সম্পর্কের নাম বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নেই মাথাব্যথা, জেন-জিদের নতুন ডেটিং ট্রেন্ড ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’
সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, নামহীন সম্পর্ক বা 'সিচুয়েশনশিপ' কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস বদলানোর দিন হয়তো এবার ফুরোতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বা জেনারেশন জেড (জেন-জি)-এর মধ্যে ডেটিং বা প্রেমের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রবণতা বা ট্রেন্ড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই নতুন ট্রেন্ডের মূল কথা হলো—সম্পর্কের প্রচলিত সব নিয়মকানুন ছুড়ে ফেলে দিয়ে, কোনো একটি সম্পর্ককে তার নিজস্ব গতিতে এগোতে দেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নতুন এই শব্দটিকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ (Wildflowering)।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই নতুন ট্রেন্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ অনেকটা বুনো ফুলের মতো ফুটে ওঠা। এই ট্রেন্ডটি মূলত সিঙ্গেল বা অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করে, যেন তারা রোমান্টিক সম্পর্ককে কোনো চাপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠতে দেন। এখানে সম্পর্কের কোনো তকমা বা নাম (লেবেল) থাকে না, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকে না এবং সম্পর্কটি ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে বা এর ভবিষ্যৎ কী, তা নির্ধারণ করার কোনো চাপও থাকে না। সোজা কথায়, আগামী পাঁচ বছর পর সম্পর্কটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে, "দেখা যাক না, সম্পর্কটা কোন দিকে যায়"—এমন নির্ভার চিন্তাধারাই হলো ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং।
বর্তমান যুগে ডেটিং বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেসেজের অর্থ বিশ্লেষণ করা, ডেটিং অ্যাপে কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হবে তার কৌশল নিয়ে মাথা ঘামানো এবং ঠিক কোন মুহূর্তে গিয়ে সম্পর্কটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে অবিরাম বিতর্ক চলতেই থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের এই ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তাভাবনার নিখুঁত প্রতিষেধক হিসেবেই উঠে এসেছে ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং। এই ধারণার মূল ভিত্তি খুব সহজ: একটি সম্পর্ককে জোর করে কোনো পূর্বনির্ধারিত ছাঁচে ফেলার চেষ্টা বন্ধ করা এবং সেটিকে তার নিজস্ব গতিতে উন্মোচিত হতে দেওয়া। আধুনিক শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে ওঠা অনেক সিঙ্গেল মানুষের কাছেই এই বিষয়টি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলে মনে হচ্ছে।
'আনসিঙ্গেল: হাউ টু ডেট স্মার্টার অ্যান্ড ক্রিয়েট লাভ দ্যাট লাস্টস' বইয়ের লেখিকা এবং প্রখ্যাত ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যান এই বিষয়ে তার বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যারা প্রতিটি ফার্স্ট ডেট বা প্রথম দেখাকে অনেকটা বিয়ের ইন্টারভিউ বা চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো মনে করেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি বিশেষ উপকারী হতে পারে।
অ্যামি চ্যান বলেন, "আপনি যদি এমন কেউ হন, যিনি প্রথম বা দ্বিতীয় ডেটেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে ফেলেন; ভাবতে শুরু করেন যে সামনের মানুষটি আপনার জীবনসঙ্গী হতে পারবে কি না বা আপনাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের বাবা/মা হওয়ার যোগ্য কি না, তাহলে আপনার কিছুটা থামা প্রয়োজন। অনেকেই মনের ভেতরে থাকা একটি অদৃশ্য চেকলিস্ট মেলানোর জন্য ইন্টারভিউ স্টাইলে প্রশ্ন করতে থাকেন। এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিষয়ে আরও বেশি শিথিল ও স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাটা উপকারী হতে পারে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ফিনিশিং লাইনের দিকে দৌড়ানোর চেয়ে বরং কৌতূহলী থাকা, নিজেকে জানা এবং জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে আপনি আসলে কী চান, তা বোঝার চেষ্টা করা বেশি জরুরি।
তবে, যারা খুব বেশি রোমান্টিক এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের মানদণ্ডগুলোকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। এই ট্রেন্ডের একটি অন্ধকার দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।.
আরেক প্রখ্যাত ডেটিং কোচ ড্যামোনা হফম্যান মনে করেন, আধুনিক ডেটিংয়ের ‘গ্যামিফিকেশন’ বা সব কিছুকে খেলা হিসেবে নেওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং ট্রেন্ডের জন্ম। বর্তমানে ডেটিং অ্যাপগুলোতে অবিরাম সোয়াইপ করা, ম্যাচ করা এবং একই সাথে একাধিক মানুষের সাথে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার কারণে রোমান্স বা প্রেমকে সত্যিকারের মানবিক সম্পর্কের চেয়ে একটি গেম বা খেলা বলে বেশি মনে হয়। ড্যামোনা হফম্যান সতর্ক করে বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত প্রত্যাশা যদি একেবারেই ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত অনেকেই হতাশ হতে পারেন, বিশেষ করে তারা যদি নিজেরা পরিষ্কার না থাকেন যে তারা দিন শেষে আসলে কী চান। সব কিছু সময়ের ওপর ছেড়ে দিলে অনেক সময় মানুষ লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরপাক খেতে থাকে।
তাহলে এই ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং কাদের জন্য কার্যকর? ডেটিং কোচ অ্যামি চ্যানের মতে, এটি নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব ডেটিংয়ের ধরনের ওপর। যারা হুট করেই দ্রুত কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাদের জন্য একটু ধীরগতিতে চলা এবং সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে গড়ে উঠতে দেওয়াটা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে, যারা এক সম্পর্ক থেকে আরেক সম্পর্কে দ্রুত লাফিয়ে বেড়ান এবং কখনোই কোনো গভীর মানসিক সংযোগ তৈরি করেন না, তাদের ক্ষেত্রে বরং এই অবাধ স্বাধীনতার চেয়ে কিছুটা নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি নিখুঁত বা আদর্শ সম্পর্ক আসলে এক্সেল শিটে করা নিখুঁত পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল রোমান্সের ঠিক মাঝামাঝি কোনো এক জায়গায় অবস্থান করে। কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ততা ডেটিংকে আনন্দদায়ক রাখতে পারে, আবার কিছু নিজস্ব মানদণ্ড বা প্রত্যাশা সম্পর্কটিকে একটি অন্তহীন ও অর্থহীন ‘সিচুয়েশনশিপ’-এ পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। কারণ বুনো ফুল কোনো মালির যত্ন ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠলেও, একটি সম্পর্ককে সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হতে হলে তাতে অন্তত সামান্যতম দিকনির্দেশনা ও যত্নের প্রয়োজন হয়।
ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের এই ধারণাটি মূলত তরুণ প্রজন্মের একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ। জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রেমে পড়ার জন্য আদৌ কোনো নির্দিষ্ট নিয়মনীতি বা রুলবুকের প্রয়োজন আছে কি না। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রেমের ক্ষেত্রে অপ্রচলিত পদ্ধতি গ্রহণ করছে, যার মধ্যে ‘রিলেশনশিপ অ্যানার্কি’ (Relationship Anarchy) বা সম্পর্কের নৈরাজ্যবাদ অন্যতম। ২০০৬ সালে সুইডিশ লেখিকা অ্যান্ডি নর্ডগ্রেন এই দর্শনের প্রবর্তন করেন। এই দর্শন অনুযায়ী, একজন মানুষের জীবনে কেবল রোমান্টিক সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে—সমাজের এমন প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। এর বদলে তারা বন্ধুত্ব, সৃজনশীল অংশীদারত্ব এবং অন্যান্য মানবিক সম্পর্কগুলোকেও রোমান্টিক সম্পর্কের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
সেক্স-পজিটিভ ডেটিং অ্যাপ 'ফিল্ড' (Feeld) এবং শিক্ষাবিদ রুবি রেয়ারের ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন তরুণ-তরুণীর মধ্যে একজন হয়তো নিজের অজান্তেই কোনো না কোনোভাবে এই 'রিলেশনশিপ অ্যানার্কি' বা প্রথাগত নিয়মের বাইরের সম্পর্ক চর্চা করছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের জীবনযাপনের কারণে তারা আগের চেয়ে কম একাকীত্ব অনুভব করেন এবং মানসিকভাবে বেশি সমর্থন পান। তবে এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথাগত সম্পর্কের কোনো মাইলফলক না থাকায়, সম্পর্কের সীমানা নির্ধারণ করা এবং প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিংয়ের মতো এই দর্শনগুলো মূলত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, সামাজিক চাপ এবং সমাজ নির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিরুদ্ধে এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ। এই দুটি ট্রেন্ডই প্রমাণ করে যে, আধুনিক তরুণ ডেটাররা এখন ঐতিহ্যের চেয়ে স্বকীয়তা এবং চেকলিস্ট মেলানোর চেয়ে প্রকৃত মানসিক সংযোগকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
অবশ্য, কোনো পদ্ধতিই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষজ্ঞরা যেমন সতর্ক করেছেন যে, ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং অনেক সময় মানুষকে কমিটমেন্ট বা দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে, তেমনি রিলেশনশিপ অ্যানার্কির ক্ষেত্রেও ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক আঘাত এড়াতে প্রচুর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং আত্মসচেতনতার প্রয়োজন হয়।
তারপরেও, যে প্রজন্ম ডেটিং অ্যাপের যান্ত্রিকতা, নামহীন সম্পর্ক এবং অন্তহীন নিয়মের বেড়াজালে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, তাদের কাছে এই স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন বোঝা খুব কঠিন কিছু নয়। সম্পর্ককে প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হতে দেওয়া হোক কিংবা সম্পর্কের প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজানো হোক—জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই মূলত একটি জিনিসই খুঁজছেন, আর তা হলো: আধুনিক যুগের যান্ত্রিক প্রেমকে কিছুটা হলেও স্ক্রিপ্ট বা পূর্বপরিকল্পনার বাইরে নিয়ে আসার একটি উপায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreতাঁর স্বামী অ্যালেক্স নিম্যান। শেষ পর্যন্ত ইতালিতে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে ১৩ হাজার ১৫০ ডলারে একটি বাড়ি কিনে নতুন জীবন শুরু করেন তাঁরা। কয়েক দশক ধরে পরিত্যক্ত থাকা বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করতে আরও প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার ডলার খরচ করেন এই মার্কিন দম্পতি। এখন ইতালিতেই মেয়েকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তাঁরা। ওয়াশিংটনে জন্ম নেওয়া ক্যাসান্দ্রার বয়স ৩৩ বছর, আর তাঁর স্বামী অ্যালেক্সের বয়স ৩৪। ২০২০ সালে তাঁদের মেয়ের জন্মের সময় তাঁরা চেক প্রজাতন্ত্রে ক্যাসান্দ্রার দাদার সঙ্গে থাকছিলেন। এর আগে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার সময় দাদার বাড়িকে অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তাঁরা। সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—বন্ধুদের কাছে এমন কথাই বলেছিলেন ক্যাসান্দ্রা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে বাড়ি কেনা এবং সন্তানের দেখাশোনার জন্য কতটা ব্যয় করতে হবে, তা হিসাব করে তাঁদের পরিকল্পনা বদলে যায়। ক্যাসান্দ্রার উপলব্ধি হয়, দেশে ফিরে গেলে জীবনযাপনের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই ইউরোপেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। ক্যাসান্দ্রা বলেন, সন্তান হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন—এমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু বাড়ি কেনা ও শিশুর যত্নের খরচ সম্পর্কে জানার পর সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। ইতালির বিভিন্ন শহরে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মাত্র এক ইউরোতে বাড়ি বিক্রির উদ্যোগের খবর তাঁদের নজরে আসে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া শহর ও গ্রামগুলোতে নতুন বাসিন্দা আনা, পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এক ইউরোর বাড়ি কেনার বিজ্ঞাপন দেখলেই যে সত্যিকার অর্থে এত কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়া যাবে, তা নয়। কোনো কোনো এলাকায় এক ইউরো কেবল প্রতীকী মূল্য। আবার কোথাও নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়, যা শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। বাড়ি কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করার শর্তও থাকতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে প্রকৃত ব্যয় কত হতে পারে, তা যাচাই করতে চেয়েছিলেন ক্যাসান্দ্রা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বাড়ি কিনতে ২০ হাজার ইউরো বা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ৬২৭ ডলারের বেশি খরচ না করা। অনলাইনে বাড়ি খোঁজার পাশাপাশি নিজের চোখে সম্পত্তি দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইতালিতে বাড়ির সন্ধান ২০২১ সালে ইতালির আব্রুজ্জো ও তুসকানি অঞ্চলে বাড়ি দেখতে যান এই দম্পতি। সব মিলিয়ে ১৫টি বাড়ি ঘুরে দেখেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলে দুই তলা, দুই শয়নকক্ষের একটি বাড়ি পছন্দ হয় তাঁদের। বাড়িটির আয়তন এক হাজার ৭৬ বর্গফুটের সামান্য কম। নিচতলার নিচে থাকা বেসমেন্টে আরেকটি শয়নকক্ষ এবং ওপরে একটি চিলেকোঠাও ছিল। বাড়ি সংস্কারে যে উল্লেখযোগ্য অর্থ খরচ হবে, তা শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁরা। তাই বাড়ি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাড়ির টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় কি না, সেটিও ছিল ক্যাসান্দ্রার কাছে অপরিহার্য শর্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়ির সুবিধা-অসুবিধা এবং দাম তুলনা করতে তিনি তালিকা তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত আব্রুজ্জো অঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মনে হয়। তখন এলাকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে তাঁর বিশেষ ধারণা ছিল না; মূল বিবেচনা ছিল ভালো দামে বাড়ি কেনা এবং টেরেস থেকে সুন্দর দৃশ্য পাওয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাড়িটির কেনাকাটা সম্পন্ন করেন তাঁরা। পুরো অর্থ নগদে পরিশোধ করায় কোনো বাড়ি কেনার ঋণ নিতে হয়নি। কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা বাড়িটি তখন বসবাসের উপযোগী ছিল না। দেয়াল নতুন করে মেরামত করা, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ, জানালা-দরজা পরিবর্তন এবং রান্নাঘর ও বাথরুম পুরোপুরি সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। নিজেরাই করলেন বেশির ভাগ সংস্কার বাড়ির সংস্কার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালেক্স নিজেই বেশির ভাগ কাজ করেন। তবে পানির সংযোগ ও পাইপলাইনের মতো কিছু কাজের জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করতে হয়। দম্পতির হিসাব অনুযায়ী, বাড়িটি সংস্কারে তাঁদের মোট ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো খরচ হয়, যা প্রায় ১৪ হাজার ২০৭ থেকে ১৭ হাজার ৭৫৮ ডলারের সমান। সংস্কারের সময় টেরেসের আকার বাড়ানো হয়। নিচতলায় নতুন একটি বাথরুম তৈরি করা হয় এবং বেসমেন্টকে অতিথিদের থাকার উপযোগী করে সাজানো হয়। ২০২২ সালের শরৎকালে সংস্কারের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়। পরে ২০২৩ সালে বেসমেন্ট ও চিলেকোঠার কাজও নতুন করে করা হয়। বাড়ির অন্দরসজ্জায় প্রচলিত একটি নির্দিষ্ট ধরন অনুসরণ না করে নানা রকম নকশা ও রঙের সমন্বয় করেন ক্যাসান্দ্রা। পুরোনো আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী খুঁজতে বিভিন্ন ব্যবহৃত পণ্যের দোকান এবং খোলা বাজারে ঘুরেছেন তিনি। বাড়িতে প্রাকৃতিক উপকরণ, উষ্ণ ও শীতল রঙের মিশ্রণ এবং নানা রঙের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেন। ক্যাসান্দ্রার মতে, বাড়িটি আকারে ছোট হওয়ায় তিনি একে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তুলতে চেয়েছিলেন। ঘরের প্রতিটি জিনিসের পেছনে তাঁর নিজস্ব ভাবনা রয়েছে। কোনো জিনিস কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেটির সঙ্গে স্মৃতি জড়িয়ে থাকুক—এমনটাই ছিল তাঁর ইচ্ছা। ঋণ নেই, তবে রয়েছে নিয়মিত খরচ বাড়ির জন্য কোনো বন্ধকী ঋণ না থাকায় দম্পতির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমেছে। ক্যাসান্দ্রার মতে, আয় কমে গেলে বা অর্থের টান পড়লেও অন্তত বাড়ির ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পরিবারের মাথা গোঁজার নিরাপদ জায়গা থাকায় তিনি আর্থিক স্বাধীনতা অনুভব করেন। তবে বাড়ির মালিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে বসবাসের জন্য আর কোনো খরচ নেই। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ইন্টারনেটের জন্য মাসে ১২ ইউরো বা প্রায় ১৪ ডলার দিতে হয়। বছরে সম্পত্তি কর ৬১ ইউরো এবং আবর্জনা অপসারণের জন্য ২৮৬ ইউরো খরচ হয়। এ ছাড়া প্রতি দুই মাসে পানির বিল প্রায় ৯১ ইউরো এবং বিদ্যুতের বিল ২১৭ ইউরো। শীতকালে ঘর গরম রাখতে তাঁরা কাঠের গুঁড়া থেকে তৈরি জ্বালানির পেলেট ব্যবহার করেন। এ জন্য সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ ইউরো পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে, যা মাসে প্রায় ২০০ ডলারের সমান। ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পর ক্যাসান্দ্রা প্রযুক্তি খাতের চাকরি ছেড়ে ভ্রমণবিষয়ক ব্লগ ও নিউজলেটারের জন্য কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন। পাশাপাশি অন্য একজন ভ্রমণবিষয়ক ব্লগারের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও পালন করছেন। অ্যালেক্স আগে কসাই হিসেবে কাজ করতেন। এখন তাঁদের দ্বিতীয় বাড়িটি পরিচালনা করেন, যেটি পর্যটকদের কাছে স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বাড়িও কিনেছেন তাঁরা ২০২৪ সালে ইতালিতে আরেকটি বাড়ি কেনেন এই দম্পতি। শহরের গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত একতলা বাড়িটিতে দুটি শয়নকক্ষ ও একটি বাথরুম রয়েছে। বাড়িটির সঙ্গে নিজস্ব জমি ও ব্যক্তিগত বাগানও আছে। এর দাম ছিল ১৭ হাজার ইউরো, যা প্রায় ২০ হাজার ৮৩ ডলারের সমান। এই দ্বিতীয় বাড়িটি তাঁরা পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেন। সেখানে প্রতি রাতের ভাড়া সর্বোচ্চ ৮৫ ইউরো বা প্রায় ১০১ ডলার হতে পারে। তবে দ্বিতীয় বাড়িটি থাকার জন্য ব্যবহার না করে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কারণ, ক্যাসান্দ্রার কাছে শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা বেশি পছন্দের। সেখান থেকে হেঁটেই দৈনন্দিন প্রয়োজনের বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়। এখনই ইতালি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁদের। মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পর হয়তো অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাববেন। তবে সেটি অন্তত আগামী ১০ বছরের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করেন না ক্যাসান্দ্রা। তিনি চান, মেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে বেড়ে উঠুক। দম্পতি সাধারণত বছরে একবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। দেশটিকে তাঁরা নিজেদের বাড়ি হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু প্রতিবার ফিরে গেলে আগের পরিচিত পরিবেশ যেন আরও অপরিচিত মনে হয় বলে জানান ক্যাসান্দ্রা। তাঁর শৈশবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনকার অভিজ্ঞতা
জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় টিকল না আইফোন ডুয়ো, ধুলা ও চাপে বিকল স্ক্রিন
অফিসে ফিরতে বিদেশ থেকে যাত্রা, পৌঁছেই চাকরিচ্যুত হওয়ার দাবি কর্মীর
ব্রণের সমস্যা সারাতে মাসের পর মাস মুখ ধোননি ইনফ্লুয়েন্সার, জমেছে সবুজাভ স্তর
দুবাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিন গড়ে তুলেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নম জৈন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বয়স ১৪ বছর বলে উল্লেখ করা হয়। ছোট ব্যবসার বিপণন ও গ্রাহক যোগাযোগের কাজ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই উদ্যোগের অফিস বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় বলে সেসব প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জয়নমের পরিবারের আদি নিবাস ভারতের পুনেতে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে যায় সে। ছোটবেলা থেকেই বাবার মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়নম জানিয়েছে, ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে গিয়েছিল সে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুরুর আগেই ছোট বোনের সঙ্গে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করত জয়নম। ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সাত বছর বয়সে শুরু করা সেই চ্যানেলে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার ভিডিও প্রকাশ করা হতো। প্রতিবেদনের হিসাবে, তিন মাসের মধ্যে চ্যানেলটি এক লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার পায়। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও প্রচলিত সময়সূচির বাইরে এগোনোর চেষ্টা করে জয়নম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সে সে বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে খোঁজ শুরু করে। পরে জয়পুরের একটি স্কুলের সহায়তায় কেমব্রিজ আইজিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার সাক্ষাৎকারের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় ১০৫ দিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে ১৩ বছর বয়সে দশম শ্রেণির সমমানের এই ধাপ সম্পন্ন করে সে। এরপর নিজের উদ্যোগে সময় দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয় জয়নম। মেঙ্গো ইঞ্জিনকে ব্যবসার জন্য সহায়ক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছে সে। বিপণনের পরিকল্পনা, কনটেন্ট তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রাহকসেবার বিভিন্ন কাজ এক জায়গা থেকে পরিচালনায় সহায়তা করা এর লক্ষ্য। তবে উদ্যোগটি তখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জয়নমের বরাতে বলা হয়, প্রায় ১০০টি ব্যবসা সেবাটি ব্যবহারের অপেক্ষমাণ তালিকায় যোগ দিয়েছিল। এই সংখ্যা অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের আয় নির্দেশ করে না। প্রযুক্তি শেখার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের চেয়ে নিজে পরীক্ষা করার ওপর বেশি নির্ভর করেছে বলে জানিয়েছে জয়নম। এমিরেটস টোয়েন্টিফোর সেভেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বরাতে ইকোনমিক টাইমস লিখেছে, বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার, ইউটিউব দেখে শেখা এবং নতুন বিষয় নিয়ে কৌতূহল থেকেই তার শেখার বড় অংশ এসেছে।
সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি
প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় শীর্ষে যারা
নিজের জন্য সময় বের করুন, প্রতিদিনের জীবনে প্রশান্তি ফেরাতে মেনে চলুন ২০ অভ্যাস
থাইরয়েড ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর সঞ্চয়ের অর্থ খরচ করে পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে অ্যান্টার্কটিকায় গিয়েছিলেন চীনের ওয়াং ইং। দেশে ফিরে পরীক্ষায় তাঁর টিউমারের আকার ছোট পাওয়া যায় বলে চীনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ভ্রমণ বা পেঙ্গুইনের ছবি তোলার কারণে ক্যানসার সেরেছে, এমন চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াংয়ের বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের একটি স্কুলে প্রশাসনিক পদে কাজ করতেন তিনি। ২০১৩ সালে অবসরের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর থাইরয়েড ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা পূরণের সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং। ইউনান নেটের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এক মাসের অ্যান্টার্কটিকা সফরে তিনি দেড় লাখ ইউয়ান ব্যয় করেন। প্রচণ্ড ঠান্ডা, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও জাহাজের দুলুনির কারণে সফরটি সহজ ছিল না। তবু বরফের প্রান্তরে অপেক্ষা করে কাঙ্ক্ষিত পেঙ্গুইনের ছবি তুলতে পেরেছিলেন তিনি। একই বিবরণে বলা হয়, সফর শেষে পরীক্ষায় টিউমারের আকার কমতে দেখে চিকিৎসকেরা আপাতত অস্ত্রোপচার পিছিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দেন। এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছিল। তবে টিউমারের পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণের মতো চিকিৎসার নথি বা গবেষণার ফল ওই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। বন্য প্রাণীর ছবি তোলার শখ পরবর্তী সময়ে ওয়াংয়ের জীবনের বড় অংশ হয়ে ওঠে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তিনি এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন। এই সংখ্যা তাঁর সামগ্রিক আলোকচিত্রচর্চার, অ্যান্টার্কটিকায় থাকা পেঙ্গুইনের প্রজাতির সংখ্যা নয়। তাঁর অ্যান্টার্কটিকা সফরও ছিল এক মাসের, কয়েক বছরের নয়। টিউমার ছোট হওয়া এবং ক্যানসার সম্পূর্ণ সেরে যাওয়া এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্যানসারের লক্ষণ আংশিক বা পুরোপুরি কমে যাওয়াকে রেমিশন বলা হয়। পুরোপুরি রেমিশনের পরও রোগ ফিরে আসতে পারে বলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ফলে ওয়াংয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে ভ্রমণের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের প্রমাণ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার ভিত্তি নেই।
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি
আক্কেলদাঁত তোলার পরই ফুলে যায় মুখ! গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি দুই সন্তানের মা