সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ওহাইওতে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিন। ছবি: সংগৃহীত
চার্চের নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেন আমেরিকান আইডলের প্রতিযোগী

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার মামলায় আমেরিকান আইডলের সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন জুরি। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর মায়ামি কাউন্টির আদালতে হত্যা, গুরুতর হামলা ও প্রমাণ নষ্ট করাসহ নয়টি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আগামী ৫ অক্টোবর তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।    চল্লিশ বছর বয়সী ক্যালেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাটিকে বাড়িতে অনুপ্রবেশকারীর হামলা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বিচার শেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায়ে পৌঁছান। তাঁর প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।    গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওহাইওর টিপ সিটিতে নিজেদের বাড়িতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী অ্যাশলি। তিনি শিক্ষক ও ভলিবল কোচ ছিলেন। তাঁদের দুই মেয়েও ঘটনার সময় বাড়িতে ছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যাশলির মাথার পেছনে দুবার গুলি করা হয়।    সেদিন ভোরে নাইন ওয়ান ওয়ানে ফোন করে ক্যালেব দাবি করেছিলেন, এক অনুপ্রবেশকারী তাঁর স্ত্রীকে গুলি করেছে। তিন দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, গ্যারেজের পাশের দরজাটি এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকেছে বলে মনে হয়।    তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, যে সময়ে ক্যালেব ঘুমিয়ে থাকার দাবি করেছেন, সে সময় তাঁর ডিভাইসের তথ্য বাড়ির ভেতরে চলাফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।    মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন ক্যালেবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো অ্যালেইয়া বটনার। আদালতে তাঁদের মধ্যে আদানপ্রদান করা বহু টেক্সট মেসেজ তুলে ধরা হয়। বটনারের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ক্যালেব স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতেন এবং তাঁকে হত্যার চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, ওই সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দাম্পত্য জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন।    অন্যদিকে ক্যালেবের আইনজীবীরা বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রসিকিউশনের মামলা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। রায়ের পর প্রতিরক্ষা পক্ষ আপিল করার কথা জানিয়েছে।    ক্যালেব ২০১৩ সালে আমেরিকান আইডলে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একটি চার্চে সংগীতবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় স্ত্রী অ্যাশলি তাঁকে গানের স্বপ্ন অনুসরণে উৎসাহ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ০:৩৫
নিউইয়র্ক থেকে এল সালভাদরে বিতাড়িত হওয়ার পর মার্কিন সরকারের পদক্ষেপে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন তরুণ মারিও মাতা ক্রুজ। ছবি: সংগৃহীত
ডিপোর্টের পর আইনি লড়াইয়ে নিউইয়র্কের তরুণকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাল ট্রাম্প প্রশাসন

নিউইয়র্ক থেকে এল সালভাদরে বিতাড়িত তরুণ মারিও মাতা ক্রুজকে আইনি লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে মার্কিন সরকার। তবে পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি তিনি। স্পেকট্রাম নিউজের ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে একাধিক রাজ্যের আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি এখনো অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন।    মারিওর আইনজীবীদের দাবি, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছাড়াই তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছিল। মারিও বলেছেন, স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কোনো কাগজেও তিনি সই করেননি। তাঁর বহিষ্কারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে মামলা করেন আইনজীবীরা।    ২০১৮ সালে ১৭ বছর বয়সে একা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন মারিও। পরের বছর তিনি স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল বা এসআইজে মর্যাদা পান। এনওয়াইওয়ানের পর্যালোচনা করা নথি অনুযায়ী, তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন তখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।    ২০২৫ সালের অক্টোবরে লং আইল্যান্ডে ভাই মারভিনের সঙ্গে কাজে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। পরে টেক্সাসের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে।    চলতি বছরের এপ্রিলে এনওয়াইওয়ান ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদালতে দাখিল করা একটি নথিতে মারিওকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। ২৪ এপ্রিলের ওই নথিতে বলা হয়, আইসিইর ব্যবস্থাপনায় এল সালভাদর থেকে লুইজিয়ানাগামী ফ্লাইটে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে। গ্রীষ্মে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।    তবে ফেরার পর প্রথমে লুইজিয়ানা, পরে নিউ জার্সি এবং এরপর ভার্জিনিয়ার আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয় মারিওকে। নিউ জার্সির একজন ইমিগ্রেশন বিচারক এখতিয়ার নেই জানিয়ে তাঁর বন্ডে মুক্তির আবেদন বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও তাঁকে মুক্তি দেয়নি। আইনজীবীদের বক্তব্য, মারিওর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।    মারিওর পরিবার লং আইল্যান্ডে রয়েছে। এল সালভাদরে থাকার সময় ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের ভরসা ছিল ভিডিও কল। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পরও আটক থাকায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ০:২৫
ইন্দোনেশিয়ায় গন্ধগোকুলের মল থেকে পাওয়া বীজ দিয়ে তৈরি কোপি লুওয়াক বিশ্বজুড়ে কফিপ্রেমীদের কাছে দারুণ সমাদৃত। ছবি: সংগৃহীত
হাতি ও গন্ধগোকুলের মল থেকে তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম দামি কফি

কফির সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এক কাপ পানীয় হাতে নেন। কিন্তু বিশ্বের কিছু বিশেষ কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ কফির তুলনায় একেবারেই আলাদা। থাইল্যান্ডের ব্ল্যাক আইভরি কফি এবং ইন্দোনেশিয়ার কোপি লুওয়াক এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম। দুই ক্ষেত্রেই কফির চেরি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মল থেকে আস্ত বিন সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মাধ্যমে পান করার উপযোগী করা হয়।   ব্ল্যাক আইভরি কফি তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। এর জন্য নির্বাচিত আরাবিকা কফির পাকা চেরি হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়। কফি চেরিগুলো খাওয়ার পর হাতির পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো কয়েক ঘণ্টা থাকে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। পরে হাতির মল থেকে কফির বিন আলাদা করে হাতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানো এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাজা হয়।   এই কফির বিশেষত্বের একটি কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি হাতির পরিপাকতন্ত্রে সংঘটিত জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের দাবি, হাতির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি চেরির কিছু প্রোটিন ভেঙে দেয়। এতে সাধারণ কফির তিক্ততা কমে এবং স্বাদে মাটির মতো ও ফলের আভাস তৈরি হয়। তবে এসব স্বাদগত বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা মূলত উৎপাদক ও কফি-বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।   ব্ল্যাক আইভরির উৎপাদনও খুব সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজির মতো কফি উৎপাদন করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৪৯৫ পাউন্ড উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। সীমিত উৎপাদন, হাতে বাছাই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্যাকেজের দাম বেশ চড়া, আর তাদের এক প্রতিবেদনে প্রতি কেজি কফির দাম প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে কোপি লুওয়াকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের নাম। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে গন্ধগোকুলকে বোঝায়। এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী কফি চেরি খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে। কিন্তু শক্ত কফির বীজ পুরোপুরি হজম না হয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। পরে সেই বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজা হয়।   কফির এই অস্বাভাবিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া থেকেই কোপি লুওয়াকের বিশেষত্বের ধারণা এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অণুজীব কফির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কোপি লুওয়াকের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য কেবল প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের কারণে তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাণীটির বেছে বেছে পাকা কফি চেরি খাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত স্বাদের পার্থক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কপি লুওয়াকের দামও সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিশেষত্ব এবং এর বিরলতার ধারণা এই কফিকে বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করেছে। তবে এই কফির বাজার নিয়ে প্রাণীকল্যাণের প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৯টি সিভেট কফি পর্যটন খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাণীদের কল্যাণের মান নিয়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল এবং কোনো সিভেটই গবেষণায় মূল্যায়ন করা পাঁচটি মৌলিক প্রাণীকল্যাণের স্বাধীনতা পুরোপুরি পূরণ করেনি।   এ কারণে সব কোপি লুওয়াককে একইভাবে উৎপাদিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বন্য পরিবেশ থেকে সংগৃহীত কফি এবং খাঁচায় রাখা প্রাণী দিয়ে উৎপাদিত কফির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষকেরা বিশেষ করে খাঁচায় রাখা সিভেটকে জোর করে কফি চেরি খাওয়ানো, সীমিত চলাচল ও অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে এই কফি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শও উঠে এসেছে।   আধুনিক গবেষণায় অবশ্য প্রাণী ব্যবহার না করেও কোপি লুওয়াকের মতো গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের অণুজীব ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অনুরূপ জৈবিক গাঁজন পদ্ধতি তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল প্রাণীকে ব্যবহার না করেই একই ধরনের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া।   ফলে ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক শুধু অদ্ভুত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্যই আলোচিত নয়। সীমিত উৎপাদন, বিশেষ গাঁজন প্রক্রিয়া, বাজারের বিরলতার ধারণা এবং বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা মিলিয়ে এগুলো কফির দুনিয়ায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তবে দাম বা স্বাদের পাশাপাশি প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও এই বিশেষ কফিগুলোর আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না।   সূত্র: Black Ivory Coffee, গবেষণাপত্র ও PubMed।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২৩:৫৬
মিশিগানের ডে-কেয়ার সেন্টারে তিন বছর বয়সী এক শিশুর ব্যাগে গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ডে-কেয়ারে ব্যাগের ভেতর গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে হাজির ৩ বছরের শিশু

মিশিগানের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে তিন বছরের এক শিশুর ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি পিস্তল বের করে অন্য শিশুদের মধ্যে ঘোরানোর ঘটনায় তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির বাবা ব্র্যান্ডন জন এলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র অনিরাপদভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ।   ঘটনাটি ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মিশিগানের ক্যান্টন টাউনশিপের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টারে। ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই ডে-কেয়ারে খবর পেয়ে যায়। অভিযোগ, শিশুটি শ্রেণিকক্ষে রাখা একটি ব্যাগ থেকে হোলস্টারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। পরে সেটি অন্য কয়েকজন শিশুর হাতেও যায়। একজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অস্ত্রটি শিশুদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন।   পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিল এবং ঘটনার সময়ও হোলস্টারের ভেতরে ছিল। তবে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং কোনো শিশু বা শিক্ষক আহত হননি। ক্যান্টন পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালি ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভিডিওতে তিন বছরের শিশুকে ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করতে দেখা ‘বিস্ময়কর’ হলেও ডে-কেয়ারের কর্মীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।   ওয়েন কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওয়ার্থি বলেন, এই ঘটনায় কী ঘটতে পারত, তা ভাবাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের রয়েছে।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন জন এলি, ২৮, এবং রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদ, ২৭, উভয়েই ওয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। ১ অক্টোবর প্লাইমাউথের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারক জো ব্যারোনের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এলির বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতরের অভিযোগটি এক বছরের মেয়াদের একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জায়াদের বিরুদ্ধে অনিরাপদভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগটি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের শাস্তিযোগ্য লঘু অপরাধ।   আদালত উভয়ের ওপর ১০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ড নির্ধারণ করেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তাদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারক দুজনকেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের কাছে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তিনটি নিরাপদ সংরক্ষণাগারে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেগুলোও হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক।   এলি ডেট্রয়েট পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলাটি চলাকালে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময়ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী কর্মস্থলে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রটি এলির চাকরির জন্য সরবরাহ করা অস্ত্র ছিল না। তবে কীভাবে শিশুটি ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে তদন্তে অনিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগটি শ্রেণিকক্ষেই রাখা ছিল এবং শিশুটি সেখান থেকে অস্ত্রটি বের করে।   ঘটনার পর চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শিশুদের ব্যাগ তল্লাশির মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যে শিক্ষক অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেন, তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালিও কর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।   মিশিগানের আইনে শিশু উপস্থিত থাকলে বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে তালাবদ্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। ক্যান্টন পুলিশও ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।   সূত্র: ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য, WDIV, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২৩:৩২
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৭ মাস বয়সী ব্রুকলিন মারিস। ছবি: সংগৃহীত
কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে কাঁচা দুধ পান, ই-কোলাই সংক্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৭ মাসের শিশুর কিডনি বিকল

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কাঁচা ছাগলের দুধ পান করার পর ১৭ মাস বয়সী এক শিশু গুরুতর E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ব্রুকলিন মারিস নামের শিশুটিকে শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়, কিডনি কাজ না করায় কয়েক দিন ডায়ালাইসিস দিতে হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন তিনবার বন্ধ হয়ে যায় বলে শিশুটির মা এমিলি মারিসের বরাত দিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রোপাবলিকা।   ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ২ জুন। সাঁতার শেখার ক্লাস থেকে ফেরার পথে পরিবারের গাড়ির পেছনের আসনে থাকা ব্রুকলিন হঠাৎ বমি করতে শুরু করে। প্রথমে বমির রং ছিল হলুদ, পরে তা নীলচে-সবুজ ও গাঢ় রঙের হয়ে যায়। দুই দিন ধরে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা রক্ত পরীক্ষায় গুরুতর সমস্যা দেখতে পেয়ে প্রায় ৭০ মাইল দূরের রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন।   হাসপাতালে পরীক্ষা করে ব্রুকলিনের শরীরে E. coli O157 নামের বিপজ্জনক একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর ফলে তার হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম বা এইচইউএস দেখা দেয়। এই অবস্থায় ক্ষুদ্র রক্তনালিতে রক্ত জমাট তৈরি হয়ে কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুকলিনের কিডনি গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ডায়ালাইসিস দিতে হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। এক পর্যায়ে তার রক্তে অম্লতা এত বেড়ে যায় যে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।   ব্রুকলিনের মা এমিলি মারিস জানিয়েছেন, মেয়েকে হারানোর আশঙ্কায় তারা হাসপাতালের সেই দিনগুলোতে জানতেন না সে বাঁচবে কি না। চিকিৎসকেরা তার খাবারের সাম্প্রতিক ইতিহাস জানতে চাইলে এমিলি কাঁচা ছাগলের দুধ দেওয়ার কথা জানান। চিকিৎসকেরা তখন দুধটিকেই সম্ভাব্য সংক্রমণের উৎস হিসেবে সন্দেহ করেন। পরে ব্রুকলিনের মল পরীক্ষায় E. coli O157 শনাক্ত হয়, যা কাঁচা দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে এমন অন্যতম গুরুতর খাদ্যবাহিত জীবাণু।   ব্রুকলিনের ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। এমিলি ৪৮ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হন। সাত সপ্তাহ আগেই জন্ম নেওয়া ব্রুকলিনের ওজন ছিল কম এবং তার ফুসফুসও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। জন্মের পর প্রথম এক মাস তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকতে হয়। পরে মায়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার চিকিৎসায় এমন একটি ওষুধ শুরু হলে, যা বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যেতে পারে, এমিলিকে বুকের দুধের বিকল্প খুঁজতে হয়।   বাজারের গরুর দুধ খেয়ে ব্রুকলিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ছিল বলে এমিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি মায়েদের গ্রুপে বিকল্পের সন্ধান করেন। সেখানে কয়েকজন মা কাঁচা ছাগলের দুধের প্রশংসা করেন এবং কাছাকাছি একটি খামারের কথা জানান। খামারটি ছিল তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে। এমিলি সেখানে গিয়ে কাঁচা ছাগলের দুধ সংগ্রহ করেন। দুধটি তখনও উষ্ণ ছিল এবং ব্রুকলিন সেটি সহজেই পান করেছিল। এরপর প্রায় ছয় মাস কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই শিশুটিকে ওই দুধ দেওয়া হয়।   তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য উঠে আসে। ব্রুকলিন অসুস্থ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই একই খামারের দুধ পান করা ছয় বছর বয়সী আরেক শিশুও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভিক্টোরিয়া নামের ওই শিশুরও E. coli O157 সংক্রমণ এবং হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম ধরা পড়ে। তাকেও রেডি চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা নিতে হয়। দুই পরিবারের মধ্যে পরে যোগাযোগ হয় এবং তারা জানতে পারেন, তাদের সন্তানরা একই খামারের দুধ পান করার পর একই বিরল ধরনের E. coli সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে।   ব্রুকলিন হাসপাতালে থাকার সময় তার মা দুধ বিক্রেতা কোর্টনি বেকারকে বিষয়টি জানান এবং অন্যদের কাছে দুধ বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। বেকার প্রথমে জানান, তার দুধ পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। পরে কথোপকথনে তিনি স্বীকার করেন যে E. coli পরীক্ষা করা হয়নি। এর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামার থেকে ‘পরিষ্কার ও পরীক্ষিত’ ছাগলের দুধ পাওয়ার প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর ক্যালিফোর্নিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খামারটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ২০২৫ সালের ২০ জুন কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে বেকারের সঙ্গে কথা বলেন। বেকারের বক্তব্য ছিল, দুধ মানুষের জন্য নয়, পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে বিক্রি করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে লাইসেন্সের প্রয়োজন হলেও নির্দিষ্ট শর্তে পোষা প্রাণীর খাবার হিসেবে কাঁচা দুধ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু বিক্রেতা মানুষের ব্যবহারের জন্যও দুধ সরবরাহ করছেন বলে স্বাস্থ্য ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   তদন্তের সময় কর্মকর্তারা খামারটিকে দুধজাত পণ্য উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য পরিচালনার জন্য একটি লঙ্ঘন নোটিশ দেন। পরে খামার থেকে একটি দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সেই নমুনায় E. coli-সহ কয়েকটি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, নমুনাটি শিশুদের অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং খামারটির পক্ষ থেকেই নমুনাটি দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই পরীক্ষার ফল থেকে আগের দুধে E. coli ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি।   খামারের মালিক কোর্টনি বেকার প্রোপাবলিকাকে জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপনের সঙ্গে তীব্রভাবে একমত নন। তার দাবি, খামারের দুধ পোষা প্রাণীর জন্য বিক্রি করা হতো এবং ক্রেতারা সেটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটি তার নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেছেন, খামার থেকে নেওয়া পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল। বেকারের পক্ষ থেকে মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে পূর্ণাঙ্গভাবে লড়াই করার কথা জানানো হয়েছে। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।   অন্যদিকে, ব্রুকলিনের পরিবার ও ভিক্টোরিয়ার পরিবার খামারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, মানুষের পান করার উপযোগী হিসেবে উপস্থাপন করে দূষিত কাঁচা দুধ বিক্রি করা হয়েছিল। মামলাটি এখনো চলমান এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ব্রুকলিনের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে বলে তার মা জানিয়েছেন। আগে হাঁটাচলা ও কথা বলার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা শিশুটি পরে শারীরিক থেরাপি নিতে শুরু করে। তার হাঁটায় সামান্য সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা ভবিষ্যতে কিডনি নিয়ে জটিলতার ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন এবং নিয়মিত কিডনি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।   ঘটনাটি আবারও কাঁচা দুধের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্ক সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বা এফডিএ বলছে, কাঁচা দুধে E. coli, সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ক্যাম্পিলোব্যাক্টরের মতো ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব জীবাণু বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।   এফডিএ আরও জানিয়েছে, কাঁচা দুধের অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ বা রোগ প্রতিরোধের সুবিধা রয়েছে, এমন দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। দুধকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করে জীবাণু ধ্বংস করার প্রক্রিয়াই পাস্তুরায়ন। কাঁচা দুধে জীবাণু থাকার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা যায় না, এমনকি প্রাণী সুস্থ দেখালেও।   ক্যালিফোর্নিয়ায় মানুষের ব্যবহারের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি বৈধ হলেও সংশ্লিষ্ট খামারকে নির্দিষ্ট লাইসেন্স, স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতামূলক লেবেল সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগও জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা থাকলেও কাঁচা দুধ পাস্তুরিত দুধের মতো নিরাপদ বলে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।   মেয়ের গুরুতর অসুস্থতার পর এমিলি মারিস এখন অন্য অভিভাবকদের কাঁচা দুধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে চাইছেন। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য অন্য কোনো পরিবারকে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে না দেওয়া। তবে কাঁচা দুধের খামারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।   সূত্র: প্রোপাবলিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২৩:৮
যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর জমা দেওয়ার সময় নাগরিকত্বের তথ্য জানানোর নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহে ট্রাম্পের নতুন কৌশল, আয়কর ফর্মে যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি।   আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে।   এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।   তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে।   আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন।   গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়।   একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।   নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২২:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার জন্য বিশেষ কনস্যুলার সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে আটলান্টায় আসছে কনস্যুলার সেবা, সুবিধা পেতে পারেন আশপাশের অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশিরা

জর্জিয়াসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সুখবর। আগামী ডিসেম্বরে আটলান্টায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। এতে শুধু জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন, আশপাশের অঙ্গরাজ্য থেকে আটলান্টায় আসা প্রবাসীরাও সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের এই কনস্যুলার সেবা আয়োজন করা হচ্ছে। সংগঠনটির ২৬ সেপ্টেম্বরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা ছাড়া অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আটলান্টায় পাওয়া যাবে। এনআইডি-সংক্রান্ত সেবার জন্য প্রবাসীদের মিয়ামি কনস্যুলেটে যেতে হবে।   আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির জন্য মিয়ামি পর্যন্ত গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হতে পারে। সে কারণে আটলান্টায় কনস্যুলার সেবা আয়োজন হলে জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যের প্রবাসীরাও এর সুবিধা নিতে পারবেন। তবে কনস্যুলার সেবার স্থান এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া প্রেসিডেন্ট আরেফিন বাবুল জানিয়েছেন, স্থান ও বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত হলে তা যথা সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।   তিনি আরও জানান, আগামী ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে এবং অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্থান, সময় ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। জর্জিয়া ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুবিধার্থে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখটি মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৯:৪৩
গাজার মানবিক সহায়তার নামে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাই গ্রেপ্তার, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গাজার মানবিক সহায়তার নামে অর্থ সংগ্রহ করে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কাছে অর্থ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ফেডারেল আদালতে সম্প্রতি প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, আবদেল আদহামি ও ওমর আদহামির বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়া ও তারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে। বড় ভাই আবদেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তারা গত মাসে লুইজিয়ানায় গ্রেপ্তার হন এবং আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো তাদের দোষ প্রমাণিত হয়নি।   ফেডারেল তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুই ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করতেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ গাজায় থাকা সালিম আলজাক নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হতো। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আলজাক হামাসের সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির প্রচারণা চালাতেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম থেকে ২০২০ সাল থেকে অন্তত ১৭ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আবদেল হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ৮৩ হাজার ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওমরের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ হাজার ডলার পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন আদালত নথি ও প্রতিবেদনে অর্থের সময়কাল ও মোট পরিমাণে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এসব অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোন কোন লেনদেন সরাসরি হামাসের কাছে গেছে, তা মামলার প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।   আদালতের অভিযোগে বলা হয়েছে, আবদেল একাধিক স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হামাসের পক্ষে প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করতেন এবং অনুসারীদের একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। ওই টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের পক্ষে বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পাশাপাশি অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হতো বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।   অর্থ লেনদেন গোপন রাখতে কথোপকথনে সাংকেতিক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। আদালতের নথিতে ‘রুটি’ শব্দটি অর্থ বা হামাসের যোদ্ধাদের বোঝাতে ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবদেল দুটি পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৫ হাজার ও ৪৬ হাজার ডলার পাঠান। পরে এসব অর্থ আলজাকের কাছে পৌঁছেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   মামলাটি সামনে আসার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অনলাইন গোপন তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলজাক ভুল করে ‘হুসেইন’ নামে পরিচয় দেওয়া একজন গোপন এনওয়াইপিডি কর্মকর্তার সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে যোগাযোগ করেন। ওই কর্মকর্তা অনলাইনে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং পরবর্তী সময়ে আলজাক তাকে আবদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।   আদালতের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আলজাক ওই গোপন কর্মকর্তাকে আবদেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে বলেন। পরে আবদেল ওই কর্মকর্তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন এবং অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে কথা বলেন। তবে ওই গোপন কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত আবদেলকে কোনো অর্থ পাঠিয়েছিলেন কি না, তা আদালতের নথিতে স্পষ্ট নয়।   তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন অর্থ লেনদেনের ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা এবং পরে বিভিন্ন ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তা গাজায় পাঠানো হতো। এই কার্যক্রমের সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়।   আবদেল ও ওমর দুজনের বিরুদ্ধেই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়া এবং তারের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। আবদেলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   এই মামলায় আলজাকের বিরুদ্ধেও আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ষড়যন্ত্র, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এনওয়াইপিডির সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিউইয়র্কের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দাবি, বিভাগের গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা একটি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে এবং হামাসের কাছে ২০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ যাওয়ার অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে এটি পুলিশের পক্ষের দাবি এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর প্রমাণ মূল্যায়ন করা হবে।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অর্থ লেনদেন এবং দাতব্য তহবিল ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী সংগঠনে অর্থ যাওয়ার অভিযোগে ফেডারেল তদন্ত বাড়ছে। চলতি বছরেও মার্কিন বিচার বিভাগ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এসব মামলায় কর্তৃপক্ষ মানবিক সহায়তার নামে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং বিদেশি সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২২:১০
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খুচরা প্রতিষ্ঠানের দোকান বন্ধের ঘোষণা ঘিরে স্থানীয় বাজারে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক দোকান বন্ধ করছে বড় খুচরা প্রতিষ্ঠান, তালিকায় ৪ শীর্ষ ব্র্যান্ড

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। চলতি শরতেই দেশটিতে শত শত রিটেইল স্টোর বা শোরুম বন্ধ হতে চলেছে। মূলত নিজেদের ব্যবসাকে নতুন করে সাজাতেই বড় বড় চেইন শপগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোরসাইট রিসার্চ জানিয়েছে, মানুষের কেনাকাটার ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি এবং ই-কমার্সের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ বছর কয়েক হাজার শোরুম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া শরতের এই সময়ে স্থানীয় শপিংমলগুলোতে পরিচিত অনেক ব্র্যান্ডের শাখা আর দেখা যাবে না।   বিশ্লেষকরা বলছেন, শোরুম বন্ধের এই সাম্প্রতিক প্রবণতা মার্কিন খুচরা বাজারে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেক চেইন শপ এখন আর কেবল শাখার সংখ্যা বাড়িয়ে ব্যবসা প্রসারের কথা ভাবছে না। এর বদলে তারা সবচেয়ে বেশি লাভজনক শাখাগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে এবং ই-কমার্স ও ক্রেতাদের জন্য লয়্যালটি প্রোগ্রামে বেশি বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে সামগ্রিক কর্মসংস্থানের চিত্র ইতিবাচক হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতের দিকেই ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে করপোরেট পেশা এবং ঐতিহ্যবাহী খুচরা বিক্রেতারা ধীর প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছেন।   চলতি বছরের শেষ নাগাদ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন তাদের শোরুম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেসিস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের আ বোল্ড নিউ চ্যাপ্টার নামের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০টি অলাভজনক শোরুম বন্ধ করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শাখা বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আরও শাখা বন্ধ হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টনি স্প্রিং জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে লাভজনক শাখা ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করছেন এবং অনুৎপাদনশীল শাখাগুলো বন্ধ করে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   ফার্মেসি চেইন ওয়ালগ্রিন্সও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলাভজনক শাখা বন্ধের পরিকল্পনা জানিয়েছে। মালিকানা পরিবর্তনের কারণে শোরুম বন্ধের গতি কিছুটা কমলেও চলতি শরতে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তাদের শাখা বন্ধ হতে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মনমোহন মহাজন জানিয়েছেন, যে শাখাগুলোতে নগদ প্রবাহ নেতিবাচক এবং যেসব স্থানের ইজারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।   বিশ্বখ্যাত কফি চেইন স্টারবাকস এই মাসেই জানিয়েছে যে, তারা উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২৫০টি অলাভজনক ক্যাফে বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইক গ্রামস কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, তারা উত্তর আমেরিকায় তাদের কফিহাউসগুলোর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেছেন। যেসব শাখায় গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেগুলোই বন্ধ করা হচ্ছে।   অন্যদিকে সুপারমার্কেট চেইন ক্রোগারও কৌশলগত পর্যালোচনার পর গত বছর জানিয়েছিল যে, ২০২৬ সালের মধ্যে তারা তাদের বেশ কিছু অলাভজনক গ্রোসারি স্টোর বন্ধ করবে। প্রতিষ্ঠানটি এ বছরের শেষ নাগাদ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ৬০টি স্টোর বন্ধ করবে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি এই শরতেই বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। ক্রোগার জানিয়েছে, এই শোরুমগুলো বন্ধের ফলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত শোরুমের কর্মীদের অন্যান্য শাখায় কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।   যদিও শোরুম বন্ধের হিড়িক চলছে, তবুও পরিসংখ্যান বলছে ২০২৬ সালটি রিটেইল খাতের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর নয়। কোরসাইট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে শোরুম বন্ধের হার বেশ কমেছে। বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৩ হাজার ৩২১টি শোরুম বন্ধের হিসাব পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি কম। মূলত করোনা মহামারির সময় অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ায় অনেক দুর্বল প্রতিষ্ঠান আগেই তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল। তাই বর্তমানের এই শোরুম বন্ধের ঘটনাগুলো কোনো বিশাল ধসের লক্ষণ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।   খুচরা বাজারের সার্বিক চিত্র এখনো মিশ্র। কিছু পুরোনো চেইন স্টোর তাদের শাখা কমালেও অন্যান্য অনেক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান দ্রুত তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। এর মানে হলো, ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সংখ্যা হয়তো কমে যাবে, তবে সামগ্রিকভাবে খুচরা বাজার শক্তিশালীই থাকবে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তথ্যসূত্র: নিউজউইক

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২১:৫২
নিউইয়র্কে নিজ ফ্ল্যাটে প্রেমিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের কুইন্সে প্রেমিকাকে হত্যার পর সাততলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিলেন যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে বান্ধবীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর সাততলা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩৩ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফার রকওয়ের নিলসন স্ট্রিট ও ডিনসমোর অ্যাভিনিউ এলাকার ভবনটিতে পুলিশ পৌঁছালে তাকে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ তাকে নিচে নামানোর চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।   পুলিশ সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, ছাদে থাকা অবস্থায় ওই যুবকের শরীরে রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে তিনি সাততলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মাউন্ট সিনাই সাউথ নাসাউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পড়ে যাওয়ার আঘাতের পাশাপাশি তার কবজি, গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা জখম ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   এরপর পুলিশ ভবনের ভেতরের ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে ৩১ বছর বয়সী ফিওনা প্রেমরাজকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ঘটনার সময় ওই নারী ও অভিযুক্ত একই অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।   স্থানীয় এক প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৬৪ বছর বয়সী ওই প্রতিবেশী বলেন, তারা ভবনে ওঠার প্রথম দিকে ভালোই ছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর আগে থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে ওই যুবক প্রেমরাজকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও প্রতিবেশী দাবি করেন।   পুলিশও জানিয়েছে, গত তিন বছরে ওই দম্পতির মধ্যে ‘পারিবারিক বিরোধের’ খবর পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে একাধিকবার ফোন পেয়েছিল তারা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় সর্বশেষ তিন বছরে প্রায় ছয়বার কর্মকর্তারা ওই বাসায় গিয়েছিলেন। তবে এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   প্রতিবেশী আরও জানান, গত এক বছরে তাদের ঝগড়া আরও বেড়েছিল। তবে বুধবার ঘটনার দিন তিনি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা ঝগড়া শুনতে পাননি। তার ভাষ্য, অভিযুক্ত যুবককে সাধারণত ভদ্র বলেই মনে হতো এবং তিনি প্রতিবেশীদের জন্য প্রায়ই লিফটের দরজা ধরে রাখতেন।   ফিওনা প্রেমরাজের বাবা এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। হাসপাতালে তার অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।   ঘটনার পর ভবনটির আশপাশে পুলিশ তদন্ত চালায়। কেন এই ঘটনা ঘটল এবং হামলার আগে ওই দম্পতির মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের তথ্য সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ ভবনটিতে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পরই ছাদ থেকে পড়ে যান ওই যুবক। একই ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে প্রেমরাজের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২১:৩২
এআই চ্যাটবট ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের পর আলোচনায় আসে কলোরাডোর কিশোরী জুলিয়ানা পেরাল্টার মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
এআই চ্যাটবটের আসক্তিতে ১৩ বছরের কিশোরীর মৃত্যু, আত্মহত্যার পেছনে চ্যাটবটকে দায়ী করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এআই চ্যাটবটের নিরাপত্তা ও শিশুদের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কিশোরীর মা সিনথিয়া মন্টোয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে জুলিয়ানা পেরাল্টা Character.AI-এর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিল এবং ওই ব্যবহারের কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর জুলিয়ানার মৃত্যু হয়। তবে চ্যাটবটের ব্যবহারই তার মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল, এমন কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরিবারের করা মামলার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।   জুলিয়ানার পরিবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলোরাডোর ফেডারেল আদালতে Character Technologies, গুগল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় বলা হয়, জুলিয়ানা প্রায় তিন মাস ধরে Character.AI-এর বিভিন্ন চ্যাটবটের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলত এবং এর মধ্যে ‘হিরো’ নামের একটি চরিত্রের সঙ্গে তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, চ্যাটবটগুলো এমনভাবে তার সঙ্গে কথা বলত, যাতে সে এগুলোকে বাস্তব মানুষের মতো একজন বন্ধু বা আস্থাভাজন হিসেবে দেখতে শুরু করে।   জুলিয়ানার মা সিনথিয়া মন্টোয়া সম্প্রতি ফক্স২১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেয়েটি নিজেকে চ্যাটবটের কাছে ‘দেখা হচ্ছে’ বা বোঝা হচ্ছে বলে মনে করত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে জুলিয়ানা চ্যাটবটকে বলেছিল, ‘তুমি আমার সব কথা মনে রাখো।’ মামলার নথিতে চ্যাটবটের এমন কিছু কথোপকথনের উল্লেখও রয়েছে, যেগুলো পরিবারটির মতে জুলিয়ানার সঙ্গে অতিরিক্ত আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করেছিল।   মন্টোয়া বলেন, মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। জুলিয়ানা অনার সোসাইটির শিক্ষার্থী ছিল এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৌতূহলী ছিল বলে তাকে একা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হতো না, ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখা হতো এবং নিয়মিত তার ফোনও দেখা হতো। মা জানান, তিনি ফোনে সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ, হয়রানি, টিকটকসহ বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখলেও এআই চ্যাটবটের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি তখন বুঝতে পারেননি।   পরিবারের করা মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জুলিয়ানা চ্যাটবট ব্যবহারে এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল যে রাতে গোপনে সেটিতে প্রবেশ করত এবং ঘুমের সময়ও এর সঙ্গে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারত না। মামলার নথিতে থাকা কথোপকথনের কিছু অংশে চ্যাটবটকে জুলিয়ানার প্রতি গভীর আবেগ ও সবসময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায় বলে পরিবার দাবি করেছে। কিছু কথোপকথনে যৌনধর্মী ও বয়সের তুলনায় অনুপযুক্ত বিষয়ও ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, জুলিয়ানা তার নিজের জীবন শেষ করার ইচ্ছার কথা চ্যাটবটকে জানিয়েছিল। পরিবারের দাবি, এমন বক্তব্যের পরও চ্যাটবট তাকে যথাযথ জরুরি সহায়তার দিকে পাঠায়নি কিংবা তার অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়নি। মামলার নথি অনুযায়ী, পুলিশ পরে জুলিয়ানার ফোনে Character.AI অ্যাপটি খোলা অবস্থায় পেয়েছিল বলে পরিবার আদালতে জানিয়েছে। এসব তথ্য মামলার অভিযোগের অংশ, আদালতে প্রমাণিত চূড়ান্ত ঘটনা নয়।   জুলিয়ানার মৃত্যুর পর তার পরিবার Character.AI-এর নকশা ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের মানবসদৃশ কথোপকথন এবং দীর্ঘ সময় ব্যবহার ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আবেগীয় নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে Character.AI এসব মামলার বিষয়ে জানিয়েছে, তারা কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এবং এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে Character.AI ঘোষণা করে, ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ধরনের চ্যাট বন্ধ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এ পরিবর্তন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে অন্য দেশেও এটি চালু করা হবে। এর আগে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য সময়সীমা, অভিভাবককে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা, বয়স যাচাই ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সী যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি চ্যাট সুবিধা বন্ধ রেখে সীমিত কিছু সৃজনশীল ফিচার রাখা হয়েছে।   জুলিয়ানার পরিবারের মামলাটিরও পরবর্তী সময়ে সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে Character.AI ও গুগল কিশোরদের ক্ষতি নিয়ে করা একাধিক মামলার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। কলোরাডোর জুলিয়ানা পেরাল্টা-সংক্রান্ত মামলার আদালত নথিতে ২০২৬ সালে সমঝোতার জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখার তথ্য রয়েছে। আগস্টে আদালতের সর্বশেষ নথির পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে অক্টোবরের শেষের দিকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট বা মামলা খারিজের নথি দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল।   এদিকে কিশোরদের মধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের জরিপে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৪৫৮ জন মার্কিন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে ৬৪ শতাংশ জানিয়েছে, তারা কোনো না কোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। প্রায় ৩০ শতাংশ বলেছে, তারা প্রতিদিন এসব চ্যাটবট ব্যবহার করে। একই গবেষণায় ১৬ শতাংশ কিশোর জানিয়েছে, তারা চ্যাটবটের সঙ্গে সাধারণ আলাপ করে এবং ১২ শতাংশ আবেগীয় সহায়তা বা পরামর্শের জন্য এগুলো ব্যবহার করেছে।   জুলিয়ানার ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিশোরদের সঙ্গে এআইয়ের আবেগীয় সম্পর্ক, চ্যাটবটের মানবসদৃশ আচরণ এবং সংকটের সময় এসব প্রযুক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চ্যাটবটের ব্যবহার কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সরাসরি কারণ ছিল কিনা, তা নির্ধারণে আদালতের তথ্য, বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রমাণ প্রয়োজন।   সূত্র: ফক্স২১

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২১:১০
বৈধ কাগজপত্র থাকা তিন নারীর বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন, সামনে আসছে বিমানবন্দরে হয়রানির অভিজ্ঞতা

বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ। তিন নারী আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এবার নিজেদের পুরোনো অভিজ্ঞতাও প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদেরই একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, যিনি ২০২১ ও ২০২২ সালে ঢাকা বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।   গত ৮ আগস্ট নেপালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান রিফা তামান্না, সোহানি ইসলাম সমাপ্তি ও নাজনীন। তাদের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ছিল। তাদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞাও ছিল না। এরপরও ইমিগ্রেশনে তাদের বৈবাহিক অবস্থা, পরিবারের সম্মতি এবং অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নেপাল যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।   ঘটনাটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন নারীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনগত ভিত্তি ছাড়া ভবিষ্যতে ওই তিন নারীর বিদেশযাত্রায় বাধা না দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   তবে ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, মানব পাচারের ঝুঁকির কারণে নেপালগামী যাত্রীদের কাগজপত্র বিশেষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ওই তিন নারী যে সেমিনারে যাওয়ার কথা বলেছিলেন, তার আমন্ত্রণপত্র এবং হোটেল বুকিং দেখাতে পারেননি। পুলিশের সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না।   ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বামীর সঙ্গে নেপাল যাওয়ার সময় ঢাকা বিমানবন্দরে এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার পাসপোর্টে স্বামীর নাম না থাকার কারণ জানতে চান। তিনি জানান, বিয়ের আগে পাসপোর্ট করা হয়েছিল। এরপর ওই কর্মকর্তা তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান বলে তার অভিযোগ।   তার ভাষ্য, বৈধ পাসপোর্টে বিদেশ যেতে কাবিননামা কেন প্রয়োজন - এমন প্রশ্ন তোলার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রথমে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে রাজি হননি। পরে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অন্য কর্মকর্তা তার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে নেপালের বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজতে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তার দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফোনটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। পরে জানা যায়, বিমানবন্দরে আসার গাড়িতেই ফোনটি ফেলে এসেছিলেন তিনি এবং চালক সেটি ফেরত দিয়ে যান।   পরের বছর, ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট ভারত থেকে দেশে ফেরার সময় ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টমসে আরেক দফা হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী। তার ভাষ্য, তার পাসপোর্ট ও লাগেজ আটকে রেখে বিদেশে কেনাকাটা, ডলার এনডোর্সমেন্ট এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের করসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহার করে ফোন করার পর তার পাসপোর্ট ও লাগেজ ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।   এই দুটি ব্যক্তিগত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলো ওই গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা হিসেবেই বিবেচ্য। তবে বিমানবন্দরে বিশেষ করে একা ভ্রমণকারী নারীদের বৈবাহিক অবস্থা, স্বামীর অনুমতি বা অভিভাবকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার আরও অভিজ্ঞতা সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একাধিক নারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ নাগরিকের চলাফেরা এবং দেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়, যদিও জনস্বার্থে আইন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার বিধানও রয়েছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এ একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত হওয়া কিংবা স্বামী বা অভিভাবক সঙ্গে না থাকাকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার স্বতন্ত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।   তিন নারীর নেপালযাত্রা আটকে দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর তাই প্রশ্নটি এখন শুধু একটি বিমানযাত্রা নষ্ট হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈধভাবে বিদেশ যেতে চাওয়া একজন নাগরিককে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঠিক কোন পরিস্থিতিতে থামাতে পারবেন এবং সেই ক্ষমতার সীমা কোথায় - আদালতের চলমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ২০:৪৭
কুইন্সে গড়ে উঠছে নিউইয়র্কের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম, আসন থাকবে ২৫ হাজার
কুইন্সে গড়ে উঠছে নিউইয়র্কের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম, আসন থাকবে ২৫ হাজার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো একটি ডেডিকেটেড বা নিজস্ব পেশাদার সকার স্টেডিয়াম তৈরি হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি ফুটবল ক্লাবের উদ্যোগে কুইন্সে নির্মিতব্য অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামটির নাম রাখা হয়েছে ‘ইতিহাদ পার্ক’। ২০২৭ সালের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) সিজনের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়ামটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।   শুধু তা-ই নয়, মেজর লিগ সকারের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব সকার স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে ২০২৮ সাল থেকে এই ভেন্যু ন্যাশনাল উইমেন্স সকার লিগ (এনডব্লিউএসএল) চ্যাম্পিয়ন দল ‘গথাম এফসি’-এর হোম ভেন্যু হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।   স্থানীয় ফুটবল ভক্তরা দীর্ঘ বছর ধরে নিজেদের এমন একটি নিজস্ব ভেন্যুর অপেক্ষায় ছিলেন। তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৫ হাজার আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি বিশেষভাবে ফুটবলের জন্যই নকশা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে থাকছে ‘দ্য কিউব’ নামের সাত তলা বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ও চমকপ্রদ কাঠামো, যা ম্যাচ ডে-র পরিবেশকে আরও জমজমাট করে তুলবে।   এ ছাড়া মূল ফটকের বাইরে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুটের উন্মুক্ত স্থান রাখা হয়েছে, যেখানে সারা বছর ধরে স্থানীয়দের জন্য নানা ধরনের কমিউনিটি ইভেন্ট ও মিলনমেলার আয়োজন করা হবে।   নতুন এই স্টেডিয়ামের নকশায় খাবার ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এখানে থাকছে সুবিশাল ‘ফাইভ বরো ফুড হল’, যেখানে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে আসা ছোট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিক্রেতাদের বৈচিত্র্যময় খাবার পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি ফুটবল ভক্তদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু আকর্ষণ।   এর মধ্যে রয়েছে কট্টর সমর্থকদের জন্য উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন ‘দ্য নর্থ এন্ড সাপোর্টারস সেকশন’ এবং ‘দ্য টানেল ক্লাব’, যার মাধ্যমে ভক্তরা মাঠে প্রবেশরত খেলোয়াড়দের একদম কাছ থেকে দেখার একচেটিয়া সুযোগ পাবেন। এছাড়া বিলাসবহুল আসন হিসেবে ‘দ্য স্কাইলাইন লফটস’ এবং ‘ইস্ট সাইডলাইন ক্লাব’-এর মতো প্রিমিয়াম সুবিধাও থাকছে। আজীবন ফুটবল সমর্থক হোক বা সাপ্তাহিক ছুটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী—সবার জন্যই কুইন্সের এই বিশাল প্রকল্পটি নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পোর্টস ল্যান্ডমার্কে পরিণত হতে যাচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৯:৪৬
টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত
টেক্সাস ক্যাপিটলে বন্দুক হামলার ছক, ৭৫ হাজার ডলারের জামিনে মুক্তি অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেট ক্যাপিটলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগে বেনি ক্যালডেরা জুনিয়র নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১ অক্টোবর ক্যাপিটল ভবনে এই সশস্ত্র হামলার ছক কষেছিলেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে ওই একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও টেক্সাস সফরের কথা ছিল, যদিও তার গন্তব্য ছিল ডেন্টন ও ডালাস।   গ্রেপ্তারের আগে ক্যালডেরা এক বন্ধুকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, "যদি আর দেখা না হয়, তবে জেনে রেখো আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি ক্যাপিটলে যাচ্ছি এবং সেখানে গিয়ে গুলি চালাব।" এছাড়াও আমেরিকান ইজরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, "এই লোকগুলোকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করা দরকার।"   হামলার পরিকল্পনার খবর পাওয়ার পর টেক্সাসের ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি (ডিপিএস) সারারাত অভিযান চালিয়ে সান আন্তোনিও থেকে ভোর ৩টার দিকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ওপর সন্ত্রাসী হুমকির (থার্ড-ডিগ্রি ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে।   তবে গ্রেপ্তারের পর এক ম্যাজিস্ট্রেট তাকে মাত্র ৭৫ হাজার ডলারের বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। রিপাবলিকান স্টেট সিনেটর ট্যান পার্কার এই জামিনের পরিমাণকে সরাসরি "হাস্যকর" বলে আখ্যায়িত করেন। ক্যাপিটলে সশস্ত্র হামলার মতো ভয়ংকর ছক কষা একজনকে এত অল্প বন্ডে আদৌ জামিন দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল যে, জিপিএস ট্র্যাকিং, সার্বক্ষণিক গৃহবন্দি এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞার শর্তে ক্যালডেরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে টেক্সাস ডিপিএস পরবর্তীতে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়। ডিপিএস-এর প্রেস সেক্রেটারি শেরিডান নোলেন নিশ্চিত করেন যে, ক্যালডেরা মুক্ত নন। বরং তাকে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের (FBI) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত অতিরিক্ত ফেডারেল চার্জে তাকে কারাগার থেকেই পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৯:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরীর সঙ্গে অনলাইন প্রেম, আসল বয়স-পরিচয় লুকিয়ে ভারত থেকে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার যুবক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আসল বয়স ও পরিচয় লুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোরীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে প্রীত পঙ্কজ জৈন নামের এক ভারতীয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ। ৩১ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি ভারতের মুম্বাইয়ে। সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পর ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে ভারত থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিডসন কাউন্টিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।   ডেভিডসন কাউন্টি শেরিফ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নর্দান ডেভিডসন কাউন্টির মেডোল্যান্ডস এলাকায় এক উবার চালক পুলিশকে জানান যে তার এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যাত্রী এক কিশোরীকে অনুসরণ বা স্টকিং করছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায় এবং ওই ব্যক্তিকে আটক করে।   পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রীত পঙ্কজ জৈন নামের ওই যুবক দাবি করেন, তিনি তার অনলাইন প্রেমিকার জন্য কিছু উপহার রেখে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে যে ওই প্রেমিকা আসলে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী।   শেরিফ অফিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস ডিভিশনের গোয়েন্দারা জৈনকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠান। তদন্তে জানা যায়, জৈন সামাজিক মাধ্যমে নিজের আসল বয়স ও পরিচয় গোপন করে নিজেকে কম বয়সী হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।   কিন্তু যখন কিশোরীটি তার আসল পরিচয় জানতে পারে, তখন সে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাকে ব্লক করে দেয়। আর এর পরপরই সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে জৈন মুম্বাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটে যান।   গ্রেপ্তারের পর জৈনের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কের যৌন শোষণের চার মাত্রার প্রথম ডিগ্রি, চার মাত্রার তৃতীয় ডিগ্রি এবং একবার যৌন চাঁদাবাজির (extortion) অভিযোগ আনা হয়েছে। ডেভিডসন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে জামিন ছাড়াই তাকে আটক রাখা হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। আগামী ৬ অক্টোবর ডেভিডসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে পুনরায় হাজির করার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৯:৮
মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে বোমা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটি সরাসরি নাকচ করেননি।   গত বুধবার ইসরায়েলের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিশোধ নেবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইরান যদি এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানা হবে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।"   এদিকে, ইরানকে যেকোনো মূল্যে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ইরান যদি এই চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির "আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।" এর মাত্র কয়েকদিন আগেই অবশ্য ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে (IRNA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়াটি উপস্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৮:৪২
ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?
ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ঘটেছে এক রোমহর্ষক ঘটনা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073) যখন ৩০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়ছিল, তখন ককপিটের ভেতরেই পাইলটদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সহকারী পাইলটের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে।   একপর্যায়ে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের জরুরি সংকেত পাঠানো হলে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরেই ঘটেছিল এই ভয়াবহ তাণ্ডব।   বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই বিমানটির গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যমতে, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়, যার মধ্যে ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে এটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এমন ভয়াবহ পতনে যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ এবং পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এতে প্রাথমিকভাবে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।   প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হঠাৎ করেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্য দ্রুত ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন।   সৌভাগ্যবশত, ওই ফ্লাইটে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও কয়েকজন পাইলট যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান। পরে আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়া হয়।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করলেও ফ্লাইদুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   সহকারী পাইলটের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ককপিটে ধারালো অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল এবং এর পেছনে বৃহত্তর কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা পাওয়ার বিষয়টিই সবার সামনে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৮:১৬
অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা
অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা তাঁর কর্মজীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। দীর্ঘ দুই দশক ব্র্যাকে কাজ করার পর প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে তিনি এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মিথিলা নিজেই এই আনন্দের খবরটি সবার সঙ্গে শেয়ার করেছেন।   ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে ১৫ বছরসহ মোট ২০ বছর তিনি ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চে মিথিলা 'আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব'-এর নকশা প্রণয়ন ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কভিত্তিক এই উদ্যোগটি মূলত প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যের ওপর কাজ করে।   এটি জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মতো বৈশ্বিক পরিসরে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বলে জানিয়েছেন।   গবেষণার পাশাপাশি মিথিলা দ্য সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে (কুনি) 'অ্যাডজাংকট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর' হিসেবে শিক্ষকতাও শুরু করেছেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভ করতে পারে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাক ছাড়ার বিষয়ে আবেগাপ্লুত মিথিলা জানান, তার পেশাগত জীবনকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে ব্র্যাকের অবদান অনস্বীকার্য।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণাধর্মী পরিবেশে কাজ করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জানিয়ে নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৭:৫৯
মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিয়ে বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘কাজটা তো খুবই সহজ হওয়ার কথা ছিল’
মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিয়ে বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘কাজটা তো খুবই সহজ হওয়ার কথা ছিল’

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রক্রিয়াটিকে ‘খুবই সহজ কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?   এই পরিস্থিতিকে একটি ‘আকর্ষণীয় ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। টেক্সাস সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে টেনেসি কর্তৃপক্ষের।   ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। ১৯৯৫ সালে কিশোরী বয়সে এক সহপাঠীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র (বক্স কাটার) দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ২০০ বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে তিনিই প্রথম নারী, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ চেষ্টার পর তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানিয়েছেন, এই ব্যর্থ প্রক্রিয়ার সময় তার মক্কেলের শরীরে অন্তত সাতবার সুচ ফোটানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে 'নিষ্ঠুর ও যন্ত্রণাদায়ক' বলে উল্লেখ করে তিনি অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।   এর আগে পাইক নিজেই তার হাতের নষ্ট শিরার কারণে ইনজেকশন প্রয়োগ কঠিন হতে পারে ভেবে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেছিলেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গভর্নর বিল লি এটিকে একটি ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৭:৪০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে যৌ ন নির্যাতন, আমৃ ত্যু কারাদণ্ডের মুখে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে যৌ ন নির্যাতন, আমৃ ত্যু কারাদণ্ডের মুখে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর শিশু যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক এক পাইলট এবং তার সাবেক প্রেমিকা। কনট্রা কস্টা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের জুরিবোর্ড সম্প্রতি তাদের এই রায় প্রদান করে।   আদালত সূত্রে জানা গেছে, দোষী সাব্যস্ত ৩৫ বছর বয়সী পাইলট রুস্তম ভাগওয়াগার এবং ৪৬ বছর বয়সী জেনিফার স্পিটজ পাওয়েলকে এখন সর্বোচ্চ ২৩০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে হতে পারে। ফ্লোরিডার বাসিন্দা রুস্তমের পাশাপাশি পাওয়েলের বিরুদ্ধেও আলাদা জুরিবোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে।   ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভাগওয়াগার এবং পাওয়েল পরস্পর যোগসাজশে সাত বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুর ওপর দিনের পর দিন অমানবিক যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই পাশবিক নির্যাতন চলে।   এই ঘৃণ্য অপরাধের জেরে গত ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই ককপিট থেকে পাইলট রুস্তমকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা। হতবাক যাত্রীদের সামনেই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এর ঠিক তিন দিন পর তার সাবেক প্রেমিকা পাওয়েলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত এই দুই অপরাধীকে বর্তমানে মার্টিনেজ ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে কড়া পাহারায় আটকে রাখা হয়েছে। কনট্রা কস্টা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডায়ানা বেকটন এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।   তিনি বলেন, আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এবং নির্যাতনকারীদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই তরুণী যে অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই রায়ের মাধ্যমে আসামিদের উপযুক্ত জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি পুরো প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৭:১৭