সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জাতিসংঘ

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ জাতিসংঘের
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে এবং কত দিন ধরে এই সীমার ওপরে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনো আছে। এ জন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।   বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ্য পয়েন্ট অব রিটার্ন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব যে গতিতে কাজ করছে, তা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বের দেশগুলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে তা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব কমাতে ১.৫ ডিগ্রির সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যথেষ্ট দ্রুত কমানো সম্ভব না হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, এখন লক্ষ্য হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনা। তবে এই পথ সহজ নয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দেশগুলো তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও উষ্ণতা প্রায় ২.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নির্গমন কমাতে হবে ৬৯ শতাংশ। এ জন্য কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন উজাড় বন্ধ করা এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাপমাত্রা যত বেশি বাড়বে এবং ১.৫ ডিগ্রির সীমার ওপরে যত বেশি সময় থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পরে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এবং তীব্র গরমের প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চেষ্টা থামানো যাবে না। এখন নির্গমন কমানোর গতি বাড়াতে পারলে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না—তার ওপর বড় প্রভাব ফেলা যাবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে ক্ষুদ্র কৃষকেরা
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটে বাড়ছে খাদ্যের দাম, সামনে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা জাতিসংঘের

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়তে থাকায় খাদ্যসংকটের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। একই সঙ্গে বাড়ছে কৃষিপণ্যের দাম, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্যের ওপর। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের খাদ্যসংকট সামনে আসছে।   আইএফএডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারের দামও বেড়েছে। ফলে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দেওয়ার খরচ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। আইএফএডির প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিও মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আগামী ছয় থেকে নয় মাসেও খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন সেই মানুষ, যাঁদের আয় কম এবং যাঁদের পক্ষে বাড়তি দামে প্রয়োজনীয় খাবার কেনা কঠিন। লারিওর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় প্রতি তিনজন মানুষের একজনই স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। খাদ্যের দাম বাড়লে তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। কারণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় থাকা ডাল, শাকসবজি ও মাংসের মতো পণ্যের ব্যয় বাড়লে অনেক পরিবারকে খাবারের পরিমাণ বা ধরন বদলাতে হতে পারে। এতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও কমে যেতে পারে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অর্থাৎ, তাঁদের নিয়মিত পর্যাপ্ত ও নিরাপদ খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। খাদ্যের দাম বাড়তে থাকলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কারণ, এসব দেশের বহু পরিবারের আয়ের বড় অংশই খাবার কেনার পেছনে ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের দাম সামান্য বাড়লেও তাঁদের দৈনন্দিন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে যোগ দিতে ব্যাংককে অবস্থানকালে লারিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপের মুখে রয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। আইএফএডির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাঁদের মাধ্যমে আসে। অনেক উন্নয়নশীল দেশে মোট খাদ্য উৎপাদনের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তাঁদের অবদান রয়েছে। অথচ জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে রাসায়নিক সার কেনার ব্যয় কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সার ও জ্বালানি ছাড়া অনেক ফসলের উৎপাদন এবং পরিবহন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকেরা সব সময় সেই অনুপাতে পণ্যের দাম বাড়াতে পারেন না। ফলে তাঁদের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর প্রভাব ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনেও পড়তে পারে। লারিও বলেন, স্বল্পমেয়াদে সরকারগুলোর হাতে সংকট মোকাবিলার সুযোগ সীমিত। তবে প্রয়োজন হলে সার কেনার খরচ বা জ্বালানির দাম কমাতে ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। এতে কৃষকদের তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে তাঁর মতে, শুধু সাময়িক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান করা যাবে না। খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে বৃহস্পতিবার জি-৭ জোটের দেশগুলো ২৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সহায়তায় সারের সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও সারের বাড়তি ব্যয়ের কারণে কৃষি উৎপাদন যেন আরও বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে লারিও মনে করেন, ভবিষ্যতের জন্য কৃষি খাতকে আরও সহনশীল করে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, জ্বালানি, সার ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির মতো ধাক্কা ভবিষ্যতেও আসতে পারে। তাই আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের কথা মাথায় রেখে কৃষি উৎপাদনব্যবস্থার দুর্বলতা কমাতে হবে। এ জন্য ফসলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং খাদ্য সরবরাহের বিভিন্ন পথ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। কোনো একটি ফসল বা সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে সংকটের সময় খাদ্যের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি, যেসব দেশ নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের বড় অংশ নিজেরাই উৎপাদন করতে পারে, তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। লারিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য মাটির স্বাস্থ্য ও পানির প্রাপ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়ছে। খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং পানির সংকট কৃষি উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নও অপর্যাপ্ত। লারিওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বরাদ্দ করা জলবায়ু অর্থায়নের এক শতাংশেরও কম পেয়েছেন ক্ষুদ্র কৃষকেরা। অথচ কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় তাঁদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি তাই শুধু কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা নয়; এটি সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনার সামর্থ্য এবং বিভিন্ন দেশের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সাময়িক ভর্তুকি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা তাৎক্ষণিক চাপ কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনের বৈচিত্র্য, জলবায়ু অভিযোজন এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে খাদ্যের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
রুশ-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে খাবার ও ওষুধের সংকট
খাবারের অভাবে চরম দুর্দশায় ওলেশকির বাসিন্দারা, শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ বললেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরটির বাসিন্দারা অনাহার ও চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। শনিবার, ১৭ অক্টোবর তিনি শহরটিকে ‘মৃ ত্যুফাঁদ’ হিসেবে বর্ণনা করে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জরুরি সহায়তা চেয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সিবিহা বলেন, রুশ দখলদার বাহিনী ওলেশকিকে এমন এক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে বাসিন্দাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, শহরের হাসপাতালে ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। রাস্তায় এবং বাড়ির ভেতরে বহু মানুষের মর দেহ পড়ে থাকলেও সেগুলো দাফন করতে বাসিন্দাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যসংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে সিবিহা বলেন, অনেক পরিবার বাগানে অবশিষ্ট থাকা শাকসবজি, সংরক্ষিত খাবার এমনকি শামুক খেয়েও বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য, ইউক্রেন বারবার নিরাপদে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এসব আবেদন আর উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওলেশকির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। শহরটিতে যুদ্ধের আগে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ বাসিন্দা রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৪৭টি শিশু রয়েছে। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল এই জনসংখ্যার তথ্য জানিয়েছেন। শহরটির অবস্থানও মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে নিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত ওলেশকি। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পরপরই অঞ্চলটির বড় অংশ রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনী পাল্টা অভিযানে খেরসন শহরসহ বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করে। তবে ওলেশকি এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরটিতে খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের কথা রাশিয়াও এর আগে স্বীকার করেছে। সেপ্টেম্বরে ক্রেমলিন জানায়, ওলেশকিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। তবে রুশ সামরিক বাহিনী পরিস্থিতি সমাধানে কাজ করছে বলেও দাবি করা হয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোনের মাধ্যমে শহরটিতে খাবার ও ওষুধ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এক অভিযানে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় চার টন খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে এসব সরবরাহ পৌঁছালেও তা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৬ অক্টোবর পোপ লিওর সঙ্গে আলোচনায় ওলেশকিতে জরুরি সরবরাহ পৌঁছাতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পোপ শহরটির বেসামরিক মানুষের জন্য খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। পুতিনের প্রতিশ্রুতিকে সম্ভাব্য সহায়তা উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে নিরাপদ সরবরাহ ও সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি এবং অন্যান্য মানবিক সংস্থাকে দ্রুত নিরাপদে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে ওলেশকির পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর অভিযোগ; স্বাধীনভাবে আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘোষণা নয়। ওলেশকির সংকটের পাশাপাশি খেরসন অঞ্চলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলিদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার নিপ্রো নদীর অপর তীরে অবস্থিত খেরসন শহরে রুশ বাহিনী আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক প্রাণ হারান এবং আরও ৪০ জন আহত হন। সব মিলিয়ে ওলেশকিতে খাদ্য, ওষুধ ও নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগের অভাব একটি বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা ছাড়া সেখানকার বেসামরিক মানুষের দুর্দশা কমানো কঠিন হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে শিশু অধিকার ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াত। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াতের অন্যরকম পথচলা

নিউইয়র্ক থেকে জাতিসংঘের সভাকক্ষ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শৈশবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াত। শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনী ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফাতিহার পথচলার বিশেষ দিক হলো, অল্প বয়স থেকেই বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও রয়েছে। সাত বছর বয়সে জাতিসংঘের সভাকক্ষে:  ফাতিহা আয়াতের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় শৈশবেই। তাঁর প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষার মতো বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে তাঁর এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য ও পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয় নিয়েও আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব সমস্যা শিশু ও নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে ফাতিহা অল্প বয়সেই সামাজিক সমস্যা নিয়ে নিজের আগ্রহের পরিচয় দেন। হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ: জাতিসংঘের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও ফাতিহার অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে। ২০২০ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ইউনিসেফ ক্লাবের একটি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে বক্তব্য দেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। কনকর্ডিয়া সম্মেলনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাঁর অংশগ্রহণের কথাও প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। শিশু অধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ:  ফাতিহার কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হলো শিশু ও নারীর অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয় তাঁর প্রকাশিত পরিচিতি ও বক্তব্যের আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।   বাংলাদেশের মতো দেশে এসব বিষয় সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষার সুযোগ এবং নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পরিসরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মধ্য দিয়ে ফাতিহা তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন।   জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও সম্পৃক্ততা: জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়েও ফাতিহার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংস্থা পিওর আর্থের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশে শিশুদের সিসার বিষক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে।   সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফাতিহার এই সম্পৃক্ততা তাঁর কাজের সঙ্গে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যার একটি নির্দিষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে। নিজস্ব উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা: ফাতিহা আয়াতের আরেকটি পরিচয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ সিএইচআইএলঅ্যান্ডডি (CHIL&D)। এর পূর্ণরূপ ক্লাইমেট, হেলথ, ইনফরমেশন, লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। জলবায়ু, স্বাস্থ্য, তথ্য, শিক্ষা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে বলে তাঁর প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ জিরো অলিম্পিয়াড (Zero Olympiad)। এর লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও কার্বন নিঃসরণের মতো বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তা ও কাজ করার আগ্রহ তৈরি করা। আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত জিরো অলিম্পিয়াডের সমাপনী পর্বে আট হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ১৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অর্জন:  ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার যুব সম্মেলনে ফাতিহা আয়াত ‘হিউম্যান রাইটস হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ অর্জন করেন বলে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের সম্মেলনসংক্রান্ত বক্তা পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁকে শিশু অধিকারকর্মী ও জলবায়ু প্রচারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক শিক্ষা বিভাগের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মানবাধিকার ও লিঙ্গসমতাবিষয়ক কোর্স সম্পন্ন করার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফিরে নতুন অধ্যায়: ফাতিহার জীবনযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া যায় আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার পর তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকার আগা খান একাডেমিতে ভর্তি হন। ওই প্রতিবেদনে তাঁকে তখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে তাঁর আগ্রহ তৈরির পেছনে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে বিবিসির বিশ্বসংবাদ শোনার অভ্যাসের কথাও উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানার এই অভ্যাস তাঁর বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।    এক কিশোরীর পথচলায় নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনা: ফাতিহা আয়াতের আন্তর্জাতিক পথচলা, শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয় নিয়ে অল্প বয়স থেকেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া সম্ভব। জাতিসংঘের সভাকক্ষে বক্তব্য দেওয়া থেকে তরুণদের নিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ পরিচালনা, তাঁর কর্মকাণ্ডে বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কিশোরীর গল্প তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের বিবরণ নয়; এটি শিশু ও তরুণদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে কথা বলা, প্রশ্ন তোলা এবং সমাধানের সন্ধানে যুক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিলাই
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক

২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।   ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।   নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।   ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন।   ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।   এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই।   মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।   আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের দুই সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   শনিবার (৩ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ওই দুই ব্যক্তি নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশ অমান্য করার কারণেই তাঁদের বি রু দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, প্রতিনিধিদলের দুই সদস্য শুক্রবারও নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এরপর তাঁদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের একজন শুক্রবার রাতে এবং অন্যজন শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।   তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রস্থান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বক্তব্য এক নয়। এর আগে ইরানকে বহিষ্কারের মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘে দেশটির মিশন জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিউইয়র্ক ছেড়েছে।   আনাদোলুর ১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে ইরানি মিশনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রতিনিধিদলের সফরের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।   তবে ইরানি মিশনের ওই বক্তব্য ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আগের প্রস্থান নিয়ে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র যে দুই সদস্যকে নিয়ে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাঁদের বিষয়টি সেই আগের ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁদের প্রতিনিধিদলকে কঠোর বিধিনিষেধসহ ভিসা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্ক ছেড়ে যান। তবে আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সেখানে থেকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।   এসব আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, চলমান সং ঘা তের অবসান এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর মতো বিষয় উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে।   এদিকে, এই ঘটনাকে জাতিসংঘ থেকে ইরানের সদস্যপদ বাতিল কিংবা দেশটির স্থায়ী মিশন বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ এবং সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের দেশত্যাগের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
আফগান নারীদের নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নারী সাংবাদিকের দিকে খাজা আসিফের বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি
আফগানিস্তানে ফিরলে নারী সাংবাদিকের গলা কা টার ইঙ্গিত খাজা আসিফের

নিউইয়র্কে আফগান নারীদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক নারী সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে গলায় হাত চালানোর ভঙ্গি করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হওয়া ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগান নারী সাংবাদিক আসিফকে প্রশ্ন করেন, আফগান নারীদের ওপর তালেবানের বিভিন্ন বিধিনিষেধ পরিবর্তনে পাকিস্তানের বার্তা কী। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকার সময় ইসলামাবাদ কেন এসব নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি, সেটিও জানতে চান তিনি।   প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আসিফ সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করেন। এরপর তাঁকে ওই পোশাকে আফগানিস্তানে ফিরে না যাওয়ার কথা বলতে বলতে গলার ওপর হাত চালানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য অসম্পূর্ণ শোনা গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী এই অঙ্গভঙ্গিকে সহিং সতার ইঙ্গিত বা হু মকির মতো বলে ব্যাখ্যা করেছেন।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সমালোচকেরা বলেন, আফগান নারীদের অধিকার ও তালেবানের নীতি নিয়ে করা গুরুতর প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করা এবং এ ধরনের অঙ্গভঙ্গি করা অনুপযুক্ত। ভিডিওতে কথোপকথনের পর আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আলোচনার সময় আসিফ আফগানদের দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও পাকিস্তানের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আফগানিস্তানকে ভালো প্রতিবেশী নয় বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে।   ঘটনাটি ২৭ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ছড়িয়ে পড়লে খাজা আসিফের বক্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা দেখা দেয়। তবে ভিডিওতে করা অঙ্গভঙ্গির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ব্যাখ্যা ভিন্ন হলেও, একাধিক সংবাদমাধ্যম এটিকে সাংবাদিকের প্রতি হু মকি-সদৃশ অঙ্গভঙ্গি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
রাশেদ খান, শফিকুর রহমান। ছবি:সংগৃহীত
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন

রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।   বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে রাশেদ খান লেখেন, ‘আমাদের জান্নাতি দাদু কখনোই ঢাকা শহরকে পরিকল্পিত নগরী হতে দিবে না।’   পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মূল সড়ক থেকে অটোরিকশা উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের স্থানান্তর এবং ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে জামায়াত আমির ও তার দল বাধা দিচ্ছে। রাশেদ খানের ভাষ্য, সরকারের ‘জনবান্ধব পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে এভাবে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।   অন্যদিকে, মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা প্রয়োজন হলেও শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।   বুধবার সকালে মিরপুর-১৩ থেকে মিরপুর-১০ এলাকার হোপ মার্কেটের আশপাশে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন।   জামায়াত আমির আরও বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উচ্ছেদের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খানের ‘জান্নাতি দাদু’ মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তবে মন্তব্যটি রাশেদ খানের নিজস্ব বক্তব্য; এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
শিবির ছেড়ে নিজ এলাকায় ফিরছেন সিরিয়ার বা স্তু চ্যুত পরিবারগুলো
শিবির ছাড়ছেন সিরিয়ার বা স্তু চ্যুতরা, জানুয়ারি থেকে ফিরেছেন ৬০ হাজারের বেশি

সিরিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬০ হাজারের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বা স্তু চ্যুত মানুষকে বিভিন্ন বা স্তু চ্যুতি শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে সহায়তা করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে রোববারও কয়েকশ পরিবারকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে তাদের নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে।   জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে বা স্তু চ্যুতদের ঘরে ফেরার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই দুই মাসে মোট ৩৮ হাজার ৮৩৬ জন বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্র ছেড়েছেন। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৬০০ জনকে বিশেষভাবে সহায়তা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৩০টি বা স্তু চ্যুতি কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   ওসিএইচএ বলছে, এসব প্রত্যাবর্তন সিরিয়ার ‘নো ক্যাম্পস ভিশন’ বা শিবিরমুক্ত ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বা স্তু চ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়া তাদের নিজ এলাকার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   রোববার উত্তর সিরিয়ার শিবিরগুলো থেকে ২৬৩টি পরিবারকে নিয়ে একটি বহর তাদের নিজ এলাকায় রওনা হয়। এসব পরিবার দক্ষিণ ইদলিব এবং হামা, আলেপ্পো ও দামেস্ক প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ইদলিবের স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকল্যাণ ও শ্রম অধিদপ্তর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, মুজান অর্গানাইজেশন, সিরিয়ান আরব রেড ক্রিসেন্ট এবং জরুরি ও দু র্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহায়তায় এই কার্যক্রম সমন্বয় করেছে।   ইদলিবের সমাজকল্যাণ ও শ্রম বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ বাকির জানান, বেশির ভাগ পরিবার দক্ষিণ ইদলিবের শহর ও গ্রামগুলোতে ফিরছে। প্রেসিডেন্টের ৫৯ নম্বর ডিক্রির আওতায় এই বহরটি আয়োজিত হয়েছে বলে তিনি জানান।   আলেপ্পো ও ইদলিবের শিবিরগুলোর প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম সমন্বয়কারী মানাফ হাম্মাম বলেন, পরিবারগুলোর স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার আবেদনের ভিত্তিতেই এসব প্রত্যাবর্তন আয়োজন করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং তাদের মালপত্র পরিবহনের জন্য ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা ফিরতে চান, তাদের নিবন্ধন এখনো চলছে এবং আরও কয়েকটি বহর পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   ফিরে যাওয়া কয়েকটি পরিবারের সদস্য সানাকে জানিয়েছেন, বহু বছর বা স্তু চ্যুত থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরতে পেরে তারা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে তাদের অনেকেরই ফিরতে হচ্ছে ব্যাপকভাবে ক্ষ তি গ্র স্ত গ্রাম এবং সীমিত মৌলিক সেবার মধ্যে।   ইদলিবের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ডিক্রিটি জারির পর থেকে ইদলিব ও আলেপ্পোর বিভিন্ন শিবির থেকে হাজারো পরিবারকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি প্রত্যাবর্তন বহরের আয়োজন করেছে।   তবে ওসিএইচএ সতর্ক করেছে, বা স্তু চ্যুতদের প্রয়োজন এখন ধীরে ধীরে শিবির থেকে তাদের ফিরে যাওয়া এলাকাগুলোর দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, ক্ষ তি গ্র স্ত অবকাঠামো, দুর্বল জনসেবা এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আবারও বা স্তু চ্যুত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।   জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের জন্য অবকাঠামো এবং জনসেবা পুনর্গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ক্ষ তি গ্র স্ত এলাকায় বেকারি, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, সেতু এবং আবাসন পুনর্বাসনের কাজ চলছে।   উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশে পুনরুদ্ধারের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। পানি, বিদ্যুৎ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিও হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক দুর্বলতা এখনো বড় বাধা হয়ে আছে, যা ফিরে আসা মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃ হ যু দ্ধে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বা স্তু চ্যুত হয়। এর মধ্যে ৭৪ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বা স্তু চ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বা দেশের ভেতরে বা স্তু চ্যুত হওয়া ১৮ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সিরীয় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ টোয়েন্টিফোর। তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্ক সফর শেষ হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁর সফরসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্রসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।   সফরের আগে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং যুব ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সূচিও ঘোষণা করা হয়েছিল। সফরসূচিতে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মক্কা-মদিনায় হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, জাতিসংঘে শাহবাজের হুঁশিয়ারি
মক্কা-মদিনায় হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, জাতিসংঘে শাহবাজের হুঁশিয়ারি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার নিউইয়র্কে দেওয়া এই ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি এমন এক 'রেড লাইন' বা চূড়ান্ত সীমা, যা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়।   রিয়াদের দাবি অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এই হামলায় বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও হুথিরা বরাবরই রিয়াদের এই অভিযোগকে 'জঘন্য মিথ্যা' বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।   এর আগে গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক যৌথভাবে 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' নামে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে।   শুক্রবার রিয়াদে এই তিন দেশের সেনাপ্রধানরা বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তির অধীনে রিয়াদকে ঠিক কী ধরনের সহায়তা দেবে তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   তবে মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছেন যে, হুমকির মাত্রার ওপর ভিত্তি করে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিকস, গোলাবারুদ কিংবা আরও বিস্তৃত সামরিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   জাতিসংঘের এই ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব অর্থনীতি সচল রাখতে হরমোজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদাব জলপথ মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দেন।   একইসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক এজেন্ডা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করেন।   নিজ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে শাহবাজ শরিফ ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যৌথভাবে পরিচালিত সিন্ধু নদের পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনেন। পাকিস্তানের পানির ন্যায্য হিস্যা আটকানোর যেকোনো চেষ্টাকে ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে দেখা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।   এছাড়া কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে জোর দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জনমিতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কাশ্মীরের আইনি মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তেহরিক-ই-তালিবানের (টিটিপি) হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘে শামা ওবায়েদ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ

নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে চালু হওয়া ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর কথা জাতিসংঘের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন তিনি। বৈঠকটি আয়োজন করে ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন।   বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। দ্রুত তদন্ত ও বিচার, আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে।   নারীদের গণপরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সম্প্রতি চালু হওয়া নারী-নির্দিষ্ট ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য গণপরিবহনকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করাই এই সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য।   বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও বাস ডিপো থেকে পিঙ্ক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি বাস নিয়ে এই সেবা চালু করা হয়। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, বাসগুলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামের নির্ধারিত রুটে চলাচলের জন্য দেওয়া হয়।   এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বাস পরিচালনায় নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের অংশগ্রহণ। উদ্যোগটির মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।   জাতিসংঘের বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ, ঘটনার তদন্ত এবং তা মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এ উদ্যোগের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নতুন ধরনের ডিজিটাল হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অনলাইন হয়রানি, মানহানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং এআই-নির্ভর নিপীড়নের মতো বিষয় ছিল।   শামা ওবায়েদ সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার নারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি।   নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপদ গণপরিবহন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা মোকাবিলার বিষয়গুলো একই আলোচনায় তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিভিন্ন উদ্যোগের চিত্র উপস্থাপন করেছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি
নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আকুতি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ কানাডা থেকেও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিউ ইয়র্কে উপস্থিত হতে দেখা গেছে।   নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে তারেক রহমানকে দেখতে পেয়ে বাইরে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের একাংশ বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় তাঁকে ‘ভাইয়া’ সম্বোধন করে সরাসরি দেখা করার আকুতি জানাতেও শোনা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কি দেউলে হয়ে গেছে, ভাইয়া?” আরেকজন বলেন, “ভাইয়া, আমরা আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।”   ভিডিওতে আরও একজনকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমরা আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই।” কানাডা থেকে আসা একজনকেও বলতে শোনা যায়, “আমরা কানাডা থেকে আসছি, ভাইয়া।”   এ সময় হোটেলের ওপরের দিক থেকে নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনছিলেন তারেক রহমান। ভিডিওতে তাঁকে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে, মুচকি হাসতে এবং মাঝে মাঝে হাত নাড়তে দেখা যায়।   পরে নিচে থাকা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমানকে কিছু বলতে দেখা গেলেও দূরত্বের কারণে তাঁর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট শব্দ ভিডিওতে স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।   এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়। তাঁর সফরকে ঘিরে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্বাগত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।   গতকাল সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। নিউ ইয়র্কে তাঁর সফর ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও যোগাযোগও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গুতেরেস প্রধানমন্ত্রী
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ২৭ তলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।   এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদান নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্বশান্তি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের কথা বলেন।   বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।   জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজ ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন খাতের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ডে’ সমন্বয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা একটি কার্ডের আওতায় আনা হবে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব কার্ড সমন্বয় করেই ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।   ভাষণে তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সরকার এটিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।   ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর ভাবনা নতুন নয়। এর আগে জাতীয় সংসদেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার কার্ড পর্যায়ক্রমে একীভূত করার কথা বলেছিলেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে কার্ডটি কবে চালু হবে, কারা পাবেন বা আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।   একই ভাষণে উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ সবার নাগালে আনার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালারও আহ্বান জানান তিনি।   সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিরাপত্তা সতর্কবার্তার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নিরাপত্তা সতর্কতার পর তারাহুরোয় নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা সতর্কবার্তার পর নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর একই দিন ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান কয়েক ঘণ্টায় সীমিত থাকছে।    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাত দিয়ে ডন ও আনাদোলু জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহুর কাছে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত না করার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।    পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং পরে রাতযাপন না করেই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান প্রায় ছয় ঘণ্টা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেতানিয়াহুর সফরের আগে নিউইয়র্কে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। তবে এসব বিক্ষোভই সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তাকেই সফর সংক্ষিপ্ত করার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সফরে টেক্সাসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে।    নেতানিয়াহুর বিমান নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির কোনো বিমানবন্দর বা সামরিক ঘাঁটিতে নামতে পারে—এমন খবরও এর আগে প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর পেছনে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল।    সূত্র: আনাদোলু

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জাইমা রহমান
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের পেশাগত যাত্রা, দায়িত্ব পেলেন ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দলে জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো দেখা।   প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকাতেও ‘Ms. Zaima Rahman — Legal Officer — Bangladesh’ হিসেবে তার নাম রয়েছে। একই দলে বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন।   বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাফিজুল ইসলাম ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়।   জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ হন।   জাইমা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি।   ড. খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কার্যালয়ের প্রকাশিত টিমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কার, যোগাযোগ ও আইনি বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।   জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং সংস্থাটি থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাহ হতে পারে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ ভাষণের পর কূটনৈতিক বার্তায় ‘এআই’-এর বদলে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ
ট্রাম্পের নির্দেশের পর ‘এআই’ বদলে ‘এসআই’ লিখতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন।   ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।   এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে।   পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে আয়োজিত নারী নেতাদের একটি সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন তিনি। তাঁর এই অংশগ্রহণ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে।   ডা. জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের স্বাগত প্রাতরাশেও তিনি অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি তাঁদের জীবনসঙ্গীরাও অংশ নিচ্ছেন। নারী নেতৃত্ব, শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় এসব অনুষ্ঠানে আলোচনায় এসেছে।   এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, ইউএন উইমেন ও ইউএনওপিএস বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘শি লিডস টুমরো’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান। ওই অনুষ্ঠানে তিনি তরুণী ও কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগে এক হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়।   এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ। তাঁর সফরসূচিতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই ডা. জুবাইদা রহমানের নারী নেতাদের সভায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক বিষয়ক আলোচনায় তাঁর অংশগ্রহণকেও সামনে এনেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন পেদ্রো সানচেজ। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ তীব্র নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে স্পেনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।   সানচেজ বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, স্পেন তার ‘গণহত্যা’কে কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই নিন্দা করছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেন, লেবানন ও ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।   স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে স্পেন বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে। তার সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।   গাজা প্রসঙ্গে সানচেজের অবস্থান নতুন নয়। স্পেন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেন সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ ও বিমানকে স্পেনের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়।   স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্ত করার পদক্ষেপও নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানিয়েছে মাদ্রিদ।   জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ শুধু গাজার পরিস্থিতি নয়, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে যুদ্ধের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্পেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের আগে সানচেজ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে গাজা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।   এদিকে, গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণহত্যা’ শব্দটির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে তার বক্তব্যে দেশটির সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন এবং সমালোচকদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।   গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়েও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত রাখা এবং ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ।   গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান ইউরোপের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটি ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে।   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সানচেজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজা নিয়ে স্পেনের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার বিষয়ে স্পেনের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   সূত্র: স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতিসংঘ, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। (ছবি: সংগৃহীত)
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই

জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।   ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে মিলেই বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পূরণ করতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   জাতিসংঘের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোরও কঠোর সমালোচনা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সংস্থাটি এমন এক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে নিজেদেরকে মানবিক মূল্যবোধের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা একদল কর্মকর্তা কার্যত নিজেদের স্বার্থকে এগিয়ে নিচ্ছেন। মিলেই জাতিসংঘকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেন, যার বর্তমান কাঠামো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।   তবে তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। মিলেই বলেন, তাঁর দেশের কাছে মালভিনাস একটি ‘জাতীয় বিষয়’ এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা যথেষ্ট নয়।   ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বশাসিত বিদেশি ভূখণ্ড। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধের পর দ্বীপগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।   মিলেই বিশেষ করে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপটির কাছে একতরফাভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্র এলাকায় ‘সি লায়ন’ নামে একটি বড় তেল প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলভিত্তিক নাভিটাস পেট্রোলিয়াম প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। আর্জেন্টিনা এই তেল অনুসন্ধানকে অবৈধ বলে মনে করছে।   এ প্রসঙ্গে মিলেই বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো যদি কোনো সুবিধা না পায় এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর অভিযোগ, ফকল্যান্ড ইস্যুতে জাতিসংঘ কার্যকরভাবে নিজেদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারছে না।   তবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ভিন্ন। ব্রিটিশ সরকার দ্বীপের বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ব্রিটিশ বিদেশি ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে মত দেন। মিলেই অবশ্য এই আত্মনিয়ন্ত্রণের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   মিলেই তাঁর ভাষণে বলেন, আর্জেন্টিনা এই বিরোধের সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যকে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও জানিয়েছে, দেশটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর উপায়ে মালভিনাসের দাবি এগিয়ে নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।   জাতিসংঘ নিয়ে মিলেইয়ের এই বক্তব্য তাঁর আগের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে আসছেন। এবারের ভাষণে সেই সমালোচনাকে আরও সরাসরি করে তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।   এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর মেয়াদের শেষ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। ফলে এবারের সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের ভিন্নমতও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   মিলেইয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পুরোনো সার্বভৌমত্ব বিরোধও নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা ঘিরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিষয়টি আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স ও জাতিসংঘ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০