছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৬:১০
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য, শীর্ষে ভার্মন্ট
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি।   ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার।   তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে।   অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার।   ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না।   দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।   ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল।   ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।   রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৫:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের সুদ প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ বাড়ল এক লাফে, বাড়তে পারে মাসিক কিস্তিও

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।   মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ।   এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে।   বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ।   শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ।   কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ?   গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল।   এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার।   এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে।   তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব   মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন।   ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।   তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৫:৪১
সন্তানের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে কি না দেখে নিন
৬ কোটির বেশি শিশুর নামে খুলছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট, জানুন ১,০০০ ডলার পাওয়ার নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিতে হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৬ কোটির বেশি অতিরিক্ত যোগ্য শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই অভিভাবক সেটি ব্যবহার করতে পারবেন—এমন নয়।   অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি দাবি বা ক্লেইম করতে হবে। পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা যাবে। ক্লেইম না করা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও চালু হবে না। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ১,০০০ ডলারের অর্থ পেতেও অ্যাকাউন্টটি ক্লেইম করা প্রয়োজন।   কারা পাবেন ১,০০০ ডলার?   সব ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারী শিশু ১,০০০ ডলারের সরকারি অর্থ পাবেন না।   ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু, যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, তারা ট্রেজারি বিভাগের এককালীন ১,০০০ ডলারের পাইলট প্রোগ্রাম অবদানের জন্য যোগ্য। এই অর্থ শিশুর ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হবে।   অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া কিছু শিশু সরকারি ১,০০০ ডলারের জন্য যোগ্য না হলেও বেসরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। মাইকেল ও সুসান ডেলের উদ্যোগে যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি মূল সরকারি ১,০০০ ডলারের আলাদা কর্মসূচি।   বছরে কত টাকা জমা দেওয়া যাবে?   ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে পরিবার, বন্ধু, নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে পারে। সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা ৫,০০০ ডলার, যা ২০২৭ সালের পর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকারি ১,০০০ ডলারের পাইলট অবদান এই ৫,০০০ ডলারের সীমার মধ্যে ধরা হয় না।   নিয়োগকর্তাও নির্দিষ্ট শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারেন, যা ৫,০০০ ডলারের সামগ্রিক সীমার অংশ হিসেবে গণ্য হয়।   টাকা কখন ব্যবহার করা যাবে?   ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য তৈরি। শিশুর বয়স ১৮ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট গ্রোথ পিরিয়ডে সাধারণভাবে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। গ্রোথ পিরিয়ড শেষ হলে প্রচলিত আইআরএ-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হয়।   অর্থাৎ, এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো প্রতিদিনের খরচের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর নামে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ গড়ে তোলা।   অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে?   ১. যোগ্যতা যাচাই করুন: ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা শিশু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের জন্য যোগ্য হতে পারে।   ২. অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করুন: স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অভিভাবককে সেটি দাবি করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করে অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করা যায়।   ৩. ১,০০০ ডলারের যোগ্যতা দেখুন: শিশু ২০২৫–২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরকারি এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।   ৪. চাইলে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিন: পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তা অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন, বার্ষিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর অ্যাকাউন্ট দাবি করা এক বিষয় নয়। আপনার সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে গেলেও সেটি ব্যবহার ও সরকারি অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপটি অভিভাবককেই সম্পন্ন করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৫:২৩
নতুন নীতিমালার প্রভাবে জর্জিয়ায় হাজারো বৈধ অভিবাসীর মেডিকেইড স্বাস্থ্যসুবিধা হারানোর বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা নতুন নীতিতে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় নতুন নীতির প্রভাবে বৈধভাবে বসবাসরত হাজারো অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনগুলো ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য রাজ্যগুলোর কেন্দ্রীয় সহায়তায় পরিবর্তন আনছে। এর প্রভাব যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থী, নির্যাতন থেকে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তি এবং যৌন পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ওপরও পড়তে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। নতুন ব্যবস্থার অধীনে রাজ্যগুলো মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের জন্য আগের মতো পূর্ণ সমপরিমাণ কেন্দ্রীয় অর্থ পাবে না। জর্জিয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিটি ‘পিচকেয়ার ফর কিডস’ নামে পরিচিত।   জর্জিয়া হেলথ ইনিশিয়েটিভের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই নীতির কারণে ২০৩৪ সালের মধ্যে রাজ্যটিতে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন। আটলান্টা রিজিওনাল কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৪ হাজারের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন। এসব হিসাব দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য প্রভাবের পূর্বাভাস হিসেবে দেওয়া হয়েছে।   পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আটলান্টার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মার্সি কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথরিন ললার উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যবিমাহীন এবং প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত নন এমন মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। ললারের মতে, মানুষের স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে তারা কম চিকিৎসা নেন। এর ফলে মানুষ কম সুস্থ থাকতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয়ও বাড়তে পারে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ মেডিকেইডকে দুর্বল না করে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য কর্মসূচিটিকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করবে। প্রশাসন বলছে, গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাই এর লক্ষ্য।   ট্রাম্প প্রশাসন আরও বলেছে, আইনের মাধ্যমে মেডিকেইড ব্যবস্থায় অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বাদ দেওয়া, কাজের শর্ত কার্যকর করা এবং প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখাও নীতির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীরা এই পরিবর্তনের কারণে মেডিকেইড সুবিধা হারাবেন না। ফলে নতুন নীতির প্রভাব সব অভিবাসীর ওপর একইভাবে পড়বে না। কারা সুবিধা হারাতে পারেন, তা তাদের অভিবাসন পরিস্থিতি এবং মেডিকেইড সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   ক্যাথরিন ললার বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের কভারেজের অবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, চিকিৎসা নেওয়ার সময় বা জরুরি অবস্থায় গিয়ে যদি কেউ জানতে পারেন যে তার স্বাস্থ্যবিমা আর কার্যকর নেই, তাহলে সেটি বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।   মার্সি কেয়ার স্বাস্থ্যবিমাহীন, আংশিকভাবে বিমাকৃত এবং গৃহহীন মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আসা অনেক মানুষও রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক চিকিৎসা, দাঁতের চিকিৎসা, চোখের চিকিৎসা, মনোরোগ চিকিৎসা, আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা, শিশু চিকিৎসা এবং ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা দেয়।   ললার জানান, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন, তাদের জন্যও আটলান্টায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাকরি হারানোর কারণে যারা স্বাস্থ্যবিমা হারিয়েছেন, তারাও মার্সি কেয়ারের সেবা নিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   মার্সি কেয়ার সিস্টার্স অব মার্সির ঐতিহ্য অনুসরণ করে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। সিস্টার্স অব মার্সি ১৮৮০ সালে আটলান্টার প্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা পরে এমোরি সেন্ট জোসেফস হাসপাতাল নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে মার্সি কেয়ারের ক্লিনিক ও প্রধান কার্যালয় আটলান্টার ডেকাটুর স্ট্রিটে অবস্থিত।   ললার আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে পরিবর্তন মানুষের মধ্যে চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই চাপ মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। আটলান্টায় মানুষকে স্বাগত জানানোর যে ঐতিহ্য রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা নীতিতেও সেটির প্রতিফলন থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৫:১
মার্কিন সরকারের নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনে ফের ইলন মাস্ক, পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশল পর্যালোচনায় নেতৃত্ব দেবেন

আবারও মার্কিন সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষিত নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা পর্যালোচনা করাই এই ১২০ দিনের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।   ৩০ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে হেগসেথ প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হবে। প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি দ্রুত তৈরি, পরীক্ষা ও সামরিক বাহিনীতে ব্যবহারের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে।   মাস্কের সঙ্গে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে সহ-নেতৃত্ব দেবেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিংরিচ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি একাডেমিক, নীতি নির্ধারণী ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   হেগসেথের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য নতুন কোনো সামরিক কৌশল বা নীতি তৈরি করা নয়। বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র কেমন হতে পারে, সেখানে কোন কোন ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা চিহ্নিত করাই এর কাজ। এর আওতায় উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার, উন্নয়ন ও সামরিক ব্যবহারে নিয়ে আসার পথও খোঁজা হবে।   প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নির্দেশিত শক্তি, রোবোটিকস ও জৈবপ্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে। মাটির নিচের পরিবেশ থেকে শুরু করে চাঁদের বাইরের মহাকাশ পর্যন্ত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র নিয়েও প্রকল্পটিতে চিন্তা করা হবে।   প্রকল্পটির জন্য ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনটির একটি অশ্রেণিবদ্ধ সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে একটি শ্রেণিবদ্ধ অংশও থাকার কথা রয়েছে।   এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক বছরের বেশি সময় পর আবারও মার্কিন সরকারের কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরছেন মাস্ক। এর আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডোজের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভূমিকার সমাপ্তি ঘটে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানকে তাঁর সরকারি কাজে ফেরার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম।   ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থনের মাধ্যমে মাস্ক তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। পরে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত একটি আইন নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। তবে পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্ককে আবারও দেখা গেছে।   পেন্টাগনের সঙ্গে মাস্কের ব্যবসায়িক সম্পর্কও আগে থেকেই রয়েছে। তাঁর মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। অন্যদিকে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে তাঁর সহ-নেতা পালমার লাকির প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলও মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করে। ফলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে এই উদ্যোগে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে।   প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের পাশাপাশি হেগসেথ একই ভাষণে স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধের জন্য নতুন একটি কমান্ড গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ওই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও সামনে এসেছে।   প্রতিবেদিত তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে মাস্কের ভূমিকা মূলত ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ করা। অর্থাৎ তিনি পেন্টাগনের নিয়মিত সামরিক কমান্ড কাঠামোর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনে নির্দিষ্ট সময়ের এই উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রকল্পের সুপারিশ তৈরিতে অংশ নেবেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৪:৩৭
প্রয়াত চাচা ড. জন ট্রাম্প ও নিজের বুদ্ধিমত্তার জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
“আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি, এমআইটির অধ্যাপক চাচার কাছ থেকেই পেয়েছি”: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর আইকিউ সবচেয়ে বেশি এবং তিনি এই বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য তাঁর প্রয়াত চাচা ড. জন ট্রাম্পের কাছ থেকে পেয়েছেন। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান যুদ্ধ, ওয়াশিংটন ডিসির সংস্কার ও সংবাদমাধ্যম নিয়ে আলোচনার সময় নিজের আইকিউ প্রসঙ্গে এ কথা বলেন ট্রাম্প।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানকে বিশ্বাস করেন কি না। জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প সরাসরি নিজের আইকিউ প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ। আমি ঠিক আছি এবং এসব বিষয় বুঝি।” এরপর তিনি তাঁর চাচা জন ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেন।   ট্রাম্প বলেন, তাঁর চাচা ৪১ বছর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ছিলেন। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনি জেনেটিকসে বিশ্বাস করেন এবং বিষয়টি বোঝেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তাঁর চাচার কাছ থেকেই তিনি এই বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা পেয়েছেন।   ড. জন ট্রাম্প ছিলেন এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকৌশলী। ক্যানসার গবেষণায়ও তাঁর কাজের পরিচিতি ছিল। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাঁকে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্সে সম্মানিত করেন। জন ট্রাম্প ১৯৮৫ সালে মারা যান।   জন ট্রাম্প ছিলেন ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্পের ছোট ভাই। ট্রাম্প এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাঁর চাচার মেধা ও পারিবারিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন ট্রাম্প ও এমআইটির কয়েকজন সহকর্মীর একটি সাদা-কালো ছবিও প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালেও তিনি নিজের পরিবারের “ভালো জিন” নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।   তবে ট্রাম্পের এই আইকিউ দাবিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ঠাট্টা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ব্যক্তির চাচা অত্যন্ত মেধাবী হলেই সেই বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে চলে আসে কি না। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।   ট্রাম্প এর আগেও তাঁর চাচাকে নিয়ে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। গত বছর তিনি দাবি করেছিলেন, জন ট্রাম্প কুখ্যাত অপরাধী ও সাবেক গণিতবিদ থিওডোর কাজিনস্কিকে পড়িয়েছিলেন। তবে কাজিনস্কি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন এবং পরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।   ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর পরিবার নিয়ে গর্বিত। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের ওভাল অফিসের ডাইনিং রুমে জন ট্রাম্পের এমআইটির লেটারহেডে লেখা একটি চিঠিও রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের আইকিউ নিয়ে মন্তব্যটি আসে এমন এক সময়ে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে সাক্ষাৎকারে নিজের আইকিউ সম্পর্কে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।   সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ৪:২৫
ওয়ালমার্টে কেনাকাটার পর চেকআউটে যাওয়ার আগেই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন প্যাট্রিক নামের এক ক্রেতা। ছবি: সংগৃহীত
চেকআউটে যাওয়ার আগে দুই মিনিটেই বাড়ল পণ্যের দাম, ওয়ালমার্টে ক্রেতার তীব্র ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টে পণ্যের দাম দেখে কেনাকাটা করার পর চেকআউটে পৌঁছানোর আগেই দাম বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ক্রেতা। প্যাট্রিক নামের ওই ব্যক্তি জানান, ৩ ডলার ৯৮ সেন্টের মাখনসহ কয়েকটি পণ্য নেওয়ার পর দুই মিনিটেরও কম সময়ে চেকআউটে গিয়ে আগের চেয়ে বেশি দাম দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালমার্টের এক ব্যবস্থাপককে জানান।   প্যাট্রিক তাঁর ছেলে ও পরিবারের বেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনতে দোকানটিতে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কেনাকাটার সময় দামের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন বলে জানান। ফলে তাকের দাম এবং চেকআউটে প্রদর্শিত দামের পার্থক্য তাঁর নজরে আসে।   প্যাট্রিকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানানোর পর তাঁকে বলা হয়, কম্পিউটার ব্যবস্থায় দাম হালনাগাদ হওয়ার কারণে দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার মধ্যেই কোনো পণ্যের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। ব্যবস্থাপকের বক্তব্য অনুযায়ী, পণ্য নেওয়ার পর চেকআউটে পৌঁছানোর সময়ের মধ্যেও দাম বদলে যেতে পারে।   এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্যাট্রিক। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম যদি তাকের সামনে ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট থাকে, তাহলে সেটি হাতে নিয়ে চেকআউটে পৌঁছাতে দুই মিনিটেরও কম সময় লাগলেও কীভাবে দাম বেড়ে যেতে পারে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিওতে ওয়ালমার্টের মূল্য পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   ভিডিওটি টিকটকে ৫ লাখ ৬১ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। সেখানে অনেক দর্শক প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে একমত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ওয়ালমার্ট বর্জনের আহ্বান জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, তাকের গায়ে যে দাম লেখা থাকে, সেটিই চেকআউটে কার্যকর করার আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।   তবে প্যাট্রিকের ক্ষেত্রে ওয়ালমার্ট ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করেছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। তিনি নিজেও জানাননি যে তাঁর কেনাকাটার ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা চালুর কারণে কিছু ক্রেতার মধ্যে পণ্যভেদে বা ক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতাভেদে পণ্যের দাম নির্ধারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়ালমার্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জন ফার্নার ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কোনো ক্রেতার আয়, কেনাকাটার ইতিহাস বা তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে বেশি দাম নেওয়া তাদের ব্যবসায়িক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   ফার্নার আরও বলেন, তাকের প্রদর্শিত দাম এবং চেকআউটে দেখানো দাম একই থাকা উচিত। তাঁর দাবি, ডিজিটাল তাকের মূল্য প্রদর্শন ব্যবস্থা সঠিক দাম দেখানোর বিষয়টি আরও ধারাবাহিকভাবে নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসনও ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো পণ্যের তালিকাভুক্ত দাম দেখলে ক্রেতারা সাধারণত আশা করেন যে সেটিই অন্য ক্রেতারাও দেখতে পাবেন, ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে আলাদা দাম নয়।   ফেডারেল ট্রেড কমিশন ব্যক্তিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ সরাসরি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান মূল্য নির্ধারণে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করছে তা যথাযথভাবে না জানালে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠতে পারে। এ ধরনের মূল্য নির্ধারণ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করার জন্য নতুন আইন আনার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই কম দামের পণ্য ও বিকল্প খুঁজছেন। এর মধ্যেই তাকের দাম ও চেকআউটের দামের পার্থক্য নিয়ে প্যাট্রিকের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: দ্য মেরি সু

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২:৫৯
কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নিহতের দাবি চ্যালেঞ্জ, সাবেক সেনাকে সংবাদ সম্মেলনে আনল পাকিস্তান

কাশ্মীরে অভিযানে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে ভারতের দাবি চ্যালেঞ্জ করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ আসিফ নামে এক ব্যক্তিকে হাজির করে পাকিস্তান দাবি করেছে, ভারতীয় প্রতিবেদনে তাঁকেই নিহত লস্কর ই তৈয়বা সদস্য হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আসিফকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রচারিত তথ্য প্রত্যাখ্যান করেন সামরিক মুখপাত্র।    এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার ইউসমার্গ এলাকায় অভিযানে মুহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসা নামে লস্কর ই তৈয়বার এক সদস্য নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডো হিসেবে বর্ণনা করা হয়।    পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আসিফ বলেন, তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। এরপর থেকে নিজ জেলা অ্যাটকে বসবাস করছেন। নিজের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান।    আসিফের ভাষ্য, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখে বন্ধুরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের তিনি জানান, জীবিত ও সুস্থ আছেন। পরিচয় স্পষ্ট করতেই সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান তিনি।    আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে সাজানো বয়ান প্রচারের অভিযোগ করেন এবং পাকিস্তানকে নিয়ে অভিযোগ থাকলে যথাযথ ফোরামে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।    তবে পাকিস্তানের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিই ভারতের অভিযানে নিহত বলে শনাক্ত করা ব্যক্তি কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২:৩২
ভুল করে ওভারটাইম বাবদ বিপুল অর্থ দেওয়ার পর তা ফেরত পেতে প্রাক্তন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্টা। ছবি: সংগৃহীত
পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভুলে ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার! ফেরত চেয়ে মার্টার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ভুল করে ওভারটাইম বাবদ ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার দেওয়ার পর অর্থ ফেরত পেতে মামলা করেছে গণপরিবহন সংস্থা মার্টা। সংস্থাটির দাবি, চলতি বছরের এপ্রিলে পেরোলের ভুলে ওই অর্থ দেওয়া হয়। ফেরত চেয়েও অর্থ উদ্ধার না হওয়ায় সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করা হয়েছে।    মেট্রোপলিটন আটলান্টা র‌্যাপিড ট্রানজিট অথরিটি বা মার্টার ওই কর্মী ট্রেন স্টেশন পরিষ্কারের কাজ করতেন। আটলান্টা নিউজ ফার্স্টকে সংস্থাটি জানিয়েছে, এপ্রিলের পেচেকে এমন ওভারটাইমের অর্থ দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর প্রাপ্য ছিল না। ভুলটি শনাক্ত হয় জুলাইয়ে।    মার্টার মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতে না গিয়ে কর্মীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেছিল সংস্থাটি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত অর্থ ফেরত না আসায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মামলায় আদালতের কাছে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছে মার্টা।    যিনি অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছেন এবং পেরোলের ভুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মী, দুজনই এখন আর মার্টায় কাজ করেন না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।    ডব্লিউএসবি টিভিকে কর্মসংস্থান আইনজীবী অ্যান্ড্রু কফম্যান বলেন, ভুল করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হলে তা ফেরত দিতে হয়। তবে তাঁর বক্তব্য আদালতের সিদ্ধান্ত নয়। অর্থ উদ্ধারে মার্টার দায়ের করা মামলাটি দেওয়ানি মামলা।    এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং পেরোল প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা জানিয়েছে মার্টা।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২:২০
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। ছবি: সংগৃহীত
‘বসতভিটা না থাকায়’ সুপারিশ পেয়েও সহকারী শিক্ষক পদে বাদ ইবির সাবেক শিক্ষার্থী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, স্থায়ী ঠিকানায় নিজের বসতভিটা না থাকায় তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।    মিশন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩ সালের শিক্ষার্থী। তাঁর ভাষ্য, কলাবাগানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাঁকে বড় করেছেন।    মিশন জানান, সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম হলেও নিয়োগপত্র পাননি। চাকরির আবেদনে তিনি ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন।    প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে কলাবাগানের ঠিকানা রয়েছে। নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর ওই ভাড়া বাসায় পুলিশি যাচাইও করা হয়। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে যোগাযোগ করছেন তিনি।    মিশনের ভাষ্য, তাঁর নামে দুই শতক জমি থাকলেও সেখানে বাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি। পুলিশি যাচাইয়ের সময় জমির দলিল জমা দিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে নিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মিশন ও তাঁর বন্ধুরা অভিযোগ জানানোর পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত সমাধানের আশা করছেন।    ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনও জানিয়েছেন, মিশনের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ২:১০
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থীর বিশাল বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে চিলিতে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে সরকারি শিক্ষায় সম্ভাব্য ব্যয় কমানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিলির জাতীয় পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে সরকারি শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ কমানোর আশঙ্কার প্রতিবাদে। দেশটির প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কাস্তে তার প্রশাসনের প্রথম বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের মাত্র এক দিন পর শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। ফলে নতুন সরকারের শিক্ষা নীতি ও ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ প্রকাশ্যে আসে।   কাস্তে মার্চে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সংকোচনভিত্তিক কর্মসূচির কথা জানান। বুধবার তিনি বলেন, ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুরক্ষিত রাখা হবে। এর আগে এই কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। তবে শিক্ষার্থী নেতারা মনে করছেন, শুধু বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহাল রাখাই যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক অর্থায়নই এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   বৃহস্পতিবার সান্তিয়াগোর প্লাজা ইতালিয়ায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। সেখান থেকে তারা লা আলামেডা সড়ক ধরে লা মোনেদা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। মিছিলটি প্রায় ৮০০ মিটার যাওয়ার পর চিলির জাতীয় পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।   পুলিশের এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও কাঠের লাঠি ছোড়েন। এর ফলে বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপসচিব জানান, ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   বিক্ষোভের মধ্যেই পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের কাছেও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে মুখোশ পরা একটি ছোট দল সরকারপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজিত পাল্টা বিক্ষোভে হামলা চালায়। ওই পাল্টা কর্মসূচিতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীরা একটি ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন। ব্যানারে লেখা ছিল, তারা অচল চিলি চান না, বরং এমন একটি চিলি চান, যা সমৃদ্ধ হবে।   পরে প্রেসের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট কাস্তে তার রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি ওই ঘটনার সমালোচনা করেন। একই সময়ে শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   চিলি সরকার এখনও ২০২৭ সালের পুরো আর্থিক প্যাকেজের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া বাজেটে উল্লেখযোগ্য কাটছাঁটের প্রস্তাবের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরাসরি দেওয়া অর্থ কমানোর বিষয়টিও রয়েছে।   এই সম্ভাব্য অর্থ কমানোর বিষয়টিই শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট কাস্তে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো শিক্ষা খাতের অন্যান্য অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থায়ন কমে গেলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।   বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আরও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের বাজেট বিল পুরোপুরি কংগ্রেসে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হলে নতুন করে আন্দোলনে নামবে। ফলে বাজেট প্রস্তাব নিয়ে সরকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বরাদ্দ এবং বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১:৫১
অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের গুদামে কাস্টমস গোয়েন্দাদের অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
গুদামে মদ মজুতের অভিযোগ, সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার গুদাম সিলগালা

অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের প্রতিষ্ঠান টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে যৌথ অভিযানে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।    অভিযানে অংশ নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি উদ্ধৃত করে কালবেলা জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে গুরুতর অসংগতি পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে।    এনবিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ও ঘোষিত গুদাম ছিল দুটি। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। অনুমোদিত দুটি গুদামের বাইরে আরও দুটি অননুমোদিত গুদাম ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।    বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য যাতে স্থানান্তর বা সরিয়ে ফেলা না যায় এবং তদন্তে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম চলছে।    টস বন্ড বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে বাংলাদেশ জার্নাল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল।   সূত্র: কালবেলা

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১:২৫
নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ফেডারেল আদালত থেকে বের হচ্ছেন পদত্যাগকারী সাবেক এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট আতিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই পরিচয়ে নারীকে হুমকি, গ্রেফতার বাংলাদেশি সাবেক এনওয়াইপিডি সার্জেন্ট

আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারী ও তাঁর পরিবারকে বিতাড়নের ভয় দেখানোর ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সাবেক সার্জেন্ট বাংলাদেশি আতিকুল ইসলাম। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে তিনি ভুয়া ফেডারেল কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ার অপরাধ স্বীকার করেন। তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।    মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৯ মার্চ ওই নারীকে একাধিক টেক্সট মেসেজ পাঠান আতিকুল। ২৯ মার্চের একটি মেসেজে আইসিই ডেকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। নারীর অবস্থান জানেন বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।    প্রায় চার ঘণ্টা পর অপরিচিত নম্বর থেকে আরেকটি মেসেজ পাঠিয়ে নিজেকে আইসিইর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক দাবি করেন আতিকুল। সেটিকে সরকারি নোটিশ হিসেবে উপস্থাপন করে নারী ও তাঁর পরিবারকে আইসিই অফিসে হাজির হতে বলেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।    অপরাধ স্বীকারের সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর এনওয়াইপিডি থেকে পদত্যাগ করেন আতিকুল। ভবিষ্যতে এনওয়াইপিডি কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় চাকরির আবেদন করতে পারবেন না তিনি।    নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে ওই নারীকে মিথ্যা পরিচয় ও বিতাড়নের হুমকি দিয়েছিলেন আতিকুল।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১:১৪
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে ড্রোন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের মদিনায় মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে চালানো ওই হামলায় কেন্দ্রটির একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে জোট।   বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানান, হামলাটি মঙ্গলবার ভোর ৫টা ১১ মিনিটে ঘটে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, সামরিক কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে হুতিদের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।   জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রটি একটি বেসামরিক স্থাপনা এবং মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। হামলায় একটি ট্রান্সফরমার সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল ছিল। ফলে মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে জোট জানিয়েছে।   তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতি পক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের পরিচালিত সাবা বার্তা সংস্থাকে দেওয়া এক বক্তব্যে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ওই সূত্রের বক্তব্য, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে সৌদি পক্ষের ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন এই অভিযোগ আনা হয়েছে।   মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনাকে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি বলেন, মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনা এবং সেখানে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। তিনি হামলাটিকে দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।   ঘটনার পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়েছে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত হামলার নিন্দা জানিয়েছে। জর্ডানও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদও মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।   এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের দাবি ছিল, নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। হুতি পক্ষ তখনও মক্কা কিংবা অন্য কোনো পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।   মদিনার এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হামলার দায় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তদন্ত ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষার ভিত্তিতে হুতিদের দায়ী করেছে। অন্যদিকে হুতি পক্ষ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই হামলার দায়ের বিষয়টি বর্তমানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ এবং হুতিদের অস্বীকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১:১
ওহাইওতে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিন। ছবি: সংগৃহীত
চার্চের নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন আমেরিকান আইডলের প্রতিযোগী

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার মামলায় আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জুরি। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মায়ামি কাউন্টির আদালতে হত্যা, গুরুতর হামলা ও প্রমাণ নষ্ট করাসহ নয়টি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আগামী ৫ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।    চল্লিশ বছর বয়সী ক্যালেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটিকে বাড়িতে অনুপ্রবেশকারীর হামলা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বিচার শেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায়ে পৌঁছান। তাঁর প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।    গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওহাইওর টিপ সিটিতে নিজেদের বাড়িতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী অ্যাশলি। তিনি শিক্ষক ও ভলিবল কোচ ছিলেন। তাঁদের দুই মেয়েও ঘটনার সময় বাড়িতে ছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যাশলির মাথার পেছনে দুবার গুলি করা হয়।    সেদিন ভোরে নাইন ওয়ান ওয়ানে ফোন করে ক্যালেব দাবি করেছিলেন, এক অনুপ্রবেশকারী তাঁর স্ত্রীকে গুলি করেছে। তিন দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, গ্যারেজের পাশের দরজাটি এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকেছে বলে মনে হয়।    তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, যে সময়ে ক্যালেব ঘুমিয়ে থাকার দাবি করেছেন, সে সময় তাঁর ডিভাইসের তথ্য বাড়ির ভেতরে চলাফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।    মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন ক্যালেবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো অ্যালেইয়া বটনার। আদালতে তাঁদের মধ্যে আদানপ্রদান করা বহু টেক্সট মেসেজ তুলে ধরা হয়। বটনারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ক্যালেব স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতেন এবং তাঁকে হত্যার চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, ওই সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দাম্পত্য জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন।    অন্যদিকে ক্যালেবের আইনজীবীরা বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রসিকিউশনের মামলা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। রায়ের পর প্রতিরক্ষা পক্ষ আপিল করার কথা জানিয়েছে।    ক্যালেব ২০১৩ সালে আমেরিকান আইডলে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একটি চার্চে সংগীতবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় স্ত্রী অ্যাশলি তাঁকে গানের স্বপ্ন অনুসরণে উৎসাহ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ০:৩৫