- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রক্রিয়াটিকে ‘খুবই সহজ কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে? এই পরিস্থিতিকে একটি ‘আকর্ষণীয় ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। টেক্সাস সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে টেনেসি কর্তৃপক্ষের। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। ১৯৯৫ সালে কিশোরী বয়সে এক সহপাঠীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র (বক্স কাটার) দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ২০০ বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে তিনিই প্রথম নারী, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ চেষ্টার পর তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানিয়েছেন, এই ব্যর্থ প্রক্রিয়ার সময় তার মক্কেলের শরীরে অন্তত সাতবার সুচ ফোটানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে 'নিষ্ঠুর ও যন্ত্রণাদায়ক' বলে উল্লেখ করে তিনি অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এর আগে পাইক নিজেই তার হাতের নষ্ট শিরার কারণে ইনজেকশন প্রয়োগ কঠিন হতে পারে ভেবে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেছিলেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গভর্নর বিল লি এটিকে একটি ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর শিশু যৌন নির্যাতনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ডেল্টা এয়ারলাইন্সের সাবেক এক পাইলট এবং তার সাবেক প্রেমিকা। কনট্রা কস্টা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের জুরিবোর্ড সম্প্রতি তাদের এই রায় প্রদান করে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, দোষী সাব্যস্ত ৩৫ বছর বয়সী পাইলট রুস্তম ভাগওয়াগার এবং ৪৬ বছর বয়সী জেনিফার স্পিটজ পাওয়েলকে এখন সর্বোচ্চ ২৩০ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে হতে পারে। ফ্লোরিডার বাসিন্দা রুস্তমের পাশাপাশি পাওয়েলের বিরুদ্ধেও আলাদা জুরিবোর্ড এই রায় ঘোষণা করেছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভাগওয়াগার এবং পাওয়েল পরস্পর যোগসাজশে সাত বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুর ওপর দিনের পর দিন অমানবিক যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই পাশবিক নির্যাতন চলে। এই ঘৃণ্য অপরাধের জেরে গত ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণের পরপরই ককপিট থেকে পাইলট রুস্তমকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা। হতবাক যাত্রীদের সামনেই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এর ঠিক তিন দিন পর তার সাবেক প্রেমিকা পাওয়েলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত এই দুই অপরাধীকে বর্তমানে মার্টিনেজ ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে কড়া পাহারায় আটকে রাখা হয়েছে। কনট্রা কস্টা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ডায়ানা বেকটন এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এবং নির্যাতনকারীদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই তরুণী যে অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই রায়ের মাধ্যমে আসামিদের উপযুক্ত জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি পুরো প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) অফিসারদের জন্য বাধ্যতামূলক অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল। নতুন এই আইনের ফলে এখন থেকে যোগ্য পুলিশ অফিসাররা ৬৩ বছরের পরিবর্তে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিজ নিজ পদে কর্মরত থাকতে পারবেন। বিলটিতে স্বাক্ষরের সাথে সাথেই এই আইনটি কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই আইনটি মূলত টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ উভয় পর্যায়ের পেনশনভোগী অফিসারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, যেসব অফিসার ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা টায়ার-২ এর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ২০০৯ সালের ১ জুলাই বা তার পরে নিয়োগ পাওয়া অফিসাররা টায়ার-৩ এর আওতাভুক্ত। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথমবার এই বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বিলের নথিপত্র অনুযায়ী, অবসরের এই বয়সসীমা বাড়ানোর ফলে পুলিশ বিভাগ তাদের অভিজ্ঞ অফিসারদের আরও বেশি দিন ধরে রাখতে সক্ষম হবে, যা বাহিনীর দক্ষতা বজায় রাখার মাধ্যমে জননিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এর পাশাপাশি কর্মী সংকট মোকাবিলা করতে এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরতা কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এর ফলে NYPD-তে স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের জায়গায় আরও বেশি অবদান রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, নতুন আইনটি অফিসারদের ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং বছরের পর বছর ধরে তাদের ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, NYPD ডিটেকটিভস এনডাউমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্কট মুনরোর মতে, এই সংস্কারের ফলে ডিটেকটিভরা তাদের পেনশনের বিষয়টি সুরক্ষিত করে অবসরের সঠিক সময় নির্ধারণ করার স্বাধীন সুযোগ পাবেন। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ভবিষ্যতের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও অত্যন্ত দক্ষ গোয়েন্দাদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি NYPD-কে সাহায্য করবে, যা শহরকে নিরাপদ রাখার জন্য অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালকদের ধরতে পরিচালিত ছয় দিনের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২০ হাজার মামলা দিয়েছে। 'ফল সেফ স্পিড' (Fall Safe Speed) নামের এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত উদ্যোগটি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) পর্যন্ত পরিচালিত হয়। পুলিশের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ড্রাইভিং, গাড়ি চালানোর সময় অন্যমনস্ক থাকা এবং নিউইয়র্কের 'মুভ ওভার ল' (Move Over Law) বা রাস্তা ছাড়ার নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এই ছয় দিনের অভিযানে রাজ্যজুড়ে ট্রুপাররা মোট ১৯,১৬৮টি টিকিট বা মামলা দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে অতিরিক্ত গতির কারণে, যার সংখ্যা ৯,৩৪৪টি। স্পিডিং বা অতিরিক্ত গতির পাশাপাশি সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য ৬০৩টি, মুভ ওভার ল অমান্য করার কারণে ৪৯২টি এবং ড্রাইভিংয়ের সময় অন্যমনস্ক (ডিস্ট্রাক্টেড ড্রাইভিং) থাকার জন্য ৪১৫টি টিকিট দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের 'মুভ ওভার ল' অনুযায়ী রাস্তার পাশে জরুরি বা অনুমোদিত কোনো গাড়ি দাঁড়ানো থাকলে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় চালকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে লেন পরিবর্তন করতে হয় অথবা গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হয়। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের অভিযানে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের (২০২৫) ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এ ধরনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মোট ১২,০৪০টি টিকিট দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে গতির মামলা ছিল ৩,৮২৬টি এবং মুভ ওভার ল ভঙ্গের ঘটনা ছিল ১৬৬টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবারের ছয় দিনের অভিযানে সাত হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মামলা হয়েছে। স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, শরৎকালে মানুষের কাজের তাগিদে ভ্রমণ, স্কুল ও সপ্তাহান্তের ঘোরাঘুরি বেড়ে যায়; তাই চালকদের গতি কমানো, মনোযোগ ধরে রাখা এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে সচেতন করতেই মূলত এই কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবস্থা ও ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, চলমান এসব ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে সার ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা অচিরেই চরম খাদ্যসংকটের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দেবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে জয়শঙ্কর মূলত ‘ফোর-এফ’ (4F: ফুড, ফুয়েল, ফার্টিলাইজার এবং ফাইন্যান্স) বা খাদ্য, জ্বালানি, সার ও মূলধনের সমন্বিত সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে খেলা হলে তা বাজার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল ও জটিল করে তুলবে। এর পাশাপাশি ‘সুপার এল নিনো’র মতো জলবায়ুর বিরূপ আচরণ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কৃষির অপরিহার্য উপাদান খাদ্যশস্য ও সার পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে জয়শঙ্কর জানান, কৃষ্ণসাগর অঞ্চল দিয়ে সমুদ্রপথে রপ্তানি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, ফলে শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশগুলো তাদের পণ্য বাইরে পাঠাতে পারছে না। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার মতো মূল সার উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী সারের চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার কারণে বিনিয়োগের অর্থ ‘গ্লোবাল সাউথ’ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যাওয়ায় দরিদ্র দেশগুলো তীব্র মূলধন সংকটেও ধুঁকছে। শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থপর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রভাবশালী দেশগুলোর এমন আচরণ করা উচিত নয় যেখানে তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ভাবে এবং বাকি বিশ্বের প্রতি দায়িত্ব এড়ায়। দরিদ্র দেশগুলোর মৌলিক চাহিদার প্রতি ন্যূনতম সংবেদনশীল হওয়ার জন্য তিনি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। জ্বালানিসংকটের জেরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ইতোমধ্যে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, চলমান ইরান ও উপসাগরীয় সংঘাত তাকে আরও উসকে দেবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কৌশলগতভাবে আরও বেশি স্বনির্ভর হয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক ডা. আমাতু রাব্বি। আটলান্টায় ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত তিনি বর্তমানে সেন্টার ফর মেডিসিন এলএলসিতে রোগী দেখছেন। এমোরি হেলথকেয়ার ও নর্থসাইড হাসপাতালের চিকিৎসক প্রোফাইল অনুযায়ী, ডা. রাব্বি ১৯৮৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক ডাউনটাউন হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন ১৯৯৪ সালে। এমোরি হেলথকেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তার চিকিৎসা পেশার যাত্রা শুরু হয়। সেই হিসাবে দেশটিতে তার চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা তিন দশকেরও বেশি। তিনি আমেরিকান বোর্ড অব ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক। আটলান্টাভিত্তিক সেন্টার ফর মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ডা. রাব্বি ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান প্রোফাইলে তার হাসপাতাল অ্যাফিলিয়েশন হিসেবে নর্থসাইড হাসপাতাল ও সেন্ট জোসেফ’স হাসপাতালের নাম উল্লেখ রয়েছে। নর্থসাইড হাসপাতালের নিজস্ব প্রোভাইডার ডিরেক্টরিতেও ডা. রাব্বিকে ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে নর্থসাইড হাসপাতাল আটলান্টা, চেরোকি, ডুলুথ, ফোরসাইথ ও গুইনেটের সঙ্গে তার অ্যাফিলিয়েশন দেখানো হয়েছে। এমোরি হেলথকেয়ারের বর্তমান প্রোভাইডার প্রোফাইলেও ডা. রাব্বি ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে তালিকাভুক্ত। সেখানে তার বর্তমান প্র্যাকটিস লোকেশন হিসেবে আটলান্টার সেন্টার ফর মেডিসিন এবং অ্যাফিলিয়েশন হিসেবে এমোরি হেলথকেয়ার নেটওয়ার্কের উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতালসংক্রান্ত বিভিন্ন পাবলিক ডিরেক্টরিতে ডা. রাব্বির দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য থাকলেও, তার বর্তমান অফিসিয়াল প্রোফাইলগুলোতে মূল স্পেশালিটি হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনকেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এন্ডোক্রাইনোলজি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজমে তার কাজের উল্লেখ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ডিরেক্টরিতে থাকলেও বর্তমান স্পেশালিটি বর্ণনায় ইন্টারনাল মেডিসিনকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশিক্ষা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি এবং পরে আটলান্টায় দীর্ঘ চিকিৎসা পেশা - ডা. আমাতু রাব্বির কর্মজীবন এখন তিন দশকের বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে তিনি আটলান্টায় ইন্টারনাল মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে বৃহস্পতিবার সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট। ‘ক্রু ড্রাগন’ ক্যাপসুলে চড়ে নাসার এই ‘ক্রু ১৩’ মিশনে অংশ নিয়েছেন চারজন নভোচারী। তাদের মধ্যে রয়েছেন কমান্ডার জেসিকা ওয়াটকিন্স, পাইলট লুক ডেলানি, রাশিয়ার কসমোনট সের্গেই তেতেরিয়াৎনিকভ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জশুয়া কুতরিক। মহাকাশযানটির প্রপালশন সিস্টেমের একটি ভালভ পরিবর্তনের কারণে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নির্ধারিত এই উৎক্ষেপণটি কিছুটা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে (ইডিটি) সম্পন্ন হয়। এই ঐতিহাসিক মিশনের সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি আবর্তিত হয়েছে কানাডীয় নভোচারী জশুয়া কুতরিককে ঘিরে। ৬ মাসের এই দীর্ঘ মিশনে থাকাকালীন থ্যাংকসগিভিংয়ের কাছাকাছি সময়ে তার স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেবেন। মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা, যেখানে বাবা বা মায়ের কেউ একজন পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে থাকাকালীন সন্তানের জন্ম হতে যাচ্ছে। মিশন শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জশুয়া আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, পরিবারকে পৃথিবীতে রেখে মহাকাশে পাড়ি জমানো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। উৎক্ষেপণের মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলটি আইএসএস-এর হারমোনি মডিউলে ডক করার কথা রয়েছে। নভোচারীরা সেখানে পৌঁছানোর পর আইএসএস-এ আগে থেকেই অবস্থান করা ‘ক্রু ১২’ মিশনের সদস্যদের জায়গা নেবেন। ২৩৫ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে ক্রু ১২-এর নভোচারী জেসিকা মেয়ার, জ্যাক হ্যাথাওয়ে, সোফি অ্যাডেনোট এবং আন্দ্রে ফেদিয়ায়েভ আগামী ৫ অক্টোবর নিজেদের ক্যাপসুলে চড়ে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং পরদিন প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন। মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে ‘ক্রু ১৩’-এর সদস্যরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও স্পেসওয়াক বা মহাকাশে হাঁটার মতো কার্যক্রমে অংশ নেবেন। নাসার মতে, তারা মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে মানব স্টেম সেল ব্যবহার করে হৃদরোগ ও পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে কাজ করবেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ভ্রমণের জন্য ফসল উৎপাদন, রক্তপ্রবাহের অস্বাভাবিকতা পর্যবেক্ষণ এবং নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণা করবেন। এ ছাড়াও অক্টোবর ও নভেম্বরের স্পেসওয়াকের মাধ্যমে তারা আইএসএস-এর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার চূড়ান্ত প্যানেল (রোল-আউট সোলার অ্যারে) স্থাপনের কাজও সম্পন্ন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের বিরুদ্ধে চরম অবহেলা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গডসডেন এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী লেসলি ডেনিস উইলসনকে নিজের মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে অভিযুক্ত করে সোমবার এই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ওই শিশুটিকে চরম পুষ্টিহীন ও পানিশূন্য অবস্থায় তার শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় শিশুটি নিউমোনিয়ায় ভুগছিল এবং তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মেজর ক্রাইমস ডিভিশনের ডিটেকটিভ অ্যালেক বার্গেস এক শুনানিতে জানান, পুলিশ শুরুতে স্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পায়। চরম অবহেলার শিকার ওই কিশোরীর ওজন কমে মাত্র ৩২ পাউন্ডে নেমে এসেছিল। তার ডায়াপার পরীক্ষা করে সেখানে জ্যান্ত পোকা (ম্যাগট) পাওয়া যায়। অসুস্থ ওই কিশোরী মূলত ফিডিং টিউবের সাহায্যে খাবার গ্রহণ করত। পুলিশের অভিযোগ, বাড়িতে পর্যাপ্ত খাবার না থাকা সত্ত্বেও মা উইলসন মেয়েটির দেখভালের দায়িত্ব তার ছোট ভাই-বোনদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ। ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ মে থেকে ১৭ জুনের মধ্যে উইলসন মেয়েটির ওপর নির্যাতন ও ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ব্যবহার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চরম মাত্রার চিকিৎসা ও শারীরিক অবহেলার কারণে শিশুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২০২৭ সাল থেকে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করতে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য অনলাইনে আবেদনের সুযোগ চালু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এই নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, আবেদনকারীদের ছবি তোলার জন্য আর কোনো দোকান বা ফটো স্টুডিওতে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। নিজের স্মার্টফোনে ছবি তুলেই তা সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মার্কিন নাগরিক জীবনে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন করতে চাইলে তাকে সরাসরি ‘পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্টেন্স ফ্যাসিলিটি’ বা নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় ফর্ম, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং ছবি সশরীরে জমা দিতে হয়। তবে নতুন উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ অনলাইনেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিস্টেম সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আবেদনকারীরা সরকারি পোর্টাল ‘আমেরিকা.গভ’ (america.gov) ব্যবহার করে ‘লগইন.গভ’ (login.gov)-এর মাধ্যমে সাইন ইন করতে পারবেন। এরপর তারা সরকারের কাছে থাকা নিজেদের তথ্য দেখতে পারবেন, প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করতে পারবেন, অনলাইনে ফি পরিশোধ করতে পারবেন এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থাও ট্র্যাক করতে পারবেন। তবে ঠিক কী প্রক্রিয়ায় অন্যান্য মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি। পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ছবির নিয়মেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা নিজেদের মোবাইলে সদ্য তোলা ছবি বা আগে থেকে ডিভাইসে থাকা উপযুক্ত ছবি আপলোড করতে পারবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আরও জানান, চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগেই আবেদনকারী দেখতে পাবেন পাসপোর্টে তার ছবিটি কেমন দেখাবে। মনমতো না হলে পুনরায় ছবি তোলার সুযোগও থাকবে। তবে ছবিতে কোনো ধরনের ফিল্টার ব্যবহার, অতিরিক্ত এডিট বা ডিজিটাল পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ছবি অবশ্যই সাম্প্রতিক, রঙিন এবং সাদা বা অফ-হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ডের হতে হবে। উল্লেখ্য, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল ছবি দিয়ে অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের (রিনিউ) সুযোগ বর্তমানে চালু রয়েছে। নতুন পরিকল্পনার ফলে গ্রিন কার্ড থেকে সবেমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের জন্যও প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যাবে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অধিকাংশ নাগরিক যেন সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন। তবে শিশুদের পাসপোর্টের নিয়ম আলাদা হওয়ায়, নবজাতক বা ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই নতুন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা ও নির্দিষ্ট চালুর তারিখ প্রকাশের আগ পর্যন্ত নাগরিকদের বর্তমান নিয়ম মেনেই পাসপোর্টের আবেদন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। আগে অনেকেই গাড়ি বা ট্যাক্সি নিয়ে মানি ট্রান্সফার দোকান কিংবা এজেন্টের কাছে গিয়ে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা অন্যান্য সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। এখন ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের মতো মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খুলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ট্রান্সফার কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। ট্যাপট্যাপ সেন্ডে বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাশ পিকআপের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে বিকাশসহ মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানো অর্থ সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছানোর কথা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিকাশ ও নগদে পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে ৯৯ সেন্ট এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৪৯ ডলার ফি প্রযোজ্য হতে পারে। লেনদেন নিশ্চিত করার আগে অ্যাপেই ফি ও বিনিময় হার দেখানো হয়। রিয়া মানি ট্রান্সফারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসে টাকা পাঠানোর একটি জনপ্রিয় বিকল্প। রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমানে প্রথম ৫০ ডলার বা তার বেশি লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট বা ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুবিধা পেতে প্রথম ট্রান্সফারের আগে রেফারেল বা প্রমো কোড ব্যবহার করতে হয়। আমেরিকা বাংলার প্রচারমূলক রেফারেল কোড ব্যবহার করেও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্যাপট্যাপ সেন্ডে আমাদের প্রমো কোড NURULLAH1 ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারীরা প্রযোজ্য প্রচারণার শর্ত পূরণ করলে প্রথম ট্রান্সফারে ৫ ডলার বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন। রিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রমো কোড RT8H-DXJY নতুন রিয়া ব্যবহারকারী প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের আগে এই কোড ব্যবহার করলে ৫০ ডলার বা তার বেশি যোগ্য লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী কোডটি প্রথম ট্রান্সফার সম্পন্ন করার আগেই দিতে হবে। ট্যাপট্যাপ বা রিয়ার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু ট্রান্সফার ফি নয়, একই সময়ে প্রাপক শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাচ্ছেন সেটিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিময় হার ও ফি পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো যোগ্য রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বর্তমানে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি নগদ প্রণোদনা রয়েছে। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ট্রান্সফার ও বিকাশের মতো মোবাইল ট্রান্সফারেও এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে যারা এখনো শুধু মানি ট্রান্সফার দোকানে গিয়ে টাকা পাঠান, তাদের জন্য মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা একটি সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচয় যাচাই এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নাম ও তথ্য, বিনিময় হার, ফি এবং অ্যাপে দেখানো চূড়ান্ত প্রাপ্য অর্থ ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অ্যাপ অবশ্যই অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মাধ্যম থেকে ডাউনলোড করা এবং পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোড কারও সঙ্গে শেয়ার না করা জরুরি। ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনে ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের প্রচারমূলক কোড দেওয়া হয়েছে এবং এসব কোড বা সংশ্লিষ্ট লিংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে আমেরিকা বাংলা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রেফারেল বা প্রচারমূলক সুবিধা পেতে পারে। আর্থিক লেনদেনের আগে পাঠককে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ফি, বিনিময় হার, বোনাসের শর্ত, যোগ্যতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজ দায়িত্বে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকা বাংলা কোনো নির্দিষ্ট সেবাকে সব সময়ের জন্য সর্বোচ্চ রেট, সবচেয়ে সস্তা বা সবার জন্য উপযুক্ত বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর আলী আহমদ নামে এক বাংলাদেশি উবার চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তার ব্যবহৃত গাড়ির ভেতর থেকেই মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে উবার চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন আলী আহমদ। প্রতিদিনের মতো রাতে কাজ শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শনিবার সকাল পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার। অভিযোগ পাওয়ার পর নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পার হলে টেক্সাস পুলিশ ঘটনাটিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করে। টানা চার দিন খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার পুলিশ তার নিজস্ব গাড়িটি থেকেই মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আলী আহমদ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া ত্রিমুখী এলাকার মরহুম আছার উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। তবে তাদের আদি নিবাস বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা গ্রামে। আলী আহমদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে টেক্সাসসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিয়ানীবাজারবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউইয়র্ক শহরের কোলাহলের মাঝে গ্রামীণ জীবনের স্বাদ পেতে চাইলে আর দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ম্যানহাটনের ওয়েস্ট ভিলেজে একটি ভবনের ছয়তলার ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক খামারবাড়ি। সবুজে ঘেরা বারান্দা, সামনে বাগান এবং শহরের আকাশচুম্বী ভবনের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ থাকা এই পেন্টহাউসটি ১০.৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গ্রিনউইচ স্ট্রিটে অবস্থিত ছাদের ওপরের স্বপ্নের এই বাড়িটি শহরের বুকে যেন এক টুকরো আস্ত গ্রাম। ৭১৯ গ্রিনউইচ স্ট্রিটের এই শীর্ষ তলার অ্যাপার্টমেন্টটির মালিক ৮৭ বছর বয়সী ডেভেলপার ডেভিড পুচকফ এবং তার স্ত্রী ও লেখিকা আইলিন স্টুকেন। তারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন এবং ১৯৮৮ সালে এই বাড়ির বসার ঘরেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ডেভিড পুচকফ ১৯৭৪ সালে মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার ডলারে ছয়তলা ইটের ভবনটি কিনেছিলেন, যা একসময় ঝুড়ির গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে তিনি এটিকে কো-অপারেটিভ বা যৌথ মালিকানাধীন ভবনে রূপান্তর করেন এবং নিজের জন্য সবচেয়ে ওপরের তলাটি রেখে দেন। গ্রামীণ পেনসিলভেনিয়ায় এক বন্ধুর লেকহাউস পরিদর্শনের পর স্থপতি বন্ধু লরেন্স টোবের সহায়তায় তিনি ছাদের ওপর এই কেবিন ও বাগানটি নির্মাণ করেন। পেন্টহাউসটিতে রয়েছে প্রায় ৩,০৬০ বর্গফুটের বিশাল লফ্ট স্পেস, যেখানে চারটি বেডরুম ও দুটি বাথরুম রয়েছে। পুরোনো দিনের ইটের গাঁথুনি, কাঠের বিম, ওক কাঠের মেঝে এবং বড় বড় জানালা বাড়িটিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। লিফট থেকে সরাসরি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করা যায়। বসার ঘর থেকে একটি স্টিলের সিঁড়ি উঠে গেছে ছাদের কেবিন ও ছোট রান্নাঘরে। দরজা খুললেই কাঠের তৈরি বারান্দা, বসার দোলনা ও পরিবারের জন্য ডাইনিং টেবিল চোখে পড়ে। আইলিন স্টুকেন নিজেই এই বাগানের দেখাশোনা করেন, যেখানে তিনি বেগুন, ধুন্দুল, লেটুস, টমেটো এবং তুলসীর মতো শাকসবজি ও ভেষজ চাষ করেন। কম্পাস ব্রোকারেজ ফার্মের জিম সেন্ট আন্দ্রে বাড়িটির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে বাড়িটির জন্য প্রতি বর্গফুটে প্রায় ৩,৪৩১ ডলার চাওয়া হচ্ছে, যা এলাকার অন্যান্য চার-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের (যার গড় মূল্য ২১.৭৫ মিলিয়ন ডলার) তুলনায় ক্রেতাদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। তবে এই ছাদের বাগান নিয়ে ২০১৮ সালে কিছু আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছিল। এক অজ্ঞাত প্রতিবেশীর অভিযোগের ভিত্তিতে শহরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুচকফকে ১,২০০ ডলার জরিমানা করেছিল এবং দাবি করেছিল যে এটি নির্মাণে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে পুচকফ পাল্টা মামলাও করেছিলেন। রাস্তা থেকে এই খামারবাড়িটি দেখা না গেলেও এটি মোটেও গোপন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন স্বনামধন্য পত্রিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে এটি ফিচার হয়েছে এবং ২০১৫ সালে হেলিকপ্টার থেকে তোলা একটি ছবির কারণে এটি ভাইরালও হয়েছিল। তিন কন্যাসন্তানের জনক এই দম্পতি এখন মনে করছেন, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে। বয়স বাড়ার কারণে তারা এখন সন্তান ও নাতি-নাতনিদের বেশি সময় দিতে চান, তাই দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত অনন্য এই ছাদের খামারবাড়িটি নতুন মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ রেট (বন্ধকী সুদের হার) অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা গত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মর্টগেজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড-রেট মর্টগেজ গত সপ্তাহের ৭.০৩% থেকে লাফিয়ে ৭.২৮%-এ পৌঁছেছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। এক বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ৬.৩৪%। এ নিয়ে টানা ছয় সপ্তাহ মর্টগেজ রেট বৃদ্ধি পেল। গত বছরের ২২ নভেম্বরের (৭.২৯%) পর বর্তমানে মর্টগেজ রেট সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রিফাইন্যান্সিং বা পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ১৫ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেটও গত সপ্তাহের ৬.৪২% থেকে বেড়ে ৬.৬০%-এ দাঁড়িয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫.৫৫%। মর্টগেজ রেট বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ক্রেতাদের মাসে কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্রেতাই এখন বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজ রেট সাময়িকভাবে ৫.৯৮%-এ নেমে এসেছিল, যা ২০২২ সালের শেষের দিকের পর সর্বনিম্ন ছিল। কিন্তু এরপর থেকে সুদের হার প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায়, বর্তমান হারে ৪ লাখ ডলারের হোম লোন নেওয়া একজন ক্রেতাকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৬ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। অবশ্য, ক্রেতার আয় ও ক্রেডিট স্কোরের ওপর ভিত্তি করে মর্টগেজ রেট বর্তমান গড়ের চেয়ে কিছুটা কম বা বেশিও হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার পর থেকে মর্টগেজ রেট ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আবাসন বাজার বেশ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। মর্টগেজ রেট মূলত মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতির বিষয়ে বন্ড-মার্কেট বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ডের গতিপথ অনুসরণ করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় এই ট্রেজারি ইয়েল্ড ফেব্রুয়ারির শেষের ৩.৯৭% থেকে লাফিয়ে বৃহস্পতিবার ৫.২৭%-এ পৌঁছেছে, যা ২০০৭ সালের আর্থিক সংকটের ঠিক আগের অবস্থার সমতুল্য। ইয়েল্ড বাড়লে ঋণ নেওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধীর করে দেয় এবং শেয়ারসহ অন্যান্য বিনিয়োগের দাম কমিয়ে দেয়। মহামারীকালীন সর্বনিম্ন স্তর থেকে ২০২২ সালে মর্টগেজ রেট বাড়তে শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছর পুরানো বাড়ি বিক্রি ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আটকে ছিল। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েল্টরস জানিয়েছে, আগস্ট মাসে বাড়ি বিক্রি জুলাইয়ের তুলনায় ২% কমেছে, যা গত এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ১৭ মাস বয়সী শিশু ব্রুকলিন ম্যারিসকে কাঁচা বা অপাস্তুরিত ছাগলের দুধ খাওয়ানো শুরু করেছিল তার পরিবার। কিন্তু এই একটি সিদ্ধান্তই প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল শিশুটির প্রাণ। ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণে কিডনি বিকল হয়ে তিনবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হার্ট অ্যাটাক) শিকার হয় সে। বর্তমানে শিশুটি প্রাণে বাঁচলেও তাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা। প্রোপাবলিকা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের জন্ম হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের সাত সপ্তাহ আগে। অপরিণত ফুসফুস ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া এই ‘মিরাকল বেবি’কে নিয়ে মা এমিলি ম্যারিসের উদ্বেগের অন্ত ছিল না। স্তনপান করানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি বাজারের ফর্মুলা বা প্যাকেটজাত গরুর দুধের বিকল্প খুঁজছিলেন। ফেসবুকের একটি গ্রুপের মায়েদের পরামর্শে তিনি বাড়ির কাছাকাছি একটি খামার থেকে কাঁচা ছাগলের দুধ এনে খাওয়াতে শুরু করেন। প্রথম ছয় মাস ব্রুকলিনের শারীরিক উন্নতি দেখা গেলেও হঠাৎ একদিন ভয়ানক বিপত্তি ঘটে। গ্রীষ্মের এক দিনে ব্রুকলিন হঠাৎ গাড়ির ভেতর বমি করে দেয়। পরবর্তী দুই দিন ধরে সে প্রথমে হলুদ ও পরে ‘নীলাভ-সবুজ’ রঙের পিত্ত বমি করতে থাকে। তাকে জরুরিভিত্তিতে ৭০ মাইল দূরের একটি শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, সে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার কারণে হেমোলাইটিক ইউরেমিক সিন্ড্রোমে (এইচইউএস) আক্রান্ত, যা মূলত রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং কিডনি বিকল করে দেয়। তাকে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসে রাখা হয়। মৃত্যুর মুখ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। ব্রুকলিন বেঁচে ফিরলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক নেই। সে এখন সামান্য খুঁড়িয়ে হাঁটে এবং রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে আজীবন কিডনির সমস্যায় ভুগতে হতে পারে এবং সে কখনোই অ্যালকোহল পান করতে পারবে না। এদিকে নিজের ‘ভুল’ সিদ্ধান্তের কারণে মা এমিলি এখন তীব্র অনুশোচনায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমি যতদিন বাঁচব, এই কাজটি করার জন্য নিজেকে ঘৃণা করব। আমিই তাকে এই দুধ দিয়েছিলাম, আমি কতটা বোকা ছিলাম!” স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ পান করার উপকারিতা নিয়ে যেসব দাবি করা হয়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উজমা সৈয়দের মতে, পাস্তুরিকরণের আগে কাঁচা দুধ পানের কারণে প্রচুর মানুষ অসুস্থ হতো। পাস্তুরিত দুধের তুলনায় কাঁচা দুধে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেশি। সুস্থ প্রাণীর দুধেও ই-কোলাই, সালমোনেলা বা লিস্টেরিয়ার মতো মারাত্মক ক্ষতিকর প্যাথোজেন থাকতে পারে, যা গরুর গোবর বা খামারিদের হাত থেকে ছড়াতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় কেবল লাইসেন্সধারী খামারই মানুষের পানের জন্য কাঁচা দুধ বিক্রি করতে পারে। কিন্তু এমিলি যে খামার থেকে দুধ কিনেছিলেন, সেটি লাইসেন্সবিহীন ছিল। খামার মালিকের দাবি, তারা এই দুধ কেবল ‘পোষা প্রাণীর’ খাবার হিসেবে বিক্রি করেছিলেন। এই ঘটনার পর ব্রুকলিনের পরিবারসহ একই খামারের দুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া আরেক শিশুর পরিবার ওই খামার মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
ঢাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ শিক্ষার্থী ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কয়েক বছর পর প্রযুক্তি খাতে কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৯৯৪ সালে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সেই ছোট উদ্যোগই কয়েক দশকের ব্যবধানে পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয়ের প্রতিষ্ঠান ডেক্সিয়ানে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই উদ্যোক্তা মাহফুজ আহমেদ বর্তমানে ডেক্সিয়ানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে বিশ্বের ৭০টি কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে ঢাকায় একটি হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় মাহফুজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর দাদা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকেও উচ্চতর ব্যবসায় শিক্ষা সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে মাহফুজ আহমেদের কোনো কর্ম-অভিজ্ঞতা ছিল না। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর প্রথম কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে। এরপর প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে করতে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, দক্ষ জনবলের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবার বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৯৪ সালে মাহফুজ আহমেদ ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস, সংক্ষেপে ডিআইএসওয়াইএস, প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির শুরু হয়েছিল একটি ছোট পরিসরের উদ্যোগ হিসেবে। সে সময় মাহফুজ আহমেদ নর্থরপ গ্রুম্যানের পরামর্শক এবং মবিল অয়েলের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। চাকরির পাশাপাশি শুরু করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি-সেবা সরবরাহ করা। ব্যবসার বিকাশে তাঁর ভাই মারুফ আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএসওয়াইএসের কৌশল, যাত্রা ও উন্নয়নে মারুফ গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯৯ সালে অংশীদার ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে থাকে। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাও দ্রুত বাড়ে। পরবর্তী সময়ে ডিআইএসওয়াইএস একের পর এক অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বাড়ায়। ২০২১ সালে ফ্লোরিডাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিগনেচার কনসালট্যান্টস অধিগ্রহণের পর ২০২৩ সালে ডিআইএসওয়াইএস নতুন ব্র্যান্ড পরিচয় হিসেবে ডেক্সিয়ান নাম গ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষ জনবল সরবরাহ ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ডেক্সিয়ানের প্রায় ১২ হাজার কর্মী বিশ্বের ৭০টি কার্যালয়ে কাজ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি ২০০টির বেশি ফরচুন ৫০০ কোম্পানিকে সেবা দিচ্ছে। ব্যবসার আর্থিক আকারও এখন বড় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভার্জিনিয়া বিজনেসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ডেক্সিয়ানের আয় ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে আরও সম্প্রসারণ করছে। ২০২৬ সালের জন্য মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুজনই স্টাফিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্টসের উত্তর আমেরিকার ১০০ প্রভাবশালী জনবল-সেবা খাতের নেতার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ২০২৩ সালে ডেক্সিয়ানের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করার পর মাহফুজ আহমেদের ভাই মারুফ আহমেদ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন। এরপর মাহফুজ আহমেদ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ডেক্সিয়ানের বর্তমান নেতৃত্বের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও অবদান রেখেছেন মাহফুজ আহমেদ। ২০২২ সালে জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও কম্পিউটিং কলেজের প্রযুক্তি উদ্ভাবন তহবিলের জন্য তিনি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অনুদান দেন। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি মাহফুজ ও মারুফ আহমেদ দুই ভাইকে তাঁদের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অবদানের জন্য সম্মানিত করে। উদ্যোক্তা হিসেবে মাহফুজ আহমেদ ২০১৩ সালে আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং-এর গ্রেটার ওয়াশিংটন অঞ্চলের বর্ষসেরা উদ্যোক্তা পুরস্কারও পান। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা পরবর্তী ব্যবসায়িক পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ঢাকা থেকে ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সেই শিক্ষার্থীর যাত্রা তাই কয়েক দশকে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর গল্প। ১৯৯৪ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া ডিআইএসওয়াইএস আজ ডেক্সিয়ান নামে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে ১১৪ কোটি ডলারের বার্ষিক আয় এবং প্রায় ১২ হাজার কর্মী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তার পেছনে প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ আহমেদের দীর্ঘ ব্যবসায়িক পথচলা এবং তাঁর ভাই মারুফ আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট স্ত্রীকে যথাযথভাবে না জানিয়ে পাকিস্তানে নেওয়া একটি তালাকের রায় টেক্সাসে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হিউস্টনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও হিরা আজহারের মামলায় আদালত বলেছে, স্ত্রী তালাকের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সময়মতো জানার এবং নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। গত শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আগের আদালতগুলোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালে পাকিস্তানে তাঁদের বিয়ে হয়। পরে তাঁরা হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন। ২০১২ সালে ভিসা নবায়নের জন্য আজহার পাকিস্তানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে চৌধুরী ‘তালাক’ পদ্ধতিতে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আজহারের দাবি, তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি; বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর তিনি তা জানতে পারেন। চৌধুরীর পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রে তালাকের প্রক্রিয়ার পাঁচ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেক্সাস সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই মামলায় শুধু ওই বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট ছিল না। স্ত্রীকে ফোন, বার্তা, ইমেইল বা অন্য মাধ্যমে জানানোর সুযোগ ছিল না, এমন কোনো প্রমাণও আদালতে দেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে হিউস্টনে ফিরে আজহার টেক্সাসের আদালতে বিবাহবিচ্ছেদ ও বৈবাহিক সম্পত্তি ভাগের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত পাকিস্তানের বিচ্ছেদকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর আবেদন খারিজ করেছিল; আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিল। মামলার নথিতে দাম্পত্যকালে অর্জিত যৌথ সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ আছে। সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়ে আজহারকে কোনো সম্পত্তির অংশ দেওয়া হয়নি। রায়ের ফল হলো, পাকিস্তানের ওই বিচ্ছেদকে ভিত্তি করে তাঁর টেক্সাসের আবেদন খারিজ রাখার সিদ্ধান্ত আর বহাল থাকছে না। মামলাটি এখন নিম্ন আদালতে ফিরে যাবে। আদালত আরও স্পষ্ট করেছে, বিদেশে দেওয়া সব বিবাহবিচ্ছেদের রায় বা সব তালাক টেক্সাসে অগ্রহণযোগ্য বলে তারা সিদ্ধান্ত দেয়নি। এই মামলার নির্দিষ্ট কারণ ছিল যথাযথ নোটিশ ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অভাব।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহকারী পাইলটের হামলার সময় এগিয়ে আসা চার ইসরায়েলি যাত্রীকে বেসামরিক বীরত্বের সম্মাননার জন্য সুপারিশ করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সুপারিশের তালিকায় আছেন ইয়ানিভ হায়ুন, তসভিকা মানেস, আসাফ রেজুয়ান ও দন্তচিকিৎসক শোতা মুসায়েভ। হারজগের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম তিনজন ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আহত ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসা দেন মুসায়েভ। তসভিকার স্ত্রী তালি মানেস প্রথম অন্য যাত্রীদের ককপিটে বিপদের কথা সতর্ক করেছিলেন। হারজগ তাঁর ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাঝ আকাশে সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। ফ্লাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের আকাশে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমেছিল। আহত অবস্থায় মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে সহকারী পাইলটকে আটকান। হায়ুন জানান, হামলাকারীকে সরানোর পর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলে সেটিকে সোজা করতে সাহায্য করেন। পরে বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের আরেক দল পাইলট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, বিমানের সব যাত্রী ও ক্রুর খোঁজ পাওয়া গেছে এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন। যাত্রী ও ক্রুদের ফিরিয়ে আনতে তাবুকে দুটি বিকল্প বিমান পাঠায় সংস্থাটি। ভারতের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছার চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠছেন। ঘটনার পর তদন্ত চলাকালে ইসরায়েলগামী এবং ইসরায়েল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা দিতে কাজ করার কথাও জানিয়েছে তারা। হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সহকারী পাইলটের উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু দাবি করেছেন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ, পূর্বপরিকল্পনা বা সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্ত করছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে উদ্দেশ্য নিয়ে অনুমান না করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের ইবি-২ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি ‘অনুপলব্ধ’ ছিল। নতুন বুলেটিনে সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফ তারিখ যথাক্রমে ১ নভেম্বর ২০১৩ ও ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ ক্যাটাগরির তারিখও এগিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদনে মূলত এই অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তবে অক্টোবরের পরিবর্তন সব আবেদনকারীর জন্য সুখবর নয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীরা সাধারণত বুলেটিনের ‘অন্যান্য দেশ’ কলামের অধীনে পড়েন। সেই কলামে ইবি-১ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি আগের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইবি-২-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অবস্থা থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫ হয়েছে। ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ হয়েছে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ ক্যাটাগরিতে তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২২ হয়েছে। এসব তারিখ দিয়ে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য দিন বোঝানো হয় না। আবেদনকারীর প্রাইয়োরিটি ডেট বা অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফের আগে থাকলে ভিসা নম্বর দেওয়া বা গ্রিন কার্ড আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাটঅফ এগোলে অপেক্ষার সারিতে নতুন কিছু আবেদনকারী সামনে আসেন; পিছিয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও অপেক্ষায় পড়ে। এখানে আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে কর্মভিত্তিক আই-৪৮৫ আবেদন জমার যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএসসিআইএস ‘আবেদনের তারিখ’ সারণি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য ‘অন্যান্য দেশ’ কলামে ওই সারণিতে ইবি-২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের ১ আগস্ট ২০২৪ এবং ইবি-৩ অন্যান্য কর্মীদের ১ জুন ২০২২। অন্য সব শর্ত পূরণ হলে এই কাটঅফের আগের প্রাইয়োরিটি ডেটধারী কেউ আবেদন জমা দিতে পারেন; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তবু আলাদা ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ দেখতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছরের ভিসা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েকটি ক্যাটাগরি এগোলেও ‘অন্যান্য দেশ’ শ্রেণির কিছু কর্মভিত্তিক তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিসা ইস্যু বছরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আলোচনায় থাকা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র দেন। সংসদ সচিবালয় সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করেছে। বিকেলে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসনটি শূন্য হয়েছে এবং পদত্যাগ সেদিন থেকেই কার্যকর। শূন্য আসন পূরণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে আসনটি পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে; একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মিষ্টি আগে দাবি করেছিলেন, হামলা বা ভাঙচুরে তাঁর কোনো হাত নেই। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও ফৌজদারি তদন্ত পৃথক বিষয় বলেও তিনি জানান। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্পিকারের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিষ্টি তখন পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেননি। তিনি তদন্ত হওয়ার কথা বলেন এবং দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে বলে মন্তব্য করেন। পরে স্পিকারের বক্তব্য ও সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬-এর শিক্ষার্থী ব্যবসা উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক ইফতেখার সাফিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী একাধিক বাছাইপর্ব পেরিয়ে এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে নিজের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় আবেদন করার পর একাধিক ধাপের বাছাইপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন সাফিন। বাছাই শেষে তিনি এশিয়ার শীর্ষ তিন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। এর ভিত্তিতে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সম্পূর্ণ অর্থায়িত অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের একমাত্র সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও উপস্থাপক হিসেবে তিনি নিজের প্রকল্প বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন। সাফিনের বিজয়ী প্রকল্পের নাম ‘স্কিলব্রিজ আয়-অংশীদারিত্ব কাঠামো’। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যকার ব্যবধান কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পথে থাকা আর্থিক বাধা দূর করার একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রকল্পটি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার শুরুতে কোনো অগ্রিম কোর্স ফি দিতে হবে না। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অর্থায়ন করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়ার পর তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ প্রকল্পটির মূল ধারণা হলো আগে দক্ষতা অর্জন, এরপর কর্মসংস্থান এবং তারপর আয়ের সঙ্গে যুক্ত কিস্তিতে প্রশিক্ষণের খরচ পরিশোধ। সাফিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই ব্যবস্থা তুলনামূলক কম খরচে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২৬ মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় পর্যায়ের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্ভাবক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিনিয়োগের সংযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও উদ্ভাবকেরা অংশ নেন। বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে দেশের তরুণ উদ্ভাবনশীলতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর মতো একটি বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেয়েছেন সাফিন। তার এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের ধারণা, গবেষণা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার ক্ষেত্রেও উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।