পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস
পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডে আনতে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত পরিবারের আকার অনুযায়ী ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়।
৪৮টি কনটিগুয়াস স্টেট, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, পুয়ের্তো রিকো, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসে ২০২৬ সালের হিসাবে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে।
ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ করতে হবে।
হাওয়াইয়ের ক্ষেত্রে আয়সীমা তুলনামূলক বেশি। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৩৯ হাজার ২৭৫ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৭ হাজার ৪৩৮ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৬০০ ডলার। আট সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন ৮০ হাজার ৮৮ ডলার। এরপর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যোগ হবে।
স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলেও সব ক্ষেত্রে আবেদন শেষ হয়ে যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা যেতে পারে, পরিবারের অন্য সদস্যের যোগ্য আয় ফর্ম আই-৮৬৪এ-এর মাধ্যমে হিসাব করা যেতে পারে অথবা নির্দিষ্ট যোগ্য সম্পদ ব্যবহার করে আয়ের ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।
ফর্ম আই-৮৬৪ মূলত এমন একটি আর্থিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে স্পনসর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানান যে তিনি স্পনসর করা অভিবাসীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে স্পনসর করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা নিলে সেই সুবিধার খরচ ফেরত দেওয়ার দায়ও স্পনসরের ওপর আসতে পারে।
তবে সামরিক বাহিনীর কিছু স্পনসরের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বা কোস্ট গার্ডের সদস্য যদি নিজের স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্পনসর করেন, তাহলে সাধারণ ১২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমা প্রযোজ্য হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreফ্লোরিডায় ৬ মাসের এক শিশুর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে শিশু অবহেলার অভিযোগে গ্রে প্তার করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, আরও কিছুটা দেরি হলে শিশুটির মৃ ত্যু হতে পারত। ঘটনাটি ঘটে ৮ সেপ্টেম্বর। পুলিশ জানায়, শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাই স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে বসার ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সে তার ছোট বোনকে দেখতে গিয়ে তাকে প্লে-পেনের ভেতর অ চেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করা হয়। প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল, কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে শিশুদের একটি ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর শিশুটির রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ০.৩৮৩ শতাংশ পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে ০.৩ শতাংশের বেশি অ্যালকোহল থাকলে অ্যালকোহল পয়জনিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণ ঘা তী হতে পারে। হাসপাতালে করা আরও কিছু পরীক্ষায় শিশুটির পেটে, মাথায় ও উরুতে কালশিটের দাগ পাওয়া যায়। পুলিশের প্রতিবেদনে এসব আঘাতকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাকর্মীরা পুলিশকে জানান, শিশুটির অবস্থা ছিল ‘গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল’। তাদের ধারণা, আরও দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারত। এ ঘটনায় শিশুটির ৭ বছর বয়সী ভাইয়ের দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারা এবং সাহায্য চাওয়া তার জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কর্মকর্তারা জানান। জনস হপকিন্স অল চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক মেঘান মার্টিন জানান, অল্প বয়সী শিশুদের শরীরে অ্যালকোহল গেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যেতে পারে। পাশাপাশি চেতনার পরিবর্তন, বমি এবং বমি শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশুটির বাবা ৩৬ বছর বয়সী জেসি ওয়ালড্রপ এবং মা ২৭ বছর বয়সী দেশিরে উজুনবয়লুকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুজনই দাবি করেন, কীভাবে শিশুটির শরীরে অ্যালকোহল গেল সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তারা নিজেদের মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের কথাও অস্বীকার করেন। মা পুলিশকে জানান, ঘটনার আগের দিন তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, পরিবারের কেউ হয়তো একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে দিয়েছিল। পরে সেই বোতল থেকেই বাবা শিশুটির জন্য দুধ তৈরি করে থাকতে পারেন। জিজ্ঞাসাবাদে বাবাও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তদন্তে পরিবারের এক সদস্য জানান, তিনি একটি পানির বোতলে ভদকা ভরে সেটি বন্ধ ব্যাকপ্যাকে রেখেছিলেন। পরে তিনি দেখতে পান বোতলটি ব্যাকপ্যাকের বাইরে চলে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের এক প্রাপ্তবয়স্ক ভাই ওই বোতল থেকে কিছু ভদকা পান করেছিলেন। ওয়ালড্রপ ও উজুনবয়লুকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রে প্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তারা জা মিনে মুক্তি পেলেও আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আইনজীবী ব্রায়ান্ট কামারেনো জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি ও আঘাতের মাত্রার ওপর নির্ভর করে অভিযুক্তদের কয়েক বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাজা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
মি সাইল নয়, এবার লেজার! ড্রোন ও ক্রুজ মি সাইল ঠেকাতে নতুন অ স্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের
বাড়ি কিনতে ঋণের খরচ আরও বাড়ল, ৩০ বছরের মর্টগেজ রেট ৭.১৬ শতাংশ
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস
ভিসা জালিয়াতি, অপব্যবহার ও অভিবাসন আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণ মানুষ এই পোর্টালের মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের তথ্য জানাতে পারবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে চালু করা পোর্টালটির লক্ষ্য হলো ভিসা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ভিত্তি হতে পারে। দপ্তর জানিয়েছে, জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে এবং মার্কিন আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ জানানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তত ভালো। নাম, যোগাযোগের তথ্যসহ বিস্তারিত তথ্য দিলে তদন্তকারীদের প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা সহজ হবে। তবে চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন থেকে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সরাসরি সংগ্রহ করা হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জন্ম পর্যটন বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে এক নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, লেজিট ডট এনজি
আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি
ট্রাম্পের নির্দেশের পর ‘এআই’ বদলে ‘এসআই’ লিখতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ
‘মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ’ - তারেক রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত মেইনের সাবেক গভর্নর পল লেপেজ এবার নিজের পরিবারের এক সদস্যের বহিষ্কার ঠেকাতে সরব হয়েছেন। লেপেজ জানিয়েছেন, তার ছেলের শ্বশুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে, যদিও তার দাবি—ওই ব্যক্তির বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। সোমবার অগাস্টায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেপেজ তার আত্মীয়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তার ছেলের স্ত্রীর বাবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে আছেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। লেপেজের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেটি ওয়াশিংটনের কিছু মানুষের পছন্দ নয়—এ কারণেই তাকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “এটা ঠিক নয়। তার ওয়ার্ক পারমিট আছে, তার থাকার সুযোগ পাওয়া উচিত।” তবে লেপেজ তার আত্মীয়ের নাম, কোন দেশের নাগরিক তিনি বা তার অভিবাসন মামলার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ হয়েছে কি না, নাকি তিনি এখনো অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়। লেপেজ একই অনুষ্ঠানে বলেন, আইসিইর অভিবাসন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ও কাজ করা মানুষদের বদলে গ্যাং সদস্য ও অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যাদের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের সবাইকে লক্ষ্য করা তিনি সমর্থন করেন না। বরং গ্যাং ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দিয়ে অভিযান শুরু করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এদিকে লেপেজের বক্তব্যের পর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়ার্ক অথরাইজেশন বা কোনো আবেদন চলমান থাকা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস নিশ্চিত করে না। ফলে লেপেজের আত্মীয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের অভিবাসন স্ট্যাটাস রয়েছে এবং কেন তাকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, তা আলাদা করে যাচাইয়ের বিষয়। লেপেজ বর্তমানে মেইনের ২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আসনে প্রার্থী। তার নির্বাচনী প্রচারে সীমান্ত ও অভিবাসন নীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি আইসিইর সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা সীমিত করার মেইনের একটি আইন নিয়েও সমালোচনা করেছেন এবং ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মেইনে আইসিইর অভিযান নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেইনে আইসিইর অভিযানে আটক প্রায় ২০০ জনের মধ্যে ১১ জনেরই অপরাধমূলক সাজা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ও অভিযানের অগ্রাধিকার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। লেপেজের আত্মীয়ের ঘটনা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিবাসন মামলা রয়েছে বা শেষ পর্যন্ত তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। Source: The Independent, The Washington Post
'ইসলাম গ্রহণের পর, বাবা ফেরারি কিনে বলেন, হিজাব খুললে গাড়িটি তোমার’: মার্কিন অধ্যাপক ড. শারিফা
মামদানির মন্তব্যের মধ্যেই নিউ জার্সিতে নামল নেতানিয়াহুর বিমান