বৃহস্পতিবার মস্কোর একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভুলবশত আঘাত হেনেছে রাশিয়ারই একটি দিকভ্রান্ত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। এর ফলে শোধনাগারটির বিশাল ছাদ 'উড়ন্ত সসারের' মতো শূন্যে উড়ে যায়, যা একটি বিস্ময়কর ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে থাকা ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া রাশিয়ার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি শোধনাগারের স্টোরেজ ট্যাংকে আঘাত হানে। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ট্যাংকের গোলাকার ছাদটি মাশরুম আকৃতির ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি করে আকাশে উড়ে যায় এবং পরে মাটিতে আছড়ে পড়ে। স্ব-নির্বাসিত রুশ সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভিভের টেলিগ্রামে পোস্ট করা ক্লিপ অনুসারে, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই শোধনাগারটি ইউক্রেনের হামলার কারণে আগে থেকেই জ্বলছিল এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই মিসাইলটি আঘাত হানে। এই স্থাপনাটি মস্কো অঞ্চলের মোট জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরবরাহ করে থাকে এবং গত মঙ্গলবারও এখানে হামলা চালানো হয়েছিল। ভুলের এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, "মস্কোয় তেলজাত পণ্যের সরবরাহ এবং শহরের সমস্ত গ্যাস স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।" যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা হিসেবে ইউক্রেন যখন রুশ রাজধানীর দিকে আক্রমণ শানিয়েছিল, তখনই এই ভুলের ঘটনা ঘটে। শোধনাগার ধ্বংসের এই ঘটনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সর্বশেষ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠে ক্রেমলিনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার তেল অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইউক্রেনের সর্বশেষ এই হামলার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, "যদি ইউক্রেন পোড়ে, তবে আপনাদের মস্কোও পুড়বে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার কিয়েভের যে প্রচেষ্টা, এই হামলা তারই অংশ। তিনি বলেন, "আগ্রাসন শেষ করার সময় এসেছে, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।" এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে তাঁর একটি "গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কল" হয়েছে এবং এই সপ্তাহে জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন তিনি। ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মস্কো এর পাল্টা জবাব হিসেবে নিজেদের হামলা আরও জোরদার করবে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে ভোলোদিন বলেন, "তাদের এই পদক্ষেপ আমাদের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে এবং আরও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে কঠোরতর আঘাত হানতে বাধ্য করবে।" কট্টর জাতীয়তাবাদী ও মিডিয়া মুঘল কনস্ট্যান্টিন মালোফেয়েভ রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে এর জবাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং "ভদ্রলোকের মতো" যুদ্ধ করার জন্য ক্রেমলিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মালোফেয়েভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, "যুদ্ধ মানে যেকোনো মূল্যে বিজয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা পুরো দেশের শক্তিকে একত্রিত করে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই অর্থাৎ জেতার জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও মজুত করেছিলেন, এখন সেগুলো ব্যবহারের সময় এসেছে।" চলতি মাসের শুরুতে পুতিনের নিজ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ একটি গুরুতর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। এই হামলার সময় তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) নেতাদের সাথে দেখা করতে মস্কো থেকে প্রায় ৪৩০ মাইল পূর্বে কাজানে অবস্থান করছিলেন। সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
টানা তিনটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের বহুমুখী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (বিএমডি) অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, গত ১০ ও ১১ জুন এই যুগান্তকারী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই গুটিকয়েক শক্তিশালী দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যাদের কাছে শত্রুর দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই রুখে দেওয়ার মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) এই অসামান্য অর্জন দেশটির সার্বিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ধারাবাহিক সামরিক পরীক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য শত্রুর বহুমুখী ও জটিল হুমকি থেকে দেশকে নিশ্ছিদ্র পাহারায় রাখা। পরপর তিনটি ফ্লাইট টেস্টের মাধ্যমে মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ঠেকানোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং মাঝারিপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী সক্ষমতা গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটির পর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটির কার্যকারিতা ও নিখুঁত নিশানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা হয়। বিশেষত, এই পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো মাঝারিপাল্লার নৌবাহিনীর জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। ফলস্বরূপ, ভারত এখন স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সক্ষম। নতুন উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের বিশেষায়িত ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই শক্তিশালী প্রযুক্তি ২,০০০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম) নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বায়ুমণ্ডলের ভেতরে এবং বাইরে—উভয় স্থানেই ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে প্রতিহত করার সুযোগ দেয়। ফলে মহাকাশ থেকে আসা যেকোনো ধরনের আকস্মিক হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের আকাশসীমায় একটি অত্যন্ত নমনীয় ও সুদৃঢ় সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়েছে।
উত্তর কোরিয়া তাদের অত্যাধুনিক রণতরী ‘চো হিউন’ থেকে শক্তিশালী ক্রুজ ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, শীর্ষ নেতা কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল রণতরীর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদে নাবিকদের দক্ষতা যাচাই করা। মহড়ায় দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম উপকূলের আকাশে প্রায় সাত হাজার নয়শ সেকেন্ড উড়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিম জং উন এই সফল মহড়ার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পাল্টা হামলা চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এই মহড়ার সময় কিমকে বর্তমানে নির্মাণাধীন আরও দুটি আধুনিক রণতরীর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একই শ্রেণির তৃতীয় ও চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ তৈরির মাধ্যমে নৌবহরকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করছে। তারা মূলত বিচ্ছিন্ন কোনো যুদ্ধজাহাজের বদলে একটি শক্তিশালী সমন্বিত রণতরী বহর তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা কোরীয় উপদ্বীপসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। কিমের এই আধুনিক রণতরী নির্মাণের ঘোষণা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ২০২৫ সাল থেকেই এই ৫ হাজার টন ওজনের শক্তিশালী জাহাজ থেকে মরণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। দেশটির লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত দুটি করে এই ধরণের উন্নত যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমাদের মনোযোগ যখন অন্য যুদ্ধের দিকে নিবদ্ধ তখন কিম তার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলছেন। উত্তর কোরিয়ার এই ধরণের পরীক্ষাগুলো মূলত তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমরাস্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০২৬, কিম জং উন সামরিক মহড়া, চো হিউন রণতরী, কোরিয় উপদ্বীপ উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদ।
পূর্ব সাগরে আবারও একটি 'অজ্ঞাত' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) একই দিনে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, তারা নতুন এই উৎক্ষেপণটি শনাক্ত করেছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কত দূর পর্যন্ত উড়েছে বা এর ধরন কী—সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে বেশ কিছু স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। জেসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার (১৪৯ মাইল) পথ অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়। এটি ছিল এ বছর উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি এই ঘটনার পরপরই কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিমান ও নৌযান চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়া গত মঙ্গলবারও একটি প্রজেক্টাইল ছুড়েছিল যা উড্ডয়নের পরপরই ব্যর্থ হয়। পর পর দুই দিন এমন সামরিক তৎপরতায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সম্প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং এর ফলে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্যের জবাবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সিউলকে 'বেপরোয়া উস্কানি' থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার এই তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মার্কিন বাহিনীর মতে, এই উৎক্ষেপণগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি না করলেও তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। সাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ৪ হাজার ৮২৯ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং ১২ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে আলোচনা চলে, যা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরাইল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়। এই হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ইরান নতুন করে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর জানায়, তারা ‘৭৭তম’ বারের মতো হামলা চালিয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর, কেন্দ্র ও দক্ষিণ ইসরাইলে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে ‘সুপার-হেভি’ ও ‘পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট’ সিস্টেম, খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েতের আলি আল সালেম, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-দাফরা ঘাঁটি রয়েছে
ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। দিয়েগো গার্সিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি, যা যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন। ইরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। অথচ এত দিন ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার চেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ঘোষিত সীমার বাইরে আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকতে পারে। এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যুদ্ধের পরিসর বিস্তারের বার্তাও বহন করছে।ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি বলেছে, এই হামলা ইরানের কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করতে পারে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা প্রতিহত করতে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই হামলার সামরিক ফলাফল যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হলো রাজনৈতিক বার্তা—ইরান দেখাতে চেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের দূরবর্তী ঘাঁটিগুলোও তাদের নাগালের বাইরে নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান শুক্রবার (২০ মার্চ) থেকে একযোগে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই হামলার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত দুই ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে। এর ফলে দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও কুয়েতেও একাধিক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম দেখা গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচণ্ড শব্দগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযান। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছেন, তারা শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে। সৌদি আরবও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় পাল্টা আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কঠোর প্রতিশোধের প্রতিফলন। ইরান দাবি করছে, তারা মার্কিন সম্পদ ও মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা পরিচালনা করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি ও আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।