সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ওরেগন

ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে গুলির ঘটনার পর তদন্ত চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলাগুলি, তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সন্দেহভাজন ১৬ বছর বয়সী কিশোরও নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।   বেন্ড পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু আগে বিদ্যালয়ের বাইরে একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে জরুরি ফোন পায়। এর প্রায় এক মিনিটের মধ্যে বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একাধিক ৯১১ কল আসে। ফোনকারীরা জানান, এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গুলি চালাচ্ছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের মুখপাত্র শিলা মিলার জানান, কর্মকর্তারা পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সন্দেহভাজন হামলাকারী মাটিতে পড়ে যায়।   পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্রান্টজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, সন্দেহভাজন কিশোর বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় তাকে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মুখোমুখি হন। ওই ব্যক্তি কিশোরকে গুলি করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কে গুলি চালিয়ে কিশোরকে হত্যা করেছেন, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলাকারীর পরিচয় ও গুলি চালানোর পেছনে উদ্দেশ্য সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   হামলায় নিহত তিন শিশুর বয়স ছিল ৫, ৮ ও ১১ বছর। আহত সাত বছর বয়সী শিশুটি এবং ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর বিদ্যালয়টিতে ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একে একে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ তল্লাশি করেন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনেন।   ঘটনার পর শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করতে কাছাকাছি একটি গির্জায় নির্দিষ্ট স্থান স্থাপন করা হয়। সেখানে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন। বিদ্যালয়ের আশপাশে পুলিশ ও জরুরি সেবার কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়। হামলার সময় বিদ্যালয়ের কাছাকাছি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ক্যালেব ওয়েইস। তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, তাঁরা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ও প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির আকস্মিকতায় আশপাশের মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছিলেন।   ঘটনার তদন্তে এফবিআই সহায়তা করছে বলে সংস্থাটির পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মদ, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। হামলাকারী কীভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিল, তার কাছে কী ধরনের অস্ত্র ছিল এবং হামলার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করেছে কি না, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   বেন্ড-লা পাইন স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক এক বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনায় তাঁরা স্তম্ভিত ও গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর ভাষায়, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তাঁদের সম্প্রদায়ের মানুষের যে শোক, তা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ নেই। তিনি জানান, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যত্ন নেওয়া এবং পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের সহায়তা করাই এখন তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলার সব বিদ্যালয়ে পাঠদান, বিভিন্ন কার্যক্রম এবং খেলাধুলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।   বেন্ড শহরটি ওরেগনের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত। সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের পড়ানো হয়। বিদ্যালয়টিতে ৪০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। অল্পবয়সী শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।   সূত্র: এবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ঝরনার আশপাশের পিচ্ছিল পাথর ও প্রবল স্রোত পর্যটকদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে ছবি তুলতে গিয়ে ১৭৭ ফুট উঁচু ঝরনা থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে ঝরনার ওপর ছবি তুলতে গিয়ে ১৭৭ ফুট নিচে পড়ে ২০ বছর বয়সী এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তরুণের নাম জ্যাকারি নিকোলাস মার্টেনস। তিনি কেনটাকির বাসিন্দা ছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যায় ওরেগনের সিলভার ফলস স্টেট পার্কে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওরেগন স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, মার্টেনস দক্ষিণ ফলস নামের জনপ্রিয় ঝরনার ওপরের একটি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে পা পিছলে তিনি ঝরনার কিনারা থেকে নিচে পড়ে যান।   পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটের দিকে ঝরনা থেকে একজন পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সদস্যরা। প্রায় ১৭৭ ফুট নিচে ঝরনার পানির কুণ্ডে গিয়ে পড়েন মার্টেনস। পরে ম্যারিয়ন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পর পার্কের আরেক দর্শনার্থী মার্টেনসকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং জরুরি চিকিৎসা হিসেবে সিপিআর দেন। তবে জরুরি উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।   সিলভার ফলস স্টেট পার্ক ওরেগনের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র। প্রায় ৯ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে বেশ কয়েকটি বড় ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে সাউথ ফলস সবচেয়ে পরিচিত। ঝরনাটি প্রায় ১৭৭ ফুট উঁচু এবং ‘ট্রেইল অব টেন ফলস’ নামে ৭ দশমিক ২ মাইল দীর্ঘ একটি জনপ্রিয় হাঁটার পথের অংশ।   সাউথ ফলসের বিশেষ আকর্ষণ হলো, দর্শনার্থীরা নির্ধারিত পথ ধরে ঝরনার পেছন দিয়েও হাঁটার সুযোগ পান। তবে ঝরনার ওপরের কিছু অংশ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, পার্কের অধিকাংশ ঝরনার ৩০০ ফুট ওপর ও নিচের এলাকায় পানির কাছে প্রবেশ নিষিদ্ধ।   ঝরনার আশপাশের পাথর বাইরে থেকে শুকনো মনে হলেও পানির কারণে অত্যন্ত পিচ্ছিল হতে পারে। আবার ঝরনার ওপরের প্রবাহও অনেক সময় ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী থাকে। ফলে নির্ধারিত পথ ছেড়ে ঝরনার কিনারার কাছে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।   সিলভার ফলস স্টেট পার্কে এমন দুর্ঘটনা নতুন নয়। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, ঝরনা দেখতে গিয়ে নির্ধারিত পথের বাইরে যাওয়া কিংবা পানির খুব কাছে পৌঁছানো বিপজ্জনক হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন ঝরনাতেও এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।   ২০২৫ সালের জুনে অলিম্পিক ন্যাশনাল পার্কের সল ডুক ফলসে ১৮ বছর বয়সী টেক্সাসের এক পর্যটক ঝরনার ওপর দিয়ে নদী পার হওয়ার সময় পিছলে পড়ে মারা যান। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ওরেগনের মাল্টনোমা ফলসের কাছে ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও পড়ে মৃত্যু হয়। এর আগেও ওই এলাকায় ঝরনার কাছাকাছি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।   মার্টেনসের মৃত্যুর পর আবারও পর্যটকদের নির্ধারিত পথ ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে ছবি তোলার সময় ঝরনার কিনারা কিংবা নিষিদ্ধ এলাকায় না যাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে আসছে।   সাউথ ফলসের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ছবি তোলার আকর্ষণ থাকলেও নিরাপত্তা উপেক্ষা করলে মুহূর্তেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মার্টেনসের এই দুর্ঘটনা সেই ঝুঁকিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে মাল্টনোমাহ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
পোর্টল্যান্ডের পার্কে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টা, পথচারীদের সহায়তায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরের একটি নদীতীরবর্তী পার্কে ৭ বছর বয়সী এক পর্যটক শিশুকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য ও আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারীর দ্রুত হস্তক্ষেপে শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।   পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক ব্যক্তি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং পোশাকবিহীন অবস্থায় দৌড়াচ্ছেন বলে একাধিক ফোনকল আসে। একজন কলকারী অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় আঘাত করারও চেষ্টা করেছিলেন।   তবে সে সময় জরুরি অন্য ঘটনার কারণে সব পুলিশ সদস্য ব্যস্ত থাকায় ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে জানায় পুলিশ। প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনকলে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি ৭ বছর বয়সী শিশুর হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছাকাছি উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা ওই ব্যক্তিকে আটক করে।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ড্যানিয়েল ভেসি (৩১)। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, বৈধ অভিভাবকের হেফাজতে হস্তক্ষেপ, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমাহ কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্যানিয়েল ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করেন। তখন শিশুটির মা অন্য হাত ধরে তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুই দিক থেকে টানাটানির কারণে শিশুটি মাটি থেকে কিছুটা ওপরে উঠে যায়।   এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে সন্দেহভাজনকে প্রতিরোধ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, উপস্থিত কয়েকজন তাকে ধাক্কা দেন, চড়-ঘুষি মারেন এবং জোর করে শিশুটিকে তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। একজন পথচারী অন্যদের নিরাপদ রাখতে সন্দেহভাজনের দিকে মরিচের স্প্রেও ব্যবহার করেন। ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে ঘটনাস্থলেই পরীক্ষা করেন। তার শরীরে কয়েকটি আঁচড়ের দাগ পাওয়া গেলেও গুরুতর কোনো আঘাত ছিল না। তাই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।   তদন্তে আরও জানা গেছে, শিশুটি ও তার পরিবার অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তারা টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে অবস্থান করছিলেন।   পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য, মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মামলায় আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০